4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: ত্রিপুরা রাজার গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড স্বপ্ন: পার্বত্যাঞ্চলসহ ১১ জেলা গিলে খাওয়ার আগ্রাসী ষড়যন্ত্র > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫

ত্রিপুরা রাজার গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড স্বপ্ন: পার্বত্যাঞ্চলসহ ১১ জেলা গিলে খাওয়ার আগ্রাসী ষড়যন্ত্র

 


‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’ : আগ্রাসী কল্পনা নাকি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার নীলনকশা?

সাম্প্রতিক সময়ে ত্রিপুরাভিত্তিক রাজনীতিতে একটি শব্দ বারবার আলোচনায় উঠে আসছে— ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’। এই ধারণার প্রবক্তা হিসেবে যিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত, তিনি হলেন প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা। নিজেকে ‘বুবাগ্রা’ নামে পরিচিত করালেও, তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হচ্ছে, তা নিছক আঞ্চলিক অধিকারের দাবি নয়; বরং তা প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এক বিপজ্জনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মার জন্ম নয়াদিল্লিতে, বেড়ে ওঠাও মূলত শহুরে ও অভিজাত পরিবেশে। বর্তমানে তিনি আগরতলায় বসবাস করলেও ত্রিপুরার আদিবাসী সমাজের সঙ্গে তাঁর সামাজিক ও ঐতিহাসিক সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তিনি TIPRA Motha দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’ নামের যে দাবি উত্থাপন করেছেন, তাতে শুধু ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য নয়, বরং বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ১১টি জেলা অন্তর্ভুক্ত করার কল্পনা করা হয়েছে। এই দাবি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে এক উসকানিমূলক অবস্থান।

রাজনৈতিক জীবনে তাঁর উত্থান তুলনামূলকভাবে নতুন। সাংবাদিকতা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ২০১৯ সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সদস্য হন। কিন্তু এই রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তাঁর বক্তব্যে যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও আগ্রাসী কল্পনার ছাপ দেখা যায়, তা কেবল ত্রিপুরার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

গত কয়েক বছরে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষমূলক সুর স্পষ্ট হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’-এর অংশ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। বাস্তবতা হলো—পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, তংচঙ্গ্যা, বম, খুমি, চাক, ম্রো, লুসাই, পাংখোয়া ও রাখাইন জনগোষ্ঠী কখনোই এমন কোনো দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়নি। বরং তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতর থেকেই স্বায়ত্তশাসন ও অধিকার সংক্রান্ত দাবি তুলে এসেছে, যা ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে আংশিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ এই অঞ্চলগুলোতে বাঙালি জনগোষ্ঠীর বসবাস হাজার বছরের ইতিহাস বহন করে। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর যাযাবর অতীত ইতিহাসের অংশ হলেও, তার ভিত্তিতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ওপর কোনো অধিকার দাবি করা যুক্তিসংগত নয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত আসে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে ঘিরে, যেখানে দিল্লিতে বিস্ফোরণের প্রেক্ষাপটে তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিদেশি সামরিক উপস্থিতির ইঙ্গিত দেন। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় একটি মানচিত্র, যেখানে বাংলাদেশের ১১টি জেলা লাল চিহ্ন দিয়ে তথাকথিত ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’-এর অংশ হিসেবে দেখানো হয়। এই মানচিত্র কেবল একটি গ্রাফিক নয়; এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা, যা সরাসরি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ও চিত্রণ প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অবস্থান নেওয়া একজন নেতার কাছ থেকে এ ধরনের আঞ্চলিক সম্প্রসারণমূলক বক্তব্য শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, বরং তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে, এই ধরনের মানচিত্রভিত্তিক দাবি ও উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ভারত সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে—নিজ ভূখণ্ড থেকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

পরিশেষে বলা যায়, ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’ কোনো বাস্তব রাজনৈতিক প্রকল্প নয়; এটি একটি কল্পনাভিত্তিক ধারণা, যা আঞ্চলিক শান্তি ও সহাবস্থানের পরিপন্থী। এই ধরনের আগ্রাসী স্বপ্ন সময়মতো প্রতিহত না করা হলে তা কেবল সীমান্ত উত্তেজনা নয়, বরং বৃহত্তর সংঘাতের বীজ বপন করতে পারে। বাংলাদেশের অখণ্ডতা প্রশ্নাতীত—এবং সে অখণ্ডতা রক্ষায় সচেতন কণ্ঠ সবসময় সোচ্চার থাকবে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...