ইংরেজিতে Suggar daddy এর বাংলায় ব্যাকরন গত আক্ষরিক অর্থ হলো চিনি বাবা। এই চিনি বানা কারে কয় জানেন? যে সকল পুরুষ ঘরে সুন্দরী বউ থাকার পরও টাকার জোড়ে নিজ হতে কম বয়সী অর্থাদ মেয়ের বয়সী কিংবা নাতনী বয়সী মেয়েদেরকে ভোগ করে ডাসবিনে ছুড়ে ফেলে দেয় তাদেরকে বলে সুগার ড্যাডী বা চিনি বাবা। এই চিনি বানাদের মূল শক্তি হলো টাকা,টাকাই তাদের চিনি, এই চিনির লোভেই সবাই আসে চিনিবানাদের কাছে, আর চিনওর বিনিময়ে বিকিয়ে দেয় নিজের ইজ্জত। এই চিনি দিয়ে শুধু যে মেয়েদের ইজ্জত কিনে তা নয়, রাজনৈতিক দলের কিংবা সরকারি পদস্ত কর্মকর্তাদের ইজ্জতও কিনে।
জানিনা চিনি বাবাদের বিষয়ে কলম ধরলে কপালে কি জুটে, তবুও লিখে গেলাম।
Sugar baby হলো এই চিনি বাবাদের চিনি খোর আপুরা। এক চিনি খাদক নয়া রাজনৈতিক দলের নেত্রী আপুর কাঁদুনি মার্কা ভিডিও দেখে আমি অসস্থি বোধ না করে পারলাম না, কারন মানুষ কতটা বেহায়া হলে এসব বলতে পারে! বুঝলাম এসবই চিনি বাবার কেরামতি।
আমার প্রাক্তন এক অফিস কলিগ (female) আপু একদা তার
ডিভোর্সের পরপর কালাচাঁদপুর থেকে বাড়িধারা DOHS এ লক্ষ টাকার ভাড়ার ফ্ল্যাটে উঠল, যার বেতন ছিল মাত্র ২৫,০০০ টাকা, তখন জানতে পারি যে এটা ঢাকায় খুব কমন একটা ব্যাপার। বুজলাম এসব নাকি চিনিবাবারই আশির্বাদ।
গুলশান, বনানী, বারিধারা, DOHS – এইসব এলাকায় অনেক মেয়েই থাকেন যাদের জীবনধারা আর ইনকামের মাঝে বিস্তর ফারাক। চাকরি করলে হয়তো ৩০,০০০ টাকার বেশি আয় হতো না, অথচ বাসা লক্ষ টাকার, চলাফেরা মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের গাড়িতে, সব বিদেশী ব্র্যান্ডেড পণ্যের ব্যবহার—এই লেভেলের lavish lifestyle আসলেই কোথায় থেকে আসে? সবই চিনি বাবাদের বরকতে!!!
না, এরা অনেকেই কোনো ধনী বাবার মেয়ে না,বরং চিনি বাবার সুদৃষ্টি প্রপ্ত!!!। কারন সমাজে বহু চিনিবাবা আছে যারা টাকার জোরে সম্পর্ক তৈরি করে, আর সেই টাকায় চলে এমন অনেক চিনি খাদক মেয়ের জীবন। এই মেয়েরা এখন যখন মিডিয়ায় এসে কাঁদে—আমি অন্তঃসত্ত্বা, ও আমাকে বিয়ে করছে না—তখন এসকল চিনি খাদক মেয়েদের জন্য আমি একটুও দুঃখ পাই না।মনে মনে বলি চিনির বরকত তো হবেই আপু।
প্রথমত, এই So called অল্প বয়সী Innocent চিনিখোর আপুরা এতই Innocent যে তারা ভালোবেসে নাকি ধরা খায় চিনিবানাদের কাছে!!!! বিয়ের প্রলোভন দিয়ে নাকি চিনি বাবারা তাদের ব্যবহার করে!!!! আহ!!!! কি দু:খের বিষয় রে বাবা!!!!!!
তারা এতটাই Innocent যে, সিঙ্গেল ছেলেরা তাদের চোখে আটকায় না, তার সিঙ্গেল ছেলেূের বাদ দিয়ে যায় সেইসব লোকদের সাথে, যাদের সংসার আছে, বউ আছে, বাচ্চা আছে, (Most Important Taka)/টাকা নামক অতীব সুস্বাদু চিমি আছে), সাথে পকেট ভর্তি প্রচুর মধুও আছে!!!
তারা এতটাই Innocent যে, বিয়ে না করেই প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়, অথচ কিছুই বোঝে না! সবই নাকি চিনি বাবাদের কেরামতিতে!!!
আর তাদের পরিবার?
তাদের তো Innocence Level পূত পবিত্র।
মেয়ে কোথায় থাকে, কীভাবে লাখ টাকার বাসায় থাকে, গাড়িতে চড়ে, হাই ব্র্যান্ডেড প্রোডাক্ট ব্যবহার করে—সবই যেন অজানা!
মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা বেতনে এইসব Lifestyle কিভাবে সম্ভব, সেই হিসাবটাও যেন পরিবারের মাথায় আসে না!সব বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকে। চিনি বাবাদের কেরামতি বলে কথা!!!!
আমার কেন এই কাঁদুনি দেখে হাস্যকর মনে হয় জানেন?
এই মেয়েরা যখন সচেতনভাবে বিবাহিত পুরুষকে টার্গেট করে, তারা নিজেরাও জানে যে এ সম্পর্কের কোন পরিণতি নাই তারপরও Love না Luv এর কারনে তারা Give & Take এ থাকে। হাতিয়ে নওতে চায় টনে টনে চিনি!!!
এদের এমন সম্পর্কগুলো সমাজে একটি বিপজ্জনক বার্তা ছড়াচ্ছে যে , নৈতিকতা দিয়ে কিছু হয় না, Shortcut মারলে Lifestyle lifestyle পাওয়া যায়। এটা একটি পুরো প্রজন্মকে দুর্বল, দায়িত্বহীন ও বিকার গ্রস্ত করে তুলছে।
এরা পেটের ক্ষুধায় এগুলো করে না , এরা করে মনের ক্ষুধায়! status upgrade করতে যেয়ে কোন তলানিতে চলে যায় নিজেরাও জানে না।তাই ইউটিউবার সাংবাদিক ভাইদের বলছি বাইট পাওয়ার জন্য এদের প্রমোট করবেন না, কে জানে এদের মত লাইফস্টাইল পাওয়ার জন্য হয়ত আপনার বাড়ির মেয়েটাই স্বপ্ন দেখবে, পরিনতি যার খুবই ভয়াবহ!!!!
আবার অনেকেই ভাবছেন আমাদের আলেম সমাজকে এইসকল চিনি বাবাদের জাদু আছির করে না, ধারনা সম্পুর্ষ ভুল।এসআলম নামক এক চিনি বাবা চিনির বিনিময়ে বিশাল এক আলেমকে পারিবারিক মুফতি হিসাবে নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশ হতে বিলিয়ন টাকা পাচার করে এক ইসলামী ব্যাংক এর মাধ্যমে কিন্তু চিনি বাবার চিনির বদৌলতে মুফতি সব হালাল করে দিয়ে সহীহ আকিদার ঘোষনাও দিয়েছে। একই চিনি বাবা গুম হওয়া নেতাকেও নিজের পক্ষে বয়ান দেওয়াতে সক্ষম হয়েছে চিনির পাওয়ারে। উঝেন চিনির কত পাওয়ার,চিনি বাবাদের কি কেরামতি।
ভাবছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের নেতারা চিনি খায় না? ২০২৩ সালে বসুন্ধরার আনভীর সুরহান নামক চিনি বাবা যিনি চিনি খাদক মুনিয়া হত্যার আসামী,তাকে চিনিখোর আদর্শবাদি ূলের অযোগ্য নেতা জন্মদিনে ফুল দিয়ে এবছর য়োগ্য নেতাদের চিনির বদৌলতে হারিয়ে নিজেই নমিনেশনের জন্য সিলেক্টেড হয়ে গেছে।
গুম হতে ফেরা আরেক নেতা স্বৈরাচারের দোসর এসআলম গ্রুপের গাড়ি চড়ে তার সম্পদের পাহারাদার বনে গেছে আরেক চিনিখোর নেতা। ওদিকে সর্বজন প্রিয় এক মূফতীও ঐ একই চিনিবানার চিনির কাছে ধরাশায়ী। চিনওর কত পাওয়ার আর চিনি বাবারা কত প্রিয়!!!! ইস চিনি বলে কথা।
শেষে বলতে হয়, চিনি বাবার কেরামতিত বড়ই শক্তিশালী, বিচিত্র, বিপজ্জনক, ভয়ংকর, সমাজ বিধ্বংসী ও নৈতিকতা বিবর্জিত।
আহারে চিনি বাবা!!!!!

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ