তবে কি নিজামী হত্যায় বর্তমান কেন্দ্রীয় জামায়াতের সম্মতি ছিলো?

তবে কি নিজামী হত্যায় বর্তমান কেন্দ্রীয় জামায়াতের সম্মতি ছিলো?

শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী হাফি:


সাবেক আমীর নিজামী নির্দোষ প্রমান হওয়ার পরও কোনো বিবৃতি নাই কেনো জামায়াতের?


বিগত স্বৈরাচারী হাসিনার রোষানলে পড়ে জামায়াতে ইসলামির মূল আদর্শবাদি অন্যান্য নেতাদের মতো জামায়াতের সাবেক আমীর জনাব মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে
 শহীদ হয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে তাঁকে নির্দোষ প্রমান করে মৃত্যু পরবর্তীতে খালাস দিয়েছেন। এটা জামায়াতে ইসলামীর একটা বড় অর্জনও বটে, যে জামায়াত আজীন বলতে পারবে আমাদের নেতাদের বিনা দোষে শহীদ করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী দশট্রাক অস্ত্র মামলায় বেকসুর খালাসের মাধ্যমে প্রমাণ হলো মাওলানা নিজামীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি নিরপরাধ ছিলেন তা আবারও প্রমাণিত হলো।

ভারতের ইঙ্গিতে মাওলানা নিজামীকে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

গত বুধবার হাইকোর্টের রায়ে মাওলানা নিজামীকে খালাস দেওয়ার পরও জামায়াত আজ পর্যত তাদের এই নির্দোষ সাবেক আমীরের বিষয়ে একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেয় নি। 

 সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের ইঙ্গিতে মাওলানা নিজামীকে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অথচ এ মামলায় তার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ সরকারপক্ষ আদালতে হাজির করতে পারেনি।

এ মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। এ বিচারের নামের প্রহসনের সঙ্গে জড়িত সবার বিচার দাবি করতে পারত জামায়াতে ইসলামী । 

একইভাবে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া মাওলানা নিজামীকে ফাঁসি দেওয়া হয়, যা বিচারিক হত্যার নামান্তর। আইনের শাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই হত্যাকাণ্ডসহ ফ্যাসিবাদী হাসিনার আদালতে সংঘটিত সব রাজনৈতিক বিচারিক হত্যাকাণ্ডের কমিশন গঠন করে সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার দাবি জরুরী ছিলো জামায়াতের জন্য।

 বহুল আলোচিত চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনায় করা মামলায় প্রয়াত জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড থেকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর শহীদ নিজামী



এখন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা সহ সকল রোকন, কর্মী ও সমর্থকদের নিকট আমার প্রশ্ন হলো, 
১। মাওলানা নিজামী কি আপনাদের আমীর ছিলো না?

২। মাওলানা নিজামী কি জামায়াতের জন্য জান ও মাল কুরবামী করে নি?

৩। জামায়াত কি নিজামী সাহেবের কুরবানী স্বীকার করে না?

৪। নিজামী নির্দোষ প্রমানের পর জামায়াতের কেউ তাঁর বিষয়ে অফিসিয়ালি কেনো বিবৃতি না দিয়ে কি প্রমান করে নি যে মাওলানা নিজামী হত্যায় তাদের মৌন সম্মতি ছিলো?

৫। এত বড় একটা মিথ্যা প্রমান যেখান জামায়াতে ইসলামী এটা হাইলাইট করার কথা সেখান তার বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা নিজামী সাহেবের নামটি পর্যত মুখে উচ্চারণ করছে না, এতে কি প্রমান হয় না যে নিজামী নির্দোষ প্রমান হওয়া জামায়াত দলীয় ভাবে খুশি হয় নি?

৬। এই বিষয়ে জামায়াতের কর্মী ও রোকনরা কি কেন্দ্রকে কোনো প্রশ্ন করেছেন, না করে থাকলে আপনারাও কি কেন্দ্রের সাথে একমত?

জামায়াতের বর্তমান আমীর ডা: শফিকুর রকমান, সকল কেন্দ্রীয় নেতা হতে শুরু করে রুকন,কর্মী,  সমর্থক ও শুভাকাঙ্খী সবার নিকট আমার এই প্রশ্ন গুলো রইলো।

আশা করি উত্তরটা দিবেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ইসলামে সূফীবাদ নামক কুফুরী ভ্রান্তি

মাও: মওদূদীর ভ্রান্ত আকীদা নিয়ে ৮৫ বছর যাবত ভারতবর্ষের আলেমদের বিতর্কের কারন

স্বাধীনতার যুদ্ধে সহায়তার নামে ভারতীয় বাহিনীর বাংলাদেশ লুটের হিসাব

আহলে হাদিসের ভন্ডামীর আদ্যোপান্ত

ঈমান আনায়নের পর প্রথম কাজ মুসলমানদের ভূমি রক্ষা

জামায়াতে ইসলামীর শালী তালাক

দেশের জন্য সব হারানো বেগম খালেদা জিয়ার সফল সংগ্রামী জীবন

জয়বাংলা একটি পাকিস্তানি হাইব্রিড স্লোগান

প্রকৃত বুদ্ধিজীবি হত্যাকারী নিজামী নয় আওয়ামিলীগ, তাদের বিচার চাই