4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: কথিত সালাফি-ই*হু*দি কানেকশনের মূল রহস্য" > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কথিত সালাফি-ই*হু*দি কানেকশনের মূল রহস্য"

 


একজন ছদ্মবেশী জায়নিস্ট মেন্দি সাফাদি সালাফী বলেন আমরা (মেহেরবানী করে পুরোটা না পড়ে কেউ ভুল না বুঝি):


একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম এবং একজন ধর্মপ্রাণ সালাফী হিসেবে আমি চূড়ান্তভাবে জায়নিজম মতবাদকে গ্রহণ করেছি। আমি বিশ্বাস করি এই জায়নিজম (ই*হু*দি*রাষ্ট্রবাদী) মতবাদের ভিত্তি হলো শান্তি, গ্রহণযোগ্যতা এবং সংলাপ। জায়নিজম হলো একটি শান্তিপূর্ণ মতাদর্শ যা অন্য মানুষদেরকে ইহুদি জাতির বৈধ এবং ন্যায়সংগত রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে পথপ্রদর্শন করে। ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করাটা মূলত ইহুদি জাতিকে আল-কুরআন প্রদত্ত অধিকারকে দিতে অস্বীকার করা। ফিলিস্তিনিদের শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকার করাটা চরমপন্থা। ইসরাইল কখনোই মুসলিম বিশ্ব এবং বিশেষ করে আরব বিশ্বের জন্য হুমকি ছিল না।"


ভিডিওতে এই কথাগুলো যিনি বললেন তার নাম নূর দাহরি। পাকিস্তানে জন্ম নেয়া এবং বেড়ে ওঠা সালাফী মতাদর্শের দাবিদার এই ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের পুলিশে সাত বছর কর্মরত ছিলেন। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে Forensics and Criminal Psychology পড়াশোনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান Islamic Theology of Counter Terrorism- ITCT এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক।


(https://blogs.timesofisrael.com/author/noor- dahri/)


এছাড়াও তিনি ২০২০ সালে বিশ্ব হিন্দু সংগ্রাম পরিষদ (World Hindu Struggle Committee) আন্তর্জাতিক কমিটির উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছে। (t.ly/CFho) ২০০০ সালে ভারতে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ব হিন্দু সংগ্রাম পরিষদ যার প্রধান অফিস পশ্চিম বংগে যার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর তথাকথিত যে নির্যাতন হয় তার প্রতিকার বিধান করে হিন্দুদের অধিকার রক্ষা করা। এ ছাড়াও পাকিস্তান,আরবদে শগুলো সহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতেও হিন্দুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।


(https://thenewse.com/world-hindu-struggle/)


এই পরিষদের ওয়েবসাইটে গেলেও দেখা যায় এতে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের কাল্পনিক সব খবর দিয়ে ভরপুর।


(https://worldhindustrugglecommittee.org/)


উল্লেখ্য এই পরিষদের আন্তর্জাতিক কমিটির প্রধান মেন্দি সাফাদির বাংলাদেশ সরকারের বিরূদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়ে ২০১৮ তে বাংলাদেশের পত্র- পত্রিকায় বেশ আলোচনা হয়। ঢাকা ট্রিবিউনের জেরুজালেম পোস্টের বরাত দিয়ে করা রিপোর্টটিতে জানা যায় বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে ইসরাইলের যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এই মেন্দি সাফাদি World Hindu Struggle Committe এর পক্ষ থেকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু'র কাছে চিঠি লিখেন যাতে বাংলাদেশ সরকারকে পাশ কাটিয়ে সেদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি করার জন্য অনুরোধ করা হয়।


(https://www.dhakatribune.com/ bangladesh/2017/07/10/israels-mendi-safadi-nw-batting-bangladeshi-hindus) 

যাইহোক আমরা আবার নূর দাহরির আলোচনায় ফিরে আসি। নূর দাহরি যে কাজগুলো করছে তা হলো কুরআন-সুন্নাহ থেকে ইসরাইল রাষ্ট্রের বৈধতা প্রমাণ, মুসলিমদের উপর নির্যাতনকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীকেই উল্টো মাজলুম প্রমাণ করা, বিভিন্ন ইসলামী দলগুলোকে ইখওয়ানী (মুসলিম ব্রাদারহুডপন্থী) বা খারেজী বলে উপহাস করা এবং সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের বিতর্কিত কাজগুলোর পক্ষে কথা বলা। এক্ষেত্রে আমরা কিছু উদহারণ দেখতে পারি-


নূর দাহরি একটি ভিডীওতে সূরা মায়েদার ২১ নম্বর আয়াত যেখানে আল্লাহ তায়া'লা মুসা আ'লাইহিসসালাম এঁর যুগে ইহুদিদের জন্য প্রতিশ্রুত ভূমির কথা উল্লেখ করেছিলেন সেটার রেফারেন্স দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে, ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা মূলত আল-কুরআনে ইহুদি জাতির প্রতি প্রদত্ত আল্লাহ তায়া'লার দেয়া অধিকার।


(https://www.youtube.com/watch?v=lUseCp-k 4t4&feature=youtu.be&t=193)


Times of Israel এর ব্লগে তার Who's abusing human rights - Israel or the Palestinians? নামের একটি লেখায় সে দেখানোর চেষ্টা করে ইসরাইল না বরং ফিলিস্তিনিরাই মানবাধিকার লংঘন করছে। (https://blogs.timesofisrael.com/whos- abusing-human-rights-israel-or-the-palest inians/)


ইসরাইলী একটি ওয়েবসাইট israelseen এ সে HAMAS: Islamic or a Kharijit (extremist renegades) নামের একটি প্রবন্ধে ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগঠন হামাসকে খারেজি হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করে।


(https://israelseen.com/2016/08/14/noor-dahri-hamas-islamic-or-a-kharijit-extremist-যাইহোক আমরা আবার নূর দাহরির আলোচনায় ফিরে আসি। নূর দাহরি যে কাজগুলো করছে তা হলো কুরআন-সুন্নাহ থেকে ইসরাইল রাষ্ট্রের বৈধতা প্রমাণ, মুসলিমদের উপর নির্যাতনকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীকেই উল্টো মাজলুম প্রমাণ করা, বিভিন্ন ইসলামী দলগুলোকে ইখওয়ানী (মুসলিম ব্রাদারহুডপন্থী) বা খারেজী বলে উপহাস করা এবং সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের বিতর্কিত কাজগুলোর পক্ষে কথা বলা। এক্ষেত্রে আমরা কিছু উদহারণ দেখতে পারি-


নূর দাহরি একটি ভিডীওতে সূরা মায়েদার ২১ নম্বর আয়াত যেখানে আল্লাহ তায়া'লা মুসা আ'লাইহিসসালাম এঁর যুগে ইহুদিদের জন্য প্রতিশ্রুত ভূমির কথা উল্লেখ করেছিলেন সেটার রেফারেন্স দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে, ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা মূলত আল-কুরআনে ইহুদি জাতির প্রতি প্রদত্ত আল্লাহ তায়া'লার দেয়া অধিকার।


(https://www.youtube.com/watch?v=lUseCp-k4t4&feature=youtu.be&t=193)


Times of Israel এর ব্লগে তার Who's abusing human rights - Israel or the Palestinians? নামের একটি লেখায় সে দেখানোর চেষ্টা করে ইসরাইল না বরং ফিলিস্তিনিরাই মানবাধিকার লংঘন করছে। (https://blogs.timesofisrael.com/whos-abusing-human-rights-israel-or-the-palest inians/)


ইসরাইলী একটি ওয়েবসাইট israelseen এ সে HAMAS: Islamic or a Kharijit (extremist renegades) নামের একটি প্রবন্ধে ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগঠন হামাসকে খারেজি হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করে।


(https://israelseen.com/2016/08/14/noor- dahri-hamas-islamic-or-a-kharijit-extremist-(https://mobile.twitter.com/dahrinoor 2status/ 1280348796866756610?s=19)


সবচেয়ে ভয়ংকর যে বিষোয়টা আপনি দেখতে পাবেন সেটা হলো Times of Israel এর ব্লগে তার লেখা I am a proud Pakistani and a proud Zionist too সে নিজের সপরিবারে ইসরাইল ভ্রমণের অনেকগুলো ছবি দেয় যার একটির ক্যাপশন ছিল Noor Dahri at the Kotel যাতে তাকে ইহুদীদের কেবলা বাইতুল মুকাদ্দাসের পশ্চিম দেয়াল (কোটেল)-এ মাথা ঠুকরাতে দেখা যায়।


(https://blogs.timesofisrael.com/i-am-a-proud-pakistani-and-a-proud-zionist-too/)


তো নূর দাহরির ওয়েবসাইট, ব্লগ, টুইটার, ফেইসবুকে মুসলমানদের সকল দল এবং মতের বিরোধীতা পেলেও শুধু একটিমাত্র গোষ্ঠীর প্রশংসা পাবেন। আর সেটা হলো সৌদি এবং আরব-আমিরাতের শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের প্রচারিত ধর্মীয় মতবাদের। এর কারনটিও তার স্ট্যাটাস থেকেই আপনি সহজে বুঝতে পারবেন। সে লেখে,


আরব বসন্তের পর থেকে ইসরাইল সৌদি আরবকে guarantor of stability অর্থাৎ ইসরায়েলর স্থায়িত্বের জামিনদার মনে করে থাকে। ২০১১ সালে জার্মান সৌদি আরবের কাছে যে ২০০ লিওপোর্ড ট্যাংক বিক্রি করে সেটা মূলতঃ ইসরাইলের ইশারাতেই করা হয়। আর এটি হয় বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উজি আরাদ এর মাধ্যমে।


(https://twitter.com/dahrinoor 2/status/1253764027869728772?s=19)


তো এখন কথা হলো নূর দাহরির এই মতাদর্শের ব্যাপারে আমাদের করণীয় কি? এজন্য আমাদেরকে যেটা দেখতে হবে তার এসকল চিন্তাধারা কি কোন বিচ্ছিন্ন মতবাদ নাকি ধারার সালাফি ধারার বড় একটা অংশ এই একই চিন্তাভাবনায় প্রভাবিত হয়েছে বা হচ্ছে।


এটা ঠিক যে ইসলামের এই মডারেশনের ফিতনা সকল দ্বীনী মহলকেই আক্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে সালাফী-হানাফী-কওমী-ইখওয়ানী-র কোন বাছবিচার নেই। কিন্তু সৌদি আরবের সরকারি প্রচেষ্টায় যে মডারেশনের কাজ চলছে তার মূল ভুক্তভোগী কিন্তু সালাফীরাই। কারন হানাফী, সুফী, দেওবন্দী, ইখওয়ানীদের উপর সৌদি আরবের তেমন কোন প্রভাব নেই আর সৌদি আরবের শাসকগোষ্ঠী এদের পৃষ্ঠপোশকও নয়। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন দেওবন্দী, সালাফী, ইখওয়ানি এগুলো সবই কিন্তু আমাদের মানে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়া'হ এর অন্তর্ভুক্ত ইনশাআল্লাহ। সুতরাং এগুলোর কোন একটা মানহাজ যদি মডারেটদের দ্বারা কিছুমাত্রও ছিনতাই হয়ে যায় তাহলে মুসলিম উম্মাহ এর অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।


এজন্য আমাদেরকে নজর দিতে হবে সালাফি মতাদর্শ প্রচারের মূল কেন্দ্র সৌদি আরবের বর্তমান দাওয়াতি অবস্থান এবং বাংলাভাষী হিসেবে এ ভাষার সালাফী দায়ীদের দাওয়াতের দিকে। আমরা নূর দাহরির চিন্তাভাবনাগুলোকে বর্তমানের সালাফী দায়ীদের দাওয়াতের সাথে তুলনা করে দেখবো যে নূর নাহদির চিন্তাধারা কি একটি বিচ্ছিন্ন মতাদর্শ নাকি সালাফিজমের ধারাবাহিক মডারেশনের চুড়ান্ত স্তর।


এটা একদম ধ্রুব সত্য বিষয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্লানের অংশ হিসেবে ইসলামের মডারেশনের যে চেষ্টা চলছে তার এক বড় অংশীদার হলো সৌদি আরব এটা একদম ধ্রুব সত্য।বষয় যে, মাকিন যুক্তরাষ্ট্রের প্লানের অংশ হিসেবে ইসলামের মডারেশনের যে চেষ্টা চলছে তার এক বড় অংশীদার হলো সৌদি আরব নামের রাষ্ট্রেটি। এটা কোন রাখঢাকের বিষয় নয় বা গোপন কোন নথিপত্র থেকে ফাঁস হওয়া তথ্যও নয়। খোদ সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানই ২০১৭ সালে বলেন,"আমি সৌদি আরবকে মডারেট ইসলামে নিয়ে যাবো।"


(https://www.theguardian.com/world/2017/oct/24/i-will-return-saudi-arabia-moderate- islam-crown-prince) তাছাড়া জায়নিজম তথা ইসরাইলের বৈধতার বিষয়েও


বর্তমানে সৌদি আরবকে বিভিন্ন সময় সমর্থন করতে দেখা যায়। বিন সালমান ২০১৬ সালে এক সাক্ষাতকারে ইসরাইলীদের তাদের নিজ ভুমিতে (ইসরাইলে) বসবাসের অধিকার রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। (https://www.theatlantic.com/international/ archive/2018/04/mohammed-bin-salman-iran-israel/557036/)


এছাড়াও ২০১৬ সালেই সৌদির সাবেক জেনারেল আনওয়ার এসকি ইসরাইল সফর করে ইসরাইলের পার্লামেন্ট সদস্যদের সাথে মিটিং করেন। (https://www.haaretz.com/israel-news/premium-saudi-ex-general-visits-israel-meets- with-foreign-ministry-chief-1.5414512)


বর্তমানে সৌদি আরবে সরকারি ভাবে পশ্চিমা তারকাদের নিয়ে এসে মিউজিক কনসার্ট, ফ্যাশন শো, মেয়েদের রেসলিং এর মতো অশ্লীলতা বা কিছু কিছু শরিয়াহ আইন বাতিলের মতো প্রাক্টিক্যাল বিষয়গুলো আলোচনায় না এনে আমরা শুধুমাত্র একাডেমিক বিষয়গুলো দিয়েই দেখতে পারি যে সৌদি আরব বর্তমানে কিভাবে ইসলাম মডারেশনের চেষ্টা করছে।


আমরা একটা ভয়ংকর বিষয় দেখতে পাই ২০১৯ সালে মক্কায় ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগের "Moderation in the text of Quran and Sunnah" নামক কনফারেন্সে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়া তথাকথিত "মক্কা সনদ"-এ। (https://themwl.org/en/node/36140)


এই "মক্কা সনদ" সম্পর্কে মারকাযুদ দাওয়াহ এর শায়খ আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ বলেন,


“ঘোষিত সুপারিশমালায়, যাকে 'মক্কা সনদ' নাম দেওয়া হয়েছে এবং ঐতিহাসিক 'মদীনা সনদ'-এর সাথে মেলানো হয়েছে, তাতে ইসলামের তালীম নেই; রয়েছে পশ্চিমা দর্শনের তরজুমানী। এতে পশ্চিমাদের গলায় গলা মিলিয়ে তো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে খুব বলা হয়েছে, কিন্তু এ ব্যাপারে টু শব্দটিও করা হয়নি, যারা সন্ত্রাস মোকাবেলার নামে দুনিয়াব্যাপী হত্যা লুণ্ঠন ও সম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন চালিয়ে বেড়াচ্ছে- তাদের ও তাদের দোসরদের কী বিধান হবে। তাদেরও বা কী বিধান হবে, যারা অস্পষ্ট শব্দ ও গোঁজামিল দিয়ে ইসলাম ও শরীয়তে ইসলামের উপর ওদের চিন্তা-দর্শন আরোপ করে যাচ্ছে।”


(https://www.alkawsar.com/bn/article/2660/)


তো এই মক্কা সনদ যারা পাশ করালেন তাদের অবস্থানটা এবার দেখুন, ২০২০ সালে ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগের সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল করিম ইসাকে নিউইয়র্কে একটি ইহুদি সেনেগগে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিবিদ এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে American Sephardi Federation নামক ইহুদি সংগঠনের পক্ষ থেকে ইহুদিদের পক্ষে কাজ করার জন্য পুরস্কৃত করা হয়। (https:// www.arabnews.com/node/1688381/saudi-arabia) সেখানে তিনি বলেন, “আমরা, ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগ, আমাদের ইহুদি ভাই এবং বোনদের সাথে কাঁধে arabia) সেখানে তিনি বলেন, “আমরা, ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগ, আমাদের ইহুদি ভাই এবং বোনদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পেরে গর্বিত।” (https://english.alarabiya.net/en/News/world/2020/06/10/Muslim-World-League-will- stand-shoulder-to-shoulder-with-Jews-against-antisemitism)


অপরদিকে নূর দাহরির মতোই সৌদি আরব ফিলিস্তিনিদের সাথে বিমাতাসূলভ আচরণ করছে। ২০১৭ সালে সৌদি গ্রান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ আশ- শেখ ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ করাকে নিষিদ্ধ ঘোষনা দেন এবং হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন বলে উল্লেখ করেন যার পুরস্কার স্বরূপ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পুরস্কৃত করার জন্য ইসরাইলে আমন্ত্রণ জানান। (https://english.alaraby.co.uk/english/ news/2019/8/6/israel-rewards-anti-hamas- saudi-grand-mufti-with-israel-invite)


নূর দাহরি সালাফিদেরকে তিনভাগে বিভক্ত করেছে যাদের দুই ভাগ হচ্ছে তার মতে পথভ্রষ্ট আর একটি ভাগ হচ্ছে পিওর তথা খাঁটি সালাফি! (https://


twitter.com/dahrinoor2/status/1266595936387686400?s=19)


তো এই খাঁটি সালাফিদের যে বৈশিষ্ট সে বলেছে সেটা হলো, তারা কোন রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়ায় না এবং শাসকদের বিরোধিতা করে না। সৌদি সরকারপন্থী দায়ী আসিম আল হাকিমও সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সময় সরকারের বিরূদ্ধে মিছিল সমাবেশ হারাম বলে ফতোয়া দেন। (https://www.middleeastmonitor.com/20200601-saudi-cleric-it-is-prohibited-to-protest-in-islam/)


আর এই একই রকমের ফতোয়া আমরা শুনতে পাই শায়খ আবু বকর জাকারিয়ার কাশ্মীর বিষয়ক বক্তব্যে যাতে তিনি মিছিল করতেও না করেন। (https://www.youtube.com/watch?v=OSKZIWib 7YA&feature=youtu.be&t=68)


অপরদিকে সৌদি আরবের মিউজিক কনসার্ট বা অন্যান্য অশ্লীলতার বিষয়ে আরবের শাসকদের পক্ষে সাফাই গেয়ে আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ বলেন যে, মুহাম্মাদ বিন সালমান এবং দুবাই এর শাসকদের স্ত্রীরা খাস পর্দায় থাকেন। কিন্তু তাদের জনগণ ভালো না তাই জনগণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা বাধ্য হয়ে এসব অশ্লীলতার অনুমোদন দিচ্ছেন। (https://www.youtube.com/watch?v=ynbYSele 9B8&feature=youtu.be&t=30)


মুহাম্মাদ বিন সালমান এবং দুবাই এর শাসকদের স্ত্রীরা খাস পর্দায় থাকেন কিনা সেটা আমরা আলোচনা নাই করি কিন্তু সেদেশের শাসকদের বাঁচানোর জন্য যে জনগণের উপর ব্যপকভাবে অপবাদ দেয়া হলো সেটা নিয়ে কিছু বলা দরকার।


কিছুদিন পূর্বে ডঃ জাকির নায়েকের বিরূদ্ধে আহলে হাদীসদের অনেকেই খারেজী এবং ইখওয়ানী অপবাদ দিতে থাকেন। এটা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ তোলপাড় হয়। যেটা নিয়ে শেষ পর্যন্ত ডঃ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিঃ) এঁর প্রতিষ্ঠিত আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং শায়খ আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ (হাফিজাহুমুল্লাহ)-এঁর মতো সালাফী আলেমগণও মুখ খুলতে বাধ্য হন। (https://www.youtube.com/watch?v=Xr3y5p4A6xE)


ডঃ জাকির নায়েকের একটা অপরাধ ছিল যে তিনি বর্তমান দুনিয়ার যে সেরা তিনজন আলেমের নাম বলেছিলেন তাঁদের মধ্যে সালাফী আলেম আব্দুল আজিজ আত-তারিফি (হাফিজাহুল্লাহ) এঁর নাম ছিল। (t.ly/4190) আর সৌদি আরবের সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই শায়খ আব্দুল আজিজ আত-তারিফি (হাফিজাহুল্লাহ) একজন সালাফী হলেও তিনি নাকি খারেজী কারন তিনি সৌদি শাসকের বিরূদ্ধাচারণ করেছেন। আর এ অপরাধে ২০১৬ সাল থেকে তিনি সৌদি কারাগারে বন্দী অবস্থায় আছেন। তো এই শায়খের অপরাধ হলো তিনি সৌদি আরবে বিনোদনের নামে যে অশ্লীলতা চলছে তার বিরূদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। (https://english.alaraby. co.uk/english/blog/2016/4/25/trending-saudi-arabia-arrests-religious-preacher-over-anti-go vernment-tweet)


শুধু শায়খ আব্দুল আজিজ আত-তারিফি (হাফিজাহুল্লাহ)-ই না। খোদ সৌদি আরবেরই বহু সালাফী ওলামায়ে কেরাম এই একই ধরণের অপরাধে খারেজী অপবাদ নিয়ে কারাবন্দী আছেন সেটা হয়তো আমরা অনেকেই জানি। অথচ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক কিভাবে সে দেশের শাসকদের বাঁচানোর জন্য জনগণের উপর দোষ চাপালেন। যদিও বিষোয়টা পুরোই উল্টো। কোন সাধারণ জনগণ তো দূরের কথা প্রভাবশালী কোন আলেমও পবিত্র ভূমিতে অশ্লীলতার বিরূদ্ধে কথা বললেই গ্রেফতার হচ্ছেন।


তো একদিকে এই আলেমগণ নূর দাহরির মতোই বিভিন্ন ইসলামী দল এবং ব্যক্তিবর্গকে ঢালাওভাবে খারেজী বলে যাচ্ছেন অপরদিকে তাদের কেউ কেউ অমুসলিমদের সামনে গিয়ে এমন কথা বলে আসছেন যাতে ইসলামের এবং মুসলিমদের অপমান হচ্ছে। কিছুদিন পূর্বে DBC এর টকশোতে একজন অমুসলিম মসজিদে জুমার নামাযে অন্য ধর্মের শিক্ষার বিষয়ে আলোচনা এবং প্রাথমিক স্তরের শিশুদের সব ধর্মের শিক্ষা দেয়ার প্রস্তাবনা দিলে এদেশের বিখ্যাত আহলে হাদীস আলেম ডঃ মনযুরে এলাহী তাতে সায় দেন। (https://www.youtube.com/watch? v=8maRxpswF0Q&feature=youtu.be&t=2024 )


এই বিষয়টা নিয়েও এখনো অনেক আলোচনা সমালোচনা চলছে।


একটা বিষয় খেয়াল করুন, এখানে ডঃ জাকির নায়েক, শায়খ আব্দুল আজিজ আত-তারিফি, শায়খ আহমাদুল্লাহ, শায়খ আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ (হাফিজাহুমুল্লাহ)-এঁর মতো সালাফী আলেমগণের আলোচনা উল্লেখ করার আরেকটা উদ্দেশ্য হলো গোটা কেউ যেন মনে না করেন যে গোটা সালাফী মানহাজই বাতিল হয়ে গিয়েছে বা এই লেখাটা সালাফীজমের বিরূদ্ধে। বরং এটা লেখা হয়েছে সালাফীজমকে সৌদি- জায়নবাদী এজেন্ডা থেকে হেফাজতের আহবান জানানোর জন্য।


সর্বশেষ একটা বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সেটা হলো, তথাকথিত “মক্কা সনদ” সেই কনফারেন্সে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলেন এদেশের কওমী ধারার আলোচিত মডারেট আলেম আল্লামা ফরিদুদ্দিন মাসউদ। (http://patheo 24.com/ রাবেতা-আলম- আল-ইসলামীর-দাও/)


তাহলে দেখুন তথাকথিত মডারেশন ইস্যুতে মডারেট সালাফী-কওমীয়ানরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আর এখনও যদি আমরা আমাদের দ্বীনের হেফাজতের জন্য এই মডারেশোনের বিরূদ্ধে একতাবদ্ধ না হই তাহলে আমাদের পরিণতি কি হবে তা মক্কা সনদের সর্বশেষ ধারাটি থেকেই জেনে নেই।


'এই কনফারেন্সে যেসকল আলেম অংশ নিয়েছেন তারা আর তাদের মতো আলেমগণ যারা এই সনদের সাথে একমত তারাই শুধুমাত্র উম্মাহ এর পক্ষে কথা বলবেন।" (https://themwl.org/en/node/36140)


তাহলে আপনারা যখন উম্মাহ এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সাথে মতবিরোধ করবেন তখন আপনাদের পরিণতি কি হবে? তাদের অতীতের নিয়মানুযায়ী আপনাদের বিচ্ছিন্ন খারেজী বলা হবে। আর কোনভাবে যদি জনগণের বড় একটা অংশকে তাদের দলে ভিড় করিয়ে সরকারকে সৌদির মতো প্রভাবিত করতে পারে তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধে তাদের প্রস্তুত করে রাখা হত্যার ফতওয়াও দিতে বিন্দুমাত্র কার্পন্য করবে না এটা নিশ্চিত থাকুন।


সুতরাই এই উগ্র জায়নবাদী হ্যাকারদের থেকে সকল মাজহাব আর মানহাজকে হেফাজত করতে এই আদর্শিক লড়াইয়ে একতাবদ্ধ হউন। মডারেশনের বিরুদ্ধে কমন প্লাটফর্ম দাড় করান, এমন কনফারেন্স, সেমিনার বা ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করুন যেখানে কওমী-সালাফী-ইখওয়ানী নামে কোন ভেদাভেদ থাকবে না। বরং সকল মাজহাব আর মানহাজের মুসলিম স্কলারগণ উম্মাহকে এই ফিতনার বিষয়ে সতর্ক করবে। শুরুটা কাল নয় আজ থেকেই করুন। অফলাইনে না হলে অনলাইনেই করুন। বেলা ফুরাবার আগেই আমাদের হুশ যেন আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন ফিরিয়ে দেন। আমীন।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...