যে সকল জীব যৌনভাবে পুনরুৎপাদন করে, সেখানে শুক্রাণুর সাথে ডিম্বাণুর মিলনে
প্রক্রিয়া দ্বারাগ্যাস্ট্রুলেশন , ভ্রূণটি তিন ধরণের টিস্যুতে বিভক্ত হয় : ইক্টোডার্ম , ত্বক এবং স্নায়ুতন্ত্রের উত্পাদন করে; দ্যমেসোডার্ম , যা থেকে সংযোজক টিস্যু, সংবহনতন্ত্র , পেশী এবং হাড়ের বিকাশ ঘটে; এবং এন্ডোডার্ম , যা পাচনতন্ত্র, ফুসফুস এবং মূত্রতন্ত্র গঠন করে। মেসোডার্মাল কোষগুলি ভ্রূণের পৃষ্ঠ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে অন্য দুটি টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করতে একটি দীর্ঘায়িত বিষণ্নতার মাধ্যমে পরিচিত হয়আদিম ধারা ভ্রূণের বিকাশের সাথে সাথে কোষের স্তরগুলি ভাঁজ হয়ে যায় যাতে এন্ডোডার্মটি মেসোডার্ম দ্বারা বেষ্টিত একটি দীর্ঘ নল গঠন করে, যার চারপাশে একটি ইক্টোডার্মাল স্তর থাকে।
প্ল্যাসেন্টা থেকে পুষ্টি নাভির মাধ্যমে যায় এবং অ্যামনিয়ন , একটি তরল-ভরা ঝিল্লি, ভ্রূণকে ঘিরে রাখে এবং রক্ষা করে। মাথা এবং ট্রাঙ্কে শরীরের বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং মস্তিষ্ক , মেরুদণ্ড এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি বিকাশ শুরু করে। এই সমস্ত পরিবর্তন ভ্রূণের বিকাশের প্রথম দিকে সম্পন্ন হয়, প্রায় চতুর্থ সপ্তাহে, মানুষের মধ্যে।
মাথা এবং হৃদয়ের মধ্যে, একটি সিরিজশাখাগত খিলান , কার্টিলাজিনাস কাঠামো যা মাছ এবং লার্ভা উভচরদের ফুলকাকে সমর্থন করে , তৈরি হতে শুরু করে। উচ্চ মেরুদণ্ডে এই গঠনগুলি চোয়াল এবং কানের অংশ গঠন করে। অঙ্গের কুঁড়িও দেখা যায় এবং ভ্রূণ পর্যায়ের শেষে ভ্রূণটি তার প্রজাতির প্রতিনিধি হিসাবে আলাদা করা যায়।
মেন্ডেল-এর সূত্র (Mendel's Law):
প্রকৃতপক্ষে মেন্ডেল নিজে কোনো মতবাদ প্রবর্তন করেননি। তিনি তাঁর গবেষণাপত্রে সংকরায়ন সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণের তত্ত্বীয় ও পরিসংখ্যানিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কার্ল করেন্স (যিনি ১৯০০ সালে মেন্ডেলের অনুরূপ গবেষণা-ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন) মেন্ডেলের আবিষ্কারকে বংশগতির মৌলিক দুটি সূত্র হিসেবে উপস্থাপনের যোগ্য বলে প্রচার করেন । যেহেতু সূত্রদুটি মেন্ডেলের গবেষণার উপর ভিত্তি করে রচিত, তাই সূত্রদুটিকে মেন্ডেল-এর সূত্র নামে অভিহিত করা হয় । নিচে মেন্ডেল-এর সূত্র দুটি ব্যাখ্যা করা হলো।
মেন্ডেলের প্রথম সূত্র বা পৃথকীকরণ সূত্র (Law of Segregation) সূত্র : সংকর (hybrid) জীবে বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টরগুলো (জিনগুলো) মিশ্রিত বা পরিবর্তিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং জননকোষ সৃষ্টির সময় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়। জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা : ধরা যাক, গিনিপিগে কালো বর্ণের জন্য দায়ী জিন = B এবং বাদামী বর্ণের জন্য দায়ী জিন= b; F1 জনু = প্রথম বংশধর; F2 জনু = দ্বিতীয় বংশধর ।
একটি হোমোজাইগাস বা বিশুদ্ধ কালো (BB) বর্ণের গিনিপিগের সাথে অপর একটি বিশুদ্ধ বাদামী (bb) বর্ণের গিনিপিগের সংকরায়ণ ঘটালে F, জনুতে সকল অপত্য গিনিপিগের বর্ণই হবে কালো (Bb) কারণ, কালো বর্ণের অ্যালিল (B) বাদামী বর্ণের অ্যালিল (b)-এর উপর প্রকট গুণসম্পন্ন। উভয় জিন দীর্ঘকাল একসঙ্গে থাকলেও বিনষ্ট বা একীভূত হয়ে যায় না বরং স্বকীয়তা বজায় রেখে অক্ষুন্ন থাকে।
F2 জনুতে উৎপন্ন অপত্য গিনিপিগের মধ্যে ৩টি কালো এবং ১টি বাদামী বর্ণের গিনিপিগের সৃষ্টি হয়, অর্থাৎ ফিনোটাইপের ভিত্তিতে F2 জনুতে গিনিপিগের কালো ও বাদামী বর্ণের অনুপাত হয় যথাক্রমে ৩:১
F2 জনুর সদস্যদের জিনোটাইপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে ৩টি প্রকট বৈশিষ্ট্যধারী (কালো) গিনিপিগের মধ্যে মাত্র ১টি হোমোজাইগাস (BB), বাকি দুটি হেটারোজাইগাস (Bb)। যে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যটি (বাদামী) F জনুতে অবদমিত ছিল, F2 জনুতে তার পুনরাবির্ভাব ঘটেছে (bb)। অনুরূপভাবে, যে শুদ্ধ প্রকট বৈশিষ্ট্য (BB) F | জনুতে অনুপস্থিত ছিল, সেটিও F2 জনুতে ফিরে এসেছে। এ থেকেই প্রমাণ হয় যে প্রথম জনুতে B ও b একসঙ্গে থাকলেও পরস্পরের স্বকীয়তা বিনষ্ট হয়নি বরং গ্যামেট সৃষ্টির সময় পৃথক হয়ে গেছে।
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীনভাবে মিলনের সূত্র (Law of Independent Assortment) সূত্র : দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম বংশধরে (F1) কেবল প্রকট
বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রকাশিত হবে, কিন্তু জননকোষ সৃষ্টির সময় বৈশিষ্ট্যগুলো জোড়া ভেঙ্গে পরস্পর থেকে স্বতন্ত্র বা স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন জননকোষে প্রবেশ করবে।
ব্যাখ্যা : এ সূত্র প্রমাণের জন্য মেন্ডেল দুজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদের মধ্যে পরাগসংযোগ ঘটান। দুই জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের দিকে দৃষ্টি রেখে যে সংকরায়ণ (ক্রস) ঘটানো হয়, তাকে দ্বিলক্ষণ সংকরায়ন বা ডাইহাইব্রিড ক্রস (dihybrid cross) বলে।
এমন দুটি শুদ্ধ লক্ষণযুক্ত (হোমোজাইগাস) মটরশুঁটি গাছ (Pisum sativum) নেওয়া হলো যার একটি গোল ও হলুদ বর্ণের বীজ এবং অন্যটি কুঞ্চিত ও সবুজ বর্ণের বীজ উৎপাদনে সক্ষম ।
ধরা যাক, বীজের গোল লক্ষণের প্রতীক R, কুঞ্চিত লক্ষণের প্রতীক r, হলুদ লক্ষণের প্রতীক Y=বড় অক্ষরের), সবুজ লক্ষণের প্রতীক = y (ছোট অক্ষরের), প্রথম বংশধর = F1, জনু, দ্বিতীয় বংশধর= F2 জনু।
মেন্ডেল-এর মতে, প্রত্যেক বৈশিষ্ট্যের জন্য দুটি করে ফ্যাক্টর (জিন) দায়ী। অতএব, গোল ও হলুদ বর্ণের বীজযুক্ত উদ্ভিদের জিনোটাইপ হবে RRYY এবং কুঞ্চিত ও সবুজ বর্ণের বীজযুক্ত উদ্ভিদের জিনোটাইপ হবে rryy.

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ