4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: মিয়ারে হক্ব নিয়ে বাড়াবাড়ি > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪

মিয়ারে হক্ব নিয়ে বাড়াবাড়ি

 "১৪৫০ বছর পর কেনো সত্যের মাপকাঠি নিয়ে বাড়াবাড়ি? "

মিয়ারে হক্ব বিতর্ক 



হঠাৎ করেই বিগত কয়েকদিন যাবত বাংলাদেশের আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যে সত্যের মাপকাঠি নিয়ে বেশ ভাল বিতর্ক হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হলো বিগত ১৪৫০ বছর পরও যদি সত্যের মাপকাঠিই না চিনলেো আলেমরা, তাইলে কিসের ইসলাম পালন করলো বা করছে?

আলেমদের এই বিতর্ক দেখে একদিকে যেমন চরম মেজাজ খরাপ হচ্ছে,আবার হাসিও পাচ্ছে। ভাবছি এই আলেম সমাজ আমাদের ধর্মের ব্যাখ্যা দাতা? আমাদের কপাল এতই খারাপ? আমরা বোকা না আলেমরা আমাদের বোকা বানাচ্ছে? নাকি আলেমরা নিজেরাই পথ ভ্রষ্ট? 

বিতর্কের বিষয়টা হলো সত্যের মাপ কাঠি নিয়ে। এখানে দুটি আলাদা শব্দ আছে, সত্য ও মাপকাঠি।  

আগে আসুন জানি সত্য কি?
যেহেতু অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যতের কোন কিছুই স্থিতিশীল নয় একমাত্র আল্লাহ ও তার বিধান ব্যতিত, সেহেতু আল্লাহ ও তাঁর বিধানই চিরন্তন সত্য।এখানে বুঝাগেলো আল্লাহর ঠিক করে দেওয়া বিধান ও নিয়মই একমাত্র সত্য। এই সত্যেরও আল্লহ আলাদা আলাদা বিধান দিয়েছেন।

যেমন শরীয়তের ক্ষেত্রে সত্যের মাপকাঠি আল কোরআন।  যারা যারা গতি বিদ্যায় পরাশোনা করেছেন তারা জানেন অভিকর্ষজ ত্বরন তথা শূন্য হতে পৃথিবীতে আগত পরন্ত বস্তুর গতি বৃদ্ধির হার পৃথিবীর পৃষ্ঠে ৯.৮১ মিটার প্রতি সেকেন্ডে।

কিন্তু এটা একটা নির্দ্দিষ্ট স্থানে বুজানো হয়েছে। বিষুব রেখায় এক রকম আবার পূথিবীর শূন্যে অন্যরকম। তবুও আমরা ৯.৮১ এই মানটাকেই ধ্রুব মনে করি।

আবার আলোর গতিও বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কিন্তু শূন্যস্থানের আলোর বেগটাকেই আমরা ধ্রুব মনে করি।

আলোর বেগের একক দিয়ে যেমন অভিকর্ষজ ত্বরন মাপা সম্ভব না তেমনি অভিকর্ষজ ত্বরনের একক দিয়ে গাড়ির গতিবেগ নির্ণয় সম্ভব না। একেক জিনিসের পরিমাপের একক আলাদা আলাদা।

কিন্তু আলেমদের সমস্যা হলো কোন সত্যটার পরিমাপ তারা কি দিয়ে করতে চাচ্ছে সেটাই তারা জানেনন না, শুধু শুধু তর্ক করে এবং তাদের বিতর্ক দেখে আমি নিজেও বুঝতেছিনা তারা কোন সত্যের মাপকাঠি খোঁজছে?

আধুনিক বিজ্ঞানে আলোর গতি দ্বারা স্থিরকৃত যে মিটার পদ্ধতি দিয়ে মাপা হয় তাও তো ধ্রুব সত্য, কেননা শূন্যস্থানে আলোর গতি সর্বদাই সমান। তাইলে এটাই দূরর্ত্ব মাপার সত্য মাপকাঠি। আলেমরা এখানে কোন সত্যটার মাপকাঠি খোঁজছেন? 

আমি মনে করি এটা নিয়ে এত বাড়াবাড়ি না করে শরীয়তের সত্যের মাপকাঠি নিয়ে কথা বললেই সকল আলেমগন সহজে সমাধান পাবেন।



দুনিয়ার সকল পরিবর্তনশীল সর্ব কিছুরর মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর বিধানই চিরন্তন সত্য, আর এই চিরন্তনই সত্যতা ও সার্বজনীনতার একমাত্র স্থিতিশীল মাপকাঠি এবং আল্লাহর দেওয়া ধরাবাধা নিয়মই হলো শরীয়ত যাহা মহাবিশ্বের জন্য শাশ্বত সত্য, এই শরীয়তের মাপকাঠিতে যারা উত্তীর্ণ তাদেরকেই  মাপ কাঠির আদর্শ মনে করা হবে। শরয়ী মাপকাঠিতে উত্তীর্ণদের বৈশিষ্ট্য ও তালিকা আল কোরআনে যা বর্ননা করেছেন তাহাই সত্য, তা হতে কম বা বেশী কিছুই নয়।


এখন আপনারাই চিন্তা করুন যে, শরীয়তের মূল মাপকাঠি কি? আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের মূল মাপকাঠি হলো আলকোরআন এবং আল্লাহর দেওয়া এই বিধানের আলোকে শরীয়তের মানদন্ডে হযরত মুহাম্মদ সা: রাসূল হিসাবে ১০০ নম্বরে ১০০ নম্বর পেয়ে পেয়ে উত্তীর্ণ। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সা: রাসূল হিসাবে এই পরীক্ষায় অর্থাদ শরীয়তের বিধানের পরীক্ষায়ই উত্তীর্ণ হয়েছেন। 

এবার আসুন অন্য একটা ঘটনার আলোকে কিছু কথা বলি। হাদিসের ভাষ্য মতে একদা এক মা তার এক সন্তানকে রাসূল(সা:) নিকট নিয়ে এসেছিল এই মর্মে বুঝিয়ে দিতে যে বাচ্চাটি যেন বেশী মিষ্টি না খায়, কেননা ঐ শিশু বাচ্চাটি এত বেশী মিষ্টি খেত যে এটা বচ্চার জন্য ক্ষতিকর ছিলো। আমাদের দয়াল নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) নিজেও মিষ্টি খেতে পছন্দ করতেন। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি কেনো তৃতীয়বার বাচ্চাটিকে মিষ্টি খেতে নিষেধ করেছিলো প্রথম ও দ্বিতীয়বার না করে সেটা আপনারা সবাই জানেন।

এখন প্রশ্ন হলো এই মিষ্টি খওয়ার সুন্নাত এর বিষয়টি নিয়ে যাদের ডায়াবেটিস বা সুগার সমস্যার সম্ভাবনা আছে তা মানবে, মানে বেশী বেশী মিষ্টি খাবে? নাকি হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর মিষ্টি পছন্দ করার বিষয়টি নিয়ে শরীয়তের মাপকাঠিতে টানাটানির সুযোগ আছে?

না এখানে বিতর্কের সুযোগ নাই, কেননা শরীয়ত যেহেতু মিষ্টি খাওয়ার বিষয়ে কোন বিধি বিধান জারী করে নি এটা ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিয়েছে, এটা নিয়ে কোন বাড়াবাড়ির সুযোগ নাই।  এখানে আমরা শরীয়তের বিধিবিধানকেই প্রধান্য দেব, শরীয়তে যার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে কিংবা ইমানদার ব্যক্তির ইচ্ছা ও ইনসাফের উপর যা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে আমাদের মাতামাতির দরকার নাই।

আবার আসেন যেহেতু হযরত মুহাম্মদ সা: আলকোরআনের আলোকে সত্যের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ সেহেতু তাঁর হাদিস গুলোকে কি আমরা সত্যের মাপকাঠির একক মানব না, বলব যে হাদিস সত্যের মাপকাঠির একক না? না, হাদিসও সত্যের মাপকাঠি তবে আলকোরআনের পরের স্থানে শরীয়তের  মাপকাঠির একক। 

তার পর আসে সাহাবাদের ক্ষেত্রে শরীয়তের মাপকাঠি নেওয়া যাবে কিনা? আলকোরআনে যেহেতু সাহাবাদের বিষয়ে সুস্পষ্ট ভাবে সাহাবাগনকে আল্লাহ মুক্তির সনদ দিয়েছেন সেহেতু এটা তো বুঝতে বাকি নাই যে তারাও আল্লাহর শরীয়তের পরীক্ষায় নি:সন্দেহে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং এজন্যই আল্লাহতা'লা সাহাবাগনের উপর রাজি ও খুশি হয়েই তাঁদের এই পুরস্কারে ভুঁষিত করেছেন। অতএব শরীয়তের মাপকাঠি হিসাবে তৃতীয় স্থানে আমরা সাহাবাদের ব্যাখ্যাকে রাখলে ভুল হওয়ার সুযোগ নাই বলেই প্রতিয়মান হয়। কিন্তু সাহাবাদের ব্যক্তি জীবনে কোন ত্রুটি থাকলে ওটা দিয়ে শরীয়ত মাপলে হবে না। কিন্তু সাহাবা পরবর্তী অন্য কোন জেনারেশনকে এই তালিকায় আনার কোন সুযোগ নাই, হোক এটা পীর কিংবা আকাবীর।

শেষ প্রশ্ন হলো সত্যের মাপকাঠির সাথে শরীয়তের মাপকাঠির সম্পর্ক কি? যেহেতু শরীয়তই চিরন্তন সত্য সেহেতু শরীয়তের সত্যের মাপকাঠিই প্রকৃতপক্ষে সত্যের মাপকাঠি। 

অতএব আলেম সমাজের প্রতি অনুরোধ দয়া করে আপনাদের চিন্তা জ্ঞানের দিগন্ত প্রশস্ত করুন। ১৪৫০ বছর পর এসে মীমাংসিত বিষয় নিয়ে তর্ক বাড়ানো শুধু শুধু নিজেদেরকে মূর্খ ও জালিমের খাতায় টেনে নেওয়া ছাড়া আর কিছুই না।

লেখক: চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...