4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: প্রগতিশীলতার অন্তরালের অন্ধকার > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

প্রগতিশীলতার অন্তরালের অন্ধকার

 "প্রগতিশীলতার অন্তরালের অন্ধকার"



একজন প্রগতিশীল দাবীদার ভাইয়ের সহিত নিম্নের (স্ক্রিন সটের) পোষ্ট নিয়ে আমার আলাপচারিতা ( কমেন্টে) হুবহু তোলে ধরা হল:


Saad Rahaman:

লেখক কোন বিষয়ে ডক্টর তা জানলে ভাল হত।কারণ, 

  (১) ধর্মের নাম "ইসলাম", মুসলিম হল ধর্ম অনুসরণকারীর নাম, 

  (২) কথা গুলোর বানান "সার্বজনীন"  "পূর্ণ" এবং "স্রস্টা" ,

   (৩) যে সব দেশ ইসলামের নামে চলে তাদের প্রায় সবখানেই গোষ্ঠীগত হানাহানি চলছে কেন? একই ইসলাম মানলে তারা শান্তিতে মিলেমিশে থাকতে পারেনা কেন? কেন এক গোষ্ঠীর "আলেম"-রাখা অন্যদের জাহেল বা কাফের  বলে ফতোয়া দেন? কেন এক গোষ্ঠীর সমর্থকরা অন্য গোষ্ঠির মসজিদে বোমা হামলা করে?


আমি:

Saad Rahman প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, আর শুদ্ধ বানান গুলো আমি জানি, কিন্তু তারাতারি লেখার কারণে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি, বানান গুলো পূর্ণ, স্রষ্টা, সার্বজনীন সঠিক, আর আমার ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হউক।


এগুলো কোন ধর্ম বা জাতীর দোষ নয়, এগুলো ব্যক্তিগত দূর্বলতা, এটা ধর্মে দূর্বলতা নয়। যেমন কেউ মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশোনা করে পাশ করার পর যদি চিকিৎসা না করে রোগীকে অবহেলা করে তবে সেটা মেডিকেলের শিক্ষক, সিলেবাস এমনকি মেডিকেল কলেজ অথবা মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার দোষ নয়। ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ রুপে না মানার কারণেই এত হানাহানী।

আপনার উপর সৃষ্টিকর্তার দয়া হউক।


Saad Rahaman

ধর্মের দোষ বললে তো এক্ষুনি "মুরতাদ" ঘোষণা করে খুন করবার ফতোয়া দেওয়া হবে!  প্রশ্নটা হল এত ভাল ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা এত খারাপ কেন? আমার মতে তার কারণ হল, সব জায়গাতেই ধর্মনেতারা ধর্মীয় নির্দেশকে বিকৃত করে ব্যক্তিস্বার্থ সাধনে ব্যবহার করছে। তাদের কাছে সত্যের চেয়ে ক্ষমতার গুরুত্ব অনেক বেশি। ক্ষমতা দখল করা ও ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা তাদের অনুসারীদের বিভ্রান্ত করছে এবং নিজেদের মধ্যে হানাহানি করতে উৎসাহ দিচ্ছে। খৃস্টানরা দুশো বছর আগে নানা মত বিভেদের জন্য এভাবে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করছে। যখন তারা বুঝতে পারল যে এমন ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধের পরিণাম ধ্বংস ছাড়া আর কিছু নয়, তখন তারা পরস্পরের প্রতি সহনশীল হতে শিখেছে। এখন তাদের আপ্তবাক্য হল, "নিজে বাঁচো আর অন্যকে বাঁচতে দাও " (live and let live).  অন্যদিকে মুসলিম নেতৃত্বের আপ্তবাক্য হল "নিজে বাঁচো এবং অপরকে(ভিন্নমতাবলম্বীকে)  মরতে দাও "(live and let die). এই মনোভাবের পরিবর্তন না হলে ইসলামের তত্বকথা দিযে মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়।


আমি:

Saad Rahman আল্লাহ আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের ভাল করুক। আমরা আসলে অনেকেই ইসলাম মানে শান্তি এই আক্ষরিক অনুবাদটা জানি, স্বীকারও করি কিন্তু ইসলাম অর্থ কেন শান্তি, কি ধরনোর শান্তি, কিভাবে শান্তি বজায় রাখতে হয় অনেকেই এটা জানি না, সবাই মনে করে শুধু মাত্র নামাজ, রোজা আর পর্দার করলেই শান্তি আসবে, কিন্তু ইসলামের শান্তির জন্য অনেক অনেক কাজ আছে যেটার ধারে কাছেও আমরা যেতে চাই না, যেমন যাকাত দেয়া, খাবারে ফরমালিন না দেয়া, মানুষের আপদে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া এমনকি সর্বোপরি সকল ধর্ম ও জাতির মানুষের প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়া এটাও ইসলামের বড় কাজ, এটাই ইসলাম।


নিজে বাঁচো অপরকে মরতে দাও এমনটা আসলে ইসলামের মূল নীতি নয়, আপনি জেনে থাকবেন ইসলামে প্রতিবেশীর হক বলতে একটা কথা আছে, এখানে প্রতিবেশী বলতে কোন ধর্মের কথা বলা হয় নি, বলা হয়েছে বসত বাড়ির সামনে, পেছনে, ডানে এবং বামে চল্লিশ বাড়ি প্রতিবেশী। অতএব নিজে বাঁচো অন্যকে মার এমনটা ইসলামে নেই। আর ভিন্ন মতালম্বিকে আঘাত করার ব্যাপারে আমি একটা উদাহরন দেব, আর সেটা হল তায়েফের ঘটনা, দাওয়াতের কাজে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যাওয়ার পর তাঁর উপর আমানুষিক নির্যাতনের পর আল্লাহর নবীকে ফেরেস্তা মারফত জিজ্ঞেস করে বলা হল আপনি আদেশ করলে এই তায়েফকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেব, দয়াল নবী, মায়ার নবী ক্ষমা করে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে শান্তির জন্য প্রার্থনা করল, এতে কি প্রমান হয় না যে নিজে বাঁচ অন্যকে মার এটা ইসলাম অনুমতি দেয় না?

ভিন্ন ধর্মের লোক ইসলামের দাওয়াতের টার্গেট, আঘাতের টার্গেট নয়।


Saad Rahaman:

ধন্যবাদ। ভিন্নমত বোঝার চেষ্টা না করে তাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা আমাদের সবচেয়ে বড় দোষ।এটা থেকে বিরত না হলে এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল না হলে কোন সুফল পাওয়া যাবে না।

আমি:

মি: Saad rahaman আবারও বিশেষ ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা। আপনার পরের লেখা দুটো পড়ে খুব ভাল লাগল। আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন, এই দোয়া করি। 

  ফেসবুকে যারা লেখেন তাদের অধিকাংশই উগ্রবাদী এবং অন্ধবিশ্বাসী। তারা মনে করেন যে তাদের  সীমাবদ্ধ বিশ্বাস ব্যবস্থার বাইরে যত কিছু মত, পথ বা বিধিব্যবস্থা আছে সবই ভ্রান্ত বা "বাতিল" এবং সে সব কিছুকে বল প্রয়োগে উৎখাত করা তার ধর্মীয় কর্তব্য। এর ফলে সমাজে তথা রাষ্ট্রে অযথা হানাহানি এবং সন্ত্রাস ঘটে যা সব নাগরিককেই প্রভাবিত করে। তাদের অন্ধবিশ্বাসজনিত মতামতের বাইরে যে সত্য থাকতে পারে তা তারা স্বীকার করতেই পারে না। কেউ তাদের বিশ্বাস বিরোধী কোন কথা বললেই তাকে "নাস্তিক" বলে ঘোষণা করে তাকে বিপন্ন করে তোলা  হয়।   বর্তমানে পৃথিবীতে ইহজাগতিক মতাদর্শ সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং যে সব রাষ্ট্র তথা সমাজব্যবস্থা ইহজাগতিক আদর্শে পরিচালিত তারাই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। কাজেই গালাগালি না করে আমাদের উচিত তাদের সাফল্যের কারণ বিশ্লেষণ করা। "তাদের সবকিছুই খারাপ আর আমাদের সবকিছুই ভাল", এই ধারণাই বর্তমানে বিশ্বে মুসলমানদের দুর্গতির প্রধান কারণ।


আমি:..... "অধিকাংশই উগ্রবাদী এবং অন্ধবিশ্বাসী। তারা মনে করেন যে তাদের  সীমাবদ্ধ বিশ্বাস ব্যবস্থার বাইরে যত কিছু মত, পথ বা বিধিব্যবস্থা আছে সবই ভ্রান্ত বা "বাতিল" এবং সে সব কিছুকে বল প্রয়োগে উৎখাত করা তার ধর্মীয় কর্তব্য। এর ফলে সমাজে তথা রাষ্ট্রে অযথা হানাহানি এবং সন্ত্রাস ঘটে যা সব নাগরিককেই প্রভাবিত করে। তাদের অন্ধবিশ্বাসজনিত মতামতের বাইরে যে সত্য থাকতে পারে তা তারা স্বীকার করতেই পারে না।".....


আমি:

. আপনার বক্তব্যের এপর্যন্ত আমি অনেকাংশে এক মত।


.Saad rahaman:

..... "কেউ তাদের বিশ্বাস বিরোধী কোন কথা বললেই তাকে "নাস্তিক" বলে ঘোষণা করে তাকে বিপন্ন করে তোলা  হয়।"......এখানে ৫০% এক মত, কারন বিশ্বাস বিরোধী কথা বল্লেই হত্যা করতে হবে এমনটা কেউই বলবে না কিন্তু মুক্ত চিন্তার নামে বিনা প্রমানে অন্য কোন ধর্মের লোককে নয়, শুধু মাত্র আল্লাহ ও আল্লাহর নবীকেই এবং কোরআনকে অবমাননাকর কথা বলে কিধরনের প্রগতিশীলতানপ্রকাশ করে?


কোন একজন ব্যক্তির পিতা বা মাতাকে কেউ গালি দেয় না কারন তার মনে কষ্ট হয়, মনে কষ্ট হয়ে অনেক সময় গালি প্রদান কারিকে প্রহার করলেও আমরা ঐ প্রহারকারীকেই সমর্থন করি এই বলে যে তার ভুলের কারনে পিতা/মাতাকে গালি দেবে কেন? তাইলে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন কোটি কোটি মুসলমানের আদর্শের প্রতিক ও হৃদয়ের মনিকোটা। জীবনেরচেয়েও মুসলমানরা তাঁকে ভালবাসে। আর আল্লাহতাআ'লা মহা বিশ্বের স্রষ্টা এটা জেনেও প্রগতিশীলতার নামে আল্লাহও আল্লাহর নবী এবং কোরআ'নকে গালি দিয়ে জামাই আদর আশা করাটা কি কচ্ছপের আকাশে উঠার স্বাধের মত আত্মহত্যার শামিল নয়। এ ধরনের মানুষকে  তো যা খুশি তাই করবে।


saad rahaman:

..... বর্তমানে পৃথিবীতে ইহজাগতিক মতাদর্শ সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং যে সব রাষ্ট্র তথা সমাজব্যবস্থা ইহজাগতিক আদর্শে পরিচালিত তারাই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে...... 


আমি:

এখানে আমি সম্পূর্ন দ্বিমত পোষন করি, তবে এটা নিয়ে পরে লিখব, ব্যস্ততার কারনে পারছি না।........ কাজেই গালাগালি না করে আমাদের উচিত তাদের সাফল্যের কারণ বিশ্লেষণ করা......... এখানে এক মত"।তাদের সবকিছুই খারাপ আর আমাদের সবকিছুই ভাল", এই ধারণাই বর্তমানে বিশ্বে মুসলমানদের দুর্গতির প্রধান কারণ।.......এখানেও এক মত।


Saad rahaman:

 কিছু কিছু অংশে দ্বিমত থাকা খুবই স্বাভাবিক। যারা ইসলাম, কুরআন ও মহানবী(সাঃ) কে গালি দেয় তারা মহামূর্খ।কিন্তু গালি দেওয়া ও সমালোচনা করা তো পৃথক বিষয়।

 আশা করি ভবিষ্যতেও আরও মূল্যবান মতামত দিতে পারবেন।  


আমি:

Saad Rahman ইহজাগতিক মতাদর্শ বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন পুরোপুরি বুঝলাম না, এটা আরেকটু ক্লিয়ার করা দরকার ছিল, কারন ইসলাম একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক মানবতার ধর্ম, এখানে অন্ধ অনুকরনের সুযোগ নাই আবার প্রগতিশীলতার নামে ধর্ম হীনতারও সুযোগ নাই। বিজ্ঞান আর ইসলাম আলাদা নয়, দুটুই একত্রিত এবং পরিপূরক। আর ইহজাগতিক মতাদর্শ বলতে যদি কমিউনিজম বা সেকুলারিজম ইত্যাদি বুঝিয়ে থাকেন আমি বলব প্রকৃত আলো বাদ দিয়ে আলেয়ার পিছনে ঘুরার ফল ভাল না, কারণ ইসলামই স্রষ্ঠার একমাত্র মনোনীত জীবন ব্যবস্থা মানে সোজা কথায় মহা জগতের প্রাকৃতিক জীবন পথ যাহা শাশ্বত। বাকী গুলো মানব সৃষ্ট ও ত্রুটি যুক্ত জীবন ব্যবস্থা। এখন যদি বলেন যে ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর এই অবস্থা কেন আমি বলব ইসলাম না বুঝে বিজ্ঞান থেকে আলাদা ভাবে পালন করার কারনেই এমতাবস্থা।কেননা বর্তমানে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর অধিকাংশ শাসকই গোঁয়ার, চরম স্বার্থপর ও মিথ্যাবাদী। ইসলামের ধারে কাছেও নাই।  তাছাড়াও ইহুদি ও বিদেশী চক্রান্তের স্বীকার মুসলিম জনপদ গুলো। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে মুলধারার ইসলামী দলগুলোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাখার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করছে আমেরিকা, জার্মান, ইউরোপ ও ইসরায়েল। ইসলাম+বিজ্ঞান আলাদা নয়, এ সম্পর্কে ইতি পূর্বে আমি আরো অনেক পোষ্ট প্রমান সহ দিয়েছি। এখন আসুন মানব সৃষ্ট জীবন ব্যবস্থা(যেমন লেলীন, কার্ল মার্কসবাদ) কিভাবে ত্রুটিপূর্ন। তর্কের জন্য ধরে নিলাম এই মানব সৃষ্ট ব্যবস্থা মতে সমাজ চালিয়ে কিছু দেশ অর্থনৈতিক উন্নতি করেছে। এখন আমি প্রশ্ন করব কেউকি মনে করেন অর্থনৈতিক মুক্তি মানেই মানবতার মুক্তি? যদি অর্থনৈতিক মুক্তিই মানবতার একমাত্র মুক্তি হত তাইলে উন্নত দেশ গুলিতে এত আত্মহত্যার পরিমান বেশী কেন? এবার আসেন এসকল সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্তা, সৃষ্টিকর্তা বিধানের বিপরীতে এসকল মানব সৃষ্ট ত্রুটিপূর্ন সমাজ ব্যবস্থা আপনাকে অর্থনৈতিক উন্নতির বিনিময়ে কি কি কেড়ে নিয়েছে আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছি,


*বিবাহ ব্যবস্থা কেড়ে নিয়েছে।

* স্ত্রী - পুরুষের মধ্যে অবাধ যৌন মিলনের নামে একটি বেশ্যা ভিত্তিক যৌন সম্পর্কের সমাজ ব্যবস্থা চালু করেছে।

* জারজ সন্তানের সংখ্যা দৈনন্দিন বাড়ছে।

* হাজার হাজার বৃদ্ধাশ্রমের জন্ম দিয়েছে।

* কানাডা, ইউরোপ, আমেরিকা, জার্মানির মত উন্নত দেশ গুলিতে সন্তান জন্মদানের হাড় কমছে এবং মানব জাতি আজ অস্তিত্ব সংকটের দিকে এগুচ্ছে।


আর কত প্রগতিশীলতার অন্ধকার দিকের প্রমান দেব?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...