4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: ১৭ নভেম্বর ভয়াল নানিয়ারচর গণহত্যা দিবস > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

১৭ নভেম্বর ভয়াল নানিয়ারচর গণহত্যা দিবস


 

১৭ নভেম্বর ভয়াল নানিয়ারচর গণহত্যা দিবস : তিন দশক পরও বিচারহীনতা, ভুক্তভোগীদের আহাজারি একই রয়ে গেছে

আজ ১৭ নভেম্বর—পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে কলঙ্কে ভরা এক শোকাবহ দিন।
১৯৯৩ সালের এই দিনটি রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় বাঙ্গালীদের ওপর শান্তিবাহিনীর (বর্তমান জেএসএস) পরিকল্পিত গণহত্যার দিন হিসেবে স্মরণ করা হয়।
আজ সেই নৃশংস ঘটনার ৩২ বছর পূর্তি। এই হত্যাযজ্ঞকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে ১৯তম ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

গণহত্যা ভুলে গেছে জাতি, দুঃসহ স্মৃতি বহন করে পরিবারগুলো

দীর্ঘ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও নানিয়ারচর গণহত্যায় নিহতদের জন্য আজও রাষ্ট্রীয় কোনো বিচার হয়নি।
৪৯ জনেরও বেশি নিরস্ত্র বাঙ্গালীকে হত্যা, নারীদের গণধর্ষণ ও হত্যা, ১৫০–২০০ জনকে আহত করার ভয়াল ঘটনাটি ক্রমেই ভুলে যাচ্ছে পার্বত্য বাঙ্গালীরা।

সেদিন কী ঘটেছিল?

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল—পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙ্গালীদের উৎখাত করে পাহাড়কে বাঙ্গালীশূন্য করা।
সেসময় তাদের পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হামলায় পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ৩৫ হাজার বাঙ্গালী প্রাণ হারান বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়। এরা সবাই ছিলেন নিরস্ত্র ও সাধারণ মানুষ।

গণহত্যার পর নানিয়ারচর থেকে ২১৮টি পরিবার ভয়ে সমতলে পালিয়ে যায়।
রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও প্রশাসন সেদিন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, আর সমগ্র নানিয়ারচর পরিণত হয় সন্ত্রাসের জনপদে।

বুধবারের সাপ্তাহিক হাট — যে দিনটি পরিণত হয়েছিল মৃত্যুকূপে

১৭ নভেম্বর দিনটি ছিল সাপ্তাহিক হাটবাজারের দিন।
শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ শত শত মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বাজারে এসেছিল। সেই সময় পার্বত্য গণপরিষদের ব্যানারে শান্তিবাহিনীর নির্যাতনের প্রতিবাদে এক বিশাল মিছিল হয়—যার নেতৃত্বে ছিলেন আহমেদ মিয়া এবং আবদুল লতিফ।

মিছিলে ছিলো কয়েক হাজার বাঙ্গালী, যারা শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের দাবি জানাচ্ছিল।
মিছিল শেষে কৃষি ব্যাংকের সামনে সমাবেশের সময়襲突 শুরু হয়।

১৩টি এলাকার উগ্র উপজাতিদের সমন্বিত হামলা

বেতছড়ি, ছয়কুড়িবিল, মাইচ্ছড়ি, গবছড়ি, তৈচাকমা, বড়াদমসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত উগ্র উপজাতিরা জেএসএসের নেতৃত্বে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ১৩২টি বাঙ্গালী ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ছাই করে দেয়।

নেতৃত্বে ছিলেন সন্তু লারমা — প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়াবহ বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী—
সন্তু লারমা নিজেই এই গণহত্যার নেতৃত্ব দেন।
তার সাথে ছিলেন ফনি ভূষণ চাকমা, শোভাপূর্ণ চাকমা ও বীরেন্দ্র চাকমা।
৭৭ জন জেএসএস সন্ত্রাসী এই হত্যাযজ্ঞে অংশ নেয়।

সন্তু লারমার বাড়ি ছিল নানিয়ারচরেই।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি সেদিন ১৩ মাস বয়সী নুর কায়েদা নামের শিশুকে পিষে হত্যা করেন এবং শিশুটির মাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করেন।

আহত বাঙ্গালীদের অনেককে পশুর মতো জবাই করে হত্যা করা হয়।
অনেকে প্রাণ বাঁচাতে কাপ্তাই লেকে ঝাঁপ দিলেও জেএসএস সন্ত্রাসী ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।
দোকান, ঘরবাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মানুষকে হত্যা বা পুড়িয়ে মারা হয়।

পরবর্তীতে রাঙ্গামাটি থেকে আগত লঞ্চের যাত্রীদের ওপরও হামলা চালানো হয়, যেখানে মু‌ল্লা আনিসুজ্জামানকে হত্যার পর তার লাশ গুম করা হয়।

মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ৪৯ জন নিহত, গুম, আগুনে পুড়িয়ে গৃহহারা ২০০-এর বেশি পরিবার

নানিয়ারচর গণহত্যায়—

  • ৪৯ জনের বেশি নারী, শিশু ও বৃদ্ধ নিহত হয়,

  • অধিকাংশ লাশ গুম করা হয়,

  • ১৫০–২০০ জন আহত,

  • শত শত মানুষ অপহৃত,

  • ২০৪টি বাড়ি লুটপাটের পর সম্পূর্ণ পুড়িয়ে ফেলা হয়,

  • হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়

লাশ পুড়িয়ে একত্রে ফেলা হয়—মুসলিম ধর্মীয় রীতিকে উপহাস করে।

গণমাধ্যম তখন নীরব ছিল

বাঙ্গালী লেখক না থাকায় এসব ভয়াবহ গণহত্যা ইতিহাসে সেভাবে স্থান পায়নি।
তৎকালীন গণমাধ্যম জেএসএসের ভয়ে সত্য প্রকাশ করত না।
পাহাড়ে গণমাধ্যম প্রবেশেও ছিল কড়া সেন্সর।

তবুও নানা প্রতিকূলতা ভেদ করে ঘটনাটি প্রকাশ করে দৈনিক ইত্তেফাকদৈনিক ইনকিলাব

অবশেষে ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ : বিচার চাই

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সুরুজ মিয়া (৮১), ফয়জ আলী (৭৯) ও আনোয়ার মোল্লা (৮৪)—
যারা মৃত্যুভয়ে পরদিনই ময়মনসিংহে পালিয়ে গিয়েছিলেন—
এখনো ঘটনাটি মনে করলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

তাদের একটাই দাবি—
নানিয়ারচর গণহত্যার বিচার হোক, নিহত পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...