মানুষের চোখ(Humen eye)
dr-bashir.blogspot.com এখানে কলা, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, ভৌত, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন যাবতীয় বিষয়ের সাথে ইসলামের যোগসূত্র রয়েছে। পবিত্র কুরআন থেকে জ্ঞান বিজ ‘কুরআনের প্রায় সাত হাজারেরও বেশি জ্ঞানের কথা সন্নিবেশিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’ তাছাড়াও বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি, আরবী, ইসলাম শিক্ষা, যুক্তিবিদ্যা, রাষ্ট্রনীতি, লোকপ্রশাসন, লোকগীতি, প্রবাদসাহিত্য, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ, গণিত, জ্যামিতি, পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান,
Wikipedia
বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪
মানুষের চোখ(Humen eye)
মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
ভারতীয় চিকিৎসকরা চিকিৎসা পেশার নৈতিকতা হারিয়েছে
মেডিকেল পেশার সদস্য হিসাবে:
- আমি মানবতার সেবায় আমার জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করছি;
- আমার রোগীর স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা আমার প্রথম বিবেচ্য হবে;
- আমি আমার রোগীর স্বায়ত্তশাসন এবং মর্যাদাকে সম্মান করব;
- আমি মানুষের জীবনের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রাখব;
- আমি বয়স, রোগ বা অক্ষমতা, ধর্ম, জাতিগত উত্স, লিঙ্গ, জাতীয়তা, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, জাতি, যৌন অভিমুখীতা, সামাজিক অবস্থান বা অন্য কোনও কারণের বিবেচনাকে আমার দায়িত্ব এবং আমার রোগীর মধ্যে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি দেব না;
- রোগী মারা যাওয়ার পরেও আমার মধ্যে গোপন যে গোপনীয়তা রয়েছে তা আমি সম্মান করব;
- আমি আমার পেশাকে বিবেক এবং মর্যাদার সাথে এবং ভাল চিকিৎসা অনুশীলনের সাথে চর্চা করব;
- আমি চিকিৎসা পেশার সম্মান ও মহৎ ঐতিহ্য লালন করব;
- আমি আমার শিক্ষক, সহকর্মী এবং ছাত্রদের সম্মান ও কৃতজ্ঞতা দেব যা তাদের প্রাপ্য;
- আমি রোগীর সুবিধা এবং স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতির জন্য আমার চিকিৎসা জ্ঞান শেয়ার করব;
- আমি সর্বোচ্চ মানের যত্ন প্রদানের জন্য আমার নিজের স্বাস্থ্য, মঙ্গল এবং ক্ষমতার জন্য উপস্থিত থাকব;
- আমি আমার চিকিৎসা জ্ঞানকে মানবাধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য ব্যবহার করব না, এমনকি হুমকির মধ্যেও;
- আমি এই প্রতিশ্রুতিগুলি আন্তরিকভাবে, নির্দ্বিধায় এবং আমার সম্মানের ভিত্তিতে করি।
ভারতীয় গোয়েন্দাদের অপতৎপরতা
ভারতীয় গোয়েন্দাদের অপতৎপরতা
.jpeg)
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এর সম্পৃক্ততার ব্যবচ্ছেদ।
একজন আগন্তুক ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফের উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে সামনে এগিয়ে চলছে উদ্দেশ্য ভারতীয় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা। চার দিকে ঘুট-ঘুটে অন্ধকার, অল্প দূরত্বের কিছু জায়গা পর পর বসানো আছে সীমান্ত-রক্ষীদের চৌকি। তাছাড়া ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সীমান্তরক্ষীদের কড়া নজর চারদিকে। সুতরাং ধরা পরলে আর রক্ষা নাই, নির্ঘাত মৃত্যু! তাই মরণকে হাতের মুঠোয় নিয়ে চলতে হচ্ছে সামনের দিকে। তার পিছনেও তীক্ষ্ণ নজর আছে কয়েক জনের কিন্তু তা তার অজানা। ঘন অরণ্য আর প্রতিকূল দুর্গম স্থান অবলম্বন করে প্রায় কাঁটা-তার অতিক্রম করে ফেলবার উপক্রম, ঠিক তখনি বিএসএফ চার দিক থেকে পাকরাও করে তাকে। এখন পালাবার চেষ্টা করা মানে নির্ঘাত মৃত্যু। তাই বাধ্য হয়ে ধরা পরতে হয় সীমান্ত রক্ষীর হাতে। এতক্ষণে আপনারা হয়ত অনেকেই ধরে নিয়েছেন আমি কোন সীমান্ত ব্যবসায়ীর সীমান্ত অতিক্রম করার কথা বর্ণনা করছি। আসলে কিন্তু তা নয় আমি যা বর্ণনা করলাম তা হল একটি গোয়েন্দা বাহিনীর প্রশিক্ষণ মহড়া। অন্য সামরিক মহড়াতে সকল সেট আগে থেকে সাজানো থাকলেও এখানে কিন্তু তা নয়, মহড়া রিয়েল সেটে। অর্থাৎ আগন্তুক ব্যতীত অন্য কেউ তা জানতে পারে না। বলছিলাম ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র”এর কথা।
আজকের পর্বে থাকছে গোয়েন্দা সংস্থা “র”এর গোপন ও দুর্ধর্ষ সব অপারেশন এবং তাদের সকল জানা অজানা তথ্যসমূহ।
“র” এর পরিচয় ও গঠন
পৃথিবীর যে সকল বিখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে “র” তাদের মধ্যে অন্যতম। “র” (RAW: Research and Analysis Wing) হল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। যা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ইতিহাসকে বিশ্ব গোয়েন্দাদের ইতিহাসে স্থান লাভ করার মর্যাদা এনে দিয়েছে।
“র” এর প্রতীক
“র” এর প্রতীক, source: Council on Foreign Relations
ভারতীয়দের আধুনিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের ইতিহাস শুরু হয় ব্রিটিশদের হাত ধরে। ১৯৩৩ সালে প্রথম ভারতের ইতিহাসে আধুনিক গোয়েন্দা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হবার পর থেকে তা অনেকটা ক্লান্ত মান্ধাতার আমলে হয়ে যায়। তার প্রমাণ হিসেবে বলা যায় ১৯৬২ সালে চীনের সাথে যুদ্ধ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ। উভয় যুদ্ধের কোনটিতেই আইবি তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে নি , বরং বার বার ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে ভারতীয় গোয়েন্দা-বৃত্তিকে আরও চৌকশ করার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আর.এন কাও কে প্রধান করে গঠন করা হয় “র”।এটি গঠন করার সময় মডেল হিসেবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাকে গ্রহণ করা হয়।
গঠনের সময় থেকেই এই সংস্থা কে একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয় এবং তাদের সকল কাজ-কর্মের জন্য শুধু প্রধানমন্ত্রীর নিকট দায়বদ্ধ থাকার বিধান প্রণয়ন করা হয়। ১৯৬৬ সালে ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হবার পর থেকেই ভারতে সামরিক ও পররাষ্ট্র খাতে বেশ কিছু পরিবর্তন সাধন করেন এবং এর অংশ হিসেবে গোয়েন্দা বাহিনী তে হাত দেন। ফলে তারই পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৬৮ সালে গঠিত হয় “র”। পরবর্তী সময়ে এ সংস্থাটি তাদের দুর্দান্ত সব কার্যকলাপের মাধ্যমে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব-ইতিহাসে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” এর নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র এর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন ধরা বাধা নিয়ম নেই। সংস্থা তাদের প্রয়োজনে নিজের দেশ বা দেশের বাইরের যে কাওকে নিয়োগ দিতে পারে। তারা ভারতীয় সেনা বাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, পুলিশ, আই এ এস ক্যাডার, আইবি, সিবিয়াই অথবা মেধার বিচারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ছাত্রদেরও নিয়োগ করা হয়। এর বাহিরে অন্য দেশের এজেন্ট তৈরির জন্য ঐ দেশের নাগরিক, ঐ দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অন্যদেশের গোয়েন্দাদেরও তথ্য সরবারের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। আর একে ডাবল এজেন্ট হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ এই সংস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্র কোন গণ্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোন কোন ক্ষেত্রে নীতি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করেই তাদের নিজেদের প্রয়োজনে যাকে খুশি তাকে দিয়ে তারা কাজ করাতে সক্ষম। এজন্য যদি ঘুষের মত অনৈতিক পথও গ্রহণ করতে হয় তা তারা নির্দ্বিধায় করে যায়।
“র” এর প্রতিষ্ঠাতা আর.এন কাও
“র” এর প্রতিষ্ঠাতা আর.এন কাও , source: Name-list.net
“র” তাদের নিয়োগ-কৃত কর্মকর্তাদের অত্যন্ত কঠিন ও বুদ্ধি-ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলে। এজন্য প্রথমে দশ দিনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা করা হয় এখানে উৎসাহ মূলক ও মনোবল বাড়ানোর উপযোগী স্পিচ দিয়ে তাদের উদ্যমী করা হয় এবং গোয়েন্দা-বৃত্তির সকল নিয়ম-কানুন, বাস্তব গোয়েন্দাদের অভিজ্ঞতা, নানা প্রকার প্রযুক্তি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ও বিভিন্ন দেশের ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে তাদের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তোলা হয়। তাছাড়াও এসময় তাদেরকে সিআইএ, মোসাদ, কেজেবি ও এমআই৬ এর মত বড় গোয়েন্দাদের নিয়ে কেস স্টাডি করানো হয় এবং মানি লন্ডারিংয়ের মত অপরাধ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর এজেন্টরা ফিল্ড ইনট্যালিজেন্স ব্যুরো (সংক্ষেপে: এফআইবি)-এর অধীনে প্রশিক্ষিত হতে থাকে। এখানে সময়কাল ১/২ বছর হয়ে থাকে। এ সময় এজেন্টদের প্রতিকূল পরিবেশে কি করতে হবে এবং কাজ করার সময় কিভাবে ধরা না পরা যায়, আর ধরা পরলেই কি করতে হবে এসকল বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রধান করা হয়।
রাতের আধারে কিভাবে অনুপ্রবেশ করা যায় এবং কিভাবে সীমান্ত রক্ষীদের চোখ ফাঁকি দেয়া যায় এ বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সহিত বাস্তব সম্মত উপায়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এজন্য তাদের কে কখনো কখনো ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় মহড়া হিসেবে সীমান্ত-রক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে হয়। যেখানে সীমান্ত রক্ষীরা আগে থেকে এর কিছুই জানতে পারে না। তবে এই শিক্ষানবিশের পেছনে একদল পর্যবেক্ষক সর্বদা নজর রাখে তবে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা সাধারণত সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে না। এমনও কাহিনী আছে যে তাদের সদস্য প্রশিক্ষণকালে সীমান্ত রক্ষীদের হাতে ধরা পড়ে জেলে চলে গেছে কিন্তু তাদের কেউ তাকে ছাড়াতে আসেনি এবং বেশ কয়েকদিন জেলে কাটানোর পর তাকে মুক্ত করা হয়েছে।
‘’র’’ এর নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে
‘’র’’ এর নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, source: https://www.indiatimes.com
এই সময়ে তাদের আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান দান করা হয়। এই ফিল্ড প্রশিক্ষণের পর তাদের কে নিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দেরাদুনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদেরকে গুপ্তচরবৃত্তির নানা ধরনের প্রযুক্তি ডিভাইস ব্যাবহার, নিয়মানুবর্তিতা, অস্র চালনা প্রভৃতি প্রশিক্ষণ দান করা হয়। সকলের সন্দেহের নজরকে কিভাবে পাশ কাটিয়ে লক্ষের দিকে এগিয়ে যেতে হয় সে সম্পর্কেও জ্ঞান দান করা হয়। তারপর পরই শুরু হয় তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
সকল গোয়েন্দা সংস্থাই কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে। “র”এর ব্যতিক্রম নয়। তারা যে সকল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে সে গুলো যদিও সরাসরি সামনে আসে না তবে বিভিন্ন উৎস থেকে বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করা যায়।
প্রথমত ভারতের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র সমূহের রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাবলীর উপর নজর রাখা ও ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয়ত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখা।
তৃতীয়ত পাকিস্তানের সকল প্রকার আমদানিকৃত ও নিজেদের তৈরি অস্ত্রের উপর নজর রাখা এবং তথ্য সরবরাহ করা, কারণ পাকিস্তানের সকল সামরিক তৎপরতা ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
সর্বশেষ উদ্দেশ্য হল প্রবাসী ভারতীয়দের উপর নজর রাখা কারণ ভারতে বিভিন্ন গোত্রের লোকজন বসবাস করে তারা কখনো কখনো বিদেশী চক্রান্তে ভারতের অনিষ্ঠ সাধন করতে পারে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র এর অপারেশন সমূহ
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাদের দুর্দান্ত সব অপারেশনের মাধ্যমে কোন কোন ক্ষেত্রে ইতিহাসে তাদের নামকে বিশ্বের প্রথম সারির গোয়েন্দা তালিকায় নিয়ে গেছে। সংস্থাটি তার জন্মের পর থেকেই যে সব অপারেশনের মাধ্যমে সফলতা লাভ করেছে সে গুলো ছিল অত্যন্ত আলোচিত ও গা শিউরে উঠার মত।
প্রতিষ্ঠা হবার পর প্রথম যে অপারেশন পরিচালনা করে তা হল হিমালয় ELINT। এটি ছিল মূলত “সিআইএ” ও “র”এর যৌথ অভিযান। এই অভিযানের মাধ্যমে চীন যে পারমাণবিক পরীক্ষা করে তার মিসাইল ও বিস্ফোরণের স্থান চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়।
“র” এর সদর দপ্তর নয়া দিল্লি:
source: ListAmaze
এর পর “র” সবচাইতে যে বড় অপারেশনের কৃতিত্ব দাবি করে তা হল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, যা তাদের সংস্থায় ‘অপারেশন বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত। তারা বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার নীতি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি সহায়তা দান করে। সর্বশেষ যে কাজটি করে পাকিস্তান কে অনেকটা কোণঠাসা করে ফেলে তা হল ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিমান কৌশলে পাকিস্তান নিয়ে যায়। এর ফলে ভারত এই কারণটি দেখিয়ে ভারতের উপর দিয়ে পাকিস্তানের সকল ধরনের বিমান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যে কারণে পাকিস্তান নতুন করে বাংলাদেশের উপর তাদের সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে বেগ পেতে হয়। এবং ভারতীয়-মুক্তিবাহিনীর যৌথ আক্রমণে পাকিস্তান সহজে পরাজয় বরন করে।
অপারেশন বাংলাদেশের পর যে কাজটি করে সেটি হল, ভারত পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে যাত্রা করলেও তাদের এই কাজ ছিল অত্যন্ত গোপন আর এই গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব ছিল “র”। যা তারা খুব ভালভাবে করতে সক্ষম হয়েছে। কেননা তাদের সতর্ক নজর ও রক্ষণশীল নীতির জন্য তাদের প্রকল্প এলাকায় অন্য কোন গোয়েন্দা প্রবেশ করতে পারে নি এবং তার ফলস্বরূপ ১৯৭৪ সালে পরীক্ষা চালানোর আগ পর্যন্ত কেউ জানতে পারেনি। তাদের এই অপারেশনের নাম ছিল ‘অপারেশন স্মাইলিং বুদ্ধা’।
‘অপারেশন সিকিম’ তাদের আরেকটি সফলতম অপারেশন। ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান সৃষ্টি হবার পরও সিকিম প্রায় একটি আলাদা স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চলের মর্যাদা নিয়ে বীর-দর্পে টিকে ছিল। এবং সেখানে স্থানীয় গোত্রদের দ্বারা শাসনকার্য পরিচালিত হত। সিকিম কে অত্যন্ত নাজুক স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হত। কারণ ভারত কে ভাগ করার জন্য সিকিম ছিল অন্যতম একটি সঠিক জায়গা। চীনের সজাগ দৃষ্টিও ছিল এদিকে। কিন্তু “র” কৌশলে ১৯৭৫ সালে সেখানকার স্বায়ত্ত শাসনকে উড়িয়ে দিয়ে ভারতের একটি স্থায়ী প্রদেশ হিসেবে সিকিম কে একীভূত করে নেয়।
‘কাহুটা ব্লু প্রিন্ট’ ফাঁস ছিল ভারত-পাকিস্তানের গোয়েন্দা ইতিহাসে অন্যতম একটি সফলতম অপারেশন। ১৯৭৮ সালে পাকিস্তানের রাওলপিণ্ডিতে কাহুটা এলাকার খান রিসার্চ ল্যাবরেটরি হতে পাকিস্তানের পারমাণবিক নথি ফাঁস করে “র” যা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার উপর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিপত্য প্রকাশ করে। এবং ল্যাবরেটরির নিকট একটি স্যালুন হতে গবেষকদের চুল নিয়ে তা হতে রেডিয়েশন পরীক্ষা করে পাকিস্তানের পারমাণবিক প্রকল্প ধ্বংস করে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে কিনত পরবর্তীতে ভারতীয় নেতাদের অনুরোধে তা হতে বিরত হয়।
তাছাড়াও তাদের যে অপারেশনগুলো আলোচনার দাবি রাখে সেগুলা হল-‘অপারেশন মেঘদূত’ যা ১৯৮২ সালে পরিচালিত হয়। যার মাধ্যমে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে ট্যাক্কা দিয়ে সিয়াচল অঞ্চল দখল করে নেয়। তারপর আছে ‘অপারেশন ক্যাকটাস’ এটি ১৯৮৮ সালে তামিল টাইগারদের কে মালদ্বীপ হতে বিতাড়িত করে। তাছাড়াও ‘অপারেশন চাণক্য’, ‘অপারেশন মেহেরান’ ও পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের বিদ্রোহীদের অস্র প্রদান ছিল “র” এর ইতিহাসে বড় অপারেশন যা তাদেরকে প্রবল খ্যাতি এনে দেয়।
বর্তমান বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র এর প্রভাব
বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এই সংস্থাটির সাথে বাংলাদেশের যোগসাজশ রয়েছে। আর এই দেশের রাজনীতি থেকে শুরু করে বাণিজ্য প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ভারত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে তাই বর্তমানেও বাংলাদেশ “র” এর নিয়ন্ত্রণমুক্ত নয়। ধারনা করা হয় বাংলাদেশে “র” এর মোট ৩০/৪০ হাজার এজেন্ট রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে দেখা যায় যে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে “র” এর এজেন্ট রয়েছে। এক প্রতিবেদনে দেখা যায় ‘ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারের’ মাধ্যমেও এজেন্ট সংগ্রহ করা হয়। তাই অনেকেই বলে থাকেন যে “র” বাংলাদেশের রাজনীতি ও শাসন কে অনেকটা প্রভাবিত করে থাকে। তবে এই বিষয়টির যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক কোন প্রমাণ ও স্বীকৃতি নেই তাই এই বিষয়ে অনেকেই খোলাখুলি ভাবে বলতে চায় না এবং বলাটা অনেকটা রূপকথা হিসেবে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।
প্রাচীনকাল থেকেই গোয়েন্দা-বৃত্তিকে রাষ্ট্রের একটি শক্তি হিসেবে কল্পনা করা হয়ে থাকে। আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে এসেও এর গুরুত্ব হ্রাস পায়নি। বরং আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও গোয়েন্দাদের গুরুত্ব বজায় থাকবে। তবে তাদের কাজের ধরনের মধ্যে হয়ত পরিবর্তন আসবে। তবে গোয়েন্দাদের রাজনৈতিক হত্যা ও বিভিন্ন দেশে সরকার পতনের মত অনৈতিক কাজের মধ্যে পরিবর্তন আসার আশা আমরা করতেই পারি।
পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার যে প্রক্রিয়া ১৯৭১ সনে পূর্ণতা লাভ করে তার স্থপতি-কারিগর হচ্ছে ভারত। নতুন রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের জন্ম লাভের পরপরই ভারতীয় সংবাদপত্র এই মর্মে এক বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা শুরু করে যে পূর্ব পাকিস্তান হচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানের ‘কলোনী’ এবং উক্ত প্রচারণায় এটাও বলা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানকে কেবল নিষ্ঠুর রাজনৈতিক শোষণই নয়, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিকভাবেও শোষণ করা হচ্ছে। ঐ বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণাকে আরো ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বলার জন্যে সেই সময়কার পূর্ব পাকিস্তানের একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবিরূপী ভারতীয় চর অতি উৎসাহের সাথে উঠে পড়ে লাগে এবং সে কাজে তারা বছরের পর বছর থেকে লেগে থাকে। আর তাদের সেই অতি উৎসাহী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তৎপরতায় সামিল হয় তখনকার একশ্রেণীর সংবাদপত্র। পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ তাদের প্রচারণায় অতিদ্রুতই কাবু হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ এটা সত্যি সত্যিই বিশ্বাস করে যে, তাদের সকল ধরণের দুর্ভোগ ও দুঃর্ভাগ্যের জন্য দায়ী হচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানীরা। ফলে ষাট-এর দশকের শেষ দিকে উক্ত প্রচারণার শিকার পূর্ব পাকিস্তানীরা এটা বদ্ধমূলকভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, পশ্চিম পাকিস্তানীদের যদি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি থেকে তাড়িয়ে দেয়া যায়, তা হলে পূর্ব পাকিস্তান সোনার বাংলায় পরিণত হয়ে যাবে-যেখানে দুধ ও মধুর নহর বইবে আর তারা তা অবারিতভাবে উপভোগ করবে।
উপরিউল্লেখিত বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণার জন্ম দেয়া হতো ভারতের মাটিতে, আর তা পূর্ব পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবিদের নিকট সরবরাহ করা হতো। সেই প্রচারণাকে মোকাবেলার ক্ষেত্রে পাকিস্তানী সংবাদ মাধ্যম অত্যন্ত দূর্বলতার পরিচয় দেয় কিংবা তারা বোকার মতো এক ধরণের আত্মপ্রসাদ-এ তন্ময় হয়ে থাকে। ফলে ১৯৭১ সালে পতন ঘটে পূর্ব পাকিস্তানের; আর সে ধ্বংসাবশেষ থেকে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তার স্বাধীনতার ৩৭ বছর পার করেছে। প্রায় ১৪ কোটি মানুষের এই দেশে অতি স্বল্প সংখ্যক মানুষ হয়তো তাদের ভাগ্য গড়ে স্বচ্ছলতা অর্জন করেছে। কিন্তু তাদের অনেকের অবস্থা পূর্বেকার চাইতেও খারাপ হয়েছে। অন্ততঃ ৪ কোটি অবস্থান দ্রারিদ্র সীমার বহু নিচে। শ্লোগানের উচ্ছ্বাস আর উচ্ছাশা এখনও অলীক ও মিথ্যাই রয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর থেকে সাহায্য ও ঋণ হিসেবে বাইরে থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যোগান দেয়ার পরও কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জীবন নিঃস্বতর পর্যায়ে পর্যবসিত হয়েছে। স্বাধীনতা লাভকারী পৃথিবীর অপরাপর কোন দেশের ক্ষেত্রে এমন নজীর নেই। এ থেকে এটা সহজেই অনুমেয় যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের যে জিগির তুলে ষাট এর দশক থেকে বিচ্ছিন্নতার বীজ বপণ ও বিচ্ছিন্নতার দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেসব জিগির ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যাচার।
রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ নামেমাত্র একটি রাষ্ট্র। বস্তুতঃ গত ৩৭ বছর ধরে দেশটাকে ভারতের একটি জায়গীর হিসেবে পরিচালনা করে আসছে ভারতের এজেন্ট এবং কুইসলিংরা- যারা দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। তাদের একমাত্র বিশ্বাস হচ্ছে দিল্লীতে থাকা তাদের মনিবদের স্বার্থরক্ষা করাই তাদের দায়িত্ব। আমলাদের একাংশ শাসকদের মতই অদক্ষ ও দুর্নীতিবাজ এবং অত্যন্ত হীনভাবে ভারতের গোলামী করতে একপায়ে খাড়া থাকে।
প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হয় ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW (Research and Analysis Wing) এর সুপারিশ মোতাবেক। এটা কোন কাল্পনিক বিশ্লেষণ নয়; এটা হচ্ছে অত্যন্ত বাস্তব সত্যি, যা খুব একটা রাখ-ডাক পর্যায়েও নেই।
সাংস্কৃতিকভাবেও ভারত বাংলাদেশের উপর তার আধিপত্য চালিয়ে থাকে। শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দেবত্ববাদী পৌত্তলিক হিন্দু ধর্ম থেকে উৎসারিত ভারতীয় দর্শনের প্লাবন বইছে। অথচ বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষের হৃদয় একশ্বেরবাদী ধর্মে নিবেদিত। উচ্চশিক্ষার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ রাজধানীতে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করছে ভারতীয় অনুচররা।
১৯৭১ উত্তর সময়ের ছাত্র সমাজের অনেকেই ভারতের বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারনায় প্রভাবান্বিত হয়ে নিজেদের ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। তারা ধর্মনিরপেক্ষতার শ্লোগান দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির দূহিতায় পরিণত হয়, যে সংস্কৃতিতে কোন সুনিদ্দিষ্ট মূল্যবোধ বিধৃত নেই। এদের মধ্যে অনেকে ভারতপন্থী বুদ্ধিজীবিদের সাহায্য-সমর্থনে ছাত্রদের নেতৃত্বে সমাসীন হয়। এই অতি দক্ষ ও সচতুর ভারতীয় প্রভাব কেবল সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহেই নয়; অপরাপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং প্রকারান্তরে দেশের রাজনীতিতেও তার বিস্তৃতি ঘটে। এই ছাত্র নেতারা তাদের পূর্বসূরী ৭০-৭১ সনে ‘চার খলিফা’ হিসেবে পরিচিতদের ন্যায় অসৎ ও অন্যায় পথে অগাধ বিত্ত-বৈভবেরও মালিক হয়ে যায়। দল মত নির্বিশেষে রাজনীতিবীদরা এই ছাত্রদের সমর্থনের জন্য সর্বাবস্থাতেই উন্মুখ হয়ে থাকে। ১৯৯১ সাল ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সর্বাত্মকভাবে ছাত্রদের সাহায্য-সমর্থন-অংশগ্রহণের বদৌলতে রাজনৈতিক সাফল্য লাভ করেন বেগম খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ, জামাতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও একইভাবে ছাত্রদের হীন আচরণ ও তাদের খেয়াল-খুশী চরিতার্থ করার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে দেয় তাদের রাজনীতির লক্ষ্য অর্জনের জন্য। কিন্তু নিষ্ঠুর রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল এই সব ছাত্র নেতারা যেহেতু ধর্ম নিরপেক্ষতার দীক্ষা গ্রহণ করে, সেহেতু তারা মুখ্যতই চায় বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসন ও তাদের সংস্কৃতির বিকাশ। তারা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ৯০ শতাংশের মুসলিম মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক আকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। বস্তুতঃ ইসলাম ও তাদের সংস্কৃতিকে হেয় ও ধ্বংস করাই হচ্ছে তাদের মূল লক্ষ্য।
১৯৭১ সালে জনগণকে এই মর্মে আশান্বিত করা হয়েছিল যে স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের জীবন ব্যবস্থারই কেবল উন্নতি হবে না; দেশ হিসেবে বিশ্বের জাতিপুঞ্জের মতো বাংলাদেশেরও থাকবে সার্বভৌমত্ব। কিন্তু গত ৩৭ বছরের ইতিহাস মূল্যায়ন করলে দেখা যাবে যে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের জীবনের কোন উন্নতি ঘটেনি। ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে তারা রেহাই পায়নি। এমনকি ভারতের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্কের যে চালচিত্র তা থেকে এটা স্পষ্ট যে দেশের সার্বভৌমত্বও বলা যায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং ঘটনা পরম্পরায় এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে বাংলাদেশের বাজার হচ্ছে ভারতীয় পণ্যের নিকট বন্দী, সংস্কৃতি হচ্ছে ভারতের বৈদিক সংস্কৃতির বর্ধিত রূপ এবং রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে ভারতের গোলাম-এ। কেউ সরকারে থাকুক কিংবা না থাকুক বাংলাদেশে ভারতের আগ্রাসী প্রয়োজন মেটাতে রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রায় প্রত্যেককে অতি বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হয়। বাংলাদেশের ভূখন্ড দিয়ে ভারতের অবাধ ট্যানজিট সুবিধা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের ব্যবধান মাত্র। তাদের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন রাজনীতিতে উদ্দিষ্ট অবস্থা সৃষ্টি করতে দিল্লীর শাসকরা তাদের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর মাধ্যমে ভিতর এবং বাইরে থেকে সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে থাকে। ভারতের অশুভ খপ্পর থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বাংলাদেশের সীমান্তের বাইরে তার বন্ধুর দরকার। এটা করার পথে ভারত প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে গিয়ে অনেক জাতি, রাষ্ট্রই ভারতের আগ্রাসী আচরণে বিভিন্নভাবে শরমিন্দা ও বিবৃত হয়ে পড়ে। পাকিস্তানের সাথে অতীতের বহু নিষ্পন্ন ইস্যু উঠিয়ে প্রায়শই ভারতপন্থী মহল বিষাক্ত প্রচারণার সৃষ্টি করে; যার লক্ষ্য হচ্ছে কোনভাবেই যেন পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করতে না পারে। এছাড়াও ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো অব্যাহতভাবে সেই পুরনো প্রচারণা চালিয়ে থাকে যে ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগ ছিল একটা মস্তবড় ভুল; যা থেকে বাংলাদেশ-এর শিক্ষা গ্রহণ পূর্বক বাংলাদেশ যদি ভারতের একটি প্রদেশ-এ রূপান্তরিত হয়, তাহলে দেশটির সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। চাকমা ইস্যুতে ভারতের উস্কানী ও প্রত্যক্ষ মদদ, অভিন্ন নদীগুলোর পানির হিস্যা নির্ধারণে ভারতের অসম্মতি, বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ ভূখন্ড নিয়ে পশ্চিম বাংলার হিন্দুদের উদ্ভাবিত স্বাধীন বঙ্গভূমির তথাকথিত আন্দোলনে ভারতের প্রত্যক্ষ মদদ ও উস্কানী হচ্ছে বাংলাদেশের ঐক্য, সংহতি ও সার্বভৌমত্ব ধ্বংসকারী ভারতীয় অপতৎপরতার লীলাখেলা। ভারতের নগ্ন আগ্রাসনে বাংলাদেশের অসহায়ত্ব দেশ- বিদেশের সকল মহলের জানা। অনেকেই আজ নিশ্চিত যে ১৯৭১ সনে বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত ভারত আসলে পরেছিল বন্ধুতের ছদ্মাবরণ। সেই বন্ধুত্বের ভেক ধরার পিছনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাদের বিবেচনায় তাদের এক নম্বরের শত্রু পাকিস্তান ভাঙ্গার জন্য তাদের নোংরা চেহারাটা লুকানো। ১৯৭১ সালে তাদের সেই লক্ষ্য অর্জনের পর তারা তার চূড়ান্ত যে উদ্দেশ্য অর্থাৎ বাংলাদেশকে ভারতের সাথে একীভূত করার লক্ষ্য সাধনে নিজদেরকে নিয়োজিত করে। এ কারণেই একদিনের জন্যও ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের নানাবিধ হীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বন্ধ রাখেনি। তাদের এই অব্যাহত হীন প্রচারণায় বরাবরই পাকিস্তান কর্তৃক তার পূর্বাঞ্চলকে শোষণের সেই পুরনো কেচ্ছা ফাঁদিয়ে থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্যি বাংলাদেশের কেউ কেউ এই সব প্রচারণায় ভারতের কোন দুরভিসন্ধিপূর্ণ উদ্দেশ্য নেই বলে মনে করে।
এই বই এর মাধ্যমে একটি বিনয়ী ও তথ্য নির্ভর প্রয়াস থাকবে- কেমনিতর অবাস্তব অলীক কাহিনী আর মিথ্যাচার দ্বারা বাংলাদেশ সৃষ্টির ক্ষেত্র সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং চূড়ান্তভাবে কেমনতর পরিণতির দিকে ভারত বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে চায় সে সম্পর্কে জনসাধারণের চক্ষু উম্মীলন করা। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে তথাকথিত বৈষম্য নিয়ে প্রথম অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা ও সে সবের উৎস মূল প্রামাণ্য নথিপত্র সমেত পরিস্ফুট করা হয়েছে। তৃতীয় অধ্যায়ে ৩০ লক্ষ শহীদ হবার তথাকথিত পরিসংখ্যানের নিগলিতার্থ বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। চতুর্থ অধ্যায়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও স্বার্থের সংঘাত এবং তা কিভাবে ভারতীয় পৃষ্টপোষকতায় ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নিল; ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোন ও তথ্যপঞ্জীর আলোকে তার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সর্বশেষ উপসংহার অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে উপমহাদেশে হিন্দু পুনরুত্থান ও ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ও গুরুত্ব।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন:
বাংলাদেশে ভারতের “সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন” এবং “রাজনৈতিক কর্তৃত্ব” প্রতিষ্ঠার স্বরূপ অনুধাবন করার পূর্বে সংক্ষেপে আলোচনা করা যাক “সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ” এবং “রাজনৈতিক কর্তৃত্ব” বলতে কি বোঝায়।
“সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ” বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন রাজনৈতিক ভাবে শক্তিশালী কোন রাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত দুর্বল কোন রাষ্ট্রের উপর স্বীয় সংস্কৃতিকে প্রচার এবং প্রসারিত করতে সচেষ্ট হয়। অথবা, কোন জনগোষ্ঠীর মাঝে বাধ্যতামূলকভাবে বিদেশী সংস্কৃতিকে অভিযোজন করাকে সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ (Cultural imperialism) বলা যেতে পারে।
“ভাষাভিত্তিক সাম্রাজ্যবাদ” (language imperialism) এবং “শিক্ষাভিত্তিক সাম্রাজ্যবাদ” (Academic imperialism) হচ্ছে সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের অপর দুই মাধ্যম। তেমনই, তথ্য- প্রযুক্তি নির্ভর সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদকে বলা হয় “সফট পাওয়ার” (soft power)।
“রাজনৈতিক কর্তৃত্ব” (hegemony) হচ্ছে, পরোক্ষ আধিপত্যের ভূ- রাজনৈতিক পদ্ধতি, যে মাধ্যমে আধিপত্যবাদি কোন রাষ্ট্র অনুগত কোন রাষ্ট্রকে সরাসরি সামরিক আক্রমণ, দখল বা স্বরাজ্যভুক্তি না করে, হস্তক্ষেপের হুমকি প্রদানের মাধ্যমে কর্তৃত্ব করে।
“সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ” (cultural hegemony) হচ্ছে, কোন আধিপত্যবাদি রাষ্ট্র যখন একই পদ্ধতিতে অনুগত কোন রাষ্ট্রের সামাজিক কৃষ্টির উপাদান সমূহকে (যেমন, ধর্ম বিশ্বাস, ধর্মীয় ব্যাখ্যা, অনুভূতি, ধ্যান- ধারণা, মূল্যবোধ ইত্যাদি) স্বীয় কর্তৃত্ব স্থায়ী করার উপযোগী করে তুলতে সচেষ্ট হয়।
বাংলাদেশের উপর ভারতের যত প্রকার আগ্রাসন চলছে, এসবের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হচ্ছে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদী বা সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদী এবং “সফট পাওয়ার” মূলক আগ্রাসন।
বিশ্বের অন্যান্য প্রগতিশীল উদারমনা বিবেকবান মানুষের মতো বাংলাদেশের মানুষও মনে করে, পৃথিবীর প্রতিটি দেশের সাথে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় মানবজাতির স্বার্থের অনুকূল এক প্রক্রিয়া। সাংস্কৃতিক বিনিময়ে উভয় দেশের অংশগ্রহন অপরিহার্য অথচ বাংলাদেশে ভারতের এত টিভি চ্যানেল দেখানোর অনুমতি থাকলেও ভারতে বাংলাদেশের কোন টিভি চ্যানেল দেখানোর অনুমতি নেই, আবেদন বা গ্রহণযোগ্যতা থাকে স্বত্বেও। একতরফা সাংস্কৃতিক প্রভাব কোন অর্থেই পারস্পরিক হতে পারে না।
তাছাড়া, সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নামে তা যদি হয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, প্রশ্রয় দেয়া হয় অপসংস্কৃতিকে, আর এর বিরূপ প্রভাবে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয় দেশের তরুণ প্রজন্ম তবে তা কোনো মতেই মেনে নেয়া যায় না। ভালো কিছু গ্রহণ করতে কারোই আপত্তি থাকার কথা নয় কিন্তু অবাধে অপসংস্কৃতি প্রবেশে সকল দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়ার পক্ষেও কেউই সায় দিবে না।
১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার শুরুর পর থেকে কার্যত ভারত আমাদের ওপর অব্যাহতভাবে এক ধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনই চালিয়ে যাচ্ছে। আজকের বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক আগ্রাসনের পাশাপাশি এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিষয়টি এ দেশের মানুষের কাছে উদ্বেগের কারন হয়ে উঠেছে। অনেকেই আজ খোলাখুলি বলতে বাধ্য হচ্ছেন, আমরা আজ ভারতীয় আগ্রাসনের শিকার।
বাংলাদেশে স্যাটেলাইট টিভির সূচনা ১৯৯২ সালে। এর আগে ১৯৬৪ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে চালু ছিল শুধু বিটিভি। ১৯৯২ সাল থেকে প্রধানত টেলিস্টার-১০ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে আসছে। এগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি অন্যান্য স্যাটেলাইটও ব্যবহার করছে। বাংলাদেশী এসব টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান, বিশেষ করে নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গানের ভিডিও পশ্চিম বাংলার মানুষের কাজে জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও ভারত সরকার তাদের দেশে বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলার ওপর এক অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। অথচ বাংলাদেশে অবাধে চালু আছে প্রচুর সংখ্যক বিদেশী টিভি চ্যানেল, যার মধ্যে ৯০ শতাংশই ভারতীয়। গণমাধ্যমে খবর এসেছে, বাংলাদেশে প্রচুর সংখ্যক ভারতীয় টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানের ডাউনলিঙ্ক করা হচ্ছে অবৈধভাবে। বাংলাদেশী ক্যাবল অপারেটরেরাও তথ্য মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন না নিয়েই বিদেশী টিভি চ্যানেলের সিগন্যাল ডাউনলিঙ্ক করছে। এই প্রক্রিয়াকে সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের “সফট পাওয়ার” (soft power) এর অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
বর্ণ বিদ্বেষী, শ্রেনী বিন্যাসী এবং জাত্যাভিমানী সহ অনেক সমাজের মানুষজনের নিকট অন্য কোন কৃষ্টির উপাদান তত আকর্ষণীয় নয় যতটা বাংলাদেশের জনগণের এক ব্যাপক সংখ্যার নিকট আকর্ষণীয়। হতে পারে, অন্যদের তুলনায় বাংলাদেশীরা অতি মুক্তমনা বা অন্য কিছুর প্রতি অতি আগ্রহি কিংবা অপসংস্কৃতির সাথে পরিচিত নয় বলেই তার প্রতি আগ্রহ অতি তীব্র। তবে অন্য সংস্কৃতির প্রতি অতি উদারতা এবং অতি আগ্রহ যে ক্ষতির কারন এবং আত্ন বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে, তার প্রমান বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সাথে সামঞ্জস্যহীন ও ক্ষতিকারক প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের ছায়াছবি এবং টিভি প্রোগ্রাম সমূহের প্রতি তাঁদের অতি আগ্রহ যদিও, আমাদের দেশে ভালো মানের ছবি, নাটক ও টিভি অনুষ্ঠান হচ্ছে এবং আমাদের সংস্কৃতিকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখা যায় না।
বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, ভারতীয় ছায়াছবি এবং টিভি সিরিয়াল সমুহে যে সকল উপাদান তাঁদের সবচেয়ে বেশী আগ্রহি করে তোলে তার মধ্যে প্রধান বিষয়টি হচ্ছে যৌন উত্তেজনা। অনেক ভারত প্রেমিক চট করে বলে ফেলেন, ভারতের টিভি সিরিয়াল গুলি বাংলাদেশের টিভি অনুষ্ঠান সমূহের তুলনায় অনেক উন্নত মানের, তাই তারা বাংলাদেশের টিভি প্রোগ্রাম দেখেন না।
হতে পারে ভারতীয় অনুষ্ঠানগুলির প্রিন্ট বাংলাদেশী অনুষ্ঠানগুলির তুলনায় ভালো, ওদের সাজ-পোশাকে থাকে একটি বাড়তি চমক যা দর্শকদের আকৃষ্ট করে থাকে, এদের বিজ্ঞাপনের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম ইত্যাদি। কিন্তু কথায় বলে, যার যেমন আয়, তেমনই ব্যয় করা উচিত। সবাই কি মার্সিডিজ কিনতে পারে? দেশ বড় হওয়ার কারণে ভারতের ছবি এবং সিরিয়াল নির্মাতাদের আয় বাংলাদেশী নির্মাতাদের তুলনায় অনেক বেশি, সেকারনে তারা এসব নির্মাণে ব্যয়ও করতে পারে বেশি। ব্যয় বেশি তাই, চাকচিক্য বেশি। তাই, অন্যের চাকচিক্য দেখে কি আমার আত্মবিস্মৃত হওয়া যুক্তিযুক্ত?
যারা অন্যের এই চাকচিক্যের কারণে আত্মবিস্মৃত হচ্ছেন, তাঁদের কাছে প্রশ্ন, প্রতিবেশী বাড়িতে পোলাও-গোস্ত রান্না করা হয় বলে কি নিজ গৃহের মাছ-ভাত অখাদ্য হয়ে যায়? প্রতিবেশীর ঘি দিয়ে পাক করা খাবারের প্রাপ্তি যদি হঠাৎ কোনদিন, কোন কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তখন কি খাবেন? তখন কি ওদের ডাস্টবিনে খাবার খুজবেন নাকি নিজের মাছ-ভাত বা যাই আছে তাই খাবেন?
“সফট পাওয়ার” এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে
“সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ”।
একটি কথা প্রচলিত আছে যে, মিথ্যা কথা বার বার বললে তা মানুষের কাছে সত্য বলে মনে হয়।
পশ্চিমা বিশ্বের খৃষ্টান অধ্যুষিত আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র সমুহ যেমন মুসলমান সমাজকে এক্সপ্লয়েট করার জন্য কয়েক শতাব্দী যাবত কোমর বেধে ইসলামের বিরুদ্ধে জোর প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তেমনই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবি এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা বিশেষ করে ভারত পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে এক্সপ্লয়েট করে যাচ্ছে। বলিউড নির্মিত “প্রচারণা ছায়াছবি” (propaganda film) ভীর জারা, ফানা, সারফারোজ, গার্ব , এল ও সি, আব তুমহ্যারে হাওলা ওয়াতান সাথিও, বর্ডার, দেব, জামীর, গ্যাং, ওয়েন্ডস ডে, কাছে দাগে, ইয়ে দিল আশিকানা, হিন্দুস্তান কি কসম, ওয়ান্টেড ইত্যাদি সহ ৭৫.০৬ ভাগ বলিউড সিনেমায় মুসলমান চরিত্র উল্লেখযোগ্য। এই সকল চরিত্রের মাধ্যমে, মুসলমানদেরকে কৌশলে উপহাস এবং মুসলমানদের প্রতি হিন্দুদের সহানুভূতিমুলক মনোভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে মুসলমান চরিত্রকে লোভী, শত্রুতাপূর্ণ, দুর্বল ইচ্ছা শক্তি এবং দুর্বল প্রত্যয়ের অধিকারী হিসেবে, সন্ত্রাসী বা মাফিয়া চক্রের নেতা, অস্ত্র- মাদক চোরাকারবারী, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা সৃষ্টিকারী, খুনী, প্রতারক বা নির্মম অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এক দিকে ভারতের ছায়াছবি নির্মাতাগণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ছায়াছবির মাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। অন্যদিকে, ভারতীয় টিভি চ্যানেল সমূহে আমাদের সংস্কৃতির উপাদানের সাথে বেমানান সংস্কৃতির চর্চা করে, সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নামে যেসব সাংস্কৃতিক উপাদান দিয়ে আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সঙ্গীতের নামে এসব টিভি চ্যানেলে পরিবেশিত হয় এক ধরনের উলঙ্গ নৃত্য যা ভারতের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে কিন্তু আমাদের দেশের ৯০% মানুষের সংস্কৃতির সাথে নয়।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি বলতে আমরা বুঝি বাংলাদেশের মানুষের যুগ যুগ ধরে চলে আসা জীবনাচার। এ দেশের মাটি, নদনদী, জনগোষ্ঠীর শিকড় থেকে উঠে আসা শিল্প। আমাদের সাহিত্য মূলত এ দেশে গড়ে তুলেছে সমৃদ্ধ এক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। আমাদের সংস্কৃতি নিশ্চিতভাবেই আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে স্বতন্ত্র। এ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। উনিশ ও বিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁর সময় লেখক, শিল্পী-সাহিত্যিক, চিন্তক-গবেষক, সুফি-দরবেশ, সঙ্গীতসাধক, চিত্রকর, চলচ্চিত্রকার, বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ আর এ দেশের মাটি-মানুষের সম্মিলিত অবদানের ফসল আমাদের অনন্য এ সংস্কৃতি। হাজার বছরের ঐতিহ্য লালন করেই চলে এসেছে আমাদের জীবনযাপন আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড: শিল্প-সাহিত্য, সঙ্গীত, নাটক-সিনেমা, লোকশিল্প, কুটির শিল্প, লোককাহিনী, দর্শনচর্চা, উৎসব-আয়োজনসহ যাবতীয় লোকাচার। আমাদের সংস্কৃতির ওপর নানা ধর্মের নির্দোষ প্রভাবও ছিল বরাবর। কিন্তু এর পরও স্বীকার করতেই হবে, সব কিছুকে ছাপিয়ে আমাদের সংস্কৃতি আগ্রাসনের শিকারও হয়েছে নানাভাবে। সে আগ্রাসন মোকাবেলা করেই আমরা আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক- বাহক।
এক সময় যখন বাংলাদেশে কোনো বিদেশী টিভি চ্যানেল ছিল না, তখন বিটিভি যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনগুলোর ভালো ভালো টিভি সিরিয়াল আমাদের দেখাত। ম্যাকগাইভার, স্টারট্র্যাক, ইনক্রেডিবল হালক, ওশিন ও কার্ল সাগানের বৈজ্ঞানিক সিরিয়াল এমন সব সিরিয়াল যেন ছেলে-বুড়ো সবার নির্মল আনন্দের আধার ছিল। আমাদের বিটিভির রাবেয়া খাতুনের সকাল-সন্ধ্যা, হুমায়ূন আহমেদের ‘বহুব্রীহি’, জহির রায়হানের সংশপ্তক-এর মতো অসংখ্য টিভি সিরিয়াল ছিল অনন্য অসাধারণ। সুস্থ বিনোদনের আধার। কিন্তু ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো আসার পর আমরা পাচ্ছি শুধু ভারতীয় সংস্কৃতির উপাদান সমূহ যে সব আমাদের সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। আমরা দেশীয় সুস্থ সংস্কৃতি থেকে মুখ ফিরিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছি অপসংস্কৃতির ওপর।
সময়ের সাথে এই অপসংস্কৃতির আগ্রাসন ক্রমেই আমাদের গ্রাস করছে। এই আগ্রাসনের সহজ শিকার আমাদের তরুণ প্রজন্ম। কোনো ধরনের ভাল-মন্দ বিবেচনা না করেই অন্ধভাবে অনুকরণ করছে এমন বিদেশী সংস্কৃতি, যার পরিণাম ভয়াবহ। এর অনিবার্য পরিণাম নিজস্ব সংস্কৃতিকে অস্থিত্বহীনতার দিকে ঠেলে দেয়া। সম্প্রসারণবাদীদের লক্ষ্যটাও তাই। কারণ, এরা ভালো করে জানে একটি জাতিকে পদানত করতে সবার আগে প্রয়োজন এর শিক্ষা-সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে তরুণ প্রজন্মকে বিচ্ছিন্ন করা। আজকের যুব সমাজের একটি অংশ আসক্ত হয়ে পড়েছে হিন্দি ভাষায়। অনেক ঘরের শিশুর মুখেও আজকাল ‘বাচ্চা মাত বলোনা, শিভা মেরা নাম হ্যায়’ অথবা হারামজাদে, ‘ম্যায় তেরা খুন পিই যাউংগা’ এমন হিন্দি ডায়ালগ শোনা যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট ডিশ মানে ভারতীয় চ্যানেল। আর ভারতীয় চ্যানেল মানে অলংকার আর নানা চমকের ঝলকানির পোশাক পরে সংসারের কূটনামি, ষড়যন্ত্র মার্কা ধারাবাহিক। উচ্চবিত্তের পরকীয়া, বহুবিবাহ, বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ, পারিবারিক বিরোধ প্রভৃতি এইসব সিরিয়ালের মুল বিষয়বস্তু, যা কঠিন ব্যাধির মতোই মানসিক আঘাত হানছে নারী ও শিশু দর্শকের মনের উপর।
এই সব টিভি সিরিয়ালগুলোর মূল বিষয়বস্তু তিনটি। প্রথমত: সিরিয়ালগুলোতে ভরপুর থাকে পারিবারিক ও সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব, প্রতিযোগিতা, প্রতিহিংসা এবং ঝগড়া। এটাকে কেন্দ্র করে গোটা সিরিয়াল জুড়েই থাকে কূটবুদ্ধির চর্চা। প্রতিহিংসা রূপ নেয় একে অপরকে ধ্বংস বা হত্যা ষড়যন্ত্রের পর্যায়ে। গৃহবধূ, নারী এবং কিশোরীরা এই ঝগড়া-ঝাটি দেখতে বেশ পছন্দ করে। এটা তাদের মনের মধ্যে দাগ কাটে, নিজেদের প্রবৃত্তিটাও আস্তে আস্তে সেভাবেই বিকশিত হয়। পরিণত বয়সীদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসে এই সিরিয়াল দেখে। তাদের ভিতরের স্বভাবটাও আস্তে আস্তে ঝগড়াটে স্বভাবে রূপ নেয়। এটা যখন বাস্তবে রূপ লাভ করে তখন পরিবার গুলোতেও দেখা দেয় প্রতিহিংসা, দ্বন্দ্ব, ও সংঘাত। আমাদের ধর্ম, আমাদের পরিবার প্রথা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুসারে আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা থাকার কথা । কিন্তু ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের প্রতি আসক্তির কারণে এমন শ্রদ্ধা, ভালবাসা পরিবার ও সমাজ থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করেছে এবং এসবের স্থলে স্থান করে নিচ্ছে প্রতিহিংসা, দ্বন্দ্ব, ও সংঘাত।
ভারতের বাংলা চ্যানেল জি বাংলা, স্টার জলসা, ইটিভি, হিন্দি চ্যানেল জিটিভি এবং স্টার প্লাস সর্বাধিক সিরিয়াল প্রচার করে থাকে। এসব সিরিয়ালের দ্বিতীয় বিষয়বস্তু হলো ‘পরকীয়া’ অর্থাৎ এক নারীর সাথে একাধিক পুরুষের দৈহিক সম্পর্ক, বিবাহ বহির্ভূত মেলামেশা, আবার এক পুরুষের সাথে একাধিক নারীর দৈহিক সম্পর্ক ও মেলামেশা। এগুলোকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক বিশ্বাসের পরিবর্তে সৃষ্টি হয় সন্দেহের। স্বামী স্ত্রী উভয়েই উভয়কে সন্দেহ করে। নেশাগ্রস্তের মতো আগ্রহ নিয়ে এইসব সিরিয়ালের কাহিনী পর্যবেক্ষণের কারণে আমাদের সমাজেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে চলে ভারতের একেকটি সিরিয়াল। বিশ্বাস না থাকলে বাস্তবে পৃথিবীতে কোন সভ্যতাই গড়ে উঠতো না। জনপ্রিয় হওয়ার জন্য যৌন উত্তেজনা পরিবেশনের মাধ্যমে সেই বিশ্বাসই ভেঙ্গে দিতে সঙ্কল্পবদ্ধ সিরিয়াল নির্মাতাগন। এইসব সিরিয়ালের কুপ্রভাবে সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা, বেলেল্লাপনা, পরকীয়া, বহুবিবাহ, মনোমালিন্য, সন্দেহ, ডিভোর্সসহ বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনা।
সিরিয়ালগুলোর তৃতীয় মৌলিক বিষয়বস্তু হলো ধর্ম। সস্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব, পরকীয়া, বা যা কিছু নিয়েই দ্বন্দ্ব, প্রতিযোগিতা বা প্রতিহিংসা যখন চরম পরিণতির দিকে যায় তখন ধর্মের কাছে গেলে তার সমাধান হয়ে যায়। ধর্মই সত্যের ওপর অবিচল থাকা নায়ক বা নায়িকার শেষ আশ্রয়স্থল। চরম সমস্যা সঙ্কুল পরিস্থিতিতে যখন কেউই তার পক্ষে নেই বলে মনে হয় তখন দেখা যায় যে, সংক্ষুব্ধ নায়ক, নায়িকা বা সংশ্লিষ্ট চরিত্রের ব্যক্তি দেব-দেবীর মন্দিরে মূর্তির কাছে পূজা দিয়ে তার কাছেই সব সমস্যার সমাধান খুঁজছে। শেষ পর্যন্ত সমাধানও তাদের ধর্মের কাছে গিয়েই হচ্ছে। একটা বিষয় খুবই লক্ষণীয় যে, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে চলা মেগা সিরিয়ালের কাহিনী, কথোপকথন এবং ঘটনা পরম্পরায় যখন যে পূজা তখন সেখানে গিয়ে আবর্তিত হয়। বাস্তবে কৌশলে সিরিয়ালগুলোতে তারা তাদের ধর্মটাকেই প্রচার ও প্রতিষ্ঠিত করছে। অথচ আমাদের দেশের সমস্ত নাটক, সিনেমা, সিরিয়াল সব কিছুতেই ধর্ম প্রায় অনুপস্থিত। শুধু তাই নয়, ক্ষেত্র বিশেষে ধর্মটাকে এখানে প্রগতির পথে অন্তরায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
কিছু কাল পূর্বেও আমাদের মা, চাচী, খালা, বোন, আর ভাবীরা দুপুরে খাওয়া সেরে হয় ঘুমাতেন; না হয় কয়েকজন মিলে সুখ-দুঃখের কথা বলতেন। কিন্তু আজকাল ওনারা অবসর সময়ে নেশগ্রস্তের মতো টিভির সামনে বসে থাকেন। তারা কী বিটিভি, বিবিসি, ডিসকভারি, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, এনিমেল প্ল্যানেট, কিডস চ্যানেল, নিও স্পোর্টস বা স্টার স্পোর্টস দেখেন? অবশ্যই নয়। ওরা দেখেন স্টার প্লাস, জি বাংলা, সাহারা ওয়ান, সনি, এনডিটিভি, ইমেজিন ইত্যাদি চ্যানেল।
মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির এ যুগেও পার্শ্ববর্তী দেশের বিনোদন ব্যবসায়ীরা আমাদের দেশীয় চ্যানেলগুলোকে তাদের গৃহে প্রবেশ করতে দেন না, কিন্তু আমাদের দেশের মেরুদন্ডহীন বিনোদন ব্যবসায়ীরা প্রতিবেশি দেশের চ্যানেলগুলোকে সাদরে আমাদের অন্দরমহলে প্রবেশ করিয়েছেন। প্রবেশের সুযোগ পেয়েই আমাদের নারীদের মনের গভীরে প্রবেশ করছে সিরিয়ালের অতি নাটকী অর্ধ নগ্ন নায়ক- নায়িকারা।’
সংসার কর্তার বেতন থেকে ডিশ সংযোগের বিল দিয়ে আমাদের নারীরা এক দিকে শিখছেন বউ শাশুড়িকে, শাশুড়ি বউকে, ননদ ভাবীকে, ভাবী ননদকে কিভাবে সাইজ করে; স্বামীকে কী করে দৌড়ের ওপর রাখা যায়; কিভাবে স্বামী তালাক দেয়ার পর দেবরকে বিয়ে করে সংসারে আগুন জ্বালাতে হয়। এসব ছাড়াও আমাদের নারীরা গিলছেন; কী করে সিরিয়ালের নায়িকা স্বামী ও প্রেমিককে, বা নায়ক স্ত্রী ও প্রেমিকাকে ম্যানেজ করছেন সেই সাথে বোনাস হিসেবে পরকীয়ার রগরগে দৃশ্য। আগে নারীদের আড্ডায় নিজেদের সাংসারিক আলাপ হতো আর এখন হয় সিরিয়ালের নায়িকাদের ভার্চুয়াল পরিবারের সমস্যা নিয়ে গভীর আলোচনা।
শুধু তাই নয়, এসব সিরিয়াল দেখে দেখে আমাদের এক শ্রেণীর তরুণ-তরুণী আজ বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক সম্পর্ক হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। এসব সিরিয়ালে যেভাবে অপরাধকর্মের ছড়াছড়ি, তা দেখে দেখে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই অপরাধের প্রতি আসক্ত হয়ে উঠছে। এতে করে সামাজিক ও পারিবারিক বিশৃঙ্খলাও সময়ের সাথে বাড়ছে। ঘটছে মূল্যবোধের অবক্ষয়।
ভারতীয় সংস্কৃতির আধিপত্যের ফলে আজ আমাদের বিয়ের উৎসব-আয়োজনও হারাতে বসেছে অতীত ঐতিহ্য। আমাদের পোশাক-আশাকে আসছে ভারতীয় ঢং। মুসলমানদের বিয়ের উৎসবেও চলে বলিউড স্টাইলে নাচের আয়োজন। বিয়ের উৎসবের সময়-পরিধিও বেড়ে গেছে। বাড়তি দিনগুলোতে ভারতীয় সিরিয়ালের আদলে চলে হিন্দি নাচগান, যা কয় বছর আগেও এ দেশে ছিল অকল্পনীয়। আজ দর্জি বাড়িতে হিন্দি সিরিয়াল আর সিনেমার নায়কের পোশাকের আদলে পোশাক তৈরি করে দেয়ার অর্ডার যাচ্ছে। ড্রেস ডিজাইনারেরাও শিকার একই প্রবণতার। মরণঘাতী এ ছোবল আমাদেরকে ক্রমেই করে তুলছে পরনির্ভর সংস্কৃতির ধারক-বাহক।
শুধু তাই নয়, আগে ইংরেজিতে কথা বলতে পারা ছিল স্ট্যটাসের চিহ্ন, আর এখন হিন্দি সে স্থান দখল করে নিচ্ছে। “ভাষাভিত্তিক সাম্রাজ্যবাদ” আমাদের মুখের ভাষাও বদলে দিচ্ছে। সালাম বরকতকে আমরা ভুলতে বসেছি। ২১ ফেব্রুয়ারি শুধুই বাৎসরিক এক সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিনত হচ্ছে।
যে কাহিনী এক পর্বের নাটকের জন্যও যথেষ্ট নয়, সে কাহিনীকে রাবারের মতো লম্বা করে কয়েক শ’ পর্ব বানিয়েও আরো লম্বা করতে পুনর্জন্মকে মাধ্যম হিসেবে নেয়া হয়। এভাবে মানুষের চিন্তা-ভাবনা করার সময়ও কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ‘প্লেইন লিভিং এন্ড হাই থিঙ্কিং’ বৈশিষ্ট হাড়িয়ে আমরা গ্রহন করছি ‘নো চিন্তা ডু ফুর্তির’ সংস্কৃতিকে। জাতিগত ভাবে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে, সব রকম আগ্রাসনকে সুযোগ দিয়ে আমরা সম্রাট নিরোর মত বাশি বাজাচ্ছি, আর ভাবছি দেশের চিন্তা করার দায়িত্ব তো অন্যদের।
এমনি পরিস্থিতিতে সমাজের একটি বড় অংশ যখন ভারতীয় চ্যানেল বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে, ঠিক তখনি কেউ কেউ ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ না করার পক্ষে নানা যুক্তি খাড়া করছেন। মুক্ত এই আকাশ সংস্কৃতির যুগে নাকি উত্তরের জানালা যদি খুলে দেয়া হয়, সেই জানালা দিয়ে বাতাসের সাথে খানিকটা ধুলো-বালিও নাকি আসবে। এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।
খানিকটা ধুলো-বালি যদি আসতো, তা নাহয় সহ্য করা হতো। কিন্তু এ যে ধুলো-বালি নয়। রীতিমত কাদামাটি ও নোংরা জল যা আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্ম ও সাংস্কৃতিকে একসাথে কর্দমাক্ত করে দিচ্ছে। তাঁদের কারনেই, আমরা কাদামাটি ও নোংরা জল প্রমাণ করতে পারছিনা, প্রমান করতে পারছিনা ‘প্রদীপের নিচে অন্ধকার’কে। তাই আমাদের শিশুরা মোটু-পাতলু, শিভা মেরা নাম হ্যায় ইত্যাদি দেখে সারাদিন হিন্দি প্র্যাকটিস করতে থাকে।
ভারতীয় চ্যানেল আমাদের ‘দেশীয় পণ্য কিনে হও ধন্য’ স্লোগানটাকেও নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। ভারতীয় চ্যানেলে সম্প্রচারিত বিজ্ঞাপনের বদৌলতে আমাদের নারীসমাজ ভারতীয় পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে দিনের পর দিন। ভারতীয় পণ্যের নাম তাদের মুখস্ত। ভারতীয় সিরিয়ালের নামে বাজারে ঈদ-পূজায় পোশাক আসে। সেই সাথে, ভারতের ব্যথা, বেদনার মলম থেকে শুরু করে পান পরাগ, গুটকা, শাড়ি-চুড়ি, কাপড় জুতায় আমাদের বাজার ভর্তি। শুধু কী তাই, দোকানিরাও এক পা এগিয়ে আছে আগে ভারতীয় পণ্যগুলিই কাস্টমারদের দেখানোর জন্য।
এতে বোঝা যাচ্ছে, আমরা শুধু ভারতীয় চ্যানেল দেখছি না, সাথে চ্যানেলে বিজ্ঞাপিত পণ্যও ক্রয় করছি। মহিলা ক্রেতারা বাজারে গিয়ে জিজ্ঞেস করে টাইগার বাম, জান্ডু বাম, লেহেংগা, কিরণ মালা ইত্যাদি। সেই পোশাক কিনতে না পেরে ডিভোর্স ও আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অথচ এর বিপরীতে, দেশের ভালো ভালো পণ্য আজ ভারতীয় পণ্যের কাছে হেরে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেল ভারতে দেখানো হয় না। ভারত যে বাংলাদেশের চ্যানেল দেখায়না এটা তাদের দেশপ্রেম। তারা যে দেশকে ভালোবাসে এটা তার প্রমাণ। একসময় কোলকাতায় বাংলাদেশি টেলিভিশন খুবই জনপ্রিয় ছিল। তখন স্যাটেলাইটের যুগ ছিল না। ওই সময় বাংলাদেশি কোম্পানিগুলির সাবান কোলকাতার বাজারে বিক্রি হতো। এখন আমরা ভারতীয় চ্যানেল টাকা দিয়ে দেখি এবং সেই সাথে তাঁদের পণ্যও ক্রয় করি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ভারতের একটি বড় বাজারে পরিনত হয়েছে। বাংলাদেশের কেউ একবারও ভেবে দেখেছে বলে মনে হয়না যে, এত বড় দেশ ভারত, সেখানে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সৃষ্টি করতে পারলে সেখান থেকে আমরা ভারতের তুলনায় অধিক লাভবান হতে পারি। কিন্তু আমাদের ব্যাবসায়ীদের মধ্যে তেমন দেশ প্রেম কোথায়। তাঁদের নিকট চোরাকারবারি করে হলেও ভারতীয় পণ্য বিক্রয় করে ব্যাক্তিগত মুনাফাই শ্রেয়তর।
বাংলাদেশের অনেক সাংস্কৃতিক কর্মী বিশ্বাস করেন, বাংলা চলচ্চিত্রের ধ্বংসের পর এখন টিভি নাটকেরও সমাপ্তি টানার আয়োজন চলছে। তারা বলেন, সংস্কৃতি শুধু বাণিজ্য নয়; একটা জাতিকে এগিয়ে নেয়ার হাতিয়ার। আমরা সে হাতিয়ারই তুলে দিয়েছি ভারতীয় চ্যানেলের হাতে।
বাংলাদেশ ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের সামগ্রিক প্রক্রিয়া চলছে গ্লোবালাইজেশনের নামে। বলা হচ্ছে তথ্যের অবাধ প্রবাহ, মুক্ত অর্থনীতি, স্যাটেলাইট, ইন্টারনেট আজ গোটা পৃথিবীকে করে তুলেছে এক গ্লোবাল ভিলেজ। পাশাপাশি আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি, এসব একই সাথে আমাদের পৃথিবীকে করে তুলেছে এক গ্লোবাল পিলেজ তথা লুণ্ঠনের স্থানে, পাশাপাশি বিশ্বকে করে তুলেছে সম্প্রসারণবাদীদের আগ্রাসনের অবাধ ক্ষেত্র। নইলে কেন গ্লোবালাইজেশনের দোহাই দিয়ে আমাদের দেশে অবাধে চলবে অসংখ্য ভারতীয় টিভি চ্যানেল, আর ভারতে চলতে পারবে না আমাদের একটি টিভি চ্যানেলও? কেন এসব টিভি চ্যানেল আমাদের দেশ থেকে নিয়ে যাবে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, আমরা বরাবরই থাকব সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত?
সাপ্তাহিক ব্লিটজ পত্রিকার সাম্প্রতিক এক জরিপে উল্লেখ রয়েছে, ভারতীয় কোন চ্যানেল বাংলাদেশ থেকে কত আয় করছে। বিদেশী টিভি চ্যানেল, যার বেশির ভাগই ভারতীয় বাংলাদেশের ক্যাবল নেটওয়ার্কে অনুমোদিত। পত্রিকাটি জানিয়েছে, প্রতি মাসে ভারতীয় চ্যানেলগুলো মোটা অঙ্কের অর্থ বাংলাদেশ থেকে আয় করছে গ্রাহকচাঁদা ও বিজ্ঞাপন বিক্রি থেকে। কিন্তু ভারত সরকার আমাদের চ্যানেলগুলোকে সে দেশে প্রবেশের কোনো সুযোগ দিচ্ছে না, অলিখিতভাবে সে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। অথচ অনেক আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল ভারতে চালু রাখার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ভারতে বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বাংলাদেশী নাটক ও সিরিয়ালগুলোর ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তা ভারতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
ভারতীয় চ্যানেলগুলোর কোনটি বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে কত আয় করছে, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ব্লিতস জরিপ দল। এই তালিকা মতে,
এসব চ্যানেলের মাসিক আয় নিম্নরূপ : স্টার প্লাস ১৯৫ হাজার ইউএস ডলার, স্টার মুভিজ ১১৮ হাজার ডলার, জি স্টুডিও ৯৪ হাজার ডলার, জিটিভি ৬৭ হাজার ডলার, সনি ১২৩ হাজার ডলার, সেটম্যাক্স ৭২ হাজার ডলার, স্টার গোল্ড ৬১ হাজার ডলার, জি সিনেমা ৯৫ হাজার ডলার, স্টার স্পোর্টস ৭০ হাজর ডলার, বিএইউ পাঁচ হাজার ডলার, স্টার জলসা ১৭ হাজার ডলার, জি প্রিমিয়ার ৩৯ হাজার ডলার, জি প্রিমিয়ার ৩৯ হাজার ডলার, জি অ্যাকশন ২৯ হাজার ডলার, জি কাফে ১৯ হাজার ডলার, জি বাংলা ১৭ হাজার ডলার, সাব টিভি ছয় হাজার ডলার, তারা টিভি ছয় হাজার ডলার, তারা মিউজিক ছয় হাজার ডলার, স্টারওয়ান ২৩ হাজার ডলার এবং স্টারওয়ার্ল্ড ২৩ হাজার ডলার।
এ তালিকা সম্পূর্ণ নয়, তবে এ থেকে আন্দাজ-অনুমান করতে অসুবিধা হয় না, ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো প্রতি মাসে হাজার হাজার কোটি ডলার বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, আমরা কেন ভারতের কাছ থেকে সমান সুযোগ পাবো না?
এ ছাড়া এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতিবছর দুই হাজার কোটি টাকা আমরা ভারতকে দিয়ে থাকি শুধু জি, সনি, স্টার এর মতো পে চ্যানেল দেখার জন্য।
এ দিকে বাংলাদেশের ‘অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনারস’-এর নেতারা গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিতের সাথে দেখা করেন। এ সময় এরা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে বিদেশী চ্যানেলগুলোর ওপর ইউজার ট্যাক্স বসানোর সুপারিশ করেন। তাদের অভিযোগ, প্রতিবেশী ভারত আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোকে সে দেশে ঢুকতে দিচ্ছে না। অথচ ভারতীয় চ্যানেলগুলো আমাদের বাজার দখল করে তাদের পণ্য ও বিজ্ঞাপন প্রমোট করছে। ভারতীয় চ্যানেলগুলোকে বাংলাদেশ সরকারকে কোনো কর দিতে হয় না। অপর দিকে বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল মালিকদেরকে ভ্যাট দিতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। এরই মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট সংসদে পাস হয়েছে, সেখানে বিদেশী টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ওপর কোনো কর আরোপ করতে দেখা যায়নি। ফলে আমাদের দেশের টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টির দাবিটি উপেক্ষিতই থেকে গেছে। শোনা যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সে দেশের বাংলা ছবি প্রদর্শনের ওপর যে পরিমাণ কর আদায় করে, হিন্দি ছবি প্রদর্শনের ওপর আরোপ করে এর কয়েক গুণ বেশি কর। কারণ, সরকার চায় পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র শিল্পকে সংরক্ষণ সুবিধা দিতে। আমরা আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর স্বার্থ রক্ষায় পালন করছি সম্পূর্ণ উল্টো ভূমিকা।
উল্লেখ্য, ভারতে বাংলাদেশের কোন টিভি চ্যানেল সম্প্রচারের অনুমতি নেই। কোন কেবল অপারেটরই একটি কানেকশনে দুনিয়ার সব চ্যানেল আমাদের দেশের মত দেখিয়ে দিতে পারেনা। তাদের জাতীয় টেলিভিশন ছাড়া যে কোন বেসরকারি বা বিদেশী চ্যানেল দেখতে হলে আগে পারমিশন নিতে হয়। আমাদের সরকার কিসের বিনিময়ে আমাদের সংস্কৃতির ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের অনুমতি দিয়ে দিলেন?
ভারতের রাজনীতিক, সংস্কৃতি কর্মী এবং বুদ্ধিজীবীগণ বাংলাদেশীদের মুক্তমন এবং অন্য কিছুর প্রতি অতি আগ্রহের কথা জানেন। তারা এও জানেন যে, দেশ দখলের জন্য এখন আর তরবারি দিয়ে যুদ্ধ করা লাগে না । তাঁদের কৌশল হলো বাংলাদেশের মানুষের মুক্তমন আর অতি আগ্রহ এই দুই বৈশিষ্টকে কাজে লাগিয়ে, মনের জগতটাকে দখল করে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক আগ্রাসনে সাফল্য অর্জন করা। ভারতীয় সিরিয়ালগুলো ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের মানুষের মগজ ধোলাই কাজে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। যার ফলে, ফিলিস্তিনিদের মতো ইসারেলীদের দ্বারা তৈরি কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে আটকা পরে গুলি খেয়ে মরার মত, একই ভাবে বাংলাদেশীদের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে আটকিয়ে যখন-তখন গুলি করে মারলেও, ফারাক্কা, তিপাইমুখ দিয়ে চির সবুজ বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিনত করলেও, আন্তর্জাতিক নদী তিস্তার পানি বণ্টন না করলেও, ভিতর এবং বাহির সর্ব দিক দিয়ে বাংলাদেশকে দখল- নিয়ন্ত্রন করলেও আমরা ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোমর সোজা করে দাড়াতে পারিনা। এছাড়াও রয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তা করার এক স্থায়ী “ব্ল্যাক মেইলিং” অস্ত্র। যদিও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী মেজর জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব সহ অনেকেই স্বীকার করেছেন যে, স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ী হতে ভারতের সেনা বাহিনীর তুলনায় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা এবং বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদানই বেশী। তারাই জয়ের জন্য আসল কাজটি করেছেন এবং তাদের বীরত্বের জন্যই জাতি স্বাধীনতা লাভ করেছে। তবুও ভারতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশে তাঁদের আঞ্চলিক এজেন্টগন শুধু ভারতকেই আমাদের মুক্তকারী, ভাগ্য বিধাতা বলে মনে করে এবং প্রচারও করে। তাঁদের প্রচারের কারণে আমাদের অধিকাংশই আজ মগজ ধোলাইয়ের শিকার।
শুধু তাই নয়, ভারতীয় সংস্কৃতি আজ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে আমাদের অনেক মেধাবীদেরকেও। এরা নিজস্ব আইডিয়ার স্ফুরণ ঘটানোর পরিবর্তে আজ ভারতীয় সংস্কৃতি অনুকরণেই বেশি আগ্রহী।
সত্যি আমরা আত্ন বিধ্বংসী এক অদ্ভুত জাতি। সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের আগ্রাসনে যুব সমাজ শেষ হবার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হবার পর এবার ঐ দেশের টিভি সিরিয়ালের আগ্রাসনে রীতিমতো মগজ ধোলাই হতে চলেছে এই জাতির।
সীমান্ত হত্যা:
চলতি ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের গুলি ও নির্যাতনে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংগ্রহ করা তথ্যে দেখা গেছে।
এসব তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত সীমান্তে ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের সৈন্যদের গুলিতে।
মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র এই তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র বা আসক।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কে উন্নতি ঘটলেও তার প্রতিফলন দেখা যায়নি দুই দেশের সীমান্তে। সীমান্তহত্যা বন্ধে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও তাতে সীমান্ত পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেনি, বরং মাঝে কিছুটা কমার পর সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা আবার বেড়ে চলেছে।
তবে বিএসএফ কর্মকর্তারা বিবিসি বাংলাকে জানান যে সীমান্তে অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা ভারতীয় প্রহরীদের ওপরে আক্রমণ করলে তবেই কেবল প্রাণ বাঁচাতে তারা গুলি চালিয়ে থাকেন।
সীমান্তে বাড়ছে হত্যাকাণ্ড
গত বছরের প্রথম ছয়মাসে সীমান্তে যতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এই বছরের প্রথম ছয়মাসে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল, আর নির্যাতনে মারা গেছেন দুই জন।
অথচ ২০২০ সালের প্রথম ছয়মাসে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে।
অন্যদিকে, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পুরো সময়টায় ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বা বিএসএফ'র হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪৩ জন বাংলাদেশি - যাদের মধ্যে ৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন গুলিতে, আর বাকি ৬ জনকে নির্যাতন করে মারা হয়।
কিন্তু ঠিক এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালে সীমান্তে বিএসএফ-এর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন এমন বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল ১৪ জন। সে হিসেবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০১৯ সালে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে যায়।
চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোয়।
অন্যদিকে, জুন মাসেই যশোরে বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত আর একজন আহত হয়েছেন।
সেখানকার স্থানীয় সাংবাদিক সাজেদ রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, যশোরের বেনাপোল সীমান্তে যে এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই কিংবা নদী এলাকা, সেখানেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটছে।
২০১৯ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন যে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের হাতে মোট ২৯৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন।
বছরভিত্তিক সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে মারা যান ৬৬ জন বাংলাদেশি, ২০১০ সালে ৫৫ জন, ২০১১ ও ২০১২ সালে ২৪ জন করে, ২০১৩ সালে ১৮ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন, ২০১৭ সালে ১৭ জন এবং ২০১৮ সালে ৩ জন মারা যান সীমান্তে।
তবে বেসরকারি সংস্থাগুলোর হিসাবে সীমান্তে হত্যার সংখ্যা অনেক বেশি।
সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয় না কেন?
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।
সীমান্তে হত্যা বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৮ সালের এপ্রিলে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয় দুই দেশের মধ্যে। সেখানে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার না করতে একমত হয় দুই দেশ।
কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দেখা যায়নি সীমান্তে।
যশোরের সাংবাদিক সাজেদ রহমান বলেন, "আমাদের এখানে যারা হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের ৯০ শতাংশ গরু আনতে ভারতে গিয়েছিলেন। আর ১০ শতাংশের বিরুদ্ধে চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। সবগুলো গুলির ঘটনা ঘটেছে রাতের বেলায়।"
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, সংখ্যাগত দিক থেকে দেখলে এ রকম ঘটনা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে মনে হতে পারে।
"কিন্তু এই অপরাধ তো সীমান্তের একটা নৈমিত্তিক ঘটনা, সে কারণে পদ্ধতি অনুযায়ী ওদের সাথে আমাদের যে যোগাযোগ করার কথা, সেটা সবসময়েই চলমান রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "সীমান্ত মানেই কিছু অপরাধ ঘটে। সেগুলো বন্ধ করার জন্য আমাদের কার্যক্রম যা যা করার, সেটা আমরা নিয়মিত করে যাচ্ছি।"
গুলি করে হত্যা করা ছাড়া কি আর কোন বিকল্প নেই?
সীমান্তে হত্যা শূন্যতে নামিয়ে আনা আর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার ব্যাপারে দুই দেশের সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকবার সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার চলছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক নীনা গোস্বামী বলছেন, "দুই দেশের সরকারের নানা বৈঠকে সীমান্তে হত্যা জিরোতে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি আমরা দেখেছি। কিন্তু সেটার ব্যত্যয় সব সময়েই ঘটছে, যা উদ্বেগজনক।"
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "সীমান্তে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়, তাদের পর্যন্ত এই প্রতিশ্রুতিগুলোর বার্তা যায় কি-না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। নাকি এটা মিটিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে?"
তিনি বলেন, দারিদ্র বা ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে মানুষ অনেক সময় সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে তাদের গুলি করে হত্যা না করে সহনশীল আচরণের মাধ্যমে তাদের বিরত করা উচিত।
তাঁর মতে, সেটা নির্ভর করে সীমান্তে যারা দায়িত্বরত রয়েছেন, তারা কেমন আচরণ করেন - তার ওপর।
"সরকারের উচ্চপর্যায়ে কাগজে-কলমে মিটিংয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, সেটাকে বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য যা যা করা দরকার, দুই পক্ষ থেকে যদি সেটা করা হতো, তাহলে সীমান্তে এমন হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা আর ঘটতো না," বলছেন নীনা গোস্বামী।
বিজিবির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বলছেন, "আমরা তো সার্বক্ষণিকভাবেই সীমান্তে নিয়োজিত আছি। সীমান্তহত্যা বন্ধে সারাবছর ধরেই আমাদের কর্মকাণ্ড চলমান আছে। বিএসএফের সাথে আমাদের যোগাযোগও সবসময় চলমান আছে। বর্ডার কিলিংয়ের ব্যাপারে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, পতাকা বৈঠক - সেগুলো নিয়মিতভাবে করা হয়।"
বাংলাদেশিরাও যেনো অবৈধভাবে সীমান্তে না যায় সে ব্যাপারেও সীমান্ত এলাকার মানুষকে সতর্ক করার কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, এক সময় ভারত থেকে আসা গরুকে বাংলাদেশের খাটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনি একটা ভিত্তি দেয়া হতো। কিন্তু গত ছয়মাস ধরে সীমান্ত এলাকার খাটালগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সীমান্ত হত্যা নিয়ে যা বলছে বিএসএফ
সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতায় বিবিসির সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালীকে বিএসএফ কর্মকর্তারা বলছেন যে পাচারকারীরা প্রহরীদের ওপরে আক্রমণ করলে তবেই "প্রাণ বাঁচাতে" তারা গুলি চালিয়ে থাকে।
তাদের দাবি, যখন থেকে নন-লিথাল ওয়েপন, অর্থাৎ প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করতে শুরু করেছে বিএসএফ, তখন থেকেই বিএসএফ সদস্যদের ওপরে পাচারকারীদের হামলার সংখ্যাও বেড়ে গেছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত দা, কাটারির মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যেমন প্রহরারত বিএসএফ সদস্যদের ওপরে আক্রমণ করা হয়, তেমনই আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করা হয় কখনও কখনও।
বিএসএফ বলছে, এই বছরের প্রথম ছয়মাসে বিএসএফের ওপর হামলার ঘটনায় ১২ জন আহত হয়েছে, আর ২০১৯ সালে এ রকম হামলায় আহত হয়েছিলের ৩৭ জন।
বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান এবং গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের যে অঞ্চলে বেশি হয়ে থাকে, সেই দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল এস এস গুলেরিয়া বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "সীমান্তে গুলি কেন চলে, সেই প্রশ্নের জবাব আমরা আগেও নানা স্তরে দিয়েছি।"
"আমরা এবার পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই, যে রাতের অন্ধকারে কারা আন্তর্জাতিক সীমান্তে আসে? কেনই বা আসে? বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এদের যে গরু-ব্যবসায়ী বলা হয়, আসলেই কি এরা ব্যবসায়ী না পাচারকারী?"
সীমান্তরক্ষীদের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভেতরে বিজিবি-র প্রায় নাকের ডগায় পাচার হয়ে যাওয়া গরু কেনাবেচার হাট বসে। সেগুলো চলতে দিয়ে কী পাচারকারীদেরই উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে না?
মি. গুলেরিয়া জানান, "বিজিবির সঙ্গে আমরা নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদান করে থাকি ফেন্সিডিল বা সোনা পাচার হওয়ার সময়ে আটক করা হয়। এছাড়া পাচার হওয়ার সময়ে কত গরু আমরা আটক করি, সেই তথ্যও তাদের দিয়ে থাকি। কিন্তু বিজিবি কত গরু আটক করল, সেই তথ্য কিন্তু আমাদের দেওয়া হয় না।"
তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয় যে সীমান্ত হত্যার ঘটনায় বিএসএফ-এর যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিবাদ ও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
বিএসএফ সৈন্যদের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ 'অবিশ্বাস্য' বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।
রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ এন এম মুনীরুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ রাজনৈতিক ইচ্ছার ঘাটতি।
"এটা বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা নাই। কারণ সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে, সেখান থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে এটা আর হবে না। কিন্তু একজন প্রাক্তন সৈনিক হিসাবে আমি বলতে পারি, যদি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পরিষ্কার আদেশ থাকে, তাহলে অবশ্যই সেটা না মানার অবকাশ নেই।"
তিনি বলেন, "বাইরে আমরা যেটাই শুনতে পাই, সীমান্তরক্ষীদের কাছে সেই ধরণের কড়া আদেশ নিশ্চয়ই পৌঁছে নাই। তারা যদি নির্দেশ দিয়ে থাকতো, সেটা যদি অমান্য হতো, তাহলে সেটার জন্য তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় নিশ্চয়ই জবাবদিহি করতে হতো। সেরকম কিছুও আমরা শুনি না বা প্রতিক্রিয়া দেখতে পাই না।"
জেনারেল মুনীরুজ্জামান পরামর্শ দিচ্ছেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও জোরালো ভাষায় এ নিয়ে বলতে হবে। কারণ যারা হত্যার শিকার হচ্ছেন, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ নিয়ে বারবার জোর দিয়ে আলাপ করা উচিত।
তিনি বলেন, যদি চোরাচালান হয়, বা বিএসএফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, তাহলে তাকে গুলি করে মেরে না ফেলে পায়ে গুলি করে বা ভিন্ন উপায়েও ঠেকানো যায়। তাকে আটক করে জেল জরিমানা করা যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা দেখা যায় না।
"সীমান্তে চোরাচালান হয় না অথবা গরু চালান হয় না, সেটা কেউ বলতে পারবে না। তবে সেটা শুধু বাংলাদেশের লোকই করে না। (চোরাচালান হয় না) যদি ওই পারের সহযোগী না থাকে। চোরাচালান বন্ধ করতে হলে উভয় অংশেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
সূত্রঃ ১।ওয়ার্ল্ডপ্রেস।
২ ইনসাইড “র”-অশোকা রায়না।
৩।বিবিসি বাংলা।
মাইগ্রেনের ব্যাথা(Migrain)
মাইগ্রেন কী?
মাইগ্রেন শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ ‘হেমিক্রানিয়া’ থেকে, যার অর্থ মাথার একদিকে ব্যথা।
রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের সহকারী অধ্যাপক এম. এস. জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়। দৃষ্টিস্বল্পতা, মস্তিষ্কের টিউমার, মাথায় অন্য সমস্যার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। মাইগ্রেন এক ধরনের প্রাইমারি হেডেক, যা নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। চিকিৎসকের অধীনে এবং নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা হয়।
মাইগ্রেন কেন হয়?
মাইগ্রেন কেন হয় তা পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে এটি বংশগত বা অজ্ঞাত কোনো কারণে হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হরমোনের প্রভাব রয়েছে বলেও কিছু গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে। বিভিন্ন বয়সে নারী-পুরুষের আক্রান্ত হবার হারের পার্থক্য তারই সাক্ষ্য দেয়। এটি সাধারণত পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি হয়। নারীদের ঋতুস্রাবের সময় মাথাব্যথা বাড়ে।
যেসব কারণে মাইগ্রেন হতে পারে সেগুলোকে ‘ট্রিগার’ বলে।
যেমনঃ
১।চকলেট, পনির, কফি ইত্যাদি বেশি খাওয়া।
২। জন্মবিরতিকরণ ওষুধ।
৩।দুশ্চিন্তা,
৪।অতিরিক্ত ভ্রমণ,
৫। অতিরিক্ত ব্যায়াম,
৬।অনিদ্রা,
৭।অনেকক্ষণ টিভি দেখা,
৮।দীর্ঘসময় কম্পিউটারে কাজ করা,
৯। মোবাইলে কথা বলা ইত্যাদির কারণে এ রোগ হতে পারে। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতি উজ্জ্বল আলো এই রোগকে বাড়িয়ে দেয়। মাইগ্রেনের ব্যথার সাথে অনেক সময় চোখের সমস্যা থাকতে পারে।
অনেক সময় খাবার, পারফিউমের গন্ধ, সিগারেটের ধোঁয়া, খুব গরম বা ঠাণ্ডা থেকেও মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
লক্ষণ
১।মাথাব্যথা শুরু হলে তা কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
২। মাথাব্যথা, বমি ভাব এ রোগের প্রধান লক্ষণ। তবে অতিরিক্ত হাই তোলা, কোনো কাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়া, বিরক্তিবোধ করা ইত্যাদি উপসর্গ মাথাব্যথা শুরুর আগেও হতে পারে।
৩।মাথার যেকোনো অংশ থেকে এ ব্যথা শুরু হয়। পরে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে।
৪। চোখের পেছনে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। শব্দ ও আলো ভালো লাগে না। কখনো কখনো অতিরিক্ত শব্দ ও আলোয় ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
৫।প্রচন্ড মাথাব্যথার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিবিভ্রম এবং বমির ভাব থাকতে পারে।
৬। সাধারণত রক্তে সেরোটোনিন অথবা ফাইভ এইচটির মাত্রা পরিবর্তিত হলে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মস্তিষ্কের বহিরাবরণে যে ধমনীগুলো আছে সেগুলো মাইগ্রেন শুরুর প্রারম্ভে ফুলে যায় তাই মাথাব্যথার তীব্রতা ব্যাপক হয়।
মাইগ্রেনের প্রকারভেদঃ
ইগ্রেনের কয়েকটি ধরন আছে। তার একটি হচ্ছে ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেন। ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেনের শুরুটা অধিকাংশ সময়েই আপনি বুঝতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দৃষ্টিবিভ্রম হয়। চোখের সামনে আলোর ঝলকানি, চোখে সর্ষে ফুল দেখেন। হাত-পা, মুখের চারপাশে ঝিনঝিনে অনুভূতি হয়। শরীরের এক পাশে দূর্বলতা বা অবশভাব হতে পারে। এরপর শুরু হয় মাথাব্যথা, যা মাথার একপাশের একটি স্থান থেকে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে সেই পাশের পুরো স্থানেই বিস্তৃত হয়। প্রচণ্ড দপদপে ব্যথা আপনাকে কাহিল করে ফেলে। প্রচুর ঘাম হয়। বমি কিংবা বমি ভাব হয়। আলো আর শব্দ একদম সহ্য হয় না। কথা বলতেও অনীহা লাগে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। চুপচাপ অন্ধকার ঘরে থাকতেই বেশি ভালো লাগে।
প্রতিকার
মাইগ্রেন হলে ব্যথা কমানোর জন্য ওষুধ রয়েছে। ব্যথার তীব্রতার উপর নির্ভর করে পেইনকিলার নেয়া যেতে পারে। সাধারণ প্যারাসিটামলেও অনেকের কাজ হতে পারে, তবে ব্যথা তীব্র হলে ওষুধের তীব্রতাও বাড়াতে হবে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো প্রকার ওষুধ খাওয়া উচিত না।
তবে ওষুধের পাশাপাশি মাইগ্রেনের ব্যথার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হচ্ছে যথাসম্ভব অন্ধকার ও শব্দবিহীন পরিবেশে ঘুমানো, অন্তত কয়েক ঘন্টা।
যেসব খাবার মাইগ্রেন প্রতিরোধে সহায়ক
১) ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার। যেমন- ঢেঁকি ছাঁটা চালের ভাত, আলু ও বার্লি মাইগ্রেন প্রতিরোধক।
২) বিভিন্ন ফল, বিশেষ করে খেজুর ও ডুমুর ব্যথা উপশম করে।
৩) সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের শাকসবজি (বিশেষত পালংশাক) নিয়মিত খেলে উপকার হয়।
৪) ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি মাইগ্রেন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তিল, আটা ও বিট ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে।
৫) আদার টুকরো বা আদার রস দিনে দুইবার পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন।
৬) প্রতিদিন রোদে ১০ মিনিট থাকতে পারলে ভালো হয়। সম্ভব না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন।
৭) মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্যের অভাবের কারণে অনেক সময় মাথা ধরে। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান। লো ফ্যাট ডায়েট মেনে চলুন।
যেসব খাবার খাবেন না
১) চা, কফি ও কোমলপানীয়, চকলেট, আইসক্রিম, দই, দুধ, মাখন, টমেটো ও টক জাতীয় ফল
২) গমজাতীয় খাবার, যেমন রুটি, পাস্তা, ব্রেড ইত্যাদি
৩) ডিম, মাংস
৪) আপেল, কলা ও চিনাবাদাম
৫) পেঁয়াজ
তবে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন খাবারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় একটা ডায়েরি রাখা। যাতে আপনি নোট করে রাখতে পারেন কোন কোন খাবার ও কোন কোন পারিপার্শ্বিক ঘটনায় ব্যথা বাড়ছে বা কমছে। এরকম এক সপ্তাহ নোট করলে আপনি নিজেই নিজের সমাধান পেয়ে যাবেন। তবে ব্যথা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মাইগ্রেন থেকে রেহাই পাওয়ার কিছু উপায়
মাইগ্রেন চিকিৎসায় তাৎক্ষণিক এবং প্রতিরোধক ঔষধের পাশাপাশি কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়।
১) প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে হবে এবং সেটা হতে হবে পরিমিত।
২) কোনো বেলার খাবারই বাদ দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে সকালের নাশতা কখনোই বাদ দেওয়া যাবে না। অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়।
৩) অতিরিক্ত বা কম আলোতে কাজ না করা।
৪) কড়া রোদ বা তীব্র ঠান্ডা পরিহার করতে হবে।
৫) উচ্চশব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে বেশিক্ষণ না থাকা।
৬) বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের মনিটর ও টিভির সামনে না থাকা।
৭) মাইগ্রেন শুরু হয়ে গেলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা (বিশেষ করে বমি হয়ে থাকলে)
৮) বিশ্রাম করা, ঠান্ডা কাপড় মাথায় জড়িয়ে রাখা উচিত।
৯। অতি আলো কিংবা কম আলোতে পড়াশোনা করবেন না।
১০। অন্ধকার রুমে টিভি দেখবেন না।নারী
মাইগ্রেন সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা
১) অনেকে মনে করেন মাইগ্রেন মানেই মাথা ব্যথা। এ ধারণা ঠিক নয়। মাইগ্রেনের অনেকগুলো লক্ষণের মধ্যে একটি হচ্ছে মাথা ব্যথা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় মাথা ব্যথা ছাড়াও মাইগ্রেন আক্রমণ করতে পারে।
২) অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা আছে যে, মাইগ্রেন কেবল মেয়েদেরই হয়। আসলে এটি নারী-পুরুষ যে কারোরই হতে পারে। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৮ ভাগ পুরুষ ও ১৮ ভাগ নারী এই সমস্যায় ভোগেন। আবার, শুধু বড়দের নয়, হতে পারে শিশুদেরও।
৩) অনেকের ধারণা শুধু মাত্র মানসিক চাপ থেকেই মাইগ্রেন হয়। এটি ঠিক নয়। প্রায় ৭০% মাইগ্রেনের কারণ দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ হলেও আরও বহু কারণে আক্রমণ করতে পারে মাইগ্রেন।
৪) মাইগ্রেনের ব্যথা বেশিদিন থাকে না বলে ভুল ধারণা প্রচলিত আছে অনেকের মধ্যে। তবে মাইগ্রেন অনেকদিন পর্যন্ত থাকতে পারে। অনেক সময় মাইগ্রেন একমাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
৫) অনেকে মনে করেন মাইগ্রেন থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। এটি ঠিক নয়। যদিও মাইগ্রেনের কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই, তবে লক্ষণসমূহ বিচার করে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
মাইগ্রেনের চিকিৎসায় নতুন কার্যকরী ওষুধ
গবেষকরা বলছেন, মাইগ্রেন বা দীর্ঘ সময়ের মাথা ব্যথা সারাতে অন্য সব ঔষধ বা চিকিৎসা যখন ব্যর্থ হবে, তখন এই নতুন ঔষধ কাজ করবে। নতুন এই ঔষধটি হচ্ছে ইনজেকশন। মাসে একবার এই ইনজেকশন নেয়া যাবে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘এরেনুম্যাব’।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস অল্প সময়ের মধ্যে মাইগ্রেন রোগীদের কাছে এই ঔষধ নিয়ে যাবে; যদি এর দাম সামর্থের মধ্যে বা একটা যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে। নতুন এই ঔষধের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে এক চিকিৎসা বিষয়ক সম্মেলনে। গবেষকরা বলেছেন, এই ঔষধ গুরুতর মাইগ্রেন আক্রান্ত এক তৃতীয়াংশ মানুষকে সাহায্য করবে। একজন মাইগ্রেন রোগী মাসে যতবার এই রোগে আক্রান্ত হন, নতুন ঔষধ ব্যবহারে আক্রান্তের সেই হার অর্ধেকে নেমে আসবে। মাইগ্রেনে আক্রান্ত সকলের জন্য এটি এক সুসংবাদ বটে।
মাইগ্রেন নামের এই ভয়ানক যন্ত্রণাকে স্বাভাবিক মাথাব্যথা ভেবে দিনের পর দিন সহ্য করে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। প্রত্যেকের উচিত মাইগ্রেন সম্পর্কে জানা ও সচেতন হওয়া। সেইসাথে প্রতিরোধমূলক নির্দেশনাসমূহ মেনে চলা। কারণ যেকোনো রোগের ক্ষেত্রেই, "প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেয়”।
বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য
ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...
-
শেখ মুজিবের জন্ম পরিচয় নিয়ে বিতর্ক ও সত্যতা শেখ মুজিবের জন্ম পরিচয় নিয় বিতর্ক ইদানীং বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গৌরিবালা ...
-
ইসলামে সূফিবাদ নামক কুফুরী ভ্রান্তি সূফীবাদ একটি কুফুরী মতবাদ কম বেশী সকল মুসলমান সুফিবাদ শব্দটি সথে পরিচিত। সুফিবাদ বা সুফি দর্শন ...
-
" বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের সহায়তার নামে পুকুর চুরি" ভারতীয় বাহিনীর সম্পদ চুরি ভারত বাংলাদেশের জঘন্যতম প্রতিবেশী চ...
-
"ওহাবীজমের আদ্যোপান্ত" ভন্ড আহলে হাদিস "আধুনিক ওহাবীজমের নতুন ফেতনা" বিখ্যাত তাবেঈ ইবনে শিরিন (রঃ) বলেছেন, 'নিশ্চয...
-
ঈমান আনায়নের পর প্রথম কাজ মুসলমানদের ভূমি রক্ষা মুসলমানদের ভূমি রক্ষা ঈমান আনার পর একজন ঈমানদারের প্রথম কাজ কি? একথা ব...
-
মওদূদীর বিষয়ে বিগত ৮৫ বছর যাবৎ যে অপবাদ ছড়িয়ে যাচ্ছে উপ মহাদেশের মিথ্যুক কাজ্জাব আলেমরা। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশরা লক্ষ লক্ষ মুক্তিকামী আলেম হ...
-
"জামায়াত সমর্থক বহিষ্কার ও শালী তালাক একই কথা" গত দুই দিন আগে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কৃষক লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তি যোদ্ধা(৭১) কানু ...
-
জয়বাংলা কখনোই বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান ছিলো না,এটা পাকিস্তানি হাইব্রিড স্লোগান। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ লেখা সামরিক ব্যাজ জাতীয় স্লোগান হ...
-
দেশের জন্য সব হারানো বেগম খালেদা জিয়ার সফল সংগ্রামী জীবন atOptions = { 'key' : '4fe169585f5e254774297632cfb99592', ...
-
প্রকৃত বুদ্ধিজীবি হত্যাকারী নিজামী নয় আওয়ামিলীগ, তাদের বিচার চাই শিরোনাম দেখে চোখ কপালে উঠলো? আসুন প্রমান দেই শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজ...
.jpeg)
.jpeg)
.png)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)