4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: মদ খেয়ে মাতাল না হলে নামাজ হবে? > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪

মদ খেয়ে মাতাল না হলে নামাজ হবে?



বর্তমানের ভাইরাল মৌলভী আহামাদুল্লাহ শায়েখ সাহেব এই মর্মে ফতোয়া দিয়েছেন যে কেউ মদ খেয়ে মাতাল না হলে নাকি নামাজ হবে। আমি বলি উনার এই ফতোয়া সম্পূর্ণ মিথ্যা ও চরম গাঁজাখুরী। আসুন উনার ফতোয়া যে মিথ্যা তা কোরআন ও হাদিস হতে প্রমান করি।

আবদুল্লাহ বিন উমার রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ মদ পান করে, আল্লাহ তার ৪০ দিনের নামাজ কবুল করেন না। যদি এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে জাহান্নামি হবে। কিন্তু যদি সে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এর পর যদি দ্বিতীয়বার মাদক গ্রহণ করে তাহলে তার ৪০ দিনের নামাজ কবুল হবে না। তবে যদি দ্বিতীয়বার তওবা করে, আল্লাহ তওবা কবুল করবেন। এরূপে যদি চতুর্থবার সে আবারও মদ পান করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালার ওপর হক হয়ে যায় যে, তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘মদ সব অশ্লীলতার মূল ও মারাত্মক কবিরা গুনাহ।’ এও বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি মদ পান করল সে যেন আপন মা, খালা ও ফুফুর সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত হলো’ (তাবরানি শরিফ)।

হাদিসের মান সহীহ।


নবীজী সাঃ এর হাদীস কতটা যুক্তিযুক্ত এ প্রশ্ন করাই অবান্তর। আল্লাহ্‌র রাসুল সাঃ হাদীসে যা বলেছেন যেভাবে বলেছেন তার সবই সত্য এবং অবশ্য মাননীয়।

হাদীসঃ

১- عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ شَأْنَ الْخَمْرِ بِشَيْءٍ، فَقَالَ: نَعَمْ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ رَجُلٌ مِنْ أُمَّتِي فَيَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ صَلَاةً أَرْبَعِينَ يَوْمًا»

আলী ইবন হুজুর (রহঃ) … উরওয়া ইবন রুওয়ায়ম (রহঃ) বলেন, একদা ইবন দায়লামী (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ)-এর খোঁজে সওয়ার হলেন। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। জিজ্ঞাসা করলামঃ হে আবদুল্লাহ্ ইবন আমর! আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মদ সম্বন্ধে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মতের কেউ শরাব পান করলে আল্লাহ তা’আলা তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করবেন না। [সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৫৬৬৪]
(হাদিসের মান টন টনে সহীহ।)

ইসলামে মদ বা নেশা জাতীয় বস্তু অর্থাৎ মাদক গ্রহণ কিংবা সেবন করা যেমন হারাম, তেমনি এর ব্যবসা, এ কাজে সাহায্য এবং এ কাজের জন্য বাড়িঘর ও দোকান ভাড়া দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনুল কারিমে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মদ পান করা, তা বিক্রি এবং এর থেকে উপহার লাভ করা হারাম’ (বোখারি শরিফ, হাদিস ২২২৩)।
মাদকদ্রব্যকে শরিয়ত ‘উম্মুল খবায়েছ’ বা সব ধরনের জঘন্যতার আকর বলে অভিহিত করেছে। মাদকদ্রব্য যেহেতু সব চরিত্রহীনতার মূল, সে জন্য মাদকসেবীদের বেলায় শরিয়ত অত্যন্ত কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করেছে। মাদকদ্রব্য পরিহার করার জন্য এর ব্যবসাকেও শরিয়ত হারাম করে দিয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, যখন সুরা বাকারার শেষ দিকের আয়াতগুলো নাজিল হলো, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন এবং ইরশাদ করলেন, ‘মদের ব্যবসাকে হারাম করা হয়েছে’ (বোখারি শরিফ, হাদিস ৪৪৫)। মুসলিম শরিফের এক বর্ণনায় রয়েছে, ‘যা পান করা হারাম, তার ক্রয়-বিক্রয়ও হারাম।’
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা-দেবী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরগুলো নাপাক, শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো’ (সুরা মায়েদা, আয়াত ৯০)। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমার রব তাঁর মহাক্ষমতার কসম করে বলেছেন, আমার বান্দাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সামান্য এক ঢোক মদ পান করল, আমি নিশ্চয়ই তাকে অনুরূপ দোজখিদের পচা পুঁজ পান করাব’ (মেশকাত শরিফ, হাদিস ৩১৮)।

হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “সব নেশা জাতীয় দ্রব্যই ‘খমর’ তথা মদের অন্তর্ভুক্ত। আর সব ধরনের মাদকই হারাম” (মুসলিম শরিফ)।

মাদক ও মাদকাসক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণির লোকের প্রতি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন। তারা হলো– ১. যে লোক মদের নির্যাস বের করে, 

২. প্রস্তুতকারক, 

৩. মদ পানকারী, 

৪. যে পান করায়. 

৫. মদের আমদানিকারক, 

৬. যার জন্য আমদানি করা হয়, 

৭. ক্রেতা, 

৮. বিক্রেতা, 

৯. সরবরাহকারী এবং 

১০. মাদক ব্যবসায় লভ্যাংশ ভোগকারী। মহান আল্লাহ আমাদের মাদক বিষয়ক ইসলামী বিধিবিধান জেনে তা থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দিন এবং এই পথ ভ্রষ্ট শায়েখদের নষ্টামী হতে আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করুন(আমীন)।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...