4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: আমার মহান আল্লাহর অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক প্রমান > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

আমার মহান আল্লাহর অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক প্রমান

আল্লাহর অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক প্রমান 



এবারের প্রশ্নটি নাস্তিকদের মূল বেসিক প্রশ্ন, আর তা হলো আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমান কি?


আসলে দুনিয়ার সকল কিছুর অস্তিত্বের প্রমান সবার কাছে আসে না, কেননা, এটা সদিচ্ছা, নিরপেক্ষতা,সরলতা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। অনেক কিছুই আমরা চোখে দেখি না তবুও আমাদের নিকট প্রমানিত যে এগুলোর অস্তিত্ব আছে।

আসুন এমন কিছু বাস্তব উদাহরন আমি আপনাদেরকে দেই:

১। বাতাস আমরা দেখি না কিন্তু জানি বাতাস আছে। এখন নাস্তিকরা কি আমাকে চোখে দেখাতে পারবে যে বাতাস আছে?

২। বিদ্যুৎ শক্তি নামে একটি প্রবাহ আছে, কিন্তু বিশেষ প্রক্রিয়া ছাড়া কি চোখে দেখতে পারবে বিদ্যুৎ সাদা না কালো?

৩।চৌম্বক শক্তি নামে একটা শক্তি আছে, নাস্তিকরা আমাকে দেকাতে পারবে যে চৌম্বক শক্তি দেখতে কেমন?

৪।মধ্যাকর্ষন শক্তি নামে এক প্রকার শক্তি আছে যার প্রভাবে বস্তু উপর হতে নীচে পড়ে যায়, এখন এই সকল নাস্তিক মিলে আমাকে দেখাতে পারবে এই মধ্যাকর্ষন শক্তি আইক্কা ওয়ালা না আইক্কা ছাড়া? পারবে না।

উপরের প্রত্যেকটি জিনিসই প্রমানিত সত্য এবং প্রমান করা সম্ভব, কিন্তু সকল কিছুর প্রমানের পথ আলাদা আলাদা।

এবার আসি কিছু অলৌকিক সত্যের বিষয়ে:
১। মদিনায় জিন পাহাড়ে যে বস্তুর গতি সর্বদা ভাটি থেকে উজান দিকে তা কি কেউ আজীবন ব্যাখ্যা দিতে পারবে?

২।মানুষকে জ্বীন আচর করলে অস্বভাবিক আচরন করে, এটা সবাই কম বেশী দেখেছেন, আবার এর প্রভাব চলে গেলে মানুষ স্বাভাবিক হয়ে যায়, এটার কোন বৈজ্ঞানিক প্রমান কেউ দিতে পারবে?

৩।আমাবস্যা ও পূর্নিমায় মানুষের সুস্থ হওয়ার পর বহুকালের পূরাতন ব্যথা নতুন করে অনুভব করে, এর সরাসরি ব্যাখ্যা কি  দিতে পারবে? পারবে না।

৪। এইযে আলো, এটা কি কনা, না ঢেউ, না চুম্বক, না তরিৎ চৌম্বক, নাকি তরিৎ ও চৌম্বক ১০০% নিশ্চিত আজওবধি কোন বিজ্ঞানী ব্যাখ্যা করতে পেরেছে?

উপরের আলোচনা হতে প্রমানিত হলো যে পৃথিবীতে এমন কিছুর অস্তিত্ব আছে যা চোখে দেখানো সম্ভব না, আবার এমন কিছু ঘটনা আছে যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করা সমৃভব মা, তবুও তার অস্তিব আমরা অনুভব করি

অনুরুপ সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বও আছে তবে এটা চোখে দেখা সম্ভব না কিন্তু তবুও এটা প্রমান যোগ্য ও অনুধাবন যোগ্য। স্রষ্টাকে প্রমান করার একমাত্র মাধ্যম নিরপেক্ষ চিন্তা ও প্রখর অনুধাবন।এটার জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আলকোরআন নামক মাপকাঠি।  চলুন আলকোরআন দিয়ে সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্ব প্রমান করি।কারন কোরআন ই ১৪০০ বছর আগে নাজিল কৃত নির্ভুল কিতাব যার ভুল অদ্যবদি কেউ বের করতে পারে নি।

আল্লাহর অস্তিত্ব: কুরআনের আর্গুমেন্ট:
তারা কি আপনা-আপনিই সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে নাম

কুরআনের এ আয়াত দুটি আমাদেরকে আল্লাহর অস্তিত্বের একটি শক্তিশালী এবং ইনটুইটিভ (intuitive) আর্গুমেন্টের সামনে দাঁড় করায়। কুরআন এখানে 'خلفو" শব্দটি ব্যবহার করেছে। সুতরাং এই আর্গুমেন্টটি 'যা কিছু অস্তিত্বের মধ্যে' অর্থাৎ যা কিছু সৃষ্ট, সেই সকল বস্তুর ওপরই প্রয়োগ করা যায়। আর্গুমেন্টটিকে যদি ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করা হয়, তাহলে দেখা যাবে, কুরআন এখানে কোনো কিছু সৃষ্টি হওয়ার কয়েকটি সম্ভাব্য উপায় বলছে-

কোনো স্রষ্টা ছাড়া আপনা-আপনি সৃষ্টি: 'তারা কি আপনা-আপনিই সৃষ্ট হয়েছে?'

নিজেরাই নিজেদের অস্তিত্বে আনা: 'তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা?'

আপনা-আপনিও নয়, নিজেরাও নয়; বরং মহান কোনো সত্তার সৃষ্টির কারণে অস্তিত্বে আসা : '
তারা কি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না।' এখানে কুরআন বলছে, তারা আসমান-জমিন কোনো কিছুই সৃষ্টি করেনি। বাস্তবতা হলো-তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মহান এক সত্তা, কিন্তু তারা তা বিশ্বাস করে না।

এখন আমরা কুরআনের আয়াতগুলো থেকে বেরিয়ে একটি ইউনিভার্সাল আর্গুমেন্ট দাঁড় করাব ইনশা আল্লাহ।

এক. মহাবিশ্ব সসীম।

দুই. সসীম মহাবিশ্বকে অবশ্যই অস্তিত্বে আসতে হবে। কুরআন অনুযায়ী সম্ভাব্য তিনটি উপায় হলো-

* শূন্য থেকে আপনা-আপনি হবে।

নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করবে।

এমন এক সত্তা থেকে আসবে-যিনি কিনা নিজের অস্তিত্বের জন্য অন্য কোনো সত্তার ওপরে নির্ভরশীল নন, অর্থাৎ একজন নেসেসারি বিয়িং।

তিন. শূন্য থেকে কিংবা নিজেই নিজেকে সৃষ্টির মাধ্যমে মহাবিশ্ব অস্তিত্বে আসতে পারে না।

চার. সুতরাং, মহাবিশ্বের অস্তিত্বে আসার কারণ হচ্ছে-অমুখাপেক্ষী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

মহাবিশ্ব কি সসীম?

আজ থেকে প্রায় ২৪০০ বছর পেছনে প্রাচীন গ্রিস থেকে একটু ঘুরে আসা যাক। পথে হয়তো লাইসিয়াম থেকে আসা কিংবা এপিকিউরিয়ানদের বাগান থেকে বের হওয়া কারো সঙ্গে দেখাও হয়ে যেতে পারে। তাকে যদি প্রশ্ন করেন 'এই মহাবিশ্ব কোথা থেকে অস্তিত্বে এলো?' তাহলে সে হয়তো আপনাকে বোকা মনে করে উত্তর দিত-'আরে মিয়া, এসব কী বলেন? মহাবিশ্বের আবার শুরু আছে নাকি?

এটা তো অসীমকাল থেকেই আছে। এর আবার অস্তিত্বে আসতে হবে কেন?'

যেমনটা এরিস্টটল মনে করতেন, মহাবিশ্বে অন্য সবকিছু বিরাজমান পদার্থ থেকেই তৈরি হয়। ধরা যাক, আপনি একটি বাড়ি বানাবেন। বাড়ি বানাতে আপনার প্রয়োজন ইট, বালু, সিমেন্ট-সহ আনুষঙ্গিক আরও অনেক কিছু। এই বস্তুগুলো কিন্তু মহাবিশ্বেরই অংশ। এদেরকে এরিস্টটল বলতেন 'Substratum'। আর তিনি মনে করতেন, এই সাবস্ট্যাটাম হলো 'ইটারনাল' অর্থাৎ অনন্তকাল ধরেই আছে; এর কোনো শুরু নেই!



আচ্ছা ঠিক আছে, কষ্ট করে এত পেছনেও যেতে হবে না। এই ধরেন, ফিলোসফার বাট্রান্ড রাসেলকেই জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি যা বলতেন, তা হলো-

দুনিয়ায় কোন কিছুই আপনা আপনি সৃষ্ট নয়।

কিন্তু থার্মোডাইনামিক্সের দ্বিতীয় সূত্রটি সব সময় মহাবিশ্বের একটি শুরুর দিকে ইঙ্গিত দেয়। এই নীতি বলে, কোনো একটি বদ্ধ ব্যবস্থা (Closed System) সব সময় একটি সাম্যাবস্থার দিকে এগোয়। অর্থাৎ, সময়ের সাথে সাথে এন্ট্রপি বেড়ে একটি তাপীয় মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। সুতরাং, আমাদের মহাবিশ্ব যেহেতু সম্মিলিতভাবে একটি বদ্ধ ব্যবস্থা, তাই অসীমকাল থেকে এর অস্তিত্ব থাকলে এটি এখন তাপীয় মৃত্যুর অবস্থায় থাকত। আপনি এই লেখা পড়ার জন্য এখানে থাকতেন না কিংবা আমি এই লেখা লেখার জন্যও হয়তো থাকতাম না। যা-ই হোক, এখানে আমরা কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে এগোবো না। কারণ, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭টির মতো কসমোলজিকাল থিওরি রয়েছে, যেখানে কিছু তত্ত্ব বলে মহাবিশ্ব চিরস্থায়ী (eternal), আবার কিছু তথ্য বলে মহাবিশ্বের একটি নির্দিষ্ট শুরু রয়েছে।

এক্ষেত্রে আমরা কিছু অ্যানালজি দেখব যে, মহাবিশ্ব আসলেই অসীম হতে পারে কি না। প্রকৃতপক্ষেই কি বিচ্ছিন্ন ভৌতজগতে (Discrete physical world) অসীম (Actual infinity) থাকতে পারে? অসীমতাকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

প্রথমত, আনডিফারেন্সিয়েটেড অসীম। অর্থাৎ যা ছোট ছোট অংশে ভাগ করা যায় না এমন কিছুর অসীমতা। যেমন স্রষ্টার অসীমতা।

আর অন্য ধরনের অসীমতা হচ্ছে, অসীমতাকে ভৌতজগতের কোনো কিছুর ওপরে আরোপ করা। যে সকল বস্তুকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা যায়, তাদের ওপরে আরোপ করা। সেটা হতে পারে মহাবিশ্বের কোনো বস্তুর ওপরেই। প্রথম ধরনের অসীমতা থাকা সম্ভব; কিন্তু দ্বিতীয় ধরনের অসীমতা থাকা কি আদৌ সম্ভব? অর্থাৎ, প্রকৃত অসীম থাকা কি সম্ভব?/

কয়েকটি উদাহরণ দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, প্রকৃত অসীম থাকা একেবারেই অসম্ভব।

একটি ব্যাগ কল্পনা করুন, যেখানে অসীমসংখ্যক বল রাখা আছে। এখন, যদি আপনি ব্যাগ থেকে দুটি বল সরিয়ে ফেলেন তাহলে ব্যাগে কয়টি বল থাকবে? গাণিতিকভাবে এখনো অব্দি অসীমসংখ্যক বলই ব্যাগে আছে; কিন্তু যা ছিল তার থেকে দুটি কম। এবার যদি আপনি দুটি বল ব্যাগে যোগ করে দেন তাহলে কয়টি বল ব্যাগে থাকবে? যা ছিল তার থেকে দুটি বেশি। মানে অসীম থেকে দুই বেশি? অসম্ভব! আপনি ব্যাগ থেকে বলগুলো বের করে গুনে দেখতে পারেন; কিন্তু আপনি কখনোই অসীমসংখ্যক বল গুনতে পারবেন না। কারণ, অসীম কেবল একটি ধারণা মাত্র। বস্তুজগতে এর কোনো অস্তিত্বই নেই। আর এ কারণেই, বিখ্যাত জার্মান গণিতবিদ ডেভিড হিলবার্ট (David Hilbert) বলেছিলেন-

"The infinite is nowhere to be found in reality. It neither exists in nature nor provides a legitimate basis for rational thought...the role that remains for the infinite to play is solely that of an ideal

কিছু কিউবের কথা চিন্তা করুন। প্রথম কিউবটি ১০ ঘন সেন্টিমিটার আয়তনের। এবার এর ওপরে এর অর্ধেক আয়তনের একটি কিউব রাখুন। এভাবে আবার দ্বিতীয় প্রথমত, আনডিফারেন্সিয়েটেড অসীম। অর্থাৎ যা ছোট ছোট অংশে ভাগ করা যায় না এমন কিছুর অসীমতা। যেমন স্রষ্টার অসীমতা।

আর অন্য ধরনের অসীমতা হচ্ছে, অসীমতাকে ভৌতজগতের কোনো কিছুর ওপরে আরোপ করা। যে সকল বস্তুকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা যায়, তাদের ওপরে আরোপ করা। সেটা হতে পারে মহাবিশ্বের কোনো বস্তুর ওপরেই। প্রথম ধরনের

অসীমতা থাকা সম্ভব; কিন্তু দ্বিতীয় ধরনের অসীমতা থাকা কি আদৌ সম্ভব?

অর্থাৎ, প্রকৃত অসীম থাকা কি সম্ভব?/

কয়েকটি উদাহরণ দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, প্রকৃত অসীম থাকা একেবারেই অসম্ভব।

একটি ব্যাগ কল্পনা করুন, যেখানে অসীমসংখ্যক বল রাখা আছে। এখন, যদি আপনি ব্যাগ থেকে দুটি বল সরিয়ে ফেলেন তাহলে ব্যাগে কয়টি বল থাকবে? গাণিতিকভাবে এখনো অব্দি অসীমসংখ্যক বলই ব্যাগে আছে; কিন্তু যা ছিল তার থেকে দুটি কম। এবার যদি আপনি দুটি বল ব্যাগে যোগ করে দেন তাহলে কয়টি বল ব্যাগে থাকবে? যা ছিল তার থেকে দুটি বেশি। মানে অসীম থেকে দুই বেশি? অসম্ভব! আপনি ব্যাগ থেকে বলগুলো বের করে গুনে দেখতে পারেন; কিন্তু আপনি কখনোই অসীমসংখ্যক বল গুনতে পারবেন না। কারণ, অসীম কেবল একটি ধারণা মাত্র। বস্তুজগতে এর কোনো অস্তিত্বই নেই। আর এ কারণেই, বিখ্যাত জার্মান গণিতবিদ ডেভিড হিলবার্ট (David Hilbert) বলেছিলেন-

"The infinite is nowhere to be found in reality. It neither exists in nature nor provides a legitimate basis for rational thought...the role that remains for the infinite to play is solely that of an idea, "[]

কিছু কিউবের কথা চিন্তা করুন। প্রথম কিউবটি ১০ ঘন সেন্টিমিটার আয়তনের। এবার এর ওপরে এর অর্ধেক আয়তনের একটি কিউব রাখুন। এভাবে আবার দ্বিতীয় কিউবের অর্ধেক আয়তনের আরেকটি কিউব এর ওপর রাখুন। এভাবে রাখতেই থাকুন। কিউব রাখতে রাখতে অসীমসংখ্যক কিউব রাখুন। এবার সবচেয়ে ওপরের কিউবটি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। সেখানে কি কোনো কিউব আছে? ধরা যাক, আছে এবং আপনি সেটি সরিয়েও ফেললেন। তা-ই যদি হয়, মানে সবচেয়ে ওপরে যদি একটি কিউব থাকে, তাহলে কী দাঁড়াল? এটাই দাঁড়াল যে, কিউবের টাওয়ার কখনোই অসীমে পৌঁছায়নি। আর সবচেয়ে ওপরে যদি কোনো কিউব না পাওয়া যায়, তবুও কিউবের টাওয়ারটি কখনোই অসীমে পৌঁছাতে পারেনি। এর মানে discrete physical things কখনোই অসীম হতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডও ওপরে বলা ব্যাগের বলগুলো আর কিউবগুলো থেকে ভিন্ন কিছু নয়। এই মহাবিশ্ব যৌক্তিকভাবে সসীম এবং অবশ্যই এর একটি শুরু থাকতে হবে।


শূন্য থেকে আপনা-আপনি সৃষ্টি:

শূন্য থেকে আপনা-আপনি কিছু কি সৃষ্টি হতে পারে? এর উত্তর আমরা আমাদের ইনটুইশান (intuition) থেকে কোনো দ্বিধা ছাড়াই দিয়ে দিতে পারি- 'না'। মেটাফিজিক্যললি-Being can't come from nonbeing. তবে, এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, পরম শূন্যতা আর কোয়ান্টাম শূন্যতা এক বিষয় নয়। কোয়ান্টাম শূন্যতা কখনোই পরম শূন্যতা নয়। কোয়ান্টাম শূন্যতায় ভ্যাকুয়াম আ্যনার্জি থাকে। সুতরাং, এটা নাথিং নয়, সামথিং। পরম শূন্যতায় কোনো স্থান, কাল, শক্তি এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো কার্য-কারণ (Cause and effect) থাকবে না। এমন শূন্যতা থেকে কিছু অস্তিত্বে আসা সম্ভব নয়। এমনটা হলে, যে কেউই যা ইচ্ছে তা-ই করে বসতে পারে। যেমন-বিশাল ভবন টুপ করে নাই হয়ে যেতে পারে, হঠাৎ যেকোনো কিছু অস্তিত্বে চলে আসতে পারে। ব্যাপারটা কতটা আষাঢ়ে ও অযৌক্তিক ভাবুন তো একবার! সুতরাং, পরম শূন্যতা, যেখানে কোনো causal condition নেই, এমন কিছু থেকে মহাবিশ্ব অস্তিত্বে আসতে পারে না। না।

নিজেই নিজেকে সৃষ্টি:

নিজেই নিজেকে অস্তিত্বে আনা কি সম্ভব? কোনো কিছু অস্তিত্বে আসতে হলে তার পেছনে পূর্ব থেকে বিরাজমান একটি কারণ লাগে (pre-existing cause)। ধরা যাক B-কে অস্তিত্বে আসতে হলে A-এর প্রয়োজন হবে। এখানে A-কে অবশ্যই B-এর আগে থেকে অস্তিত্বে থাকতে হবে। B নিজেকে নিজে কখনোই সৃষ্টি করতে পারবে না। কারণ, তা করতে হলে B-কে আগে থেকেই অস্তিত্বে কিউবটি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। সেখানে কি কোনো কিউব আছে? ধরা যাক, আছে এবং আপনি সেটি সরিয়েও ফেললেন। তা-ই যদি হয়, মানে সবচেয়ে ওপরে যদি একটি কিউব থাকে, তাহলে কী দাঁড়াল? এটাই দাঁড়াল যে, কিউবের টাওয়ার কখনোই অসীমে পৌঁছায়নি। আর সবচেয়ে ওপরে যদি কোনো কিউব না পাওয়া যায়, তবুও কিউবের টাওয়ারটি কখনোই অসীমে পৌঁছাতে পারেনি। এর মানে discrete physical things কখনোই অসীম হতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডও ওপরে বলা ব্যাগের বলগুলো আর কিউবগুলো থেকে ভিন্ন কিছু নয়। এই মহাবিশ্ব যৌক্তিকভাবে সসীম এবং অবশ্যই এর একটি শুরু থাকতে হবে।



কে সৃজিল তবে এ নিখিল মহাবিশ্ব?

সুমহান আল্লাহ কুরআনে বলেছেন-

বরং তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না।১৯

কুরআনের করা এই আর্গুমেন্ট অনুযায়ী মহাবিশ্ব আপনা-আপনিই অস্তিত্বে আসেনি, আবার নিজেও নিজেকে সৃষ্টি করেনি; বরং নিঃসন্দেহে এটা আল্লাহর সৃষ্টি। যদিও অবিশ্বাসীরা তা বিশ্বাস করতে চায় না।

এখানে, এই প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ নেই যে-'স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল?' কারণ, তিনি হলেন একজন নেসেসারি বিয়িং, যিনি নিজে সৃষ্ট নন এবং অন্য কোনো সত্তার ওপর নির্ভরশীলও নন। সংগত কারণেই এমন একজন সত্তার অস্থিত্ব আমাদের স্বীকার করতেই হবে। নয়তো আমাদের এ মহাবিশ্বের অস্তিত্বে আসা অসম্ভব হয়ে পড়ত। একটু বুঝিয়ে বলি-

ধরে নিই, মহাবিশ্বের সৃষ্টির জন্য U1 দায়ী। এখন এই U1 নিজেই যদি সৃষ্ট হয়ে থাকে বা 'contingent' হয়ে থাকে, অর্থাৎ নিজের অস্তিত্বের জন্য একে অন্য কোনো সত্তার ওপরে নির্ভর করতে হয়। ধরা যাক, সেই কারণটি হলো U2। এবার U2-এরও যদি একই অবস্থা হয়, তাহলে এই কজ অ্যান্ড ইফেক্টের চেইন অসীম পর্যন্ত চলতে থাকবে। আর এটা অসম্ভব। এটা যদি সম্ভব হতো, তবে মহাবিশ্ব কখনোই অস্তিত্বে আসত না।

সুতরাং, কুরআনের আর্গুমেন্ট অনুযায়ী মহাবিশ্ব নিঃসন্দেহে এমন এক সত্তার সৃষ্টি, যিনি সৃষ্টও নন এবং কারো ওপর নির্ভরশীলও নন। এখানে, এই প্রশ্ন করারও কোনো সুযোগ নেই যে, চেইনের সেই শেষ কারণটি মহাবিশ্ব নিজেই নয় কেন? এর উত্তর আগেই দেওয়া হয়েছে, মহাবিশ্ব contingent এবং সসীম concrete being। আর এটা অসীমকাল থেকে থাকতে পারে না। পরে সসীমকালে এসে তার অস্তিত্ব তৈরি হয়। সুতরাং এটা কখনো চেইনের শেষ কারণ হওয়ার যোগ্যতা কল্পনা করুন, একজন স্নাইপার শুট করার জন্য তার পেছনে এক কমান্ডারের আদেশের অপেক্ষায় আছে। সেই কমান্ডার আবার তার পেছনে দাঁড়ানো অন্য এক কমান্ডারের আদেশের অপেক্ষায় আছে। তার পেছনে রয়েছে আরেকজন। এভাবে চলতে থাকলে অসীম পর্যন্ত কমান্ডারের চেইন চলতে থাকবে (infinite regress) | এর মানে হলো, ওই স্নাইপার কোনোদিনই তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা কমান্ডারের আদেশ পাবে না আর গুলিও করতে পারবে না। সুতরাং, এই সম্ভাবনাও অসম্ভব।


লেখক:চিকিৎসক, জার্নালিস্ট  ও  আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী। 




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...