4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: জয়বাংলা একটি পাকিস্তানি হাইব্রিড স্লোগান > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪

জয়বাংলা একটি পাকিস্তানি হাইব্রিড স্লোগান

 জয়বাংলা কখনোই বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান ছিলো না,এটা পাকিস্তানি হাইব্রিড স্লোগান।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ লেখা সামরিক ব্যাজ


জাতীয় স্লোগান হিসাবে জয়বাংলাকে ঘোষনার প্রজ্ঞাপন আদালত বাতিল করেছে। এ নিয়ে নানান বিতর্ক শুরু হয়েছে। আসলে কি জয়বাংলা বাংলাদেশের কখনও মুক্তির বা জাতীয় কিংবা আদর্শের কোনো স্লোগান? না, কখনোই নয়, এটা একটা হাইব্রিড স্লোগান।

স্লোগান কি?

কোনো সংগঠন, প্রতিষ্ঠান কিংবা জাতি তাদের আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যে বাক্য দিয়ে প্রকাশ করে তাকেই স্লোগান বলে। যেমন ভারতীয় সংবিধানের জাতীয় স্লোগান হল "সত্যমেব জয়তে" বা "সত্যের সর্বদা জয় হয়"। 

এটি অশোকের সিংহ রাজধানীর গোড়ায় দেবনাগরী লিপিতে খোদাই করা হয়েছে এবং এটি ভারতীয় জাতীয় প্রতীকের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

পৃথিবীর নানান দেশেও অনুরূপ জাতীয় স্লোগান আছে যার যার মত করে। এই স্লোগানের সাথে হাজারো ইতিহাস জড়িয়ে থাকে।

অনেকে বলে জয়বাংলা নাকি বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান। কিন্তু কোন যুক্তিতে এটা স্লোগান তার কারন ও ইতিহাস কেউ বলতে পারে না। একটাই যুক্তি, শেখ মুজিব ৭ই মার্চ ভাষনে এটা বলেছে।এটা তো শেখ মুজিবের ব্যক্তিগত ভাষন ছিলো, এটা কোনো স্লোগান হিসাবে স্বীকৃত না। এটা যদি স্লোগান হয়েও থাকে তা তাদের দলীয় স্লোগান হতে পারে।  যদি জাতীয় স্লোগান হতো তাইলে এটা সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকত কিংবা বাংলাদেশে কোনো জাতীয় দিবসে ব্যবহৃত হতো কিংবা তৎকালীন সময়ে কোন না কোনো পত্রে লিপিবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু সেটা কোথাও পাওয়া যায় না। বরং ১৯৭০ সালের সাধারন নির্বাচনে আওয়ামিলীগ এর নির্বাচনী প্রচার পত্রেও পাকিস্তান জিন্দাবাদ এবং আওয়ামিলীগ জিন্দাবাদ বাক্যটি ছিলো যা আমি এখানে সংযুক্ত করব।

এবার আসুন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শব্দটা বাংলাদেশের জাতীয় শ্লোগান হওয়ার যৌক্তিকতা ও সত্যতা। পাকিস্তান আমলে জাতীয় স্লোগান ছিলো পাকিস্তান জিন্দাবাদ। পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের সময়ে তা বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের সৈনিকরা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে পরিবর্তন করে এই স্লোগানটিকেই তারা মুক্তির স্লোগান হিসাবে ব্যবহার করত।

স্বাধীনতার পর নতুন বাংলাদেশের সরকার সৈনিকদের ব্যাজ গুলোতে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ কথাটি খোদাই করে লিখা দিয়েছিলো।

আওয়ামিলীগ এর ১৯৭০ এর নির্বাচনের
হ্যান্ডবিলে আওয়ামিলীগ জিন্দাবাদ লেখা


এবার দেখুন জয়বাংলা কিভাবে স্লোগান হলো।১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস 'জয়বাংলা' স্লোগানকে সামনে নিয়ে আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গোপন ছাত্র সংগঠন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ 'জয়বাংলা' নামে একটি হাতে লেখা সংবাদ প্রকাশ করত। (সিরাজুল আলম খানের স্বাধীনতা-সশস্ত্র সংগ্রাম এবং আগামীর বাংলাদেশ)।এটা গোপন সংগঠনের স্লোগান ছিলো, কোনো জাতীয় স্লোগান নয়, এটা কেউ জানতও না।

১৯৬৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভা চলাকালীন স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের দুই সদস্য—আফতাব উদ্দিন আহমেদ এবং চিস্তি শাহ হেলালুর রহমান—'জয়বাংলা' স্লোগান দেন।এই গুপ্ত সংগঠনের দুজন নেতা "জয়বাংলা" স্লোগান দেওয়ার মানে এই নয় এটা জাতীয় স্লোগান।

ছাত্রলীগ নেতা আফতাব ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং চিস্তি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও দর্শনের শিক্ষার্থী আবার একাধারে গুপ্ত সংগঠনের সদস্য।

আফতাবের 'জয়বাংলা' স্লোগান দেওয়ার কোনো পটভূমিকা ছিল না তখন।

১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রউফের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তান সফর করেন।

ফিরে আসার পর রউফ মধুর ক্যান্টিনে অন্যদের সঙ্গে তার সফরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, জিএম সৈয়দের নেতৃত্বে সিন্ধুতে একটি আন্দোলন চলছে এবং এর মূল স্লোগান ছিল 'জয়সিন্ধ'।অর্থাদ গুপ্ত সংগঠন ও ছাত্র লীগের জয় বাংলা স্লোগানটি পাকিস্তানের সিন্দু প্রদেশ হতে ধার করা।

আলোচনার এক পর্যায়ে আফতাব বলেন, তারাও 'জয়বাংলা' ব্যবহার করতে পারেন। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর মধুর ক্যান্টিনে তিনি নিজেই স্লোগানটি দেন। (সূত্র:স্লোগানে স্লোগানে রাজনীতি: আবু সাঈদ খান)

১৯৭০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্ররা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি সমাবেশে এই স্লোগান দেয়। সেখানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন।এটা ছিলো তাদের দলীয় নতুন হাইব্রিড স্লোগান। 

এর দুই সপ্তাহ পর ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের কথিত স্থপতি, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরশাসক শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশে উচ্চারিত হতে থাকে 'জয় বাংলা' শব্দ দুটি।এতে কি প্রমান বাকি থাকে যে এই হাইব্রিড স্লোগান ছিলো আওয়ামিলীগের দলীয় স্লোগান?(সিরাজুল আলম খানের স্বাধীনতা-সশস্ত্র সংগ্রাম এবং আগামীর বাংলাদেশ)

১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের সব সদস্যকে রাজপথে নামতে বলা হয়েছিল এবং পরিষদের সব সদস্যের কাছে নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আওয়ামিলীগ এর দলীয় ম্যানোফেস্ট হিসাবে সাইক্লোস্টাইল পেপারে 'জয়বাংলা' প্রকাশিত হয়েছিল।

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে যাচ্ছিলো ততই আওয়ামিলীগ এর নতুন হাইব্রিড স্লোগান 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ'র বদলে সর্বত্র 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়া হয়েছে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে—বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে—শেখ মুজিব যখন তার ১৯ মিনিটের মহাকাব্যিক ভাষণটি 'জয়বাংলা' দিয়ে শেষ করেছিলেন, এরপর থেকে স্লোগানটি ছড়িয়ে পরে সর্বত্র। এই স্লোগান শুনে উপস্থিত জনতা গর্জে ওঠে নতুন উদ্যমে।কিন্তু এই সমাবেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেওয়া হয় নি।তাইলে তখনও জয়বাংলা তাদের দলীয় স্লোগান হিসাবে প্রচারিত হয়।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তার প্রথম বেতার ভাষণ শেষ করেন 'জয়বাংলা, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ' বলে। পরের দিন এটি রেডিওতে প্রচারিত হয়।



২০২২ সালের ২ মার্চ অবৈধ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার পাকিস্তান হতে ধার করা হাইব্রিড স্লোগান  'জয়বাংলা'কে জাতীয় স্লোগান করে অবৈধভাবে। 

1 টি মন্তব্য:

  1. সত্য প্রকাশের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও সংগ্রামী শুভেচ্ছা।
    - মনিরুল ইসলাম।

    উত্তরমুছুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...