পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

“বিকৃত বাউলচর্চা ও জাহেলিয়াতের কবিকুল: একটি পরিত্যাজ্য সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি”

ছবি
  কবিতা, বাউল সংস্কৃতি ও ইসলামী নৈতিকতা: কুরআন, তাফসির ও ইতিহাসের আলোকে একটি বিশ্লেষণ ভূমিকা ইসলামী সভ্যতায় সাহিত্য, কবিতা ও সঙ্গীত নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ইসলাম আবির্ভূত হওয়ার আগে আরব সমাজে কবিরা ছিলেন সামাজিক মতামত নির্মাতা, গোত্রীয় গৌরবের প্রচারক এবং জনমত প্রভাবিত করার অন্যতম প্রধান শক্তি। জাহেলিয়াত যুগে বহু কবিতা যুদ্ধ, প্রতিশোধ, মদ্যপান, উচ্ছৃঙ্খল প্রেম, বংশীয় অহংকার ও নৈতিক অবক্ষয়কে মহিমান্বিত করত। ফলে কুরআন যখন কবিদের একটি অংশের সমালোচনা করে, তা মূলত সেই সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে। তবে ইসলামের অবস্থান একমাত্রিক নয়। কুরআন যেমন দায়িত্বহীন ও বিভ্রান্তিকর কবিতার সমালোচনা করেছে, তেমনি হাদীস ও ইসলামী ইতিহাসে সত্যনিষ্ঠ ও নৈতিক কবিতার স্বীকৃতিও পাওয়া যায়। তাই কবিতা, শিল্প বা লোকসংস্কৃতি নিয়ে ইসলামী আলোচনা করতে হলে আবেগ নয়, বরং দলিলভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণ প্রয়োজন। জাহেলিয়াত যুগে কবিদের সামাজিক ভূমিকা ইসলামপূর্ব আরব সমাজ ছিল মৌখিক সংস্কৃতিনির্ভর। কবিরা ছিলেন: গোত্রের মুখপাত্র, রাজনৈতিক প্রচারক, যুদ্ধপ্রেরণাকারী, এবং জনমত নির্মাতা। খ্যাতিমান আরব ইতিহাসবিদ Ibn Khal...

যে ভাবে আগে থেকেই ভূমিকম্পের আগাম বার্তা পেতে পারেন

  অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ভূমিকম্প সতর্কতা বা আর্থকোয়েক অ্যালার্ট চালু করার নিয়ম নিচে দেওয়া হলো।  এই ফিচারটি গুগল দ্বারা চালিত এবং এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার কাছাকাছি হওয়া ভূমিকম্প সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠায়।  চালু করার ধাপসমূহ: সেটিংস (Settings) খুলুন: আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মূল সেটিংস অ্যাপটি খুলুন। অবস্থান (Location) অপশনে যান: সেটিংস মেনুতে 'Location' বা 'অবস্থান' খুঁজে বের করে ট্যাপ করুন।  অবস্থান পরিষেবা (Location services) নির্বাচন করুন: 'Location' মেনুতে গিয়ে 'Location services' বা 'অবস্থান পরিষেবা' অপশনটি খুঁজুন।  ভূমিকম্প সতর্কতা (Earthquake alerts) চালু করুন: 'Location services'-এর অধীনে 'Earthquake alerts' বা 'ভূমিকম্প সতর্কতা' অপশন দেখতে পাবেন।  এটিতে ট্যাপ করুন। টগল সুইচ অন (ON) করুন: স্ক্রিনের উপরের দিকে থাকা টগল সুইচটি ট্যাপ করে চালু (ON) করে দিন।

“হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনে বৌদ্ধ নিধন: অতীত-বর্তমানের লুকোনো ইতিহাস”

ছবি
  বৌদ্ধধর্মের পতন, ব্রাহ্মণ্য পুনর্গঠন ও ধর্মীয় রূপান্তর: একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা ভূমিকা ভারতীয় উপমহাদেশে বৌদ্ধধর্মের উত্থান ও পতন দক্ষিণ এশীয় ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা থেকে বিকশিত এই ধর্ম একসময় সমগ্র ভারতবর্ষ, মধ্য এশিয়া ও পূর্ব এশিয়াজুড়ে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। বিশেষত মौर্য সম্রাট অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় বৌদ্ধধর্ম একটি আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ও দার্শনিক শক্তিতে পরিণত হয়। তবে প্রথম সহস্রাব্দের শেষভাগে এসে ভারতীয় উপমহাদেশে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করে। বৌদ্ধধর্মের পতনের কারণ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। কেউ রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তনকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখেছেন; কেউ ব্রাহ্মণ্য ধর্মীয় পুনর্গঠন, সামাজিক রূপান্তর এবং মন্দিরভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর উত্থানকে গুরুত্ব দিয়েছেন। আবার অনেক গবেষক মুসলিম আক্রমণ, বৌদ্ধ সংঘের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার পরিবর্তনকেও সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন (R.S. Sharma, 1987; Romila Thapar, 2002)। ব্রাহ্মণ্য পুনর্গঠন ও বৌদ্ধধর্মের সাংস্কৃতিক আত্মীকরণ কিছু ...

জ্ঞানচুরির প্রাচীন কৌশল: মুসলিম বিজ্ঞানীদের পরিচয় বিলোপের ল্যাটিন প্রকল্প

ছবি
  মুসলিম বিজ্ঞানীদের আড়াল করার চক্রান্ত : ল্যাটিন অনুবাদে নাম পরিবর্তন। মুসলিম বিজ্ঞানীদের আড়ালে রাখার ইউরোপীয় কৌশল: নাম বিকৃতি থেকে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা মধ্যযুগের স্বর্ণযুগে বিজ্ঞান ও জ্ঞানচর্চায় মুসলিম সভ্যতার অবদান ছিল বিপুল ও নির্ণায়ক। ইউরোপ যখন অন্ধকার যুগে নিমজ্জিত, তখন মুসলিম দার্শনিক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ ও চিকিৎসকেরা মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন আলোকিত দৃষ্টিভঙ্গি ও গবেষণার শক্তিতে। কিন্তু পরবর্তীতে ইউরোপে এই জ্ঞানভান্ডার স্থানান্তরের সময় একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা দেখা যায়—মুসলিম বিজ্ঞানীদের পরিচয় আড়াল করা, বিশেষ করে ল্যাটিন অনুবাদের মাধ্যমে তাদের নাম বিকৃত করা। বিশ্বজুড়ে কোনো লেখকের রচনা অনুবাদ করার ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হলো—বই অনুবাদ হবে, কিন্তু লেখকের নাম অপরিবর্তিত থাকবে। কিন্তু মুসলিম বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম ভেঙে দেওয়া হয়। তাদের পূর্ণ আরবি নাম বাদ দিয়ে ল্যাটিনে এমনভাবে রূপ দেওয়া হয় যাতে বোঝাই না যায়—তারা ছিলেন মুসলমান। এ ধরনের ঘটনার অন্য কোনো নজির পৃথিবীর সাহিত্য-ইতিহাসে নেই। অধ্যাপক জর্জ সারটন তাই মন্তব্য করেছিলেন—ইউরোপ পরিকল্পিতভাবে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদানকে...

ইসলামি রাষ্ট্রে নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারবে কি?

ছবি
  ইসলামি রাষ্ট্রে নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারবে কি?  নেতৃত্বের অধীনে লক্ষ্য অর্জনে অধীনস্তদের সংগঠিত, প্রভাবিত ও উৎসাহিত করে এবং তাদের স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তা নিয়ে কর্মতৎত্রতা পরিচালনা করা হয়। নারী নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ ও সিদ্ধান্তঃ উল্লেখ্য, কুরআন সুন্নাহে নারী নেতৃত্ব বৈধ বা অবৈধ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশ নেই। রসুল সা.-এর যুগে কোনো নারীকে গভর্নর, বিভিন্ন অভিযানে দলনেতা বা বিচারিক নেতৃত্ব বা কর্তৃত্ব প্রদান করেছিলেন বলে প্রমাণিত নয়। খোলাফায়ে রাশিদীনের যুগেও তাই। এজন্য পরবর্তী আলিমগণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ করেছেন।  তাদের মতামতসমূহ প্রধানত ছয় ধরনের: প্রথম অভিমত: সকল ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্ব অবৈধ, কারো মতে হারাম। দ্বিতীয় অভিমত: সকল ক্ষেত্রে সব ধরনের নারী নেতৃত্ব বৈধ। তৃতীয় অভিমত: মজলিশে শুরা ব্যবস্থায় বা যৌথ নেতৃত্বে নারীর সর্বোচ্চ নেতৃত্বসহ সকল ক্ষেত্রের নেতৃত্ব বৈধ। চতুর্থ অভিমত: বিশেষ অবস্থা বা প্রেক্ষাপটে নারীর রাষ্ট্রপ্রধানসহ সকল ক্ষেত্রে নেতৃত্ব বৈধ। পঞ্চম অভিমত: বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্ব বৈধ। ষষ্ঠ অভিমত : গোটা জাতির উপর সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ব্যতীত অন...

মানুষের আইন বনাম আল্লাহর বিধান: ইসলাম কেন গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যান করে

ছবি
  ইসলামে গণতন্ত্র হারামের শরয়ী দলিল — পর্যালোচনা গণতন্ত্রকে অনেকেই ইসলামসম্মত বা গ্রহণযোগ্য মনে করলেও ইসলামী আকীদা ও শরিয়তের আলোকে এ ব্যবস্থাটি যে সরাসরি শিরক ও কুফরীর সাথে সাংঘর্ষিক—তা বিভিন্ন দলিল দ্বারা স্পষ্ট হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের একজন সাবেক সভাপতি দাবি করেছেন যে “গণতন্ত্র হারাম”—এমন কোনো আয়াত বা শরয়ী দলিল নেই। কিন্তু বিষয়টি এত সহজ নয়। মনে রাখতে হবে— কুরআন নাজিল হয়েছিল এমন এক যুগে, যখন ‘গণতন্ত্র’ নামে কোনো রাজনৈতিক ধারণারই অস্তিত্ব ছিল না। তাই শব্দগতভাবে “গণতন্ত্র হারাম” না থাকলেও মানুষের বানানো সকল বিধানকে যে শরিয়তে হারাম করা হয়েছে—তা কুরআন-সুন্নাহ বহু জায়গায় সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ মানুষের তৈরি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব শাসনব্যবস্থাই ইসলামে বাতিল—যদি তা আল্লাহর বিধানের বিপরীতে দাঁড়ায়। আমি পরামর্শ দেব—ছাত্র শিবিরের ঐ সাবেক সভাপতি এবং এই লেখার পাঠকরাও যেনো প্রথমে “খেলাফত ও মুলকিয়াত” বইটি পড়ে নেন। কারণ সেখানে ইসলামের রাজনৈতিক ধারণা ও মানুষ-নির্মিত ব্যবস্থার মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে অযথা বিতর্ক, ভুল ব্যাখ্যা বা ...

১৭ নভেম্বর ভয়াল নানিয়ারচর গণহত্যা দিবস

ছবি
  ১৭ নভেম্বর ভয়াল নানিয়ারচর গণহত্যা দিবস : তিন দশক পরও বিচারহীনতা, ভুক্তভোগীদের আহাজারি একই রয়ে গেছে আজ ১৭ নভেম্বর—পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে কলঙ্কে ভরা এক শোকাবহ দিন। ১৯৯৩ সালের এই দিনটি রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় বাঙ্গালীদের ওপর শান্তিবাহিনীর (বর্তমান জেএসএস) পরিকল্পিত গণহত্যার দিন হিসেবে স্মরণ করা হয়। আজ সেই নৃশংস ঘটনার ৩২ বছর পূর্তি। এই হত্যাযজ্ঞকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে ১৯তম ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গণহত্যা ভুলে গেছে জাতি, দুঃসহ স্মৃতি বহন করে পরিবারগুলো দীর্ঘ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও নানিয়ারচর গণহত্যায় নিহতদের জন্য আজও রাষ্ট্রীয় কোনো বিচার হয়নি। ৪৯ জনেরও বেশি নিরস্ত্র বাঙ্গালীকে হত্যা, নারীদের গণধর্ষণ ও হত্যা, ১৫০–২০০ জনকে আহত করার ভয়াল ঘটনাটি ক্রমেই ভুলে যাচ্ছে পার্বত্য বাঙ্গালীরা। সেদিন কী ঘটেছিল? সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল—পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙ্গালীদের উৎখাত করে পাহাড়কে বাঙ্গালীশূন্য করা। সেসময় তাদের পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হামলায় পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ৩৫ হাজার বাঙ্গালী প্রাণ হারান বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ পা...

নারীর পর্দা—সমাজ, পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে এক গভীর বাস্তবতা

ছবি
  নারীর পর্দা—সমাজ, পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে এক গভীর বাস্তবতা নারীর পর্দা নিয়ে আমরা অনেক সময় কোরআন–হাদীসের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকি। কিন্তু আজ আমি কোরআন–হাদীস উল্লেখ না করে—যুক্তি, বাস্তবতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু প্রশ্ন ও উপলব্ধি সামনে আনতে চাই। সম্মানিত মা-বোনেরা—অনুগ্রহ করে মনোযোগ দিয়ে একবার ভেবে দেখবেন। ১. আপনারা কেন বুঝতে পারছেন না যে আপনারা সুরক্ষিত, মূল্যবান ও আল্লাহর বিশেষ রহমত? নারী সৃষ্টি নিজেই এক অপূর্ব রহমত ও সম্মানের প্রতীক। এই বিশেষ মর্যাদাকে রক্ষার জন্যই পর্দা—যা আপনাদের সুরক্ষা, সম্মান ও মর্যাদার ঢাল। ২. আপনি কি কখনো ভেবেছেন—আপনারাই দুনিয়ার সকল পুরুষের মা? আজ পৃথিবীতে যে হাজারো মানুষ—তারা কারও না কারও গর্ভে লালিত। প্রতিটি মহান মানুষের পেছনে ছিলেন একজন মা। তাই আপনার মর্যাদা আসলে সমগ্র মানবজাতির সম্মানের সমান। ৩. আপনাদের গর্বেই জন্ম হয়েছে সকল মনীষী, মহানায়ক, নবী-রাসূল—এ কথা কি ভুলবেন কেন? ইতিহাসের প্রতিটি মহান ব্যক্তিত্বের সূচনা এক মায়ের হৃদয় ও গর্ভ থেকেই। এ মর্যাদা যে কত বড়—তা ভেবে দেখলেই পর্দার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা যায়। ৪. আপনি যে শরীরের অংশ বেপর্দাভা...