4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: ইসলামে গান-বাদ্য হারাম—কুরআন, হাদীস ও সালাফদের স্পষ্ট দলিলসমূহ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫

ইসলামে গান-বাদ্য হারাম—কুরআন, হাদীস ও সালাফদের স্পষ্ট দলিলসমূহ

 






ইসলামে গান-বাদ্য হারাম—কুরআন, হাদীস ও সালাফদের স্পষ্ট দলিলসমূহ

ইদানীং কিছু মানুষ দাবি করে থাকে যে ইসলামে গান-বাদ্যের হারাম হওয়ার কোন স্পষ্ট দলিল নেই। কিন্তু কুরআন, সহীহ হাদীস, সাহাবা-তাবেয়ীদের ব্যাখ্যা এবং চার ইমামের ফিকহ—সব মিলিয়ে বিষয়টি এত স্পষ্ট যে, এ দাবি বাস্তবতার সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গত।
এখন আমরা দলিলগুলো ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা করি।

কুরআন করীমের স্পষ্ট দলিল

১. সুরা লুকমান : আয়াত ৬

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا ۚ أُولٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ

অর্থ:
“মানুষের কেউ কেউ রয়েছে যারা লাহওয়াল হাদীস (মনোমুগ্ধকর অর্থহীন কথা) ক্রয় করে, যেন জ্ঞান ছাড়া আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং আল্লাহর দীনকে ঠাট্টা-বিদ্রূপে পরিণত করতে পারে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব।”

শানে নুযূল (কারণে অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা)

নজর ইবনে হারিস বিদেশ থেকে এক গায়িকা দাসী কিনে এনে তাকে গান-বাজনা পরিবেশনের দায়িত্ব দেয়। কেউ যখন কুরআন শুনতে চাইত, সে বলত—
“মুহাম্মদ তোমাদের নামাজ-রোজা আর কষ্টের কথা বলেন। বরং এসো, গান শুনো, জীবন উপভোগ কর।”
এর প্রেক্ষিতে এই আয়াত নাজিল হয়। (মাআরিফুল কুরআন ৭/৪)

সাহাবা ও তাবেয়ীদের সরাসরি ব্যাখ্যা

‘লাহওয়াল হাদীস’ বলতে গান—এ কথা বহু সাহাবীর ইজমা-সদৃশ বক্তব্য।

  • ইবনে মাসউদ রা. বলেন: “আল্লাহর কসম! এখানে গানই বোঝানো হয়েছে।”

  • একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
    – ইবনে আব্বাস রা.
    – ইবনে উমর রা.
    – সাঈদ ইবনে জুবাইর
    – হাসান বসরী
    — তাফসীর ইবনে কাসীর ৩/৪৪১

শয়তানের আওয়াজ = গান-বাদ্য

আল্লাহ বলেন—
“তুমি (ইবলিস) তোমার আওয়াজ দিয়ে তাদেরকে বিপথে টান।” (সূরা ইসরা : ৬৪)

ব্যাখ্যায়—

  • ইবনে আব্বাস রা.: “পাপের দিকে ডাকে এমন সবকিছুই শয়তানের আওয়াজ।”

  • মুজাহিদ রাহ.: “এর অর্থ গান ও বাদ্যযন্ত্র।”

  • ইবনুল কাইয়্যিম রাহ.: “পাপের প্রতি আহ্বানে সর্বোচ্চ শক্তিশালী উপাদান হল গান-বাদ্য।”
    — ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯

গান-বাদ্যের ক্ষতি—সালাফদের দৃষ্টিতে

ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. গান-বাদ্যের যে ক্ষতিগুলোর আলোচনা করেছেন, সেগুলোর মধ্যে প্রধান হলো—

  • নিফাকের উৎস

  • ব্যভিচারের প্রেরণা

  • চিন্তাশক্তির অবরোধ

  • কুরআন থেকে গাফেল করা

  • আখিরাত ভুলিয়ে দেওয়া

  • গোনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি

  • জিহাদী চেতনা ধ্বংস

— ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭

সহীহ হাদীসসমূহের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

১. গায়িকা দাসী ও গান শিক্ষার হারাম হওয়া

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“তোমরা গায়িকা দাসী ক্রয়-বিক্রয় করো না, তাদের গান শিক্ষা দিও না। এতে কোন কল্যাণ নেই। এদের উপার্জন হারাম।”
— তিরমিযী: ১২৮২, ইবনে মাজাহ: ২১৬৮

২. বাদ্যযন্ত্র মদের মতো হালাল মনে করা হবে

“আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে পান করবে। তাদের মাথার উপর গায়িকা নারীদের গান ও বাদ্যযন্ত্র বাজবে। আল্লাহ তাদেরকে ভূমিতে ধ্বসিয়ে দেবেন।”
— ইবনে মাজাহ: ৪০২০

৩. গান থেকে নিফাক জন্মায়

ইবনে মাসউদ রা. বলেন—
“যেমন পানি তৃণলতা জন্মায়, গান মানুষের অন্তরে নিফাক জন্মায়।”
— ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩

৪. সহীহ বুখারীর দলিল (সুস্পষ্ট হারাম)

রাসূল ﷺ বলেন—
“আমার উম্মতের এমন লোক আসবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল করবে।”
— সহীহ বুখারী: ৫৫৯০

৫. বাদ্যযন্ত্র উচ্ছেদ করার নির্দেশ

“আল্লাহ আমাকে হিদায়াত ও রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং বাদ্যযন্ত্র, ক্রুশ এবং জাহেলি প্রথা ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন।”
— মুসনাদে আহমদ

সাহাবাদের বাস্তব আমল

ইবনে উমর রা.

একবার বাঁশির শব্দ শুনে তিনি দুই কানে আঙুল ঢুকিয়ে নিলেন, যতক্ষণ না শব্দ শেষ হয়। এবং বললেন—
“রাসূল ﷺ-ও এভাবেই করেছিলেন।”
— মুসনাদে আহমদ ৪৫৩৫; আবু দাউদ: ৪৯২৪

ঘণ্টা-ঘুঙুর সম্পর্কে সতর্কতা

হযরত আয়েশা রা. বলেন—
“যে ঘরে ঘণ্টি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।”
— আবু দাউদ: ৪২৩১

রাসূল ﷺ বলেন—
“ঘণ্টা শয়তানের বাদ্যযন্ত্র।”
— সহীহ মুসলিম: ২১১৪

চার ইমামের ফিকহী সিদ্ধান্ত

ইমাম মালেক রাহ.

“গান-বাদ্য কেবল ফাসিকরা করে।” — কুরতুবী ১৪/৫৫

ইমাম শাফেয়ী রাহ.

“গান-বাদ্য শুননেওয়ালা ফাসেক; তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।”
— ইগাছাতুল লাহফান ১/১৭৯

ইমাম আহমদ রাহ.

“বাদ্য ছাড়াই গান মাকরূহে তাহরীমী; বাদ্যসহ হলে হারাম।”
— আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৮৮

ইমাম আবু হানীফা রাহ.

তাঁর কঠোরতম অবস্থান:
গান-বাদ্য হারাম, এবং এ কাজে লিপ্ত ব্যক্তি ফাসেক।

দফের (দাফ) বিধান—বাদ্যযন্ত্র নয়

হাদীসে ওলীমা ঘোষণা করার জন্য শুধু দফের অনুমতি এসেছে।
আসল দফ—

  • একপাশ খোলা

  • সুরেলা বা আকর্ষণীয় নয়

  • প্লাস্টিকের পাত্রের মতো ভোঁতা শব্দ

আওনুল বারী ২/৩৫৭ অনুসারে,
“যখন দফের আওয়াজ সুরেলা হয়ে যায়, তখন তা আর দফ থাকে না; বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হয় এবং হারাম হয়।”

সুফীদের কাওয়ালি-যুক্তি খণ্ডন

কিছু সুফী দুটি বালিকার দফ বাজানোর হাদীসকে দলিল মনে করেন।
কিন্তু—

  • আয়েশা রা. স্বয়ং বলেছেন:
    “তারা গায়িকা ছিল না, কোনো গান গায়নি।” — ফাতহুল বারী ২/৪৪২

  • ইমাম কুরতুবী বলেন:
    বর্তমান যুগের সুরেলা বাদ্যসহ কাওয়ালি সম্পূর্ণ হারাম। — তাফসীর কুরতুবী ১৪/৫৪

  • জুনাইদ বাগদাদী রাহ. কাওয়ালি শোনা বন্ধ করেছিলেন।

বিশদ তাফসীর: লাহওয়াল হাদীস = গান-বাদ্য

ইবনে হিশাম, ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, ইকরিমা, হাসান বসরী প্রমুখ একমত—
লাহওয়াল হাদীস = গান

ইবনে জারীর, ইবনে আবি শাইবাহ, হাকেম, বায়হাকী—
সবখানেই একই ব্যাখ্যা।

হাদীস:
“গায়িকা দাসীর কেনাবেচা, গান শেখানো, দান গ্রহণ—সবই হারাম।”
— তিরমিযী, ইবনে আবি হাতেম

আরেক হাদীস—
“গায়িকার গান শুনলে কিয়ামতে তার কানে গরম সীসা ঢালা হবে।”
— ইবনুল আরাবী, আহকামুল কুরআন

গান-বাদ্যের পেছনে শয়তানের কৌশল

ইতিহাসে দেখা যায়—
কাফিররা সব যুগে জনগণকে গান-বাদ্য, নাটক, গল্পে মাতিয়ে সত্য থেকে দূরে রাখতে চেয়েছে।
নজর ইবনে হারিসের উদাহরণ তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

আজও একই কৌশল:

  • গান

  • নাচ

  • চলচ্চিত্র

  • বদচরিত্র প্রসারকারী শিল্পসংস্কৃতি

এসবের মাধ্যমে মানুষকে কুরআন, আখিরাত ও নৈতিকতার চিন্তা থেকে বিচ্যুত করা হয়।

শেষ কথা

কুরআন, সহীহ হাদীস, সাহাবা-তাবেয়ীদের বক্তব্য, চার ইমামের ফিকহ—সব মিলিয়ে এক সিদ্ধান্তই স্পষ্ট:

গান-বাদ্য ইসলামে হারাম।

এ বিষয়ে দলিল এতই প্রাবল্যপূর্ণ যে, এর পর আর কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই।

আশা করি আর দলিল লাগবে না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...