4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: মুক্তিযুদ্ধে আলেম সমাজের অবদান > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

মুক্তিযুদ্ধে আলেম সমাজের অবদান


 


১. সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি :

বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে এক অবিস্মরণীয় নাম মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ পাঁচটি প্রধান রাজনৈতিক দলের আটজন সদস্য নিয়ে সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। এই পরিষদের সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।

২. হাফেজ প্রধানমন্ত্রী :

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১০ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি ছিলেন একজন হাফেজে কোরআন। মুক্তিযুদ্ধে তাজউদ্দীন আহমদের ভূমিকা ছিল নেতৃস্থানীয়।

৩. আলেম শহীদ বুদ্ধিজীবী :

সিলেটের মাওলানা অলিউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি ‘শরিয়তের দৃষ্টিতে ৬ দফা’ এবং ‘৬ দফা ইসলামবিরোধী নয়’ ইত্যাদি পুস্তিকা রচনা করেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১ তাকে আলবদর বাহিনী অপহরণ করে এবং ১৪ ডিসেম্বর তিনি শহীদ হন। ১৯৭২ সালে প্রণীত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় তাকে ডা. অলিউর রহমান নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেননা তিনি একজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার ছিলেন।

৪. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আলোচক :

মাওলানা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী এবং মাওলানা আবদুল্লাহ বিন সাঈ জালালাবাদী দুই আলেম ভাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। বড় ভাই ছিলেন ইসলামী বিপ্লবী পরিষদের সভাপতি। তারা ইসলামের দৃষ্টিতে ছয় দফা বই লিখে বিতরণ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কোরআনভিত্তিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

৫. যোদ্ধা সংগ্রাহক :

চট্টগ্রামের আলেম মুফতি আবদুস সোবহান ছিলেন একজন ভাষাসৈনিক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। নিজ বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তরুণদের যুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

৬. গেরিলা যোদ্ধা :

কুমিল্লার আলেম মাওলানা আবদুর রহমান ছিলেন একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি জমাল সীমান্ত পার হয়ে ট্রেনিং ক্যাম্পে যান এবং চার মাসের দীর্ঘ ট্রেনিং শেষে একাধিক গেরিলা অভিযানে অংশ নেন। হাতিয়ার মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান ত্রিপুরার বড়ইতলি ক্যাম্পে অংশ নেন এবং বিভিন্ন গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেন।

৭. লিফলেট বিতরণ :

রাঙামাটি জেলার কুলবাগিচা আজিজুল উলুম হিফজ ও এতিমখানা মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন মাওলানা আবু ইসহাক। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ‘পাকিস্তানিদের পক্ষ নেওয়া ইসলামবিরোধী’ শিরোনামে লিফলেট বিতরণ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যোদ্ধা সংগ্রহ করতেন। রাজাকার বাহিনী তার পিছু নিলে তিনি গভীর জঙ্গলে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন।

৮. মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের যোগদান :

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে চট্টগ্রামের মাওলানা আবদুস সোবহানের বড় আবদুল গফফার মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ গঠন করেন এবং তিনি তাতে যোগদান করেন।

৯. রাঙ্গুনিয়া পতাকা উত্তোলন :

দেওবন্দ মাদরাসার ছাত্র ছিলেন মাওলানা দলিলুর রহমান। তিনি শুরু থেকে ছয় দফা আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন। তিনি তার পৈতৃক বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলেন। সেপ্টেম্বর মাসেই রাঙ্গুনিয়া স্বাধীন হলে তিনি সর্বপ্রথম লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন।

১০. ট্রেনিং ও অস্ত্র সরবরাহ :

মৌলভি সৈয়দ চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে কমান্ডার মৌলভি সৈয়দ নামেই পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করেন।

১১. বিমান হামলায় শহীদ :

কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণা দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা বেতার কেন্দ্রটি রক্ষার জন্য জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ায় আশ্রয় নেন। ফলে মাদরাসাটির ওপর শ্যেন দৃষ্টি পড়ে পাকিস্তানিদের। তারা এখানে বিমান হামলা করে। এতে শহীদ হন মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা দানেশ (রহ.)।

১২. মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা :

মাওলানা নূরুল আফসার ছিলেন মনোরহাট সিনিয়র মাদরাসার শিক্ষার্থী। ৩১ আগস্ট ১৯৭১ তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ১০ নম্বর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধীনে ফেনী ও নাজিরহাটের একাধিক অভিযানে অংশ নেন। যুদ্ধের পর একই রেজিমেন্টে সার্জেন্ট পদে যোগদান করেন।

১৩. মসজিদে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দান :

একাত্তর সালে নারায়ণগঞ্জ মিলনপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব ছিলেন মাওলানা মতিউল ইসলাম। যুদ্ধের সময় তিনি রাতের বেলা তার মসজিদে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিতেন এবং এখান থেকে তারা বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করত।

১৪. সংবাদ সংগ্রহ :

কুড়িগ্রামের মাওলানা মির্জা মোহাম্মদ নূরুল হক ছিলেন একজন রণাঙ্গনের যোদ্ধা। তিনি ক্যাপ্টেন বুরহানুদ্দীন ও কর্নেল নওয়াজেশের অধীনে যুদ্ধ করেন। পাশাপাশি তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সংবাদ সংগ্রহ করতেন। এ জন্য দিনের বেলা সুপারি বিক্রি করতেন।

১৫. সেকশন কমান্ডার : 

মাওলানা শামসুল হুদা কমান্ডার বোরহানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সেকশন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এবং তিস্তা ব্যারেজ দখল অভিযানে অংশ নেন।

১৬. তিস্তা ব্রিজ দখল : 

মাওলানা আমজাদ হোসেন প্রথমে নাগেশ্বরীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে, পরে দার্জিলিংয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ট্রেনিং শেষে তিস্তা ব্রিজ অপারেশনে অংশ নেন। ১৩ দিন যুদ্ধ করার পর তিস্তা ব্রিজ দখল করেন।

১৭. সংখ্যালঘুদের আশ্রয় দান :

 ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ‘মাওলানা বাড়ির’ সন্তান মাওলানা মাহমুদুল হাসান। তার পরিবারের একাধিক সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাড়িতে শত শত হিন্দু পরিবার আশ্রয় নেয়। এ জন্য পাকিস্তানি বাহিনী তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

১৮. জীবন, মাদরাসা ও বাড়ি সব দিলেন :

 মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর রেলস্টেশন মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন মাওলানা আবুল হাসান যশোরী। তিনি তার মাদরাসার সব শ্রেণির মানুষকে আশ্রয় দেন। যাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও ছিলেন। ফলে তার মাদরাসায় হামলা করে পাকিস্তানি বাহিনী। হামলায় মাওলানা আবুল হাসানসহ ২১ জন শহীদ হন। এরপর পাকিস্তানি বাহিনী তার বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করে।

১৯. দল থেকে পদত্যাগ :

নেজামে ইসলাম পার্টি পাকিস্তানি শাসকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং যুক্তফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ শরিক হলেও পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার দাবিতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে। এর প্রতিবাদে দল থেকে পদত্যাগ করেন এই দলের নেতা ও সভাপতির মুখপাত্র মাওলানা আতাউর রহমান খান।

২০. প্রবাসী সরকারের কর্মী :

 বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম মাইলফলক ৭ মার্চের জনসমাবেশ। এই সমাবেশে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা খায়রুল ইসলাম যশোরী। তিনি মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই প্রবাসী সরকারের কর্মী হিসেবে যোগ দেন। তিনি প্রতিদিন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কোরআন তিলাওয়াত করতেন।

২১. বাবার কাছে প্রশিক্ষণ : 

মিরপুরের জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা আজাদ। তার বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সুবেদার। যুদ্ধ শুরু হলে কর্নেল আতাউল গনি ওসমানী তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। বাবার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর জলিলের অধীনে একাধিক যুদ্ধে অংশ নেন।

২২. মাদরাসায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প : 

মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজ মাদরাসায় মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেন চরমোনাই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ এছহাক (রহ.)। ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিল, ক্যাপ্টেন আবদুল লতিফসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা নিয়মিত তার কাছে যাতায়াত করতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় চরমোনাই আলিয়া মাদরাসা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত ঘাঁটি। মাদরাসার পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দু-তিনটি কক্ষ ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা সেখানে অস্ত্র মজুদ, খাবার, বিশ্রাম ও পরামর্শ করতেন। মাওলানা এছহাক (রহ.)-এর নির্দেশে তার জামাতা মাওলানা ইউসুফ আলী খান সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ‘কাজি’ তথা পারস্পরিক মতভিন্নতা হলে মীমাংসাকারীও ছিলেন। যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অস্ত্রগুলো মাওলানা ইউসুফ আলী খানের কাছে গচ্ছিত রেখে যান, যা তিনি পরবর্তী সময়ে দারোগা আবদুল মান্নানের হাতে সোপর্দ করেন।

২৩. যশোর রেল স্টেশন মাদরাসার মুহতামীম দেওবন্দ ফারেগ মাওলানা আবুল হাসান যশোরী:

যশোর রেল স্টেশন মাদরাসার মুহতামীম দেওবন্দ ফারেগ মাওলানা আবুল হাসান যশোরীর কথা বলা যায়। তিনি এবং তার মাদরাসার ছাত্ররা মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দিয়েছেন। তার মাদরাসার ছাত্ররা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল তার মাদরাসায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হামলা করে। শহীদ হন ২১ জন। যাদের মধ্যে একজন সম্মানিত আলেম হাবীবুর রহমান, ৫ জন ছাত্র এবং বাকীরা ছিল ওখানে আশ্রয় নেয়া মুক্তিযোদ্ধা। মাদরাসা প্রাঙ্গনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর রয়েছে। ওই হামলায় যাশোরী গুলিবিদ্ধ হয়ে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। পরে ১৯৯৩ সালে যশোরী ইন্তেকাল করেন।

২৪. মাওলানা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান:

কথা সাহিত্যিক আনিসুল হকের মা উপন্যাসে আজাদের মা সাফিয়া বেগম তার ছেলে আজাদকে পুরান ঢাকার জুরাইনের পীরের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণ করেন। জুরাইনের পীরের আসল নাম ছিল মাওলানা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান চিশতী। এই জুরাইনের পীরের বহু মুরীদ মুক্তিযোদ্ধা ছিল। জুরাইনের পীর সাহেব নিজে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দিয়েছিলেন। (তথ্য সূত্র: আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে-লেখক সাংবাদিক শাকের হোসাইন শিবলী)।

২৫. দানেশ রহমাতুল্লাহ আলাইহি:

মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটিয়া মাদরাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন তাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন পটিয়া মাদরাসার মুহতামীম আল্লামা দানেশ রহমাতুল্লাহ আলাইহি। এ ঘটনা জানতে পেরে পাক বাহিনী নির্বিচারে বোমা হামলা করে। শহীদ হন আল্লামা দানেশ রহমাতুল্লাহ আলাইহিসহ আরো অনেকে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বেলাল মোহাম্মদের লেখা ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ বইটির ৫৪,৫৫,১০২ পৃষ্ঠায় এই ঘটনার বর্ণনা রয়েছে।

২৬.
২নং সেক্টরের যোদ্ধা মেজর কামরুল হাসানের লেখা ‘জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা’ বইটিতে কুমিল্লার মুরাদনগরের কাশিমপুরের পীর এবং বরিশালের মরহুম চরমোনাইয়ের পীর এসহাক রহমাতুল্লাহর নাম উল্লেখ করেছেন। যারা বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।

 

২৭.হাকীমুল উন্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভীর সর্বশেষ জীবিত খলিফা হাফেজি হুজুর (র.) মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ সর্ম্পকে তার মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের যুদ্ধ। পাকিস্তানিরা হচ্ছে জালেম আর আমরা বাঙ্গালীরা হচ্ছি মজলুম। এ রকম বহু আলেম ওলামা পীর মাশায়েখের কথা উল্লেখ করা যায়। যারা কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছেন। এই সত্য অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধে আলেমদের অংশগ্রহণ নিয়ে তেমন সাহিত্যকর্ম হয়নি। প্রবন্ধ, নিবন্ধ, বই প্রকাশ হয়েছে কম। যেটা হচ্ছে তা হল আলেমদের নেগেটিভভাবে তুলে ধরা। বাংলাদেশের প্রকৃত আলেমরা ন্যায়ের পক্ষে, অন্যায়ের বিপক্ষে সব সময়। মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান অনেটাই অন্তরালে আছে। তাই মুক্তি সংগ্রামে আলেমদের অবস্থান, তাদের বীরত্ব নিয়ে সহিত্যকর্ম হওয়া দরকার।

২৭. প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মোহাম্মদ শামসুল হুদা পাঁচবাগী পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেন এবং বাংলা ভাষাভাষি অঞ্চল নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।

মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল হুদা পাঁচবাগী তার প্রচারপত্রের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার দাবি উপস্থাপন করে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত রাজনীতিতে বঙ্গীয় ওলামার ভূমিকা নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ।

 ২৮. মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজবাড়ী জেলখানায় আটক বিহারীদের জয় বাংলার পক্ষে সমর্থন দেওয়ার অনুরোধ করায় প্রাণ দিতে হয়েছিল মাওলানা কাজী ইয়াকুব আলীকে। পাকিস্তানি বাহিনী রাজবাড়ী দখলের পর বিহারীরা জেলখানা থেকে ছাড়া পেয়ে মাওলানা কাজী ইয়াকুব আলীকে গলা কেটে হত্যা করে। তারপর তার পেটের মাঝখানে পাকিস্তানি পতাকা পুঁতে দিয়ে বলে, ‘আভি শালা জয় বাংলা বোলো’। (দৈনিক সংগ্রাম ৭/১১/২০১৫)

২৯. একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন সশস্ত্র যোদ্ধা ছাগলনাইয়ার মাওলানা মাকসুদ ভূঁইয়া, আল্লামা এমদাদুল হক আড়াইহাজারী (রহ), হাতিয়ার মাওলানা মোস্তাফিজ, চট্টলার কমান্ডার মাওলানা সৈয়দ প্রমুখ। 

৩০.এছাড়াও একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্টিফিকেটের অধিকারী আলেমদের তালিকায় আছেন মাওলানা আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী, মাওলানা আবদুস সোবহান, মাওলানা দানেশ, মাওলানা আতাউর রহমান খান, মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ আড়াইহাজারী। 


আরো যারা আছেন:

২/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (নোয়াখালী) 

৩/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশ্রাফ (ঢাকা) 

৪/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ 

৫/ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ বু্দ্ধীজীবি মাওলানা অলিউর রহমান সিলেট।

৬/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী (সিলেট) 

৭/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী (সিলেট) 

৮/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুর রহমান (কুমিল্লা) 

৯/ হাতিয়া দ্বীপের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মুস্তাফির রহমান (হাতিয়া দ্বীপ) 

১০/ মুক্তিযুদ্ধে অকুতোভয় সৈনিক মুহাদ্দিস আব্দুস সোবহান 

১১/ মুক্তিযোদ্ধা মুফতি আব্দুস সালাম (চট্টগ্রাম) 

১২/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আবু ইসহাক 

১৩/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আবুল কালাম 

১৪/ মুক্তিযোদ্ধা মৌলভী আব্দুল মালেক (পটিয়া) 

১৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা দলিলুর রহমান (চন্দ্র কোনা) 

১৬/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মতিউর--রাসুল (রানীর হাট) 

১৭/ সাহসী বীর গেরিলা কমান্ডার মাওলানা মৌলভী সৈয়দ (চট্রলা) 

১৮/ মুক্তিযোদ্ধা আল্লামা দানেশ (পটিয়া) 

১৯/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা নোমান আহমদ 

২০/ মুক্তিযোদ্ধা মৌলভী মোঃ মকসুদ আহমদ 

২১/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুল মতিন মজুমদার (কুমিল্লা) 

২২/ মুক্তিযোদ্ধা মৌলভী নুরুল আফসার (ফেনী) 

২৩/ মুক্তিযোদ্ধা নানু ক্বারী (কুমিল্লা) 

২৪/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা কাজী আব্দুল মতিন (চাঁদপুর) 

২৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মতিউর রহমান (নারায়ণগঞ্জ) 

২৬/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মির্জা মোঃ নূরুল হক (নারায়ণগঞ্জ) 

২৭/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আলিফুর রহমান (রংপুর) 

২৮/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ক্বারী আব্দুস সালাম সরকার (রংপুর) 

২৯/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মোহাম্মদ আলী 

৩০/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মাহতাফ উদ্দিন (কুড়িগ্রাম) 

৩১/ সেক্টর কমান্ডার মাওলানা সামসুল হুদা (কুড়িগ্রাম) 

৩২/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আমজাদ হোসেন (কুড়িগ্রাম) 

৩৩/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা কামরুজ্জামান (নরসিংদী) 

৩৪/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা বশির উদ্দিন (টাঙ্গাইল) 

৩৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা বজলুর রহমান 

৩৬/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মাহমুদুল হাসান (ময়মনসিংহ) 

৩৭/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ 

৩৮/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা সাইফুল মালেক সাহেব (জামালপুর) 

৩৯/ মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী খাঁন (চরমোনাই মাদ্রাসা) 

৪০/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ইউসুফ 

৪১/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ইসহাক রহঃ (চরমোনাই) 

৪২/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মৌলভী মির্জা আব্দুল হামিদ (বরিশাল) 

৪৩/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মুখলিসুর রহমান (চান্দিনা) 

৪৪/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা লোকমান আহমেদ আমিনী 

৪৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মোঃ ফিরোজ আহমদ (নোয়াখালী) 

৪৬/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা উসমান গণি (নোয়াখালী) 

৪৭/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুল আউয়াল (চাঁদপুর) 

৪৮/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আতাউর রহমান খাঁন (কিশোরগঞ্জ) 

৪৯/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আতাহার আলী রহঃ (কিশোরগঞ্জ) 

৫০/ মুক্তিযোদ্ধা মৌলভী আব্দুস সোবহান (চট্টগ্রাম) 

৫১/ মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবু ইউসুফ (চট্টগ্রাম) 

৫২/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ফজলুল হক (নূর নগরী) 

৫৩/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা খায়রুল ইসলাম (যশোর) 

৫৪/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মহিউদ্দিন (ময়মনসিংহ) 

৫৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ক্বারী আব্দুল খালেক সাহেব 

৫৬/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা সামসুদ্দিন কাশেমী (ঢাকা) 

৫৭/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা জহিরুল হক (বি-বাড়ীয়া) 

৫৮/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ইসহাক ওবায়দী (নোয়াখালী) 

৫৯/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মুফতি নূরুল্লাহ রহঃ (বি-বাড়ীয়া) 

৬২/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মিরাজ রহমান (যশোর) 

৬৩/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা শওকত আলী (শরীয়তপুর) 

৬৪/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা এমদাদুল হক আড়াই হাজারী (চট্টগ্রাম) 

৬৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ (কিশোরগঞ্জ) 

৬৬/ মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী (মোমেন শাহী)। 

[তথ্য সূত্রঃ- স্মৃতির পাতায় হাফেজ্জী]

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...