আসলে আলকোরআন আল্লাহর কিতাব এটার প্রমান হাজারো আছে, নিচে কয়েকটি দেওয়া হলো,
তোমারা যারা আল-কোরআনকে অস্বীকার করো
অথবা আল-কুরাআন নিয়ে যাদের সন্দেহ আছে, তোমরা কখনো কি আল-কুরআন খুলে দেখেছ?
আল-কুরআনের আয়াতগুলো কখনো অনুধাবন করার চেষ্টা করেছ? তোমাদেরকে আমি আহবান করছি,
আগে সম্পূর্ণ কুরাআন বাংলা আর্থসহ পড়ে দেখ। তারপর তুমি তোমার সিদ্ধান্ত গহন করো।
যদি তুমি মানুষ হয়ে থাকো এবং যদি তোমার হিতাহিত জ্ঞান থাকে তবে তুমি অবশ্যই
আল-কুরআনের সত্যতা স্বীকার করবে।
কুরআন বিজ্ঞানের বাইরে কিছু নয়। কুরআন এবং বিজ্ঞানকে আলাদা করার কিছু নেই।
আল-কোরআনে ছয় হাজারেরও বেশি নিদর্শনস্বরুপ আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে যার মধ্যে এক
হাজারেরও বেশি আয়াত বিজ্ঞানের বিষয়বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করে নাযিল হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি যা জানতে পেরেছে সেসব কথা আরো ১৪০০ আগেই কুরআনে উল্লেখ করা
হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞানের অনেক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়। কুরআনের যেসব
আয়াতের বৈজ্ঞানিক সত্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে অবশ্যই একদিন তা সত্য বলে প্রমানিত হবে।
দিন ও রাত্রির বিবর্তন সম্পর্কে:
"তুমি কী দেখো না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে
রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন।" (লুকমান: ২৯)।
পৃথীবির আকৃতি সম্পর্কে:
"এবং আল্লাহ পৃথিবীকে ডিম্বাকৃতি করে তৈরি করেছেন" (আন-নাবিয়াত: ৩০)।
বিশ্বের উত্পত্তি ও বিগ ব্যাঙ সম্পর্কে:
"কাফেররা কী দেখে না যে, আকালমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল (সৃষ্টির একটা
অংশ হিসেবে) অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম।" (আম্বিয়া: ৩০)।
"তারপর তিনি আকাশের দিকে মনযোগ দিলেন যা ছিল ধূমপুঞ্জ, তিনি তাকে এবং
পৃথিবীকে বললেন, তোমরা আস ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায়
এলাম।" (হামীম মাজদাহ: ১১)।
সূর্য ও চাঁদের আলোর পার্থক্য সম্পর্কে:
"কল্যানময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন
সূর্য ও দীপ্তিময় চঁন্দ্র।" (আল-ফুরকান: ৬১)।
"তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সূর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চাঁদকে
স্নিগ্ধ আলো বিতরনকারীরুপে। (ইউনুস-৫)।
সূর্যের ও পৃথীবির আবর্তন সম্পর্কে:
"তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে
বিচরণ করে।" (আম্বিয়া-৩৩)।
"সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি আগে চলে না দিনের। প্রত্যেকেই
আপন আপন কক্ষপথে প্রদক্ষিন করে।" (ইয়াসিন:৩৩)।
"সূর্য আবর্তন করে তার নির্দিষ্ট অবস্থানে। এটা পরাক্রমশীশ সর্বজ্ঞ আল্লাহর
নিয়ন্ত্রনে।"
মহাবিশ্বের সম্প্রসারন সম্পর্কে:
"আমি নিজ হাত দ্বারা আকাশ নির্মান করেছি এবং আমিই এর সম্প্রসারনকারী"
(যারিয়াত: ৪৭)
এখানে উল্লেখ করা দরকার, খ্যাতনামা
বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার 'সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস' (A Brief History Of Time)
নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, "মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে"।
পানি বাষ্পে পরিনত হওয়া সম্পর্কে:
"আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি, অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষন করি, অতঃপর
তোমাদেরকে তা পান করাই।" (হিজর: ২২)।
পানি, বৃষ্টি ও বায়ু সম্পর্কে:
"তুমি কি দেখনা যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত
করেন, অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখ যে, তা হতে বৃষ্টিনারা নির্গত
করেন।" (আন-নূর: ৪৩)
এজাড়াও সুরা ত্বারিক ১১, রাদ ১৭, ফুরকান ৪৮,৪৯, ফাতির ৯, আরাফ ৫৭, ইয়াসীন ৩৪, জামিয়া
৫, কাফ ৯,১০,১১, ওয়াক্বিয়া ১৯ উল্লেখযোগ্য।
পাহাড় পর্বতের পেরেক সাদৃশতা সম্পর্কে:
"আমি কি ভূমিকে বিছানা করিনি, এবং পর্বতমালাকে পেরেক তৈরি করিনি" (নাবা:
৬-৭)
"আমি পৃথিবীতে ভারি বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে।"
(আম্বিয়া: ৩১)
সুমুদ্র, মিষ্টি ও লবনাক্ত পানি সম্পর্কে:
"তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন, উভয়ের মাঝখানে রয়েছে অন্তরাল, যা
কখনো অতিক্রম করে না।" (আর রাহমান: ১৯-২০)
"তিনিই সমান্তরালে দুই সমুদ্র করেছেন, এটি মিষ্ট তৃষ্ঞা নিবারক ও এটি লোনা
বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য আড়াল।"
(ফুরক্বান: ৫৩)
সব কিছুর জোড়ায় জোড়াস সৃষ্টি সম্পর্কে:
"আমি প্রত্যেক জিনিসকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহন
কর।" (অয-যারিয়াত: ৪৯)
"আর আকাশ থেকে তিনি পানি বর্ষন করেন, তা দিয়ে বিভিন্ন লতা-যুগল উত্পন্ন
করেন, যার একেকটি অন্যটি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।" (ত্ব-হা: ৫৩ )
পানি দ্বারা প্রাণী সৃষ্টি সম্পর্কে:
অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর
তাকে স্তরে
স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখ যে, তা হতে বৃষ্টিনারা নির্গত করেন।" (আন-নূর:
৪৩)
এজাড়াও সুরা ত্বারিক ১১, রাদ ১৭, ফুরকান ৪৮,৪৯, ফাতির ৯, আরাফ ৫৭, ইয়াসীন ৩৪,
জামিয়া ৫, কাফ ৯,১০,১১, ওয়াক্বিয়া ১৯ উল্লেখযোগ্য।
পাহাড় পর্বতের পেরেক সাদৃশতা সম্পর্কে:
"আমি কি ভূমিকে বিছানা করিনি, এবং পর্বতমালাকে পেরেক তৈরি করিনি" (নাবা:
৬-৭)
"আমি পৃথিবীতে ভারি বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে।"
(আম্বিয়া: ৩১)
সুমুদ্র, মিষ্টি ও লবনাক্ত পানি সম্পর্কে:
"তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন, উভয়ের মাঝখানে রয়েছে অন্তরাল, যা
কখনো অতিক্রম করে না।" (আর রাহমান: ১৯-২০)
"তিনিই সমান্তরালে দুই সমুদ্র করেছেন, এটি মিষ্ট তৃষ্ঞা নিবারক ও এটি লোনা
বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য আড়াল।"
(ফুরক্বান: ৫৩)
সব কিছুর জোড়ায় জোড়াস সৃষ্টি সম্পর্কে:
"আমি প্রত্যেক জিনিসকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহন
কর।" (অয-যারিয়াত: ৪৯)
"আর আকাশ থেকে তিনি পানি বর্ষন করেন, তা দিয়ে বিভিন্ন লতা-যুগল উত্পন্ন
করেন, যার একেকটি অন্যটি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।" (ত্ব-হা: ৫৩ )
পানি দ্বারা প্রাণী সৃষ্টি সম্পর্কে:
"আল্লাহ প্রত্যেক প্রাণীকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।" (আন-নূর: ৪৫)
মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে:
"পড় তোমার প্রভূর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে
জমাট রক্ত থেকে।" ( আলক্ব: ১,২ )
আমি এখানে বৈজ্ঞানিক সত্য স্বল্প সংখ্যক আয়াত উল্লেখ করলাম। আপনার নিশ্চই স্বীকার
করবেন, আরো ১৪০০ বছর আগে কোনো মানুষের পক্ষে এরকম বৈজ্ঞানিক ও বিশ্লেষনমূলক সত্য
জানা সম্ভব নয়। তার মানে, আল-কুরাআন যে আল্লাহর কালাম তাতে কোনো সন্দেহ নই।
যদি তারপরেও কেউ অবিশ্বাস করেন তাকে আমার কিছু বলার নেই। আল-কুরআনে আল্লাহ নিজেই
উল্লেখ করেছেন,
"তারা বধির, বোবা ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।" (বাকারাহ: ১৮)।
এই পর্বটি পড়ার আগে পাঠকগন নিশ্চয়ই মনে রাখতে হবে যখন কোরআন নাজিল হয়েছিলো তখন পৃথিবীতে ক্যালকুলাস ছিলো না, কম্পিউটার ছিলো না,ইন্টারনেট ছিলো না, ছিলো না কোনো যোগাযোগের উন্নত ব্যবস্থা, আরবে তখন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো না, ছিলো না গবেষনাগার,তবে কে শিখালো এই মহা আশ্চর্যময় কোরআন যদি তার একজন মাহান স্রষ্টাই না পাঠিয়ে থাকে?
আলকোরআনের গানিতিক মুজিজা:
কুরআনে ১৯ সংখ্যাটির প্রয়োগঃ
আল্লাহ পবিত্র কুরআনকে এক বিশেষ সংখ্যা দ্বারা কোড করে রেখেছেন। অর্থাৎ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছেন, যার ফলে আপনি আমি একটি অক্ষরও এই কুরআন থেকে কমাতে বা বাড়াতে পারবো না। আর সেই সংখ্যা বা কোডটি হলো ১৯।
১৯৭৪ সালে রাশাদ খালিফা নামক একজন মিশরীয়-মার্কিন জৈব-রসায়নবিদ ও ধর্মতাত্ত্বিক দাবী করেন যে, কুরআনে ১৯ সংখ্যাকে কেন্দ্র করে একটি জটিল গাণিতিক অলৌকিক মোজেজা বা মিরাকল রয়েছে।
১৯ সংখ্যাটির ১ এবং ৯ এর যোগফল হচ্ছে ১০, আবার ১ এবং ০ এর যোগফল হচ্ছে ১। অর্থাৎ এখানে আসলে এক আল্লাহকেই বোঝানো হচ্ছে। এবং উনি আরো দাবী করেন, কুরআনের অনেক কিছুই ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। যা প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর আগের একজন মরুভূমির উট চরানো অক্ষর না চেনা মানুষের পক্ষে রচনা করা কিছুতেই সম্ভব নয়। এর অর্থ হচ্ছে, কুরআন আল্লাহর বাণী। এই নিয়ে তিনি ‘The Computer Speaks: God’s Message to the World’ নামে একটি বই বের করেন। যদিও তার এই বই এর অনেকেই বিরোধিতা করেন এবং তার এই মতবাদের জন্য তাকে শাস্তি প্রদান করা হয়।
পবিত্র কুরআনে ১৯ এর ঘোষণাঃ‼
সূরা মুদ্দাসসির এর ৩০ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “এর উপর রয়েছে ১৯” যা আমি শুরুতে একবার বলেছি। ঘটনা তা না, ঘটনা হল- আল্লাহ তায়ালা সূরা মুদদাসসির এর ৩০ নং আয়াতটি নাযিলের পর একটু বিরতি দিয়ে সুরা আলাকের বাকি ১৪ টি আয়াত নাযিল করেন। এর ফলে পুর্বে নাযিলকৃত ৫ আয়াত সহ, গোটা সূরা আলাকের আয়াত দাড়ালো ১৯ ।
সূরাটিতে ১৯ এর যে আকষ্যিক কোন কারিশমা রচিত হয় নি, বরং এর পিছনে রয়েছে আল্লাহ তায়ালার সূক্ষ ইচ্ছা তা এই ঘটনার রহস্য বুঝে বুদ্ধিমানরা সহজেই আন্দাজ করতে পারবেন।
গোপন সূরার গোপন খবর:
কুরআন যে ১৯ সংখ্যার গাণিতিক কোড দিয়ে সাজানো এটা প্রথম ১৯৭৪ সালে আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। আরবী “মুদ্দাসসির” শব্দটির অর্থ “লুকায়িত” বা ‘গোপন’। সূরা মুদ্দাসসির কুরআনের ৭৪ তম সূরা। আর এই সূরাতেই ১৯ সংখ্যাটির প্রয়োগ উল্লেখ করা হয়েছে সুরাটির ৩০ নং আয়াতে। যা এই অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করেছি। কথা হচ্ছে, যখন আমরা আবিষ্কৃত ১৯ আর সূরা মুদ্দাসসির এর কুরআনে অবস্থান ৭৪ কে পাশাপাশি বসাই, তখন যে সংখ্যাটি পাওয়া যায় তা হলো ১৯৭৪, যা যে সালে বিষয়টি আবিষ্কার করা হয়েছে তার সমান। হযরত ইসা (আঃ) এর জন্মের পর ১৯৭৪ বছর ধরে একটা গোপন রহস্য মানবজাতীর জ্ঞানচক্ষুর আড়ালে রেখে দিয়েছিলেন মহাশক্তিশালী বিচার দিনের মালিক!! কি মহামহিম তিনি!
রহস্য যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো! অহ! কি পহাপরাক্রমশালী তিনি !!
পৃথিবীতে যখন ১৯৭৪ সালটি চলছিল, তখন হিজরী সাল চলছিল ১৩৯৩ সাল। কুরআন প্রথম নাজিল হওয়া শুরু হয় হিজরতের ১৩ বছর আগে। এই তের বছর ১৩৯৩ এর সাথে যোগ করলে মোট দাড়ায় ১৪০৯ বছর। অর্থাৎ কুরআন নাজিলের শরু থেকে শুরু করে মোট ১৪০৯ বছর পর কুরাআনের একটা “মুদ্দাসসির” বা “গোপন” রহস্য উন্মোচিত হয়।
এই ১৪০৯ ?? এটার আবার গুরুত্ব কি ? এরও কি রহস্য আছে? হুমম—-আছে বৈকি!
১৯ কে ৭৪ দিয়ে গুন করলে ১৪০৯ হয়ে যায় যে! ১৯*৭৪=১৪০৯।
কি অবাক কান্ড! সবই কি কাকতালীয়ভাবে মিলে যাচ্ছে!!
রহস্যটা তো এখানেই শেষ নয়! এই সূরার প্রথম দুই আয়াত এরকম
يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ74.1 قُمْ فَأَنْذِرْ74.2
“হে চাদরাবৃত ২. উঠুন, সতর্ক করুন।” [সুরা মুদ্দাসসির, ৭৪ঃ১-২]
এই দুই আয়াতে মোট অক্ষর এর সংখ্যা ১৯ টি। আর আয়াতদুটির মোট সংখ্যাগত মান কত হতে পারে? আপনি হয়তো ভাবতেও পারছেন না যে, উত্তরটা কি হবে! হ্যাঁ, এই আয়াতদুটির সংখ্যাগত মান হিসাব করলে তা দাঁড়ায় ১৯৭৪!
আল্লাহ কেন সতর্ক করতে বলেছেন, এবার বুঝা যাচ্ছে? কত রহস্য করে রহস্যের বর্ণনা দিচ্ছেন! সতর্ক করে সতর্কের বাণী পাঠালেন!
কুরআনের সর্বশেষ সূরাটি হল সূরা আন-নাস। এটি ১১৪ তম সূরা। এ সূরার শব্দ সংখ্যা হল ১৯। আর এই ১৯ টি শব্দে আছে মোট ৬ টি আয়াত। ১৯*৬ = ১১৪। কি দারুণ মিল! না
প্রথম ওহী সূরা আলাক এর প্রথম পাচটি আয়াতের শব্দ সংখ্যার মতই কুরআনের আরো বহু পরিসংখ্যান ১৯ দিয়ে ভাগ করা যায়।
কোরআন যিনি নিয়ে এসেছেন তিনি রাসূল। রাসূল শব্দটি এসেছে- ৫১৩ বার।
যার বাণী রাসূল নিয়ে এসেছেন তিনি রব। রব শব্দটি এসেছে- ১৫২ বার।
কেন্দ্রীয় বাণীর অপর পরিভাষা হচ্ছে আবদ। আবদ শব্দটিও এসেছে- ১৫২ বার।
আবদ এর কাজ যে করবে তাকে বলে আবীদ। আবিদ শব্দটিও এসেছে- ১৫২ বার।
কোরআনের কেন্দ্রীয় বাণী হচ্ছে ইবাদাত। ইবাদাত শব্দটি এসেছে- ১৯ বার।
এ সব কটি পরিসখ্যানই ১৯ দিয়ে ভাগ করা যায়।
নাস্তিক এবং সন্দেহবাদীরা সব সময় প্রশ্ন করে ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনেনীত ধর্ম এর প্রমান কি? সকল ধর্মই তো নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে,তাইলে কি হযরত মুহাম্মদ সা: গতানুগতিক একজন মানুষ ও আদর্শ প্রচারকারী নয়?
ইসলাম শুধু আল্লাহর মনোনীত সত্য ধর্মই নয়, বরং আগের সকল ধর্ম ও সত্য পয়গ্বরদের সত্যায়ন কারীও বটে, কেননা আলকোরআনে আগের সকল বিশুদ্ধ ধর্ম ও নবীদের সত্যায়ন করেছে,কিন্তু হযরত মুহাম্মদ সা: আগমনের পর আগের সকল ধর্মের আইন রহিত হয়ে গেছে।
চলুন ইসলাম একমাত্র আল্লাহর মনোনীত ধর্ম এই বিষয়ে কোরআন কি বলেছে দেখি।
ইসলাম শুধু ধর্ম নয়; দ্বীন, মুসলিম ধার্মিক হিসেবে আপনি নিশ্চয়ই ইসলামকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম বা একমাত্র সত্য ধর্ম বলে বিশ্বাস করেন। কিন্তু কুরআন মাজীদে ইসলামকে একমাত্র দ্বীন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, إن الدين عند الله الإسلام
‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।’ (সূরা আলে ইমরানঃ ১৯)
ومن يبتغ غير الإسلام دينا فلن يقبل منه وهو في الآخرة من الخاسرين
‘যদি কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের ইচ্ছা করে তবে তাকে গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সূরা আলে ইমরানঃ ৮৫)।
মুহাম্মদ (সঃ) শুধু ধর্মগুরু ননঃ
আল্লাহ্ তা’আলা কুরআনে রাসূলুল্লাহকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে সুন্দরতম আদর্শ বলে ঘোষণা করেছেন:
لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة لمن كان يرجو الله واليوم الآخر وذكر الله
‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে সুন্দর আদর্শ রয়েছে।’
(সূরা আহযাব: ২১)
অর্থাৎ তিনি নবুওয়াত লাভ করার পর যাকিছু করেছেন সবই নবী হিসেবেই করেছেন। মসজিদে ইমামতি করার সময় যেমন নবী হিসাবেই করেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করার সময়ও নবী হিসেবেই করেছেন। কেননা কুরআন মাজীদে ঘোষণা করা হয়েছে-
‘তিনি মনগড়া কথা বলেন না, বরং এটা তো ওহী, যা তার উপর নাযিল করা হয়, إن هو إلا وحي يوحى / وما ينطق عن الهوى
(সূরা নাজম: ৩-৪)।
অর্থাৎ তিনি যাকিছু করেছেন আল্লাহর নির্দেশেই করেছেন।সুতরাং শুধু নামায-রোযা-হজ্জ- যাকাতের বেলায় তাঁকে মেনে চলাই যথেষ্ট নয়। জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁকে অনুকরণ ও অনুসরণ করাই প্রত্যেক মুসলমানের কর্তৃব্য।
আল্লাহ তাআলা রাসূল (সঃ)-কে শুধু ্একজন দূত হিসেবে কুরআন মাজীদকে পৌঁছেয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে পাঠাননি। বরং তাঁকে কুরআনের একমাত্র সরকারি ব্যাখ্যাতার দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কথা, কাজ ও অনুমোদন ইত্যাদি সবই কুরআনের ব্যাখ্যা, যা হাদীসে পাওয়া যায়। তাঁর দেওয়া ব্যাখ্যা ছাড়া কুরআনে বর্ণিত কোন হুকুমই পালন করা সহজ নয়। মূলত দেখা যায়, রাসূল (সঃ)-এ বাস্তব জীবনের সবটুকুই কুরআরনের ব্যাখ্যা। তিনিই জীবন্ত কুরআন, আসল কুরআন ও বাস্তব কুরআন। আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, ‘রাসূলের (সঃ) জীবনই কুরআনরে বাস্তব রূপ’।
দীনদারী ও দুনিয়াদারিঃ
আমাদের সমাজে নামায পড়া, রোযা রাখা, যাকাত দেওয়া, হজ্জ করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, যিকর করা দু’য়া করা ইত্যাদি কাজকে দীনদারি মনে করা হয়।আর বিয়ে-শাদি, ব্যবসা-বাণিজ্য, আয়-রুজগার, সন্তান লালন-পালন করা ইত্যাদি কাজকে দুনিয়াদারি বলে ধারণা করা হয়।
আসলে মুমিনের জীবনে দীনদারি ও দুনিয়াদারি আলাদা কিছু নয়। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে হলে যা কিছু করতে হয় তা সবই দীনদারিতে পরিণত হয়, যদি তা আল্লাহর হুকুম ও রাসূল (সঃ)-এর তরিকা অনুযায়ী পালন করা হয়। যদি আল্লাহর হুকুম ও রাসূল (সঃ)-এর তরিকা অনুযায়ী করা না হয় তাহলে নামায-রোযাও দীনদারি নয়।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুাহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (কালেমা তাইয়্যেবা)
মর্ম বুঝে যে তা মুখে উচ্চারণ করে তাকেই মুমিন বলা হয়। এ কালেমার মাধ্যমে একথাই ঘোষণা করা হয় যে, আমি আল্লাহকে একমাত্র হুকুমকর্তা প্রভু বলে মানি এবং তাঁর হুকুমের বিরোধী কারো হুকুম মানতে রাজি নই।আর আল্লাহর হুকুম যে পদ্ধতিতে রাসূল (সঃ) পালন করেছেন আমি একমাত্র ঐ পদ্ধতিতে আল্লাহর হুকুম পালন করবো।আমার ইচ্ছা মত যা খুশি তা করতে পারব না।
এ কালেমার মাধ্যমে একথাও স্বীকার করা হয় যে, আমার জীবনে যখন যা কিছু করব তা একমাত্র আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের তরিকামতই করব। আসলে এ কালেমা হলো জীবনের দু দফা কর্মনীতি। যাই করি একমাত্র আল্লাহর হুকুম ও রাসূল (সঃ)-এর তরীকা মুতাবেক করব। যদি এ শর্ত পূর্ণ করা হয় তাহলে যা কিছু করা হয় তা সবই ইবাদত ও দীনদারি হিসেবে গণ্য হবে।ইবাদত মানে দাসত্ব। মুনিবের আদেশ মানাই ইবাদত।আবদ মানে দাস।দাসের কাজই হলো দাসত্ব।
يا أيها الذين آمنوا ادخلوا في السلم كآفة ولا تتبعوا خطوات الشيطان إنه لكم عدو مبين
ইসলামকে আংশিক ভাবে গ্রহণের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারিঃ
সূরা বাকারার ২০৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা পরিপূর্ণ ভাবে ইসলাম গ্রহণ কর।’
অর্থাৎ আল্লাহ মানুষকে এ ইখতিয়ার দেননি যে, কেউ তার ইচ্ছামত ইসলামের কিছু আংশ মানলেই চলবে- এ কথা চিন্তা করা অজ্ঞতার শামিল।কেননা দীনের কোন অংশকে বাদ দিলে ইসলাম গ্রহণ করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না।
কেউ যদি ধর্মীয় ক্ষেত্রে ইসলামকে মানে, কিন্তু ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক ও সর্ব ব্যাপী ক্ষেত্রে ভিন্ন সংষ্কৃতির ধারা পরিচালিত হয়, তাহলে সে ইসলাম গ্রহণ করেনি বলেই গণ্য হবে।
ثُمَّ أَنْتُمْ هَٰؤُلَاءِ تَقْتُلُونَ أَنْفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقًا مِنْكُمْ مِنْ دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِمْ بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَإِنْ يَأْتُوكُمْ أُسَارَىٰ تُفَادُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ ۚ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ ۚ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَٰلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَىٰ أَشَدِّ الْعَذَابِ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
সূরা বাকারা ৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তবে কি তোমরা কিতাবের এক অংশের উপর ঈমান রাখ আর বাকি অংশকে অবিশ্বাস কর ? তোমাদের মধ্যে যারাই এরূপ করবে তাদের জন্য এছাড়া আর কী শাস্তি হতে পারে যে, তারা দুনিয়ার জীবনে অপমান ও লাঞ্ছনা ভোগ করবে এবং আখিরাতে তাদেরকে কঠিন আযাবের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’
কুরআন বুঝার চেষ্টা করা ফরয:
যারা অশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত তারা না বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করলে আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সওয়াব থেকে বঞ্চিত করবেনা। তবে কুরআন বুঝে পড়া উত্তম, কিন্তু যারা দুনিয়ার জীবনের উন্নতির প্রয়োজনে বিদেশি ভাষা আয়ত্ত করার জন্য বহু বছর ও সময় ব্যয় করেছে, তারা কুরআন বুঝার জন্য চেষ্টা করা ছাড়াই আখিরাতে সাফল্য লাভের আশা কেমন করে করেন ? দীনের ফরযটি আদায় করার জন্যই কুরআন বুঝার চেষ্টা করা অপরিহার্য।
কুরআনের অনেক বিখ্যাত তাফসীর বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়েছে অনেক বই।আরবী জানা না থাকলেও কুরআন বুঝা সম্ভব। আরবী ও উর্দু থেকে বাংলায় গ্রন্থ অনূদিত হয়েছে । রচিত বইয়ে সংখ্যাও অনেক।
বাংলা ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে বিশাল সাহিত্যভান্ডার সৃষ্টি হয়েছে। এবং নেটে চার্চ করে ও ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করা কঠিন নয়।
ইসলাম সম্পর্কে মূর্খ লোকেরা যত উচ্চশিক্ষিতই হোক বা সমাজে যত প্রধান্যই বিস্তার করুক, তাদের মতামত ইসলামেরর ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য নয়।
আল্লাহ যেসব কাজ করাকে ফরয করেছেন এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফরয হলো আল্লাহর দীনকে কায়েম বা বিজয়ী করার চেষ্টা করা। প্রত্যেক মুমিনকে আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করার জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল সৃষ্টির জন্যই বিধান দিয়েছেন। প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য এর উপযোগী বিধান রচনা করে তিনি নিজেই সে বিধান ঐ সৃষ্টির উপর জারি করেন। কোন সৃষ্টিই আল্লাহর বিধান অমান্য করতে পারে না। এভাবেই গোটা বিশ্বে তাঁর রাজত্ব কায়েম আছে তাঁর এ রাজ্যে আর কারো হতে কোন ক্ষমতা নেই। তিনিই একচ্ছত্র প্রভু ও হুকুমকর্ত।
চলুন অন্য ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে হযরত মুহাম্মদ সা: সত্য নবী এবং ইসলাম সত্য ধম এই বিষয়ে তারা স্বীকার করে কিনা দেখ যাক:
বাইবেলের পূরাতন নিয়মে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী
ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক:
বনী ইসমাঈলের মধ্য থেকে মূসা সদৃশ এক নবীর আগমন হবে।
বাইবেলের পুরাতন নিয়মে আছে “তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য আমার মত একজন নবী দাঁড় করাবেন। তাঁর কথামত তোমাদের চলতে হবে।” ( দ্বিতীয় বিবরন- ১৮:১৫)
আবার এর সাথে বাইবেলে এ কথাও আছে, “আমি তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তাদের জন্য তোমার মত একজন নবী দাঁড় করাবো। তার মুখ দিয়েই আমি আমার কথা বলব, আর আমি যা বলতে তাকে আদেশ দেব সে তাই তাদের বলবে।” (দ্বিতীয় বিবরন ১৮:১৮)
মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন সংক্রান্ত এই ভবিষ্যদ্বাণী যখন উপস্থাপন করা হয় তখন খৃষ্টানরা এই আপত্তি করেন যে, মুহাম্মদ (সা.) নয় বরং যীশুর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণীই এখানে করা হয়েছে। তাদের এই দাবীর মোটেও কোন ভিত্তি নেই। কারণ বাইবেলের উপরোক্ত উদ্ধৃতিদ্বয়ের মাঝেই তাদের এই দাবীর খন্ডন বিদ্যমান।
যেমন: (১) এখানে মোশি অর্থাৎ মূসা (আ.) স্পষ্টভাবে বলছেন ‘আমার মত একজন নবী দাঁড় করাবেন’ অথচ যীশু কখনো নিজেকে মূসার সদৃশ বলে ইঞ্জিলের কোথাও দাবী করেননি।
(২) যীশু মূসার ন্যায় কোন নতুন ব্যবস্থা বা শরীয়ত নিয়ে আসেন নি বরং তার শরীয়তকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য আগমন করেছেন। (মথি ৫: ১৭-১৮) (৩) এই ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে, এই নবী তাদের অর্থাৎ ‘ইস্রায়েলীয় ভাইদের মধ্য হতে’ আগমন করবেন। এখানে ‘তাদের মধ্য থেকে’ বলা হয় নি। আর ইস্রায়েলীয় ভাই বলতে আব্রাহামের আরেক পুত্র ইসমাঈলের বংশধর অর্থাৎ বনী ইসমাঈলকেই বোঝায়। আর হযরত মুহাম্মদ (সা.) বনী ইসমাঈলেই জন্মগ্রহন করেছেন। ইস্রায়েলীয় ভাই বলতে বনী ইসমাঈলকেই যে বোঝানো হয়েছে এর জন্য আরো দেখুন (আদি পুস্তক ১৬: ১১-১২ ও আদি পুস্তক ২৫: ১৭-১৮) ।
(৪) নবুয়ত লাভের ক্ষেত্রেও মূসা (আ.)-এর সাথে মুহাম্মদ (সা.)-এর সাদৃশ্য রয়েছে। মূসা (আ.) ৪০ বৎসর বয়সে নবুয়ত লাভ করেছিলেন (প্রেরিত ৭ : ৩০)। অনুরুপভাবে মুহাম্মদ (সা.) ও ৪০ বৎসর বয়সে নবুয়ত লাভ করেছেন পক্ষান্তরে যীশু নবুয়ত লাভ করেছিলেন ৩০ বৎসর বয়সে।
ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: ‘পারন’ নামক এলাকা থেকে তিনি অর্থাৎ সেই নবী আগমন করবেন বাইবেলে আছে “সদাপ্রভূ সিনাই থেকে আসলেন, তিনি সেয়ীর থেকে তাদের উপর আলো দিলেন, তার আলো ‘পারন’ পাহাড় থেকে ছড়িয়ে পড়ল। তিনি লক্ষ লক্ষ পবিত্র স্বর্গদূতদের মাঝখান থেকে আসলেন; তার ডান হাতে রয়েছে তাদের জন্য আগুন ভরা আইন।” (দ্বিতীয় বিবরন ৩৩ : ২)
মক্কা সহ সমগ্র হেজাজ এলাকাকে ‘পারন’ বা আরবীতে ‘ফারান’ বলা হয়। আরব ভূগোল বিশারদদের মতানুযায়ী এ কথা প্রমাণিত। আর বাইবেলে এ কথা স্পষ্টভাবে বিদ্যমান যে, মহানবী (সা.) এর পূর্ব-পুরুষগণ অর্থাৎ বনী ইসমাঈল এ এলাকাতেই বসবাস করতেন। বাইবেলে বলা হয়েছে-“পারন নামে এক মরু এলাকায় সে (ইসমাঈল) বাস করতে লাগলো।” (আদিপুস্তক ২১:২১) এই ভবিষ্যদ্বাণীর আরেকটি অংশে যে আগুন ভরা আইনের কথা বলা হয়েছে তা-ও কুরআন করীম নাযেল হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছে।
ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন: সেই নবীর চেহারার বর্ণনা ও দশ হাজার পবিত্র আত্মাসহ আগমন- বাইবেলে হযরত সুলায়মান (আ.) সেই প্রতিশ্রুত নবীর চেহারার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলছেন, “আমার প্রিয়ের চেহারা শ্বেত, লালচে তার গায়ের রং; দশ হাজার জনের মধ্যে তিনি বিশেষ একজন। তাঁর মাথা খাঁটি সোনার মত, তাঁর চুল ঢেউ খেলানো আর দাঁড় কাকের মত কালো।” (পরমগীত ৫:১০-১৬)
এই ভবিষ্যদ্বাণীও মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। ভবিষ্যদ্বাণীতে সেই নবীর চেহারার যে বর্ণনা এসেছে তা পুরোপুরি মুহাম্মদ (সা.)-এর চেহারার সাথে সাদৃশ্য রাখে। যেমন, মহানবী (সা.) এর চেহারা ছিল সাদা ও উজ্জ্বল লালচে আর চুল ছিল কালো ও ঢেউ খেলানো। পক্ষান্তরে হযরত ঈসা (আ.)-এর চেহারা ছিল রক্তিম বর্ণের ও চুল ছিল কোকড়ানো ও সোনালী বর্ণের। এই ভবিষ্যদ্বাণীর আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, সেই নবী দশ হাজার জনের মধ্যে বিশেষ একজন। মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কা বিজয় করেন তখন তাঁর সাথে দশ হাজার সাহাবী ছিলেন। তিনি (সা.) ছিলেন তাদের সবার মাঝে বিশেষ একজন।
বাইবেলের নূতন নিয়মে অর্থাৎ ইঞ্জিলে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী
ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: প্রতিশ্রুত সেই নবীর অস্বীকারকারীদের শাস্তি প্রদান করা হবে। ইঞ্জিলে এসেছে নবী মুসা বলেছিলেন, “তোমাদের ঈশ^র সদাপ্রভূ তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য আমার মত একজন নবী দাঁড় করাবেন। তার কথামত তোমাদের চলতে হবে। যে তার কথা শুনবেনা তাকে তার লোকদের মধ্য থেকে একেবারে ধ্বংস করা হবে।” (প্রেরিত ৩:২২-২৩)
বাইবেলের এই ভবিষ্যদ্বাণীও আঁ হযরত (সা.)-এর ক্ষেত্রে পূর্ণ হয়েছে। কারণ তাঁর (সা.) জীবদ্দশাতেই তাঁর বড় বড় বিরোধীরা ধ্বংস হয়েছিল যেমন আবু জাহেল, আবু লাহাব, আরো অনেকেই। এই ভবিষ্যদ্বাণী কখনো মসীহ্ দ্বারা পূর্ণ হয় না কেননা তার জীবদ্দশাতে তাঁর কোন বিরুদ্ধবাদী মারা যায় নি উপরন্তু তাঁকেই ক্রুশে চড়তে হয়েছিল।
ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: মসীহ্ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, তাঁর পর এমন এক সত্যের রুহ্ (আত্মা) আগমন করবেন তিনি যা কিছু বলবেন ঈশ্বরের পক্ষ থেকেই বলবেন এবং তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হবে। ইঞ্জিলে মসীহ্ সেই প্রতিশ্রুত নবীর আগমন সম্পর্কে বলছেন- “কিন্তু সেই সত্যের রুহ্ যখন আসবেন তখন তিনি তোমাদের পথ দেখিয়ে পূর্ণ সত্যে নিয়ে যাবেন। তিনি নিজ থেকে কথা বলবেন না, কিন্তু যা কিছু শোনেন তাই বলবেন। আর যা কিছু ঘটবে তাও তিনি তোমাদের জানাবেন।” (যোহন ১৬:১৩)
এই ভবিষ্যদ্বাণীটিও মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। মসীহ্ পর মুহাম্মদ (সা.)-ই এসেছেন যিনি পূর্ণ সত্য দেখিয়েছেন । মুহাম্মদ (সা.) যা কিছু বলতেন আল্লাহ তা’লার পক্ষ থেকেই বলতেন (সূরা নজম : ৪-৫)। পৃথিবী সাক্ষী যে, মুহাম্মদ (সা.) আজ থেকে চৌদ্দ শত বৎসর পূর্বে যে সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে এবং আজও পূর্ণ হচ্ছে।
ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন: সেই নবী এসে মসীহ্ মহিমা প্রকাশ করবেন মসীহ্ সেই নবী সম্পর্কে বলছেন, “সেই সত্যের রুহ্ আমারই মহিমা প্রকাশ করবেন, কারণ আমি যা করি ও বলি তাই তিনি তোমাদের কাছে প্রকাশ করবেন” (যোহন ১৬:১৪)।
মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে মসীহ্ এই ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণতা পেয়েছে। মুহাম্মদ (সা.) এসে মসীহ্ মহিমা প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁকে ক্রুশীয় মৃত্যুর অপবাদ থেকে এবং তাঁর মাকে অসতী অপবাদ থেকে মুক্ত করেছেন।
ভবিষ্যদ্বাণী (৪) চার: মসীহ্ পর অন্য একজন সাহায্যকারী আসবেন। যার শিক্ষা চিরকাল থাকবে। মসীহ্ বলেন “আমি পিতার কাছে চাইব, আর তিনি তোমাদের কাছে চিরকাল থাকবার জন্য আরেকজন সাহায্যকারীকে পাঠিয়ে দিবেন।” (যোহন ১৪:১৬)
এই ভবিষ্যদ্বানীটিও একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করেছে কেননা মসীহ্র পর চিরস্থায়ী শরীয়ত নিয়ে একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-ই আগমন করেছেন।
হিন্দুদের ধর্ম গ্রন্থ বেদে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের কিছু ভবিষ্যদ্বাণী
ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: মানব কর্তৃক প্রশংসিত এক নবীর আগমন হবে-
অথর্ব বেদে আগমনকারী সেই নবী সম্পর্কে বলা হয়েছে- “ইদংজনা উপশ্রুত নরাশংসঃস্তবিষ্যতে।” (অথর্ব বেদ ২০ নম্বর গ্রন্থ, ১২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ, ১ নম্বর মন্ত্র) অর্থ: ‘এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব হবে যিনি হবেন মানব কর্তৃক প্রশংসিত।’
আমরা যদি ‘নরাশংস’ শব্দটিকে মুহাম্মদ শব্দটির সাথে মিলিয়ে দেখি তাহলে দেখতে পাই দুটি শব্দের অর্থ পুরোপুরি এক। ‘নরাশংস’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে নর দ্বারা অর্থাৎ মানুষ দ্বারা প্রশংসিত। তদ্রুপ মুহাম্মদ শব্দের অর্থও প্রশংসিত অর্থাৎ মানব কর্তৃক যিনি অনেক বেশী প্রশংসিত।
ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: সেই প্রতিশ্রুত নবী উটে আরোহণ করবেন- অথর্ব বেদের আরেক স্থানে আছে- “উষ্ট্রা যস্য প্রবাহনো বধুমন্তো দ্বির্দশ” (অথর্ব বেদ ২০ নম্বর গ্রন্থ, ১২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ, ২ নম্বর মন্ত্র) অর্থাৎ ‘ঐ প্রশংসিত মহাপুরুষ উটের উপর আরোহণ করে আবির্ভূত হবেন। তার দ্বাদশ সহধর্মিণী হবেন।
গীতায় মুহাম্মদ (সা.) এর আগমন সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী:
ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: যখনই ধর্মের পতন ও অধর্ম দেখা দিবে তখনই একজন মহাপুরুষের আগমন ঘটবে-
গীতায় রয়েছে- “যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত – অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ // পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্ ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে //” (গীতা,অধ্যায়: ৪, শ্লোক: ৭-৮) অনুবাদ: ‘যখনই ধর্মে অধঃপতন হবে এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হবে, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হব। সাধুদের পরিত্রাণ, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করে ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হব।’
ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই:
সমস্ত জাতির জন্য এক বিশ্ব নবীর আগমন ঘটবে। গীতায় রয়েছে কৃষ্ণ তাঁর শিষ্য অর্জুনকে ভবিষ্যতে আগত তাঁর কয়েকটি বিশ্বরুপ দেখালেন। যেখানে অর্জুন সহস্র সূর্যের দীপ্তিতে উদ্ভাসিত এক মহাপুরুষকে দেখে বলে উঠলেন “দিবি সূর্যসহস্রস্য ভবেদ্ যুগপদুত্থিতা যদি ভাঃ সদৃশী সা স্যাদ্ ভাসস্তস্য মহাত্মনঃ” (গীতা, অধ্যায়: ১১, শ্লোক: ১২) অর্থাৎ ‘যদি আকাশে সহস্র র্সূ্যের প্রভা যুগপৎ উদিত হয়, তাহলে সেই মহাত্ম বিশ্বরূপের প্রভার কিঞ্চিত তুল্য হতে পারে।’
শ্রী কৃষ্ণ ছিলেন জাতীয় অবতার। কিন্তু অর্জুন তাঁর সামনে বিদ্যমান এই কৃষ্ণের চেয়ে হাজারো গুণ দীপ্তিমান এক সত্তাকে দেখলেন। যিনি হাজারো সূর্য তুল্য। যিনি শুধু এক জাতি, এক দেশের জন্য আসবেন না। আসবেন এক বিশ্বরূপ নিয়ে সমগ্র বিশ্বের জন্য। গীতার উপরোক্ত এই ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে নিঃসন্দেহে মুহাম্মদ (সা.)-ই হচ্ছেন সেই মহাপুরুষ যাকে পবিত্র কুরআনে ‘সিরাজুম্ মুনীর’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন:
আহমদ নামে এক সর্বশ্রেষ্ঠ রসূলের আগমন হবে- গীতায় রয়েছে- “অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাঞ্চ সর্বশঃ” (গীতা, অধ্যায়: ১০, শ্লোক: ২) অর্থাৎ ‘আহমদ দেবতা দেবতাদের মাঝে সর্বোতভাবে মহির্ষী।’
পুরানে হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী
পুরানে খুবই স্পষ্টভাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন সর্ম্পকিত কিছু ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান।
ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক:
‘মহামদ’ নামে এক মহাপুরুষের আগমন হবে। ভবিষ্য পুরানে রয়েছে- “মহামদ ইতিখ্যাত: শিষ্যশাখা সমন্বিত: নৃ পশ্চব মহা দেবং মরুস্থল নিবাসিনম।” (ভবিষ্যপুরান-৩, খন্ড: ৩, অধ্যায়: ৩ শ্লোক: ৫, ৬) অর্থাৎ ‘মহামদ নামে এক মহাপুরুষ মরু অঞ্চলে শিষ্যসহ আবির্ভূত হবেন। তাকে অর্থাৎ সেই মরুস্থলে আগমনকারী মহাদেবকে নমস্কার।’
ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই:
খৎনা সম্পন্ন একজন মহাপুরুষ আগমন করবেন। ভবিষ্য পুরানে আরেক স্থানে এসেছে-“লিঙ্গচ্ছেদী শিখাহীন: শ্মশ্রুধারী স দ্রষক: উচ্চালাপী সর্বভক্ষী ভবিষ্যতি জনো মম।” (ভবিষ্যপুরান-৩, খন্ড: ৩, অধ্যায়: ৩, শ্লোক: ২৫) অর্থাৎ ‘এই মহাপুরুষের খৎনা হবে, টিকি না রেখে তিনি দাড়ি রাখবেন। তিনি উঁচু আওয়াজে আহবান করবেন। তিনি হালাল খাদ্য গ্রহন করবেন’।
ভবিষ্যপুরানের উপরোক্ত ভবিষ্যদ্বাণীসমূহের প্রতিটি বাক্য একমাত্র হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আগমনের মাধ্যমেই অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণতা লাভ করেছে।
ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন:
শান্তির শহর অর্থাৎ মক্কায় সেই মহাপুরুষের জন্ম হবে- কল্কি পুরানে আছে “শাম্ভলে বিষ্ণুয শস্যে গৃহে প্রাদুর্ভবামাহম” (কল্কি পুরান, ২য় অধ্যায়, শ্লোক: ৪) অর্থাৎ ‘কলির কালে বিষ্ণু দাসের গৃহে, সম্ভল শহরে কল্কি অবতারের জন্ম হবে।’ বিষ্ণু শব্দের আরবী অনুবাদ হচ্ছে ‘আল্লাহ্’ আর দাসের আরবী হচ্ছে ‘আব্দ। অর্থাৎ আব্দুল্লাহ্ ঘরে সেই মহাপুরুষ জন্ম নিবেন। তাছাড়া এখানে ‘সম্ভল’ যে শব্দ এসেছে তার আরবী হচ্ছে আমান অর্থাৎ শান্তি। আর এক সাথে অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘দারুল আমান’। পবিত্র মক্কা নগরীর আরেক নাম হচ্ছে ‘দারুল আমান’ অর্থাৎ শান্তির শহর।
ভবিষ্যদ্বাণী (৪) চার:
সেই মহাপুরুষের চার খলীফা থাকবে- কল্কি পুরানে আছে “চতুর্ভি ভ্রাতৃভির্দেব! করিষ্যামি কলিক্ষয়ম” (কল্কি পুরান, ২/১৫) অর্থাৎ ‘তার ভ্রাতৃতুল্য চারজন সহকর্মী হবেন, তাদের সহযোগে তিনি কলি (জাহেলিয়াত) ক্ষয় করবেন।
ভবিষ্যদ্বাণী (৫) পাঁচ:
নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার যুগে সেই মহাপুরুষ আগমন করবেন। “কলি যুগে যখন রাজারা হবে ডাকাতের মত তখন বিষ্ণু দাশের ঘরে কল্কি জন্ম নিবে। (কল্কিপুরান, ২/৭)
আমরা সকলেই অবগত যে, মুহাম্মদ (সা.) সেই জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতার যুগেই জন্ম নিয়েছিলেন যখন সর্বত্রই ছিল হানাহানি নৈরাজ্য ও অধিকার হননের চিত্র।
পবিত্র কুরআনের ঘোষনা-
وَإِن مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ
অর্থ: পৃথিবীতে এমন কোন জাতি নেই যাদের মাঝে আল্লাহ্ তা’লা সতর্ককারী অর্থাৎ নবী রসূল পাঠান নি। (সুরা ফাতির: ২৫)
সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাচীন তীর্থস্থান ভারতবর্ষও তার ব্যতিক্রম নয়। সিন্ধু নদের অববাহিকায় যে জাতির বাস ছিল তারাই আজ হিন্দু নামে অভিহিত। এই হিন্দু জাতিতেও অনেক মহাপুরুষের আগমন ঘটেছে। যাদেরকে বর্তমানে হিন্দুরা ঈশ্বরের অবতার হিসেবে পূজা করে থাকে। অথচ তারা সবাই ছিল তাদের নিজ নিজ সময়ের খোদার পক্ষ থেকে আসা সতর্ককারী। তেমনি তাদের ধর্মগ্রন্থগুলোও ছিল খোদার পক্ষ থেকে আসা ঐশীগ্রন্থ। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এতে অনেক সংযোজন ও বিয়োজন হয়েছে। মানুষের অন্যায় হস্তক্ষেপের হাত থেকে এই পবিত্র গ্রন্থগুলো রেহাই পায় নি। তাই আজ সেগুলো তাদের প্রকৃত রুপ থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে। তথাপি খোদা তা’লার অপার মহিমা যে এখনো সেগুলোতে কিছু সত্যের ঝলক বিদ্যমান এবং কিছু সত্য ভবিষ্যদ্বাণীও বিদ্যমান যেগুলো সত্য প্রমাণিত হয়ে নিজেদের সত্যতার প্রমান বহন করে চলেছে। যদিও এ সমস্ত ধর্মগ্রন্থ ছিল একটি জাতি বা গোষ্ঠির জন্য সীমাবদ্ধ কিন্তু এতে ভবিষ্যতে আগমনকারী সেই মহাপুরুষের ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান যিনি সমগ্র মানব জাতির জন্য আগমন করবেন। আর একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমেই সেই সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণতা লাভ করেছে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা আমাদের নিকট দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থ সমূহে একজন সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর আগমন সম্বন্ধীয় যে সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান তা একমাত্র আমাদের নেতা ও প্রভূ নবীকূলের শিরোমণি রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা আহমদ মুজতবা (সা.)-এর শুভাগমনের মাধ্যমেই অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণতা লাভ করেছে এবং তাঁর প্রচারিত ধর্ম সত্য বলে প্রমানিত। তাঁর (সা.) আগমনের মাধ্যমে শরীয়ত পূর্ণতা লাভ করেছে এবং এ শরীয়তই একমাত্র সত্য ধর্ম। মানবজাতি তার উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে উপনীত হয়েছে। তাই আমাদের সকলের উচিৎ এই মহান নবীর প্রতি প্রতিনিয়ত অবারিত দরুদ প্রেরণ করা আর এই দোয়া করা যে, এই পৃথিবীর যে সমস্ত মানুষ এখনো এই মহান নবীর শান ও মর্যাদা সম্বন্ধে অবহিত নয় আল্লাহ তা’লা তাদের সকলকে এই মহা মর্যাদাবান নবীর শান ও মর্যাদা অনুধাবন করার তৌফিক দান করুন এবং এই নবীর প্রতি ঈমান এনে হেদায়াত লাভ করার তৌফিক দান করুন। আর আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকেও এই মহান নবীর পবিত্র জীবনাদর্শ অনুসরণ করার ও তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ প্রেরণ করার তৌফিক দান করুন, আশা করি নাস্তিকদের এই বিষয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকার কথা না।
“সংখ্যা” এর উল্লেখ আছে ২৮৫ বার। যা ১৯ দ্বারা বিভায্য। আবার কুরআনে যে সংখ্যাগুলো উল্লেখ আছে তাদের যোগফল করলে দাড়ায় ১৭৪৫৯১, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
বস্তুত, কুরআন কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে রচণা করা সম্ভব নয়, এটা ধ্রুব সত্য। এটা আল্লাহর বাণী, অথবা আল্লাহ যেহেতু বলেছেন যে - ‘নিশ্চয়ই এই কিতাব সম্মানীত রসুলের বাণী।’ সুতরাং মহানবী মুহাম্মদ সঃ এমন কেউ ছিলেন যার আল্লাহর সাথে কোন পার্থক্য ছিলোনা। মানে তিনি ছিলেন অলৌকিক মোজেজা। মূলত নবী রসুলরা তো তাই প্রচার করেন, যা আল্লাহ বলতে বলেন। তারা সর্বকালেই সার্বজনীন। তারা কোন নির্দিষ্ট জাতি গৌত্র বা সম্প্রদায়ের জন্য আসেন নাই। নবী রসুল এবং অলি আওলিয়ারা যা প্রচার করেছেন, তা সব সময়ই ছিলো সার্বজনীন, সমগ্র মানব জাতির জন্য অভিন্ন এবং সর্বকালের জন্য। আর তাই ত আল্লাহ বলেন -
3:3 نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ
“তিনি সত্যসহ আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, পূর্বে যা এসেছে(১) তার সত্যতা প্রতিপন্নকারীরূপে। আর তিনি নাযিল করেছিলেন তাওরাত ও ইঞ্জীল। [সুরা আল-ইমরান, ৩ঃ৩]
১৯ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন -
عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ 74.30
“ওর তত্ত্বাবধানে রয়েছে উনিশ জন প্রহরী” [সুরা আল-মুদ্দাসসির - ৭৪ঃ৩০]
পরের আয়াতে আল্লাহ বলেন -
وَمَا جَعَلْنَا أَصْحَابَ النَّارِ إِلَّا مَلَائِكَةً وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا وَلَا يَرْتَابَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْمُؤْمِنُونَ وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ وَالْكَافِرُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَذَا مَثَلًا كَذَلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكْرَى لِلْبَشَرِ74.31
“আর আমি ফেরেশতাদেরকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানিয়েছি। আর কাফিরদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ আমি তাদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছি। যাতে কিতাবপ্রাপ্তরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে; আর বিশ্বাসীদের ঈমান বেড়ে যায় এবং কিতাবপ্রাপ্তরা ও বিশ্বাসীরা সন্দেহ পোষণ না করে। আর যেন যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা এবং অবশিষ্টরা বলে, এরূপ উপমা দ্বারা আল্লাহ কী ইচ্ছা করেছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন আর যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানেন না। আর এ হচ্ছে মানুষের জন্য উপদেশমাত্র।” [সুরা আল-মুদ্দাসসির - ৭৪ঃ৩১]
আর এই ১৯ সংখ্যাটির পরিচয় দেবার পরই নাযিল হয় সুরা ফাতিহা যা ৪র্থ তম নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সুরা; যাতে রয়েছে ১৯ সংখ্যাটির এক মহা সমাহার। সুরা ফাতিহার মধ্যে ১৯ সংখ্যাটির বিস্ময়কর প্রয়োগ নিয়ে আমরা পরবর্তি অধ্যায়ে আলোচনা করবো।
কুরআনে ১১৪ টি সূরার অবস্থান এবং ২৯ টি সূরার শুরুতে ব্যবহৃত ‘হরুফে মোকাত্তায়াত’ যে নিয়মে বিন্যস্ত আছে সে নিয়মের ভিত্তিতে কুরআন এক অলৌকিক তত্ত্বের জালে বোনা, সমস্ত কুরআন গণিতের এক রহস্যময় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছে। কুরআনের সর্বত্র একটি অভিনব ও বিস্ময়কর গাণিতিক সংখ্যার মিলবন্ধন ও সমীকরণ রয়েছে। সমগ্র কুরআন যেন ১৯ সংখ্যাটিরই একটি সুদৃঢ় বন্ধন। এ কুরআনকে যে ভাবেই বিশ্লেষণ করা হোক না কেন, কোননা কোন দিক থেকে এর সমীকরণ মিলবেই। সেটা বাহ্যিক কুরআন হোক আর অন্তর্নিহিত তাতপর্য হোক, এর মধ্যে কোনদিক থেকে কোন অসংগতি নেই। আর এ কারনেই আল্লাহ বলেছেন যে,
“এই কুরআনে কোন অসংগতি দেখতে পাবেনা।” [সুরা নিসা, ৪ঃ৮২ ]
এই ১৯ সংখ্যাটির মাধ্যমে কোরআনকে এমন এক গাণিতিক ফর্মুলায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে যেন এতে ব্যবহৃত বর্ণমালা, শব্দ ও আয়াতসমূহের কোনোরকম পরিবর্তন,পরিবর্ধন, সংযোজন এবং বিয়োজন কারো পক্ষে সম্ভব না হয়।
আল্লাহ পবিত্র কুরআন মাজিদের সুরা আল-মুদ্দাসসির এর ৩০ ও ৩১ নং আয়াতে বলেছেন - জাহান্নামের আগুন নিয়ন্ত্রনের জন্যে ১৯ জন ফেরেশ্তা রাখা হয়েছে। আর তাদের সংখ্যাকে অবিশ্বাসীদের পরিক্ষা করার জন্য নিধারণ করা হয়েছে। একই সাথে কিতাবীদের বিশ্বাস দৃঢ় করতে আর বিশ্বাসীদের ইমান বৃদ্ধির কাজেও লাগবে!
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মুহাম্মদ সঃ এবং তার প্রখ্যাত সব সাহাবীগণ, তাবেইন, তাবে-তাবেইনগণ কেউই এই রকম কোন মিরাকল বা মোজেজার কথা উল্লেখ করেননি। তাহলে কি তারা এবং পরবর্তীতে ইসলামের লক্ষ লক্ষ স্কলার, তাফসীর কারকগণ, কেউই কোনোদিন কুরআনের এই ১৯ সংখ্যার মোজেজার বিষয়টি বোঝেননি? ইসলামের ইতিহাসে রাশাদ খলিফা একমাত্র ব্যক্তি যিনি কুরআন নাজিলের ১৪০৯ বছর পর এসে কুরআনের একটি গোপন সত্য উন্মোচন করলেন!
মুহাম্মদ সঃ কেন এই গোপন বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন নাই? নবীজী এই বিষয়টি যে ব্যাখ্যা করেন নাই, এ ব্যাপারে আমরা কেউই নিশ্চিত নই, বরং ব্যাখ্যা করেছেন এটাই স্বাভাবিক হবার কথা। কেননা নবী বা রাসুল হিসাবে তার দায়িত্বই ছিলো ব্যাখ্যা করা বা কিতাব শিক্ষা দেয়া। আবার অন্যভাবে বলা যায় যে, কোরআনের গাণিতিক ব্যাখ্যা দেয়া নবী বা রসূলের কাজ নয়।
চলুন, আমরা আগে এখানে দেখে আসি- আসলে নবী এবং রাসুলের কাজ কি?
কোরআন দর্শণ অনুযায়ী নবীর কাজ হলো চারটিঃ কুরআন মাজিদে নবীর কাজ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন -
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا 33.45 وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا33.46
“হে নবী, আমরা তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা(১), সুসংবাদদাতা(২) ও সতর্ককারীরূপে(৩) এবং আল্লাহর দিকে আহবানকারীরূপে(৪) ও উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।” [সুরা আহযাব, ৩৩ঃ৪৫-৪৬]
সুতরাং, কুরআন অনুযায়ী নবীর কাজ হলো - সাক্ষ্য দেয়া, সুসংবাদ দেয়া, সতর্ক করা এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়া।
এবং রাসুলের কাজও চারটি। রাসুলের কাজ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন -
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيم২:১২৯9
“হে আমাদের রব! আর আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এক রাসূল পাঠান, যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করবেন(১); তাদেরকে কিতাব শিক্ষা দিবেন(২), হেকমত শিক্ষা দিবেন(৩) এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন(৪) আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’।” [সুরা বাকারা, ২ঃ১২৯]
অর্থাৎ কুরআনে আল্লাহ বলেছেন- রাসুলের কাজ চারটি। যথাঃ কিতাব পাঠ করা, কিতাব শিক্ষা দেয়া, হেকমত শিক্ষা দেয়া এবং নফসকে পবিত্র করা। রাসুলের কোরআন গবেষণা করার প্রয়োজনই পড়েনা। কুরআন গবেষণা করবে তার থেকে বাণী যারা পেয়েছেন, তারা। কেননা আল্লাহ কুরআনের অসংখ্য যায়গায় কুরআন বোঝার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন- ‘যদি তোমরা চিন্তা কর’, ‘যদি তোমরা মাথা খাটাও’, ‘তোমরা কি চিন্তা করবেনা’? ‘তোমরা কি ভেবে দেখবে না’? ‘এই কুরআন চিন্তাশীলদের জন্য’, এর মধ্যে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শণ রয়েছে’; ইত্যাদি।
সুতরাং, কুরআনের পরতে পরতে রহস্য লুকিয়ে আছে, এটা বলেই দিয়েছেন। এবং আরবী “মুদ্দাসসির” শব্দটির অর্থই হলো “লুকায়িত” বা গোপন। এই গোপন কথাটি উন্মোচন করা নিয়ে মানুষ কেন এতদিন মাথা ঘামায় নাই? আল্লাহ ত শুরু থেকেই মাথা ঘামাতে বলেছেন। আর সুরা মুদ্দাসসির’ এর মধ্যে ১৯ সংখ্যাটির কথাও স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন।
তাহলে সাহাবীগণ, তাবেইন, তাবে-তাবেইনগণ এবং পরবর্তী স্কলার বা তাফসীর কারকগণ কি ব্যাপারটি বোঝেন নাই?
এর উত্তর দুইভাবে দেয়া যায়। প্রথমতঃ তারা হয়তো ব্যাপারটি বোঝেনই নাই। তারা কেবল ১৯ জন ফেরেশতা প্রহরী আছেন বলেই দায়িত্ব শেষ করেছেন। একদল আলেম ত রীতিমত এই ১৯ সংখ্যা তত্ত্বের বিরোধীতাই করেন। তাদের দাবী কুরআনকে নিয়ে এরকম সংখ্যাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করলে নাকি কুরআনের অবমাননা করা হবে, কুরআনের চেয়ে বিজ্ঞানকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে, মানুষ কুরআনের পথ থেকে সরে যাবে। কেউ কেউ আবার বলেছেন যে, মহানবী নিজেও এটা নাকি বুঝেন নাই। নাউজুবিল্লাহ! আর যিনি বা যারা বুঝেছেন, তারা নাকী নবীর চেয়েও জ্ঞ্যানী ইত্যাদি।
আসলে যারা দাঁড়ি, টুপি, জুব্বা হিজাবকে ইসলাম মনে করেন, যারা মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্কা, কাবা, গীর্জা, মন্দির, প্যাগোডা ইত্যাদিকেই ধর্ম মনে করেন, যারা কুরআনকে শুধু ইসলাম ধর্মের নিজস্ব সম্পত্তি মনে করেন, যারা সারা জীবন অমুক দোয়া পড়লে বিনা হিসাবে জান্নাত, তমুক সুরা পড়লে কবরের আযাব মাফ, মক্কা গিয়ে হজ্ব করলে সারা জীবনের গুণা মাফ ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ আছেন, যারা কুরআনকে না বুঝে সুরেলা কণ্ঠে তেলাওয়াত করেই জীবন পার করে দিলেন, যারা কুরআনের তাফসীর অন্তরে ধারণ না করে কেবল কাগজ আর কালিতেই রেখে দিলেন, যারা তথাকথিত কিছু মাজহাবি তথা মতাদর্শের সিলেবাসভিত্তিক কিতাব মুখস্থ করে দেওবন্দ, হাটহাজারি, ওহাবি, মাদানী, আজহারী, পন্ডিত, পাদ্রী, পুরোহিত ডিগ্রী নিয়ে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা কিংবা ওয়াজের মঞ্চে হাতা কাছায়ে গলা ফাটান, তাদের পক্ষে কুরআন দর্শন বোঝা প্রায় অসম্ভব। তারা কুরআনকে নিয়ে গবেষণা ত দূরে থাক, অন্য কেউ করলেও তাদের ধর্ম যায় যায় অবস্থা। অথচ তারা কুরআন পড়ে!
দ্বিতীয়তঃ আর এক দল আছেন, যারা সব সময় সুবিধাবাদী, নিজের গা বাচিয়ে চলেন। কোন ঝামেলায় যেতে চান না, কোনো চিন্তা গবেষণা করতে চান না, অন্যরা যা বলে গেছেন, তাই অনুসরণ করেন; কেউ জিজ্ঞেস করলে একটা সরল উত্তর দিয়ে দেন, ‘আল্লাহই ভালো জানেন’। তারাও কুরআন পড়েন! অথচ, আল্লাহ বলেছেন, গবেষণা করতে। মাথা খাটাতে। তাহলে তারা কী কুরআন পড়লেন, আর কি-ই বা বুঝলেন।
কুরআন কি কেবল কাগজের বই? যদি এটা কেবল কাগজের বই-ই হত, তাহলে ত আল্লাহ বলেছেন যে, কুরআন পাহাড়ে নাজিল হলে, পাহাড় ধ্বংস হয়ে যেত, সমুদ্রে নাজিল হলে সমুদ্র শুকিয়ে যেত। কই সারা পৃথিবীতে যত কুরআনের ছাপা কিতাব আছে, সব সমুদ্রে ফেলে দেখেন ত একফোটা পানিও কমে কিনা? পাহাড় চলমান হয় কিনা? হবেনা। কারণ আপনি বুঝেছেন মুদ্রিত কিতাবের কথা। আপনি ত কিতাব কি, নিদর্শণ কি, নবীর সিনা পরিস্কার করা বলতে কি বুঝানো হয়েছে, নবীজী কাবা রেখে হেরা গুহায় ধ্যান কেন করলেন? নবীকে রাহমাতুল্লিল আলামিন ঘোষণা দেয়া, আদমকে সেজদা করতে বলা, আল্লাহ ও মুহাম্মদ সঃ এর মধ্যে আলাদা মনে মনেও চিন্তা করতে নিষেধ করা, রিসালাত অব্যাহত থাকা ইত্যাদি এগুলো হয়তো বোঝেনই নাই। আর না বুঝে থাকলে দোষের কিছু নাই। বুঝার ইচ্ছা থাকলে বুঝে নিতে পারবেন। বরং না বুঝে ভুল-ভাল ব্যাখ্যা দেয়াটা দোষের, গবেষণা না করাটা, বুঝতে না চাওয়াটা এবং অন্যকে সত্য জানার পথে বাঁধা দেওয়াটা দোষের।
সুতরাং, অন্যেরা কি বলে গেছেন, তাদের কথায় চোখ বন্ধ রেখে বসে না থেকে নিজে কুরআন পড়ুন, বোঝার চেষ্টা করুন। জ্ঞানের অন্বেষণ করলে জ্ঞান আপনা আপনি ধরা দেয়। কোনকিছু পেতে যেমন ঘাপটি মেরে বসে থাকেন, জ্ঞানের বেলাতেও ওভাবে ঘাপটি মেরে বসে থাকলে জ্ঞান আপন ঘরে এসেই ধরা দেবে। শুধু আলো ঢোকার পথটা খোলা রাখতে হবে।
এতো গেলো ১৯ সংখ্যার মাহাত্ম। তাছাড়া আছে, কোরানে আল্লাহ শব্দ কতবার এসেছে, শয়তান শব্দ কতবার এসেছে, পানি শব্দ কতবার এসেছে, মাটি শব্দ কতবার এসেছে, – এসব আবার ১৯ দ্বারা বিভাজ্য – ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিন্তু এখানে এখানে আপনাদেরকে দেখাচ্ছি কোরানে গণিতের আরেক সর্বশ্রেষ্ঠ মাহাত্ম।
সূরা নিসা ৪:১১: আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু?জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু’ এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।
সূরা নিসা ৪:১২: আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক-চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়-ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
এখন এই বিধান অনুযায়ী আমরা একটা সম্পদ ভাগাভাগি করি। ধরি, একজন লোক ২৪০০০ টাকা রেখে মারা গেলো। তার আছে পিতা , মাতা, এক স্ত্রী এবং তিন কন্যা। তাহলে তার সম্পদ, কোরানের বিধান অনুযায়ী, এইভাবে ভাগ করতে হবে:
৩ কণ্যা পাবে ২৪০০০ এর ২/৩ অংশ অর্থ্যাৎ ১৬০০০ টাকা
পিতা পাবে ২৪০০০ এর ১/৬ অংশ অর্থ্যাৎ ৪০০০ টাকা
মাতা পাবে ২৪০০০ এর ১/৬ অংশ অর্থ্যাৎ ৪০০০ টাকা
স্ত্রী পাবে ২৪০০০ এর ১/৮ অংশ অর্থ্যাৎ ৩০০০ টাকা
তাহলে মোট পাওনা হলো: ১৬০০০ + ৪০০০ + ৪০০০ + ৩০০০ = ২৭০০০ টাকা; অথচ লোকটা মারা গেছে ২৪০০০ টাকা রেখে!
তাহলে বাকি ৩০০০ টাকা আসবে কোথা থেকে? নিশ্চয়ই এটাই হলো কোরানে আল্লাহ পাকের শ্রেষ্ঠ গাণিতিক মোজেজা!
এত কিছু প্রমানের পরও একদল নাস্তিক ও নিরাশাবাদীরা বলবে আরো প্রমান চাই,কারন এদের হৃদয়ে যে মোহর মেরে দিয়েছেন মহান আল্লাহ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ