বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা স্বৈরাচার সরকারকে বিতারিত করতে অনেক রক্ত ঝড়াতে হয়েছে এদেশের মানুষকে আর সময় লেগেছে দীর্ঘ ১৭ বছর। এই শেখ হাসিনার হাজারো কুকীর্তির মাঝে একটি বড় ইস্যু ছিলো অতিরিক্ত ভারত তোষন নীতি, ভারতকে বেশী সমীহ করা, ভারতের নিকট নিজ দেশের পররাষ্ট্রনীতি ইজারা দেওয়া।
ছাত্র জনতা তাদের রক্ত দিয়ে হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করলো আর হাসিনা পালালো ভারতেই,এখন ভারত হতে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হচ্ছে না।বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতা বাড়তেই চলছে। ভারত বিরোধিতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত পন্থী ইন্টেরীম সরকার নিজেদের চরিত্র লুকাতে তিস্তা ইস্যু,ট্রানজিট ইস্যু এমন কি ভারতের চিকেন নেক ও সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মুখরোচক কথা বলে বলে জনগনকে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েছে, সাথে রাজনৈতিক দল গুলোও একই পথে হাৃটছে, এ যেন বাংলাদেশ ভারতের বলয় হতে আদৌ বের হওয়ার সকল পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।
হাসিনা নামক খুনী যেখানে ভারতে আশ্রিত সেখানে ভারতের একজন নাগরিক ও ইসলাম ধর্মের দা'ঈ ডা:জাকির নায়েক বাংলাদেশে আসার অনুমতি পাচ্ছে না সেই ভারতেরই হুমকীতে।আর সে হুমকীকে ভয় পেয়ে সেভেন সিস্টার্স দখলের চটকদার বুলি আওড়ানো ইন্টেরীম জাকির নায়েককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি বন্ধ করে দিয়েছে। কিসের অজুহাতে? শুধু মাত্র নিরাপত্তার অজুহাতে!!
যদি এমনই হয় যে জাকির নায়েকের মত একজন শান্তিকামী ইসলামি দা'ঈকে বাংলাদেশে আসলে নিরাপত্তা দিতে সমস্যা হয় তাইলে এই সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে এর কি নিশ্চয়তা আছে? আমিত দেখছি ইন্টেরীম সরকার আওয়ামিলীগ এর মতই চাঁপাবাজ!! ব্যাটারা একজন জাকির নায়েকের মত দা'ঈর সমাবেশ গুলোকে নিরাপত্তা দেওয়ার মত সাহস রাখে না অথচ নিরাপদ নির্বাচন দিবে? চিকেন নেক দখন করবে ভারতের? সবই ধাপ্পাবাজী।
আপনারা যারা আমার কথায় দ্বিমত পোষন করবেন তাদেরকে একটা ছোট্ট উদাহরন দেই, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নাকি ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিবে আর এ নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রধান শর্ত নির্বাচনকে পেশীশক্তি মুক্ত করা আর অস্র মুক্ত রাখা, অথচ বিগত ১৬ মাসে বাংলাদেশের থানা হতে লুট হওয়া অস্ত্র গুলোই সরকার উদ্ধার করতে পারে নি, নিরাপদ নির্বাচন কেমনে দিবে সরকার? এগুলো কি চাঁপাবাজি নয়?
আমরা শুরু হতেই বলে আসছিলাম যে বর্তমান ইন্টেরীম সরকারও অন্য দেশের দালাল, আমাদের কথা কেউ শোনে নি,কিন্তু এই ডা: জাকির নায়েক ইস্যু সরকারের মুখোশ খুলে দিলো। এই ভিন দেশী দালালীর প্রতিযোগীতায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোও কম যায় না, বরং ক্ষমতার লোভে শেখ হাসিনার চেয়েও বোধ হয় একটু এগিয়ে। বাংলাদেশের জনগনের মাঝে এখন ভারত বিরোধীতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে, এমতাবস্থায়ও রাজনৈতিক দল গুলো জনগনের সমর্থনের কথা মাথায় না রেখে ভারতকে খুশি রাখার জন্য কিংবা ভারতকে নারাজ না করার জন্য ইন্টেরীম সরকারের ভারতের নিকট এত বড় একটা পরাজয় এবং নতি স্বীকারের বিষয়ে চুপ, কোনো একটি দলও এমনকি ইসলামি দল গুলোও ড. ইউনুস সরকারকে চোখে চোখ রেখে একটি কথা বলে নি, শুধু তাই নয়, এমন একটা পরাজিত ঘটনা বাংলাদেশে হয়েছে এমন বিষয়ে একটা টুঁ শব্দও করছে না,কারন সামনে নির্বাচন, দাদাবাবুদের খ্যাপানো চলবে না, এ যেনো হাসিনার আচরনেরই পুনরাবৃত্তি।
আর আমরা বাংলাদেশের জনগন আসলেই হত ভাগা, যার কাছেই জমি পাহাড়ার দায়িত্ব দেই সেই জমির ফসল চুরি করে, এ যেন যে যায় লঙ্কা সে হয় রাবন। বাংলাদেশের ইসলামি রাজনৈতিক দল গুলোর কোনো একটা দল হলেও এই জাকির নায়েক ইস্যুতে সরব হবে বলে মনে করে করেছিলাম আমরা,কিন্তু না কোনো ইসলামি দলই এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি নয়,কেননা তারাও দাদাবাবুদের পদলেহনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তারা তাদের ক্ষমতার উৎস জনগনের সমর্থনকে মনে করে না, তারা মনে করে ক্ষমতায় আসার মূল উৎস দাদাবাবুদের সমর্থন। বুঝা গেলো বাংলাদেশের বর্তমান ইসলামি দল গুলোও আর ইসলামি নাই, এই ইসলামি দল গুলো ভারতীয় চাটুকার, ইসলাম শুধুই লেবাসে,ভেতরে ভেতরে দাদাবাবুদের গোলাম।
সব চেয়ে দুখের বিষয় বাংলাদেশের মানুষ অদ্যবধি একজন যোগ্য ও দেশপ্রেমিক শাসক পেলাম না, সবাই নতি স্বীকার করে ভারতের দালালীতে বেশী মগ্ন।
এই ড. ইউনুসকে বাংলাদেশের ছাত্র জনতা সন্মান দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছ শুধুমাত্র দেশপ্রেমিক শাসক হিসাবে, একজন নোবেল ধারী এই বিশ্ব নেতা, আর বিশ্ব নেতাই আজ জাতির সাথে যখন প্রতারনা করে তখন আমাদের দূর্ভাগ্য ব্যতিত আর কিছুই মনে হয় না।
অবশেষে বলি, যে সরকার জাকির নায়েকের মত লোককে নিজ দেশে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ সে সরকার কখনোই নিরাপদ একটি নির্বাচন দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না,এই সরকার দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না, ভারত ইস্যুতে এই সরকার ১০০% গাদ্দার,তারাও ভারতের দাশ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ