4547715 ডা.বশির আহাম্মদ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪

মিয়ারে হক্ব বিতর্ক

সহাবাগন সত্যের মাপকাঠি কি না,দলিল কি?




ইদানীং কিছু জামায়াতের নাম ভঙ্গিয়ে খাওয়া আহলে হাদিস পন্থি আলেম-ওলামা ও সরাসরি মাদখালিরা সত্যের মাপকাঠি নিয়ে খুব বাহাসে লিপ্ত।তাদের সাথে আবার বিপক্ষে মাঠে নেমেছেন কওমী ও অন্যান্য আলেমগন।  কেউ কাউকে বিন্দু মাত্র ছাড় দেয় না। উভয় পক্ষের দলিলগুলোই যথেষ্ট শক্তিশালী। তাইলে জনগন তথা সাধারন মুসলমান কার কথা মানবে? আসুন এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।


আগে আসুন মাপকাঠি কাকে বলে তা আগে জানি তার পর এই আলেম গনের বিষয়ে আলোচনা করবো। কেন দলিল পায় নি তা আপনাদের প্রমান সহ দেখিয়ে দেব। তবে আমার মত একজন লোক তাদের মত মাদরাসায় শিক্ষিত লোককে এটা শিক্ষা দেওয়ার জন্য লিখতে বাধ্য হওয়া আমার জন্য বড় দু:খের।কেননা আলেম সমাজ আৃার নিকট সর্বদা শ্রদ্ধেয়।

মাপ কাঠি মানে সর্বজন স্বীকৃত ও প্রমানিত একটি পদ্ধতি বা একক বা আদর্শ যাকে মাপকাঠি বলে যা সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। এক কথায় যাকে বলে চিরন্তন পরিক্ষায় উত্তীর্ন।

এবার আসুননকোরআন ও হাদিসে সাহাবাদের বিষয়ে কি সত্যায়িত আছে:

রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় সহচরবৃন্দ 'সাহাবায়ে কেরাম'। দ্বীন ইসলামের জ্ঞান আহরণ ও প্রচার-প্রসারে যারা জীবন বাজি রেখে আমৃত্যু কাজ করেছেন। সেই সাহাবায়ে কেরাম আমাদের সাধারণ উম্মতের মতো নন। তাঁরা রাসুল (সা.) ও তাঁর উম্মতের মাঝে আল্লাহর তৈরি সেতুবন্ধনের মতো। তাঁদের মাধ্যম ব্যতীত উম্মতের কাছে কোরআন ও হাদীস এবং রাসুলের শিক্ষা পৌঁছার ভিন্ন কোনো পথ নেই।

এটা এমন, যেন কোন একদল ছাত্র একজন মহা বৈজ্ঞানিকের নিকট কোন বিষয়ে বই পুস্তক পড়ে বই-পুস্তক গুলো নিয়ে চলে গিয়ে নিজ নিজ এলাকায় নিজেদের মত এই বিষয়ে নিজেরা আলাদা আলাদা ভাবে এগুলো ব্যবহারিক প্রয়োগ করা শুরু করল। দ্বিতীয় আরেক দল ছাত্র একই বিষয়ে ঐ একই বৈজ্ঞানিক হতে শিক্ষার পর ঐ একই বৈজ্ঞানিক হতে ব্যবহারিক প্রয়োগ সরাসরি শিখে তার পর বাস্তবে প্রয়োগ করে উস্তদের নিকট পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে সনদ নিয়ে তার পর নিজেরা উস্তাদের আদেশ পেয়ে পরবর্তীতে সারগেদ তৈরী করে তাদের ঐ বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া শুরু করেন। এখন আপনাদের বুঝতে বাকি নাই যে ১ম দলটি কখনই ২য় দলের মত ঐ বিষয়ে পারদর্শী নয়। বরং ১ম দলটি পথ ভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশী কেননা তারা ইচরে পাকা। ঠিক বর্তমানে যেসকল আলেম ইসলামের বিষয়ে শুধু কিতাব নির্ভর হয় কিন্তু ব্যবহারিক শিক্ষা নেয় না তারাই পথ ভ্রষ্ট। 

তাই ইসলামে সাহাবাদের বিশেষ একটি মর্যাদা রয়েছে। তাঁদের এই মর্যাদা ইতিহাসগ্রন্থের সত্যমিথ্যা মিশ্রিত বর্ণনা দ্বারা নয়; বরং কোরআন ও হাদীসের চিরসত্য বর্ণনা দ্বারা জানা যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করছেন,

إنما المؤمنون الذين امنوا بالله و رسوله ثم لم يرتابوا و جهدوا بأموالهم و أنفسهم في سبيل اللهط أولئك هم الصدقون

'তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে। তারাই (সাহাবীগণ) সত্যনিষ্ঠ (বা সত্যবাদী)।' (সুরা হুজুরাত-১৫)। 

অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন,

ولكن الله حبب إليكم الإيمان و زينه في قلوبكم و كره إليكم الكفر و الفسوق و العصيانط أولئك هم الراشدون

'কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অন্তরে ঈমানের মহব্বত সৃষ্টি করে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে কুফর, শিরক, পাপাচার ও নাফরমানির প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তারাই (সাহাবীগণ) সৎপথ অবলম্বনকারী।' (সুরা হুজুরাত-৮)।

আল্লাহ বলেন- 

وألزمهم كلمة التقوى وكانوا أحق بها

'আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য কালিমায়ে তাক্বওয়া তথা সংযমের দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিলেন। বস্তুতঃ তারাই ছিল এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত।' (সুরা ফাত্হ-২৬)।

তাক্বওয়া’ মানে তাওহীদ ও রিসালতের কালিমা। সাহাবায়ে কেরাম এই কালিমার অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত আখ্যা দিয়ে সেসব লোকের লাঞ্ছনা প্রকাশ করে দিয়েছেন, যারা তাঁদের প্রতি কুফর ও নিফাকের দোষ আরোপ করে।

তিনি আরো বলেন- 

أولئك هم المؤمنون حقا ط لهم درجت عند ربهم و مغفرة و رزق كريم

'এমন সব লোকই (সাহাবীরা) সত্যিকারের মুমিন (যাদের ভেতর ও বাহির এক রকম এবং মুখ ও অন্তর ঐক্যবদ্ধ)। তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদিগারের নিকট সুউচ্চ মর্যাদা ও মাগফিরাত এবং সম্মানজনক রিজিক।' (সুরা আনফাল-৪)।

হাদীস শরীফে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- 

عن أبي سعيد الخدريرض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تسبوا أصحابي فلوا أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهبا ما بلغ مد أحدهم و لا نصيفه (بخاري ص ৫১৮ و مسلم ص৩১০)

'আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তোমরা আমার সাহাবীগণকে গাল-মন্দ করো না। কেননা (তারা এমন শক্তিশালী ঈমান ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী যে,) তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, তবুও তাদের এক মুদ (৩ ছটাক প্রায়) কিংবা অর্ধমুদ (যব খরচ) এর সমান সওয়াবে পৌঁছুতে পারে না।' (বুখারী: ৩৩৯৭, মুসলিম:৪৬১০)।

অথচ মাদখালি বহু আলেমকে দেখা যায় সাহাবগনকে গালাগালি করে, বিদা'তি বলতে শেনা যায়।

অন্য হাদিসে এসেছে,

عن جابررض عن النبي قال لا تمس النار مسلما راني أو راى من راني

হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. ইরশাদ করেন, জাহান্নামের আগুন সে মুসলমানকে স্পর্ষ করতে পারে না, যে আমাকে দেখেছে (অর্থাৎ আমার সাহাবীরা) কিংবা আমাকে যারা দেখেছে তাদেরকে দেখেছে (অর্থাৎ তাবেয়ীরা)। (তিরমিজি: ৩৮০১)।

এক হাদিসে রাসুলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেন,

عن عبد الله بن مغفلرض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ………من آذاهم فقد آذاني و من آذاني فقد آذى الله و من آذى الله فيوشك أن يأخذه

আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, '…… যে আমার সাহাবীদেরকে কষ্ট দিল সে যেন আমাকে কষ্ট দিল; যে আমাকে কষ্ট দিল সে যেন আল্লাহকে কষ্ট দিল; যে আল্লাহকে কষ্ট দিল অচিরেই আল্লাহ তাকে পাকড়াও করবেন।' (তিরমিযী: ৩৭৯৭)

সাহাবায়ে কেরাম ঈমান যাচাইয়ের কষ্টিপাথর:

সাহাবায়ে কেরাম প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা. এর সংস্রব ও সাহচর্যের মাধ্যমে বিশ্বজনীন খ্যাতনামা ও মানবতাবোধ সম্পন্ন উন্নত জাতিতে পরিণত হলেন। শুধু তাই নয়; বরং বিশ্বমানবতার জন্য চির অনুসরণযোগ্য এবং উম্মতের ঈমান-আমলের সত্যতা ও শুদ্ধাশুদ্ধি যাচাইয়ের জন্য মাপকাঠির সনদ লাভ করেছেন মহান আল্লাহর পাক থেকে।

আল্লাহর ভাষায় : সাহাবায়ে কেরামের ঈমানকে অন্যদের ঈমান যাচায়ের কষ্টিপাথর সাব্যস্ত করে আল্লাহ তা‘আলা তাঁদেরকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন,

فإن امنوا بمثل ما امنتم به فقد اهتدوا و إن تولوا فإنما هم في شقاق

'যদি তারা ঈমান আনে, যেরূপ তোমরা ঈমান এনেছ, তবে তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে। আর যদি তারা (তা থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা হঠকারিতায় রয়েছে।' (সূরা বাক্বারা: ১৩৭)।

এই আয়াতে সাহাবীদের ঈমানকে আদর্শ ঈমানের মাপকাঠি সাব্যস্ত করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মহান আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ও স্বীকৃত ঈমান সেরকম ঈমান, যা রাসূলের সাহাবীগণ অবলম্বন করেছেন। যে ঈমান ও বিশ্বাস তা থেকে চুল পরিমাণও ভিন্ন, তা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।

অপর আয়াতে মুনাফিকদের হঠকারিতার বিষয় উল্লেখ করে ইরশাদ করেন,

و إذا قيل لهم امنوا كما امن الناس قالوا أنؤمن كما امن السفهاء ألا إنهم هم السفهاء و لكن لا يعلمون

'যখন তাদেরকে বলা হয়, মানুষরা অর্থাৎ সাহাবীরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন। তখন তারা বলে আমরাও কি বোকাদের মতো ঈমান আনব? মনে রেখো প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা; কিন্তু তারা তা বোঝে না।' (সুরা বাক্বারা: ১৩)।

এই আয়াতেও একই কথা বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলার দরবারে সাহাবীগণের ঈমানই গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ যে বিষয়ে তাঁরা যেভাবে ঈমান এনেছিলেন অনুরূপ ঈমান যদি অন্যরা আনে, তবেই তাকে ঈমান বলা হয়; অন্যথায় তাকে ঈমান বলা চলে না। এতে বোঝা গেল যে, সাহাবীগণের ঈমানই ঈমানের কষ্টিপাথর, যার নিরিখে কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট সব উম্মতের ঈমান পরীক্ষা করা হয়। এ কষ্টিপাথরের পরীক্ষায় যে ঈমান সঠিক বলে প্রমাণিত না হয়, তাকে ঈমান বলা যায় না এবং অনুরূপ ঈমানদারকে মুমিন বলা চলে না। এর বিপরীতে যত ভালো কাজ বা কথা হোক না কেন, আর তা যত নেক নিয়তেই হোক না কেন, আল্লাহর নিকট তা ঈমানরূপে স্বীকৃতি পায় না; বরং তা মুর্খতা ও বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।

রাসুলের ভাষায় সাহাবায়ে কেরাম

রাসূলুল্লাহ সা. পরবর্তী উম্মতদেরকে সাহাবীদের অনুকরণ ও অনুসরণ করে নিজেদের জীবনকে হেদায়াতের আলোতে আলোকিত করার জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন। এ মর্মে অনেক হাদীস রয়েছে। 

তম্মধ্যে এখানে একটি হাদীস উল্লেখ করা হল।

عن عمر بن الخطابرض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أصحابي كالنجوم فبأيهم اقتديتم اهتديتم –

رزين (مشكاة ৫৫৪)

হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, 'আমার সাহাবীরা আকাশের তারকাতুল্য। তোমরা তাদের যেকোনো একজনের অনুসরণ করবে, হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে।' (মিশকাত)।

বিশিষ্ট সাহাবী হ.আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ রা.-এর ভাষায় :

عن عبد الله بن مسعودرض قال من كان مستنا فليستن بمن قد مات ……. واتبعوهم على أثرهم وتمسكوا بما استطعتم من أخلاقهم وسيرهم فإنهم كانوا على الهدى المستقيم

হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ রা. উম্মতে মুহাম্মদীকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, তোমরা যদি হেদায়াতের পথ চাও, সফলতা অর্জনে আগ্রহী হও, মহান আল্লাহর পরিচয় ও রাসূল (সা.) এর প্রেম-ভালোবাসার উচ্চ শিখরে পৌঁছতে আবেগমান হও, তবে তোমরা পূণ্যাত্মা সাহাবায়ে কেরামের পথ ধরে চল। তাঁদের আখলাক ও আদর্শকে নিজেদের জন্য গন্তব্যে পৌঁছার একমাত্র তরিকা স্থির করে নাও। তাঁদের অনুকরণ ও অনুসরণকে নিজেদের জন্য চূড়ান্ত সফলতার মাধ্যম মনে কর এবং তাঁদের প্রতি অগাধ মায়া-মহব্বত ও গভীর ভক্তি-শ্রদ্ধার বিনিময়ে নিজেদের জীবনের প্রতিটি অংশকে নূরান্বিত করতে সচেষ্ট হও। কেননা তাঁরা সরল-সঠিক পথে ছিলেন।' (মিশকাত)

সত্যের মাপকাঠি না মানলে যে সমস্যা দাড়ায়

সত্যিকারের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতপন্থীদের জন্য অনেক সমস্যা; যদিও পরিপন্থীদের জন্য কোনো সমস্যা নেই। এখানে কয়েকটি সমস্যার কথা উল্লেখ করা হলো।

১. কোরআনের উপর অনাস্থা:

একথা চিরসত্য যে, সরাসরি রাসূল সা. এর পবিত্র জবান থেকে কোরআন শরীফের এক একটি আয়াত সহী-শুদ্ধভাবে শিখেছেন এবং তা সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে পরবর্তী উম্মত পর্যন্ত নিখুঁতভাবে পৌঁছে দিয়েছেন যাঁরা, তাঁরা হলেন রাসূল সা. এর আস্থাভাজন সাহাবায়ে কেরাম। সাহাবীগণ যখনই কোনো আয়াত রাসূলের জবানে শুনতেন, তাৎক্ষণিক তা লিখে নিতেন বা মুখস্থ করে নিতেন। আবার বিশেষভাবে কয়েকজন সাহাবী রাসূল সা. এর পক্ষ থেকে ওহী লিখার দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে হযরত মু‘আবিয়া রা. বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাসূল সা. ইহজগৎ ত্যাগ করার পর হযরত উমর রা.- এর পরামর্শক্রমে মুসলিম জাহানের প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর রা. এর তত্ত্বাবধানে কোরআনের বিক্ষিপ্ত আয়াতকে সংকলন করতঃ পর্যায়ক্রমে তাকে এডিশনে রূপায়ণের কাজও আঞ্জাম দিয়েছেন নবীজীর সৌভাগ্যবান সাহাবীরা। তাঁদের মধ্যে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত রা. বিশেষভাবে উলেখযোগ্য। তারপর দূরদর্শী সাহাবী হযরত হুযায়ফা রা. এর পরামর্শক্রমে হযরত উসমান রা. ২৫হিজরী সনে পঞ্চাশ হাজার সাহাবীর বিশাল সম্মেলন ডেকে সকলের সম্মতিক্রমে কুরাইশী ভাষায় কোরআনের নতুন এডিশন তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেজন্যে তিনি চার সদস্যবিশিষ্ট পরিষদ তথা হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত রা., আব্দুলাহ ইবনে যুবায়র রা., সাঈদ ইবনে ‘আস রা. ও আব্দুলাহ ইবনে হারিস রা.কে দায়িত্ব দেন। তাঁরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত সততা, দতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিখুঁতভাবে এই মহতী কাজের আঞ্জাম দেন। তৈরি হয় কোরআনের নতুন এডিশন, যার অবিকল অনুুলিপি আজ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের হাতে রয়েছে।

নবীজির প্রিয় সাহাবীগণ যদি অকান্ত পরিশ্রম ও অপূর্ব সাধনার বিনিময়ে কুরআনের সংরক্ষন ও সংকলনের কাজ আঞ্জাম না দিতেন, তাহলে পরবর্তী উম্মত চিরদিনের জন্য কোরআনের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত থেকে যেত। অতএব যাঁদের মাধ্যমে আমরা কোরআন পেয়েছি, তাঁদেরকে সত্যের মাপকাঠি না মানা; তাঁদেরকে সমালোচনার উর্ধ্বে মনে না করা; এক কথায় তাঁদের প্রতি অনাস্থাভাব পোষণ করা এবং তাঁদেরকে কোনো না কোনোভাবে কদর্য করা পরোক্ষভাবে কোরআনকে কদর্য করা এবং কোরআনের প্রতি অনাস্থাভাব পোষণ করা। যেহেতু বর্ণনার উপর নির্ভরতা বর্ণনাকারীর উপর নির্ভর করে। বর্ণনাকারী গ্রহণযোগ্য হলে, তার বর্ণিত বিষয় গ্রহণযোগ্য; আর বর্ণনাকারী অনির্ভরযোগ্য হলে, তার বর্ণিত বিষয় অনির্ভরযোগ্য; বর্ণনাকারী বিতর্কিত ও সমালোচিত হলে, তার বর্ণিত বিষয় বিতর্কিত সমালোচিত হয়ে যায়; এটাইতো সর্বজন স্বীকৃত কথা।

২. হাদীস শরীফের উপর অনাস্থা

কোরআনের সংরক্ষণ করেছেন যেমন সাহাবায়ে কেরাম, নবিজির হাদীসভাণ্ডারের সংরক্ষণ করেছেন তাঁরা। তাঁদের থেকেই পর্যায়ক্রমে তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। অতএব সাহাবীগণকে যদি সমালোচনার পাত্র বানানো হয়, তবে তাঁদের সংরক্ষিত হাদীসভাণ্ডারও নির্ভরযোগ্য থাকে না। তাহলে দ্বীন-শরীয়ত বলতে আর কী থাকে?

৩. রাসূলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা:

অনেক হাদীসে রাসূল সা. সাহাবীদের সমালোচনা করতে এবং তাঁদেরকে তুচ্ছ নজরে দেখতে নিষেধ করেছেন। এমর্মে এখানে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো,

عن عبد الله بن مغفلرض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الله الله في أصحابي لا تتخذوهم غرضا من بعدي الخ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহকে ভয় কর। তাদেরকে (সমালোচনার) ল্যবস্তু স্থির করো না। (তিরমিযী: ৩৭৯৭) মুসনাদে আহ্মদ- হাদীস

এই হাদীসের আলোকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সাহাবীদের সমালোচনা করলে, নিশ্চিত রাসূল সা. এর নিষেধাজ্ঞা অমান্য হয়।

৪. রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ:

সাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলে, তা স্বয়ং নবীজির প্রতি বিদ্বেষ পোষণের নামান্তর। নিম্নবর্ণিত হাদীস দ্বারা তাই প্রমাণিত হয়।

عن عبد الله بن مغفلرض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ………. فمن أحبهم فحبي أحبهم و من أبغضهم فبغضي أبغضهم (مشكاة ৫৫৪)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, '………..যারা (আমার) সাহাবাকে ভালোবাসল, তারা আমার ভালোবাসায় তাদেরকে ভালোবাসল এবং যারা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল, তারা আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল।' (তিরমিযী: ৩৭৯৭)।

৫. সাহাবীদেরকে কদর্য করা রাসূল সা.কে কদর্য করার নামান্তর:

সাহাবায়ে কেরামের সম্পূর্ণ শিক্ষা ও শিষ্টাচার রাসূল সা. থেকে অর্জিত। তাঁদের নম্রতা-ভদ্রতা ও ঈমানী-আমলী ত্যাজদীপ্ততা রাসূল সা. এর মহত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে চন্দ্র, সূর্য থেকে আলো গ্রহণ করতঃ সূর্যের ঔজ্জ্বল্যের প্রতিনিধিত্ব করে। এ মর্মে কবি যথার্থ বলেছেন, অর্থাৎ যেই চাঁদ মক্কা নগরির দিগন্তজুড়ে আভা ছড়িয়ে উদ্ভাসিত হলো, সেই চাঁদের উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন সাহাবায়ে কেরাম।

অতএব, সাহাবায়ে কেরামের জীবনকে কলুষযুক্ত করে দেখা, স্বয়ং রাসূলের জীবনকে কলুষযুক্ত করে দেখার নামান্তর।

৬. সুন্নতের বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া:

এটা স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, বিদ্যুতের পাওয়ার হাউজ থেকে স্বচ্ছ বিদ্যুৎ লাভ করার জন্য নিখুঁত তারের মাধ্যম গ্রহণ করা আবশ্যক। তবেই বিদ্যুৎ দ্বারা উপকৃত হওয়ার আশা করা যায়। পক্ষান্তরে ত্রুটিযুক্ত তারের মাধ্যম গ্রহণ করলে উপকৃত হওয়ার বিপরীতে বিপদ অবশ্যম্ভাবী। ঠিক তেমনিভাবে যারা রাসূলে করীম সা. এর স্বচ্ছ সোনালী আদর্শের পাওয়ার হাউজ থেকে আলো গ্রহণ করে নিজেদের জীবনকে আলোকিত করতে চায়, তবে তারা অবশ্যই সাহাবায়ে কেরামকে মাপকাঠি মেনে তাঁদেরকে নিখুঁত মাধ্যমরূপে গ্রহণ করা আবশ্যক। পক্ষান্তরে যারা এই নিখুঁত মাধ্যমকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো ত্রটিযুক্ত মাধ্যম গ্রহণ করবে, তারা নিশ্চয় সুন্নতে রাসূলের বরকত থেকে আজীবন বঞ্চিতই থাকবে। ইহকাল ও পরকালে তাদের বিপদ অবশ্যম্ভাবী।

৭. আল্লাহর অভিশাপের পাত্র হওয়া:

যারা সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা করে, তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ পতিত হয়। নিম্নবর্ণিত হাদীস একথার সাক্ষী।

عن عبد الله بن عمررض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا رأيتم الذين يسبون أصحابي فقولوا لعنة الله على شركم (ترمذي ص২২৫)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, যখন তোমরা ওইসব ব্যক্তিকে দেখবে, যারা আমার সাহাবাকে গাল-মন্দ করে, তখন তোমরা বলে দাও, তোমাদের এই মন্দ আচরণের কারণে তোমাদের উপর আল্লাহর লানত। (মিশকাত: ৫৫৪)।

উপরের এই দীর্ঘ আলোচনা হতে বুঝা গেল সহাবাগন নি:সন্দেহে কোরআন ও হাদিস মোতাবেক দ্বীনের ক্ষেত্রে সত্যের মাপকাঠি মানতে হবে,বরং না মানলে তার ঈমান থাকবে না।

এবার আসুন দেখি মাওলানা আবুল কালাম বাশার সহ তার মতো সাহাবা বিদ্বেষী মাদখালি মতাদর্শের মত কু*লা*ঙ্গার আলেমরা কেন সাহাবাদেরকে সত্যের মাপকাঠি মানার দলিল খোঁজে পায় না। তার আগে এই কুলাঙ্গারদের কিছু প্রশ্ন করি তার পর তাকে জীবনের জন্য একটু দ্বীন শিক্ষা দেব।

১। হযরত মুহাম্মদ (সা:) ওফাতের ২০৮ বছর পর বোখারী শরীফ লিপিবদ্ধ হয়, আমার প্রশ্ন এই ২০৮ বছর মানুষ কোন হাদিসের কিতাব পড়ে দ্বীন শিখতো? নাকি আপনাদের মত জ্ঞান পাপী তখনও ছিলো?তখন কারা নতুন নতুন সমস্যার শরয়ী সমাধান দিতো?

২। বাজার থেকে বাংলা ভাষায় মানে আপনার মাতৃ ভাষায় লেখা একটি রসায়নের বই কিনে বাড়িতে পড়ে কি কোন বস্তু বানাতে পারবেন? এমন কি একটি সাবানও বানাতে পারবেন? পারবেন না, কারন বানাতে হলে ব্যবহারিক শিক্ষা লাগবে। তাইলে ইসলামের মত একটি দ্বীনের ব্যবহারিক শিক্ষা কি শুধু কিতাব পড়েই শুদ্ধ ভাবে শেখা সম্ভব না ব্যবহারিক শিক্ষাও লাগবে? তাইলে উস্তাদ ছাড়া কোথায় হতে শিখবেন?

৩। বাজারের সকল চিকিৎসা সংক্রান্ত বই যদি আপনি বাসায় শিক্ষক রেখে পড়ে মুখস্ত করে নেন, কিন্তু মেডিকেল কলেজে ভর্তি না হয়ে, পাশ না করে, ইন্টার্নী না করে একজন পাতলা পায়খানার রোগেরও কি ঠিক চিকিৎসা দিতে পারবেন? পারবেন না বরং রোগী মারার চিকিৎসা দিয়ে বসবেন। তা হলে কি একজন মানুষ শুধু কিতাব পড়েই প্রকৃত দ্বীন শিখতে পারবে? না তা প্রকৃত প্রশিক্ষন লাগবে?

৪। পুঁথিগত বিদ্যা কি ব্যবহারিক প্রশিক্ষন না থাকলে পূর্নতা পায়? আর এই প্রশিক্ষন কি কিতাব সরাসরি দিবে না প্রশিক্ষনের জন্য প্রশিক্ষক লাগবে? হাদিস গ্রন্থ গুলো লিপিবদ্ধকরনের আগে তাইলে মুসলমানরা কার কথা শোনে আমল করতো হযরত মুহাম্মূ সা: এর মতো করে?

৫। হযরত মুহাম্মদ সা: এর পৃথিবী হতে প্রস্তানের পর যে সকল নতুন নতুন সমস্যা উম্মাহর জন্য সৃষ্টি হয়ে ছিলো যে গুলো হযরত মুহাম্মদ সা: এর জীবন কালে ছিলো না সে গুলো কারা সমাধান করেছিলো? এই শরশী সমাধান গুলোর ক্ষেত্রে কাদেরকে মাপকাঠি হিসাবে নিবেন?

এবার আসুন সমাধানে আসি:
১। যে সকল ক্ষেত্রে দয়াল নবী হযরত মুহাম্মদ সা: সরাসরি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন সে সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই ঐসকল বিষয়ে হযরত মুহাম্মাদ সা: আমাদের দ্বিন, দুনিয়া ও আখিরাতের সর্ব শ্রেষ্ঠ সত্যের মাপকাঠি, কেননা আমাদের দয়াল নবীর সারা জীবনের প্রত্যেকটা কাজই সততার উজ্জল দৃষ্টান্ত,  নূরে ভরপূর। 

২। হযরত মুহাম্মদ সা: এর অবর্তমানে যেসকল শরয়ী সমস্যার উদ্ভব হয়েছে সে গুলো তো সাহাবাগনই সমাধান করেছিলো, সাহাবাগনের শরয়ী সমাধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই সাহাবাগনকেই সত্যের মাপকাঠি মানতে হবে।

৩। এখানে স্পষ্ট করে বুঝতে হবে যে হযরত মুহাম্মদ সা: সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সত্যের মাপ কাঠি, এতে সন্দেহ রাখার সুযোগ নাই। অপর দিকে হযরত মুহাম্মদ সা: ওফাতের পর যেসকল বিষয় সাহাবাগন নিজেরা হযরত মুহাম্মদ সা: এর আদর্শ ঠিক রেখে সমাধান কিংবা শরীয়ত প্রবর্তন করেছন সে ক্ষেত্রে সাহাবাগনই মাপকাঠি হিসাবে গন্য হবেন।

৪।কিন্তু হযরত মুহাম্মদ সা: সৃষ্টি জগতের মূল সত্যের মাপকাঠি, অপরদিকে সাহাবাগনও সত্যের মাপকাঠি তবে সাহাবাগন আপেক্ষিক।  এই আপেক্ষিক শব্দ নিয়েও বিতর্ক হতে পারে তাই বলে রাখছি সাহাবাগনের সত্যের মাপকাঠির আপেক্ষিকতা হযরত মুহাম্মদ সা: এর শরয়ী মানদন্ডের সাথে আপেক্ষিক। 

আমরা হযরত মুহাম্মদ সা:কেই মূল সত্যের মাপকাঠি মানব তবে সহাবাগনকে হযরত মুহাম্মদ সা: এর আপেক্ষিক সত্যের মাপকাঠি হিসাবে মানতে হবে। হযরত মুহাম্মদ সা: মূল আর সাহাবাগন হযতর মুহাম্মূ সা: এর আপেক্ষিক। 

আশা করি এই লেখা প্রকাশের পর এই বিষয়ে কেউ আর বিতর্ক করবে না। আল্লাহ মুসলমানদের বিভক্তি হতে রকৃষা করুন(আৃ)।

লেখক:চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী।

মুসলিম অনৈক্যের বিষয়ে সাবধানবানী

মুসলিমদের বিভক্তির পরিনামের ফলাফল নিয়ে আল্লাহর সাবধান বানী





আল্লাহ তা'য়ালা মুসলিমদের বিভক্তি ও পরস্পর পরস্পরের সাথে শত্রুতা পোষন নিয়ে যে সাবধানতার কথা বলেছেন তা সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৮০-৮২ তে স্পষ্ট করেছেন।

تَرٰى كَثِیْرًا مِّنْهُمْ یَتَوَلَّوْنَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا١ؕ لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ اَنْفُسُهُمْ اَنْ سَخِطَ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ وَ فِی الْعَذَابِ هُمْ خٰلِدُوْنَ
অর্থা:

আজ তুমি তাদের মধ্যে এমন অনেক লোক দেখছো যারা (ঈমানদারদের মোকাবিলায়) কাফেরদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করে। নিঃসন্দেহে তাদের প্রবৃত্তি তাদেরকে যে পরিণতি দিকে ঠেলে দিচ্ছে তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট। সে পরিণতি হলো, আল্লাহ‌ তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন এবং তারা চিরন্তন শাস্তি ভোগ করবে।(মায়েদা -৮০)

মূল কথা হলো:
তুমি তাদের মাঝে এমন বহু লোককে দেখতে পাবে, যারা (ঈমানদারদের বদলে) কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করতেই বেশী আগ্রহী, অবশ্য তারা নিজেরা যা কিছু অর্জন করে সামনে পাঠিয়েছে তাও অতি নিকৃষ্ট, এ কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর ক্রোধান্বিত হয়েছেন, এ লোকেরা চিরকাল আযাবেই নিমজ্জিত থাকবে।

পরের আয়াতে আল্লাহ বলেন,

وَ لَوْ كَانُوْا یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ النَّبِیِّ وَ مَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِ مَا اتَّخَذُوْهُمْ اَوْلِیَآءَ وَ لٰكِنَّ كَثِیْرًا مِّنْهُمْ فٰسِقُوْنَ

যদি এ লোকেরা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ, নবী এবং নবীর ওপর যা নাযিল হয়েছিল তা মেনে নিতো তাহলে কখনো (ঈমানদারদের মোকাবিলায়) কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতো না। কিন্তু তাদের অধিকাংশ আল্লাহর আনুগত্য ত্যাগ করেছে।(ময়েদা-৮১)


এর অর্থ হচ্ছে, যারা আল্লাহ, নবী ও আসমানী কিতাবকে মেনে নেয় তারা স্বাভাবিকভাবে মুশরিকদের মোকাবিলায় এমন লোকদের প্রতি বেশী সহানুভূতিশীল হয়, যাদের সাথে ধর্মের ব্যাপারে বিরোধ থাকলেও তারা তাদেরই মতো আল্লাহ ও আল্লাহ প্রেরিত অহির ধারাবাহিকতা ও রিসালাতকে মানে। কিন্তু এ ইহুদীরা এক অদ্ভূত ধরনের আহলি কিতাব। তাওহীদ ও শিরকের যুদ্ধে এরা প্রকাশ্যে মুশরিকদের সাথে সহযোগিতা করছে। নবুওয়াতের স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতির লড়াইয়ে এদের সহানুভূতি রয়েছে নবুওয়াত অস্বীকারকারীদের প্রতি। এরপরও এরা লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে এ দাবী করে বেড়াচ্ছে যে, তারা নবী ও কিতাব মানে

ইহুদীদের অবাধ্যতার কারণ : 
পরিশেষে ষষ্ট পারার শেষ প্রাস্তে এসে বনী ইসরাইল সংক্রান্ত সমাপনী বক্তব্য পেশ করা হচ্ছে। এখানে কোরআনে কারীম রসূলের যুগে এদের অবস্থা কী ছিলো তা বর্ণনা করছে। মূলত বনী ইসরাইলদের অবস্থা সর্বযুগে সর্বকালে একই ছিলো, তারা কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করতো এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করতো । তার একমাত্র কারণ হচ্ছে তারা আহলে কেতাব হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর প্রতি ও রসূলের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি ঈমান আনেনি । সর্বোপরি তারা আল্লাহর সর্বশেষ দ্বীনেও প্রবেশ করেনি, সুতরাং তারা মোমেন নয়। যদি তারা ঈমানদার হতো, তবে কাফেরদের সাথে কখনো বন্ধুত্ব করতো না। কোরআনের এই ভাষ্যটি যেমনিভাবে রসূলের যুগে ইহুদীদের বেলায় প্রযোজ্য, ঠিক তেমনি বর্তমান ও ভবিষ্যতের সর্ব যুগেই তাদের ব্যাপারে এটা প্রযোজ্য, অনুরূপভাবে উপরোক্ত ভাষ্য আজকের বিশ্বের আহলে কিতাবীদের অপর দলটির ওপরও প্রযোজ্য ৷ অতীতে ইহুদীরাই মোশরেকদের সাথে বন্ধুত্ব করতো এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদেরকে ষড়যন্ত্রে, লিপ্ত করত। অন্য এক আয়াতে বলা হয়েছে, “তারা (কেতাবধারীরা) কাফেরদেরকে বলে যে, এরা মুসলমানদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে ।” কোরআনে হাকীমের বিভিন্ন আয়াতে তাদের পুরোপুরি অবস্থা বর্ণনা এসেছে। আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়, তার পূর্বে এবং পরে এমনকি বর্তমান যুগের ঘটনাবলীর মাধ্যমেও এটা পরিস্ফুটিত হয়েছে। নাস্তিক জড়বাদী নব্য কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব এবং সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমেই এই বনী ইসরাইলীরা অবশেষে আজ ফিলিস্তিনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আহলে কেতাবদের অপর দলটি মুসলমানদের কোনো কোনো বিষয়ের ব্যাপারে নাস্তিক জড়বাদীদের সাথে সাহায্য সহযোগিতা করে। আব্দুল ওহাব নযদি নামক হাদিসে বর্নিত শয়তানের শিং খ্যাত বাতিল ফেরকার জন্মও ড.হামফেরী নামক কমনওয়েলথ ব্রিটিশ গোয়েন্দার মাধ্যমে খ্রিস্টানরাই মুসলমানদের বিভক্তির জন্য সৃষ্টি করেছেন। অনুরূপভাবে তারা মোশরেক পৌত্তলিকদেরও সহযোগিতা করে। যখন মোশরেক এবং মুসলমানদের মাঝে কোনো যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়- যদিও ওই সমস্ত মুসলমানরা সত্যিকার ইসলামের প্রতিনিধিত্ব না করে নামকা ওয়াস্তে মুসলমান হয় তবুও তাদের এ হিংসা বিদ্বেষ ও শত্রুতা দ্বীন ইসলাম এবং তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে কখনো বন্ধ হবে না। এমনকি যদি তারা দ্বীনের সত্যিকার অনুসারী না হয় তবুও ৷ মহান আল্লাহ তায়ালা সত্যিই বলেছেন, 'আপনি তাদের অনেককে দেখবেন, কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করে ।' 'তারা নিজেদের জন্যে যা পাঠিয়েছে তা অবশ্যই মন্দ । তা এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা ক্রোধান্বিত হয়েছেন এবং তারা চিরকাল আযাবে থাকবে ।' নিসন্দেহে তাদের প্রবৃত্তি তাদেরকে আস্তে আস্তে যে পরিণতির দিতে ঠেলে দিচ্ছে তার প্রতিফলন হচ্ছে তাদের প্রতি আল্লাহর ক্রোধ এবং চিরকাল শাস্তি ভোগ করা। সুতরাং ওই পরিণাম কতই না নিকৃষ্ট এবং ওই উপঢৌকন কতই না খারাপ, ইহুদীদের কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করার পরিণতি কি এক আশ্চর্য্য ব্যাপার? আমাদের মধ্য থেকে যে কেউ উপরোক্ত সম্প্রদায় সম্পর্কে আল্লাহর বাণী শুনবে, সে নিজ থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না, যার অনুমতি আল্লাহ তায়ালা তাকে দেননি। যেমন ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং তাদের শত্রু কাফেরদের সাথে বন্ধুত্বকারীদের মাঝে বন্ধুত্ব ও সাহায্য সহযোগিতার ব্যাপারটি আল্লাহ্‌ তায়ালা কখনো আমাদের এ অনুমতি দেননি । যদি প্রশ্ন করা হয় ওই সম্প্রদায়ের কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব না করার কারণ কী হতে পারে? জবাবে বলা হবে একমাত্র কারণ হচ্ছে, 'আল্লাহ এবং তার রসূলের প্রতি ঈমান না আনা ।' (আয়াত ৮১) 

এটাই হচ্ছে মূলত সত্যিকারের কারণ । নিসন্দেহে তারা আল্লাহ তায়ালা ও তার রাসূল(সা:) এর প্রতি ঈমান আনেনি । তাদের অধিকাংশ লোকই ফাসেক। তারা অনুভুতি ও গতিপথের দিক থেকে কাফেরদের সমকক্ষ । সুতরাং তারা মোমেনদের সাথে বন্ধুত্ব না করে কাফেরদের সাথেই করবে। এখানে কোরআনে কারীমের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে আমাদের সামনে তিনটি উল্লেখযোগ্য বাস্তব সত্য পরিস্ফুটিত হয়েছে।  

১। আহলে কিতাবীদের সকল লোকই আল্লাহর প্রতি ঈমান আনেনি । তারা তার পক্ষ হতে প্রেরিত সর্বশেষ নবীর প্রতি ঈমান আনেনি । কোরআনে করীমের কথানুযায়ী তারা শুধু সর্বশেষ নবীর প্রতি ঈমান আনাকেই অস্বীকার করেনি, বরং আল্লাহর প্রতি সঠিক ঈমান আনাকেও তারা অস্বীকার করেছে। 'যদি এ লোকেরা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ, নবী এবং নবীর ওপর যা নাযিল হয়েছিল তা মেনে নিতো, তাহলে কখনো (ঈমানদারদের মোকাবেলায়) কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতো না ।' এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট বর্ণনা, যা কোনো প্রকার ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে না, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার ব্যাপারে তাদের দাবী যাই হোক না কেন বিশেষ করে যদি আমরা তাদের এই ভূমিকাকে আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কিত চিন্তা চেতনার বিকৃতি ধরে নেই তাহলে বিষয়টা আরো পরিস্কার হয়ে যাবে। 

২। সমস্ত আহলে কিতাবীদের মোহাম্মদ(স.) এর ভাষায় আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করার জন্যে আহবান করা হয়েছে। যদি তারা মোহাম্মদ(স.) এর আহবানে সাড়া দেয়, তবে তারা ঈমানদারদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করবে। আর যদি তারা তা থেকে তাদের মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আল্লাহর বর্ণনানুসারে তারা কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হবে।  

৩। জীবনের কোনো ক্ষেত্রে আহলে কিতাবী ও মুসলমানদের মাঝে বন্ধুত্ব ও সাহায্য সহযোগিতা হতে পারে না। কারণ মুসলমানদের কাছে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র হবে তার নিজের দ্বীনের অনুগত । ইসলাম তার অনুসারীদেরকে আহলে কিতাবীদের ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার ও আচরণ করতে ইসলামী রাষ্ট্রে তাদের জান মাল ও ইযযত আবরু হেফাযত করতে তাদেরকে তাদের নিজস্ব আকীদা বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দিতে, তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত উত্তমরূপে পৌছে দিতে, তাদের সাথে উত্তমভাবে কথা বলতে সর্বোপরি তাদের সাথে দেয়া প্রতিশ্রুতি এবং সন্ধির শর্ত পূরণ করে চলতে । কিন্তু কোনো অবস্থাতেই দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের ওপর বল প্রয়োগ করা যাবে না। আর এটাই হচ্ছে ইসলামের স্পষ্টতা, ইসলামের অনুগ্রহ ৷ আল্লাহ তায়ালা সদা সত্য কথা বলেন এবং হামেশা মানব জাতিকে সঠিকপথের সন্ধান দেন।

পরের আয়াতে আল্লাহ আরো কঠিন বার্তা দিয়েছেন,


لَتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِیْنَ اٰمَنُوا الْیَهُوْدَ وَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْا١ۚ وَ لَتَجِدَنَّ اَقْرَبَهُمْ مَّوَدَّةً لِّلَّذِیْنَ اٰمَنُوا الَّذِیْنَ قَالُوْۤا اِنَّا نَصٰرٰى١ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّ مِنْهُمْ قِسِّیْسِیْنَ وَ رُهْبَانًا وَّ اَنَّهُمْ لَا یَسْتَكْبِرُوْنَ


ঈমানদারদের সাথে শত্রুতার ক্ষেত্রে তুমি ইহুদী ও মুশরিকদের পাবে সবচেয়ে বেশী উগ্র। আর ঈমানদারদের সাথে বন্ধুত্বের ব্যাপারে নিকটতম পাবে তাদেরকে যারা বলেছিল আমরা আল্লাহর সাহায্যকারী। এর কারণ হচ্ছে, তাদের মধ্যে ইবাদাতকারী আলেম, সংসার বিরাগী দরবেশ পাওয়া যায়, আর তাদের মধ্যে আত্মগরিমা নেই।(মায়েদা-৮২)।

অন্য ভাবে অনুবাদ করলে:
অবশ্যই তোমরা ঈমানদারদের সাথে শত্রুতার ব্যাপারে ইহুদী ও মোশরেকদেরই বেশী কঠোর (দেখতে) পাবে, (অপরদিকে) মোমেনদের সাথে বন্ধুত্বের ব্যাপারে তোমরা সেসব লোককে (কিছুটা) নিকটতর পাবে, যারা বলেছে আমরা খৃস্টান; এটা এই কারণে যে, (তখনো) তাদের মধ্যে ধর্মীয় পন্ডিত ব্যক্তি ও সংসারবিরাগী ফকীর-দরবেশরা মজুদ ছিলো, অবশ্যই এ ব্যক্তিরা অহংকার করে না।

আল্লাহ মুসলমানদেরকে ঐক্য বজায় রাখার তৌফিক দিন(আমীন)।

মা আয়েশা (রা:) এর বিয়ে


মা আয়েশার বিয়ে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ




যখন মক্কার লোকগুলো প্রচণ্ড অতিষ্ঠ, আব্দুল্লাহর ছেলে মুহাম্মদ ﷺ কি এক নতুন ধর্ম নিয়ে এসেছে, বলছে সব দেব-দেবী ছেড়ে এক আল্লাহর ইবাদত করতে। শত অত্যাচার করেও তাঁকে একটুও দমানো গেলো না। কুরাইশরা তখন একটা মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিলো। তারা ভেবে দেখল, সাধারণত সম্পদ,নারী আর রাজত্ব-এই তিনটি বিষয়ের জন্যই মানুষ এতো হাঙ্গামা করে পৃথিবীতে। তাই কুরাইশদের প্রতিনিধি হয়ে উতবাহ ইবনে রাবীআহ , মুহাম্মদ ﷺ কে বললঃ
 
“যদি তুমি তোমার দারিদ্র্যের কারণে এমনটা করছো, আমাদের বলো তাহলে।আমরা টাকা তুলে তোমাকে সমগ্র কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী বানিয়ে দিবো। যদি তুমি রাজত্ব চাও, আমরা তোমাকে আমাদের রাজা বানিয়ে দিব। যদি তুমি নারী চাও, কুরাইশদের মধ্যে যাকে খুশি পছন্দ করো। আমরা দশজন নারীকে তোমার হাতে তুলে দিবো।”
 
বর্তমান ইসলাম বিদ্বেষী প্রচারণার একটা অন্যতম মুখ্য হাতিয়ার রাসূল ﷺ কে নারীলোভী হিসেবে উপস্থাপন করা। কারণ, তাঁর ঘোর বিরুদ্ধচারীরাও জানে মুহম্মদ ﷺ এর সম্পদের প্রতি কোনো আসক্তি ছিল না। মৃত্যুর সময় তিনি একটা দিরহাম ও রেখে যাননি। রাসূল ﷺ যদি সত্যিই নারীলোভী হতেন তবে কুরাইশের সেরা সেরা দশ নারীকে বিয়ে করার জন্য এর চেয়ে মোক্ষম সুযোগ আর ছিলো না। কিন্তু তিনি এই সুযোগ গ্রহণ করেননি।
 
মক্কার মুশরিকরা তাঁকে পাগল বলেছে, বলেছে জাদুকর। কিন্তু কখনোই নারীলোভী কিংবা শিশুকামী বলেনি। কারণ, তারা তাঁকে ছোট থেকে বড় হতে দেখেছে। যখন তাদের সংস্কৃতিতে অবৈধ যৌনাচার একদম স্বাভাবিক ব্যাপার ছিলো তখনো তিনি কোন নারীর নিকট কখনো গমন করেননি। মক্কার সবচেয়ে সুদর্শন পুরষ হয়েও মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করেন ৪০ বছর বয়সী মা খাদিজা(রাঃ) কে।

মা খাদিজা(রাঃ) এর মৃত্যু পর্যন্ত তার সাথে ঘর করেছেন একটানা ২৫ বছর। এরপর বিয়ে করেন পঞ্চাশ বছর বয়সী সওদা(রাঃ) কে। তারপর আল্লাহর নির্দেশেই বিয়ে করেন ছয় বছর বয়সী আয়েশা(রাঃ) কে। তারপরেও তার ঘোর শত্রুরা তাঁকে কখনো নারীলোভী কিংবা শিশুকামী বলেনি। আর তার শত্রুরা হয়তো ভুলেও কল্পনা করেনি যে, প্রায় চৌদ্দশ বছর পর তাদেরই মত কিছু ইসলামের শত্রুরা এটা নিয়ে এতো জল ঘোলা করবে।

সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, কিছু তথাকথিত মুসলিমরা বলার চেষ্টা করে যে, রাসূল ﷺ আয়েশা(রাঃ) কে বিয়ে করে ঠিক কাজ করেননি। এই হাদীসটি লক্ষ্য করুন-
 
আয়েশা (রাঃ) নিজেই বর্ণনা করে গিয়েছেন রাসূলﷺ বলেছেন-“তোমাকে বিয়ে করার আগে আমাকে ২ বার স্বপ্ন দেখান হয়েছিলো। আমি দেখেছি একজন ফেরেশতা তোমাকে এক টুকরো রেশমি কাপড়ে জড়িয়ে আমার কাছে নিয়ে আসছেন। আমি বললাম- আপনি নিকাব উন্মোচন করুন! যখন তিনি নিকাব উন্মোচন করলেন তখন আমি দেখতে পেলাম যে ঐ মহিলা তুমিই। আমি তখন বললাম –এটি যদি আল্লাহর তরফ থেকে হয়ে থাকে তাহলে তিনি তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবেন। তারপর আবার আমাকে দেখানো হলো যে, একজন ফেরেশতা তোমাকে এক টুকরো রেশমি কাপড়ে জড়িয়ে আমার কাছে নিয়ে আসছেন। আমি বললাম- আপনি নিকাব উন্মোচন করুন! যখন তিনি নিকাব উন্মোচন করলেন তখন আমি দেখতে পেলাম যে ঐ মহিলা তুমিই। আমি তখন বললাম –এটি যদি আল্লাহর তরফ থেকে হয়ে থাকে তাহলে তিনি তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবেন।
 
আমরা জানি নবীদের স্বপ্ন হচ্ছে ওহীর মত। তাই আল্লাহতায়ালাই এই বিয়ে ঘটিয়েছিলেন। তাই এই বিয়ের পেছনে অবশ্যই একটা হিকমাহ ছিলো। এরপরেও কোন মুসলিম যদি এই বিয়ে নিয়ে আপত্তি তুলেন তবে অবশ্যই ঈমান হারা হবেন। রাসূল ﷺ কে নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষীদের একটি প্রধান অভিযোগ হলোঃ

মুহাম্মদ ﷺ pedophile বা শিশুকামী ছিলেন (নাউযুবিল্লাহ)
 
যারা pedophilia তে ভোগেন তাদের IQ লেভেল এবং স্মৃতিশক্তি অনেক কম থাকে। যিনি পুরো কুরআন মুখস্থ বলে যেতে পারতেন তাঁকে আমরা অবশ্যই স্মৃতিশক্তির দোষে দুষ্ট বলতে পারি না। আর মেধার প্রয়োগ এবং সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি যে জিনিয়াস ছিলেন তা পাশ্চাত্যের অনেক লেখকই স্বীকার করেছেন। Pedophilia তে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রধান যেসব উপসর্গে ভোগেন তার কোনোটাই তাঁর মধ্যে প্রকট ছিল না। আসুন দেখি উইকিপিডিয়াতে pedophilia এর সংজ্ঞা হিসেবে কি বলা হয়েছেঃ
 
“Pedophilia or paedophilia is a psychiatric disorder in which an adult or older adolescent experiences a primary or exclusive sexual attraction to prepubescent children. the manual defines it as a paraphilia involving intense and recurrent sexual urges towards and fantasies about prepubescent children.”
 
এখানে pubescent বা বয়ঃপ্রাপ্তির বিষয়টা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনায় একেক অঞ্চলের মেয়েরা একেকসময় বয়ঃপ্রাপ্ত হয়। যেমনঃ মরুভূমি অঞ্চলের মেয়েরা শীতপ্রধান অঞ্চলের মেয়েদের চেয়ে দ্রুত বয়ঃপ্রাপ্ত হয়। মরুভূমির মেয়েরা যেখানে ১০ বছর বয়সে বয়ঃপ্রাপ্তি লাভ করে সেখানে অনেক শীতপ্রধান অঞ্চলের মেয়েরা ১৩-১৫ বছর হয়ে গেলেও বয়ঃপ্রাপ্ত হয় না। ফ্রেঞ্চ ফিলোসফার Montesqueu তার ‘Spirit of Laws’ বইটিতে[৭] উল্লেখ করেছেন, উষ্ণ অঞ্চলে মেয়েরা ৮-৯-১০ বছর বয়সেই বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যায়। বিশ বছর বয়সে তাদেরকে বিয়ের জন্য বৃদ্ধ ভাবা হয়। ‘Spirit of Laws’ বইটি আমেরিকার সংবিধান তৈরীতে ব্যবহৃত হয়েছে।
 
আয়েশা(রাঃ) নিজেই মেয়েদের জন্য বিয়ের বয়স নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “মেয়ে যখন নয় বছরে উপনীত হয়ে যায়, তখন সে মহিলা হয়ে যায়।”  তাই সে সময়কার আরব মেয়েদের জন্য নয় বছর বিয়ের জন্য উপযুক্ত ছিল তার প্রমাণ ছিলেন স্বয়ং আয়েশা(রাঃ)।
নিচের তালিকাটি ভালোভাবে লক্ষ্য করুন- তালিকাটাতে তিনটা ভিন্ন শতকে মেয়েদের বিয়ের জন্য অনুমোদিত বয়স কত ছিলো সেটা উল্লেখ করা হয়েছেঃ

ছবিতে


ভালোভাবে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাবো, ১৮৮০ সালের দিকে অধিকাংশ জায়গায় বিয়ের জন্য অনুমোদিত বয়স ছিলো ১০-১২ এর মধ্যে। আমরা যদি ইতিহাসে আরো পেছনে যেতে পারি তাহলে আরো কম বয়স লক্ষ্য করতে পারব। আবার যত সামনে এগুবো লক্ষ্য করলে দেখা যাবে অনুমোদিত বয়সের সীমা ক্রমাগত বাড়ছে। এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।
 
Pedophilia এর সংজ্ঞায় আরো গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করা হয়েছে- “intense and recurrent sexual urges towards and fantasies about prepubescent children”। অর্থাৎ, একজন pedophile বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি এমন শিশুদের প্রতি বারবার প্রবল আকর্ষণ বোধ করে। মুহম্মদ ﷺ কি এমন কিছু প্রদর্শন করেছিলেন? তিনি কি বাছাই করে শুধু শিশুদের বিয়ে করেছিলেন? নিচের তালিকাটি লক্ষ্য করুন। এখানে আমি মুহাম্মদ ﷺ এর বিভিন্ন বিয়ের সময় তাঁর স্ত্রীদের বয়স উল্লেখ করেছিঃ
ছবিতে

অর্থাৎ, তাঁর স্ত্রীদের যখন বিয়ে করেছিলেন তাদের মধ্যে ৯০ ভাগেরই বয়স ছিলো ১৭ কিংবা তার চেয়েও বেশী। একমাত্র আয়েশা(রাঃ) এর বয়স ছিলো দশের নিচে । যারা আয়েশা(রাঃ) এর বয়স দেখে খুশিতে-“Yes, we got it. All moslems are pedophile” বলে চিৎকার করে উঠেন তারা অবশ্য খাদিজা(রাঃ), উম্মে হাবীবাহ(রাঃ) ও সওদা(রাঃ) এর বয়স দেখলে যথাক্রমে বোবা, বধির ও অন্ধ হয়ে যান।
 
তারপরেও ছয় বছর বয়স স্বামী সংসারের জন্য উপযুক্ত না :
 

যারা ৬ বছর বয়সে আয়েশা(রাঃ) এর বিয়ে নিয়ে আপত্তি তুলেন তারা অবশ্য ইতিহাসের একটা সত্য এড়িয়ে যান। সেটা হচ্ছে রাসূল ﷺ এর পূর্বেই আয়েশা(রাঃ), জুবাইর ইবনে মুতিম এর সাথে engaged ছিলেন। পরবর্তীতে, আবু বকর(রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করলে এ বিয়ে ভেংগে যায়। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, সে সময় এই বয়সেই বিয়ে করা আরবে একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। পরবর্তীতে আল্লাহর নির্দেশে মুহাম্মদ ﷺ তাঁকে বিয়ে করেন। ৬ বছর স্বামী সংসারের জন্য উপযুক্ত নয় বলেই তিনি ৯ বছর বয়সে স্বামীগৃহে উঠেন। Pedophile- এ আক্রান্তরা যেমন শিশুদের পাবার জন্য আকুল হয়ে উঠে, মুহাম্মদ ﷺ কখনোই এমন কিছু প্রদর্শন করেননি। তাই ৯ বছর বয়সে আয়েশা(রাঃ) উপযুক্ত হলে আয়েশা(রাঃ) এর পরিবারই তাকে স্বপ্রণোদিত স্বামীগৃহে উঠিয়ে দেন।
 
 
আজ থেকে ২০০ বছর আগে মেয়েরা ১০ বছর বয়সে বিয়ের জন্য উপযুক্ত হলে তা মেনে নিতে যদি আমাদের আপত্তি না থাকে তাহলে ১৪০০ বছর আগে একজন নারীর নয় বছর বয়সে সংসার করা নিয়ে অভিযোগ তোলা কি ডাবল- স্ট্যান্ডার্ড এর মধ্যে পড়ে না? কমনসেন্স,পরিসংখ্যান আর বিজ্ঞান এই তিনটাই সাক্ষ্য দেয় যে, স্বামীগৃহে উঠার সময় আয়েশা(রাঃ) “Pre-pubescent” স্টেজে ছিলেন না।  মজার ব্যাপার হচ্ছে, ১৯০৫ সালের আগ পর্যন্ত মুহাম্মদ ﷺ এর সাথে আয়েশা(রাঃ) এর বিয়ে কোন ইস্যুই ছিলো না। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ লেখক David Samuel Margoliouth তার "Mohammed and the Rise of Islam" বইতে সর্বপ্রথম এটা নিয়ে জল ঘোলা করেন। কারণ, এর আগে এটা সবার কাছে একদম স্বাভাবিক ব্যাপার ছিলো।
 
যাদের এরপরেও ব্যাপারটা হজম করতে কষ্ট হয় তাদের ছোট্ট একটা এক্সপেরিমেন্ট করতে বলবো। আপনার দাদী কিংবা নানী বেঁচে থাকলে তাদের জিজ্ঞেস করুন তাদের কত বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিলো, সম্ভব হলে তাদের কাছ থেকে জেনে নিন আপনার বড়-দাদী এবং বড়-নানীর বিয়ে কত বছর বয়সে হয়েছিলো। দেখবেন বয়সটা ৯-১৫ এর বেশি না। এখন পারবেন কি নিজেদের পূর্বপুরুষদের শিশুকামী বলতে? আল্লাহ-তায়ালা এভাবেই মানুষের মিথ্যাগুলোকে মানুষের দিকেই ফিরিয়ে দেন।

এবার 'সভ্য' দেশগুলোর দিকে তাকাই। মেক্সিকোতে ছেলে মেয়ের দৈহিক সম্পর্কের জন্য এই আধুনিক সময়ে নূন্যতম বয়স মাত্র ১৩। খোদ ইউ.এস স্টেটে মেয়েদের বিয়ের বয়সের ভিন্নতা আছে।যেমনঃ New Hampshire এ বয়স ১৩, New York এ ১৪, South Carlonia তে বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫। আপনি কোন বয়সটাকে সঠিক বলবেন?
 
তবে এটা ঠিক যে, অপরিপক্ক বয়সে বিয়ে হলে, মেয়েরা আত্মগ্লানিতে ভোগেন এবং স্বামীর প্রতি এতোটা অনুরক্ত হন না। আয়েশা(রাঃ) এর সাথে কি এমনটা হয়েছিলো?
 
কেমন ছিলো আয়েশা(রাঃ) ও রাসূল ﷺ এর দাম্পত্য জীবন?
 
- রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অন্তরে আয়েশা (রাঃ) এর প্রতি যে মহত্ত্ব ও মর্যাদা ছিলো, তা অন্য কোন স্ত্রীর জন্য ছিলো না। তাঁর প্রতি এ ভালবাসা তিনি কারো থেকে গোপন পর্যন্ত করতে পারেননি, তিনি তাকে এমন ভালবাসতেন যে, আয়েশা (রাঃ) যেখান থেকে পানি পান করতেন, তিনিও সেখান থেকে পানি পান করতেন। আয়েশা (রাঃ) যেই হাড় মুখে নিতেন, তিনিও সেই হাড় মুখে নিতেন। [১৫]
 
তাঁর মানে এই না যে, রাসূল ﷺ স্ত্রীদের সাথে সমতা পালন করতেন না। তিনি অবশ্যই ভারসাম্য বজায় রাখতেন। তবে, হৃদয় তো আর ভারসাম্য মানে না। রাসূল ﷺ এই বলে আল্লাহর কাছে দু‘আ করতেন,
 
“ হে আল্লাহ! যা আমার নিয়ন্ত্রণে (অর্থাৎ স্ত্রীগণের প্রতি আচার-ব্যবহার ও লেনদেন) তাতে অবশ্যই সমতা বিধান করি; কিন্তু যা আমার নিয়ন্ত্রণে নয় (অর্থাৎ আয়েশা(রাঃ) এর প্রতি ভালোবাসা) তার জন্য আমাকে ক্ষমা করো।”[১৬]
- আমর ইবনুল আস (রাঃ) একবার জিজ্ঞাসা করেন : “হে আল্লাহর রাসূল, আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কে ?” তিনি বললেন : “আয়েশা”। আমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন : পুরুষদের থেকে ? তিনি বললেন : “তাঁর পিতা”।[১৭]
- রাসূলুল্লাহ ﷺ তার সাথে খেলা-ধুলা, হাসি-ঠাট্টা ইত্যাদিতে অংশ গ্রহণ করতেন। কোন এক সফরে রাসূল ﷺ তার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায়ও অংশ নেন।[১৮]
- আয়েশা (রাঃ) আরো বর্ণনা করেন, যার দ্বারা তার প্রতি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর স্নেহ, মমতার প্রকাশ পায়। তিনি বলেন :“আল্লাহর শপথ, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দেখেছি, তিনি আমার ঘরের দরজায় দাঁড়াতেন, হাবশিরা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা-ধুলা করতো, আর রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে তাঁর চাদর দিয়ে ঢেকে নিতেন, যেন আমি তাদের খেলা উপভোগ করি তার কাঁধ ও কানের মধ্য দিয়ে। অতঃপর তিনি আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতেন, যতক্ষণ না আমিই প্রস্থান করতাম”।[১৯]।

তাঁর প্রতি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ভালোবাসার আরেকটি আলামত হচ্ছে, মৃত্যু শয্যায় তিনি অন্যান্য স্ত্রীদের নিকট অনুমতি নিয়ে আয়েশা(রাঃ) এর কক্ষে অবস্থান করেন। আর আয়েশা(রাঃ) এর কোলে মাথা রেখেই তিনি আপন প্রভুর সমীপে আত্মনিবেদন করেন।[২০]
- “আয়েশা(রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ﷺ আমাকে বলেন : তুমি কখন আমার উপর সন্তুষ্ট থাকো আর কখন রাগ করো, আমি তা বুঝতে পারি। তিনি বলেন, আমি বললাম : কিভাবে আপনি তা বুঝেন ? তিনি বললেন : তুমি যখন আমার উপর সন্তুষ্ট থাকো, তখন বলোঃ এমন নয়- মুহাম্মদের রবের কসম, আর যখন আমার উপর রাগ করো, তখন বলো, এমন নয়- ইবরাহিমের রবের কসম। তিনি বলেন, আমি বললাম : অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, তবে আমি শুধু আপনার নামটাই ত্যাগ করি।’’[২১]
- কোনো এক সফরে আয়েশা(রাঃ) এর সওয়ারি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। এটা দেখে, রাসূল ﷺ এতোটাই অস্থির হয়ে পড়েন যে, তাঁর পবিত্র জবান থেকে বের হয়ে গেলো-
“ হায় হায়! আমার স্ত্রীর কি হবে!”[২২]
- এক শ্রেণীর মানুষ রাসূল ﷺ কে নারীলোভী আর সম্পদলোভী হিসাবে উপস্থাপন করতে চায়। অথচ আয়েশা(রাঃ) এর ভাষায়- টানা তিনদিন নবী পরিবারে খাবার জুটেছে কখনো এমনটা হয়নি[২৩]। তিনি আরো বলেছেন- মাসের পর মাস চুলোয় আগুন জ্বলতো না[২৪]। শুকনো খেজুর আর পানিতেই দিন কাটতো।[২৫]
উম্মুল মুমিনীনরা সবসময় দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকেই বেশী প্রাধান্য দিতেন। কিন্তু তারাও মানুষ ছিলেন। তাই সংসারের খরচ বাড়াতে তাঁরা বারবার রাসূল ﷺ কে বারবার পীড়াপীড়ি করতেন। এ নিয়ে কিছুটা মনমালিন্যের প্রেক্ষিতে রাসূল ﷺ এক মাস স্ত্রীদের সাথে দেখা করবেন না বলে শপথ করেন। ইতিহাসে এটি “ঈলার ঘটনা” নামে পরিচিত। এ সময়ে রাসূল ﷺ কে দেখতে না পাবার বিরহের কথা বলতে গিয়ে আয়েশা(রাঃ) বলেন, “আমি শুধু দিন গুনতাম।” বিরহের পালা শেষ করে রাসূল ﷺ সর্বপ্রথম আয়েশা(রাঃ) এর সাথে দেখা করেন। আয়েশা(রাঃ) অভিমান করে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এক মাসের শপথ করেছিলেন। অথচ সবে ঊনত্রিশ দিন হয়েছে।” রাসূল ﷺ জবাবে বলেন, “আয়েশা! মাস তো ঊনত্রিশ দিনেও হয়।”[২৬]
- আয়েশা(রাঃ), রাসূল ﷺ এর প্রতি এতোটা আত্মসম্মান বোধ করতেন যে তিনি মুহাম্মদ ﷺ কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “কেনো আমার মতো একজন নারী, আপনার মত একজন পুরুষকে নিয়ে আত্মসম্মান বোধ করবে না ?” [২৭]
 
এরপরেও যারা এই বিয়ে নিয়ে জলঘোলা করে তাদের বলব, “If Ayesha (R) was happy and satisfied with her marriage, who are you to point your finger at her marriage?”



হৃদয় পাগলের আত্ম কাহিনী

হৃদয় পাগলের আত্ম কাহিনী এবং মি. ইবলিশের স্বাস্থ্যহানী





ঘটনাটা ২০২১ সালের ঈদুল আজহার পরের দিন। আমি এবং আমাদের চাচাত ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে দুষ্টু জাকির ভাই ঈদের পরের দিন আমার গ্রামের দৈনিক বাজারে বসে সবার সাথে কৌশল বিনিময় করছিলাম। একে একে যারাই আসছে সবার সাথে হ্যান্ডসেক করে ভাব বিনিময় করছি কিন্তু করুনার ভয়ে কোলাকুলি করছিলাম না। এক পর্যায় পাশ দিয়ে আমার এক ভাতিজা নাম হৃদয় পাগলা আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, আমি ডাকলাম কি চাচা কেমন আছ? দাঁড়াও কথা আছে, আমার উদ্দেশ্য হল বেশ অনেক বছর পর এই ভাতিজাকে দেখতে পেলাম, কেমন আছে, কি করে জানব। কিন্তু ভাতিজা আমার কথা শুনে ভাল আছি বলে দ্রুত চলে গেল, দেখে তাড়া আছে মনে করে তাকে আর ডাকলাম না।
ওহে! এই হৃদয় পাগলের পরিচয়টা একটু বর্ননা না করলে পাঠকগন ঘটনা প্রবাহ বুঝতে কঠিন হবে। তাই বলছি, হৃদয় পাগলার আসল নাম গিয়াস উদ্দিন, বয়সে আমার তিন বছরের বড়, কিন্তু পরীক্ষায় ফেল করতে করতে ৫ম শ্রেনীতে গিয়ে আমার সমান হয়ে যায়। ঐ ক্লাসেই গিয়াসের আমার সাথে খুব ভাল সম্পর্ক হয়। উনি বড় কিন্তু আমি উনাকে কাকু ডাকলেও উনিও আমার সম্পর্কে ভাতিজা বিধায় আমাকে কাকু বলে ডাকত। বার্ষিক পরীক্ষার সময় আমার সাথে উনার সীট পড়ল, গিয়াস খুব খুশী,  আমার খাতা কপি করে করে পরীক্ষা দিল, ফেল করা ছাত্র হঠাৎ রেজাল্টের সময় ৫ম হয়ে গেল, আর আমি হলাম তৃতীয়। একই হাইস্কুলে একসাথে ভার্তি হলাম। সম্পর্ক খুবই গভীর হল। প্রায় রাতেই আমাদের ঘরে থাকত।
হঠাৎ কিছুদিন পর গিয়াসের মা মারা গেল, সে পড়াশোনা ছেড়ে কোথায় যে চলে গেল আর দেখা হল না। পরে জানতে পারলাম এক সময় তার সৎ মা তাকে বাড়ি হতে বেড় করে দিয়েছে, পরে সে নেশার জগতে জড়িয়ে গেছে। এক সময় সবাই তাকে হৃদয় পাগল নাম বসিয়ে দেয়।
 যাক গে ঐদিন চলে গেল কথা বলতে পারলাম না, পরের দিন সকালে যথা রীতি সে একই রাস্তায় যাচ্ছিল আর আমি তাকে ডাকলাম, সে বল্ল তাড়া আছে,  তার নাকি কোন বস অসুস্থ, সুগার বাড়ছে, ইনস্যুলিন আনতে যাচ্ছে।

ঐ দিনই বিকেল বেলা যথারীতি আমি আগের জায়গায় দাড়িয়ে ছিলাম জাকির ভাইকে নিয়ে আর হৃদয় একই পথে যাচ্ছিল, ডাকলাম কাকু দাঁড়াও, কেমন আছ? চা খেয়ে যাও। সে আবারও তাড়া দেখাচ্ছে কিন্তু দুষ্টু জাকির ভাই নাছর বান্দা আজ তাকে ধরবেই। তৎক্ষনাৎ হৃদয় পাগলার মাথার গামছাটা খুলে একটা চলতি সিএনজির পেছনে আটকে দেয় আর চলমান সিএনজি ওটা নওয়ে চলে যায় আর শার্টটা খুলে গাছের উপর ছুড়ে মেরে মগ ডালে ঝুলিয়ে দেয়। ব্যাস আর যায় কই শুধু পরনে একটা লুঙ্গি। এখানে আরো অনেক হাসির কান্ড ঘটেছিল তা আর নাই বললাম। অবশেষে সে বসল, এক কাপ চা দিলাম, সে নিজেই একটা সিগারেট নিয়ে চা খাচ্ছে আর সিগারেট টানছে। জাকির ভাই জানতে চাইলো বার বার ডাকি দাঁড়াসনা কেনো? একই উত্তর বসের সুগার বাড়ছে ইনস্যুলিন আনতে যাওয়া লাগে। এবার আমি জিজ্ঞাস করলাম তোমার বস কে আর কেনই সুগার বাড়ছে?

এবার সে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলা শুরু করল। আমার বসের হায়াত কয়েক লক্ষ্য বছর, আর প্রায় ত্রিশ হাজার বছরের বেশি সময় যাবত নিজের কাজে অনেক পরিশ্রম করতাছে আর হাজার হাজার মুরীদ বানাইছে। জাকির ভাই ধমক দিয়ে বলল ফাজলামী করার জায়গা পাস না, দাঁড়া তোর মাথায় পানি দিতাছি, মাথা ঠান্ডা কইরা ক। আমি জাকির ভাইকে থামালাম। হৃদয় বলল যে পানি দিলে কি সত্যটা মিথ্যা অইয়া যাইব? দেখতে দেখতে অনেক লোক জমে গেল। আমি হৃদয়কে অভয় দিয়ে বর্ননা করতে অনুরোধ করলাম। তখন আবার শুরু করে, বস্ জীবনে অনেক পরিশ্রম করছে। কিন্তু পরিশ্রম করে নিজের কাজের পাশাপাশি কিছু মুরীদ বানাইছে সারা দুনিয়া ব্যাপী যেই মুরীদরা বসের চেয়েও আরো কর্মঠ ও পরিশ্রমী। তাই বস আর এখন তেমন কাজ করা লাগে না, বসে বসে শুধু সারগেদ দের কাজ দেখে আর হাসে, মাঝে মাঝে আশ্চর্যও হয়। আমি বললাম  আশ্চর্য হয় কেনো?  সে বলে বসের সারগেদরা মাঝে মাঝে এমন কাজ করে যে বস্ নিজেও এমন কাজ পারে না বা জানতও না। এই ভাবে বইসা থাকতে থাকতে বসের স্বাস্থ্য মোটা হয়ে ডায়াবেটিস হইয়া সুগার বাইড়া স্বাস্থ্যহানী হইয়া গেছে। 

জাকির ভাই বলে তোর বস্টা কেডা তার নামতো কইলি না, নাম ক, নাইলে তোরে পানিতে ফেলব। হৃদয় বলে আমার বসের নাম মি. ইবলিশ। আর ইবলিশের সারগেদ হইলি তোরা। তোরা এমন এমন খারাপ কাজ করছ শয়তান আর কিছু করা লাগে না, বরং শয়তান বইসা বইসা দেখে আর হাসে। শয়তান বসে থেকে থেকে এই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হইয়া অসুসৃথ হইছে। একথা শুনে উপস্থিত সবাই হুহু করে হেসে উঠে।

যে প্রশ্নের মুখোমুখি জামায়াত

জামায়াত যে ঐতিহাসিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর আজও দিতে পারে নি



বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিগত ৫৪ বছর যাবত ১৯৭১ সালে তাদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছে কিংবা কৌশলে পাশ কাটাচ্ছে। এটা অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক ও নেতা-কর্মী, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ছাত্র শিবিরের জন্য বড় বেদনা দায়ক বটে।

এই বিষয়টি কয়েক বছর যাবৎ ধামাচাপা পড়ে থাকলেও গত কিছুদিন আগে ডয়েচে বেলের সাবেক বাংলাদেশ প্রতিনিধি খালেদ মহিউদ্দিন কর্তৃক জামায়াতের আমিরকে একই প্রশ্ন করাতে তিনি যখন সরাসরি এই প্রশ্নের উত্তরটি দিতে অস্বীকৃতি জানান তখনই বিষয়টি আবার সামনে আসে।

মি.খালেদ মহিউদ্দিনের প্রশ্নটি ছিলো বাংলাদেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করা হলো ২০২৪ সালে অনেক রক্তের বিনিময়ে,আপনারা আন্দোলন কারীদের পক্ষে ছিলেন,জামায়াতের ছাত্র শিবিরের অবদানই সবচেয়ে বেশী কিন্তু ১৯৭১ সালে তো পাকিস্তানও আমাদের উপর স্বৈরশাসন চালিয়েছে, গনহত্যা চালিয়েছে, তখন আপনারা পশ্চিমাদের পক্ষ নিয়েছিলেন কেনো? এ প্রশ্ন শোনে জামায়াত আমীর হতভম্ব হয়ে প্রশ্নের উত্তরটি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বসে। তাঁর এই অস্বীকৃতির কি অর্থ বহন করে এবং জামায়তে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের রাজনীতিতে কি প্রভাব ফেলতে পারে এটা সহজেই অনুমেয়।

যাই হোক জামায়াতের বর্তমানে আহলে হাদিস সমর্থিত সাবেক কমিউনিস্ট কর্মী ডা.শফিকুর রহমান যাই বলুক না কেনো এই প্রশ্নটির একটি বাস্তব সম্মত উত্তর ও সঠিক কারন জামায়াতের সাবেক নেতারা বলে দিয়ে গেছেন। আমি আমার মতো করে উত্তরটি বর্তমানের আলোকে দিচ্ছি।আর এটাও জানি জামায়াত ও শিবিরের লোকোরা আমার কথা পছন্দ করবে না, আর আমিও এই জামায়াতকে পরামর্শ দিয়ে কোনো প্রবন্ধ ৫ আগস্টের পর হতে দেই না।আজ দিলাম বাধ্য হয়ে।

জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আ'লা মওদুদী (রাহি:) তাঁর দল প্রতিষ্ঠার পর হতেই ভারত বর্ষে স্বাধীন ভাবে মুসলমানদের জীবন চালানোর জন্য একটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু করে। প্রথমে বর্তমান যে পাকিস্তান আছে তা মুসলিম লীগের প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী। এ কাঠামোতে যে ত্রুটি ছিলো তা বর্তমান পাকিস্তানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বুঝা যায়। কিন্তু বিচক্ষণ মাওলানা মওদূদী এটা আগেই উপলব্ধি করতে পেরে শিয়া নেতা মি. কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক বিরোধিতা করলেও মাওলানা মওদূদী তা মেনে নিয়ে পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেয়। তার পর ২৪ বছর চলে অখন্ড পাকিস্তান।

১৯৪৮ সালে পূর্ব বাংলা তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উপর যখন উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিয়ে ছিলো তখন জামায়াত সমর্থিত ঢাকসুর তখনকার জিএস গোলাম আজমই প্রথম বাংলা ভাষার দাবীতে আন্দোলন শুরু করে এবং ভাষা আন্দোলনকে সুগঠিত করে ১৯৫২ সালে সফলাতা পায়। আর এই আন্দোলন ও রক্তদানও ছিলো বাংলাদেশীদের ন্যায্য অধিকারের জন্যই। 

জামায়াত নেতারা বরাবরই বিচক্ষন ও দূর্দশী হয়। তারা ১৯৭১ সালে যখন মুক্তি যুদ্ধের পটভুমি তৈরী হয় তখন জামায়াত নেতারা দেখলো যে ভারত তার অখন্ড ভারত মাতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের জন্য শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আগরতলায় ষড়যত্র চুক্তি করে। জামায়াত নেতারা বুঝতে পারে যে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার মূলো ঝুলিয়ে আদতে ভারত তাদের স্বার্থ হাসিল করছে আর অপর দিকে ১৯৪৯ সালে ও ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সৈনিকদের হাতে আরব ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েলের মার খাওয়ার প্রতিশোধ হিসাবে ইসরায়েল ও ভারত যৌথ ভাবে কাজ শুরু করে।
জামায়ত নেতারা বর্তমান স্বাধীন  বাংলাদেশের অবস্থা শেখ মুজিব ও তার পরবর্তী জেনারেশনের হাতে কি হবে তাও তারা উপলব্ধি করতে পেরে ছিলো। আর তখনই জামায়ত এই অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে ও স্বাধীন বাংলাদেশের ভারত নির্ভরতা ও নতুন পরাধীনতার কথা ভেবে তখন স্বাধীনতার যুদ্ধের বিরোধিতা করে। শেখ মুজিবের ভারতের প্রতি আনুগত্য রেখে এই স্বাধীনতার বিরোধীতা শুধু জামায়াতই তখন করে নি, মাওলানা ভাষানী, একে ফজলুল হক ও অনেক কমিউনিস্ট নেতারাও করেছিলো।

পরে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়,  পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী গঠন করে বাংলাদেশকে বওরান ভূমিতে পরিনত করে। শুরু হয় অত্যাচার।হাজাট হাজার মা-বেনের ইচ্জ্জত হরন করে।

এই রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী এবং পাকিস্তার সেনা বাহিনী তো কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে এই অত্যার করে নি। রাজাকার, আল বদর ও আল শামস বাহিনীতে যারা কাজ করেছে তারা পূর্ব পাকিস্তানের সকল মতাদর্শর মানুষই চকুরী নিয়েছিলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অনুগত হিসাবে। 

আর পাকিস্তান সেনা বাহিনীতেও তখন অনেক বাংলাদেশী তাদের অনুগত হিসাবে কাজ করেছে। কিন্তুমতারা কেউ ই কোন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে যেহেতু ছিলো না, সেহেতু জামায়াতের পরিচয়েও নিশ্চয়ই ছিলো না। 

তার পর পাক বাহিনী যে অত্যাচার করেছে, গন হত্যা করেছ, নারীর উপর পৈশাচিক নির্যাতন করেছে তা যুদ্ধ কালীন বাহিনী করেছে এবং অবশ্য মানবতা বিরোধী করেছে। কিন্তু যুদ্ধের পর সব দেষ জামায়াতে ইসলামীর উপর ট্যাগ করে দেয় তখনকার ভারতীয় অনুগত শেখ মুজিব প্রশাসন কেননা ভারতও জানত কখনোই যদি বাংলাদেশে ভারতের শোষনের বিরোধিতা কোন রাজনৈতিক দল করে তাইলে তা জামায়াতে ইসলামী করবে এবং সফল হবে। ভারত ৫৪ বছর আগে বর্তমান বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার কথা আঁচ করতে পেরে ১৯৭১ সালের পর হতেই জামায়াতকে দমন করার জন্য উঠে পরে লেগে যায়, আর জামায়তও ৫৪ বছর আগে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার কথা উপলব্ধি করে পাকিস্তান বিভক্তির বিপক্ষে ছিলো, ভারত ৫৪ বছর আগে জামায়াতের বর্তমান ভারত বিরোধিতার কথা উপলব্ধি করে জামায়াত দমনে সর্বদা সচেষ্ট থাকে।

এখানে জামায়াত ও ভারত দু পক্ষই দুটি বড় ঐতিহাসিক ভুল করে আসছে।
১। ভারত শুধু আওয়ামিলীগ নামক দলটিকেই তাদের অনুগত হিসাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের জনগনকে উপেক্ষা করেছে।

২। জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করার আসল কথা জনগনকে বুঝানোর চেষ্টা করে নি আর অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে থেকে ভারত বিরোধিতার কথা মুখে আনতে সাহস করে নি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন অন্যায় ও অবিচারের দায় যে রাজনৈতিক ভাবে তাদের নয় তাও তারা কখনো মানুষকে বুঝায় নি।

জামায়াত যদি পাক বাহিনীর গনহত্যার দায় তাঁদের ঘাড়ে নিতে হয় তাইলে বাংলাদেশের বর্তমান সকাল সরকারী চাকুরীজীবি ও আওয়ামিলীগের সাথে থাকা জাতীয় পার্টির সকল নেতাকর্মীরাও শেখ হাসিনার নির্যাতনের দায় নিতে হবে। অথচ এখনও জাতীয় পার্টির কোন নেতাকর্মীর বিরোদ্ধে কোন মামলা হয় নি।

জামায়াতে ইসলামীর সব চেয়ে বড় নির্বুদ্ধিতা ছিলো পাক বাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের নিন্দা জানানোর ব্যর্থতা। 

এই ব্যর্থতারও একটা বড় ঐতিহাসিক বাধ্যগত কারন ছিলো যআর তা হলো তখন জামায়াত নেতারা নিষিদ্ধ হয়েছিলো মুজিব প্রশাসনের নিকট, সাথে ভারতের জামায়াত দমন নীতি। তখন ভেবেছিলো জামায়াত যদি পাকিস্তানেরও বিরোধিতা করে তখন তো তাদের আর রাজনৈতিক আশ্রয় থাকতো না।

যাই হোক জামায়াত এই বিষয় গুলো জনগনের সামনে আনতে যদিও অনেক দেরী করে ফেলেছে, এখন তো সময় এসেছে এগুলো সামনে আনার, জনগনকে অবহিত করার। কোনো সত্য কথা বললে বেশী প্রমান লাগে না, কথাতেই অনেকটা বুঝা যায়, জামায়াত সত্য তুলে ধরুক, জনগন বুদ্ধি দিয়ে বিচার করবে।

কিন্তু ডা.সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের যেভাবে এই ঐতিহাসিক প্রশ্নের দায়সারা উত্তর দেয় এবং জামায়াতের বর্তমান আমীর আহলে হাদিস সমর্থিত সাবেক কমিউনিস্ট নেতা ডা.শফিকুর রহমান যে ভাবে সত্য উপস্থাপনে অস্বীকৃতি জানায় তাতে বর্তমান বিচক্ষন তরুনদের নিকট আবারো জামায়াতকে ১৯৭১ এর ভিলেন হিসাবেই প্রকাশ করে যা এই সময়ে অত্যন্ত দু:খ জনক।

আমার এই লেখাটি যদি কেউ কপি করেন তাইলে কপি শব্দটা ব্যবহারের সবিনয় অনুরোধ রইলো। 

লেখকঃ চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী। 

নাস্তিকরা কেনো ইসলাম বিরোধী হয়?

নাস্তিকরা কেনো ইসলাম বিরোধী হয়



এটা বুঝার আগে প্রিয় পাঠক গন নাস্তিক ও নাস্তিকতা কি এটার বাস্তব ধারনা রাখতে হবে। নাস্তিকতা হলো সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বের অস্বীকার করা। আর নাস্তিক হলো যারা নাস্তিকতা ধারন ও লালন করে। এখন বলার বিষয় হলো কেউ যদি নাস্তিক হয় আর নাস্তিকতা লালন করে এর মানে হলো সে কোন সৃষ্টি কর্তা বা ধর্ম মানবে না, ব্যস এতটুকুই,  এটাই হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা দেখি কি? নাস্তিকরা শুধু নাস্তিকই না তারা ধর্মের বিরোধিতা করে। 

আদতে নাস্তিকরা জাতে মাতাল তালে ঠিক টাইপের এক ধরনের মানসিক অসুস্থ রোগী। এরা অতীতে ছিলো, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এদেরকে বর্তমানে লালন ও পালন করে গ্রীক দর্শনে প্রভাবিত শায়তানের পূজারী নাস্তিকরা। নাস্তিকতা শুধু সৃষ্টি কর্তাকে অস্বীকার নয়, বরং এটি সৃষ্টি কর্তার বিরুদ্ধে শয়তান পূজারীর এক ধরনের বিদ্রোহ। 

যদি নাস্তিকতা কোন ধর্ম না হতো তাইলে নাস্তিকরা নিজেরা নিজেদের বিশ্বাস নিয়ে তারা তাদের মত থাকত। কিন্তু না, তারা এসে ধর্মের বিরুদ্ধে সারাক্ষন লেগে থাকে, আদতে এটা সৃষ্টি কর্তার সাথে তাদের এক ধরনের বিদ্রোহ। আপনারা যার ডেভিলস ডায়েরি কিংবা কিতাবুস শয়তান অথবা স্যাটনিক বুক এর যে কোন একটি পড়েছেন তারা জানেন যে শয়তান তার নিজের পূজারীদের নিকট ঘোষনা করেছে যে সে সৃষ্টি কর্তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এই বিশাল মহা বিশ্বে। আর এ জন্যই এই শয়তান সে তার পূজারী ও মানসিক বীকার গ্রস্থ নাস্তিকদের মাধ্যমে মানুষকে মদ,নারী, বেশ্যা বৃত্তি, সমকামিতা, মডেলিংয়ের নামে নগ্নতা, নীল চলচ্চিত্র ও মাদক দিয়ে মানুষকে ধর্ম থেকে সরিয়ে খোদা দ্রোহী করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

নাস্তিকরা যে শুধু ইসলামের বিরোধিতা করে এমন নয়, এরা সকল ধর্মেরই বিরোধিতা করে৷ বললাম না যে ওরা জাতে মাতাল তালে ঠিক। নাস্তিকরা সাধারণত যে দেশে বসবাস করে সে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্মের সমালোচনা বেশি করে থাকে। কারণ সেই দেশের সমাজ ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্মের প্রভাব বেশি থাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা ইসলাম৷ভারতের ক্ষেত্রে সেটা সনাতন ধর্ম। আমেরিকার ক্ষেত্রে সেটা খ্রিষ্ট ধর্ম। তাদের কাজই হলো ধর্মের বিরোধিতার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বিদ্রোহ করা, কারন এটা ওদের গুরু ইবলিস এর অঙ্গীকার।

মজার ব্যাপার হলো, প্রত্যেকটি দেশে যে ধর্ম সংখ্যগরিষ্ঠ সেই ধর্মের অনুসারীরা সেই দেশের নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে তাদের দেশের নাস্তিকরা শুধু তাদের ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা এবং সমালোচনা করে। ভারতের হিন্দুরাও সেই দেশের নাস্তিক, বামপন্থী এবং স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে, তারা শুধু হিন্দু নিয়েই ব্যাঙ্গ করে। কিন্তু ইসলাম ধর্ম নিয়ে ব্যাঙ্গ করে না। আবার অমেরিকার খ্রিস্টানরাও সেই দেশের নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে নাস্তিকরা শুধু খ্রিস্ট ধর্ম নিয়েই ব্যাঙ্গ করে। আর কোন ধর্ম তারা খুঁজে পায় না।

আপনি কিছু ভারতীয় নাস্তিক অথবা আমেরিকার নাস্তিকদের ফেসবুক পেজ অথবা গ্রুপে গিয়ে check করুন। দেখবেন ভারতের নাস্তিকরা হিন্দু ধর্ম এবং আমেরিকার নাস্তিকরা খ্রিষ্ট ধর্মের সমালোচনা বেশি করছে।


এবার চলেন জানা যাক কোন স্বার্থে এরা ধর্মের বিরোধিতা করে?


তাহলে সেটা আবার কেমন স্বার্থ, যার কারনে ধর্মের বিরুধীতা করতে হয়?

★ধরুন, ইসলাম বলে সুদমুক্তির কথা। মানে ইসলামে সুদ হারাম। এখন ঐ নাস্তিক শ্রেণিটার ইসলাম ভালো লাগেনা বা সেই সকল লোক ইসলামের বিরুদ্ধে বলবে যাদের হাতে পুঞ্জিভূত পৃথিবীর ৫০% সম্পদ, যা আরো বাড়ছে সুদের দ্বারা। ফ

★ধরুন, ইসলাম বলে জবাবদিহি রাষ্ট্র পরিচালনার কথা। এখন দুর্নীতিবাজ শাসকরা জবাবদিহিতার ভয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে আঙুল তুলবে এটাই স্বাভাবিক। 

★ইসলাম বলে প্রকৃত ন্যায় কিংবা স্বচ্ছ বিচার বিভাগের কথা, যেখানে কারো সাধ্য নেই ন্যায়কে পাশ কাটানোর। যেখানে বিচারক স্বাধীনভাবে রায় দিতে পারবে। সেটা রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে গেলেও। এইজন্যেই অপরাধপ্রবণ প্রশাসক কিংবা নীতিনির্ধারকদের ইসলাম ভাল্লাগবেনা, যারা অপরাধ করে পার পেতে চায় কিংবা পার পাইয়ে দিতে চায়। 

★ইসলাম যখন সংস্কৃতির নামে বেহায়াপনা নিষেধ করে তখন ঐ সকল বিকৃতমনাদের টনক নড়ে যারা আর্ট-মিডিয়া-সিনেমা কিংবা বিভিন্ন উৎসবের নামে শ্রেফ নারীকে ভোগ্যপন্য বানিয়ে ভোগ করে। 

★যখন নারীপুরুষ আলাদা আলাদা শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র আর পর্দার কথা বলে, তখন সেই সকল লোকদের ইসলাম ভাল্লাগবেনা যারা মেয়ে দেখলেই "মাল" বলে সম্বোধন করে। যারা শেয়ালরূপী জানোয়ারের মত বসে থাকে মুরগী ভোগ করার জন্য।(এই ভাষা গুলোর জন্য পাঠক গনের নিকট বিশপষ করে মায়ের জাতির নিকট মার্জনা কামনা করছি)

★ইসলাম চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ঘুষ-হারাম করেছে বলেই, সেই সকল রাজনীতিবীদ কিবা অফিসারদের ইসলাম ভাল্লাগবেনা(!) যারা কিনা এইসব তাদের অধিকার মনে করে। 

★ ইসলাম কথা বলে আলাদা এক সমাজ ব্যবস্থার জন্য।

যেখানে সম্রাটের নিযুক্ত বিচারক রায় দেবে সম্রাটের বিরুদ্ধেই।

যেখানে একটা নারী শালীনতা বজায় রেখে সব করতে পারবে, কোনো পুরুষের সাহস হবেনা, চোখ তুলে তাকাবার।

যেখানে দারিদ্রসীমার অবস্থা এমন হবে যে, যাকাত নেওয়ার জন্য খুঁজে খুঁজে লোক পাওয়া যাবেনা। 

এইজন্যেই যারা সমাজে ন্যায়বিচার চায় না, চায় অপরাধ করে পার পেতে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে দরিদ্র রেখে অল্পতে শ্রম কিনে টাকার পাহাড় গড়তে, নেশা করতে, ব্যাবিচার করে, দুর্নীতি করতে, চায় নারীকে অবাদে ভোগ করতে- তারাই ইসলামের বিরুদ্ধে লাগে(!) কথা বলে, আঙ্গুল তোলে। 


বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় ৬৫০ কোটি মানুষ বসবাস করছে(কমবেশি হতে পারে)। বেশিরভাগ মানুষেরই কোন না কোন ধর্ম বিশ্বাস রয়েছে। পৃথিবীতে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছে ইসলাম ধর্মের অবস্থান। এরপর অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের অবস্থান। ধর্মীয় অনুসারির সংখ্যার দিক থেকে খ্রিস্টান ধর্ম এক নাম্বারে হলেও ধর্ম মানা ও ধর্ম চর্চার দিক থেকে ইসলাম এক নম্বরে অবস্থান করছে।

রেনেসাঁর যুগে রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে খ্রিষ্টান ধর্ম ও পাদ্রীদের অবস্থান খর্ব হওয়ার পর খ্রিস্টান ধর্মের প্রভাব মানব জীবনের উপর অনেকটাই কমে গিয়েছে। পরবর্তীতে জনগণের নিকট খ্রিস্টান ধর্ম পালন করাটা একটি ঐচ্ছিক বিষয় পরিণত হয়েছে। সাধারণ তারা তাদের ধর্ম নিয়ে মাতামাতি কিংবা গভীরভাবে চর্চা করে না তাই এটা নিয়ে তাদের সাথে নাস্তিকদের তেমন কোন বাঁধাবাঁধিও নেই। এবার হিন্দু ধর্মের কথা যদি বলি, হিন্দুদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ আর পবিত্র গ্রন্থ হল বেদ। নিম্নশ্রেণির হিন্দুদের বেদ স্পর্শ করতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুধুমাত্র পুরোহিতরাই স্পর্শ করতে পারে ও এটা পড়ার অনুমতি রয়েছে। নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুরা যেহেতু এটা পড়তে পারে না তাই এর জ্ঞান সম্পর্কে অধিকাংশই জানে না। তাই অধিকাংশ সময় হিন্দুরা বিতর্ক এড়িয়ে চলে।

এবার আসি আসল কথায়, নাস্তিকরা কেন মুসলমানদের প্রতি এত বেশি বিদ্বেষী? আগেই বলেছি ধর্মচর্চার দিক থেকে এক নম্বরে রয়েছে ইসলাম। বিশ্বে প্রায় প্রতিটি মুসলিম কমবেশি কুরআন ও হাদীস চর্চা করেন। আর এসব নিয়ে ভাবনা চিন্তা করেন। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু বলেছেন যে তোমরা যদি একটি আয়াতও জানো তাহলে সেটা অপরের কাছে পৌঁছে দাও। তাই সুযোগ পেলেই মুসলমানরা সেই কাজটাই করে। নাস্তিকরা যেহেতু আমাদের আশেপাশে থাকেন তাই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুসলমানদের সাথে নাস্তিকদের তর্ক-বিতর্ক ভাব বিনিময় একটি নিত্যনৈমিত্তিক সাধারন বিষয়। অন্য ধর্মের অনুসারীরা বিতর্ক এড়িয়ে নাস্তিকদেরকে ছাড় দিয়ে চলার নীতি গ্রহণ করলেও মুসলমানরা সেটা করে না। এসব কারণেই হয়তো নাস্তিকরা মুসলিম আর ইসলামের প্রতি এত বিদ্বেষী হয়ে থাকেন।

ইসলামই হচ্ছে আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম। আর শয়তান আল্লাহর কাছে ওয়াদা করেছে সে মানুষকে তার থেকে দূরে রাখবে। এবার ইসলাম যদি আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম হয় তাহলে ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকের উপর কে ভর করে সেটা তো বোঝাই যায়!



কেউ কেউ বলে মানুষ বিজ্ঞান পড়ে মানুষ নাস্তিক হয়,

লোকমুখে শুনে, আন্দাজে কোন ধারনা করবেন না। বিশ্বের ইতিহাসে কেউ কোনদিন বিজ্ঞান পড়ে নাস্তিক হয়নি। যে নাস্তিক হয়, সে এমনিতেই নাস্তিক। বিজ্ঞান পড়ুক বা না পড়ুক ; সে এমনিতেই নাস্তিক। কারো নাস্তিক হবার সাথে বিজ্ঞান পড়ার কোন সম্পর্ক নেই। অনেকের ধারনা, নাস্তিকতা এক ধরনের অনুধাবন। বিজ্ঞান পড়তে পড়তে একসময় কারো মনে হয় - আল্লাহ বলে কিছু নেই। এমন অনুধাবনের পরে একজন নাস্তিক হয়।আদতে এই লিখা যে আমি লিখছি আমিও একজন বিজ্ঞানের ছাত্র, চিকিৎসা আমার পেশা। তাইলে তো সবার আগে আমি নাস্তিক হওয়ার কথা, কিন্তু আমি যতই বিজ্ঞান পড়ছি ততই সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্ব খোঁজে পাচ্ছি। বরং যত নাস্তিক তৈরী হয় মানবিক ও কলা বিভাগে পড়েই হয়। নাস্তিকদের ৯৮% বিজ্ঞানে ছাত্র নয়। আপনি সারা দুনিয়ায় মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গুলোতে নাস্তিক খোঁজে রের করতে আপনার মাইক্রোস্কোপ লাগবে।

নাস্তিকতার ব্যাপারে মানুষের এই ধারনাটা সম্পুর্ন ভুল। নাস্তিকতা কোন অনুধাবন নয়। নাস্তিকতা হলো ইচ্ছা করে সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করা। নাস্তিকতা হলো একটা গভীর বিশ্বাস। মনে রাখবেন - নাস্তিকরা ইচ্ছা করেই স্রষ্টাকে অস্বীকার করে। ইচ্ছা করে সৃষ্টিকর্তা অস্বীকার করলেও, নাস্তিকরা বিজ্ঞানের অজুহাত দেয়।

নাস্তিকরা যে বিজ্ঞানের অজুহাত দেয়, সেটা বুঝতে বিজ্ঞান-মনস্ক লোকজন দেখুন। দেশের যত বিজ্ঞান-মনস্ক নাস্তিক আছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন - কোন বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন? উত্তরে জানবেন, তারা সাহিত্য, শিল্পকলা, চারুকলা, ইতিহাস, সমাজ-কল্যান, ইত্যাদি লেখাপড়া করেছে। যারা নিজেকে বিজ্ঞানমনস্ক দাবী করে, তাদের মধ্যে একজনও বিজ্ঞানে লেখাপড়া করেনি। বিজ্ঞান পড়ে বিজ্ঞান-মনস্ক হওয়া যায় না।

বিজ্ঞান পড়ে বিজ্ঞান মনস্ক হয় না। বিজ্ঞান পড়ে কেউ নাস্তিক হয় না। যেসব বিজ্ঞান জানা মানুষ নাস্তিক হয়েছে, তারা ইচ্ছা করেই সৃষ্টি কর্তাকে অস্বীকার করে। ওই অস্বীকার করার পেছনে বিজ্ঞানের কোন ভুমিকা নেই।

নাস্তিকদের ব্যাপারে ইসলামে কি বলা আছেঃ

কোরআনের ভুমিকা হলো সুরা ফাতিহা। ফাতিহা কথাটির অর্থ প্রারম্ভিকা (শুরু)। পরবর্তি সুরা বাকারা থেকেই কোরআনের মুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সুরা বাকারার ৬-৭ নম্বর লাইনঃ

  • নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে, তুমি তাদেরকে সতর্ক কর কিংবা না কর, উভয়ই তাদের জন্য বরাবর, তারা ঈমান আনবে না (সুরা বাকারা -৬)। আল্লাহ তাদের অন্তর ও কানের উপর মোহর করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখে আছে আবরণ আর তাদের জন্য আছে মহা শাস্তি (সুরা বাকারা - ৭)।

যারা সতর্কতার পরেও অস্বীকার করবে। যাদের চোখ, কান, অন্তর সবই বন্ধ হয়ে আছে। হ্যাঁ, ওরা হলো সেই নাস্তিক যারা ইচ্ছা করে অস্বীকার করে, বিজ্ঞানের অজুহাত দেয়। 



রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪

আলেমদের জন্য বিজ্ঞান শিক্ষা কেন জরুরী?



ভাগ্যিস বিজ্ঞান এসব আবিষ্কার করেছিল; নইলে জানাই যেত না যে কোরানে কত বড় বিজ্ঞানময় এবং বোধগম্যও হতো না এই কোরআন যে কত বড় সত্য ঐশী বানী

১ – বিজ্ঞান কিছুদিন আগে জেনেছে চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই। সূরা ফুরক্বানের ৬১ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।

  আল-ফুরকান, আয়াত: ৬১

تَبٰرَكَ الَّذِیْ جَعَلَ فِی السَّمَآءِ بُرُوْجًا وَّ جَعَلَ فِیْهَا سِرٰجًا وَّ قَمَرًا مُّنِیْرًا


কতাে মহান সেই সত্তা, যিনি আসমানে অসংখ্য গম্বুজ বানিয়েছেন, এরই মাঝে তিনি (আবার) পয়দা করেছেন প্রদীপ (-সম একটি সুর্য) এবং একটি জ্যোতির্ময় চাঁদ।



২ – বিজ্ঞান মাত্র দুশো বছর আগে জেনেছে
চন্দ্র এবং সূর্য কক্ষ পথে ভেসে চলে... সূরা
আম্বিয়া ৩৩ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।

 আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৩৩

وَ هُوَ الَّذِیْ خَلَقَ الَّیْلَ وَ النَّهَارَ وَ الشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ١ؕ كُلٌّ فِیْ فَلَكٍ یَّسْبَحُوْنَ


আল্লাহ তায়ালাই রাত, দিন, সুরুজ ও চাঁদকে পয়দা করেছেন (এদের) প্রত্যেকেই (মহাকাশের) কক্ষপথে সাঁতার কেটে যাচ্ছে।


৩ – সূরা কিয়ামাহ’র ৩ ও ৪ নং আয়াতে ১৪০০ বছর আগেই জানানো হয়েছে; মানুষের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে মানুষকে আলাদা ভাবে সনাক্ত করা সম্ভব। যা আজ প্রমাণিত।

আল-কিয়ামাহ, আয়াত: ৩

اَیَحْسَبُ الْاِنْسَانُ اَلَّنْ نَّجْمَعَ عِظَامَهٗؕ

মানুষ কি ধরে নিয়েছে, (সে মরে গেলে) আমি তার অস্থিমজ্জাগুলাে আর কখনাে একত্রিত করতে পারবে না;

আল-কিয়ামাহ, আয়াত: ৪

بَلٰى قٰدِرِیْنَ عَلٰۤى اَنْ نُّسَوِّیَ بَنَانَهٗ



অবশ্যই (আমি তা পারবাে), আমি তাে বরং তার আংগুলের গিরাগুলােকেও পুনর্বিন্যস্ত করে দিতে পারবো।


৪ - ‘ বিগ ব্যাং’ থিওরি আবিষ্কার হয় মাত্র
চল্লিশ বছর আগে। সূরা আম্বিয়া ৩০ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।

২১  আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৩০

اَوَ لَمْ یَرَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنٰهُمَا١ؕ وَ جَعَلْنَا مِنَ الْمَآءِ كُلَّ شَیْءٍ حَیٍّ١ؕ اَفَلَا یُؤْمِنُوْنَ


এরা কি দেখে না, আসমানসমুহ ও পৃথিবী (এক সময়) ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিলাে, অতপর আমিই এদের উভয়কে আলাদা করে দিয়েছি এবং আমি প্রাণবান সব কিছুকেই পানি থেকে সৃষ্টি করেছি, (এসব জানার পরও) কি তারা ঈমান আনবে না?



৫ – পানি চক্রের কথা বিজ্ঞান জেনেছে বেশি দিন হয় নি... সূরা যুমার ২১ নং আয়াতে কুরআন এই কথা বলেছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।

৩৯  আয-যুমার, আয়াত: ২১

اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَلَكَهٗ یَنَابِیْعَ فِی الْاَرْضِ ثُمَّ یُخْرِجُ بِهٖ زَرْعًا مُّخْتَلِفًا اَلْوَانُهٗ ثُمَّ یَهِیْجُ فَتَرٰىهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ یَجْعَلُهٗ حُطَامًا١ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَذِكْرٰى لِاُولِی الْاَلْبَابِ۠


(হে মানুষ,) তুমি কি কখনাে এটা পর্যবেক্ষণ করােনি যে, আল্লাহ তায়ালা আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তিনিই তা যমীনের প্রস্রবণ গুলোতে প্রবেশ করান, পরে তিনিই (আবার) তা দিয়ে (যমীন থেকে) রং বেরংয়ের ফসল বের করে আনেন, (কিছুদিন) পরে তা (আবার) শুকিয়েও যায়, ফলে তােমরা তাকে পীতবর্ণের (ফসল হিসেবে) দেখতে পাও, অতঃপর তিনিই তাকে আবার খড় কুটায় পরিণত করেন; অবশ্যই এতে (এ নিয়মের মধ্যে) জ্ঞানবানদের জন্যে (বড়াে রকমের) উপদেশ রয়েছে।


৬ – বিজ্ঞান এই সেদিন জেনেছে লবণাক্ত পানি ও মিষ্ঠি পানি একসাথে মিশ্রিত হয় না। সূরা ফুরকানের ২৫ নং আয়াতে কুরআন এই কথা বলেছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।

৭ – ইসলাম আমাদেরকে ডান দিকে ফিরে ঘুমাতে উৎসাহিত করেছে; বিজ্ঞান এখন বলছে ডান দিকে ফিরে ঘুমালে হার্ট সব থেকে ভাল থাকে।

৮ – বিজ্ঞান এখন আমাদের জানাচ্ছে পিপীলিকা মৃত দেহ কবর দেয়, এদের বাজার পদ্ধতি আছে। কুরআনের সূরা নামল এর ১৭ ও ১৮ নং আয়াতে এই বিষয়ে ধারণা দেয়।

৯ – ইসলাম মদ পানকে হারাম করেছে , চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে মদ পান লিভারের জন্য ক্ষতিকর।

১০ – ইসলাম শুকরের মাংসকে হারাম করেছে। বিজ্ঞান আজ বলছে শুকরের মাংস লিভার, হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

১১- রক্ত পরিসঞ্চালন এবং দুগ্ধ উৎপাদন এর ব্যাপারে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান জেনেছে মাত্র কয়েক বছর আগে। সূরা মুমিনূনের ২১ নং আয়াতে কুরআন এই বিষয়ে বর্ণনা করে গেছে।

১২ - মানুষের জন্ম তত্ব ভ্রুন তত্ব সম্পর্কে
বিজ্ঞান জেনেছে এই কদিন আগে। সূরা আলাকে কুরআন এই বিষয়ে জানিয়ে গেছে ১৪০০ বছর আগে।

১৩ - ভ্রন তত্ব নিয়ে বিজ্ঞান আজ জেনেছে
পুরুষই ( শিশু ছেলে হবে কিনা মেয়ে হবে) তা নির্ধারণ করে। ভাবা জায়... কুরআন এই কথা জানিয়েছে ১৪০০ বছর আগে।
( সূরা নজমের ৪৫, ৪৬ নং আয়াত, সূরা কিয়ামাহ’র ৩৭- ৩৯ নং আয়াত)

১৪ - একটি শিশু যখন গর্ভে থাকে তখন সে আগে কানে শোনার যোগ্যতা পায় তারপর পায় চোখে দেখার। ভাবা যায়?
১৪০০ বছর আগের এক পৃথিবীতে ভ্রুনের বেড়ে ওঠার স্তর গুলো নিয়ে কুরআন বিস্তর আলোচনা করে। যা আজ প্রমাণিত !
( সূরা সাজদাহ আয়াত নং ৯ , ৭৬ এবং সূরা ইনসান আয়াত নং ২ )

১৫ – পৃথিবী দেখতে কেমন? এক সময় মানুষ মনে করত পৃথিবী লম্বাটে, কেউ ভাবত পৃথিবী চ্যাপ্টা, সমান্তরাল... কোরআন ১৪০০ বছর আগে জানিয়ে গেছে পৃথিবী দেখতে অনেকটা উট পাখির ডিমের মত গোলাকার।

১৬ – পৃথিবীতে রাত এবং দিন বাড়া এবং কমার রহস্য মানুষ জেনেছে দুশ বছর আগে। সূরা লুকমানের ২৯ নং আয়াতে কুরআন এই কথা জানিয়ে গেছে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে !!

আমাদের সমস্যা হল আমরা সব কিছুই জানি... যারা নাস্তিক তারাও জানে... পার্থক্য টা হল ' বোধ'। যেমন ধরুন একজন নেশাখোর জানে যে নেশা করলেই তার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে, যে ছেলে বাবা কে খুন
করেছে সে জানে যে এই মানুষটি তাকে জন্ম
দিয়েছে... সব জেনে শুনেই আমরা সব থেকে খারাপ কাজ গুলো করি... ব্যাপারটা অজ্ঞানতার না ব্যাপারটা ' বোধ' এর।

 আপনার এই বোধটা থাকতে হবে
--- সবার কাছে অনুরোধ শেয়ার করতে ভুলবেন না প্লিজ,কারন এটা আপনার পবিত্র দ্বায়িত্ব। আল্লাহ্ বলেন.. ঐ ব্যাক্তির কথার চেয়ে কার কথা উওম যে নিজে সৎকর্ম করে এবং অন্যকে সৎকর্মের জন্য আহবান করে।____ সূরা হা-মিম সিজদাহ্--(৩৩)......। নবী সা.বলেন. আমার পরে সবচেয়ে বড় দানশীল ব্যাক্তি তিনি,যে কোন বিষয়ে জানলো এবং অন্যকে তা জানালো.....( বায়হাকী)।

পরাজিত ফ্যাসিবাদ,ইসকন ও মোদীর যৌথ ষড়যন্ত্র

পরাজিত ফ্যাসিবাদ,ইসকন ও মোদীর যৌথ ষড়যন্ত্র 


ভারতীয় গোলাম, পলাতক দস্যুরানী শেখ হাসিনর বাংলাদেশের জনগনের প্রতি চিরকালই অনাস্থা ছিলে। জুলাই আগষ্টে গনহত্যার পরও তার কৃতকর্মের অনুশেচনা কিংবা সংশোধনের চেষ্টা না করে বাংলাূপশের বিরোদ্ধে দেশীয় এজেট নিষিদ্ধ ঘেষিত জঙ্গী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ইসকন এর সমন্বয়ে বাংলাদেশ বিরোধী অনেক ধ্বংসাত্মক কাজ করে  তার কিছু প্রমান নীচে দেওয়া হলো।


১।জয়পুরহাটে আওয়ামী লীগের মানুষের দ্বারা হিন্দুদের উপর আক্রমণ করে সাধারণ মুসলিম জনতার উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা  
(https://www.facebook.com/share/v/LVaDAJrQTrY8XPW6/)

২।পারিববারিক মন্দিরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে অস্থিতিশীলতার চেষ্টার অভিযান স্থানিয়দের 
(https://www.facebook.com/share/v/9dF2ZiCwHvyTPaZU/)

৩।(https://www.ajkerpatrika.com/350278/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%98%E0%A7%81-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%9F%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AC-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8?fbclid=IwY2xjawEl0JdleHRuA2FlbQIxMQABHc0MtSnVZlejPC_Vl7B3T_DCi_qh_3cKkKSj-ElPk6K053k3hTpvIdUpjg_aem_pYuHP48z2JwcfAGPzu8QcA)

৪।শাহবাগে আন্দোলন করছেন একদল সনাতন ধর্মাবলম্বী। তারা অভিযোগ তুলছেন তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার। কিন্তু কোথায় এ ঘটনা ঘটেছে জানেন না তারা।

(https://www.facebook.com/share/v/7ai8ZeGJ7WBK5iT4/)

৫।রাজনৈতিক কারনে আওয়ামী লীগের কর্মী ও অত্র এলাকার মেম্বার বিপ্লবের বাড়িতে হামলা। সংখ্যালঘু বলে চালানোর চেষ্টা। 

(https://youtu.be/ILdUP79Tn-U?si=ina0ZKOyp2Z1fxVv)

৬।(https://www.facebook.com/share/p/e3ZFogGHL4jT8swV/)


৭।(https://youtu.be/AE0n60LVdwc?si=paW_XC8AT8SPwyCL)

৮।(https://www.facebook.com/share/qPVsqivE2jCw4T8f/)

৯।(https://www.facebook.com/share/p/5ThGyfzZkVTgBWyN/)

১০।(https://www.facebook.com/share/v/JS8J3SYKhS8jNQsr/)

১১। (https://www.facebook.com/share/p/664yxygwvZf2cne1/)

১২।(https://www.facebook.com/share/v/mdG2ZRMN4h2avWwW/)

১৩।(https://www.facebook.com/share/p/FVCv4Xw7xMK66sLS/)

১৪।(https://www.youtube.com/watch?v=0nPUL9ZMeG8)

১৫।(https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/06cdfb276b5b)

১৬।(https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/06cdfb276b5b)

১৭। (https://youtu.be/wYVjQvjNJy4?si=7ZuGExlJdMxWseAu)

১৮। (https://www.facebook.com/share/v/h8aRoDjLHe3vTDov/)

১৯। (https://www.facebook.com/share/p/aEPU8cvncocENjZw/)

২০।(https://www.facebook.com/share/PJFQ9JzfEkeaFm2y/)

২১।শেখ হাসিনার নারকীয় হত্যাযজ্ঞ
 (https://www.facebook.com/share/v/DWd7mzAzwd3cUazA/?mibextid=xfxF2i)

২২। (https://www.facebook.com/share/p/UM5pQ7e6ZJD3df1H/)

২৩। (https://www.facebook.com/share/p/MvtmSTVzeVvZCNEi/)

২৪। (https://x.com/dhruvrahtee/status/1822076696062791775?t=-8_aGH8rccdJ1f-k-gzGrw&s=19)

২৫। (https://www.facebook.com/share/v/dKVvzLCvgENK2BeF/)

২৬। (https://www.facebook.com/share/p/f18HyecEEKVdxy6z/)

২৭। (https://www.facebook.com/share/v/arogJqq7Lrtvvfyq/)

২৮। (https://www.facebook.com/share/p/QgmtxKmW6pzyDfJu/)

২৯। বরিশালে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা: ঘটনার পেছনে পূর্ব শত্রুতা, জমি বিরোধ, আওয়ামী দলীয় রাজনীতি 
(https://www.facebook.com/share/p/Fuye1fPbXV2WY57j/)

৩০। আওয়ামী লীগের নির্দেশে ফুরশাইল গ্রামের পোদ্দার বাড়ি মন্দিরে বোমা বিস্ফোরণ.. 
(https://www.facebook.com/share/p/WVREhLfKfWe7kJy3/)


এমতাবস্থায় বাংলাদেশের সকল ধর্মের, সকল বর্নের মানুষের ঐক্যবদ্ধ ভাবে মোকাবেলা কারা ছাড়া দেশের স্বার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব না।


বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...