4547715 ডা.বশির আহাম্মদ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতাদের নিকট রাজনৈতিক প্রত্যাশা

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের  নেতাদের নিকট রাজনৈতিক
 প্রত্যাশা




বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা একটা নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি যা অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জন হয়েছে। আর এই অর্জনের পুরোটা কৃতজ্ঞতাই ছাত্রদের। ছাত্ররা দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে ঐক্য করতে হয়, কিভাবে পরাধীনতার শিকল ভাঙ্গতে হয়। কিভাবে একটি দেশ স্বাধীন করতে হয়। তবে এই বিপ্লবের মূল কারিগর শুধু ছাত্ররাই ছিলো বিষয়টা এমন না,এ আন্দোলনে শিশু, শ্রমিক,রিকৃসা ওয়ালা, লুলী মজুর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সবারই অবদান ছিলো।

এখন আসেন ছাত্রদের রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। ছাত্রদের নিষ্পাপ চিন্তা ভাবনা, দেশ প্রেম, নি:স্বার্থ আত্মত্যাগ প্রমান করে এদেশে তাদের রাজনীতি করার অধিকারই নয়, বরং তারা রাজনীতি করার প্রয়োজনীয়তা ১০০% জরুরী।

কিন্তু তারা কি ধরনের রাজনীতি করবে? কোন  আদর্শে রাজনীতিটা করবে? বাংলাদেশে কোন কিছুই তো নিরপেক্ষ থাকে না, তাইলে এই বস্তা পঁচা রাজনীতি করে আবারও কি লেজুর বৃত্তি শুরু করবে এক সময়? না, এটা হতে দেওয়া যাবে না। 

তাইলে কিভাবে কোন রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করবে? যে দলের রাজনীতি করুক না কোনো লেজুর বৃত্তি তো করতেই হবে। এখন যে বিপ্লবীরা রাজনৈতিক দল করতে চায় তারাই এক দিন হয়তো সংসদ সদস্য হবে, দেশ শাসন করবে, আবার ছাত্রদের ব্যবহার করতে চাইবে। 

নতুন দল গঠন করলে কি কি নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে?

১। একটি নতুন রাজনৈতিক দলে সকল ছাত্ররা কখনোই সর্ব সম্মত ভাবে যোগদান করবে না।
২। নেতৃত্বের কোন্দল হতেই পারে।
৩। নতুন যে দলটি গঠন হবে সে দলের আদর্শের সাথে সকল ছাত্র সমাজ ঐক্যবদ্ধ নাও হতে পারে।
৪। ক্যাম্পাস গুলোতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সাথে মতানৈক্য হবে, মতানৈক্য হলে আবারও ক্যাম্পাস গুলো উত্তপ্ত হবে।
৫। নতুন স্বাধীনতার বিপ্লবীরা বলছে ক্যাম্পাসে কোন রাজনীতি চলবে না, বিপ্লবীরা যখন নতুন দল করে সংসদ নির্বাচন করবে, তখন তাদের ছাত্র সংগঠন গুলো ক্যাম্পাসে থাকবে, এমতাবস্থায় বাকি রাজনৈতিক দল গুলো বসে থাকবে কি? তারাও ছাত্র সংগঠন খুলবে,  লাগবে ভেজাল।

ফাইনালে সকল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মাঠে মারা যাবে।

তাইলে করনীয় কিঃ
ছাত্ররা প্রমান করেছে যে ছাত্রদের হস্তক্ষেপ ছাড়া বাংলাদেশের কোন জাতীয় সমস্যা সহজে সমাধান যোগ্য নয়। অতএব তাদেরও রাজনীতি করা উচিত, তারা রাজনীতি না করলে দেশের বিপদের সময় উদ্ধার কর্তা হিসাবে কেউ থাকবে না। এমতাবস্থায় করনীয় নিম্নরূপঃ
১। সকল স্কুল ও কলেজের  ছাত্রদের সমন্বয়ে তৈরী হবে এই সংগঠন এবং এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের সংবিধানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যর সাথে মিল রেখে, প্রয়োজনে সংবিধান নতুন ভাবে প্রনয়ন করতে হবে।

২। যারা স্কুলে ভার্তি হবে তারাই এই দলের সদস্য হিসাবে গন্য হবে, ছাত্রত্ব যেদিন শেষ হবে সেদিন হতে অটোমেটিক ভাবে সদস্য পদ শেষ হয়ে যাবে।

৩। এদলের কোন সদস্য ছাত্র থাকা অবস্থায় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারনবে না, আবার ছাত্ররাও কোন রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ডের লেজুর বৃত্তি ক্যাম্পাসে প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠিত করার কাজে নিয়োজিত হতে পারবে না।

৪। সকল ছাত্ররা ছাত্রত্ব শেষ করার পর যে কোন রাজনৈতিক দলে স্বাধীন ভাবে যোগ দিতে পারবে। 

৫। ছাত্রদের কাজই হবে দেশ,জাতি ও দেশের মানুষের স্বার্থে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত থাকা, যখনই দেশের কোন স্বার্থে আঘাত আসবে এই ছাত্ররা প্রতিহত করার জন্য সম্মিলিত ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এতে করে কোন ক্ষমতাসীন দেশ বিরোধী কাজ করা হতে নিজেকে বিরত রাখবে ছাত্রদের ভয়ে।


৬।এভাবে চলতে থাকলে দেশে যোগ্য রাজনৈতিক নেতা তৈরী হবে এবং পরবর্তীতে কোন রাজনৈতিক দলে যখন কাজ করবে তখন দেশ প্রেম ও দক্ষতা দিয়ে দেশ পরিচালনায় নিয়োজিত থাকবে।

৭। দলের সবগুলো কমিটির নেতৃত্বে থাকবে স্ব স্ব ক্যাম্পাসের মেধাবী ছাত্ররা।

শেষ কথা হলো দেশে ছাত্রদের কথাই হবে শেষ কথা, গরিবের কথাই হবে আইন, ছাত্রদের টপকে কেউ কোনো কিছু চিন্তাও করতে পারবে না।

এরকম হলে যত বড় ক্ষমতাসীন দলই সংসদে থাকবে ছাত্রদের ভয়ে টথস্ত থাকবে, দেশ বিরোধী বা জনগন বিরোধী কাজ করার কথা মাথায় আনার দু:সাহসও করবে না।



বাংলাদেশের মুক্তির পথ কি?


বাংলাদেশের মুক্তির পথ কি?


(ধৈর্য ধরে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো) 
আমি একটি পোস্টে আমার ব্লগে লিখেছিলাম যে জুলাই বিপ্লব ২৪ এর সুফল কি আমরা পাব? কারন ৪৮ এবং ৭১ এর স্বাধীনতা কুক্ষিগত হয়েছিল যার কারনে আমরা আবারও স্বাধীন হতে হয়েছে। এখনও বাংলাদেশে বিপ্লবী সরকারে মধ্যকার মুনাফেকদের কারনে আজ আমরা জুলাই বিপ্লবের সুফলও হারাতে বসেছি।


 বিপ্লবীরা কোনো ভুয়া কালচারাল লড়াই করলে হবে না। ভারতের সঙ্গে বিরোধ ও বন্ধুত্ব প্রশ্নে আর কোনো ফাউল করা যাবে না। ভারতের সঙ্গে বিরোধ হবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে, অন্যায্য চুক্তি, পানি আগ্রাসন,স্বার্বভৌম বিরোধী গোয়েন্দা তৎপরতা ও চোরাচালান প্রশ্নে। আর বন্ধুত্ব হতে হবে ভারতের অগ্রসর নাগরিক সমাজ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও উদ্যোক্তাদের প্রশ্নে। বিরোধ ও বন্ধুত্ব একই সঙ্গে চলবে। আমরা শুধু ভারতের গোলামির বিরোধী।

গোয়েন্দা সংস্থার সরবরাহকৃত তথ্য নিয়ে প্রচারণার উদ্দেশ্য নিয়ে সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ইলিয়াসের ভিডিওর বিষয়ে সবাই নতুন করে ভাবতে হবে। ভিডিওটি দেখে মনে হয়েছে তার ৯৯ ভাগই সত্য, ১% হয়ত বাড়াবাড়ি, আর এটা অনিচ্ছাকৃত মনে হয়েছে। ইলিয়াসের কথা আর  আমার কথা একই কথা।

শুধু একটি বিষয়ে বলি, শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়া করা হয়েছে নাকি তিনি পালিয়েছেন এ ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য ছাড়া বড় সিদ্ধান্ত টানার আপাতত কোনো দরকার নাই,এখন প্রয়োজন হাসিনা ও তার গোলামদের মোকাবেলা, এক্ষনই মোকাবেলা না করতে পারলে দেশ ভারতের অধীনস্ত হবে।

হাসিনার পালানোর বিষয়ে মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরীর তথ্যই সঠিক। হাসিনাকে সেনাবাহিনী জোর করে ভারতে পাঠায়নি, বরং হাসিনা নিজেই স্বেচ্ছায় ভারতে পালিয়েছিল। সেক্ষেত্রে ভারত কখন হেলিকপ্টার পাঠাবে, কিভাবে ভারত যাবেন এ নিয়ে তিনি ব্যাকুল ছিলো।

আর সেনাবাহিনী আসিফ নজরুলকে সরকার প্রধান বানাতে চেয়েছে তাও সঠিক না বেঠিক তা জানার চেয়ে সেনা বাহিনীর অফিসারদের ৩৬০° পরিবর্তন করে হাসিনা বিরোধী নাটকই বড় ভয়ের বিষয়। এক্ষেত্রে বরং ড. সালেহ উদ্দিনই ছিলেন ভারত ও ডিজিএফআইয়ের পছন্দের লোক এটা স্পষ্ট । এমনকি সলিমুল্লাহ খানের কথাও বলা হয়েছিল।কিন্তু আসিফ নজরুলকে প্রধান করার কথা নতুন আবিষ্কার করলো ইলিয়াস।

মূলতঃ সেনাবাহিনী ও বিএনপি মিলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা বাছাই হয়, ছাত্ররা তাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া নতুন সরকার মানবে না ঘোষণা দিলে ড. ইউনূস ও দুই ছাত্র উপদেষ্টা মনোনীত হয়, এ নিয়ে বঙ্গভবনে ছাত্রদের সঙ্গে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতারা দুর্ব্যবহারও করেছিল। এই মীর্জা ফখরুলের উদ্ভট আচরনে বরং বিএনপির একাংশের গোপনে ভারতের দালালীর সন্দেহই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাহফুজ আলমের সরকারে জায়গা করে নেওয়ার ব্যাপারটিও হুট করে হয়নি। মাহফুজ প্রথমে রাজনৈতিক সমন্বয় কমিটির প্রধান হয়, পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশেষ সহকারী হয়, কিন্তু এটি সচিব পদমর্যাদার বলে তার তৎপরতা সীমিত হয়ে যায়, ফলে পরে তাকে দপ্তরবিহীন উপদেষ্টা করা হয়। মাহফুজকে ড. ইউনূসের পাশ থেকে সরানোর তথ্য সঠিকই মনে হচ্ছে।

সর্বশেষ কথা হলো, ইলিয়াসের ভিডিওতে সেনাপ্রধানকেই টার্গেট করা হয়েছে। এটি ভয়ংকর বিষয়। সেনাপ্রধান হাসিনার পছন্দের লোক এবং ষোল বছরের সেট আপে আর্মিতে কয়েক স্তরে আওয়ামীপন্থীরা থাকাটা স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে হয় সেনাপ্রধানকে আস্থায় নিতে হবে আর না হলে পুরো সেট আপ বদলাতে হবে। কিন্তু সেনাপ্রধান দায়িত্বে থাকলে তার পক্ষে ব্যালান্স না করার উপায় নাই। চিহ্নিত ও ভেজালকারীদের হয়তো সেনাপ্রধান সরাতে পারেন, সাইড করতে পারেন। কিন্তু একেবারে আওয়ামীপন্থী ধরে সবাইকে সরানো তার পক্ষে রাতারাতি কঠিন হবে? সেক্ষেত্রে সবাই একজোট হলে বিদ্রোহ হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

যতদূর বুঝি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সেনা প্রধানের মধ্যে কিছুটা গ্যাপ শুরু থেকেই আছে। একে ঘিরে সেনাবাহিনীর একাংশ সামরিক শাসন জারিরও সুযোগ নিতে চায়। কিন্তু আমি সব সময় সরকারকে বলেছি সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলুন এবং তাকে পরিবর্তনের সঙ্গী করুন। সেনাবাহিনীকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পৃক্ত করতে ৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার ফর্মুলাও উপস্থাপন করেছে৷ খোমেনি এহসানের নেতৃত্বের বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ।তবে সেনা বাহিনীকে সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার আগে পাকিস্তান ও মায়ানমারের দিকে তাকালে আর রুচি থাকার কথা না। এই এহসান খোমেনি সম্পর্কে একটা কথা বলে রাখি এই লোকটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়প যে কথাই ভবিষ্যৎ বানী করে কেনো জানি অলৌকিক ভাবে ফলে যায়। এটা তার প্রজ্ঞার প্রমান করে, দেশ পরিচালনায় ইলিয়াস হোসেন, পিনাকীর মত তার পরামর্শ গুলোও সামনে আনা দরকার।

সেনা প্রধান ও ড.ইউনুসের দূরত্ব দ্রূত কমাতে হবে,আশা করি দূরত্ব কাটলে তখন হয়তো এটি বোধগম্য হবে যে প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা নিজে তার সামরিক সচিব বাছাই করলেও ড. ইউনূসের বেলায় কেন সেনা সদর থেকে সামরিক সচিব নিয়োগ দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। এক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি দূর হওয়া ব্যাপার না।

এখানে একটা বিষয় খোমেনি সব সময় বলে, বাংলাদেশ কি রাষ্ট্র হিসাবে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের চেয়ে দুর্বল? ওই তিন দেশে যদি ভারত টিকতে না পারে তাহলে বাংলাদেশে পারবে কিভাবে?

আনসার ও পুলিশ দিয়ে গেরিলা আক্রমণের পরিকল্পনা সত্যও হতে পারে, মিথ্যাও হতে পারে,অথবা আওয়ামিলীগ এর কোনো পাগল ছাগলের সিদ্ধান্তও হতে পারে তবে সত্য হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। তিতা হলেও সত্য যে হাসিনা ও আওয়ামিলীগের ষড়যন্ত্রকারীরা কেউ বেঁচে ফিরতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। আর হিন্দুদের দাঙ্গা লাগানোর বিষয়েও উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তবে বাংলাদেশের মুসলমান কেউ আপাতত এই ফাঁদে সহজে পড়বে না। বরং দাঙ্গার ভয় দেখিয়ে মুসলমান মেরে আতঙ্ক দেখানোই ওদের কৌশল। এপিপি আলিফকে হত্যা করা হলো, যদি এমন ঘটনায় খুনীদের সবাইকে তৎক্ষনাত প্রতিরোধ করা হতো তাহলে সবাই শান্ত হয়ে যেত। কিন্তু বাংলাদেশে একটা ভয়ঙ্কর ব্যাপার ঘটছে যে একটা কচু কাটতে পারবে না এমন নিরীহ আওয়ামিলীগ এর লোকেরা মনে করছে যে তারা যদি মানুষ মারে তাহলেও তাদের কিছু হবে না, বরং ভারত তাদের রক্ষা করবে। এই ভুল ভেঙে না দিলে সহিংসতার কুড়কুড়ানি মন থেকে যাবে না। 

আর হ্যাঁ, জেড আই খান পান্নাদের বিষয়েও একই আলাপ। আমরা মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে এখনো এতটা নাজুক থাকি যে পান্নারা মনে করে তাদের কেউ কিছু বলবে না। অথচ পান্নাকে দুই তিন মাস আগে আদব কায়দা শিখিয়ে দেওয়া উচিত ছিলো। ছাত্ররা ঘিরে ধরে একটু সাবধান করে দিলেই হতো৷এরা এসব বিবেকহীন শয়তান ভীরু কাপুরুষ। যদি তার এত মুরোদ থাকতো ৫ আগস্ট হাসিনাকে রক্ষা করতো। মূলতঃ এজেন্সির লোকেরা চিকনে খেলে। এদেরকে গ্রেফতার করাই হলো বড় সমাধান।

যাই হোক, ইলিয়াসের ভিডিওর আলোকে এবং বাংলাদেশের চলমান আওয়ামী ষড়যন্ত্রের বাস্তবতায় দেশ শান্ত করার বিষয়ে নীচের লোক গুলোর কর্ম তৎপরতা বিশ্লেষন করে এদের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে:

(১) আসিফ নজরুল (উপদেষ্টা)
(২) জেড আই খান পান্না।
(৩)মেজর জেনারেল মাহবুবুর রশীদ
(৪)কর্নেল আসাদ (ডিজিএফআই)খুলনা
(৫)খালেদ আল মামুন(জিওসি,বগুরা)
(৬)মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সেলিম(মিলিটারি সেক্রেটারি অফ ডক্টর ইউনুস)
(৭)লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিব 
(৮)লেফটেন্যান্ট জেনারেল হামিদুল হক
(৯)প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম
(১০)মেজর জেনারেল খালেদ আল মামুন
(১১)জাহাঙ্গীর আলম (জিওসি,কুমিল্লা)
(১২) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরান হামিদ
(১৩)লেফটেন্যান্ট জেনারেল  মুজিব
(১৪)কর্নেল রেদওয়ান (বিজিবি)
(১৫)মেজর জেনারেল আসরাফ (মহাপরিচালক বিজিবি)

আর ভারতের দাদাগিরি চিরকালের জন্য বন্ধের নিমিত্তে যে বিষয় গুলো দ্রুত করতে হবে সেটা হলো:
১। পাকিস্তনের সাথে অতীতের সকল তিক্ত অভিজ্ঞতা আপাতত ভুলে গিয়ে তাদের সাথে বানিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করা।

২। পাকিস্তনকে বাংলাদেশে তাদের ৭১ সালের অপরাধের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপ বৃদ্ধি ও পাশাপাশি পারস্পরিক কমন শত্রুর বিষয়ে সামরিক সহযোগীতার জন্য দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি।

৩। আনুষ্ঠানিক ক্ষমা যদি পাকিস্তান চায় সে ক্ষেত্রে তাদেরকে টাকার পরিবর্তে বাংলাদেশকে অস্ত্র সহায়তার সুযোগ করে দেওয়া, কেননা এই মুহূর্তে পাকিস্তান নিজে খাওয়ার টাকাই নাই, তাই ইচ্ছা থাকলেও পাকিস্তান টাকা দেওয়ার ভয়ে ক্ষমা চাইবে না, তাই সহজ করে দিলে বাংলাদেশের উভয় দিকেই লাভ।

৪। বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরে ভারতের উ:পূর্বাঞ্চলকে সীমিত সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে নেপাল ও ভুটানকে ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাথে বানিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ করে দেওয়া। নেপাল ও ভুটানকে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া।

৫। চীন, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা,  মালদ্বীপ ও পাকিস্তানের সাথে নতুন করে ভারতকে এড়িয়ে দীর্ঘ মেয়াদি একটি শক্তিশালী বানিজ্যিক বেল্ট তৈরী করা, পাশাপাশি ভারতের সাথেও বানিজ্যিক সুসম্পর্ক নিজের স্বার্থে বজায় রাখা।

৬। বাংলাদেশে ভারতীয় ল্যাসপেন্সার যারা বিভিন্ন উচ্চ পদে কর্মরত তাদেরকে সতর্ক নিয়ন্ত্রণে রাখা।

আশা করি এসকল কাজ যদি সরকার করে তবে অবশ্যই বাংলাদেশ স্বাধীনতার পূর্নাঙ্গ স্বাধ পাবে বলে আশা করি।  পরের লেখায় আরো  নতুন বিষয়ে পরামর্শ থাকবে ইনশাআল্লাহ। 


শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪

বিএনপির নির্বুদ্ধিতা ও আত্মতুষ্টি

আত্মতুষ্টি ও নির্বুদ্ধিতা ধ্বংশ করতে পারে বিএনপিকে



রক্তাক্ত জুলাই ২৪ আন্দোলন পরবর্তীতে সাবেক স্বৈরাচারী পলাতক শেখ হাসিনা পালানোর পর এ পর্যন্ত যে কোনো ভোটের জরিপে বিএনপি বর্তমানে প্রথম স্থানে আছে, কিন্তু এই জরিপের পরিসংখ্যান দেখে যদি দলটি অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি ও নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয় তাইলে ধ্বংশ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ভোটের জরীপে বিগত ১৫ বছরে বিএনপি সবার আগে এগিয়ে আছে।কিন্তু ভোটের মাঠ সব সময় এক থাকে না, এটা পরিবর্তন হতে ২৪ ঘন্টাই যথেষ্ট।  এখন যেহেতু স্বৈরাচার পালিয়েছে সেহেতু বিএনপি আর জামায়াতই মূখ্য দল। এই দুই দলের মধ্যে ভোটের ব্যধান বিশাল। কিন্তু সাংগঠনিক মজবুতির দিকে তাকালে বাংলাদেশ জামায়াত বিএনপি হতে অনেক এগিয়ে। বিএনপি যে ভোটের পাওয়ার দেখাচ্ছে সেটা পরিবর্তনশীল কিন্তু জামায়াত ভোটে এগিয়ে না থাকলেও সাংগঠনিক মজবুতিতে হাজার গুন এগিয়ে। জামায়াত শুধু নিজেদের সাংগঠনিক মজবুতির উপর ভরসা করেই বসে নেই,সেই সাথে তারা তাদের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী প্রক্সি দলও ইতিমধ্যে মাঠে নামিয়েছে। এই প্রক্স গুলো জামায়াতের ভোট ব্যাংক হিসাবে কাজ করবে এবং দিন দিন জামায়াতের ভোট বাড়ানোর জন্য তারা কাজ করেই যাচ্ছে।

কিন্তু এই মুহূর্তে নিশ্চিত ক্ষমতায় যাওয়ার উজ্জল আলোতে বিএনপি এখন বিভোর। আর এই বিভোরতায় বিএনপি বর্তমানে বেশ কয়েকটি মারাত্মক ভুল করে যাচ্ছে।এগুলো হলো,
১। পরাজিত আওয়ামিলীগ এর নিষিদ্ধের বিষয়ে সরাসরি বিরোধিতা করা।
২। ইসকনের বিষয়ে মাখামাখি।
৩। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধকরণের বিরোধী বক্তব্য।
৪। মির্জা ফখরুলের ভারত প্রীতি মনোভাব প্রকাশ্যে আনা।
৫।চট্রগ্রামে ইসক কর্তৃক আইন জীবি হত্যার পর ইসকনের পক্ষে পরোক্ষ ওকলাতি।
৬।বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি বন্ধ না করতে পারা, দখল বানিজ্য শুরু করা ইত্যাদি।
৭। চুপ্পুকে অপসারনের বিরোধিতা করা।
৮। আহত ছাত্রলীগের বাসায় উচ্চ পর্যায়ের নেতা পাঠানো।

বিএনপি বর্তমানে যে বিষয়টি অনুধাবন করতে ব্যর্থ:
১।বিএনপির সব চেয়ে বড় ব্যর্থতা বিগত ১৬ বছরে তাদের সাংগঠনিক দূর্বলতা। এরা এটা একবারও ভাবে না যে এ পর্যন্ত একটি সফল আন্দোলন করতে পারে নি তারা বিএনপি শুধু মাত্র তাদের নিজেদের দলে থাকা আওয়ামিলীগ ও ভারতের দালালদের জন্য।

২। রক্তাক্ত জুলাই আন্দোলন যদিও সকল দলের অংশ গ্রহনের ফল, তথাপিও এখানে বিএনেির অংশ গ্রহন এমন কোনো পর্যায়ের না যে তারা এই আন্দোলনের কৃতিত্ব ও আন্দোলন পরবর্তী জনশক্তি তারা তাদের নিজেদের জন্য কাজে লাগাতে পারবে। বরং এই রক্তাক্ত জুলাই ২০২৪ এর মূল সংগঠক জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবির।

৩। জুলাই আন্দোলনের মূল মোটিভ হলো আওয়ামিলীগ তথা স্বৈরাচার হটানো। এটা বিএনপির একটি ব্যর্থ এজেন্ডাকে জামায়াত কৌশলে ছাত্র জনতাকে দিয়ে করিয়েছে। এখনও বাংলাদেশে রাজনৈতিক শক্তির মূল প্রবাহ আবর্তন হচ্ছে চরম আওয়ামিলীগ ও ভারত বিরোধিতার মধ্য দিয়েই। এমতাবস্থায় আওয়ামিলীগ ও ভারতের দালালী করলে জনগন বিএনপির প্রতি নাখোশ হবে এটাই স্বাভাবিক। 

৪। বাংলাদেশে চলছে ইসকন নিষিদ্ধের দাবী, আওয়ামিলীগ ব্যতীত ১০০% মুসলমানের দাবী ইসকন নিষিদ্ধকরণ।  কিন্তু বিএনপি এ সময়ও ইসকনের মত সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষে কথা বলে নিজেদের দালাল হিসাবে জনগনের নিকট উপস্থাপন করছে যা ভোটের মাঠে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।

৫।যে আওয়ামীলীগ বিরোধিতা ছাত্র জনতাকে হাসিনা হঠানোর জন্য শক্তি যুগিয়েছে সেই আওয়ামিলীগ প্রীতি, হাসিনা প্রীতি ও ভারত এবং হিন্দুত্ববাদ প্রীতি ছাত্র জনতার ঐক্যকে বিএনপির বিরোদ্ধে দাঁড় করাতে ১ সেকেন্ডও সময় লাগাবে না এটা বুঝতে পারছে না ফখরুলরা।

৬। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠে আলেম সমাজ ও ইসলামি শক্তি একটি বিরাট নিয়ামক, কিন্তু এই ইসলামি শক্তির গুরুত্ব বুঝতে বিএনপি ব্যর্থ, আর এই ব্যর্থতা বিএনপির জন্য একদিন কাল হয়ে দাঁড়াবে।

উপরে আলোচিত সকল নির্বুদ্ধিতা ও আত্মতুষ্টি বিএনপিকে ধ্বংশের দিকে নিয়ে যাবে।


অমুসলিমদের সাথে মুসলমানদের বিয়ে

অমুসলিমদের সাথে মুসলমানের বিয়ের বৈধতা কতটুকু "



 

মুসলিম ছেলেদের জন্য আহলে কিতাব মেয়েদেরকে বিবাহ করার বিষয়ে ইসলামী শরীয়তের হুকুম কয়েক ভাগে বিভক্ত এবং বিভিন্ন শর্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যার দাবীদার। তাই বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে একটি ভূমিকাসহ কিছুটা বিস্তারিতভাবে এর জবাব পেশ করা হল।


অনেক মানুষকে বলতে শোনা যায় ‘মুসলমান ছেলেদের জন্য আহলে কিতাব মহিলাদের বিবাহ করা বৈধ।’ এটি একটি ব্যাখ্যাবিহীন অসম্পূর্ণ কথা। কেউ কেউ একথা শুনে মনে করেন যে, যে কোনো ইহুদী-খৃস্টান মহিলাকে বিবাহ করা বৈধ। অথচ এ ধারণা নিতান্তই ভুল।

প্রকাশ থাকে যে, এ উত্তরপত্রে তিনটি শব্দ ব্যবহৃত হবে। (১) বিবাহ ‘সংগঠিত’ হওয়া (২) বিবাহ ‘না জায়েয’ হওয়া (৩) বিবাহ ‘অনুত্তম’ হওয়া। এ তিনটি শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা নিম্নরূপ :

বিবাহ ‘সংগঠিত’ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, এ কাজ সম্পাদনের পর ওই দম্পতির স্বামী-স্ত্রী সুলভ সম্পর্ক ব্যভিচার বলে গণ্য হবে না এবং তাদের সন্তান বৈধ বলে গণ্য হবে।

আর বিবাহ ‘না জায়েয’ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, কাজটি করা শরীয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ ও গোনাহের কাজ এবং তা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

আর বিবাহ ‘অনুত্তম’ বলে বুঝানো হয়েছে কাজটি সম্পূর্ণ অবৈধ না হলেও তা পরিত্যাজ্য ও গর্হিত এবং তা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

জেনে রাখা আবশ্যক যে, কোনো ইহুদী-খৃস্টান মহিলার সাথে বিবাহ শরীয়তের দৃষ্টিতে বিবাহ বলে গণ্য হওয়ার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। এদুটি শর্তের কোনো একটি না পাওয়া গেলে সেটি বিবাহ বলেই গণ্য হবে না; বরং যিনা ও ব্যভিচার সাব্যস্ত হবে। তবে উভয় শর্ত পাওয়া গেলেই যে তাদেরকে বিবাহ করা বিনা দ্বিধায় নিঃশর্ত জায়েয ও বৈধ হয়ে যাবে বিষয়টি এমনও নয়; বরং বিবাহের পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্বেই আরও কয়েকটি শর্তের উপস্থিতির ব্যাপারে আশ্বস্ত হওয়া আবশ্যক। যদি ওই শর্তগুলো না পাওয়া যায় তবে সে ক্ষেত্রেও বিবাহ জায়েয হবে না। এর পরের কথা হল, এই শর্তগুলোও যথাযথ বিদ্যমান থাকলে বিবাহ তো জায়েয হয়ে যাবে, কিন্তু এ কাজ যে অবশ্যই মাকরূহ হবে তা তো বলাই বাহুল্য। ইসলামী শরীয়তে যেখানে মুসলিম নারীকে বিবাহ করার ক্ষেত্রেও নামাযী ও শরীয়তের অনুসারী নারীকে পছন্দ ও অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে সেখানে যে মহিলা ইসলামের কালিমাকেই মানে না (যদিও সে আহলে কিতাব হয়ে থাকুক এবং বিবাহ সহীহ হওয়ার নির্ধারিত শর্তসমূহও বিদ্যমান থাকুক) তাকে বিবাহ করা কি আদৌ পছন্দনীয় হতে পারে? এখানে ভুল বোঝাবুঝির মূল কারণ এই যে, প্রধান দুই শর্ত সাপেক্ষে আহলে কিতাব মহিলার সঙ্গে বিবাহ শুদ্ধ হওয়াকেই জায়েয হওয়া বলে মনে করা হয়। অথচ বিবাহ শুদ্ধ হলেই জায়েয হয় না; বরং জায়েয হওয়ার জন্য ভিন্ন শর্ত রয়েছে। সেদিকে লক্ষ করা হয় না। এরপর বিবাহ জায়েয হওয়ার শর্তাবলি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যে বিবাহ সম্পন্ন হয়, তাকে মাকরূহ বিহীন বিবাহ ধারণা করা হয়ে থাকে; অথচ এ ধারণা সহীহ নয়। এজন্য নিম্নে আহলে কিতাব মহিলাদের বিবাহ করা সম্পর্কিত ইসলামের নির্দেশনাসমূহ তিনটি স্তরে কিছুটা বিশ্লেষণের সাথে তুলে ধরা হল। বিষয়টি যথাযথভাবে বুঝে নেওয়া আবশ্যক।


এক: বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার শর্তঃ

প্রথমেই জানা দরকার যেএ যুগের অধিকাংশ ইহুদী ও খৃস্টান আহলে কিতাব নামধারীরা আদমশুমারীতে ওই দুই ধর্মের লোক বলে সরকারিভাবে রেজিষ্ট্রিকৃত হলেও মূলত তারা কোনো আসমানী কিতাব বা ধর্মে বিশ্বাসী নয়বরং ঘোষিত বা অঘোষিতভাবে জড়বাদী ও বস্তুবাদী নাস্তিকই বটে। তাই কোনো নারীর শুধু সরকারী খাতায় ধর্মাবলম্বী বলে নিবন্ধিত হওয়া কিংবা ইহুদী বা খৃস্টান নামধারী হওয়াই তার সাথে মুসলমান পুরুষের বিবাহ সহীহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়বরং বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিুোক্ত শর্তসমূহ পূর্বে যাচাই করে নিতে হবে।

(১) মেয়েটি বস্তুবাদী নাস্তিক না হতে হবেবরং প্রকৃত অর্থে ইহুদী বা নাসারা তথা আহলে কিতাব হতে হবে। এ জন্য তার মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপস্থিতি জরুরি।

(ক) আল্লাহ তাআলার সত্তা ও অস্তিত্ব স্বীকার করা।

(খ) আল্লাহ প্রেরিত যেকোনো নবী-রাসূল ও তার উপর নাযিলকৃত আসমানী কিতাবের উপর ঈমান থাকা।

(২) মেয়েটি পূর্ব থেকেই ইহুদী বা খৃস্টান ধর্মে বিশ্বাসী হতে হবে। মুরতাদঅর্থাৎ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে ইহুদী বা খৃস্টান হয়েছে এমন না হতে হবে। এমনিভাবে কোনো মুরতাদের ইহুদী-খৃস্টান মেয়ের সাথেও মুসলমান পূরুষের বিবাহ সংগঠিত হওয়ার সুযোগ নেই।

এসব শর্ত কোনো ইহুদী বা খৃস্টান মেয়ের মধ্যে পাওয়া গেলে শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী তাকে বিয়ে করলে বিবাহ শুদ্ধ বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ এ সকল শর্ত সাপেক্ষে বিবাহের আকদ করলে তাদের একত্রে থাকা ব্যভিচার হবে নাবরং তাদের মেলামেশা বৈধ ধরা হবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যেকেবল এ শর্তগুলো পাওয়া গেলেই তাদেরকে বিবাহ করা জায়েয তথা নিস্পাপ কাজ বলে গণ্য হবেবরং সে জন্য দরকার আরও কয়েকটি শর্তের উপস্থিতি। যা পরবর্তী ধাপে বর্ণনা করা হচ্ছে। -আহকামুল কুরআনজাস্সাস ২/৩২৩-৩২৬তাফসীরে রূহুল মাআনী ৪/৬৪ফাতহুল কাদীর ৩/১৩৫আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৫৪/২৫৫-২৫৬বাদায়েউস্ সানায়ে ৬/১২৫-১২৬বুহুস ১/৪১৫তাফসীরে মাজহারী ৩/৪২


দুই: বিয়ে জায়েজ হওয়ার শর্তাবলিঃ

(১) ইহুদী-খৃস্টান মেয়েকে বিবাহের আগে এই বিষয়ে প্রবল আস্থা থাকতে হবে যেএই বিবাহে স্বামীর দ্বীন-ধর্মের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেইবরং এই বিবাহের পরও সে ঈমান ও দ্বীনের উপর অটল থাকতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

(২) এই ব্যাপারেও নিশ্চিত ধারণা ও আস্থা থাকতে হবে যেএই দম্পিতির যে সন্তানাদি জন্মগ্রহণ করবে (মা আহলে কিতাব হওয়ার কারণে) তাদের দ্বীন-ঈমান রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো বাধা শিক্ষা-দীক্ষা অনুযায়ী জীবন কাটাতে পারবে। পুরুষ অথবা তার ভবিষ্যত সন্তানদের ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়ে কোনো আশঙ্কা থাকলে বিবাহ জায়েয হবে না।

(৩) বিবাহের আগে ভালোভাবে জেনে নিতে হবেযে রাষ্ট্রের মহিলাকে বিবাহ করার ইচ্ছা করছে সে রাষ্ট্রে সন্তানদেরকে মায়ের ধর্মের অনুসারী গণ্য করার আইন রয়েছে কি না। অর্থাৎ মা অমুসলিম হলে সন্তানও অমুসলিম ধর্তব্য হবে এরকম আইন থাকলে সেখানে থেকে ওই মহিলাকে বিবাহ করা জায়েয হবে না।

(৪) তালাক বা স্বামীর ইন্তেকালের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেলে সন্তানরা ধর্মের দিক থেকে মায়ের অনুসারী গণ্য হবে এবং স্বামী বা স্বামীর ওয়ারিশরা তাদের নিতে পারবে না-এই ধরনের কোনো আইন যে দেশে রয়েছে সে দেশে অবস্থিত কোনো আহলে কিতাব মহিলাকেও বিবাহ করা জায়েয হবে না।

(৫) যদি আলামত-প্রমাণের মাধ্যমে স্পষ্টত বোঝা যায় যেএই বিবাহের কারণে ইসলামী রাষ্ট্র বা মুসলমানদের কোনো ক্ষতি হবে তাহলে এ বিবাহ থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। বিধর্মী রাষ্ট্রের ইহুদী-খৃস্টানদের মধ্যে যেহেতু সাধারণত উপরোক্ত শর্তগুলো পাওয়া যায় না তাই ফুকাহায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধভাবে এই ফতোয়া দিয়েছেন যেবিধর্মী রাষ্ট্রের কোনো আহলে কিতাব মহিলাকে বিবাহ করা মাকরূহে তাহরীমীতথা না জায়েয ও গোনাহের কাজ। কোনো আহলে কিতাব মহিলা যদি ইসলামী রাষ্ট্রের অধিবাসী হয়ে থাকে এবং উপরোক্ত শর্তগুলো পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যায় তাহলে বিবাহ যদিও সংঘটিত হয়ে যাবে কিন্তু তা হবে খুবই অনুত্তম কাজ। যার আলোচনা তৃতীয় ধাপে আসছে। উপরোক্ত আলোচনার স্বপক্ষে কিছু নির্ভরযোগ্য দলীল প্রামাণ নিম্নে পেশ করা হল,

جاء في روح المعاني /৬৬ : قال ابن عباس رضي الله عنه : لَا يَحِلُّ نِكَاحُ نِسَاءِ أَهْلِ الْكِتَابِ، إِذَا كَانُوا حَرْبًا.

প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেনআহলে কিতাব মহিলাগণ হারবী তথা কাফের রাষ্ট্রের অধিবাসিনী  হলে তাদের সাথে বিবাহ বন্ধন বৈধ নয়। -তাফসীরে রুহুল মাআনী ৪/৬৬

সুপ্রসিদ্ধ ফক্বীহ আল্লামা ইবনে হুমাম রহ. (মৃত : ৮৬১ হি.) বলেন,

وتكره كتابية الحربية إجماعا، لانفتاح باب الفتنة من إمكان التعلق المستدعي للمقام معها في دار الحرب وتعريض الولد على التخلق بأخلاق أهل الكفر.

কাফের রাষ্ট্রের আহলে কিতাব মহিলাকে বিয়ে করা ফিকাহবিদদের সর্বসম্মতিক্রমে মাকরূহে তাহরীমী (না জায়েয)। কারণ স্বামীকে কাফের রাষ্ট্রে তার সাথে বসবাস করতে হবে। ফলে সকল প্রকার ফিতনার দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং এতে সন্তানদেরকে কাফেরদের  সমাজে তাদের মতো করে বেড়ে উঠতে বাধ্য করা হবে। -ফাতহুল কাদীর ৩/১৩৫

সুপ্রসিদ্ধ ফকীহ আল্লামা দারদীর রহ. বলেন,

ويتأكد الكره أن تزوجها بدار الحرب، لأن لها قوة بها لم تكن بدار الإسلام فربما ربت ولده على دينها ولم تبال باطلاع أبيه على ذلك.

কাফের রাষ্ট্রের আহলে কিতাব মেয়েকে বিয়ে করা আরও কঠিনভাবে নিন্দনীয়। কারণ মুসলিম রাষ্ট্রের আহলে কিতাব মহিলার চেয়ে এদের ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। ফলে মহিলাটি সন্তানদেরকে স্বীয় ধর্মের উপর লালিত পালিত করতে থাকবে এবং সন্তানের পিতাকে এ ব্যাপারে সে কোনো পরওয়াই করবে না। -আশশারহুস সাগীর ১/৪০৬

বিখ্যাত ফকীহ আল্লামা শারবীনী রহ. বলেন,

لكن تكره حربية ليست بدار الإسلام وكذا تكره ذمية على الصحيح لما مر من خوف الفتنة لكن الحربية أشد كراهة منها.

কিন্তু যে সকল আহলে কিতাব মহিলা কাফের রাষ্ট্রে থাকে তাদেরকে বিবাহ করা মাকরূহ। তদ্রƒপ বিশুদ্ধ মতানুযায়ী মুসলমান দেশে বসবাসকারিনী আহলে কিতাব মহিলাকে বিয়ে করা দোষনীয়ফিতনার আশঙ্কার কারণে। কিন্তু মুসলিম রাষ্ট্রের চেয়ে কাফের রাষ্ট্রের অধিবাসিনীকে বিয়ে করা অধিক গর্হিত কাজ। -মুগনীল মুহতাজ ৩/১৮৭

জামেয়া আজহারের প্রখ্যাত শায়খ আব্দুল্লাহ আল গুমারী রহ. বলেন,

ومنها ما هو أشد قبحا أن الأولاد يتنصرون حتما تبعا لأمهم النصرانية، لأن الزوج إذا مات ضمتهم الأم إليها وربتهم على دينها وإذا طلقها فلا يسمح له القانون أن يأخذ أولاده بل يبقون مع والدتهم النصرانية.

কাফের রাষ্ট্রের আহলে কিতাব মহিলাদেরকে বিয়ে করার বড় একটি খারাবী হলসন্তানাদি মার মতোই খৃস্টান হয়ে যায়। কারণ পিতার মৃত্যু ঘটলে মা নিজের ধর্মের অনুসারী করে সন্তানদেরকে লালন করতে থাকে। আর যদি স্বামী তালাক দিয়ে দেয় তাহলে রাষ্ট্রীয় আইনে স্বামী সন্তান নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পায় না। ফলে সন্তানরা মার সাথে থেকে তার ধর্মেই দিক্ষিত হয়। -দফউশশক ১৯

এরপর তিনি (শায়খ আব্দুল্লাহ) বেশ কিছু বাস্তব ঘটনার উদাহরণ নিয়ে এসেছেনযেগুলোতে দেখা গেছে যেসন্তানরাও তাদের মায়ের ধর্মাবলম্বী হয়েই বড় হয়ে উঠেছে ও আহলে কিতাব হয়ে গেছে।

আরও দ্রষ্টব্য : 

আহকামুল কুরআনজাস্সাস ২/৩২৬আহকামুল কুরআনথানভী ১/৪০৪তাফসীরে মাজহারী ৩/৪১তাতার খানিয়া ৩/৭


বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...