4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: মুসলমানদের মাঝে বিভেদ তৈরীর নীল নকশায় মুসলমানরাই জড়িত > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫

মুসলমানদের মাঝে বিভেদ তৈরীর নীল নকশায় মুসলমানরাই জড়িত



মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরির নীল নকশা: একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত

মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি আজ নতুন কিছু নয়। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো—এই বিভক্তির নীল নকশা বাস্তবায়নে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় মুসলমানরাই অনেক সময় ভূমিকা রাখছে। দীপা মনি নামের একজনের লেখায় যে চিত্র পাওয়া যায়—তা ইহুদি রাব্বিদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও তার সুস্পষ্ট সফলতার দৃষ্টান্ত।


ইহুদিদের সুদীর্ঘ প্রস্তুতি

আরব উপদ্বীপে ইহুদিরা আরবদের চাইতেও ভালোভাবে আরবি জানে। কারণ তাদের শিশুরা শৈশব থেকেই বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রশিক্ষিত হয়।
ইহুদিদের রয়েছে হিউম্যান রিসোর্স ব্যবস্থাপনার বিশাল আন্তর্জাতিক গবেষণাভিত্তিক অর্গানাইজেশন। সেখানে ধর্ম, মানবমনের আচরণ, মনস্তত্ত্বসহ প্রচুর গবেষণা জমা আছে।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকা—সব জায়গায় তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক মুসলিম জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি দেশে তাদের সক্রিয় তৎপরতা চোখে না পড়লেও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।


তাদের কৌশল—অদৃশ্য কিন্তু কার্যকর

ইহুদিদের কার্যক্রম আপনি সহজে ধরতে পারবেন না।
বাংলাদেশে কোনো পীর জনপ্রিয় হলে তারা প্রথমে মুসলিম পরিচয়ে মুরিদ হিসেবে যুক্ত হয়।

তারপর পীর সাহেবকে উৎসাহ দিয়ে বলে:
“হুজুর, আপনি বড় পীর। আপনার সুনাম সর্বত্র। এ খানকা বড় করে না তুললে ভবিষ্যতের ওরশ আয়োজন কঠিন হবে। আমরা আপনার জন্য ১০ কোটি টাকা জোগাড় করেছি। খানকা তৈরিতে ব্যবহার করুন।”

এভাবে পীরের মনে অহংকার ঢোকায়।
তারপর আরাম–আয়েশে অভ্যস্ত করে তার হৃদয়ে প্রবেশ করে তাকে ধীরে ধীরে ভুল পথে টেনে নেয়। সাধারণ মুরিদরা বুঝতেই পারে না যে তাদের পীরকে নীরবে ছিন্নভিন্ন করা হচ্ছে।


আহলে হাদিসের কাছে আরেক রূপ

এবার তারা যায় আহলে হাদিসদের কাছে। অত্যন্ত দরদী হয়ে বলে:
“আপনারাই সঠিক পথে আছেন। কিন্তু আপনারা প্রচার করছেন খুব কম। আমাদের মন কেঁদে ওঠে। নিন ২ কোটি টাকা—এই বইগুলো ছাপিয়ে প্রচার করুন।”

আহলে হাদিসও খুশি হয়—কারণ তারা স্বেচ্ছায় দীন প্রচারে নিজেদের সর্বস্ব ব্যয় করতে প্রস্তুত। কিন্তু এই সুযোগেই ইহুদিরা তাদের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ জিইয়ে রাখে—এবং বিশ্বব্যাপী সফল হয়।


পরবর্তী টার্গেট—কওমী উলামা

এরপর তারা কওমীদের কাছে গিয়ে আবার অন্য কথা বলে:
“জামাতীদের আকিদা বিপজ্জনক। এখনই তাদের বিরুদ্ধে ওয়াজ, মাহফিল, বই–কিতাব রচনা না করলে আপনারাই একসময় বিলুপ্ত হবেন। নিন ১ কোটি টাকা, নিন তথ্য—বই আকারে ছাপিয়ে দিন।”

সেখানে আবার তারা সফল হয়।
সব কাজ তারা সর্বোচ্চ খাঁটি মুসলিম সেজে করে।


জামায়াতিদের ক্ষেত্রে আরেক কৌশল

জামায়াতের কাছে গিয়ে বলে:
“প্রচলিত ধারায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব না। গণতন্ত্র চর্চা করুন। অমুসলিম শাখা খুলুন। বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা বাড়ান। ক্ষমতায় গিয়ে সব ঠিক করবেন। এখন শরীয়তে কিছু ছাড় দিন—মক্কী যুগেও তো এমন হয়েছিল।”

জামায়াতও খুশি হয়ে এইসব পথে হাঁটে—ফলে পূজায় যাওয়া, অমুসলিম শাখা খোলা—সবই স্বাভাবিক হয়ে যায়।


সর্বোচ্চ সফলতা—সালাফি গ্রুপে অনুপ্রবেশ

ইহুদিরা সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছে সালাফিদের ক্ষেত্রে।
কারণ এখানে তারা ছোটকাল থেকেই মুসলিম পরিচয়ে মাদরাসায় পড়ে, মুসলিম ডিগ্রি নেয়, মুসলিম আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর বিভিন্ন মাসআলা ও ফিকহী মতবিরোধে এমন গোলকধাঁধা তৈরি করে—যা আজ বিশাল বিশ্বকোষের মতো জটিল।

আপনি বড় মুহাদ্দিস হলেও তাদের सामने কঠিন হয়ে যায়।
তাদের জ্ঞানে, তীক্ষ্ণতায়, প্রস্তুতিতে তারা ভয়ঙ্কর।

এ খাইবারের ফিতনা কিয়ামতের আগে মুসলিম উম্মাহকে গভীর সংকটে ফেলবে।


মিশরের উদাহরণ—ইয়াসির বুরহামি

মিশরের এক সালাফি আলেম ইয়াসির বুরহামি—জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন।
কিন্তু তিনিই নির্বাচিত মুসলিম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সিসির হাতে শক্তি জুগিয়েছিলেন।
তার পক্ষে ২৫ শতাংশ ভোটও পড়েছিল।

আজ সেই মোল্লা ফতোয়া দিচ্ছেন—
“ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জায়েজ নয়। কারণ চুক্তি আছে।”

এটাই প্রমাণ করে—দাড়ি বা কপালের দাগ দেখে কাউকে সমর্থন করার প্রয়োজন নেই।
মনন, কর্ম ও নীতি দিয়ে বিচার করতে হয়।


ইতিহাসেও এমন হয়েছিল

ঠিক এ রকম ভূমিকা পালন করেছিলেন কিছু লোক—
যেমন হোসাইন মাদানী–ও, ফরিদ উদ্দিন মাসুদের মতো কিছু আলেম, যারা শেখ হাসিনার সাথে যুক্ত ছিলেন—আজ পালিয়ে আছেন।
কফিলউদ্দিন, রুহুল আমিন—এধরনের হাজারো মানুষ দেশের ভেতরে সক্রিয়।

মুসলমানদের পতন শেষ পর্যন্ত মুসলমানরাই ডেকে আনবে—ফিতনার মধ্য দিয়ে।
এবং সেই সময় খুব কাছে।


শেষ কথা

| মুসলমানদের বিভেদ আজ কাকতালীয় নয়—এটি সুস্পষ্ট নীল নকশা।
| মুসলমানদের সরলতা, আবেগ, বিভক্তি—সবকিছু কাজে লাগাচ্ছে ইহুদি কৌশল।
| আমরা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছি—এটাই মর্মান্তিক।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...