মহান মুক্তি যুদ্ধে পাহাড়িদের অবদান

 "মহান মুক্তি যুদ্ধে পাহাড়িদের অবদান"



ইদানীং ঢাকসু নির্বাচনের শিবিরের দেওয়া প্যানেলের এক নেত্রী মন্তব্য করেছেন যে মুক্তিযুদ্ধে পাহাড়িদের নাকি কোনো অবদান নাই, এ নিয়ে পাহাড়িদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আদতে এই বিষয়টি হয়ত এই তরুন নেত্রী ভালভাবে জানেন না তাই বলেছে। আমি বিষয়টি খোলাসা করছি, কেননা এই ধরনের মন্তব্য জাতীয় বিভেদ তৈরীর সম্ভাবনা সৃষ্টি  করে।

মুক্তিযুদ্ধে পাহাড়িদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য এবং মিশ্র ছিল; 

একদিকে এম.এন. লারমা ও অন্যান্য পাহাড়ি নেতারা স্বাধীনতা সংগ্রামকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু অন্যদিকে, চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেন, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের যুদ্ধের ইতিহাসকে জটিল করে তোলে। এম.এন. লারমা জুম্ম জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার জন্য কাজ করেন,কিন্তু যদিও সন্তু লারমা মুক্তি যুদ্ধের পক্ষের ছিলো তথাপিও তার বতমান অবস্থান বিচ্ছিন্নতাবাদি,কেননা তার মেয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশ নিয়ে মিথয়াচার করেছে।

মুক্তিযুদ্ধে পাহাড়িদের ইতিবাচক ভূমিকাঃ

সংগঠিত নেতৃত্ব:

বিতর্কীত বিচ্ছিন্নতাবাদী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম.এন. লারমা) তখন ছিলেন পাহাড়িদের একজন অবিসংবাদিত নেতা। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং জুম্ম জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 

গণ-অংশগ্রহণ:

অসংখ্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, যেমন চাকমা, মারমা এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন, নিজেদের জীবন ও সম্পদ বাজি রেখে। 


মুক্তিযুদ্ধে পাহাড়িদের নেতিবাচক ভূমিকা ও বিরোধিতা:


রাজাকার বাহিনীর সমর্থন: 

তৎকালীন চাকমা সার্কেলের রাজা ত্রিদিব রায়, যিনি ভারত বিভাগের সময় থেকেই পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধের বিরোধিতা করেন এবং এতে তুলনামূলকভাবে বেশি চাকমার অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হয়।

মিশ্র ফলাফল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

জটিল বাস্তবতা:

একদিকে যেমন এম.এন. লারমার মতো নেতারা স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছিলেন, তেমনি রাজা ত্রিদিব রায়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন। এই বৈপরীত্য পার্বত্য চট্টগ্রামের যুদ্ধে এক জটিল ও বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি করে।

অবহিত করার চেষ্টা:

«মুক্তমনা বাংলা ব্লগ»-এর মতো বামপন্থী মাধ্যমগুলোতে পাহাড়িদের মুক্তিযুদ্ধকে অন্য আলোয় দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে রাজা ত্রিদিব রায়ের বিরোধিতায় পাহাড়িদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করে দেখানো হয়েছে এবং শেখহাসিনার মত পাহাড়ি জাতির মধ্যেও সুক্ষ বিভাজনের বীজ বপন করেছে। আদতে রাজা ত্রিদিব রায় ছিলো অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে ও ভারতের তাবেদারীর বিপক্ষে।

সংক্ষেপে, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাহাড়িদের অবদান ছিল একটি মিশ্র ঘটনা, যেখানে কিছু অংশ স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে ছিল এবং অন্য অংশ, বিশেষ করে প্রভাবশালী নেতৃত্ব, এরা অখন্ড পাকিতানের পক্ষ নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ইসলামে সূফীবাদ নামক কুফুরী ভ্রান্তি

মাও: মওদূদীর ভ্রান্ত আকীদা নিয়ে ৮৫ বছর যাবত ভারতবর্ষের আলেমদের বিতর্কের কারন

স্বাধীনতার যুদ্ধে সহায়তার নামে ভারতীয় বাহিনীর বাংলাদেশ লুটের হিসাব

আহলে হাদিসের ভন্ডামীর আদ্যোপান্ত

ঈমান আনায়নের পর প্রথম কাজ মুসলমানদের ভূমি রক্ষা

জামায়াতে ইসলামীর শালী তালাক

দেশের জন্য সব হারানো বেগম খালেদা জিয়ার সফল সংগ্রামী জীবন

জয়বাংলা একটি পাকিস্তানি হাইব্রিড স্লোগান

প্রকৃত বুদ্ধিজীবি হত্যাকারী নিজামী নয় আওয়ামিলীগ, তাদের বিচার চাই