4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: “বিকৃত বাউলচর্চা ও জাহেলিয়াতের কবিকুল: একটি পরিত্যাজ্য সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি” > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

“বিকৃত বাউলচর্চা ও জাহেলিয়াতের কবিকুল: একটি পরিত্যাজ্য সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি”

 

ইদানীং কিছু বাউলের আচরণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা সরাসরি স্রষ্টার প্রতি অশ্রদ্ধা ও সীমালঙ্ঘনের সমান। জাহেলিয়াতের যুগে কবিরা যেমন বেপরোয়া, উচ্ছৃঙ্খল ও দায়িত্বহীন আচরণের পরিচয় দিত—আজ সেই একই বৈশিষ্ট্য যেন অনেক বাউলের মধ্যেও প্রকট। এ নিয়ে আল-কুরআনে পূর্বেই সতর্ক করা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন—

وَ الشُّعَرَآءُ یَتَّبِعُهُمُ الْغَاوٗنَؕ
“আর কবিরা! তাদের পেছনে চলে পথভ্রান্ত যারা।”
(আশ-শুয়ারা, আয়াত: ২২৪)

অর্থাৎ কবি—বা বর্তমান ভাষায় যাদের আমরা বাউল বা বিকৃত ধারার গায়ক বলতে পারি—এদের সঙ্গে যারা মেশে, তাদের চরিত্র ও আচার-ব্যবহার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গীদের আদর্শিক জীবন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। উভয় গোষ্ঠীর পার্থক্য এত স্পষ্ট যে একবার চোখ বোলালেই বোঝা যায়, একদিকে রয়েছে নৈতিকতা, শান্ত চরিত্র, সত্যবাদিতা, আমানতদারী, আল্লাহভীতি এবং মানবাধিকারের প্রতি সচেতনতা; অন্যদিকে রয়েছে কামনা–বাসনার উচ্ছ্বাস, অবাধ্যতা, অশ্লীলতা, মিথ্যাচার, বিদ্বেষ ও বিকৃত সংস্কৃতির প্রভাব।

একদল লক্ষ্যভেদী, দায়িত্বশীল ও চরিত্রবান—যাদের জীবনে একটি পবিত্র উদ্দেশ্য রয়েছে; আরেকদল নিমগ্ন থাকে প্রেম-বাজনা, দেহ-লালসা, শরাব, গীবত-বিদ্বেষ, নিন্দা-অভিযোগ, ভাঁড়ামি ও নৈতিকতা-বিবর্জিত আসরে। কবি বা বাউলের আসরে ভিড় করা লোকদের দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়—এরা কামনা-বাসনার দাস, অর্ধ-বর্বর জীবনযাপনে অভ্যস্ত, যাদের কাছে কোনো উচ্চ জীবনাদর্শ টিকেই না।

যদি কেউ এই স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখে উপলব্ধি না করতে পারে, তবে সে অন্ধ। আর যদি সত্য জেনেও কেউ বলে যে মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর সঙ্গীরা কবি বা তাদের অনুসারীদের মতো, তবে সে সীমাহীন মিথ্যাচার করছে।

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন—

اَلَمْ تَرَ اَنَّهُمْ فِیْ كُلِّ وَادٍ یَّهِیْمُوْنَۙ
“তুমি কি দেখো না তারা উপত্যকায় উপত্যকায় উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায়?”
(আশ-শুয়ারা, আয়াত: ২২৫)

অর্থাৎ তাদের চিন্তা, বক্তব্য ও কল্পনা—সবকিছুই দিশেহারা। আবেগ, কামনা বা স্বার্থের প্রতিটি ঢেউয়ে তাদের বক্তব্য রঙ বদলায়। কখনো জ্ঞানবান সাজে, কখনো নীচ-নিকৃষ্ট আবেগে গড়িয়ে পড়ে। সন্তুষ্ট হলে কাউকে আকাশে তুলে, রুষ্ট হলে তাকে মাটিতে পিষে ফেলে। সত্য-মিথ্যার বাছবিচার নেই; নৈতিকতা–অনৈতিকতা, পবিত্রতা–অপবিত্রতা, হাসি–ঠাট্টা, প্রশংসা–নিন্দা—সবকিছু একই কণ্ঠে সঙ্গী হয়ে যায়।

এ কারণেই রাসূল (সা.)–কে কবির সাথে তুলনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাঁর বাণী পরিমিত, লক্ষ্যভেদী, সত্য ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর কণ্ঠ থেকে কখনো অসত্য বা অর্থহীন কিছু বের হয়নি।

আল্লাহ তায়ালা বলেন—

وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشَّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ
“আমি তাঁকে কবিতা শিখাইনি এবং এটা তাঁর করার মতো কাজও নয়।”
(ইয়াসিন, ৬৯)

বিশ্বস্ত হাদীসসমূহে প্রমাণ রয়েছে—নবী (সা.) কবিতা মুখস্থ করার চেষ্টা করলেও কখনো যথাযথভাবে তা পাঠ করতে পারতেন না। অর্থাৎ তাঁর মেজাজ কবিত্ব থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। তিনি কবিতা অপছন্দ করতেন, যদিও ভালো কবিতার প্রশংসা করতেন।

আরবে কবিতার প্রচলিত বিষয় ছিল শরাব, নারী, অবৈধ প্রেম, যুদ্ধবিগ্রহ, বংশীয় অহংকার, মিথ্যা, অতিরঞ্জন ও নানা বিকৃততা। এসব কবিতা সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন—

لأنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ أَحَدِكُمْ قَيْحًا خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِى شِعْرًا
“তোমাদের কারো পেট পুঁজে ভরা থাকা কবিতায় ভরা থাকার চেয়ে ভালো।”

তবুও সত্যভিত্তিক, কল্যাণকর কবিতা তিনি প্রশংসা করতেন।

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন—

وَ اَنَّهُمْ یَقُوْلُوْنَ مَا لَا یَفْعَلُوْنَۙ
“এবং এমনসব কথা বলে যা তারা করে না।”
(আশ-শুয়ারা, আয়াত: ২২৬)

এটাই ছিল কবি ও বাউলদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য—বক্তব্য ও কর্মে অসামঞ্জস্য। তাদের জিহ্বায় দানশীলতার প্রশংসা, কর্মে কৃপণতা; মুখে বীরত্ব, কাজে কাপুরুষতা; কথায় নীতিবোধ, কাজে লালসা ও স্বার্থপরতা।

অপরদিকে নবী (সা.)–এর কথা ও কাজ ছিল পরিপূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ—যা তিনি বলতেন তাই করতেন, আর যা করতেন তাই বলতেন। তাই কবি ও বাউলদের এই ভ্রান্ত ধারাকে ইসলাম স্পষ্টতই পরিত্যাজ্য ঘোষণা করেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...