4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: দেশের জন্য সব হারানো বেগম খালেদা জিয়ার সফল সংগ্রামী জীবন > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

দেশের জন্য সব হারানো বেগম খালেদা জিয়ার সফল সংগ্রামী জীবন


 দেশের জন্য সব হারানো বেগম খালেদা জিয়ার সফল সংগ্রামী জীবন



<

বেগম খালেদা জিয়া(জন্ম: ১৫ আগস্ট ১৯৪৫)একজন বাংলাদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি ১৯৯১-১৯৯৬ সাল এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী রূপে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মাঝে দ্বিতীয় মহিলা সরকারপ্রধান (বেনজীর ভুট্টোর পর)।তাঁর স্বামী মরহুম জিয়াউর রহমানের শাসনকালে তিনি ফার্স্ট লেডি ছিলেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপার্সন ও দলনেতা, যা তার স্বামী জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আজ যাকে নিযে লিখবো তাঁর বিষয়ে সত্যই লিখবো, একটুও বাড়াবাড়ি কিংবা তোষামোদি নয়,বরং বাড়াবাড়ি কিংবা তোষামোদি ঐ নেত্রী অপছন্দ করেন।খালেদা জিয়া ভয় নাই,রাজ পথ ছাড়ি নাই স্লোগানের জবাবে কি উত্তর দিয়েছেন আশা করি সবাই জানেন।

১৯৮২ সালে সেনাবাহিনী প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ১৯৯০ সালে সামরিক স্বৈরশাসক হিসেবে এরশাদের পতনের পূর্ব পর্যন্ত খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য চলমান আন্দোলনে নেতৃত্বদানের মাধ্যমে সহায়তা করেন। ১৯৯১ এর নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯৬-এর স্বল্পস্থায়ী সরকারেও তিনি দায়িত্বপালন করেন,যখন কিনা অন্য দলগুলো উক্ত নির্বাচনকে বর্জন করেছিল। ১৯৯৬ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। খালেদা জিয়ার দল পুনরায় ক্ষমতায় আসে ২০০১ সালে। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি নিজস্ব ৫টি সংসদীয় আসনের সবগুলোতেই জয়ী হন। ফোর্বস সাময়িকীর বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাবান নারী নেতৃত্বের তালিকায় ২০০৪ সালে খালেদা জিয়ার অবস্থান ১৪তম, ২০০৫ সালে ২৯তম, ও ২০০৬ সালে ৩৩তম।





২০০৬ সালে তার সরকারের নির্ধারিত শাসনকাল শেষ হওয়ার পর, ২০০৭ সালে নির্ধারিত নির্বাচন রাজনৈতিক সহিংসতা ও অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে বিলম্বিত হয়, ফলশ্রুতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক সামরিক পদ্ধতিতে রক্তপাতবিহীন ক্ষমতা অধিগ্রহণ করা হয়। উক্ত সরকারের সময়কালে, খালেদা জিয়া তার দুই সন্তানসহ স্বৈরাচার হাসিব্না সরকারের দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন। যদিও পরবর্তীতে এসব মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি ও খালাস পান।

গত দুই দশকের অধিকাংশ সময়ে খালেদা জিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তারা অনুক্রমিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম নাম খালেদা খানম পুতুল।আগস্ট ১৫, ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন(এই জন্ম তারিখ নিয়ে আওয়ামিলীগ বেশ বিতর্ক করে আসছে,কেননা এই দিন দয়া আওয়ামিলীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নিহত হয়েছিলো)। তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ভাইয়েরা সবার ছোট। তার পিতামহ হাজী সালামত আলী, মাতামহ জলপাইগুড়ির তোয়াবুর রহমান। বাবা জনাব ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়া। আদি পৈতৃকনিবাস ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ী। বাবা জনাব ইস্কান্দর মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ইস্কান্দার মজুমদার ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান। বোনের বাসায় থেকে মেট্রিক পাস করেন ও পরে চা ব্যবসায়ে জড়িত হন। ১৯৩৭ সালে জলপাইগুড়িতে বিয়ে করেন। জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বসবাস করেন এবং ১৯৮৪ সালের ১৫ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মা বেগম তৈয়বা মজুমদার ছিলেন একান্তভাবে একজন গৃহিণী । তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেই থাকতেন। খালেদা পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুলে ভর্তি হন এরপর তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন একই বছর তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।এরপর থেকে তিনি খালেদা জিয়া বা বেগম খালেদা জিয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন।তিনি স্বামীর সাথে পশ্চিম পাকিস্তান এ বসবাসের পূর্বে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ এ পড়াশোনা করেন।

তার স্বামী বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে জিয়াউর রহমানের সাথে তার বিয়ে হয়। জিয়া তখন ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। ডি এফ আই এর কর্মকর্তা রূপে তখন দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। তার এক ভাই মেজর(অবঃ) সাঈদ এস্কান্দার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে ফেনী-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। আরাফাত রহমান একজন ব্যবসায়ী ছাড়াও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সিটি ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলেন।

১৯৬৫ সালে খালেদা জিয়া স্বামীর সাথে পশ্চিম পাকিস্তানে (বর্তমানে পাকিস্তান)যান। ১৯৬৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করাচিতে স্বামীর সাথে ছিলেন। এরপর ঢাকায় চলে আসেন। কিছুদিন জয়দেবপুর থাকার পর চট্টগ্রামে স্বামীর কর্মক্ষেত্র স্থানান্তরিত হলে তার সঙ্গে সেখানে এবং চট্টগ্রামের ষোলশহর অঞ্চলে বসবাস করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভকালে খালেদা জিয়া কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় চলে আসেন। বড় বোন খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল জামশেদের অধীনে বন্দী ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি মুক্তি পান। রাজনীতিতে আসার আগ পর্যন্ত বেগম জিয়া একজন সাধারণ গৃহবধূ ছিলেন। মূলত দুই পুত্রকে লালন পালন ও ঘরের কাজ করেই সময় কাটাতেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনও রাজনীতিতে বেগম জিয়ার উপস্থিতি ছিল না।

রাজনৈতিক জীবনঃ
১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদের আহ্বানে তিনি ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। বেগম জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন।[২২] ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলত বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।



এরশাদ বিরোধী আন্দোলনঃ
১৯৮৩ সালের বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। একই সময় এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরম্ভ হয়। বেগম জিয়া প্রথমে বিএনপিকে নিয়ে ১৯৮৩ এর সেপ্টেম্বর থেকে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেন। একই সময় তার নেতৃত্বে সাত দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন পনেরো দলের সাথে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচির সূত্রপাত করে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বাঁধার সৃষ্টি হয়। ১৫ দল ভেঙে ৮ দল ও ৫ দল হয়। ৮ দল নির্বাচনে যায়। এরপর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল, পাঁচ দলীয় ঐক্যজোট আন্দোলন চালায় এবং নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া "এরশাদ হটাও" শীর্ষক এক দফার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। এর ফলে এরশাদ সংসদ ভেঙে দেন। তারপর পুনরায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের উপক্রম হয়। অবশেষে দীর্ঘ আট বছর অবিরাম, নিরলস ও আপোসহীন সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া মোট পাঁচটি আসনে অংশ নিয়ে পাঁচটিতেই জয়লাভ করেন।

আপোষহীন নেত্রীর আখ্যায়িত হওয়া:
বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার এরশাদের  অপশাসনের বিপক্ষে জনগনের মুক্তির আন্দোলনের সময় অবদান, এরশাদের নির্যাতন সব কিছু মিলিয়ে সিদ্ধান্তে অটল থাকা, এরশাদের বিভিন্ন প্রলোভনে প্রতারিত না হওয়া, এরশাদের নিকট হতে টাকার বস্তা পেয়ে ক্ষমতার লোভে আওয়ামিলীগ ও জামায়াত সবাই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় বেঈমানের খাতায় নাম উঠালেও বেগম খালেদা জিয়া নিজ সিদ্ধান্তে অটল থেকে একাই আন্দোলন চালিয়ে সফল হওয়ার পর হতেই তাঁকে জনগন আপষহীন নেত্রী বলে আখ্যায়িত করে।

দেশের মাটিতে সংগ্রামী জীবনঃ
১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য রূপে দলে যোগ দেবার পর থেকে মোট পাঁচ বার তিনি আটক হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর আটক হন।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় (১ সেপ্টেম্বর ২০০৭) কথিত দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হন।প্রায় এক বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন।২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান। 

স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রতিহিংসার বসত দুর্নীতির মামলা (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা) দেখিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ইং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।প্রথমে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড কারাগারে বন্দি ছিলেন, পরে স্বাস্থ্যগত কারণে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে রাখা হয়।প্রায় দীর্ঘ ২ বছরেরও বেশি সময় তিনি কার্যত কারাগারে ছিলেন।

গৃহবন্দী জীবনঃ
 ২৫ মার্চ ২০২০-এ তৎকালীন স্বৈরশাসক হাসিনা সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয় (কারাগারের সাজা স্থগিত করে বাসায় চিকিৎসার অনুমতি দেয়)। তবে এটিও পুরোপুরি মুক্তি নয়, আইনি শর্তে গৃহবন্দিত্বের মতো অবস্থা ছিল।২০২৪ সালের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত তাকে রাজনৈতিকভাবে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল।

গৃহবন্দী হতে মুক্তিঃ
২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে বেকসুর খালাস দিয়ে রায় ঘোষণার সময় আপিল বিভাগ বলেন,

প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এ মামলা করা হয়েছিল। মামলার বিচার ছিল সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সামাজিকভাবে অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে।

সার্বজনীন গ্রহনযোগ্যতা অর্জনঃ
বেগম খালেদা জিয়া এমন নারী যিনি একজন সফল গৃহিনী, সফল নারী, সফল মা, সফল রাজনীতি বিদ। এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য অনেক নেতা নেত্রীই নিজের জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করার দাবী করলেও আমার মনে হয় তাঁর মত এত কিছু কেউ রাজনৈতিক জীবনে জাতির মুক্তির জন্য হারাতে হয় নি।

তিনি তাঁর জীবনের শুরুতেই একটা বড় অংশ মুক্তিযোদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানের ক্যান্টনমেন্টে বন্দী ছিলেন, তার পর দেশে এসে যে বয়সে স্বামী সংসার নিয়ে একজন নারী সুখে শান্তিতে জীবন কাটানোর কথা সেখানে একজন সৎ আর্মি অফিসার ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্র প্রধানের স্ত্রী হওয়ার সুবাদে কাটাতে হয়েছে অভাব অনটন ও কষ্টে,যিনি একজন ফার্স্ট লেডি হলেও তাঁর নিজ পুত্রকে নতুন জুতা কিনে দিতে না পারার মত দু:খ বইতে হয়েছে।

নারী মানে মা, মা মানে নারী, বেগম খালেদা জিয়া একজন নারী হিসাবে যে বয়সে অন্তত স্বামী সংসারে ব্যস্ত হওয়ার কথা সে সময়টাতেই ঘাতকরা তাঁর স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়া কে হত্যা করে বুলেটের আঘাতে। স্বামী হারিয়ে একটি আর্থিক টানাপোড়েনের জীবনে পিষ্ট হতে শুরু করেন। শুরু হয় সংগ্রামী জীবন,একেতো দুই এতিম সন্তানদের নিয়ে সংসারের সংগ্রাম আবার অপর দিকে জাতির ভাগ্যের সংগ্রাম এসে তাঁর উপর বর্তায়।

১৯৯১ হতে ১৯৯৬ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হলেও ১৯৯৬ সাল হতে আবারও শুরু হয় সংগ্রামী জীবন, ভুল -ত্রুটি মিলে চলতে থাকে রাজনৈতিক জীবন। ২০০১ সালে আবার দেশের মানুষ রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসায় বেগম খালেদা জিয়াকে,কিন্তু আওয়ামিলীগ, ভারত ও বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র পিছু ছাড়ে নি তাঁর।দেশকে ভারতের তাঁবেদার হতে না দেওয়ার অদম্য ইচ্ছাই আবারও কাল হলো তাঁর জীবনে। নানান অপশক্তির যৌথ অপকৌশলের কাছে হেরে যান বেগম খালেদা জিয়া। দেশে ঘটে ১ এগারোর মত কালো অধ্যায়, ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন  বিনা কারনে জেলে নিয়ে যায় সেই আপোষহীন নেত্রীকে, শর্ত দেয় বিদেশ চলে গেলে মুক্ত করে দেওয়ার, খলেদার সোজাসাপটা উত্তর, আমি দেশের মানুষ ফেলে কোথায় যাবো,আমি বিদেশ যাবো না, মরলে জেলেই মরবো। 

এক এগারোর কুশীলবরা সুবিধা করতে না পেরে তাঁর বড় সন্তান  তারেক রহমানকে চোখের সামনেই নির্যাতন করে,দেশ ছেড়ে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে। সাজায় নির্বাচন নামক নাটক, নির্বাচনে হারিয়ে দেওয়া হয় বিএনপিকে। তার পর হতে স্বৈরাচার হাসিনার হাতে একে একে হারাতে থাকে জীবন ও সম্পদ। ঘাতকের বুলেটের আঘাতে স্বামী হারানো খালেদা জিয়া।  আরাফাত রহমানকে হত্যা করে স্বৈরশাসক হাসিনা, বের করে দেয় ক্যান্টনমেন্টের নিজ বাড়ি হতে, নি:স্ব করে দেয়।  আবারও হাসিনা শর্ত দেয় খালেদাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে, খালেদার উত্তর বাংলাদেশ ছাড়া আমার আর কোনো দেশ নাই, আমি এদেশ ছেড়ে, দেশের মানুষ ছেড়ে কোথাও যাবো না।

হাসিনা রুষ্ট হলো, মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে নিয়ে যায় হত্যার উদ্দেশ্যে,মাথা নত করে নি খালেদা জিয়া, ধৈর্য ধরে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে। হয়ত দেশের জন্য, স্বামী হারা, সন্তান হারা,বাড়ি হারা নিস্ব সেই নারীর ঐ দিনের ফরিয়াদে আঁরশে পৌঁছ যায়, কেঁপে উঠে খোদার আঁরশ, হয়ে যায় ফয়সালা, ঠুনকো কোটা বিরোধী আন্দোলনে স্বৈরাচার হাসিনা বল প্রয়োগ শুরু করে, হত্যা করে আমাদের নিষ্পাপ শিশু সুলভ ছাত্রদের, রক্তাক্ত করে বাংলাদেশের পবিত্র মাটি। এ আন্দোলনই হাসিনার কাল হয়ে দাঁড়ায়, হাসিনা পালায়ন করে, আপোষহীন নেত্রী খলেদাকে মুক্ত করে ছাত্র জনতা। খালেদা জিয়ার এই আপোষহীন জীবন তাকে সর্বজন গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিত্ব, জনপ্রিয়তায় সর্বোচ্চ আসনে পৌঁছে দেয়। ক্ষমতাশীন স্বৈরাচার হাসিনা যেখানে দেশের জনগন, দলের কর্মীদের ফেলে ভারতে কাপুরুষের মত পালিয়ে চলে যায়৷ সেখানে খালেদা জিয়া বার বার মৃত্যুর ঝুঁকিতে থেকেও দেশ ও জনগন ছেড়ে পালায় নি,দেশেই ছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দল এমন কি স্বৈরাচার আওয়ামিলীগও বলতে বাধ্য হচ্ছে খালেদা জিয়াই সেরা, খলেদা জিয়াই প্রকৃত দেশপ্রেমিক, বাকী দলগুলোর কথা আর কি বলবো,বাংলাদেশের কোনো দলই বেগম খালেদা জিয়াকে নির্দিষ্ট কোনো দলের নেতা মানতে রাজী নয়, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের, ১৮ কোটি নির্যাতিত জনতার, সার্বজনীন, সকল রাজনৈতিক দলের। সবাই বলে আমার নেত্রী আমার মা, আমায় ছেড়ে পালায় না।




খালেদার বিখ্যাত বানীঃ
শেখ হাসিনা পতনের পর খলেদা জিয়ার অনেক দিন আগের একটি বক্তব্য নতুন করে আবারো ছড়িয়ে পরে, আর সেটা হলো," হাসিনা দেশটাকে শেষ করে কোথাও পালিয়ে যাবে"। বাস্তবে ফলে যায় তাঁর ভবিষ্যত বানী,দেশকে চূর্ন বিচূর্ণ করে পালিয়ে যায় ভারতে।

সর্ব শেষে এটাই বলবো, খালেদা জিয়া কোনো নির্দ্দিষ্ট দলের নয়, কোনো গুষ্টির নয়, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...