4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: আহলে হাদিসদের প্রতি ১০০টি প্রশ্ন,পারলে অন্তত ১টির উত্তর দিন > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আহলে হাদিসদের প্রতি ১০০টি প্রশ্ন,পারলে অন্তত ১টির উত্তর দিন

তথাকথিত আহলে হাদিসদের প্রতি ১০০টি প্রশ্ন,পারলে উত্তর দিন



তথা কথিত সহীহ দাবীদার, নযদি-ওহাবীর অনুসারী ভাইয়েরা, আপনারা যদি সত্যি সহীহ আকিদা পোষন করেন পারলে এই প্রশ্নগুলোর সঠিক ইউত্তর দিন:


১. কোরআন শরীফের পরে সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব, বুখারী শরীফ, এটা আল্লাহর বাণী না রাসূলের বাণী?


২. বুখারী শরীফে পূর্ণ এক রাকাআত নামাযের পরিপূর্ণ বিবরণ আছে কি?


৩. বুখারী শরীফে কি-


سبحان ربي الأعلى، سبحان ربي العظيم، سبحانك اللهم অথবা তাশাহহুদে দরূদ পড়ার কথা আছে? 

৪.বুখারী শরীফে কি সীনার উপর সর্বদা হাত

 বাঁধার হাদীস আছে?


৫. বুখারী শরীফে উটনীর দুধ খাওয়ার কথা আছে। এর উপর আহলে হাদীস আমল করেনা। অথচ গরু, মহিষের দুধ খাওয়ার কথা কোন হাদীসে নেই। (তবুও মজা করে কেন খায়? তারা তো হাদীসের বাহিরে যেতে একদম নারাজ।)


৬. বুখারী শরীফে বোগলের অবাঞ্চিত লোম উপড়ে ফেলার হুকুম রয়েছে (২/৮৭৫)। তাহলে আহলে হাদীস ব্লেড ব্যবহার কেন করে? এর পক্ষে তো কোন হাদীস আছে কি, থাকলে উদধৃতিটি দিন।


৭. রাসূল সা. বলেছেন- যে ব্যক্তি সর্বদা রোযা রাখে, সে কোন রোযাই রাখেনি (১/২৬৫)। অথচ ইমাম বুখারী রহ. সর্বদা রোযা রাখতেন ।(ইমাম বুখারী হাদীসটি বুঝেন নি? খবরদার তাবীল করবেন না। 


৮. রাসূল সা. বলেছেন- মুসিবতের সময় কেউ যেন কোনক্রমেই মৃত্যুর তামান্না না করে (২/৮৪৭)। কিন্তু এ হাদীসের বিপরীতে ইমাম বুখারী রহ:ই মৃত্যু কামনা করেছেন। (তারীখে বাগদাদ ২/৩৪) (ইমাম বুখারী হাদীস মানতেন না? নিজ থেকে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই কিন্তু!)


৯. রাসূল সা. বলেছেন— বেশীর থেকে বেশী সপ্তাহে একবার কোরআন খতম কর । এর থেকে বেশী পড়না। (২/৭৫৬) কোন কোন হাদীসে তিন দিন, কোন কোন হাদীসে পাঁচ দিনের কথাও এসেছে। তবে অধিকাংশ হাদীসেই সাত দিনের কথা এসেছে (বুখারী) অথচ ইমাম বুখারী রহ. রমযান মাসে প্রতিদিন এক একবার খতম করতেন। (তারীখে বাগদাদ ২/১২, তরকাতে সুবকী ২/৯, আল হুত্তা ২২) (আপনারা কী ইমাম বুখারী থেকেও বড় আহলে হাদীস? )


১০. আহলে হাদীস বলেন- আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত হাদীস (১/২২৯) দ্বারা প্রমাণিত যে, তারাবীহ-তাহাজ্জুদ একই নামায। কিন্তু ইমাম বুখারী রহ. রমযান মাসে তারাবীর পরে তাহাজ্জুদও পড়তেন। তিনি কি হাদীসের বিরোধিতা করতেন?


১১. ইমাম বুখারী রহ. হাদীস বর্ণনা করেন যে, কুকুর কোন পাত্রে মুখ দিলে তা সাত বার ধৌত কর। পানি নাপাক হওয়ার মাসআলায় তার মাযহাব হল- রং, গন্ধ, স্বাদ পরিবর্তন না হলে পানি নাপাক হয় না। (১/২৯) একথা তো স্পষ্ট যে, কুকুর কোন পাত্রে মুখ দিলে পানির রং, গন্ধ, স্বাদ কিছুই পরিবর্তন হয় না। (সুতরাং তার নিকট কি কুকুরের ঝুটা পাক? আপনাদের মতামত কী?


১২. বুখারী শরীফের হাদীস দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, কুকুরের ঝুটা নাপাক। (১/২৯) কিন্তু এর বিপরীতে ইমাম বুখারী রহ,ই বলেন- কুকুরের ঝুটা দ্বারা অযু করা জায়েয। (১/২৯) (এতো হাদীসের স্পষ্ট বিরোধিতা। এখন কী বলবেন- ইমাম বুখারী রহ. ভ্রান্ত ছিলেন?)


১৩. ইমাম বুখারী রহ. বলেন- মুছল্লীর পিঠে নাপাক বস্তু এবং মৃত প্রাণী রেখে দিলেও নামায ভেঙ্গে যায় না। (১/৩৭) (আহলে হাদীসের মাযহাব কী? ) 


১৪. ইমাম বুখারী রহ. এর নিকট হাত খোলা রেখেও নামায জায়েয। (১/৫২) (আপনারা কী বলেন?)


১৫. ওয়াজিব কাকে বলে? ওয়াজিব তরককারীর হুকুম কী? সহীহ, সরীহ এবং বিরোধহীন হাদীসের আলোকে জওয়াব প্রদান করুন। 


১৬. তাকলীদে মুতলাক ওয়াজিব। এ দাবী কোরানের আয়াত অথবা সহীহ, সরীহ, বিরোধহীন হাদীস দিয়ে প্রমাণ করুন । 


১৭. আপনাদের নিকট তাকলীদে মুতলাক ওয়াজিব। সুতরাং আপনারাও মুকাল্লিদ। তাহলে নিজেদেরকে গায়রে মুকাল্লিদ বলে পরিচয় দেন কেন?


১৮. মুবাহ কাকে বলে? মুবাহ তরককারী এবং মুবাহ অনুযায়ী আমল কারীর হুকুম কী? 


১৯. তাকলীদে শখছী মুবাহ। কুরআনের আয়াত কিংবা সহীহ, সরীহ,এবং বিরোধহীন হাদীসের আলোকে প্রমাণ করুন।


২০. কোন আলেম মাসআলা বলার সময় দলীলের পূর্ণ বিবরণ পেশ করা ফরয না ওয়াজিব? কোরআন-হাদীসের থেকে দলীল পেশ করুন।


২১. হাদীসের প্রসিদ্ধ কিতাব 'মুছান্নাফে আব্দুর রায্যাক' এ সাহাবা ও তাবেয়ীনের প্রায় সতের হাজার (১৭,000 ) ফতওয়া রয়েছে। যাতে সাহাবা ও তাবেয়ীনের কেউ আপন ফতওয়ার সাথে কোরআন-হাদীস থেকে দলীল পেশ করেননি। তারা ফরয ওয়াজিবের তরককারী ও গুনাহগার হয়েছেন কিনা?


২২. এ সতের হাজার ফতওয়ায় প্রশ্নকারীও দলীল তলব করেননি। সুতরাং দলীল তলব না করে এবং দলীলবিহীন মাসআলা মেনে নিয়ে তারা তাকলীদই করেছেন। প্রশ্নহল ঐ সকল সাহাবা এবং তাবেয়ীরা দলীল তলব না করে এবং তাকলীদ করে কাফের হয়েছেন না ফাসেক? সহীহ হাদীসের আলোকে জওয়াব দিন।


২৩. অশিক্ষিত বা জেনারেল শিক্ষিত সকলের জন্যই প্রত্যেক মাসআলার পরিপূর্ণ দলীল সম্পর্কে অবগত হওয়া ফরয না ওয়াজিব? সহীহ হাদীসের আলোকে জওয়াব দিন।


২৪. জেনারেল শিক্ষিত অধিকাংশ আহলে হাদীসই আলেমদের থেকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করে আমল করে এবং দলীল তলব করে না। ঐ সকল মানুষেরা আলেমদের মুকাল্লিদ হয়েছে না হয়নি?


২৫. আওয়াম আহলে হাদীসরা দেওবন্দী আলেমদের থেকেও মাসআলা জিজ্ঞাসা করে না, বেরেলবী আলেমদের থেকেও না। তারা শুধু আহলে হাদীস আলেমদের থেকেই মাসআলা জিজ্ঞাসা করে। এটা তাকলীদে শখছী না মুতলাক?


বি:দ্র: নির্দিষ্ট কোন ফিকহ অনুসরণ করাইতো তাকলীদে শখছী ।


২৬. হানাফী মাযহাবে অধিকাংশ মাসআলায় ইমাম আবু হানীফার (রহ.) মতের উপর ফতওয়া হয়। কিছু কিছু মাসআলায় ইমাম আবু ইউসুফ বা মুহাম্মদের (রহ.) মতের উপর, আবার কোন মাসআলায় ইমাম যুফারের মতের উপর ফতওয়া হয়। এটাকে কী বলা হবে- তাকলীদে শখছী না মুতলাক?


২৭. চলমান আলোচনা যেহেতু মুজতাহিদের তাকলীদ নিয়ে, কোরআন- হাদীসের আলোকে মুজতাহিদের সংজ্ঞা বলুন । 


২৮. মুজতাহিদ হওয়ার শর্তসমূহ কোরআন-হাদীসের আলোকে বয়ান করুন। 


২৯. কোরআন-হাদীসের আলোকে মুজাতাহিদের জন্য ইজতিহাদের গন্ডি নির্ধারণ করুন।


৩০. তাকলীদের উল্লিখিত সংজ্ঞার আলোকে আল্লাহ ও রাসূলের কথা দলীল তলব করা ব্যতীত মেনে নেয়া, তাকলীদ না অন্য কিছু? 


৩১. উক্ত সংজ্ঞার আলোকে উসূলে হাদীসের কাওয়ায়েদ (মূলনীতিসমূহ) দলীল তলব করা ব্যতীত মেনে নেয়া তাকলীদ না অন্য কিছু?


৩২. উসূলে হাদীসের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শাফেয়ী মাযহাবের মূলনীতিসমূহ অনুসরণ করা এবং হানাফী মাযহাবের মূলনীতিসমূহ সম্পূর্ণ তরক করা, তাকলীদে মুতলাক না শখছী?


৩৩. ‘আসমাউর রিজাল' এর কিতাবসমূহ থেকে জারাহ এবং তাদীল সংক্রান্ত উক্তিসমূহ দলীল তলব করা ব্যতীত মেনে নেয়া তাকলীদ না অন্য কিছু?


৩৪. জারাহ তাদীলের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শাফেয়ী মাযহাবের কিতাবসমূহ দলীল তলব করা ব্যতীত মেনে নেয়া এবং হানাফী মাযহাবের কিতাবসমূহ তরক করা, তাকলীদে মুতলাক না শখছী?


৩৫. হাদীসের কিতাবসমূহের থেকে মিশকাতকে মানা ও যুজাজাতুল মিশকাতকে না মানা, বুলুগুল মারামকে মানা ও মুসতাদাল্লাতে হানাফিয়্যাহ (হানাফীদের দলীল) কে না মানা, মুয়াত্তা মালেককে মানা ও মুয়াত্তা মুহাম্মদকে না মানা, তিরমিযীকে মানা ও ত্বহাবীকে না মানা, জুযউল কিরাআতকে মানা ও কিতাবুল আছারকে না মানা, কিতাবুল কিরাআতকে মানা ও কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মদীনাকে না মানা তাকলীদে মুতলাক না তাকলীদে শখছী?


৩৬. হাদীস সহীহ, যয়ীফ হওয়ার ক্ষেত্রে আহলে হাদীস আলেমদেরকে মানা, হানাফী আলেমদের উপর বিলকুল নির্ভর না করা, তাকলীদে মুতলাক না শখছী?


৩৭. ইয়াহুদীরা তাদের ধর্মগুরুদের তাকলীদে শখী করত না মুতলাক? দলীল হিসাবে কোরআনের আয়াত কিংবা হাদীসে সহীহ পেশ করুন।


৩৮. তাদের তাকলীদ যদি তাকলীদে শখছী হয়, তাহলে তাদের মুজতাহিদীনের নাম বলুন। যাদের দিকে তাদের ধর্মকে নিসবত করা হয়। তবে নামগুলো কোরআন-হাদীস থেকে পেশ করবেন । 


৩৯. মুশরিকরা তাদের বাপ-দাদাদের তাকলীদ করত। এটা কোন ধরণের তাকলীদ ছিলো- মুতলাক না শখছী? কোরআন হাদীস থেকে বলুন । 


৪০.উপরের বিষয়টি যদি তাকলীদে শখছী হয়, তাদের কতটি দল-উপদল ছিল? কোরআন-হাদীস থেকে বয়ান করুন।


৪১. মুহাদ্দেসীন হাদীসের যে প্রকারসমূহ বয়ান করেছেন— এগুলো কুরআনে আছে না হাদীসে? আর উম্মাতের আবিষ্কৃত এসব প্রকার ও প্রকরণ দলীল অনুসন্ধান ব্যতীত মেনে নেয়া, তাকলীদ না অন্য কিছু?


৪২. তাকলীদে মুতলাক ওয়াজিব। আর মুতলাকের দুটি শাখা। যথা:

শখছী ও গয়রে শখছী। তাহলে ওয়াজিব হওয়ার বিধানও উভয় প্রকারের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এক প্রকারকে ওয়াজিব অন্য প্রকারকে মুবাহ বলা অযৌক্তিক, বরং ভিত্তিহীন। যেমন- কসম ভঙ্গ হলে কাফফারা দেয়া ওয়াজিব। এ ওয়াজিব আদায়ের সমান তিনটি রাস্তা রয়েছে। খানা খাওয়ানো, কাপড় দেয়া, এবং রোযা রাখা। যেকোন একটি দিয়ে আদায় করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। (এখন একটাকে ওয়াজিব বলা, অন্যটাকে মুবাহ বলা ভিত্তিহীন নয় কি?)


৪৩. আপনাদের নিকট কি প্রত্যেক মানুষই মুজতাহিদ না কিছু সংখ্যক ? কুরআনে তো মুজতাহিদ গায়রে মুজতাহিদ, দু'স্তরের কথাই বলা হয়েছে।


ولو ردوه إلى الرسول وإلى أولى الأمر منهم لعلمه الذين يستنبطون منهم তারা যদি ব্যাপারটি রাসূল সা. এবং তাদের মধ্যকার উলীল আমরের নিকট নিয়ে যায়, অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা উদ্ভাবন ক্ষমতার অধিকারী তারা সঠিক বিষয়টি বুঝে নিবে। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন- যদি না জান, যারা জানে তাদের নিকট জিজ্ঞাসা কর? আপনাদের কি এসব আয়াত মানতে আপত্তি আছে?


৪৪. মুজতাহিদ দু'অবস্থা থেকে খালি নয়। সে নিজেই শরীয়তের চার দলীল থেকে মাসআলা উদ্ভাবন করবে। অথবা অন্য মুজতাহিদের উদ্ভাবিত মাসআলার উপর আমল করবে। প্রথমজন মুজতাহিদ দ্বিতীয়জন খাঁটি মুকাল্লিদ। দ্বিতীয় জনের মধ্যে ইজতিহাদের শর্তসমূহ অনুপস্থিত থাকার করণে তার ইজতিহাদ বাতিল। শর্তের প্রতি খেয়াল না করে নামায আদায়কারীর নামায যেমন বাতিল?


৪৫. গায়রে মুজতাহিদ-মুজতাহিদের অনুসরণ করার দু'টি পথ রয়েছে। সে নির্দিষ্ট কোন মুজতাহিদের মাযহাবকে অন্য সকল মাযহাব থেকে অগ্রগন্য মনে করবে। তাহলে এটা তাকলিদে শখটী হবে? 


কেননা, মারজুহ তথা অগ্রাধিকারমুক্ত মাযহাব অনুযায়ী আমল করা সর্বসম্মতিক্রমে না জায়জে। অথবা তিনি সবগুলোকে বরাবর মনে করে যে কোন একটি অনুযায়ী আমল করবেন। তাহলে এটা হবে কারণ ছাড়াই কোন একটিকে অগ্রাধিকার দেয়া। যা জায়েয নেই।


৪৬. তাকলীদে গয়রে শখছী এর সূরত কী হবে? গায়রে মুজতাহিদ সমস্ত মুজতাহিদের মাযহাবকেই বরাবর মনে করবে? এমনটা অসম্ভব। কেননা, ইজতিহাদী মাসআলাসমূহে এক মুজতাহিদ যে বস্তুকে হালাল মনে করেন, অনেক ক্ষেত্রে অন্য মুজতাহিদ সেটাকে হারাম মনে করেন। এখন সব মতই বরাবর হলে উক্ত গায়রে মুজতাহিদের জন্য কোন বস্তুই হালালও হবেনা, হরামও হবেনা। আর কোন বস্তু হালালও নয় হারামও নয়, এমন দাবী করা অযৌক্তিক ও বাতিল। সুতরাং সমস্ত মাযহাবকে বরাবর মনে করাও অযৌক্তিক ও বাতিল?


৪৭. যদি গায়রে মুকাল্লিদ চারো মাযহাবকে কবুল-তরকের ক্ষেত্রে বরাবর মনে করে, তাহলে তাকলীফে শরয়ী (শরীয়ত কর্তৃক বিধান আরোপ) বেকার হয়ে যাবে। সব কিছুই হালালও হয়ে যাবে; আবার হারামও হয়ে যাবে। মন চাইলে হালালের প্রতি ধাবিত হবে, মন চাইলে হারামের প্রতি ধাবিত হবে। তখন এটা আর মুজতাহিদের তাকলীদ থাকবেনা। বরং প্রবৃত্তির অনুসরণ হয়ে যাবে। তখন তার ক্ষেত্রে-l তার পড়া হতে (অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজেকে প্রবৃত্তির পুজা থেকে বিরত রাখবে, তার ঠিকানা জান্নাত) এবং  (অর্থাৎ মানুষ কি ধারণা করে যে, তাকে এমনিতেই ছেড়ে দেয়া হবে?) আয়াত দু'টি বিশেষভাবে প্রযোজ্য হবে। মুজাতাহিদের নাম তো শুধু ধোঁকা দেয়ার জন্যই নিবে। আর প্রবৃত্তির অনুসরণকে কোরআন-হাদীস নাম দিয়ে গোমরাহ হবে। অধিকাংশ আহলে হাদীসের অবস্থা এর ব্যতিক্রম নয়।


৪৮. যদি কোন আহলে হাদীস এ দাবী করে যে, চারো মাযহাবের মধ্য থেকে যে মাসআলা কোরআন-হাদীসের বেশি নিকটবর্তী হবে, সেটাকে প্রাধান্য দিব । তাহলে নির্ভেজাল- গলদ কথা। ঐ রোগীর মত যে বলে আমি ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র প্রথমে পরখ করব। যারটা ডাক্তারী উসূলের বেশী নিকটবর্তী মনে হবে, সেটা গ্রহণ করব। অথবা ঐ বিচার প্রত্যাশীর মত যে বলে আমি প্রথমে বিচারকগণের ফায়সালা নিরীক্ষণ করে দেখব। এরপর যার ফয়সালা কানুনের বেশী নিকটবর্তী মনে হবে, সেটা গ্রহণ করব। কেমন আশ্চর্যের কথা চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে অবগত না হলে ব্যবস্থাপত্র নিরীক্ষণের অধিকার থাকে না, অজ্ঞ বিচারপ্রার্থীর বিচার সংক্রান্ত মন্তব্য আদালত অবমাননা বলে গন্য হয়, অথচ ইজতিহাদের যোগ্যতাশূণ্য একজনকে মুজতাহিদীনের যোগ্যতা মাপার দায়িত্ব দেয়া হবে।


৪৯. মুকাল্লিদ যদি চার মাযহাবের কোন একটিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মনে করে সেটা অনুযায়ী আমল করা তার জন্য আবশ্যক। কেননা, অগ্রাধিকারমুক্ত বিষয় রহিত বিষয়ের মত। এজন্যই রাজেহ এর মুকাবালায় মারজুহকে গ্রহণ করা উম্মতের ঐক্যমত্য অনুযায়ী বাতিল। সুতরাং তাকে রাজেহ অনুযায়ীই আমল করতে হবে।


৫০. এখন প্রশ্ন হল- মুকাল্লিদ একটির উপর অপরটিকে প্রাধান্য কিভাবে দিবে? এর উত্তর হল- প্রাধান্য দেয়ার পদ্ধতি দু'টি। যথা- 


প্রথম পদ্ধতি:

 মুকাল্লিদ প্রত্যেক মাসআলায় চারো মাযহাবের বিস্তৃত দলীল সংগ্রহ ও বিচার-বিশ্লেষণ করে যে কোন একটিকে তারজীহ দিবে। কিন্তু এ পদ্ধতি মুকাল্লিদ গায়রে মুকাল্লিদ কারোই সাধ্যাধীন নয়।


যদি কোন গায়রে মুকাল্লিদ বা আহলে হাদীস পারঙ্গমতার দাবী করে, আমরা তার সামনে বিভিন্ন বিষয়ের মাত্র ১০০ মাসআলা পরিবেশন করব। গায়রে মুকাল্লিদ সাহেব প্রথমে প্রত্যেক মাসআলায় চারও ইমামের মাযহাব বয়ান করবেন। এরপর প্রত্যেক ইমামের দলীল বয়ান করবেন। এরপর এক ইমামের পক্ষ থেকে অন্য ইমামের উপর আরোপিত প্রশ্নসমূহের সমাধান দিবেন ও প্রত্যেক ইমামের নিজ মাযহাবের পক্ষে দেয়া যুক্তিসমূহ খন্ডন করবেন। এরূপ চুলচেরা বিশ্লেষণের পর সহীহ, সরীহ, হাদীস দিয়ে যে কোন একটিকে তারজীহ (প্রাধান্য) দিবেন। আমরা দীর্ঘ দিন যাবৎ আহলে হাদীস বন্ধুদেরকে এরূপ আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল- হাহলে হাদীস হওয়ার দাবীদরদের কেউ এখনো সাহস করেনি তাই এ তরীকা গ্রহন সম্ভব না।


দ্বিতীয় পদ্ধতি: মুকাল্লিদ অস্পষ্টভাবে ও মোটামুটি কায়দায় যে কোন একটি মাযহাবকে প্রাধান্য প্রদান করবে। যেমন- একজন রুগী ডাক্তাদের ব্যবস্থাপত্র পরখ করার যোগ্যতা না রাখলেও তার মোটামুটি এ ধারণা থাকে যে, অমুক ডাক্তারের হাতে আল্লাহ তায়ালা হাজার হাজার রুগী সুস্থ করেছেন। শহরের সব বড় বড় ডাক্তার যে কোন জটিল সমস্যায় অমুক ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে থাকে। বড় বড় চিকিৎসকরা অমুক ডাক্তারকে হামাম মনে করে। যেমন দাতারা হাতেম তায়ীকে, বীরেরা রুস্তমকে মুহাদ্দিসীন বুখারী রহ.কে, মুজতাহিদীন আবু হানিফা রহ.কে, নাহবীরা খলীল ও আখফাশকে ইমাম মনে করেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতির কারণে একজন সাধারণ মানুষের মনেও তাদের শ্রেষ্টত্বের চিত্র অংকিত হয়ে যায়। অনুরূপ একজন সাধারণ মানুষের মনে কোন একজন ইমামের শ্রেষ্টত্বের বিশ্বাস স্থির হয়ে যায়। (আর এটাই হল তাকলীদে শখছী।)


৫১. দেখুন! একজন সাধারণ মুকাল্লিদও বুখারী শরীফের হাদীসকে অন্য হাদীসের উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কিন্তু সে যে বুখারী শরীফের প্রত্যেক হাদীসের সনদ ও রাবীকে পরখ করে দেখেনি, একথা বলা যায়। হাদীস শাস্ত্রের বরেণ্য ইমামগণ বুখারী রহ. কে ইমাম মনে করনে, এ অস্পষ্ট দলীলই উক্ত সাধারণ লোকটির জন্য বুখারী শরীফকে প্রাধান্য দেয়ার কারণ সাব্যস্ত হয়েছে। অনুরূপ ইমাম আবু হানিফাকেও ফিকহ শাস্ত্রের প্রাতঃস্মরণীয় ইমামগণ ইমামে আযম লকব দিয়েছেন। যা থেকে যে কোন সাধারণ মানুষের নিকট ইমাম আবু হানিফার শ্রেষ্টত্ব দিবালোকের ন্যায় প্রমাণিত।


৫২. অনেক সময় আওয়ামের জন্য কোন একটি মাযহাবকে অগ্রাধিকার দেয়া অতি সহজ হয়ে থাকে। যেমন ইয়ামেনে মুয়ায রা. এর ইজতিহাদ সহজলভ্য ছিল। এজন্য ইয়ামেনের লোকেরা মুয়ায রা এর ফতওয়ার উপর দীলল অনুসন্ধান ব্যতীত আমল করত না। অনুরূপ উপমহাদেশে হানাফী মাযহাবের মুফতী আনাচে-কানাচে উপস্থিত। এখানে এ মাযহাব অনুযায়ী আমল করা সহজ। এজন্য এখানকার সকল শ্রেণীর মুহাদ্দিসীন, মুফাস্সিরীন, ফুকাহা, মুজাহিদীন, বাদশাহ এক কথায় সবাই ইমাম আবু হানিফার অনুসারী।


এজন্য শাহ ওয়ালীউল্লাহ রহ. 'আল-ইনসাফে' লিখেন- এদেশে ইমাম আবু হানিফার তাকলীদ থেকে বের হওয়া মানে শরীয়তে মুহাম্মাদিয়্যা থেকেই বের হয়ে যাওয়া।


৫৩. একজন সাধারণ মুসলমানও জানে যে, মতবিরোধ দ্বীন ও দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রেই নিন্দনীয়। আর ঐক্যমত্য উভয় ক্ষেত্রেই কল্যাণকর। দেখুন! স্বয়ং রাসূল সা. বলেছেন- উত্তম নামায হল- যার কেয়াম দীর্ঘ হবে। যাতে কোরআন বেশী পরিমাণে পড়া হবে। কিন্তু মুয়ায রা. এর লম্বা কিরাআতের কারণে একজন মুসল্লী জামায়াত তরক করলে রাসূল সা. নারাজ হয়ে গেলেন। মুয়ায রা. কে ফেতনাবাজ আখ্যা দিলেন। (বুখারী)


মোটকথা, যদি কোন ওয়াজিব আদায়ের দু'টি পথ থাকে, যার একটি অবলম্বন করলে উম্মাতের মাঝে অনৈক্যের সৃষ্টি হয়। আর অপরটি দ্বারা ঐক্য অটুট থাকে। তাহলে আমল করার জন্য দ্বিতীয় ত্বরীকা নির্দিষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং এদেশে যেহেতু শুরু থেকেই সকল মুসলমান হানাফী মাযহাবের অনুসারী, এদেশীয় মুসলমানদের জন্য হানাফী মাযহাবই অগ্রগন্য হবে। কেননা, এ সূরতে উম্মতের মাঝে ঐক্য অটুট থাকে।


পরম্পরায় স্বীকৃত এবং পর্যবেক্ষণ সাক্ষী যে, হাজার বছরের অধিককাল যাবৎ এদেশে শুধু হানাফীই ছিল। এবং তাদের মাঝে সম্পূর্ণ ঐক্য বিরাজমান ছিল। মসজিদসমূহে শুধু ইবাদতই হত। ঝগড়া-ফাসাদের কোন সুযোগ বা সম্ভাবনেই ছিল না।


পর্যবেক্ষণ এ কথারও সাক্ষী যে, যেদিন থেকে আহলে হাদীস উম্মতের মধ্যকার এ গভীর ঐক্যের মাঝে চির ধরিয়েছে, সেদিন থেকে এ দেশে অনৈক্যের নরক সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদসমূহ লড়াই ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। লাখো মসজিদ তালাবদ্ধ হয়েছে। মুসলমানদের হাজার হাজার টাকা মামলা মুকাদ্দামার পিছনে খরচ হয়েছে। কোন কোন মামলা হাইকোর্ড থেকে প্রিভী কাউন্সিল লন্ডন' পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ সমস্ত ফিনেই ইমাম আবু হানিফা রহ. এর তাকলীদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার ফলশ্রুতিতে প্রকাশ পেয়েছে। এজন্য একজন সাধারণ মুসলমানের জন্য এ সংক্ষিপ্ত দলীলই যথেষ্ট যে, হানাফী মাযহাব অবলম্বন করলে উম্মতের মাঝে ঐক্য অটুট থাকে। আর বর্জন করার কারণে অনৈক্য ও শত-সহস্র ফিৎনার সৃষ্টি হয়। 


৫৪. বুখারী শরীফ থেকে প্রমাণিত যে, রাসূল সা. এর প্রবল তামান্না


ছিল কা'বা শরীফকে ইব্রাহীম আ. এর অবকাঠামো অনুযায়ী


পূনরায় নির্মাণ করা। কিন্তু পুন:নির্মাণের কারণে কিছু লোকের দ্বীনত্যাগী হওয়ার আশংকা ছিল। শুধু এ কারণে রাসূল সা. মনের প্রবল আকাংখা পূরণ করা থেকে বিরত থাকেন । এখান থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, কোন তরীকা যদি আশংকাজনক হয় এবং অপর তরীকা আশংকামুক্ত হয়, তখন দ্বিতীয় তরীকা অবলম্বন করা আবশ্যক । একইভাবে তাকলীদ বর্জনের এ পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসে এমন এমন অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙিখত ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, যার হাজার ভাগের এক ভাগও তাকলীদের দীর্ঘ ইতিহাসে পরিলক্ষিত হয়নি।


একজন সাধারণ মুসলমানের জন্য এ সংক্ষিপ্ত বুঝ যথেষ্ট যে, মাযহাব বর্জনের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হল হাজারো ফেৎনার জন্মদান। যা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ তাকলীদের নিরাপদ চত্বরে আশ্রয় গ্রহণ করা।


৫৫. দ্বীনকে যতটা শক্তভাবে ধারণ করা হবে, দ্বীনের মহত্ব ও শ্রদ্ধাও তত স্থায়ী হবে। আওয়াম যদি আপন চাহিদা মত চারও মাযহাব থেকে মাসআলা নির্বাচন করে আমল করতে শুরু করে তখন আর দ্বীনের সাথে তার বন্ধন অবশিষ্ট থাকবেনা। ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে দ্বীনের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান সবই নষ্ট করে ফেলবে। যে পথ দ্বীন ধ্বংসের কারণ হয়, সে পথ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কী সন্দেহ থাকতে পারে?


৫৬. ধরুন! যায়েদের দাঁত থেকে রক্ত বের হল। সে বলল, ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব মতে উর্দু ভাঙ্গেনি। এরপর সে গোপন অঙ্গ স্পর্শ করল। আর বলল- ইমাম আবু হানিফার মাযহাব মতে উযু ভাঙ্গেনি। এরপর সে এ অবস্থায়ই নামায পড়ে নিল। কী বলেন- তার নামায হয়ে গেছে? না তাকলীদে মুতলাক তার নামায বরবাদ করে দিল।


৫৭. এক হানাফীকে এক আহলে হাদীস কাপড়ের মোজার উপর মাসেহ করার পরামর্শ দিল। হানাফীও তার পরামর্শ অনুযায়ী মাসেহ চালিয়ে গেল। কিন্তু নামাযে ইমামের পিছনে কিরাআত তরক করল। তখন হানাফীরা বলল তার উযু হয়নি বিধায় নামাযও হয়নি। আহলে হাদীসরা বলল সূরা ফতিহা পড়েনি বিধায় নামায হয়নি। ফলাফল কী হল? তাকলীদে মুতলাকের ফাঁদে ফেলে তাকে এমন পরামর্শ দিল যে, হানাফী কিংবা আহলে হাদীস কারো নিকটই উক্ত ব্যক্তির নামায শুদ্ধ হয়নি।


৫৮. তাকলীদে মুতলাক হোক আর শখছী, শেষতক সেটা তাকলীদই। আপনারা তাকলীদে মুতলাককে ওয়াজিব বলার সময় এ কথা বলেন না যে, তাকলীদ শব্দটি কোরআন-হাদীসে কোথাও প্রচলিত  অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। সুতরাং তাকলীদে মুতলাক কে ওয়াজিব বলা যাবে না । তাহলে তাকলীদে শখছীর বেলায় এমন অযথা প্রশ্ন উত্থাপনের কী রহস্য?


৫৯. আহলে হাদীসের নিকট তাকলীদ মানে হল- কুত্তার গলায় বেড়ী লাগানো। কোন হাদীস অনুযায়ী, তাকলীদে শখহীর বেলায় এ অর্থ প্রযোজ্য আর তাকলীদে মুতলাকের বেলায় অপ্রযোজ্য? যদি তাকলীদে মুতলাকের বেলায়ও এ অর্থ প্রযোজ্য হয় তো কোন হাদীসে এসেছে যে, কুত্তার গলার বেড়ী মানুষের গলায় পরা ওয়াজিব? আর যদি প্রযোজ্য না হয় তো কোন হাদীসে পেলেন যে, আপনাদের জন্য যা ওয়াজিব তা তাকলীদে শখছীর বেলায় এসে এতই পচে গেল যে, ব্যবহারের উপযুক্ততাই হারিয়ে ফেলল? 


৬০. আহলে হাদীস বন্ধুরা সাধারণত: বলে থাকে- তাকলীদ মানে অজ্ঞতা আর মুকাল্লিদ হল অজ্ঞ। তাকলীদে মুতলাক, যেটা আপনাদের নিকট ওয়াজিব, সেখানেও তো তাকলীদ আছে। তাহলে তাকলীদে মুতলাক ওয়াজিব হওয়ার অর্থ কী হবে- অজ্ঞ থাকা ওয়াজিব আর তাহকীক করা হারাম?


৬১. একদিকে আহলে হাদীস বন্ধুরা বলে থাকে- তাকলীদ মানে হল কোরআন-হাদীস বর্জন করে উম্মতের কারো কথা মতে আমল করা। আবার তারাই বলে তাকলীদে মুতলাক ওয়াজিব। তাহলে ফলাফল কী দাঁড়াল - কোরআন-হাদীস বর্জন করা ওয়াজিব। এটা কি আপনাদের অন্তরের বিশ্বাস?


৬২. একদিকে আহলে হাদীস তাকলীদকে বলে অভিশাপ। অপর দিকে তাকলীদে মুতলাককে বলে ওয়াজিব। ফলে আহলে হাদীসের সাধারণ সদস্যরা তাকলীদ নামক অভিশাপের বেড়ী গলায় ঝুলাতে বাধ্য হয়। কেননা, গলায় না ঝুলালে যে ওয়াজিব তরকের গুনাহ হবে।


৬৩. তারাতাকলীদকে শিরকও বলে থাকে। কিন্তু আশ্চর্যের কথা হল শিরকের এক কিসিম তাকলীদে মুতলাককে আবার ওয়াজিবও বলে থাকে। (মুশরিক হওয়া কি ওয়াজিব?)


৬৪. আহলে হাদীস বন্ধুরা বলে- নির্দিষ্ট এক ইমামের তাকলীদ শিরক।কিন্তু চার ইমামের তাকলীদে মুতলাক ওয়াজিব। শিরক আর ওয়াজিবের রহস্যটা কি রাসূল সা. এর কোন সহীহ, সরীহ হাদীস থেকে দেখাবেন ?


৬৫. (আহলে হাদীস চার ইমামকে চার মূর্তি বলে অভিহিত করে।) এক মূর্তিকে সিজদা করলে শিরক হয়। অথচ চার মূর্তিকে বার বার সিজদা করা ওয়াজিব। হাদীসে সহীহ, সরীহ থেকে দেখান তো! 


৬৬. তাদের নিকট নির্দিষ্ট এক ইমামের সকল ইজতিহাদ মান্য করা শিরক। কেননা তাহলে তাঁকে সমস্ত ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বেমনে করাবহয়। আর কোন মানুষের ক্ষেত্রে এমন আকীদা পোষণ করা শিরক। প্রশ্ন হল- বুখারী শরীফের সমস্ত হাদীসকে সহীহ মনে করানহলে, ইমাম বুখারী রহ. কে সকল ভুলের ঊর্ধ্বে মনে করা হয় না? 


৬৭. কোন কোন আহলে হাদীস বলে থাকেন- তাকলীদ শব্দটি ব্যবহার করাই জায়েয নেই। কোন হাদীসে আপনার এ দাবী সমর্থন আছে? সহীহ, সরীহ, বিরোধহীন হাদীস পেশ করুন। আচ্ছা ! বলুন তো তাকলীদে মুতলাক ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোন সহীহ, সরীহ হাদীস আছে কি?


৬৮. কোন কোন অজ্ঞ সাহেব (!) বলেন- তাকলীদ শব্দটি এ অর্থে কোরআন-হাদীসে ব্যবহৃত হয়নি। এজন্য নাজায়েয। আচ্ছা! তাহলে বলুন তো উসূলে হাদীসের শব্দাবলী, হাদীসের প্রকারসমূহ, জারাহ তাদীলের পরিভাষাসমূহ প্রচলিত অর্থে কোরআনের কোন আয়াতে কিংবা রাসূলের কোন হাদীসে ব্যবহৃত হয়েছে? যদি উত্তর না বোধক হয়, তাহলে বলুন তো প্রচলিত অর্থে ঐসব শব্দের ব্যবহার জায়েয না নাজায়েয? হালাল না হারাম?


৬৯. যদি তাকলীদ শব্দটি প্রচলিত অর্থে কোরআন-হাদীসে কোথাও না থাকে, তাহলে শিরক ও হারামের এ বিধান আপনারা কোত্থেকে আবিষ্কার করলে?


৭০. কোন কোন আহলে হাদীস বলে চার ইমামের নাম হাদীস থেকে দেখাও। আচ্ছা ! তাহলে আপনি হাদীসের ছয় ইমামের নাম হাদীস থেকে দেখান। (থাক, শুধু ইমাম বুখারীর নামটা হাদীস থেকে দেখান।)


৭১. কেউ কেউ বলেন হেদায়া, কুদুরী, আলমগীরির নাম হাদীস থেকে দেখাও। আপনি তাহলে সিহাহ সিত্তার নাম হাদীস থেকে দেখান না!


৭২. আল্লাহ তায়ালা যখন ফিরিশতাদেরকে নির্দেশ দিলেন- তোমরা আদমকে সিজদা কর, সবাই সিজদা করল। এটা আল্লাহর নির্দেশ ছিল। ফিরিশতারা দলীল জ্বলব ব্যতীত সবাই সিজদা করলেন। এটার নাম তাকলীদ। কিন্তু ইবলিস মহাশয় (!) বেঁকে বসল । দলীল ছাড়া সিজদা করতে মন তাকে সায় দিল না। পরিণামে কী হল? তাকলীদের হার তার গলায় শোভা পেল না। আজীবনের জন্য সে লা'নাতের শিকলে আবদ্ধ হল ।


৭৬. শয়তান যে দাবী (ii) করেছিল, সে দাবী আজ বন্ধুরাও করছে। আপনি সাহাবাদের কোন কথা, কোন আমল পেশ করুন, দেখাবেন বলে উঠবে (সাহাবাদেরকে মানব কেন? আমি কম নাকি?)


৭৪. শয়তান কী ছিল- মুকাল্লিদ না গায়রে মুকাল্লিদ? যদি মুকাল্লিদ হয় কোরআন-হাদীসের আলোকে বলুন- সে কার মুকাল্লিদ ছিল? 


৭৫. কোন কোন লা-মাযহাব আহলে হাদীস বলে শয়তান কিয়াস করেছিল যেরকম মুজতাহিদীন করে। তাহলে কুরআনের দলীলের আলোকে বলুন শয়তান কি বাস্তবেই মুজতাহিদ ছিল?


৭৬. শয়তান যদি মুজতাহিদ হয়, তার গলায় লা'নতের আজাব নয়; বরং বুখারী শরীফের হাদীসের আলোকে এক আজর বরাদ্দ হওয়ার কথা । বলুন সে কি এক আজর (পুন্য) পেয়েছে?


৭৭. ইমাম চতুষ্টয় আপনাদের নিকট কি শয়তানের মতই অভিশপ্ত? না আরো বেশী? কেননা, শয়তান তো এক মাসআলায় কিয়াস করেছে। আর ইমাম চতুষ্টয় করেছেন লাখো মাসআলায়। সহীহ, সরীহ, বিরোধহীন হাদীসের আলোকে জওয়াব দিন।


৭৮. শয়তান কিয়াসের কারণে গুনাহের সাগরে ডুবে গেল। তবে তার তাকলীদ করা হয়নি। কিন্তু ইমামগণ লাখো কিয়াস করেছেন। কোটি মানুষ তাদের তাকলীদ করেছে এবং করছে। এ সমস্ত মুকাল্লিদীনের শুনায় ইমামগণ শরীক থাকবেন, না থাকবেন না?


৭৯. নির্দিষ্ট এক ইমামের তাকলীদ করা হারাম। আপনাদের এ দাবীর পক্ষে কুরআনের কোন আয়াত কিংবা সহীহ, সরীহ, বিরোধহীন কোন হাদীস পেশ করুন। যদি না পারেন, তবে নিজেদের পক্ষ থেকে কোন কিছুকে হালাল কিংবা হারাম বানানো ইয়াহুদী- নাসারাদের ধর্মগুরুদের তাকলীদ নয় কি?


৮০. তাকলীদে শখছী থেকে বাঁচার জন্য প্রত্যেক মাসআলায় ইমাম পরিবর্তন করা কি ফরয? অর্থাৎ- কোন মাসআলা এক ইমামের থেকে জিজ্ঞাসা করার পর আরেকটি মাসআলা তার থেকে জিজ্ঞাসা করা হারাম। শরীয়তের বিধান কি এরকম? এরকম হলে কুরআনের আয়াত কিংবা সহীহ, সরীহ, বিরোধহীন হাদীস পেশ করুন।


৮১. না অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করা ফরয। অর্থাৎ একদিন এক ইমাম থেকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করা ফরয। এরপরের দিন ঐ ইমামের থেকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হারাম। অন্য আরেক জনের থেকে জিজ্ঞাসা করা ফরয। আবার তৃতীয় দিন প্রথম দু'জনের থেকে জিজ্ঞাসা করা হারাম। তৃতীয় আরেক জনের থেকে জিজ্ঞাসা করা ফরয। মোট কথা, তাকলীদে শখছীর লা'নত থেকে বাঁচার জন্য প্রতিদিন ইমাম পরিবর্তন করা ফরয। যদি এমন হয়, কুরআনের আয়াত কিংবা সহীহ, সরীহ, বিরোধহীন হাদীস থেকে দলীল পেশ করুন।


৮২. না মাস হিসাবে সময় নির্ধারণ করবেন। এক মাস একজনের থেকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করবেন। পরের মাস আরেক জনের থেকে। এভাবে প্রতি মাসে ইমাম পরিবর্তন করবেন। আচ্ছা, এমন হলেও দোষের কিছু নেই যদি কোরআন অথবা সরীহ, সহীহ ও বিরোধহীন হাদীস থেকে দলীল পেশ করতে পারেন ।


৮৩. নামাযে কিরাআত পড়া ফরয। কুরআনের সাত কিরাআত আছে।সাতও কিরাআত শিখা ফরয হবে। প্রত্যেক কিরাআত নামাযে পড়া ফরয হবে। যদি এরকম হয় তাহলে বলুনতো নামাযে কিরাআতের ফরয আদায় করার জন্য যদি কেউ সারা জীবন, এক কিরাআতই পড়ে, সে কাফের হয়ে যাবে না মুশরিক? না তার কাজটিই হারাম হয়ে যাবে?


৮৪. মুতাওয়াতির কিরাআত ৭টি। কিরাআত পড়া ফরয। তাহলে সাত কিরাআত পড়াও ফরয। আচ্ছা কেউ যদি এক কিরাআতে নামায শেষ করে, তার কিরাআতের কতটুকু ফরয আদায় হল? পুরা ফরয না সাত ভাগের একভাগ?


৮৫. আচ্ছা কোন মহিলা যদি বলে নিকাহ তো সুন্নত। কিন্তু সারা জীবন একই পুরুষের অধীনে থাকা হারাম। কারণ এটা তো তাকলীদে শখছীর মতই। (তখন আপনি কী বলবেন? হাদীসের আলোকে বলুন। তাবীল করবেন না কিন্তু!)


৮৬. আহলে হাদীস বন্ধুদের নিকট নিকাহও জায়েয। মুতয়াও জায়েয।প্রশ্ন হল- যদি কোন মহিলা আহলে হাদীস শুধু বিবাহ করেই ক্ষান্ত হয়, পুরো জীবনে মুতয়া সংক্রান্ত হাদীসগুলোর উপর আমল না করে, সে কি গুনাহগার হবে?


৮৭. যদি কোন মহিলা আহলে হাদীস একমাস বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, পরের মাস মৃতয়া করে জিন্দেগী ওযরান করে, এভাবে পালাক্রমে মুতয়া ও নিকাহ উভয় প্রকারের হাদীসসমূহের উপর আমল করে সে প্রথম মহিলার থেকে কী পরিমাণ বেশী পুণ্যের অধিকারী হবে?


৮৮. কোরআনে এসেছে l mol all the gil, অত্র আয়াতে কে উত্তমগুণ বিবেচনা করা হয়েছে। হানীফ যে রকম একমুখী হয়, তাকলীদে শখটীর পাবন্দরাও একমুখী হয়। আয়াত থেকে বুঝা গেল- একমুখী হওয়া আল্লাহ তা'য়ালার নিকট খুবই পছন্দনীয়। তাহলে আপনাদের এত আপত্তি কেন?


৮৯. এতো গেল একমুখী হানীফদের কথা। দ্বিমুখী অ-হানীফদের সম্পর্কে রাসূল সা. বলেন- আমার স্ত্রী এই ই म जगा उसी ! নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন সর্বনিকৃষ্ট মানুষ দ্বিমুখী ব্যক্তি। তাকলীদে শখছী মানুষকে দ্বিমুখীত্ব থেকে বিরত রাখে। আর তাকলীদে গায়রে শখছীর সাথে যখন প্রবৃত্তির অনুসরণ ও সহজ অনুসন্ধানের প্রবণতা যুক্ত হয়, তখন তা মানুষকে দ্বিমুখী বানিয়ে ছাড়ে। আপনারা দ্বিমুখী হতে এত পছন্দ করেন কেন?


৯০. পবিত্র কোরআন কাফেরদের কর্ম পদ্ধতি বর্ণনা করেছে এভাবে bole digest, basaiyls তারা উহাকে এক বছর হালাল সাব্যস্ত করে, আরেক বছর হারাম সাব্যস্ত করে। তাকলীদে শখছী মানুষকে এ বিদআত থেকে বাঁচায়। আর তাকলীদে গায়রে শখটীর সাথে প্রবৃত্তি পুঁজার প্রবণতা যুক্ত হলে তা মানুষকে এ বিদআতে অভ্যস্ত করে তোলে। 


৯১. রাসূল সা. মুনাফিকদের অভ্যাস ও চরিত্র বয়ান করতে গিয়ে বলেন - Y Y Y Y এ দিকেও না, ও দিকেও না। আরো বলেন- gaali bebjali Basis ঐ বকরীর মত, যে দু'পাল বকরীর মাঝে ঘুরপাক খায়। তাকলীদে শখছী মানুষকে এ মুনাফিকসুলভ অভ্যাস থেকে বিরত রাখে।

আর তাকলীদে গায়রে শখছী মানুষকে এ বিদআতে বাধ্য করে। 


৯২. মুজতাহিদীনের তাকলীদে শখছীর ভিত্তি এ সুধারণার উপর (যে, তারা আল্লাহ প্রদত্ত ফাকাহাত দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকেন)। আর আনাড়ী গায়রে মুজতাহিদের তাকলীদে শখছীর ভিত্তি সলফ ও প্রকৃত মুজতাহিদীন সর্ম্পকে কুধারণার উপর। (অর্থাৎ সকলের নিকট স্বীকৃত মুজহাহিদগণ সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হননি। হয়েছে আহলে হাদীসের আনাড়ী মুজতাহিদরা। এজন্য তাদের তাকলীদই করতে হবে।) অথচ প্রকৃত মুজতাহিদ সম্পর্কে সুধারনেই কাম্য ছিল। আর আনাড়ী মুজতাহিদের তাকলীদ? এতো হতেই পারে না।


৯৩. গায়রে মুকাল্লিদ আহলে হাদীস বন্ধুরা সাধারণত মুকাল্লিদীনকে গলায় রশিবাধা কুত্তা বলে থাকে। এর অর্থ কী- গায়রে মুকাল্লিদ বাঁধনমুক্ত কুত্তা? যদি তাই হয়, তবে শুনুন। বাঁধা কুত্তা তো হয় গৃহপালিত। তার খোরনোশের বন্দোবস্ত গৃহকর্তাই করে। তার সব প্রয়োজন পূরণের চিন্তা মালিকের। তাকে দুধ, রুটি ঘীসহ আরো অনেক কিছু খাওয়ায়। আর ছাড়া কুত্তা (?) ঘরওয়ালা তাকে শুধু তাড়ায়। দুধ-রুটিতো দূরের কথা। জীবন বাচানোর খাবারও জোটেনা। শেষ পর্যন্ত অপারগ হয়ে চৌর্যবৃত্তিতে আত্মনিয়োগ করে। এ বাড়ীতে ঝাটা পিটা তো ও বাড়ীতে লাঠি পিটা। গৃহপালিত হওয়া তো দূরের কথা এমন গৃহতাড়িত যে, দরজার কাছে যাওয়াও সম্ভব হয়না। চারিদিক থেকে লাঠি পিটা আর তাড়া খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে দুর্গন্ধ আর নাপাকি চেটে। আশ্রয় খুঁজে ড্রেন আর নর্দমার নোংরা পরিবেশে। (বন্ধু! আমরা ওরকম হলে আপনারা এরকম হবেন না কেন?)


৯৪. মুনকিরীনে হাদীস (হাদীস অস্বীকারকারী) বলে- হাদীস হুজ্জত। তবে খবরে ওয়াহেদ হুজ্জত নয়। আহলে হাদীসের অবস্থাও অনুরূপ। তারাও বলে তাকলীদে মুতলাক হুজ্জত ঠিকই; কিন্তু তাকলীদে শখছী হুজ্জত নয়। উভয় জনের পথতো একটাই। কী বলেন- পার্থক্য আছে নাকি?হবে না। বক্তা তাহকীকে শখছী বিতরণ করছে। আর শ্রোতা চোখ বুঝে গিলছে। একেমন কথা?


৯৫. আপনাদের মুহাদ্দিস নাসির উদ্দীন আলবানী তাঁর বয়স ১৯ বছর হতে ২৪ বছর পর্যন্ত এই ৬ বছর কোথায় ছিলো? উনি কোননমাদরাসায় পড়ে মুহাদ্দিস হয়েছেন?তার উস্তাদের নাম কি? নাকি গবেষনা পদ্ধতিতে পড়েছে? গবেষনা করে পড়লে তাঁর গবেষনার পদ্ধতি কি ছিলো? গবেষনা কর্মটি কোন জাদুঘরে সংরক্ষিত? 


৯৬। হ্যাম্ফারের ডায়েরিতে আ:ওহাব নযদিকে একজন লুইচ্চা, ব্রিটিশ দালাল,জেনাখোর ও নেশাগ্রস্ত হিসাবে প্রমান করা হয়েছে, এই অভিযোগ গুলো কি সত্য? মিথ্যা হলে এপর্যন্ত আপনারা এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য পেশ করেন নি কেনো?


৯৭. যদি তাকলীদে শখছী এজন্য শিরক ও হারাম হয় যে, মুজতাহিদ মা'সুম ও নির্ভুল নন। তাহলে চারজন গায়রে মা'সুম ও ভুলসমৃদ্ধ ইমামের পালাক্রমিক তাকলীদ কীভাবে শুদ্ধ হবে?


৯৮. যদি মুজতাহিদের তাকলীদে শখছী এজন্য হারাম হয় যে, মুজতাহিদ মাসুম নন। হাদীসের বর্ণনাকারীগণও তো মা'সুম নন। তাদের বর্ণিত হাদীস কিভাবে হুজ্জত হতে পারে? 


৯৯. যদি মুজতাহিদের তাকলীদে শখছী এজন্য হারাম হয় যে, তারা মাসুম নন, হাদীসের ক্ষেত্রে তো মুহাদ্দেসীনের তাসহীহ ও তাযয়ীফ (সহীহ-যয়ীফ বলে মান নির্ণয়) ও তো তাদের মতের উপর নির্ভরশীল। তারাও তো মা'সুম নন। তাদের মত মান্য করা শিরক ও হারাম হবেনা কেন?


১০০. ফিকহকে যদি এজন্য তরক করা হয় যে, তা এক বা ধারণা নির্ভর। তাহলে ফিকহর - বা সকল মুজতাহিদ কর্তৃক স্বীকৃত মাসআলা কেন বর্জন করা হবে? ইজমা তো ভুল- ত্রুটিমুক্ত। ইজমা তরককারীর হুকুম কী হবে?


হাদীসে মুতাওয়াতিরের সংখ্যাতো অনেক কম। অধিকাংশই খবরে ওয়াহেদ। যা প্রবল ধারণা সৃষ্টি করে। তাহলে এ কেন কবুল করা হবে?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...