নারীর পর্দা—সমাজ, পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে এক গভীর বাস্তবতা
নারীর পর্দা নিয়ে আমরা অনেক সময় কোরআন–হাদীসের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকি। কিন্তু আজ আমি কোরআন–হাদীস উল্লেখ না করে—যুক্তি, বাস্তবতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু প্রশ্ন ও উপলব্ধি সামনে আনতে চাই। সম্মানিত মা-বোনেরা—অনুগ্রহ করে মনোযোগ দিয়ে একবার ভেবে দেখবেন।
১. আপনারা কেন বুঝতে পারছেন না যে আপনারা সুরক্ষিত, মূল্যবান ও আল্লাহর বিশেষ রহমত?
নারী সৃষ্টি নিজেই এক অপূর্ব রহমত ও সম্মানের প্রতীক। এই বিশেষ মর্যাদাকে রক্ষার জন্যই পর্দা—যা আপনাদের সুরক্ষা, সম্মান ও মর্যাদার ঢাল।
২. আপনি কি কখনো ভেবেছেন—আপনারাই দুনিয়ার সকল পুরুষের মা?
আজ পৃথিবীতে যে হাজারো মানুষ—তারা কারও না কারও গর্ভে লালিত। প্রতিটি মহান মানুষের পেছনে ছিলেন একজন মা। তাই আপনার মর্যাদা আসলে সমগ্র মানবজাতির সম্মানের সমান।
৩. আপনাদের গর্বেই জন্ম হয়েছে সকল মনীষী, মহানায়ক, নবী-রাসূল—এ কথা কি ভুলবেন কেন?
ইতিহাসের প্রতিটি মহান ব্যক্তিত্বের সূচনা এক মায়ের হৃদয় ও গর্ভ থেকেই। এ মর্যাদা যে কত বড়—তা ভেবে দেখলেই পর্দার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা যায়।
৪. আপনি যে শরীরের অংশ বেপর্দাভাবে প্রকাশ করেন—তা যে মানবজাতির সৃষ্টি ও লালনের কেন্দ্র—এটা কি জানেন না?
নারীর শরীরের অতি মূল্যবান অঙ্গগুলো মানবসৃষ্টির অপরিহার্য কেন্দ্র। যা যত মূল্যবান, তাকে তত সংরক্ষণ করা হয়—এটাই তো স্বাভাবিক নিয়ম।
৫. মা হিসেবে আপনি কেন আপনার পবিত্র দেহ পরপুরুষের সামনে প্রকাশ করে অপবিত্র করবেন?
একজন সন্তান তার মাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় দেখে। মা যদি নিজেকে বেপর্দা করে চোখের জিনার সামনে উপস্থাপন করেন—সন্তানের চোখে তার সেই পবিত্রতার মর্যাদা নষ্ট হয় না কি?
৬. সব মা-ই নেককার, দ্বীনদার সন্তান চান—কিন্তু যে গর্ভ চোখের জিনায় অপবিত্র, তা কি পবিত্র সন্তান জন্ম দিতে পারে?
চোখের জিনা প্রথম নৈতিক দূষণ। নৈতিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রভাব পড়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মেও। তাই পবিত্র সন্তান চাইলে প্রথমে মায়ের গর্ভই পবিত্র হওয়া জরুরি।
৭. পবিত্র স্তনদুগ্ধে সন্তান বেড়ে ওঠে—কিন্তু সে স্তন যদি চক্ষুর জিনায় অপবিত্র হয়, তবে কি সন্তান পবিত্র থাকতে পারে?
যে অঙ্গ সন্তানের পুষ্টি ও বিকাশের উৎস, তা যদি মানুষের কুদৃষ্টি দ্বারা অপবিত্র হয়—সন্তানের চরিত্র, মানসিকতা ও নৈতিকতা তাতে প্রভাবিত না হবে কেন?
৮. আপনার কারণে পবিত্র অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অপবিত্র হলে এবং সমাজে চোর, বাটপার, জেনাখোর জন্ম নিলে—আপনি কি দায়মুক্ত?
প্রতিটি চরিত্রহীন মানুষের পিছনে একটি নৈতিকভাবে ভেঙে পড়া পরিবার থাকে। মা নিজেকে রক্ষা না করলে, সন্তানও চরিত্রের দিক থেকে দুর্বল হয়ে যায়।
৯. আপনার গর্ভে জন্ম নেয়া অপবিত্র চরিত্রের সন্তান যদি পরবর্তীতে আরেকজন নারীকে ধর্ষণ করে—আপনার কি অপরাধবোধ হয় না?
সমাজে যে অপরাধ জন্ম নেয়, তা কেবল আইনের ব্যর্থতা নয়—বরং নৈতিক অবক্ষয়ের ফসল। আর নৈতিকতা শুরু হয় মা থেকে।
১০. যেসব পবিত্র অঙ্গ থেকে নবী-রাসূল, মনীষী, মহান ব্যক্তিত্ব জন্ম নেন—সেগুলোকে কেন অকারণে প্রকাশ করে অপবিত্র করছেন?
এ অঙ্গগুলোর পবিত্রতা রক্ষাই মানবিক মর্যাদার দাবি। পরপুরুষের দৃষ্টি এগুলোকে অপবিত্র করে—এটা ভাবলেও লজ্জা জাগার কথা।
১১. কেন আপনার সম্মানিত শরীরটিকে অপবিত্র হতে দিচ্ছেন?
আপনার দেহ পবিত্র। আপনি পবিত্র। আপনার মর্যাদা অমূল্য। বেপর্দা হওয়া মানে সেই মর্যাদাকে নিজেই ক্ষুণ্ন করা।
**১২. মনে রাখুন—বদনজর লাগা লাউ, কুমড়া বা ফল যেমন অকার্যকর হয়ে যায়, তার বীজ থেকেও আর চারাগাছ জন্মায় না—
তেমনি চক্ষুর জিনায় আক্রান্ত মা-বোনদের গর্ভেও সুস্থ ও নেক সন্তান জন্ম নেওয়া কঠিন।**
পবিত্রতা শুধু শারীরিক নয়—এটি মানসিক, নৈতিক ও আত্মিক বিষয়। একজন মা যত পবিত্র, তাঁর সন্তানও তত নেককার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সম্মানিত মা-বোনেরা,
আপনারা আপনার মর্যাদা উপলব্ধি করুন।
আপনারা নিজেকে রক্ষা করলে—আপনার পরিবার, সমাজ, জাতি রক্ষা পাবে।
আপনারা পর্দা করলে—আপনারা সম্মান পাবেন, নিরাপত্তা পাবেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পবিত্র ও নৈতিক পথে বড় হবে।
নিজেকে পবিত্র রাখুন—জাতিকে পবিত্র উপহার দিন।
রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, বাস-ট্রেন—সকল স্থানে পর্দা করুন।
আপনার পর্দা আপনার মর্যাদা, আপনার সম্মান, আপনার নিরাপত্তা, আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ।
ডা. বশির আহাম্মদ

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ