ফ্যাক্ট-চেক,জামায়াত নেতা ড.মোবারক হোসাইনের ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে বিতর্কের সমাধান
কুমিল্লা–৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী ড. মোবারক হোসাইনের পিএইচডি ডিগ্রি ভুয়া কি?
সারসংক্ষেপ (Verdict at a glance)
ড. মোবারক হোসাইনের পিএইচডি থিসিস নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর একটি অংশ যাচাইযোগ্যভাবে সত্য, বিশেষত ভাষাগত ভুল ও অনুলিপি সদৃশ অংশের ক্ষেত্রে। তবে “ডিগ্রি সম্পূর্ণ ভুয়া/অবৈধ”—এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কোনো আনুষ্ঠানিক একাডেমিক বা আইনি রায় এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে দাবি আংশিক সত্য, আংশিক অপ্রমাণিত।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রেক্ষাপট
ড. মোবারক হোসাইন—বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং কুমিল্লা–৫ (ব্রাহ্মণপাড়া-বুড়িচং) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সংসদ সদস্য প্রার্থী।
দাবি ১
“ড. মোবারক হোসাইনের পিএইচডি থিসিসে গুরুতর ভাষাগত ও অর্থগত ভুল রয়েছে”
যাচাই ফলাফল: সত্য (Verified)
যা পাওয়া গেছে:
ভারতের জাতীয় থিসিস আর্কাইভ Shodhganga-এ সংরক্ষিত থিসিসের একাধিক অধ্যায়ে এমন ইংরেজি বাক্য পাওয়া যায়, যেগুলো ব্যাকরণগতভাবে দুর্বল এবং অর্থ বোঝা কঠিন। উদাহরণস্বরূপ—
- “mainstream of the unmarried is unmarried” ধরনের পুনরুক্তি
- এলোমেলো বাক্যগঠন, যা একাডেমিক লেখার মানদণ্ড পূরণ করে না
উপসংহার:
একটি ডক্টরেট থিসিসের জন্য প্রয়োজনীয় ভাষাগত মান এখানে প্রশ্নবিদ্ধ—এ দাবি সমর্থিত।
দাবি ২
“থিসিসে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন ‘Prophet Al-Banna’”
যাচাই ফলাফল: সত্য (Verified)
যা পাওয়া গেছে:
থিসিসের একটি অংশে মিশরের ইসলামী চিন্তাবিদ হাসান আল-বান্নার নামের সঙ্গে “Prophet” শব্দ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিশ্লেষণ:
হাসান আল-বান্না কোনো ধর্মীয় নবী নন; ফলে এ ধরনের শব্দচয়ন তথ্যগতভাবে ভুল এবং ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল।
উপসংহার:
এই অভিযোগটি তথ্যভিত্তিক ও যাচাইযোগ্য।
দাবি ৩
“আরবি নামের ‘Bin’ শব্দকে ‘container’ হিসেবে লেখা হয়েছে”
যাচাই ফলাফল: সত্য (Verified)
যা পাওয়া গেছে:
থিসিসে “Ubaidullah Bin Ma’mar” এবং “Abdullah Bin Amir” নাম দুটি যথাক্রমে
- “Ubaidullah container Ma’mar”
- “Abdullah container Amir”
রূপে লেখা হয়েছে।
বিশ্লেষণ:
আরবি Bin অর্থ “পুত্র”; এটি ইংরেজি bin/container নয়। এ ধরনের ভুল কেবল বানানজনিত নয়, বরং অর্থ বিকৃত করে।
উপসংহার:
দাবিটি সত্য এবং গুরুতর একাডেমিক অসতর্কতার প্রমাণ দেয়।
দাবি ৪
“থিসিসে উইকিপিডিয়া থেকে কপি-পেস্ট করা হয়েছে”
যাচাই ফলাফল: আংশিক সত্য (Partially Verified)
যা পাওয়া গেছে:
থিসিসের কিছু অনুচ্ছেদ হাসান আল-বান্না সম্পর্কিত উইকিপিডিয়া নিবন্ধের সঙ্গে গঠন ও বাক্যপ্রবাহে মিল রয়েছে। কিছু শব্দ পরিবর্তনের চেষ্টা দেখা যায়, তবে তাতে নতুন ভুল সৃষ্টি হয়েছে।
যা পাওয়া যায়নি:
- কোনো স্বীকৃত plagiarism-checking সংস্থার আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট
- বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি-সদৃশ কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন
উপসংহার:
অনুলিপি সদৃশতা দৃশ্যমান, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে plagiarism প্রমাণিত হয়নি।
দাবি ৫
“যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নেওয়া হয়েছে, সেটি বিতর্কিত”
যাচাই ফলাফল: আংশিক সত্য (Partially Verified)
যা জানা যায়:
ডিগ্রিটি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান—Shri Jagdishprasad Jhabarmal Tibrewala University (SJJT), রাজস্থান, ভারত।
- এটি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
- আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে অবস্থান তুলনামূলকভাবে নিচে
- ভারতীয় সংবাদমাধ্যম The Times of India-তে রাজস্থানের কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে
যা নিশ্চিত নয়:
- SJJT থেকে ড. মোবারক হোসাইনের ডিগ্রি সরকারিভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন কোনো নোটিফিকেশন পাওয়া যায়নি।
উপসংহার:
বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, নির্দিষ্ট এই ডিগ্রি বাতিল—এমন প্রমাণ নেই।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (Final Verdict)
| বিষয় | ফ্যাক্ট-চেক ফলাফল |
|---|---|
| ভাষাগত ও অর্থগত ভুল | সত্য |
| আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার | সত্য |
| Bin → container ভুল | সত্য |
| উইকিপিডিয়া কপি | আংশিক সত্য |
| ডিগ্রি সম্পূর্ণ ভুয়া | অপ্রমাণিত |
সামগ্রিক রায়
ড. মোবারক হোসাইনের পিএইচডি থিসিসের একাডেমিক মান গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ—এটি তথ্যভিত্তিকভাবে বলা যায়। তবে “ডিগ্রি ভুয়া বা অবৈধ”—এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কোনো আনুষ্ঠানিক একাডেমিক বা আইনি ঘোষণা এখনো নেই,তবে চরম আপিত্তকর বিষয় এটি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ