4547715 ডা.বশির আহাম্মদ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

চোখের এলার্জি(Allergic conjunctivitis)

চোখের এলার্জি বা এলার্জিক কনজাংক্টিভাইটিস(Allergic conjunctivitis)





 আজকের বিষয় চোখের অ্যালার্জিক সমস্যা বা অ্যালার্জিক কানজাংকটিভাইটিস।

অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস সম্পর্কে বলার আগে কনজাংটিভাইটিস সম্পর্কে পাঠকদের একটু ধারনা দিলে বিষয়টি আরো সহজে বোধগম্য হবে বলে আমি আশা করি।

চোখের কনজাংটিভাতে কোন প্রকার প্রদাহ বা Infalamation হলেই তাকে কনজাংটিভাইটিস বলে।

আর কনজাংটিভা হল চোখের পাতার আইলেশের গোড়া থেকে চোখের পাতার ভেতরের পৃষ্ট হয়ে অক্ষি গোলকের কর্নিয়ার মার্জিন পর্যন্ত যে পাতলা ও মসৃন আবরন থাকে তাকেই কনজাংটিভা বলে।

চোখের অ্যালার্জি সমস্যা  ও প্রতিকারঃ
আপনার চোখ দিয়ে যখন দেখবেন প্রায়ই পানি পড়ে,চোখ লাল হয়ে চুলকায় অথবা জ্বালা – পোড়া করে, তখন বুঝবেন আপনার চোখে অ্যালার্জিক সমস্যা থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনাকে খুবই সতর্ক থাকতে হবে চোখের অ্যালার্জি সমস্যা নিয়ে। বলা হয়ে থাকে চোখ হচ্ছে মনের জানালা।অন্যান্য অ্যালার্জির মত চোখের অ্যালার্জিতে মানুষ তখনই আক্রান্ত হয় যখন তার শরীরের ইমিউন সিস্টেমে বা রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থাপনায় কোন  ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

অ্যালার্লাজিক কনজাংক্টটিভাইটিস কিঃ
অ্যালার্জি জনিত কারণে চোখের কনজাংটিভায় যে চুলকানি রোগ হয় তাকে অ্যালার্জিক কনজাংক্টিভাইটিস বলে। 

আর যে সব দ্রব্য অ্যালার্জি রোগ সৃষ্টি করে তাকে বলা হয় অ্যালার্জেন্স।

চোখের জন্য অ্যার্জেন্স কিকি:
 আমাদের ঘরে বাইরে চারপাশে প্রচুর অদৃশ্য পদার্থ আছে, এসব ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অ্যালার্জেন্স থেকেই চোখের অ্যালার্জি হতে পারে।
যেমন ধুলোবালি,কসমেটিকস,বসন্ত বা শরৎকালে ফুলের পরাগ রেনু,চিংড়িমাছ,ইলিশ মাছ,বেগুন,গরুর মাংশ,পুঁইশাকের মত পিচ্ছিল সব্জি,বিভিন্ন খাবারের মধ্যে থাকা রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি।
 শুষ্ক মৌসুমে শুধু চোখের না বরং অন্যান্য অ্যালার্জিও বেশি হয়ে থাকে। তবে এটা জেনে রাখা ভালো যে সব অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী পদার্থেই সবার চোখে অ্যালার্জি হয় না। যাদের শরীরে অ্যালার্জি বেশি হয়, তাদের চোখের অ্যালার্জিও বেশি হয়।


 হাঁপানি রোগী, শিশু এবং যারা বাইরে ধূলোবালির সংস্পর্শে বেশি থাকে, তাদের মধ্যে চোখের অ্যালার্জি বেশি দেখা যায়। শুনে হয়ত অবাক হবেন যে মাথায় খুশকি থাকলেও চোখের অ্যালার্জিতে আপনি আক্রান্ত হতে পারেন।

এপিডেমোলজি বা পরিসংখ্যান:
শরীরে অ্যালার্জি থাকা প্রায় ৭০% পর্যন্ত লোক এলার্জি আক্রান্ত হতে পারে।
এ রোগ দুধের শিশু থেকে শুরু করে যকোন বয়সের লোকেরই এই সমস্যা হতে  পারে।

চোখের অ্যালার্জি সমস্যা কয়েক ধরনের অ্যালার্জি দেখা যায়ঃ

১) সিজনাল বা মৌসুমি:
সিজনাল অ্যালার্জি বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে হয়ে থাকে বিশেষ করে শরৎ কালে আর বসন্তকালে। এসব সময়ে এলারজেন যেমন ঘাস, গাছ থেকে পরাগ রেণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ছত্রাক থেকে স্পোরও বাতাসে ছড়িয়ে আমাদের চোখের অ্যালার্জির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

২) বারোমেসে:
বর্ষজীবী অ্যালার্জি সারা বছরই হয়ে থাকে। সাধারণত ধূলোবালি, পাখির পালক, পশুর গায়ের লোম, ধোঁয়া, ক্লোরিন, কসমেটিকস, পারফিউম ইত্যাদিও চক্ষু অ্যালার্জির জন্য দায়ী।

৩। ভার্নাল অ্যালার্জিক কনজাংক্টিভাইটিস: জেনেটিক বা পারিবারি ভাবে হয়।

৪। এটপিক: টাইপ ওয়ান হাইপার সেন্সেটিভওটির (Type-I hypersensitivity)জন্য হয়।

৫।জায়ান্ট প্যাপিলারি(Giant papillary): এখানে চোখের উপরের অংশে প্যাপিলার মত দেখা যায়।
এটা টাইপ ওয়ান ও টাইপ ফোর হাইপার সেন্সেটিভিটির (Type-lV) জন্য হয়।



চোখের অ্যালার্জি সমস্যা হলে লক্ষণসমূহঃ
০১. চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
০২. চোখে চুলকানি হওয়া আর অনবরত পানি পড়া।
০৩. চোখ খচখচ করা মানে চোখের ভেতর কিছু ময়লা পড়েছে এমন বোধ হওয়া।
০৪. চোখ ফুলে যাওয়া


চোখের অ্যালার্জি সমস্যা প্রতিরোধের উপায়ঃ
০১. অ্যার্জেন্স থেকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলবেন।
২. যে সকল খাবার খেলে অ্যার্জি হয় সে সকল খাবার খাবেন না।
৩. শরীরে অ্যালার্জিক সমস্যা থাকলে তা চিকিৎসা করে নিবেন।
৪. দুধের শিশুর ক্ষেত্রে প্রসূতি  মা অ্যালার্জিক খাবার এড়িয়ে চলবেন।

চোখের অ্যালার্জি সমস্যা এড়িয়ে চলার কয়েকটি টিপস:

০১. শুষ্ক মৌসুমে যখনই বাইরে বের হবেন ধূলোবালি থেকে রক্ষা পেতে নাকে-মুখে মাস্ক এবং চোখে সানগ্লাস ব্যবহার করবেন।
০২. চোখ চুলকালে আঙ্গুল দিয়ে চোখ রগড়াবেন না। সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলবেন।
০৩. টিভি বা কম্পিউটারের সামনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করবেন না।
০৪. সাবধানে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করবেন।
০৫. খেয়াল রাখবেন গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ, ডিম জাতীয় কোন খাবারের কারণে আপনার অ্যালার্জি হচ্ছে কিনা।
০৬. ঘরের কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
০৭. ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আই ড্রপ ব্যবহার করবেন।
০৮. আপনার যদি বাড়ীতে লোমশ পোষা কোন প্রাণী থাকে তাহলে তার থেকে সতর্ক থাকবেন।

মোট কথা সব সময় পরিষ্কার পরিছন্নতার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। অনেক সময় হয়ত বুঝতে পারেন না আপনার চোখের অ্যালার্জি কেন হচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু সময় যেমন বাইরে বেশি বাতাস হলে আপনি যদি বের হন বা ধোঁয়া যুক্ত জায়গায় গেলে যদি আপনার চোখে জ্বালা-পোড়া করে বা চুলকায় বা পানি পড়ে তাহলে বুঝবেন এগুলোই আপনার জন্য ক্ষতিকারক। তারপরও যদি বুঝতে না পারেন আপনি কিসের প্রতি সংবেদনশীল তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

 চিকিৎসা:
চোখের অ্যালার্জি চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা তিন ধরনের ঔষধ বেশি ব্যবহার করেন-
→ট্রপিক্যাল স্টেরয়েড,
→ট্রপিক্যাল এন্টিহিসটামিন,
→ আর্টিফিসিয়াল টিয়ার।
→ ওরাল এন্টিহিস্টামিন ইত্যাদি



চোখে ঝাপসা দৃষ্টি ও অন্ধত্বের কারন


চোখের ঝাপসা দৃষ্টি ও অন্ধত্বের কারন




অনেক সময় মানুষের কাছের বা দূরের জিনিস গুলো ঝাপসা মনে হয়। এ ঝাপসা দেখার অনেক কারণ থাকে। এই দৃষ্টিজনিত  সমস্যা আজকাল প্রচলিত এবং প্রতিদিনের জীবনের নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু লোক এমনও আছে যারা রাস্তার চিহ্ন বা টেলিভিশন সাবটাইটেলগুলির মতো দূরের বস্তুগুলি দেখার সময় অস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি অনুভব করে। অন্যদিকে অনেক লোকেরা এর বিপরীতটি খুঁজে পায় - তারা নিকটবর্তী বিষয়গুলি পড়তে সমস্যা হয়। অস্পষ্ট দৃষ্টি অনেক সময় কেবল একটি চোখকে প্রভাবিত করতে পারে, আবার কখনও কখনও উভয়ই এবং এটি অস্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদীও হতে পারে। যে কোনও ধরণের অস্বাভাবিক ঝাপসা হওয়া অন্যান্য রোগ বা অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে, তাই কেবলমাত্র সেক্ষেত্রে চিকিত্সক বা চক্ষু বিশেষজ্ঞের দ্বারা চেক করা সর্বদা শ্রেয়।

অস্পষ্ট দৃষ্টি কারণ:
Causes of acute vision loss.

Ophthalmological cause.

১. ব্যাথাযুক্ত/প্রদাহময়।
-Acute angle closure glucoma.
-Trauma(অক্ষিগোলক রাপচার, কর্নিয়ার আঘাত, Hypema)
-ইনফেক্টিভ কেরাটাইটি
যেমন, ব্যাক্টেরিয়া,HSV, VZV.
-অপটিক নিউরাইটিস,
-ইউভাইটিস।

২.প্রদাহহীনঃ
-ভিট্রিয়াস হেমোরেজ
- জয়ান্ট cell arteritis
-রেটিনাল ডিটাচমেন্ট।
-সেন্টাল বা পেরিফেরাল রেটিনাল আর্টারি(ধমনী)oclusion.
- ইসকেমিক অপটিক নিউরাইটিস(nuritis)
-কেন্দ্রীয় বা পার্শ্বীয় রেটিনাল Vain(ধমনী) অক্লুশন।

৩। স্নায়ুগত/Neurological.
-Cerebrovascular accident বা TIA
-মাইগ্রেইন।
-Cortical blinness -CVA. Postorior cerebral artery aneurism. Postorior reversible encephalopathy (PRES)
-Pepilo oedema, eg: Pseudo tumor cerebre, Intra cranial mass, সেরেব্রাল ইডিমা।

৪।টক্সিক/মেটাবলিক
-মিথানল পয়জনিং।
-হাইপার গ্লাইসেমিয়।

৫।মানসিক:
-কনভার্শন ডিসঅর্ডার।
-মেলিংগারিং।
-Factitious disorder.

Risk factors/ বিপদজ্জনক প্রভাবক:
-উচ্চ রক্তচাপ।
-হাইপার লিপিডেমিয়া।
-Hypercouagable states.
-Cardiac arryrhmia.
-Migrain ব্যাথা।
-ক্যারোটিড স্বল্পতা(Carotid insufficiency)
-Glucoma.

Examination:
*Visual acuity test.
*Peripheral visual foeld test by confrontation.
*Central vosual field assement  Amsler grid.
*Direct & consensual pupillary light reflex test.

*অকুলার মটিলিটি টেস্ট।
*কালার ভওশন টেস্ট।
*স্লিট ল্যাম্প পরীক্ষা।
*অপথ্যালমোস্কোেপি পরীক্ষা।
*Anterior chamber examination for cell & flare.

*Catarect পরীক্ষা।
* আইওপি পরীক্ষা।
*কর্নিয়ার ড্রাইনেস পরীক্ষা।

★ল্যাবরেটরি টেস্ট:
CBC, ESR,CRP.

★Imaginary trsts: CT scan, MRI etc.


(আগের অবস্থায় ফিরে আসে এমন দৃস্টিহীনতার কারন:)
দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার কারণে ছোট থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত অনেকগুলি বিভিন্ন অসুস্থতা বা চোখের ত্রুটি দেখা দেয়। তবে, যদি আপনি দেখতে যেমন অসুবিধা, ব্যথা বা যদি আপনার দৃষ্টি পুরোপুরি হারাচ্ছেন তেমন মারাত্মক লক্ষণগুলির মুখোমুখি হয়ে থাকেন তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের সহায়তা নিন।

অস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির সর্বাধিক সাধারণ কারণগুলি হল রিফ্রেসিভ ত্রুটিগুলি - মায়োপিয়া, হাইপারোপিয়া এবং প্রেসবায়োপিয়া।

 

মায়োপিয়া:
মায়োপিয়া সাধারণত দূরদৃষ্টি হিসাবে বেশি পরিচিত। মায়োপিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই তাদের কাছাকাছি জিনিসগুলি দেখতে পান যখন আরও দূরের জিনিসগুলি অস্পষ্ট করা হয়। ভুক্তভোগীরা লক্ষ্য করতে পারেন যে তারা দূরের বোর্ড বা স্ক্রিনে লেখা পড়তে লড়াই করতে বা ড্রাইভিং করার সময় পরিষ্কারভাবে লক্ষণ দেখতে পান। এটি চোখের ত্রুটির কারণে ঘটে যা রেটিনার সামনের অংশে আলো ধরে রাখে, অন্যদিকে এটি সাধারণত রেটিনার উপরে থাকে। মায়োপিয়া একটি চক্ষু বিশেষজ্ঞের দ্বারা চোখের পরীক্ষার সময় নির্ণয় করা হয় এবং চশমা বা যোগাযোগের লেন্সগুলি প্রায়শই নির্ধারিত হয়।

হাইপারোপিয়া:
এটি কখনও কখনও হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরদর্শিতা হিসাবে পরিচিত। এটি কার্যকরভাবে মায়োপিয়ার বিপরীত, সুতরাং এই অবস্থার লোকেরা এমন অবজেক্টগুলি দেখতে পারে যা আরও দূরে থাকে তবে যে জিনিসগুলি নিকটে রয়েছে তা দেখতে লড়াই করে। এটি ঘটে কারণ চোখের মধ্যে আলো প্রবেশ করে তার পরিবর্তে রেটিনার পিছনে থাকে। শিশুরা প্রায়শই দূরদর্শী হয়ে জন্মগ্রহণ করে তবে চোখ বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি কমতে পারে। আবার একটি চক্ষু পরীক্ষা এই শর্তটি সনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

প্রেসবায়োপিয়া:
এটি বেশিরভাগ মানুষের জন্য প্রাকৃতিক বার্ধক্যের একটি অংশ। এটি চোখের দৃষ্টি হ্রাস বোঝায় যা বৃদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে আসে। বুড়ো হওয়া চোখ এবং লেন্সগুলির চারপাশের পেশী ফাইবারকে প্রভাবিত করে, যার ফলে ঘনিষ্ঠতাযুক্ত জিনিসগুলিতে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হতে পারে। এটি ছোট মুদ্রণ পড়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই চশমা পড়তে সহায়তা করতে পারে।

রক্তপাতের অন্যান্য কারণ

চোখের সংক্রমণ - ব্যাকটিরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাস চোখের বিভিন্ন অংশে সংক্রমণ হতে পারে। এগুলি চোখের বিভিন্ন রোগ যেমন ফোলা, জলযুক্ত চোখ এবং ঘা, পাশাপাশি অস্পষ্ট দৃষ্টি সৃষ্টি করতে পারে।

* শুকনো চোখ - ঝলকানি যদি সহায়তা করে তবে শুকনো চোখের সমস্যা হতে পারে। কখনও কখনও, কর্নিয়া (চোখের বলের উপরের ওপরে পরিষ্কার ছবি) এটি যেমন প্রয়োজন তেমন তৈলাক্ত হয় না। এটি চোখের স্ট্রেইন, ওষুধ, বা কোনও মেডিকেল শর্ত সহ অনেক কিছুই দ্বারা সৃষ্ট। চোখের ফোটা কিছু ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।

* মাইগ্রেন:
এ সম্পর্কিত স্বল্পমেয়াদী ভিত্তিতে কিছু লোকের দৃষ্টিকে প্রভাবিত করতে পারে।
একটি কর্নিয়াল ঘর্ষণ - অর্থ চোখের একটি স্ক্র্যাচ।

স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ সমূহঃ
WHO এর হিসাব অনুযায়ী;
♣ ছানী,
♣গ্লুকোমা।
♣এএমডি।
♣কর্নিয়াল অপাসিটি / সাদা কর্নিয়া।
♣ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথি।
♣ইন্ফেকশন(Oncocerciasis, trachoma, Laprosy).
♣Vit-A স্বল্পতা।

ব্যাথা হীন দৃষ্টি স্বল্পতা:
♣ছানী।
♣ওপেন এঙ্গোল গ্লুকোমা।
♣রেটিনা ডিটাচস্টমেন্ট।
♣সেনট্রাল রেটিলার আর্টারী  অক্লুসন।
♣ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি।
♣ভিট্রিয়াস রক্তক্ষরন।
♣পোস্টরিয় ইউভিআইটিস।
♣এ এম ডি।
♣অপটিক মার্ভ কম্প্রেশন।
 ♣ভাসকুলার ডিজিজ।

ব্যাথা যুক্ত কারন:
♠এঙ্গেল ক্লোজার গ্লুকোমা।
♠জায়ান্ট সেল আর্টারাইটিস।
♠অপটিক নিউরাইটিস।
♠ইউভিয়াইটিস।
♠স্ক্লেরাইটিস।
♠কেরাটাইটিস।
♠সিংলেস।
♠অর্বিটাল সেলুলাইটিস।
♠ট্রমা।


ট্রান্সিয়েন্ট লস অব ভিশন:

♣মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস।
♠মাইগ্রেইন।
♠সাইকেজেনিক।

মনোওকুলার দৃষ্টি স্বল্পতাঃ
♠অপটিক নিউরাইটিস।
♠মাইগ্রেইন।
♠সাইকোজেনিক।
♠ট্রান্সিয়েন্ট ইসকেমিক এ্যাটাক।
♠জি সি এ।

* অপটিক নিউরাইটিস:
এটি তখন ঘটে যখন স্নায়ু ফাইবারগুলি চোখের কাছে তথ্য বহন করে, প্রায়শই এমএস (একাধিক স্ক্লেরোসিস) এর সাথে যুক্ত থাকে

* রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা:
ইহা একটি বিরল জিনগত ব্যাধিগুলির সংকলন যার ফলে রেটিনা কোষগুলি (চোখের পিছনে  পাতলা টুকরো) বিচ্ছিন্ন হতে পারে।এটি রাতে দেখতে অসুবিধা এবং পেরিফেরিয়াল (পাশের) দৃষ্টি হারাতে পারে।

ছানি:
৪০ বছরের বেশি লোকের মধ্যে বেশি দেখা যায়, চোখের লেন্সটি মেঘলা হয়ে যায়, পরিষ্কারভাবে দেখা শক্ত হয়।

* ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি :
 একটি ডায়াবেটিক চোখের রোগ যা উচ্চ রক্তে শর্করার মাত্রার কারণে রেটিনার ক্ষতি করে।

* স্ট্রোক - স্ট্রোকের সূচনার অন্যতম লক্ষণ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হতে পারে।

* কখনও কখনও স্ট্রোকের পরে, লোকেরা তাদের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয় কারণ চোখে তথ্য বহনকারী স্নায়ুগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
 

আপনার দর্শন স্বাস্থ্যকে কীভাবে রাখবেন:

* নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান।

* ধূমপান ছেড়ে দিন।

* যোগাযোগের লেন্সগুলি পরিচালনা করার সময় আপনার হাত ধুয়ে ফেলুন।

* যখন প্রয়োজন হয় তখন সুরক্ষা আইওয়ারওয়্যার ব্যবহার করুন - যেমন ডিআইওয়াই করার সময়, কেমিক্যালগুলি পরিচালনা করা বা শারীরিক ক্রীড়া করা
রোদে বের হওয়ার সময় সানগ্লাস পরুন
ভিটামিন সি এবং ই, জিঙ্ক এবং ওমেগা 3 ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। এগুলি ঝিনুক, শুয়োরের মাংস, তৈলাক্ত মাছ, পাতাযুক্ত শাকসব্জী যেমন কালে, প্লাস কমলার রস, শিম, বাদাম এবং ডিম জাতীয় খাবারগুলিতে রয়েছে।
কম্পিউটারে বা স্ক্রিন ব্যবহার করে দীর্ঘকালীন সময় এড়াতে পারেন। আপনার ডেস্ক থেকে দূরে দূরে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। প্রতি ২০ মিনিট পর পর অন্যদিকে তাকান এবং তার পরে পর্দা থেকে দূরে রাখুন, উইন্ডো থেকে বা কমপক্ষে ২০ সে:মি: জন্য দূরে কোথাও।



চোখের যত্নে করণীয়:

ব্রেক গ্রহণ

যারা ডেস্ক জব করেন বা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার এর কাজ যাদের করতে হয়, তাদের কম দূরত্বে বেশিক্ষণ ধরে ফোকাস বজায় রাখতে হয়, তাই দূরের দৃষ্টি খর্ব হয়ে যায়। ফলে মায়োপিয়া হবার চান্স থাকে।

বই পড়ার অভ্যেস থাকলে চোখের সাথে ৩০° কোন মেন্টেন করে পড়ুন ও বেশি টানা পড়বেন না। শুয়েশুয়ে বই পড়া ঠিক না। টিভি দেখুন মিনিমাম ১০ফুট দূরত্বে।

তাই টেবিলে বসে কাজ করার সময় ৩০মিনিট ছাড়া ছাড়া ব্রেক নিন ও দূরের জিনিস দেখুন। সবুজ গাছপালা দেখুন তাতে চোখ আরাম পাবে।

পলক ফেলা

ল্যাপটপের মনিটর হোক বা ফোনের স্ক্রিন বা টিভির এলইডি ডিসপ্লে সবথেকেই ক্ষতিকর ব্লু রে বেরোয় যা আমাদের চোখের পিউপিলের বারোটা তো বাজায় সাথে অনিদ্রা ও মনসংযোগহীনতা ডেকে আনে।

তাই ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন নতুবা চোখ হয়ে যাবে শুস্ক। মিনিটে কমপক্ষে ১৫বার চোখের পলক ফেলা জরুরি।

পারলে গ্লেয়ার ফ্রি স্ক্রিন লাগান মনিটরে। তাতে ব্লু লাইট ফিল্টার হয়ে যাবে।

আলোর পর্যাপ্ততা

আমাদের অনেকের মধ্যেই অভ্যাস আছে ঘর অন্ধকার করে টিভি দেখার, তাতে নাকি আনন্দ ও মজা বেশি পাওয়া যায়, কিন্তু আখেরে তা চোখের রড কোষের উপর মারাত্মক প্রেশার দেয়।

এর ফলে চোখের পেশীর উপর স্ট্রেন পড়ে ও চোখের রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। চোখের ভিতরের আকার বিগড়ে যেতে পারে। তাই কম আলোতে কাজ করার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

ত্রিফলার মন্ত্র

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা খুবই কার্যকরী। আমলকী, হরতকি এবং বহেরা একটা ব্লেন্ডারে নিয়ে চূর্ণ করে ফেলুন। সকালে খালি পেটে পানির সঙ্গে মিশিয়ে ত্রিফলা চূর্ণ খেতে পারেন।

এটি চোখের বর্ণ পৃথক করার ক্ষমতা ও চোখের ভিতরের সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলোকে সুরক্ষিত করে ও চোখের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

ভিটামিন ইনটেক বাড়ান

চোখ ভালো রাখতে অতিরিক্ত মাছ মাংস ভক্ষণ প্রধান বাধক হয়ে দাঁড়ায়। সঙ্গে সবুজে অরুচি ও একটা বড় কারণ।

কিন্তু শাকসবজির সঙ্গে চোখের বোঝাপড়া খুবই নিপুণ। তাই চোখ বুজে গাজর, টমেটো, ব্রকোলি, বিন্স, পেপার, ফলমূল ও ড্রাই ফ্রুটস খান। সব ভিটামিন এর উৎস নিহিত রয়েছে এর মধ্যে।

সূর্যোদয় দেখা

চোখের সংবেদনশীলতা বাড়াতে ও শিথিলতা কমাতে সকালের সূর্যালোকের সমতুল্য কিছু হয় না।

তাই সকালে হাটতে বের হোন ও চোখ জুড়িয়ে সবকিছু আলোয় দেখুন। এতে আপনার স্বাস্থ্য ও ভালো থাকবে।

উষ্ণতার ছোঁয়া

চোখে টান অনুভব করলে দুটি হাতের তালু ঘষে গরম করে ৩০ সেকেন্ড মতো চোখের পাতা বন্ধ করে তার উপর চেপে ধরুন। এটি একটি ইনস্ট্যান্ট টোটকা।

এটি চোখের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ। চোখের স্পর্শকাতরতা কমবে ও সক্রিয়তা বাড়বে।

চোখের ব্যায়াম

মাথা স্থির রেখে ক্লকওয়াইজ চোখের মণি ১০বার ও এন্টি ক্লকওয়াইজ ১০বার ঘোরান। এটি করলে চোখের লাল ভাব ও ভার হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।

চোখ বন্ধ করে চোখের মণি উপর থেকে নীচে ও নীচ থেকে উপরে তুলুন। এইভাবে ৫-১০বার করুন।

চোখের সামনে একটি কলম বা ফুল ধরে এগিয়ে আনুন যতক্ষণ না সেটার উপর চোখ তার ফোকাস হারাচ্ছে এবং সেটা ঘোলাটে দেখছেন। এরপর আস্তে আস্তে সেটা চোখের থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে সেটার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন। এইভাবে কয়েক বার করতে থাকুন।

যেকোন সমস্যায় ডাক্তারের পরামর্শ নিন।


সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪

বৃটেনে মাটির নীচে মাদরাসা

বৃটেনের মাটির নিচে গোপন মাদরাসা


লন্ডনে মাটির নিচের গোপন মাদ্রাসার কথা অনেকেরই জানা। আবার অনেকেই জানেন না, যা গভীর অরণ্যের ভেতর পাহাড়ের নিচে অবস্থিত। প্রায় আড়াই শ' বছর পূর্বে ইংরেজ পেগানরা এটি প্রতিষ্ঠা করে।
এটি একটি উন্নত মানের ইসলামি মাদ্রাসা। যেখানে কুরআন, হাদিস, ইসলামের ইতিহাস, আরবি সাহিত্য, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব, বক্তৃতা, বিতর্ক ইত্যাদি বিষয় গুলো অত্যন্ত যত্ন সহকারে শিক্ষা দেয়া হয়।
ইসলামি এমন কোনো বিষয় নেই, যা এখানে শিক্ষা দেয়া হয় না। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে সুদক্ষ পারদর্শী এবং স্কলার হিসেবে গড়ে তোলা হয়। তবে মজার বিষয় হলো, ওখানকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কেউই মুসলিম নয়। সবাই পেগান।
তবে দেখতে বুযুর্গ আলেমদের মত তাদের চেহারা। সুন্নতি লেবাস, মাথায় পাগড়ি, হাতে তাসবীহ এবং
ললাটে ঝলমল করে সেজদার চিহ্ন।তারা পড়ালেখা শেষ করে ওখান থেকে বড় আল্লামা ও আকর্ষণীয় সাবলীল ভাষার আধিকারী হয়ে বের হয়।
প্রশ্ন হচ্ছে পেগানরা এই ইসলামি মাদ্রাসা কেন পরিচালনা করে ?ট্রিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন, কেন এর পেছনে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে ? একথা জিজ্ঞেস করেছিলেন
ইংরেজদের পরীক্ষিত পরম বন্ধু আলীগড়ের নবাব ছাতারী সাহেব।
নওয়াব ছাতারী আলিগড়ের জমিদার ছিলেন। তিনি মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের বিরোধী এবং ভারতে ব্রিটিশ প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠায় ইংরেজদের সার্বিক সহযোগী ছিলেন।
আনুগত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ইংরেজ সরকার কর্তৃক নওয়াব ছাতারী উত্তর প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন। (মতবাদের মিল থাকার কারণে) যে সব ইংরেজ কালেক্টর পোস্টিং নিয়ে আলীগড়ে আসতেন নবাবের সাথে তাদের মধুর ও গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠতো।
একবার ব্রিটিশ সরকার ভারতের সকল গভর্নরকে বৃটেনে ডাকেন। নওয়াব ছাতারীও তখন বৃটেনে যান। ঐ সময় বৃটেনে অবস্থানকারী পুরাতন বন্ধু এবং অনেক অবসরপ্রাপ্ত কালেক্টর ও কমিশনার গভর্নর ছাতারীর সাথে সাক্ষাত করেন।


কালেক্টরদের মধ্যে একজন ছিলেন নবাব সাহেবের ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার অনেক কাছের ব্যক্তি।
তিনি নবাবকে লন্ডনের যাদুঘর ও হাজার বছরের পুরাতন অত্যাশ্চর্য দর্শনীয় বস্তু যা নওয়াব কখনো দেখেননি , তা দেখাতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেন।
নবাব সাহেব বলেন ‘ঐগুলো আমি আগে দেখেছি, তাই আপনি আমাকে এমন কিছু দেখান যা কোন ভিনদেশী আগে দেখেনি’। কালেক্টর সাহেব বললেন ‘ এমন কি হতে পারে যা কোন ভিনদেশী আগে দেখেনি? ঠিক আছে আমি ভেবে-চিন্তে জানাবো’।
তার দু’দিন পরেই কালেক্টর সাহেব এসে নবাবকে বললেন ‘ আমি ইতোমধ্যে খোঁজ-খবর নিয়েছি। আপনাকে এমন জিনিস দেখাবো যা কোন ভিনদেশী কখনো দেখেনি’।
কয়েক দিন পর কালেক্টর সাহেব সরকারের লিখিত অনুমতি সমেত নবাব সাহেবের অতিথিশালায় পৌঁছে গেলেন। অত্যাশ্চর্য বস্তু দেখার কর্মসুচী তৈরি করলেন।
কালেক্টর সাহেব বললেন ‘আমার ব্যক্তিগত গাড়িতে যেতে হবে। এই ভ্রমণে সরকারী গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না’।পর দিন তারা দু’জন অত্যাশ্চর্য বস্তু দেখতে বের হয়ে গেলেন। লন্ডনের সীমানা পেরিয়ে ছোট্ট একটি সড়ক ধরে গাড়ি যতই এগোতে থাকলো ততো গভীর অরণ্য। কোন যাত্রী বা পথিক চোখে পড়ে না। এভাবে দীর্ঘক্ষণ চলার পর গাড়িটি একটি বিশাল গেটের সামনে গিয়ে থামলো।
উভয় পাশে সশস্ত্র সৈন্যের সতর্ক প্রহরা দেখা গেল। কালেক্টর গাড়ি থেকে নেমে পাসপোর্ট ও সরকারি অনুমতিপত্র গেটে জমা দিয়ে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি লাভ করলেন।
কর্মকর্তারা বলে দিলেন নিজেদের গাড়ি বাইরে রেখে ভেতরে তাদের গাড়ি ব্যবহার করতে হবে। সুড়ঙ্গের ন্যায় দু’দেয়ালের মধ্যদিয়ে গাড়ি চলতে লাগলো। সুনিবিড় জঙ্গল আর বৃক্ষলতা ভিন্ন আর কিছুই দেখা যায় না। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর সামনে একটি প্রাসাদ দেখা গেল।


কালেক্টর সাহেব নবাবকে বললেন, ‘প্রাসাদে প্রবেশের পর থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত আপনি আমাকে কোন প্রশ্ন করবেন না। একেবারে চুপচাপ থাকবেন। আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে অতিথিশালায় ফিরে উত্তর দেব’। নবাব রাজি হলেন।প্রাসাদের কিছু দূরে গাড়ি রেখে তারা পায়ে হেঁটে চললেন এবং দেখতে থাকলেন বিপুল সংখ্যক কক্ষ সম্পন্ন প্রাসাদটি গগনচুম্বী ও অতিকায়।
ভেতরে প্রবেশ করে তারা একটি কক্ষের সামনে দাড়ালেন। যেখানে আরবী পোশাক পরিহিত অসংখ্য ছাত্র মাটিতে বিছানো দস্তানায় বসে সবক নিচ্ছে। যেমন আমাদের দেশের মাদ্রাসা ছাত্ররা নেয়। ছাত্ররা আরবী ও ইংরেজী ভাষায় উস্তাদের নিকট প্রশ্ন করছে। আর উস্তাদ সুন্দর ও সাবলীল ভঙ্গিতে ঐ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন।
কালেক্টর সাহেব এভাবে নবাব সাহেবকে প্রতিটি কক্ষ এবং সেখানে যে সকল বিষয়ে শিক্ষা ও বাস্তব ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে তা ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছেন।
নবাব সাহেব অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করেন -
কোন কক্ষে কিরায়াত শিখানো হচ্ছে, কোথাও কুরআনুল কারীমের অর্থ ও তাফসীর শিখানো হচ্ছে, কোথাও বুখারী ও মুসলিম শরীফের সবক চলছে, কোথাও মাসয়ালা নিয়ে বিশদ আলোচনা চলছে, কোথাও হচ্ছে ইসলামী পরিভাষার উপর বিশেষ অনুশীলন।
একটি কক্ষে দেখা গেলো ধর্মীয়তত্ব নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে রীতিমত আনুষ্ঠানিক বিতর্ক চলছে।
নবাব সাহেব এসব দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন এবং একজন ছাত্রের সংগে কথা বলতে চাইলেন। কিন্তু কালেক্টর সাহেব তাকে ইশারা করে চুপ থাকতে বললেন।
অতিথিশালায় ফিরে নবাব সাহেব বললেন, এতবড় দ্বীনি মাদ্রাসা যেখানে দ্বীনের প্রতিটি বিষয় উন্নত পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে এবং ইসলামের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা হচ্ছে, দেখে ভালো লেগেছে।
কিন্তু এসব মুসলিম ছাত্রকে এই দূরবর্তী জায়গায় বন্দী করে কেন রাখা হয়েছে?
কালেক্টর সাহেব উত্তর দিলেন, ‘এসব ছাত্রদের একজনও মুসলিম নয়।
নবাব সাহেব আরও আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এর কারণ কি?’

কালেক্টর সাহেব উত্তর দিলেন, ‘সুড়ঙ্গ পথে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠান থেকে লিখাপড়া শেষ করে ছাত্রদের মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়। (গোয়েন্দা আলিমদের বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর কারণ হলো- মধ্যপ্রাচ্য হলো ইসলামের উৎস। তাই মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোন বিশেষজ্ঞ ইসলামের কোন কথা বললে তা সারা মুসলিম বিশ্বে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়)।
সেখানে তারা নানান ছলে বলে কৌশলে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, ছোট বাচ্চাদের কুরআনের গৃহ শিক্ষক, মাদ্রাসার মুহাদ্দীস বা মুফতি হিসেবে ঢুকে পড়ে।
যেহেতু তারা আরবী সাহিত্য ও ইসলামী বিষয়ে পারদর্শী তাই তাদের নিয়োগ পেতে অসুবিধা হয় না।
অনেক সময় ধোঁকা দেয়ার জন্য তারা বলে, আমরা ইংরেজ এবং ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত আলিম। আমাদের অনেকে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা লাভ করা। নিজ দেশে দ্বীনি পরিবেশ, বড় মাদ্রাসা এবং পর্যাপ্ত মসজিদ না থাকায় আমরা এখানে এসেছি। শুধু দু’মুঠো ভাত ও মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই পেলেই চলবে। আমরা আল্লাহর দ্বীনের জন্য সবকিছু কোরবান করতে প্রস্তুত।’
এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঢুকে গিয়ে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করে দেয়। বিভিন্ন পদ্ধতিতে (বিশেষ করে ইসলামের জ্ঞানের মধ্যে ভুল ঢুকিয়ে) বিভেদ এবং অনৈক্য সৃষ্টির জন্য তারা অত্যন্ত তৎপর থাকে।
একবার বিভেদের বীজ বপন করতে পারলে, ইন্ধন যুগিয়ে তারা মুসলমানদের বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করে রক্তপাতও ঘটায়। সামান্য একটি ইসলামী বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্টি করে দেয় দাঙ্গা হাঙ্গামার।
[সূত্রঃ প্রতিবেদনটি ভারতের উর্দু পাক্ষিক সাময়িকী ‘তামির-ই-হায়াত’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ। প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু হলো - ভারতের নওয়াব ছাতারীর দেখা এক স্থাপনা এবং তার কার্যক্রম। প্রতিবেদনটি মূল বক্তব্য গুছিয়ে দৈনিক ইনকিলাবে ০২.০৪.৯৮ ইং তারিখে ‘বৃটেনের মাটির তলায় গোপন মাদ্রাসা’ শিরোনামে প্রকাশ হয়।]
আজ থেকে শত শত বছর আগে তারা তাদের কার্যক্রম মাটির নিচে গোপন মাদ্রাসা স্থাপন করে বিভেদ সৃষ্টির মিশন শুরু করলেও বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মাটির উপরেই অনুরুপ মাদ্রাসা স্থাপন করে কার্যক্রম চালানোর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
কাজেই দ্বীন চর্চায় যার কাছ থেকে ইলম অর্জন করবেন সর্বোচ্চ সাবধানতা ছাড়া কেবল ক্বুরআ'ন ও হাদিসের আলোচনা বলেই গ্রহন করা উচিত হবে না।

সূত্রঃ বারবারোস বাংলা সাবটাইটেল গ্রুপ এর একটি পোস্ট থেকে নেওয়া।

ভারতের দাদাগিরির অন্তরাল

ভারতের দাদগিরির অন্তরাল

ভারত তাদের পাশাপশি দেশ গুলোতে সর্বদা দাদাগিরিনকরার চেষ্টা করে। নিজেদের সভ্য দাবী করে,কিন্তু আদতে কিমতারা সভ্য জাতি? তাদের দারিদ্রতার হার, নারী ধর্ষনের হার, দূর্নীতি,শিক্ষার হার, বিদ্যুতায়ন, জননিরাপত্তা কোন দিক দিয়ে সভ্য দাবী করার যোগ্যতা রাখে? তারা বরং এসব বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্রের সাথে নিজেদের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

ভারত বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও শুধু মাত্র খোলা জায়গায় মলত্যাগের অভ্যাস বদলানো যায়নি মানুষের।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে একশো কোটি মানুষ এখনো খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে এবং এর ফলে কলেরা, ডায়ারিয়া এবং হেপাটাইটিসের মতো রোগ ও জীবাণুর বিস্তার ঘটছে। তবে ভারতের পরিস্থিতি এক্ষেত্রে খুবই নাজুক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খোলা জায়গায় মলত্যাগের অভ্যাস সবচেয়ে বেশি ভারতে। দেশটির ৬০ কোটির বেশি মানুষ উন্মুক্ত জায়গায় মলত্যাগ করে।  

ভারত সরকার স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা তৈরি ও সরবরাহে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করেও পরিস্থিতি খুব বেশি বদলাতে পারেনি। আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিও এখানে অনেকাংশে দায়ী মনে করে-জাতিসংঘ।

অন্যদিকে বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম যেভাবে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগের অভ্যাস প্রায় দূর করতে সক্ষম হয়েছে, জাতিসংঘ তারও প্রশংসা করেছে। উল্লেখ করা হয়, ৯০-এর দশকে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে  যেখানে  প্রতি তিন জনের একজন খোলা জায়গায় মলত্যাগ করত, ২০১৪ সালে এসে সেই অভ্যাস প্রায়- দেশ দুটিতে নেই বললেই চলে।ইউনিসেফের একজন বিশেষজ্ঞ রলফ লায়েনডিক বলেছেন, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সুবিধা তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কৌশল যেখানে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে, এর বিপরীতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কৌশল সেখানে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের কাছে স্যানিটেশন সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভারত সরকার শত শত কোটি ডলার খরচ করেছে এটা সত্য। কিন্তু এই অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারকে দেওয়ার পর বিভিন্ন রাজ্যে তা ভিন্নভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যয় করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই অর্থ আর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতে পৌঁছায় না।  

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পরিচালক মারিয়া নিরা বলেন, ভারতের যে ছবিটা দেখে সবাই ধাক্কা খান তা হলো একটা লোক এক হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে খোলা জায়গায় মলত্যাগ করছেন।

ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য পরিসংখ্যান উল্লেখ করে জাতিসংঘ আরো বলেছে   সাব সাহারান আফ্রিকার ২৬ টি দেশেও এখনো খোলা জায়গায় মলত্যাগের অভ্যাস বাড়ছে। সেখানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নাইজেরিয়ার। দেশটির প্রায় চার কোটি মানুষ এখনো উন্মুক্ত জায়গায় মলত্যাগ করে।

তারাই আবার দাবী করে তারা নাকি সভ্য জাতি।তারা তো নগ্নতা,সমকামিতা, পরকিয়া আর পর্নোগ্রফিতে এগিয়েছে। এ ছাড়া আর কোন বিষয়ে পাশাপাশি দেশের থেকে তারা আগানো? 

মদ খেয়ে মাতাল না হলে নামাজ হবে?



বর্তমানের ভাইরাল মৌলভী আহামাদুল্লাহ শায়েখ সাহেব এই মর্মে ফতোয়া দিয়েছেন যে কেউ মদ খেয়ে মাতাল না হলে নাকি নামাজ হবে। আমি বলি উনার এই ফতোয়া সম্পূর্ণ মিথ্যা ও চরম গাঁজাখুরী। আসুন উনার ফতোয়া যে মিথ্যা তা কোরআন ও হাদিস হতে প্রমান করি।

আবদুল্লাহ বিন উমার রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ মদ পান করে, আল্লাহ তার ৪০ দিনের নামাজ কবুল করেন না। যদি এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে জাহান্নামি হবে। কিন্তু যদি সে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এর পর যদি দ্বিতীয়বার মাদক গ্রহণ করে তাহলে তার ৪০ দিনের নামাজ কবুল হবে না। তবে যদি দ্বিতীয়বার তওবা করে, আল্লাহ তওবা কবুল করবেন। এরূপে যদি চতুর্থবার সে আবারও মদ পান করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালার ওপর হক হয়ে যায় যে, তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘মদ সব অশ্লীলতার মূল ও মারাত্মক কবিরা গুনাহ।’ এও বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি মদ পান করল সে যেন আপন মা, খালা ও ফুফুর সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত হলো’ (তাবরানি শরিফ)।

হাদিসের মান সহীহ।


নবীজী সাঃ এর হাদীস কতটা যুক্তিযুক্ত এ প্রশ্ন করাই অবান্তর। আল্লাহ্‌র রাসুল সাঃ হাদীসে যা বলেছেন যেভাবে বলেছেন তার সবই সত্য এবং অবশ্য মাননীয়।

হাদীসঃ

১- عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ شَأْنَ الْخَمْرِ بِشَيْءٍ، فَقَالَ: نَعَمْ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ رَجُلٌ مِنْ أُمَّتِي فَيَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ صَلَاةً أَرْبَعِينَ يَوْمًا»

আলী ইবন হুজুর (রহঃ) … উরওয়া ইবন রুওয়ায়ম (রহঃ) বলেন, একদা ইবন দায়লামী (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ)-এর খোঁজে সওয়ার হলেন। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। জিজ্ঞাসা করলামঃ হে আবদুল্লাহ্ ইবন আমর! আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মদ সম্বন্ধে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মতের কেউ শরাব পান করলে আল্লাহ তা’আলা তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করবেন না। [সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৫৬৬৪]
(হাদিসের মান টন টনে সহীহ।)

ইসলামে মদ বা নেশা জাতীয় বস্তু অর্থাৎ মাদক গ্রহণ কিংবা সেবন করা যেমন হারাম, তেমনি এর ব্যবসা, এ কাজে সাহায্য এবং এ কাজের জন্য বাড়িঘর ও দোকান ভাড়া দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনুল কারিমে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মদ পান করা, তা বিক্রি এবং এর থেকে উপহার লাভ করা হারাম’ (বোখারি শরিফ, হাদিস ২২২৩)।
মাদকদ্রব্যকে শরিয়ত ‘উম্মুল খবায়েছ’ বা সব ধরনের জঘন্যতার আকর বলে অভিহিত করেছে। মাদকদ্রব্য যেহেতু সব চরিত্রহীনতার মূল, সে জন্য মাদকসেবীদের বেলায় শরিয়ত অত্যন্ত কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করেছে। মাদকদ্রব্য পরিহার করার জন্য এর ব্যবসাকেও শরিয়ত হারাম করে দিয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, যখন সুরা বাকারার শেষ দিকের আয়াতগুলো নাজিল হলো, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন এবং ইরশাদ করলেন, ‘মদের ব্যবসাকে হারাম করা হয়েছে’ (বোখারি শরিফ, হাদিস ৪৪৫)। মুসলিম শরিফের এক বর্ণনায় রয়েছে, ‘যা পান করা হারাম, তার ক্রয়-বিক্রয়ও হারাম।’
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা-দেবী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরগুলো নাপাক, শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো’ (সুরা মায়েদা, আয়াত ৯০)। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমার রব তাঁর মহাক্ষমতার কসম করে বলেছেন, আমার বান্দাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সামান্য এক ঢোক মদ পান করল, আমি নিশ্চয়ই তাকে অনুরূপ দোজখিদের পচা পুঁজ পান করাব’ (মেশকাত শরিফ, হাদিস ৩১৮)।

হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “সব নেশা জাতীয় দ্রব্যই ‘খমর’ তথা মদের অন্তর্ভুক্ত। আর সব ধরনের মাদকই হারাম” (মুসলিম শরিফ)।

মাদক ও মাদকাসক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণির লোকের প্রতি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন। তারা হলো– ১. যে লোক মদের নির্যাস বের করে, 

২. প্রস্তুতকারক, 

৩. মদ পানকারী, 

৪. যে পান করায়. 

৫. মদের আমদানিকারক, 

৬. যার জন্য আমদানি করা হয়, 

৭. ক্রেতা, 

৮. বিক্রেতা, 

৯. সরবরাহকারী এবং 

১০. মাদক ব্যবসায় লভ্যাংশ ভোগকারী। মহান আল্লাহ আমাদের মাদক বিষয়ক ইসলামী বিধিবিধান জেনে তা থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দিন এবং এই পথ ভ্রষ্ট শায়েখদের নষ্টামী হতে আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করুন(আমীন)।

মদ পবিত্র বস্তু?



 মদ অপবিত্র বস্তু নয়, মদ খেয়ে নেশা না হলে নামাজ জায়েজ পড়া যাবে মর্মে মাদখালিদের এমন ফতেয়া ভুল

মাদখলিরা তাদের ফতোয়ার কিতাব "বুদূরুল আহিল্লাহর" ১৫ পৃষ্ঠায় লিখেছে মদ কোন অপবিত্র বস্তু নয়। আবার তাদের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল ওহাব নযদিও বলে গেছেন মদ অপবিত্র বস্তু নয়। তাদের অনুসারী বাংলাদেশের শায়েখ আহামাদুল্লাহ সাহেবও বলেছেন মদ খেয়ে মাতাল না হলে নামাজ হবে।

আমি তাদের ফতোয়া ভুল ধরার আগে কিছু প্রশ্ন করতে চাই,

১। মদ খেলে কে মাতাল হয় না?

২।মদ পবিত্র বস্তু হলে হারাম কেনো?

৩। বেহেস্তে যে শরাব পান করানো হবে তা দুনিয়ায় তৈরী মদের হুবহু এটা কোন কিতাবে লেখ আছে?

৪। বাংলাদেশের শায়েখরা কি তাইলে মদ খান?

৫। আপনারা বিভিন্ন বক্তব্যে যে উল্টা পাল্টা ফতোয়া দেন তা কি মদ খেয়ে স্টেজে যাওয়ার ফল?

এবার আসুন শুরুনহতে আজ পর্যন্ত যে ঔতোয়া দিয়ে এসেছেন তার সম্পূর্ণ মন গড়া তা প্রমান করি। কোন বাপের বেটা থাকলে দলিল গুলো খন্ডন করে দেখাবেন।

মদ্য পান অথবা যে কোন নেশাকর দ্রব্য গ্রহণ তথা সেবন (চাই তা খেয়ে কিংবা পান করেই হোক অথবা ঘ্রাণ নেয়া কিংবা ইন্জেকশন গ্রহণের মাধ্যমেই হোক) একটি মারাত্মক কবীরা গুনাহ্। যার উপর আল্লাহ্ তা‘আলা ও তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অভিশাপ ও অভিসম্পাত রয়েছে।

আল্লাহ্ তা‘আলা কুর‘আন মাজীদের মধ্যে মদ্যপান তথা যে কোন নেশাকর দ্রব্য গ্রহণ অথবা সেবনকে শয়তানের কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন। শয়তান চায় এরই মাধ্যমে মানুষে মানুষে শত্রুতা, হিংসা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহ্’র স্মরণ ও নামায থেকে মানুষকে গাফিল করতে।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

«يَآ أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا إِنَّمَا الْـخَمْرُ وَالْـمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ، فَاجْتَنِبُوْهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ، إِنَّمَا يُرِيْدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُّوْقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَآءَ فِيْ الْـخَمْرِ وَالْـمَيْسِرِ، وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ، فَهَلْ أَنْتُمْ مُّنْتَهُوْنَ»

‘‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ (নেশাকর দ্রব্য), জুয়া, মূর্তি ও লটারীর তীর এ সব নাপাক ও গর্হিত বিষয়। শয়তানের কাজও বটে। সুতরাং এগুলো থেকে তোমরা সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকো। তা হলেই তো তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো এটিই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হোক এবং আল্লাহ্ তা‘আলার স্মরণ ও নামায থেকে তোমরা বিরত থাকো। সুতরাং এখনো কি তোমরা এগুলো থেকে বিরত থাকবে না?’’ (মা’য়িদাহ্ : ৯০-৯১)

উক্ত আয়াতে মদ্যপানকে শির্কের পাশাপাশি উল্লেখ করা, উহাকে অপবিত্র ও শয়তানের কাজ বলে আখ্যায়িত করা, তা থেকে বিরত থাকার ইলাহী আদেশ, তা বর্জনে সমূহ কল্যাণ নিহিত থাকা, এরই মাধ্যমে শয়তানের মানুষে মানুষে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করা এবং আল্লাহ্ তা‘আলার স্মরণ ও নামায থেকে গাফিল রাখার চেষ্টা এবং পরিশেষে ধমকের সুরে তা থেকে বিরত থাকার আদেশ থেকে মদ্যপানের ভয়ঙ্করতার পর্যায়টি সুস্পষ্টরূপেই প্রতিভাত হয়।

‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

لَمَّا حُرِّمَتِ الْـخَمْرُ مَشَى أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ  بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ، وَقَالُوْا: حُرِّمَتِ الْـخَمْرُ وَجُعِلَتْ عِدْلًا لِلشِّرْكِ.

‘‘যখন মদ্যপান হারাম করে দেয়া হলো তখন সাহাবারা একে অপরের নিকট গিয়ে বলতে লাগলো: মদ হারাম করে দেয়া হয়েছে এবং উহাকে শির্কের পাশাপাশি অবস্থানে রাখা হয়েছে’’। (ত্বাবারানী/কাবীর খন্ড ১২ হাদীস ১২৩৯৯; হা’কিম খন্ড ৪ হাদীস ৭২২৭)

মদ বা মাদকদ্রব্য সকল অকল্যাণ ও অঘটনের মূল।

আবুদ্দারদা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমাকে আমার প্রিয় বন্ধু (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ মর্মে ওয়াসিয়াত করেন:

لَا تَشْرَبِ الْـخَمْرَ ؛ فَإِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ.

‘‘(কখনো) তুমি মদ পান করো না। কারণ, তা সকল অকল্যাণ ও অঘটনের চাবিকাঠি’’। (ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৩৪)

একদা বনী ইস্রাঈলের জনৈক রাষ্ট্রপতি সে যুগের জনৈক বুযুর্গ ব্যক্তিকে চারটি কাজের যে কোন একটি করতে বাধ্য করে। কাজগুলো হলো: মদ্য পান, মানব হত্যা, ব্যভিচার ও শুকরের গোস্ত খাওয়া। এমনকি তাকে এর কোন না কোন একটি করতে অস্বীকার করলে তাকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। পরিশেষে উক্ত ব্যক্তি বাধ্য হয়ে মদ্য পানকেই সহজ মনে করে তা করতে রাজি হলো। যখন সে মদ্য পান করে সম্পূর্ণ মাতাল হয়ে গেলো তখন উক্ত সকল কাজ করাই তার জন্য সহজ হয়ে গেলো।

এ কথা সবারই জানা থাকা দরকার যে, হাদীসের পরিভাষায় সকল মাদক দ্রব্যকেই ‘‘খাম্র’’ বলা হয় তথা সবই মদের অন্তর্ভুক্ত। আর মদ বলতেই তো সবই হারাম।

আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ، وَفِيْ رِوَايَةٍ: وَكُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ.

‘‘প্রত্যেক নেশাকর বস্ত্তই মদ বা মদ জাতীয়। আর প্রত্যেক নেশাকর বস্ত্তই তো হারাম। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, প্রত্যেক মদ জাতীয় বস্ত্তই হারাম’’। (মুসলিম ২০০৩; আবূ দাউদ ৩৬৭৯; ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৫০, ৩৪৫৩)।


আয়িশা, ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্ঊদ্, মু‘আবিয়াহ্ ও আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মধুর সুরার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:

كُلُّ شَرَابٍ أَسْكَرَ فَهُوَ حَرَامٌ، وَبِعِبَارَةٍ أُخْرَى: كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ.

‘‘প্রত্যেক পানীয় যা নেশাকর তা সবই হারাম। অন্য শব্দে, প্রত্যেক নেশাকর বস্ত্তই হারাম’’। (মুসলিম ২০০১; আবূ দাউদ ৩৬৮২; ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৪৯, ৩৪৫১, ৩৪৫২, ৩৪৫৪)

তেমনিভাবে এ কথাও মনে রাখতে হবে যে, যে বস্ত্তটি বেশি পরিমাণে সেবন করলে নেশা আসে তা সামান্য পরিমাণে সেবন করাও হারাম।

জা’বির বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্, ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর ও ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ، وَمَا أَسْكَرَ كَثِيْرُهُ فَقَلِيْلُهُ حَرَامٌ.

‘‘প্রত্যেক নেশাকর বস্ত্তই হারাম এবং যে বস্ত্তটির বেশি পরিমাণ নেশাকর তার সামান্যটুকুও হারাম’’। (আবূ দাউদ ৩৬৮১; তিরমিযী ১৮৬৪, ১৮৬৫; ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৫৫, ৩৪৫৬, ৩৪৫৭)

শুধু আঙ্গুরের মধ্যেই মদের ব্যাপারটি সীমাবদ্ধ নয়। বরং তা যে কোন বস্ত্ত থেকেও বানানো যেতে পারে এবং তা সবই হারাম।

নু’মান বিন্ বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

إِنَّ مِنَ الْعِنَبِ خَمْرًا، وَإِنَّ مِنَ التَّمْرِ خَمْرًا، وَإِنَّ مِنَ الْعَسَلِ خَمْرًا، وَإِنَّ مِنَ الْبُرِّ خَمْرًا، وَإِنَّ مِنَ الشَّعِيْرِ خَمْرًا، وَفِيْ رِوَايَةٍ: وَمِنَ الزَّبِيْبِ خَمْرًا.

‘‘নিশ্চয়ই আঙ্গুর থেকে যেমন মদ হয় তেমনিভাবে খেজুর, মধু, গম এবং যব থেকেও তা হয়। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, কিসমিস থেকেও মদ হয়’’। (আবূ দাউদ ৩৬৭৬; তিরমিযী ১৮৭২)

নু’মান বিন্ বাশীর (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

إِنَّ الْـخَمْرَ مِنَ الْعَصِيْرِ، وَالزَّبِيْبِ، وَالتَّمْرِ، وَالْحِنْطَةِ، وَالشَّعِيْرِ، وَالذُّرَةِ، وَإِنِّيْ أَنْهَاكُمْ عَنْ كُلِّ مُسْكِرٍ.

‘‘নিশ্চয়ই মদ যেমন যে কোন ফলের রস বিশেষভাবে আঙ্গুরের রস থেকে তৈরি হয় তেমনিভাবে কিসমিস, খেজুর, গম, যব এবং ভুট্টা থেকেও তা তৈরি হয়। আর আমি নিশ্চয়ই তোমাদেরকে প্রত্যেক নেশাকর দ্রব্য গ্রহণ করা থেকে নিষেধ করছি’’। (আবূ দাউদ ৩৬৭৭)

‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা ’উমর (রাঃ) মিম্বারে উঠে আল্লাহ্ তা‘আলার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরূদ পাঠের পর বললেন:

نَزَلَ تَحْرِيْمُ الْـخَمْرِ وَهِيَ مِنْ خَمْسَةٍ : الْعِنَبِ وَالتَّمْرِ وَالْعَسَلِ وَالْحِنْطَةِ وَالشَّعِيْرِ، وَالْـخَمْرُ مَا خَامَرَ الْعَقْلَ.

‘‘মদ হারাম হওয়ার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। তখন পাঁচটি বস্ত্ত দিয়েই মদ তৈরি হতো। আর তা হচ্ছে, আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম এবং যব। তবে মদ বলতে এমন সব বস্ত্তকেই বুঝানো হয় যা মানব ব্রেইনকে প্রমত্ত করে’’। (বুখারী ৪৬১৯, ৫৫৮১, ৫৫৮৮, ৫৫৮৯; মুসলিম ৩০৩২; আবূ দাউদ ৩৬৬৯)

আল্লাহ্ তা‘আলা ও তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ সংশ্লিষ্ট দশ শ্রেণীর লোককে লা’নত তথা অভিসম্পাত করেন।


আনাস্ বিন্ মালিক ও আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন:

لَعَنَ رَسُوْلُ اللهِ  فِيْ الْـخَمْرِ عَشْرَةً: عَاصِرَهَا، وَمُعْتَصِرَهَا، وَشَارِبَهَا، وَحَامِلَهَا، وَالْـمَحْمُوْلَةَ إِلَيْهِ، وَسَاقِيَهَا، وَبَائِعَهَا، وَآكِلَ ثَمَنِهَا، وَالْـمُشْتَرِيَ لَهَا، وَالْـمُشْتَرَاةَ لَهُ، وَفِيْ رِوَايَةٍ: لُعِنَتِ الْـخَمْرُ بِعَيْنِهَا، وَفِيْ رِوَايَةٍ: لَعَنَ اللهُ الْـخَمْرَ وَشَارِبَهَا.

‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদের ব্যাপারে দশ জন ব্যক্তিকে লা’নত বা অভিসম্পাত করেন: যে মদ বানায়, যে মূল কারিগর, যে পান করে, বহনকারী, যার নিকট বহন করে নেয়া হয়, যে অন্যকে পান করায়, বিক্রেতা, যে লাভ খায়, খরিদদার এবং যার জন্য খরিদ করা হয়। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, সরাসরি মদকেই অভিসম্পাত করা হয়। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ্ তা‘আলা অভিসম্পাত করেন মদ ও মদপানকারীকে ...’’। (তিরমিযী ১২৯৫; আবূ দাউদ ৩৬৭৪; ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৪৩, ৩৪৪৪)

কেউ দুনিয়াতে মদ পান করে থাকলে আখিরাতে সে আর মদ পান করতে পারবে না। যদিও সে জান্নাতী হোক না কেন যতক্ষণ না সে আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট খাঁটি তাওবা করে নেয়।

‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنْ شَرِبَ الْـخَمْرَ فِيْ الدُّنْيَا لَمْ يَشْرَبْهَا فِيْ الْآخِرَةِ إِلاَّ أَنْ يَّتُوْبَ، وَفِيْ رِوَايَةِ الْبَيْهَقِيْ: وَإِنْ أُدْخِلَ الْـجَنَّةَ.

‘‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করলো সে আর আখিরাতে মদ পান করতে পারবে না যতক্ষণ না সে খাঁটি তাওবা করে নেয়। ইমাম বায়হাক্বীর বর্ণনায় রয়েছে, যদিও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়’’। (বুখারী ৫২৫৩; মুসলিম ২০০৩; ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৩৬ বায়হাক্বী খন্ড ৩ হাদীস ৫১৮১ খন্ড ৮ হাদীস ১৭১১৩ শু‘আবুল্ ঈমান ২/১৪৮ সা’হীহুত্ তারগীবি ওয়াত্ তারহীবি, হাদীস ২৩৬১)

অভ্যস্ত মাদকসেবী মূর্তিপূজক সমতুল্য। সে জান্নাতে যাবে না।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مُدْمِنُ الْـخَمْرِ كَعَابِدِ وَثَنٍ.

’’অভ্যস্ত মাদকসেবী মূর্তিপূজক সমতুল্য’’। (ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৩৮)।


আবূ মূসা আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

مَا أُبَالِيْ شَرِبْتُ الْـخَمْرَ أَوْ عَبَدتُّ هَذِهِ السَّارِيَةَ مِنْ دُوْنِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ.

‘‘মদ পান করা এবং আল্লাহ্ তা‘আলা ব্যতিরেকে এ (কাঠের) খুঁটিটির ইবাদাত করার মধ্যে আমি কোন পার্থক্য করি না। কারণ, উভয়টিই আমার ধারণা মতে একই পর্যায়ের অপরাধ’’। (নাসায়ী ৫১৭৩ সা’হীহুত্ তারগীবি ওয়াত্ তারহীবি, হাদীস ২৩৬৫)

আবুদ্দারদা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

لَا يَدْخُلُ الْـجَنَّةَ مُدْمِنُ خَمْرٍ.

‘‘অভ্যস্ত মাদকসেবী জান্নাতে প্রবেশ করবে না’’। (ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৩৯)

কোন ব্যক্তি যে কোন মাদকদ্রব্য সেবন করে নেশাগ্রস্ত বা মাতাল হলে আল্লাহ্ তা‘আলা চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার কোন নামায কবুল করবেন না।

আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنْ شَرِبَ الْـخَمْرَ وَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا، وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ، فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ، وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا، فَإِنْ مَاتَ دَخَـلَ النَّارَ، فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ، وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا، فَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ، فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ، وَإِنْ عَادَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يَّسْقِيَهُ مِنْ رَدْغَةِ الْخَبَالِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، قَالُوْا: يَا رَسُوْلَ اللهِ! وَمَا رَدْغَةُ الْـخَبَالِ؟ قَالَ: عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ.

‘‘কেউ মদ পান করে নেশাগ্রস্ত হলে তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করা হবে না এবং এমতাবস্থায় তার মৃত্যু হলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তবে যদি সে খাঁটি তাওবাহ্ করে নেয় তা হলে আল্লাহ্ তা‘আলা তার তাওবাহ্ কবুল করবেন। এরপর আবারো যদি সে মদ পান করে নেশাগ্রস্ত হয় তা হলে আবারো তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করা হবে না এবং এমতাবস্থায় তার মৃত্যু হলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তবুও যদি সে খাঁটি তাওবাহ্ করে নেয় তা হলে আল্লাহ্ তা‘আলা তার তাওবাহ্ কবুল করবেন। এরপর আবারো যদি সে মদ পান করে নেশাগ্রস্ত হয় তা হলে আবারো তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করা হবে না এবং এমতাবস্থায় তার মৃত্যু হলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তবুও যদি সে খাঁটি তাওবাহ্ করে নেয় তা হলে আল্লাহ্ তা‘আলা তার তাওবাহ্ কবুল করবেন। এরপর আবারো যদি সে মদ পান করে নেশাগ্রস্ত হয় তখন আল্লাহ্ তা‘আলার দায়িত্ব হবে কিয়ামতের দিন তাকে ‘‘রাদ্গাতুল্ খাবা’ল্’’ পান করানো। সাহাবারা বললেন: হে আল্লাহ্’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ‘‘রাদ্গাতুল্ খাবা’ল্’’ কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তা হচ্ছে জাহান্নামীদের পুঁজ’’। (ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৪০)

মদ্যপায়ী ব্যক্তি মদ পানের সময় ঈমানদার থাকে না।


আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

لَا يَزْنِيْ الزَّانِيْ حِيْنَ يَزْنِيْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَسْرِقُ حِيْنَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَشْرَبُ الْـخَمْرَ حِيْنَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ ؛ وَلَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ فِيْهَا أَبْصَارَهُمْ حِيْنَ يَنْتَهِبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَالتَّوْبَةُ مَعْرُوْضَةٌ بَعْدُ.

‘‘ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে ঈমানদার থাকে না। চোর যখন চুরি করে তখন সে ঈমানদার থাকে না। মদ পানকারী যখন মদ পান করে তখন সে ঈমানদার থাকে না। লুটেরা যখন মানব জনসম্মুখে লুট করে তখন সে ঈমানদার থাকে না। তবে এরপরও তাদেরকে তাওবা করার সুযোগ দেয়া হয়’’।

(বুখারী ২৪৭৫, ৫৫৭৮, ৬৭৭২, ৬৮১০; মুসলিম ৫৭; আবূ দাউদ ৪৬৮৯; ইব্নু মাজাহ্ ৪০০৭)

স্বাভাবিকভাবে কোন এলাকায় মদের বহুল প্রচলন ঘটলে তখন পৃথিবীতে স্বভাবতই ভূমি ধস হবে, মানুষের আঙ্গিক অথবা মানসিক বিকৃতি ঘটবে এবং আকাশ থেকে আল্লাহ্’র আযাব অবতীর্ণ হবে।

’ইমরান বিন্ ’হুস্বাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

فِيْ هَذِهِ الْأُمَّةِ خَسْفٌ وَمَسْخٌ وَقَذْفٌ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْـمُسْلِمِيْنَ: يَا رَسُوْلَ اللهِ! وَمَتَى ذَاكَ؟ قَالَ: إِذَا ظَهَرَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْـمَعَازِفُ وَشُرِبَتِ الْـخُمُوْرُ.

‘‘এ উম্মতের মাঝে ভূমি ধস, মানুষের আঙ্গিক অথবা মানসিক বিকৃতি এবং আকাশ থেকে আল্লাহ্’র আযাব অবতীর্ণ হবে। তখন জনৈক মুসলিম বললেন: হে আল্লাহ্’র রাসূল! সেটা আবার কখন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যখন গায়ক-গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ্য প্রচলন ঘটবে এবং মদ্য পান করা হবে’’। (তিরমিযী ২২১২)

এতদুপরি মদ পানের পাশাপাশি মদ পান করাকে হালাল মনে করা হলে সে জাতির ধ্বংস তো একেবারেই অনিবার্য।

আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

إِذَا اسْتَحَلَّتْ أُمَّتِيْ خَمْسًا فَعَلَيْهِمُ الدَّمَارُ : إِذَا ظَهَرَ التَّلَاعُنُ، وَشَرِبُوْا الْـخُمُوْرَ، وَلَبِسُوْا الْـحَرِيْرَ، وَاتَّخَـذُوْا الْقِيَانَ، وَاكْتَفَى الرِّجَالُ بِالرِّجَالِ، وَالنِّسَاءُ بِالنِّسَاءِ.

‘‘যখন আমার উম্মত পাঁচটি বস্ত্তকে হালাল মনে করবে তখন তাদের ধ্বংস একেবারেই অনিবার্য। আর তা হচ্ছে, একে অপরকে যখন প্রকাশ্যে লা’নত করবে, মদ্য পান করবে, পুরুষ হয়ে সিল্কের কাপড় পরিধান করবে, গায়িকাদেরকে সাদরে গ্রহণ করবে, (যৌন ব্যাপারে) পুরুষ পুরুষের জন্য যথেষ্ট এবং মহিলা মহিলার জন্য যথেষ্ট হবে’’। সা’হীহুত্ তারগীবি ওয়াত্ তারহীবি, হাদীস ২৩৮৬)

ফিরিশ্তারা মদ্যপায়ীর নিকটবর্তী হন না।


আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

ثَلَاثَةٌ لَا تَقْرَبُهُمُ الْـمَلَائِكَةُ : الْـجُنُبُ وَالسَّكْرَانُ وَالْـمُتَضَمِّخُ بِالْـخَلُوْقِ.

‘‘ফিরিশ্তারা তিন ধরনের মানুষের নিকটবর্তী হন না। তারা হচ্ছে, জুনুবী ব্যক্তি (যার গোসল ফরয হয়েছে) মদ্যপায়ী এবং ‘‘খালূক্ব’’ (যাতে যা’ফ্রানের মিশ্রণ খুবই বেশি) সুগন্ধ মাখা ব্যক্তি’’। (সা’হীহুত্ তারগীবি ওয়াত্ তার্হীবি, হাদীস ২৩৭৪)

ঈমানদার ব্যক্তি যেমন মদ পান করতে পারে না তেমনিভাবে সে মদ পানের মজলিসেও উপস্থিত হতে পারে না।

জা’বির ও ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَشْرَبِ الْـخَمْرَ، مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَجْلِسْ عَلَى مَائِدَةٍ يُشْرَبُ عَلَيْهَا الْـخَمْرُ.

‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন মদ পান না করে এবং যে মজলিসে মদ পান করা হয় সেখানেও যেন সে না বসে’’। (আহমাদ ১৪৬৯২ ত্বাবারানী/কাবীর খন্ড ১১ হাদীস ১১৪৬২ আওসাত্ব, হাদীস ২৫১০; দা’রামী ২০৯২)

যে ব্যক্তি জান্নাতে মদ পান করতে ইচ্ছুক সে যেন দুনিয়াতে মদ পান না করে এবং যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করতে সক্ষম হয়েও তা পান করেনি আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই তাকে জান্নাতে মদ পান করাবেন।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَّسْقِيَهُ اللهُ الْـخَمْرَ فِيْ الْآخِرَةِ فَلْيَتْرُكْهَا فِيْ الدُّنْيَا، وَمَنْ سَرَّهُ أَنْ يَّكْسُوَهُ اللهُ الْـحَرِيْرَ فِيْ الْآخِرَةِ فَلْيَتْرُكْهُ فِيْ الدُّنْيَا.

‘‘যার মনে চায় যে, আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে আখিরাতে মদ পান করাবেন সে যেন দুনিয়াতে মদ পান করা ছেড়ে দেয় এবং যার মনে চায় যে, আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে আখিরাতে সিল্কের কাপড় পরাবেন সে যেন দুনিয়াতে সিল্কের কাপড় পরা ছেড়ে দেয়’’। (ত্বাবারানী/আওসাত্ব খন্ড ৮ হাদীস ৮৮৭৯)

আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: مَنْ تَرَكَ الْـخَمْرَ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَيْهِ لَأَسْقِيَنَّهُ مِنْهُ فِيْ حَظِيْرَةِ الْقُدُسِ.

‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন: যে ব্যক্তি মদ পান করতে সক্ষম হয়েও তা পান করেনি আমি তাকে অবশ্যই জান্নাতে মদ পান করাবো’’। (সা’হীহুত্ তারগীবি ওয়াত্ তার্হীবি, হাদীস ২৩৭৫)

যে ব্যক্তি প্রথম বারের মতো নেশাগ্রস্ত হয়ে নামায পড়তে পারলো না সে যেন দুনিয়া ও দুনিয়ার উপরিভাগের সব কিছুর মালিক ছিলো এবং তা তার থেকে একেবারেই ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।


আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ব (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ سُكْرًا مَرَّةً وَاحِدَةً ؛ فَكَأَنَّمَا كَانَتْ لَهُ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا فَسُلِبَهَا، وَمَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ سُكْرًا كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يَّسْقِيَهُ مِنْ طِيْنَةِ الْخَبَالِ، قِيْلَ: وَمَا طِيْنَةُ الْخَبَالِ؟ قَالَ: عُصَارَةُ أَهْلِ جَهَنَّمَ.

‘‘যে ব্যক্তি প্রথম বারের মতো নেশাগ্রস্ত হয়ে নামায ছেড়ে দিলো সে যেন দুনিয়া ও দুনিয়ার উপরিভাগের সব কিছুর মালিক ছিলো এবং তা তার থেকে একেবারেই ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আর যে ব্যক্তি চতুর্থ বারের মতো নেশাগ্রস্ত হয়ে নামায ছেড়ে দিলো আল্লাহ্ তা‘আলার দায়িত্ব হবে তাকে ‘‘ত্বীনাতুল্ খাবাল্’’ পান করানো। জিজ্ঞাসা করা হলো: ‘‘ত্বীনাতুল্ খাবাল্’’ বলতে কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তা হচ্ছে জাহান্নামীদের পুঁজরক্ত’’। (হা’কিম ৭২৩৩ বাইহাক্বী, হাদীস ১৬৯৯, ১৭১১৫ ত্বাবারানী/আওসাত্ব, হাদীস ৬৩৭১; আহমাদ ৬৬৫৯)

কোন রোগের চিকিৎসা হিসেবেও মদ পান করা যাবে না।

ত্বারিক্ব বিন্ সুওয়াইদ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চিকিৎসার জন্য মদ তৈরি করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন:

إِنَّهُ لَيْسَ بِدَوَاءٍ، وَلَكِنَّهُ دَاءٌ.

‘‘মদ তো ওষুধ নয় বরং তা রোগই বটে’’। (মুসলিম ১৯৮৪; আবূ দাউদ ৩৮৭৩)

উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

إِنَّ اللهَ لَمْ يَجْعَلْ شِفَاءَكُمْ فِيْمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ.

‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা হারাম বস্ত্তর মধ্যে তোমাদের জন্য কোন চিকিৎসা রাখেননি’’। (বাইহাক্বী, হাদীস ১৯৪৬৩ ইব্নু হিববান খন্ড ৪ হাদীস ১৩৯১)

নামের পরিবর্তনে কখনো কোন জিনিস হালাল হয়ে যায় না। সুতরাং নেশাকর দ্রব্য যে কোন আধুনিক নামেই সমাজে চালু হোক না কেন তা কখনো হালাল হতে পারে না। অতএব তামাক, সাদাপাতা, জর্দা, গুল, পচা তথা মদো সুপারি ইত্যাদি হারাম। কারণ, তা নেশাকর। সামান্য পরিমাণেই তা খাওয়া হোক অথবা বেশি পরিমাণে। পানের সাথেই তা খাওয়া হোক অথবা এমনিতেই চিবিয়ে চিবিয়ে। ঠোঁট ও দাঁতের মাড়ির ফাঁকেই সামান্য পরিমাণে তা রেখে দেয়া হোক অথবা তা গিলে ফেলা হোক। নেশা হিসেবেই তা ব্যবহার করা হোক অথবা অভ্যাসগতভাবে। মোটকথা, উহার সর্বপ্রকার ও সর্বপ্রকারের ব্যবহার সবই হারাম।

আবূ উমামাহ্ বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

لَا تَذْهَبُ اللَّيَالِيْ وَالْأَيَّامُ حَتَّى تَشْرَبَ فِيْهَا طَائِفَةُ مِنْ أُمَّتِيْ الْـخَمْرَ ؛ يُسَمُّوْنَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا.

‘‘রাত-দিন যাবে না তথা কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না আমার একদল উম্মত মদ পান করে। তবে তা মদের নামেই পান করবে না বরং অন্য নামে’’। (ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৪৭)

’উবাদাহ্ বিন্ স্বামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

يَشْرَبُ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِيْ الْـخَمْرَ بِاسْمٍ يُسَمُّوْنَهَا إِيَّاهُ.

‘‘আমার একদল উম্মত মদ পান করবে। তবে তা নতুন নামে যা তারা তখন আবিষ্কার করবে’’। (ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৪৮)।


কেউ কেউ আবার মদ পান না করলেও মদের ব্যবসার সাথে যে কোনভাবে অবশ্যই জড়িত। মদ পান না করলেও মদ বিক্রির টাকা খান। ধূমপান না করলেও সিগারেট ও বিড়ি বিক্রির টাকা খান। ধূমপান না করলেও তিনি সাদাপাতা, গুল ও জর্দা খাওয়ায় সরাসরি জড়িত। বরং কেউ কেউ তো কথার মোড় ঘুরিয়ে অথবা কুর‘আন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা করে তা হালাল করতে চান। অন্যকে ধূমপান করতে নিষেধ করলেও নিজের পেটে কেজি কেজি সাদাপাতা ও জর্দা ঢুকাতে লজ্জা পান না। তাদের অবশ্যই আল্লাহ্ তা‘আলাকে ভয় করা উচিৎ। নিজে ভালো হতে না পারলেও অন্যকে ভালো হতে সুযোগ দেয়া উচিৎ। আল্লাহ্’র লা’নতকে অবশ্যই ভয় পেতে হবে।

‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

لَمَّا نَزَلَتِ الْآيَاتُ مِنْ آخِرِ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ فِيْ الرِّبَا ؛ خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ  فَحَرَّمَ التِّجَارَةَ فِيْ الْـخَمْرِ.

‘‘যখন সুদ সংক্রান্ত সূরাহ বাক্বারাহ্’র শেষ আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয় তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ ঘর থেকে বের হয়ে মদের ব্যবসা হারাম করে দেন’’। (আবূ দাউদ ৩৪৯০, ৩৪৯১; ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৪৫)

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

إِنَّ اللهَ حَرَّمَ الْـخَمْرَ وَثَمَنَهَا، وَحَرَّمَ الْـمَيْتَةَ وَثَمَنَهَا، وَحَرَّمَ الْـخِنْزِيْرَ وَثَمَنَهُ.

‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা মদ হারাম করে দিয়েছেন এবং উহার বিক্রিমূল্যও। মৃত হারাম করে দিয়েছেন এবং উহার বিক্রিমূল্যও। শূকর হারাম করে দিয়েছেন এবং উহার বিক্রিমূল্যও’’। (আবূ দাউদ ৩৪৮৫)

আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

لَعَنَ اللهُ الْيَهُوْدَ ـ ثَلَاثًا ـ إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَبَاعُوْهَا وَأَكَلُوْا أَثْمَانَهَا، وَإِنَّ اللهَ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكْلَ شَيْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ وَفِيْ رِوَايَةِ ابْنِ مَاجَةَ: فَجَمَلُوْهَا فَبَاعُوْهَا.

‘‘আল্লাহ্ তা‘আলার লা’নত পড়ুক ইহুদিদের উপর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত বদ্দো‘আটি তিন বার দিয়েছেন। কারণ, আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের উপর চর্বি হারাম করে দিয়েছেন। তখন তারা তা সরাসরি না খেয়ে তা বিক্রি করে বিক্রিলব্ধ পয়সা খেলো। অথচ তাদের এ কথা জানা নেই যে, আল্লাহ্ তা‘আলা কোন সম্প্রদায়ের উপর কোন কিছু খাওয়া হারাম করে দিলে উহার বিক্রিমূল্যও হারাম করে দেন। ইব্নু মাজাহ্’র বর্ণনায় রয়েছে, যখন তাদের উপর চর্বি হারাম করে দেয়া হয় তখন তারা চর্বিগুলো একত্র করে আগুনের তাপে গলিয়ে বাজারে বিক্রি করে দিলো’’। (আবূ দাউদ ৩৪৮৫; ইব্নু মাজাহ্ ৩৪৪৬)

মদ্যপান কিয়ামতের আলামতগুলোর অন্যতম।


আনাস্ বিন্ মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ: أَنْ يَّظْهَرَ الْـجَهْلُ، وَيَقِلَّ الْعِلْمُ، وَيَظْهَرَ الزِّنَا، وَتُشْرَبَ الْـخَمْرُ، وَيَقِلَّ الرِّجَالُ، وَيَكْثُرَ النِّسَاءُ، حَتَّى يَكُوْنَ لِـخَمْسِيْنَ اِمْرَأَةً قَيِّمُهُنَّ رَجُلٌ وَاحِدٌ.

‘‘কিয়ামতের আলামতগুলোর মধ্যে এও যে, মূর্খতা বিস্তার লাভ করবে, জ্ঞান কমে যাবে, ব্যভিচার বেড়ে যাবে, মদ পান করা হবে, পুরুষ কমে যাবে এবং মহিলা বেড়ে যাবে। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার দায়িত্বশীল শুধু একজন পুরুষই হবে’’। (বুখারী ৫৫৭৭; মুসলিম ২৬৭১)

আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন(আমীন)।

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...