পোস্টগুলি

ইতিহাস লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হামা গণহত্যা(Hama Massacre, February 1982)

ছবি
  হামা গণহত্যা (Hama Massacre, February 1982): সিরিয়ার রাষ্ট্র-সহিংসতা, রাজনৈতিক দমননীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব ডা.বশির আহাম্মদ, এমবিবিএস  মুক্ত গবেষক তারিখঃ০৯/৬২০২৬ ইং ই-মেইলঃ bashircomc@gmail.com সারসংক্ষেপ (Abstract) ​১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়ার হামা শহরে সংঘটিত সামরিক অভিযান আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার অন্যতম চরম বহিঃপ্রকাশ। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদের বাথ সরকার কর্তৃক মুসলিম ব্রাদারহুডের সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনের নামে পরিচালিত এই অভিযানটি মূলত একটি ব্যাপক বেসামরিক নিধনযজ্ঞে রূপ নেয়। এই গবেষণাপত্রটি গুণগত (Qualitative) ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে হামা হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সামরিক কৌশল এবং এর দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করে। গবেষণায় দেখা যায়, হামা অভিযান কেবল একটি সামরিক বিজয় ছিল না, বরং এটি সিরীয় রাষ্ট্রে 'ভয়ের সংস্কৃতি' (Culture of Fear) এবং 'বলপ্রয়োগনির্ভর স্থিতিশীলতা' (Coercive Stability) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের প্রধান হাতিয়ার ছিল। ২০১১ সালের সিরীয় গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ১৯৮২ সালের এই অমীমাংস...

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও মধ্যপ্রাচ্যের পুনর্গঠন: গোপন চুক্তি, বিভক্তি ও আধুনিক সংকটের ইতিহাস

ছবি
ভূমিকা বিশ শতকের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য ছিল বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্মীয় গুরুত্ব, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এবং পরবর্তীতে তেলের বিশাল মজুদ—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়। বিশেষ করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪–১৯১৮) মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রকে আমূল বদলে দেয়। এই সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এমন এক কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল গ্রহণ করে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আজও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর বিদ্যমান। ইতিহাসবিদদের মতে, ব্রিটিশদের মূল উদ্দেশ্য ছিল তিনটি— অটোমান সাম্রাজ্যের পতন নিশ্চিত করা, ভারত ও সুয়েজ খালের নিরাপত্তা রক্ষা করা, মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও কৌশলগত অঞ্চলগুলোর ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্রিটিশরা একই সময়ে আরব জাতীয়তাবাদীদের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয়, ফরাসিদের সঙ্গে গোপনে অঞ্চল ভাগাভাগির চুক্তি করে এবং ফিলিস্তিনে ইহুদি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠারও সমর্থন দেয়। এই বহুমুখী ও পরস্পরবিরোধী নীতিই পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করে। অটোমান সাম্রাজ্যের ...

হায়দ্রাবাদ—ভারতীয় ইতিহাসের এক নীরব গণহত্যার অধ্যায়

ছবি
  অধ্যায় ১ ভূমিকা: হায়দ্রাবাদ—ভারতীয় ইতিহাসের এক নীরব গণহত্যার অধ্যায় ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস সাধারণত “স্বাধীনতা”, “একতা” এবং “জাতীয় সংহতি”-র বয়ানে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু এই বয়ানের আড়ালে বহু রক্তাক্ত অধ্যায় চাপা পড়ে গেছে—যেগুলো রাষ্ট্রীয় ইতিহাসচর্চায় স্থান পায়নি, পাঠ্যপুস্তকে অনুপস্থিত থেকেছে, এবং রাজনৈতিক স্বার্থে দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়েছে। হায়দ্রাবাদ রাষ্ট্র দখল এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণহত্যা সেইসব নীরব, বিস্মৃত ও অস্বীকৃত অধ্যায়গুলোর অন্যতম। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের সময় ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় ৫৬৫টির মতো দেশীয় রাজ্য (Princely States) ছিল। ব্রিটিশ সরকার এই রাজ্যগুলোর ওপর প্রত্যক্ষ শাসন করত না; বরং তারা অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করত এবং আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে বিবেচিত হতো। ব্রিটিশরা বিদায় নেওয়ার সময় এসব রাজ্যকে তিনটি বিকল্প দেয়—ভারত, পাকিস্তান অথবা স্বাধীন থাকা। এই প্রেক্ষাপটে হায়দ্রাবাদ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ভারতীয় রাষ্ট্রের জন্মলগ্নেই এই সিদ্ধান্তকে “গ্রহণযোগ্য” মনে করা হয়নি। বরং ভারতের রা...