4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: সনাতন ধর্ম: পৌরাণিক বিনোদন, আচারসর্বস্বতা ও ক্ষমতার কাঠামোর এক সমালোচনামূলক পাঠ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬

সনাতন ধর্ম: পৌরাণিক বিনোদন, আচারসর্বস্বতা ও ক্ষমতার কাঠামোর এক সমালোচনামূলক পাঠ


সনাতন ধর্ম: পৌরাণিক বিনোদন, আচারসর্বস্বতা ও ক্ষমতার কাঠামোর এক সমালোচনামূলক পাঠ

সনাতন ধর্মকে সাধারণত “চিরন্তন” বা “আদিম” ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি মূলত পৌরাণিক কাহিনি, আচার-অনুষ্ঠান ও সামাজিক ক্ষমতার কাঠামোর সমন্বয়ে গঠিত একটি ধর্মীয় ব্যবস্থা, যার ভিত্তি যুক্তি বা বৈজ্ঞানিক সত্যের ওপর নয়, বরং কল্পনা, ভোগবাদ এবং শ্রেণিভিত্তিক স্বার্থরক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এই ধর্মের আখ্যানভিত্তিক কাঠামো এতটাই রসালো ও নাটকীয় যে, একে অনেক সময় ধর্মের চেয়ে বিনোদনের সংকলন বলাই বেশি যুক্তিসংগত মনে হয়। দেব-দেবীর লীলা, নারী-পুরুষ সম্পর্ক, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কাহিনি, প্রতিশোধ, প্রতারণা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে এটি এক বিশাল পৌরাণিক নাট্যভাণ্ডার।


অজ্ঞতার যুগে ভোগবাদ থেকে ধর্মের জন্ম

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সভ্যতার প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষের জ্ঞান সীমিত ছিল। প্রকৃতি, রোগ, মৃত্যু, দুর্ভিক্ষ—এসবের ব্যাখ্যা দিতে না পেরে মানুষ কল্পনাভিত্তিক শক্তির আশ্রয় নেয়। সেই সুযোগেই সমাজের এক বিশেষ শ্রেণি ধীরে ধীরে ধর্মীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

ভোগ-বিলাস, নারীর প্রতি লালসা, মাংসাহার, ক্ষমতা ও প্রাচুর্যের আকাঙ্ক্ষা—এই মানবিক দুর্বলতাগুলোকেই ধর্মীয় বৈধতা দিয়ে সনাতন ধর্মের বহু আচার ও কাহিনি গড়ে ওঠে। দেবতাদের চরিত্রেও সেই একই মানবিক দুর্বলতার প্রতিফলন দেখা যায়, যা একটি “ঐশ্বরিক” ধারণার সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।


ধর্মগ্রন্থের ঐতিহাসিক দুর্বলতা ও বৈজ্ঞানিক অসংগতি

সনাতন ধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলো মানুষের রচিত—এ বিষয়ে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের অভাব নেই। এগুলো আদিকাল থেকে সংরক্ষিত কোনো ঐশী গ্রন্থ নয়, বরং আনুমানিক তিন থেকে চার হাজার বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে রচিত সংকলন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব গ্রন্থে অসংখ্য ঐতিহাসিক অসংগতি, গাণিতিক ভুল, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ভ্রান্তি এবং অবৈজ্ঞানিক ধারণা বিদ্যমান। আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই হাস্যকর ও অবাস্তব বলে প্রতীয়মান হয়। ফলে “চিরন্তন সত্য” হিসেবে এসব গ্রন্থের দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।


ধর্মগ্রন্থ সংরক্ষণ ও মুখস্ত করার বাস্তবতা

বিশ্বের অধিকাংশ ধর্মগ্রন্থই মৌখিক সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে এবং পরবর্তীতে বহু সংযোজন, বিয়োজন ও বিকৃতির মধ্য দিয়ে গেছে। সনাতন ধর্মের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন পুরাণ ও শাস্ত্রের অসংখ্য সংস্করণ, পরস্পরবিরোধী বর্ণনা ও আঞ্চলিক ভিন্নতা তার প্রমাণ।

এর বিপরীতে দেখা যায়, একমাত্র কুরআনই এমন একটি ধর্মগ্রন্থ, যা স্বাভাবিকভাবে সম্পূর্ণ মুখস্ত করা সম্ভব এবং যার লক্ষ লক্ষ হাফেজ বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে গ্রন্থটির পাঠ্যগত বিকৃতি কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। অন্য ধর্মগ্রন্থে এমন কোনো সংরক্ষণ কাঠামো দেখা যায় না।


রাষ্ট্র, সমাজ ও নৈতিকতার বিষয়ে দিকনির্দেশনার অভাব

সনাতন ধর্মে রাষ্ট্র পরিচালনা, সামাজিক ন্যায়বিচার কিংবা মানুষকে নৈতিকভাবে গড়ে তোলার কোনো সুসংগঠিত ও বৈজ্ঞানিক কাঠামো নেই। এখানে ঈশ্বরকেন্দ্রিক মানবগঠন নয়, বরং আচারকেন্দ্রিক আনুগত্যই মুখ্য।

এর বিপরীতে হাজারো যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও রগরগে কাহিনি ধর্মীয় গ্রন্থে স্থান পেয়েছে, যা প্রশ্ন তোলে—একটি ধর্মের ভেতরে এতো অশ্লীল ও ভোগবাদী বর্ণনার প্রয়োজন কেন? ধর্ম যদি মানুষকে সংযম শেখায়, তবে এই বিপুল কামনাময় আখ্যানের যৌক্তিকতা কোথায়?


নারী: অবমাননা ও প্রাতিষ্ঠানিক শোষণের প্রতীক

সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো নারীর অবস্থান। এখানে নারীকে প্রকৃত সম্মান দেওয়া হয়নি; বরং তাকে পুরুষের ভোগের বস্তু, দেবতাদের লীলার উপকরণ এবং পুরোহিত শ্রেণির নিয়ন্ত্রণাধীন সত্তায় পরিণত করা হয়েছে।

যে ধর্মে দেবীমূর্তি তৈরিতে বেশ্যালয়ের মাটির প্রয়োজন হয়, যে সমাজে বেশ্যা না থাকলে ধর্মীয় প্রয়োজনে নতুন করে বেশ্যা তৈরি করতে হয়—সেই ধর্ম কীভাবে নৈতিকতার দাবিদার হয়? যে ব্যবস্থা নিজেই যৌন শোষণকে ধর্মীয় বৈধতা দেয়, তাকে ধর্ম বলা যায় কি না—এই প্রশ্ন এড়ানো যায় না।


ইগো, পরিচয় সংকট ও বংশগত ধর্মচর্চা

অনেকেই সনাতন ধর্মে জন্মগ্রহণ করার কারণে একে প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে পারেন না। এটি মূলত ইগো ও পরিচয় সংকটের ফল। তারা জানেন, ধর্মটিতে অসংখ্য ত্রুটি রয়েছে, কিন্তু সেগুলোর যৌক্তিক জবাব দিতে পারেন না। আবার সামাজিক চাপের কারণে ধর্ম ত্যাগও করতে সাহস পান না।

ফলে তারা একটি ভঙ্গুর, যুক্তিহীন ধর্মীয় কাঠামো আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকেন—যার ভিত্তি বিশ্বাস নয়, বরং অভ্যাস ও ভয়।


ব্রাহ্মণ্যবাদ ও পূজা-পার্বণের ব্যবসা

ব্রাহ্মণ সমাজ নিজেদের ভোগ-বিলাস, আরাম-আয়েশ ও সামাজিক কর্তৃত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে পুরো ধর্মটিকেই পূজা-পার্বণের ধর্মে রূপান্তর করেছে। বছরের প্রতিটি মাসে একাধিক পূজা, ব্রত ও আচার চালু করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ, খাদ্য ও শ্রম আদায় করা হয়েছে।

ফলে সনাতন ধর্ম দাঁড়িয়েছে একটি অবিরাম আচারচক্রের ওপর—যেখানে বারো মাসই পূজা, উৎসব ও ব্রত। প্রচলিত প্রবাদে বলা হয় “১২ মাসে ১৩ পূজা”, কিন্তু বাস্তবে বলা উচিত—“১২ মাসে হাজারো পূজা”। কারণ, আনুষ্ঠানিক উৎসবের বাইরেও অসংখ্য লোকাচার ও গ্রামীণ পূজা নিম্নবর্ণের মানুষদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।


উপসংহার

সনাতন ধর্ম মূলত একটি পৌরাণিক, আচারসর্বস্ব ও শ্রেণিনির্ভর ধর্মীয় কাঠামো, যা যুক্তি, বিজ্ঞান ও মানবিক ন্যায়বোধের পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এটি মানুষকে মুক্ত চিন্তার পথে না নিয়ে গিয়ে বরং আচার, ভয় ও সামাজিক চাপে বন্দি করে রাখে।

এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে ধর্মীয় আবেগ দিয়ে সত্য ঢেকে রাখা সম্ভব নয়। প্রশ্ন করাই উন্নতির প্রথম ধাপ—আর প্রশ্নহীন ধর্ম মানেই স্থবিরতা।


লেখক:দীপা মনি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...