ডাকসুতে সম্মিলিত ইসলামী আদর্শ, শিবির-ছাত্রদল,রক্তাক্ত জুলাইয়ের বিজয়,ইনসাফের বিজয়,চাকমা-মার্মা সহ সকল পিছিয়ে পরা জনগুষ্টির বিজয়,দেশের বাঙ্গালি-অবাঙ্গালি জনগুষ্টির বিজয়,জুম চাষীদের বিজয়, তাঁতী, কামার,কুমার,জেলে,মজুর সবার আদর্শিক বিজয়।
এটা কারো একার বিজয় না,কোনো একক দলের না, আবার নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী কোনো প্যানেলের পরাজয়ও না। এখানে সবার চাওয়া ছিলো সুষ্ঠু নির্বাচন ও ছাত্র-ছাত্রীদের রায়ের প্রতিফলন, এবং তাই হয়েছে।
অনেকে বলে গতকালের ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের বিজয় হয়েছে, আমি বলি না। বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের ব্যানারে ইসলামী মূল্যবোধ,বাংলাদেশ ও রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবের বিজয় হয়েছে, ছাত্রদল ও শিবির উভয়ের ইসলামি আদর্শের বিজয় হয়েছে, শাহবাগীদের পরাজয় হয়েছে, ফ্যাসিস্টদের পরাজয় হয়েছে,ভিনদেশী দালালদের পরাজয় হয়েছে,ভারতের তাঁবেদারদের পরাজয় হয়েছে।
শুধুমাত্র বিভাজনের রাজনীতি যারা করে তাদের পরাজয় হয়েছে, বিভাজনের রাজনীতিকরাই এই আদর্শিক বিজয়কে একদলের থলেতে পুরাতে সহায়তা করে। আরে এটা আমাদের সম্মিলিত বিজয় এটা বুঝতে হবে। ছাত্রদল ভোটে হেরেছে, আদর্শে হারে নি, কৌশলের কাছে পিছিয়ে পড়েছে, তারা এখান থেকে নতুন ভাবে গজাবে, ছাত্রদল আদর্শিক ভাবে হারে নি।কার জিয়া পরিবার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইসলাম বিরোধী নয়।
আমার কাছে মনে হয় জুলাইয়ের চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালটে,কিন্তু যেখানে জুলাইয়ের সর্বোচ্চ স্টেক হোল্ডারদের পাশ করার কথা, সেখানে একাংশ পিছিয়ে পড়েছে কেনো?
কেন জুলাইয়ের সম্মুখভাগের এই অবস্থা? তার কারণ হলো:- জুলাইয়ের সর্বোচ্চ স্টেক হোল্ডাররা নিজেই ভুলে গেছে জুলাইয়ের চেতনা কী ছিল!
জুলাই আদর্শেঃ
*বিভাজনের রাজনীতি জুলাইয়ের চেতনায় ছিল না।
*প্রতিপক্ষকে মিথ্যাচার, গুজব দিয়ে দমানোর কৌশল জুলাইয়ের চেতনায় ছিল না।
*প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো জুলাইয়ের ঘোর বিরোধী।
*অন্যায়ের সাথে আপোষ করা জুলাইয়ের চেতনা পরিপন্থী।
*কোরামবাজি জুলাই অস্বীকার করে।
*জুলাইয়ের মেরুদণ্ড ছিল।
* কারোর কোলে উঠতে চাওয়া পাবলিকদের জুলাই বয়কট করে।
এরকম আরও যত (অপবাদ, মাইনাস পলিটিক্স) রয়েছে জুলাই সব ডিনাই করে।
কিন্তু জুলাইয়ের সম্মুখ যোদ্ধারা ডিনাই করতে তো পারেই নাই বরং জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী কাজ করে জুলাইয়ের হাতেই মারা খাইছে।
এখনো সময় আছে জুলাইকে অপবাদ না দিয়ে জুলাই ধারণ করেন, জুলাই অস্বীকার ও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত এই দুটা ধারন করে কেউ এদেশের রাজনৈতিক মাঠে আর টিকতে পারবে না।
শ্রীলঙ্কা, নেপালের দিকে তাকান,ইন্দোনেশিয়াতেও কি হবে দেখর অপেক্ষায় থাকুন, শিখুন। জাতীয় ঐক্য ও ছাড় দেওয়ার মন মামসিকাতা তৈরী করুন, একটি হার কিংবা একটি জিত দিয়ে সফলতা কিংবা বিফলতা হয় না, রাজনীতি দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প।
জাতীয় নির্বাচনে আমাদের অনেক কাজ বাকি। সম্মানজনক অবস্থানের জন্য আমাদেরকে আরো সংশোধন হওয়া লাগবে, হোক বিএনপি কিংবা জামায়াতের বেলায়।
এই বিজয়কে একক দলীয় বিজয় হিসাবে নিলে দেখবেন এক সময় এই বিজয় বিভাজিত হয়ে দূর্বল হয়ে যাবে, আবারো শক্তিশালী হবে শাহবাগীরা।
সাবধান!! এই বিজয়কে সম্মিলিত ইসলামী আদর্শ, ইনসাফ পন্থিদের আদর্শ এর বিজয়,বাংলাদেশের বিজয়, ছাত্রদল-ছাত্র শিবিরের যৌথ বিজয়, চাকমা-মার্মা সহ সকল পিছিয়ে পরা জনগুষ্টির বিজয়,দেশের বাঙ্গালী-অবাঙ্গালি জনগুষ্টির বিজয়,জুম চাষীদের বিজয়,জুলাই বিপ্লবীদের বিজয়।
দয়া করে কেউ এ বিজয়কে একক দলীয় বিজয় বানবেন না,বিভাজন বাদদিন ,সম্মিলিত অর্জন বানাতে চেষ্টা করুন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ