4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: জামায়াতের একাত্তর ইস্যু ও আদর্শিক বিচ্যুতি > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

জামায়াতের একাত্তর ইস্যু ও আদর্শিক বিচ্যুতি

 

একাত্তর! একাত্তর! একাত্তর! বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই সংখ্যাটা একটা সর্বোচ্চ ম্যাজিক সংখ্যা, পৃথিবীর কোনো দেশে হয়ত এতটা সংখ্যা ভিত্তিক আদর্শের রাজনীতি নাই।আর বাংলাদেশ এই একাত্তর চেতনাকে দিয়ে একটি দলকে চাপে ফেলা হয় আর তা হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যা পাকিস্তান জামায়াতের উত্তরসূরী।


এই দলটি এমন একটি ইসলামি দল যাদের চরিত্র আর গিরগিটির চরিত্রের মধ্যে বেশ মিল। আমরা সবাই জানি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র হয়েছি।এই স্বাধীন রাষ্ট্রটি জন্মের শুরুতে অনেক রাজনৈতিক দল বিরোধীতা করেছিলো যার মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিরোধীতা করেছে জমিঈয়ত, তার পর সংখ্যা লঘু হিসাবে জামায়াত। আদতে এই সকল বিরোধীতার মূল কি ছিলো? ইচ্ছা করে পশ্চিমাদের গোলামী? হয়ত হতে পারে অথবা এটাই বাস্তবতা কিন্তু আসল কথা হলো এই বিরোধীতার পেছনে আরো কিছু কারন থাকতে পারে। এই বিষয়টি জানার পূর্বে কিছু ফ্যাক্ট জানা দরকার।

ফ্যাক্ট-১ঃ
বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানের পরাধীনতা হতে,কিন্তু এই পাকিস্তানের জন্মের ঘোর বিরোধী ছিলো ভারত, তার মানে ভারত পূর্ব পাকিস্তানেরও বিরোধী ছিলো।

ফ্যাক্ট-২ঃ
আওয়ামিলীগ এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলে সবাই মনে করে,কিন্তু এই আওয়ামিলীগ এর প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান ষড়যন্ত্র করে ঐ ভারতেরই আগরতলায় বসে যা সাথে সাথে প্রকাশ পেয়ে যায় এবং ২০১৫ সালের পর হতে আওয়ামিলীগ এর নেতারাই প্রথম দাবী করে যে আগরতলা ষড়যন্ত্র সত্য ছিলো।

ফ্যাক্ট-৩ঃ
ধর্মীয় কারনে বা ধর্মের সেতু বন্ধের ভিত্তিতে পূর্ববাংলা পাকিস্তানের সাথে মিলে ব্রিটিশ হতে স্বাধীন হলেও যে রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশ স্বাধীনের জন্য নেতৃত্ব দানকারী ছিলো দলটি ছিলো সেক্যুলার।

ফ্যাক্ট-৪ঃ
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাথে আরো বেশী প্রভাব বিস্তার করছিলো নাস্তিক কমিউনিস্ট পার্টি গুলো,যদিও বাংলাদেশ ধর্মের ভিত্তিতেই পাকিস্তানের অংশ হয়েছিলো।

ফ্যাক্ট-৫ঃ
২০১৩ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ভারতের দিল্লীতে গিয়ে ঘোষনা দেন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ভারতের লাখো সৈন্যের রক্তের বিনিময়,  বাংলাদেশের মুক্তি যোদ্ধার কথা উল্ল্যেখ করে নাই।

ফ্যাক্ট-৬ঃ
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা বাংলাদেশের মানুষের প্রতি ভারতের উপহার, এতে বুঝায় বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বাংলাদেশের মানুষের কোনো অবদান নাই।

ফ্যাক্ট-৭:
বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দেন ভারতকে যা দিয়েছি আজীবন মনে রাখবে,কি দিয়েছে তা আজও জনগন জানে না।

ফ্যাক্ট-৮ঃ
বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিন হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর কোনো কমান্ডার রাখা হয় নি,ভারতীয় বাহিনীর কাছে হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে।জয় পরাজয় হয় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে, বাংলাদেশের মুক্তি বাহিনীরা ছিলো ঠোঁটু জগন্নাথ।

ফ্যাক্ট-৯ঃ
এখনো ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বলে দাবী করে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে মুক্তি যোদ্ধাদের অবদান কই?মুক্তি যোদ্ধারা কি ভারতের পক্ষ হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলো?

উপরের আলোচনা হতে বুঝা যায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে,যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা যারাই আঁচ করতে পেরেছে তারা সবাই পাকিস্তান নামক নেকড়ের হাত হতে মুক্ত হয়ে ভারত নামক সিংহের পেটে ঢুকার কথা অস্বীকার করেছে। আর তখন তারাই স্বাধীনতার যুদ্ধে বিরোধীতা করেছে। এখানে জামায়াতকে যতই ট্যাগ দিক জামায়াতের কোনো কিছু যাওয়া আসার কথা না।

এবার আসেন জামায়াতে ইসলামীর কথায়। তখনকার জামায়াত আর জমিঈয়ত একই কারনে পাকিস্তান হতে বিভাজিত হয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটিয়ে ভারতের করদ রাজ্যে পরিনত হতে নারাজি প্রকাশ করে। আর এই শঙ্কা ৫৪ বছর আগেই টের পেয়েছিলো তৎকালীন জমিঈয়ত-জামায়াতের বিজ্ঞ নেতারা,তারা এই বিরোধীতার জন্য পরবর্তীতে কখনো ক্ষমাই চায় নি।

কিন্তু বর্তমান জামায়তকে কেউ একাত্তর নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা যদি/কিন্তু মিশিয়ে তাদের ৫৪ বছর আগের নেতাদের বিজ্ঞতার কথা অস্বীকার করে বসে। বর্তমান জামায়াত নেতা গুলো প্রায় সবাই গিরগিটি টাইপের।একাত্তর বিষয়ে একেক নেতা একেক সময়ে একেক মন্তব্য করে বসে। তারা একাত্তর বিষয়ে অবস্থান বার বার পরিবর্তন করছে, অথচ সাহস করে তাদের স্বাধীনতা বিরোধিতার কথা স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করে না শুধু মাত্র ক্ষমতার লোভে। ১৯৮৬ তে জাতীয় বেঈমানীর নির্বাচনে আওয়ামিলীগ এর সাথে জোট, ১৯৯১ সালে বিএনপির সাথে জোট, ১৯৯৬ সালো আনার আওয়ামিলীগের সাথে জোট, ২০০১ সালে বিএনপির সাথে জোট বার বার তাদের রাজনৈতিক আদর্শের কুরবানী ও আদর্শের  বলিদান দলটিকে রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরজীবিতে পরিনত করেছে। এখন নতুন কথা বলছে তারা নাকি একাত্তর বিষয়ে কখন কোথায় ক্ষমা চেয়েছে।কোথায় ক্ষমা চেয়েছে আমার জানা নাই, ক্ষমা যদি চেয়েই থাকে তাইলে সত্যিই কি একাত্তরের অপকর্মের জন্য তারা দোষী? এটা কি তারা মেনে নেবে?

জামায়াত ইসলাম প্রতিষ্ঠার আদর্শ হতেও সরে এসেছে ইদানীং। কয়েকদিন আগে এক বিবিসি স্বাক্ষাতকারে জামায়াতের সাবেক এমপি ও নায়েবে আমীর ডা.সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে প্রশ্ন করা হয় আপনারা কি ক্ষমতায় গেলে শরীয়াহ আইন জারি করবেন? তখন ডা.তাহের গাছ হতে পড়ার ভান করে বলেন এ দাবী আবার কবে করলাম? অর্থাদ জামায়াত ক্ষমতায় আসলে ইসলামি শরীয়তের আইন জারি করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর না।

আগে তাদের দলীয় সংবিধানে ছিলো ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের দফা, এ দফাকে তারা বদল করে করেছে কল্যান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা। অর্থাদ জামায়ত খিলাফত প্রতিষ্ঠার কোনো এজেন্ট নিয়ে কাজ করতে বাধ্য নয়। কল্যান রাষ্ট্র তো ইসলামি উপায় ছাড়াও অনেক উপায়েই করা যায়। তারা কোন উপায়ে করতে চায়? 

আবার দেখেন তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবিরের গঠন তন্ত্রের পঞ্চম দফা ছিলো ইসলামি বিপ্লব,অর্থাদ বিপ্লবের মাধ্যমে চুড়ান্ত ইসলাম প্রতিষ্ঠা, এটা তারা পরিবর্তন করে করেছে ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা। 

জামায়াত যে ভারতের জুজুর ভয় দেখিয়ে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলো এবং তাদের তখনকার সিদ্ধান্ত বাস্তবতার আলোকে যে সঠিক ছিলো তা জুলাই বিপ্লবে প্রমানও হলো তার পরও জামায়াত নেতারা ভারতের সহিত সম্পর্ক উন্নয়নে নিজ হতে প্রকাশ্যে ঘোষনা দিচ্ছে,অথচ আজও স্বাধীন পাকিস্তানকে অস্বীকার করে ইসলামি শক্তির দমন নীতিতে যে ভারত বদ্ধপরিকর সে ভারত।

একবার কেউ চিন্তা করে দেখুন জামায়াতের এই চালাকি গুলো কত সুক্ষ্ম? তারা গনতন্ত্র চর্চা করবে, ইসলামিক গনতন্ত্র নামে গনতন্ত্রকে জায়েজ করবে(এটা কৌশল,যদিও ইসলামে কৌশল করা জায়েজ আছে বৈধ উপায়ে),তারা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা না করা নিয়ে নিরব, কল্যান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে কিন্তু কোন পদ্ধতি তারা তা ব্যাখ্যা করবে না,তারা শরীয়াহ আইনের কথা শোনে আঁতকে উঠবে, সে দলটি কতটুকু ইসলামিক আর তাদের হাতে ক্ষমতা গেলে কতটুকু ইসলাম দেশে প্রতিষ্ঠা হবে এবং তারা তাদের আদর্শের উপর কতটুকু অটল তা সহজেই অনুমেয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...