জুলাই বিপ্লব কেনো হাতছাড়া হলো
বাংলাদেশের মাটিতে জগদ্দখল করা
চির স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ক্ষমতা চ্যুত করার কথা যেখানে সয়ং
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ছেড়ে দিয়েছিলো,এমন কি আওয়ামিলীগের বিপক্ষে একটা
মিছিল পর্যন্ত করার ক্ষমতা এদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো হারিয়ে ফেলেছিলো
সেখানে ছাত্র-জনতা তাদের বুকের রক্ত দিয়ে সেই হাসিনাকে সরিয়ে দেশকে কলঙ্ক
মুক্ত করেছে। কিন্তু সেই অর্জন আজ প্রায় ৯০% হাত ছাড়া। প্রশ্ন হলো কেনো?
আসুন পর্যালোচনা করি,কারো মন মত না হলে গালাগালি না করে কমেন্টে প্রশ্ন
করুন।
জুলাই বিপ্লব শুরুতে
কোনো স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা হাসিনা বিরোধী আন্দোলন ছিলো না। এই
আন্দোলন শুরু হয় কোটার বিরুদ্ধে, তাও মূলত মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রভাবে। এই
কোটা ও অবৈধ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বাড়াবাড়ি ও হাসিনার দলীয়করনের
বিরুদ্ধে। এর আগেও অনুরুপ আন্দোলন ২০১৮ সালে কোটার বিরুদ্ধে হয়েছিলো।
যেকোনো
আন্দোলনের সফলতা আর বিফলতা যাই আসুক না কেনো, দিন শেষে একটা নেরেটিভ তৈরী
হয়, একটা না একটা রেজাল্ট আসে। যেমন ভিপি নূরের দল, ভিপি নূরের উত্থান
হয়েছে ২০১৮ সালের আন্দোলনের ফলেই। আপনাদের মনে থাকার কথা এই ভিপি নূরও
আওয়ামিলীগ ছিলো, হাসিনাকে মা ডেকে পায়ে সালাম করে ডাকসুর ভিপি হয়েছিলো।যত
দিন স্বার্থে আঘাত লাগে নি তত দিন হাসিনা নূরুকে কাজে লাগিয়েছে, আর নূরুও
হাসিনার দালালিই করেছে। যখনই দেখলো পরস্পর পরস্পরের স্বার্থে আঘাত আনছে
তখনই নিজ দলের ফাঁটল তৈরী হলো, নূরু হয়ে গেলো হাসিনা বিরোধী, হাসিনাও হয়ে
গেলে নূরু বিরোধী। নিজ দলের লোক যখন বিরোধিতা করে তখন কি রকম বিরোধী হয়
তার জলজ্যান্ত প্রমান হলো ভিপি নূর।ভিনূরের মত নেতার বিকাশ পেল হাসিনার
চালের ফলেই।
তদরুপ ২০২৪
সালের কোটা বিরোধী আন্দলনও হাসিনারই একটা গেম প্ল্যানের ভুল চালের ফসল।
হাসিনা ২০২৪ এর জানুয়ারীর ড্যামী নির্বাচনের পর ভারত সফর শেষে খালি হাতে
ফেরার পর যখন দেখলো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ তখন সে ডিজিএইআইকে দিয়ে
রাসেল ভাইপার নাটক শুরু করে গুজব ছড়ায়, কিন্তু তার কিছুদিন পর চীন সফরের
পূর্বে সে বুঝতে পারে চীনেও সে সুবিধা করার সম্ভাবনা কম, তাই চীন যাওয়ার
আগেই পূর্বের সমাধান হওয়া কোটা ইস্যুকে নতুন করে তোলে ধরে,তার আশা ছিলো
চীনের সফর সফল হলে দেশে এসে এটা সমাধান করে দেবে, না হয় বিফল হলে কয়েকদিন
জিয়িয়ে রেখে আবারও সমাধান করে দেবে, মূল কথা জাতিকে গুজবে ব্যস্ত রাখা।
কিন্তু চীন হতে খালি হাতে ফেরত এসে পুনরায় তা আরো উসকে দেয়।
এই
আন্দোলনে কারা জড়িত ছিলো? মনে রাখতে হবে হাসিনা ক্ষমতায় থাকা কালীন অন্য
কোনো সংগঠন বা রাজনৈতিক দল আন্দোলন করা তো দূরে থাক, আন্দোলন কল্পনাও করত
না, কেননা সকল আন্দোলনই হাসিনা খেয়ে দিতো। এই আন্দোলনও হাসিনার নিয়ন্ত্রনে
হাসিনার ছাত্রলীগের একাংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলো, সামনের
সারিতে সাধারন ছাত্ররা ছিলো। এই আন্দোলনে ছাত্রলীগের সুবিধা বঞ্চিত, পদ
বঞ্চিত, নিজ দল কর্তৃক অবহেলিত,ভিপি নূরের মত চাটুকার ছাত্রলীগের ছত্র
ছায়াতেই শুরু হয়, আর সাধারন ছাত্রদের সামনের সারিতে রাখে,কেননা যারাই
ছাত্রলীগ করতো সবার বাবা মুক্তি যোদ্ধা ছিলো না, তারাও ছাত্রলীগ করার পরও
পিতা মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ার কারনে কোটা প্রথার কারনে চাকুরী হতে বঞ্চিত
ছিলো। খেয়াল করে দেখবেন ২৮ তারিখ এক দফা দাবীর আগ পর্যন্ত আওয়ামিলীগ পন্থি
একটা বিশাল অংশের ছাত্র-শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী এই আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছিলো।
যেই একদফা দাবী আসলো দেখা গেলো, সুযোগ মত অন্যান্য দল গুলোও সক্রিয়
অংশগ্রহণ শুরু করলো, ছাত্রদল-শিবির যৌথ ভাবে আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে নেতৃত্বে
চলে আসলো তখনই আওয়ামিলীগ ও ছাত্রলীগের একটা বিশাল অংশ ফেসবুকে স্টেটাস
দেওয়া শুরু করলো এত দিন যা চেয়েছো তার সাথে ছিলাম, এখন যা চাচ্ছো তার সাথে
নাই। কি সুন্দর পল্টি। এতেই বুঝা যায় ২৮ তারিখের আগ পর্যন্ত কোটা বিরোধী
আন্দোলন আওয়ামিলীগের ফরমেট অনুযায়ী ছিলো।২৮ তারিখ পল্টিবাজরা পল্টি দিলেও
গভীর জলের বিশাল পল্টিবাজ এক দল সুবিধাবাদী ছাত্রলীগ তখনও চুপ ছিলো, কোনো
আন্দোলের পক্ষ নেয় নি,এই পল্টিবাজরাও ১৮ তারিখের আগ পর্যন্ত হাসিনার
নির্দেশে সাজানো আন্দলনে অংশগ্রহন করে আহতও হয়েছে, কিন্তু ছাত্র ২৮ তারিখের
পর ঘরে ছিলো, ২৮ তারিখের আগ পর্যন্ত হাসিনার মাস্টারপ্ল্যানই বাস্তবায়ন
করেছে আন্দোলনের নামে।
যখনই
৫ আগষ্ট হাসিনার পতন হলো তখনই ঐ সুবিধাবাদী ছাত্রলীগের শয়তান গুলো এবং
আওয়ামিলীগ গুলো চট করে বোল পাল্টে হয়ে গেলো বৈষম্য বিরোধী এবং সেজে গেলো
বিপ্লবের স্টেকহোল্ডার,ব্যাস আর ঠেকায় কে? এরাই মিশে গেলো ছাত্রজনতার
সাথে, হয়ে গেলো জুলাই যোদ্ধা। প্রভাব ফেলা শুরু করলো আন্দোলনে, বৈষম্য
বিরোধী নেতা সেজে বসলো,কিন্তু পূর্বে ছাত্রলীগের আমলের চাঁদা বাজী ভুলতে
পারে নি,কেননা যতই তারা জুলাই বিপ্লবের কথা বলুক,আগের খাসালত পরিবর্তন করতে
পারে নি।
ওদিকে আসিফ
নজরুল, মুস্তফা ফারুকীর মত ৭১ এর চেতনা ব্যবসায়ীরা হয়ে গেলো জুলাই চেতনার
ব্যবসায়ী, তারাই কুক্ষিগত করতে থাকে জুলাই অর্জন,ইন্টেরিমকে করতে থাকে
প্রভাবিত, যা এখনও চলমান। তাছাড়াও সাধারন ছাত্রদের উপর হামলা করতে গিয়ে আহত
অনেক ছাত্রলীগ নেতাদেরও দেখা গেলো জুলাই যোদ্ধাদের তালিকায়। ধীরে ধীরে
শুরু হলো চাঁদাবাজি, কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি শুরু হলো। অবশেষে
চাঁদাবাজির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার পর সারা দেশে বৈষম্য
বিরোধী ছাত্রদের কমিটি বিলুপ্ত হয়ে গেলো। হাত ছাড়া হলো জুলাইর অর্জন। আগে
যেখানে বৈষম্য বিরোধী জুলাই বিপ্লবের সৈনিকের নাম শোনলে মানুষ ভরসার জায়গা
খোঁজতো, সেখান মানুষ এখন তাদের নাম শোনলে আঁতকে উঠে, এই বুঝি চাঁদাবাজ এলো।
আর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের কথা বললে বলতে হয় কেউ পীর সাহেব নয়, সকলের আমল
নামাই দেখা হয়েছে, গুটি কয়েক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ব্যতিত কেউই ফেরেশতা নয়,
আমার হাতে থাকা প্রমান গুলো প্রকাশ করলেই দেশে হইচৈ পড়ে যাবে। যাই হোক,
জুলাই সফল হোক এটাই কামনা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ