4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে কঠিন আজাবের হুঁশিয়ারি > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪

ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে কঠিন আজাবের হুঁশিয়ারি

 "ট্রান্স জেন্ডার বিষয়ে ইসলামের কঠিন আজাবের হুঁশিয়ারি "

ট্রান্সজেন্ডার মহাপাপ



আল্লাহ তা'লা মানুষ ও জ্বীন জাতিকে শুধু মাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এই ইবাদত জীবনের প্রত্যকটা পর্যায়ে করতে হবে। এই দুই জাতির আল্লাহর ইবাদত ব্যতিত আর কোন কাজ নাই। এখন প্রশ্ন আসে কীভাবে ব্যক্তিগত সকল কাজ এই ইবাদতের ভেতরে গন্য হয়?

এর উত্তর হলো দুনিয়ার সকল কাজ করার জন্য আল্লাহ তা'লা মানুষকে কিছু নীতি নির্ধারন করে দিয়েছে এবং এখানে হালাল ও নিষিদ্ধ কার বিস্তারিত ভাবে বর্ননা করেছে। এই নিয়ম গুলোর মাধ্যমে কাজ গুলো করে হারাম ও হালাল বাছাই করে কাজ করলেই সকল কাজ ইবাদত হিসাবে গন্য হবে।

আল্লাহ যত গুলো কাজকে কঠিন ভাবে নিষিদ্ধ করেছেন তার মধ্য অন্যতম একটি মহাপাপ হলো সমকামিতা বা ট্রান্সজেন্ডার।

ট্রান্স জেন্ডার কি?
ট্রান্স জেন্ডার আর হিজড়া এক বিষয় না। অনেকে হিজড়াকে ট্রান্সজেন্ডার বলে। আদতে হিজড়া হলো মানুষের যৌনাঙ্গের এক ধরনের জন্মগত ত্রুটি। এই হিজড়ারা আমাদের সমাজেরই অংশ। ওরা ভিন গ্রহের কোন প্রানী নয়, বরং আমাদের মানুষের সন্তান।

কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার হলো এক ধরনের মানসিক বীকার গ্রস্ততা। এটা একটা মানসিক সমস্যা যা সরাসরি শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ করে থাকে।

এখানে একজন দৈহিক ভাবে সুস্থ(আদতে মানসিক ভাবে চরম বিকৃত) পুরুষ নিজেকে নারী মনে করে ইচ্ছে করেই মেয়েদের মত আচরন করে আরেকজন তার মত মানসিক বিকার গ্রস্থ পুরুষকে যৌন আকর্ষনে আকর্ষিত করে তার সাথে যৌন সংগম করে। অর্থাদ দুইজন পুরুষের মধ্যে বিকৃত ভাবে যৌন সঙ্গম করে তাদের যৌন চাহিদা বিকৃত ভাবে চরিতার্থ করে। এটাকে ইংরেজিতে Queer বলে।

অনেকে বলে থাকে এটা কোন হরমোনের কারনে হয়ে থাকে, আদতে হরমোনের সমস্যার কারনে হিজড়া সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়, কিন্তু সমকামিতায় হরমোনের তেমন কোন প্রভাব আছে বলে চিকিৎসকরা মনে করে না। আর যেসকল চিকিৎসক এটাকে হরমোনাল সমস্যা বলে বৈধতা দিতে চায় মনে রাখবে ঐ সকল চিকিৎসকরা নিজেরাও এ ধরনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত।

তা না হলে এই সমস্যা হরমোনাল চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা সম্ভব হত, আদতে এটা চিকিৎসা করে পরিবর্তন করার কোন ইতিহাস আমরা আজও দেখি নি।

আল্লাহ তা'লা এই জগন্য কাজকে কঠিন অপরাধ হিসাবে ঘোষনা দিয়েছেন।





اِنَّكُمْ لَتَاْتُوْنَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّنْ دُوْنِ النِّسَآءِ١ؕ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَ


অনুবাদ:
তোমরা মেয়েদের বাদ দিয়ে পুরুষদের দ্বারা কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করছো?৬৪ প্রকৃতপক্ষে তোমরা একেবারেই সীমালংঘনকারী গোষ্ঠী।”
(সূরা আ'রাফ,আয়াত:৮১)


 বিভিন্ন যুগের ইতিহাসে এ জাতীয় আরো কয়েকটি নৈতিক অপরাধের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু এখানে কেবলমাত্র ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতার নামের সবচেয়ে বড় অপরাধটির উল্লেখ করা হয়েছে। এ অপরাধটির ফলে তাদের ওপর আল্লাহর আযাব আপতিত হয়েছিলো। 

এই আয়াতটি লূত(আ:) জাতির জগন্য অপরাধীদের বিষয়ে বর্ননা করা হয়েছে যারা সমকামিতার মত বিকৃত মানসিক বীকারে আক্রানৃত জাতি ছিলো। এটাকে বর্তমানে আমরা গ্রীক জাতি হিসাবে চিনি। ইলুমিনাতির পদ্ধতিতে শয়তানের পুজারী গ্রীকরাই কৌশলে সারা বিশ্বে এই যৌন বিকৃতি প্রচার ও প্রসার করে যাচ্ছে।

এ ঘৃণ্য অপকর্মটির বদৌলতে এ জাতি যদিও দুনিয়ার বুকে চিরদিনই ধিক্কার ও কুখ্যাতি কুড়িয়েছে, কিন্তু অসৎ ও দুষ্কর্মশীল লোকেরা এ অপকর্মটি থেকে কখনো বিরত থাকেনি। তবে একমাত্র গ্রীকরাই এ একক কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছে যে, তাদের দার্শনিকরা এ জঘন্য অপরাধটিকে উৎকৃষ্ট নৈতিক গুণের পর্যায়ে পৌঁছে দেবার চেষ্টা করেছে। এরপর আর যেটুকু বাকি ছিল, আধুনিক ইউরোপ তা পূর্ণ করে দিয়েছে। ইউরোপে এর স্বপক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। এমনকি একটি দেশের (জার্মানী) পার্লামেন্ট একে রীতিমতো বৈধ গণ্য করেছে। অথচ সমকামিতা যে সম্পূর্ণ প্রকৃতি বিরোধী একথা একটি অকাট্য সত্য। মহান আল্লাহ‌ শুধুমাত্র সন্তান উৎপাদন ও বংশ রক্ষার উদ্দেশ্যই সকল প্রাণীর মধ্যে নর-নারীর পার্থক্য সৃষ্টি করে রেখেছেন। আর মানব জাতির মধ্যে এ বিভিন্নতার আর একটি বাড়তি উদ্দেশ্য হচ্ছে নর ও নারী মিলে এক একটি পরিবারের জন্ম দেবে এবং তার মাধ্যমে সমাজ-সভ্যতা-সংস্কৃতির ভিত গড়ে উঠবে। এ উদ্দেশ্যেই নারী ও পুরুষের দু’টি পৃথক লিংগের সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি করা হয়েছে। পারস্পরিক দাম্পত্য উদ্দেশ্য পূর্ণ করার উপযোগী করে তাদের শারীরিক ও মানসিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের পারস্পরিক আকর্ষণ ও মিলনের মধ্যে এমন একটি আনন্দ মধুর স্বাদ রাখা হয়েছে যা প্রকৃতির উদ্দেশ্য পূর্ণ করার জন্য একই সঙ্গে আকর্ষনকারী ও আহবায়কের কাজ করে এবং এ সঙ্গে তাদেরকে দান করে এ কাজের প্রতিদানও। কিন্তু যে ব্যক্তি প্রকৃতির এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধাচারণ করে সমমৈথুনের মাধ্যম যৌন আনন্দ লাভ করে সে একই সঙ্গে কয়েকটি অপরাধ করে। প্রথমত সে নিজের এবং নিজের স্বাভাবিক দৈহিক ও মানসিক কাঠামোর সাথে যুদ্ধ করে এবং তার মধ্যে বিরাট বিপর্যয় সৃষ্টি করে। এর ফলে তাদের উভয়ের দেহ, মন ও নৈতিক বৃত্তির ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। দ্বিতীয়ত, সে প্রকৃতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। কারণ প্রকৃতি তাকে যে আনন্দ, স্বাদ মানব জাতির ও মানসিক সংস্কৃতির সেবায় প্রতিদান হিসেবে দিয়েছিল এবং যা অর্জন করাকে তার দায়িত্ব, কর্তব্য ও অধিকারের সাথে শর্তযুক্ত করেছিল, সেই স্বাদ ও আনন্দ সে কোন প্রকার সেবামূলক কার্যক্রম, কর্তব্য পালন, অধিকার আদায় ও দায়িত্ব সম্পাদন ছাড়াই ভোগ করে। তৃতীয়ত সে মানব সমাজের সাথে প্রকাশ্যে বিশ্বাসঘাতকতা করে। কারণ সমাজ যে সমস্ত তামাদ্দুনিক প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছে সেগুলোকে সে ব্যবহার করে এবং তার সাহায্যে লাভবান হয়। কিন্তু যখন তার নিজের দেবার পালা আসে তখন অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্যের বোঝা বহন করার পরিবর্তে সে নিজের সমগ্র শক্তিকে নিরেট স্বার্থপরতার সাথে এমনভাবে ব্যবহার করে, যা সামাজিক সংস্কৃতি ও নৈতিকতার জন্য কেবলমাত্র অপ্রয়োজনীয় ও অলাভজনকই হয় না বরং নিদারুনভাবে ক্ষতিকরও হয়। সে নিজেকে বংশ ও পরিবারের সেবার অযোগ্য করে তোলে। নিজের সাথে অন্ততপক্ষে একজন পুরুষকে নারী সুলভ আচরণে লিপ্ত করে। আর এই সঙ্গে কমপক্ষে দু’টি মেয়ের জন্য যৌন ভ্রষ্টতা ও নৈতিক অধঃপতনের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়।


এই জঘন্য অপরাধটির বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে মানব জাতির জন্য ধ্বংসাত্মক তা নিম্নে দেওয়া হলো:

১।সমকামীতা কোন রোগ নয় এটা এক ধরনের যৌন বিকৃতি।

২।এটা কোন হরমোনাল সমস্যা নয়, এমন হলে চিকিৎসা দিলে সুস্থ হয়ে যেত, বরং এটা শয়তানের কুমন্ত্রনায় এক ধরনের মানসিক যৌন বিকৃতি।

৩। এই উপায়ে পুরুষে  পুরুষে বিকৃত যৌন মিলনের ফলে কোন সন্তান উৎপাদনের সুযোগ না থাকায় এক সময় এই মানসিক ব্যাধির ব্যাপক প্রসারের ফলে সনৃতান উৎপাদনের পথ রুদ্ধ হয়ে মানব জাতি বিলীন হয়ে যাবে।

৪। এই উপায়ে যৌন কর্মের ফলে একজ নারীর পুরুষের সান্নিধ্য হতে বঞ্চিত হয় যা একটা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।

এই সমকামিতা বা ট্রান্সজেন্ডার পদ্ধতি মানব সভ্যতার জন্য কতটা ধ্বংসাত্মক তা আমরা পশ্চিমা দেশ যেখান ট্রান্সজেন্ডার পদ্ধতি বৈধ সে সকল দেশে সন্তান উৎপাদনের হার কমে যাওয়া তার একটা অকাট্য প্রমান।

লেখক:
ডা.বশির আহাম্মদ, চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী। 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...