4547715 ডা.বশির আহাম্মদ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

ব্যাক্টিরিয়াল ক্যারাটাইটিস(Bacterial keratitis)

 ব্যাক্টেরিয়াল ক্যারাটাইটিস





ব্যাক্টেরিয়াল ক্যারাটাইটিস এমন একটি চোখের রোগ যাতে কর্নিয়াল আলসার, স্ট্রমাল এবসেস ও ইডিমা দ্বারা চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।



ক্যারাটাইটিসের কারণ?
১। সংক্রমন যেমন-
স্ট্যাফাইলো কক্কাস অরিয়াস, স্ট্যাফাইলো কক্কাস  এপিডার্মাইটিস, স্ট্যাফাইলো কক্কাস নিয়োমনিয়া,সিউডোমোনাস, নাইজেরি গ্রুপের ব্যাক্টেরিয়া।




২। তাছাড়াও  ফাঙ্গাল উদ্ভিদ, ভাইরাল সংক্রমণ, শারীরিক, রাসায়নিক উপাদান, এলার্জি প্রতিক্রিয়া, বিপাকীয় রোগ।

অন্যান্য কারণ যেমন
কর্নীয়ার ক্ষয়;
আঘাতমূলক ক্যারাটাইটিস;
ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রামক কেরা টাইটিস;
ভাইরাল মায়ল্লোর কেরাটাইটিস (মহামারী কারাটোকেনজেন্টিটিটিস, প্রাকৃতিক এবং ভ্যারিসেলা সঙ্গে আলসার);

ফুলেল কের্যাটাইটিস - কেরিটোমকোসিস;
keratitis, চোখ উঠা দ্বারা সৃষ্ট, চোখের পাতা, lacrimal অঙ্গ রোগ, meybolievyh গ্রন্থি lagophthalmos, meybolievye keratitis এ keratitis।

সংক্রামক: সিফিলিটিক, টিউবুলার, ম্যালেরিয়াল, ব্রুসোলসিস, কুষ্ঠ;
নিউরোজনিক (নিউরোপ্যার্যাটিকাল, হারপেটিক, পুনরাবৃত্ত কার্নিয়ার ক্ষয় - পোড়া কারণে হতে পারে);
ভিটামিন - ভিটামিন এ, বি 1, বি ২, সি এর অভাব।


এটি উভয় exogenous এবং অন্তঃসত্ত্বিক মূল একটি বিভিন্ন etiology এর কারনে হয়। 


লক্ষন:
* ফরেন বডি অনুভুতি।
* ব্যাথা।
* আলোক সংবেদনশীলতা।
* পানি পড়া।
* ডিসচার্জ বা ময়লা বের হওয়া
* দৃষ্টি স্বল্পতা।


কর্নিয়া এর রুক্ষ পৃষ্ঠ কারণে epithelium ক্ষত -  ফরেন বডি অপসারণের বিচ্ছিন্নকরণ, ফটো সেনসেটিভিটি কমে যায়, কিন্তু ফরেন বডি সংবেদন, অস্বস্থি অনুভব।

পরীক্ষা: কর্নিয়াল স্ক্রেপিং দিয়ে সংক্রমনের কারন জানা যায়।

এই লক্ষন আর যে সকল রোগে থাকতে পারেঃ
* হার্পিস সিমপ্লেক্স কেরাটাইটিস।
ব্লেফারাইটিস
* ক্যারাটো কনজাংক্টিভাইটিস সিক্ককা ইত্যাদি।

প্রাথমিক চিকিৎসাঃ
* কনটাক্ট লেন্স পড়া বন্ধ করতে হবে।
* ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করতে হবে।



নির্দিষ্ট চিকিৎসা:
* কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে।
* ব্যাক্টেরিয়ার কারনে হলে এন্টিবায়োটিক দিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে নিভোফ্লক্সাসিন ১ ঘন্টা পর পর ১ম ৭২ ঘন্টা দিতে হবে তার পর চার বার করে।

*ফাংগাসের কারনে হলে সিস্টেমিক ও লোকাল এন্টিফাঙ্গাল যেমন ইট্রাকোনাজল, ফ্লুকোনাজল ইত্যাদি কার্যকরি।
তাছাড়াও অন্যান্য কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করলে ফলাফল পাওয়া যায়।


নিজের পাযে কুড়াল মারছে নাতো বিএনপি?

 নিজের পায়ে কুড়াল মারছে নাতো বিএনপি?


আমার আজকের পোস্টটা হয়ত অনেকেই পড়বেন না, বা পড়লেও এর সারমর্ম উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন না, কিন্তু আমার এই পোষ্ট একদিন ইতিহাস হয়ে দাঁড়াবে।

গত ৫ ডিসেম্বর ২৪ ছাত্র দল একটা বৈঠক করলো। ছাত্রদল ঐ দিন ৩০টা ছাত্র সংগঠন নিয়ে বৈঠক করেলো। দুই সংগঠন দাওয়াত পায়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আর ছাত্রশিবির!

কিন্তু কেনো? এটা দিয়ে ছাত্র দল কি বার্তা দিলো জাতিকে? ছাত্রদল কি ২০২৪ আন্দোলন ধারন করছে না? তারা আবার নোটিশ জারিও করেছে যে ছাত্রদলের কেউ ছাত্র শিবির ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে বৈঠকে যেনো না যায়।

তারা ২৪ আন্দোলনের স্পিরিট বাদ দিয়ে কি করতে চাচ্ছে? জাতির সামনে ছাত্রদল যে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে তার মোকাবেলা কিভাবে করবে? কেননা, বর্তমান বাংলাদেশীদের মুক্তি ও স্বাধীনতার চেতনাই তো ২০২৪ বিপ্লব? তাইলে কি বিপ্লব পরবর্তীতে ছাত্রদল বিপ্লবী চেতনা ধারন করে না?

বাংলাদেশের মানুষের সামনে পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি কি নিয়ে ভোট চাইবে? যদি ২৪ বিপ্লবের চেতনা ছাত্রদল অস্বীকার করে বা পাশ কাটিয়ে যায় তাইলে কোন আদর্শ নিয়ে আর কিসের স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষের রায় আশা করবে? নাকি মূল বিএনপি আর ছাত্রদলের আদশ আলাদা হয়ে গেছে? ছাত্রদল কি এখন বিএনপির নিয়ন্ত্রনে নাই? নাকি বর্তমান ছাত্রদলের আদর্শ ও কর্ম প্রক্রিয়াই বিএনপির কর্ম প্রক্রিয়া।নাকি জনগনের পালস্ বুঝতে অক্ষম বিএনপি ও ছাত্রদল?হাসিনাও কিন্তু ছেলেদের পালস্ বুঝতে অক্ষমতার কারনেই পালাতে হয়েছে।

নিজের পায়ে কুড়াল মারছে না তো বিএনপি ও ছাত্রদল? বুঝতে হলে আমরা আরো অপেক্ষা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪

এ্যাসটিগম্যাটিজম(Astigmatism)

 এসটিগমেটিজম(Astigmatism)



Astigmatism একটি সাধারণ দৃষ্টি ত্রুটি যা কর্নিয়ার আকারে অসমতার কারণে ঘটে।এই সমস্যায় লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে তবে ঝাপসা দৃষ্টি এবং রাতে দেখতে অসুবিধা অন্তর্ভুক্ত সবারই থাকতে পারে।

দৃষ্টির সাথে,ল চোখের লেন্স বা কর্নিয়া যা চোখের সামনের পৃষ্ঠ, একটি অনিয়মিত বক্র তল রয়েছে। এটি চোখের রেটিনায় আলো যাওয়ার পথ বা প্রতিসরণ পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে ঝাপসা, অস্পষ্ট বা বিকৃত দৃষ্টি দেখা যায়।

দূরদৃষ্টি এবং অদূরদর্শিতা হল আপনার রেটিনায় যেভাবে আলো যায় তার উপর ভিত্তি করে দুই ধরনের সমস্যা। দূরদৃষ্টিকে হাইপারোপিয়া বলা হয়। অদূরদর্শিতাকে মায়োপিয়া বলা হয়।

এসটিগমেটিজম একটি সাধারণ দৃষ্টি ত্রুটি যা কর্নিয়ার আকারে ত্রুটির কারণে ঘটে। লক্ষণগুলি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে আলাদা হতে পারে তবে ঝাপসা দৃষ্টি এবং রাতে দেখতে অসুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

দৃষ্টিভঙ্গির সাথে, চোখের লেন্স বা কর্নিয়া, যা চোখের সামনের পৃষ্ঠ, একটি অনিয়মিত বক্ররেখা রয়েছে। এটি আপনার রেটিনায় আলো যাওয়ার উপায় বা প্রতিসরণ পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে ঝাপসা, অস্পষ্ট বা বিকৃত দৃষ্টি দেখা যায়।

দূরদৃষ্টি এবং অদূরদর্শিতা হল আপনার রেটিনায় যেভাবে আলো যায় তার সাথে অন্য দু'টি ধরনের সমস্যা। দূরদৃষ্টিকে হাইপারোপিয়া বলা হয়। অদূরদর্শিতাকে মায়োপিয়া বলা হয়।


এসটিগমেটিজমের প্রকার:

এসটিগমেটিজম দুটি প্রধান প্রকার হল কর্নিয়াল এবং লেন্টিকুলার। কর্নিয়ায় কোনো ত্রুটি বা বিকৃতি হলেই কর্নিয়ার এসটিগমেটিজম দেখা দেয়। একটি লেন্টিকুলার অ্যাস্টিগমেটিজম ঘটে যখন লেন্সে বিকৃতি ঘটে।

Astigmatisms কখনও কখনও নিয়মিত বা অনিয়মিত হিসাবে বর্ণনা করা হয়। একটি নিয়মিত এসটিগমেটিজম দেখা দেয় যখন চোখ সম্পূর্ণভাবে বাঁকা হয় না। তাই বাস্কেটবলের মতো গোলাকার না হয়ে এটি ফুটবলের আকার নিতে পারে। এটি প্রায়শই ঝাপসা, বিকৃত দৃষ্টির দিকে পরিচালিত করে।

একটি এসটিগমেটিজম যা সাধারনত কম, এছাড়াও যখন চোখ সম্পূর্ণরূপে বৃত্তাকার না হয় তখন হয়। কিন্তু একটি রেগুলার এসটিগমেটিজম থেকে ভিন্ন, যেখানে চোখ সমানভাবে মিসশেপ করা হয়, একটি অনিয়মিত দৃষ্টির একটি অসম বক্রতা থাকে। এইটি দৃষ্টি ত্রুটি এবং অস্পষ্টতা সৃষ্টি করে।


এসটিগমেটিজমের কারণ কী?

Astigmatism এর কারণ কী তা সঠিক জানা নেই, তবে জেনেটিক্স একটি বড় কারণ। এটি প্রায়শই জন্মগত ভাবে হয়ে থাকে, তবে এটি পরবর্তী জীবনেও হতে পারে। এটি চোখে আঘাতের ফলে বা চোখের অস্ত্রোপচারের পরেও ঘটতে পারে। এসটিগম্যাটিজম প্রায়ই অদূরদর্শিতা বা দূরদৃষ্টির সাথে ঘটে।

কখনও কখনও কেরাটোকোনাস(Keratoconus) নামক একটি বিরল অবস্থা Astigmatism সৃষ্টি করে। চোখের এই রোগটি কর্নিয়াকে প্রভাবিত করে, যার ফলে কর্নিয়ার স্পষ্ট টিস্যু পাতলা হয়ে যায় এবং বেরিয়ে আসে। এটি অসচ্ছতা বা ঝাপসা দৃষ্টি এবং উজ্জ্বল আলোর প্রতি সংবেদনশীলতার দিকে পরিচালিত করে। কেরাটোকোনাসের কারণও অজানা, তবে এটি বংশগত বলেও বিশ্বাস করা হয়।

মনে রাখবেন যে কম আলোতে পড়ার সময় চোখের ফোকাস করা কঠিন করে তুলতে পারে, এটি দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করে না বা এ্যাসটিমেটিজম সৃষ্টি করে না। যাইহোক, যদি আপনার চোখে আগে থেকেই এই সমস্যা থাকে, এবং আপনি কম আলোতে পড়েন, তাহলে আপনি ক্রমবর্ধমান অস্পষ্টতা লক্ষ্য করতে পারেন।

এ্যাসটিগম্যাটিজমের রিস্ক ফেক্টরঃ

‌‌© শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের মধ্যেই অ্যাস্টিগমেটিজম হতে পারে।

© এই রোগের পারিবারিক ইতিহাস, যেমন কেরাটোকোনাস (কর্ণিয়ার অবক্ষয়)

© কর্নিয়ার দাগ বা পাতলা হয়ে যাওয়া অত্যধিক দূরদৃষ্টি, যা দূরত্বে ঝাপসা দৃষ্টি তৈরি করে।

©অত্যধিক দূরদৃষ্টি, যা ঘোলাটে ঘনিষ্ঠ দৃষ্টি তৈরি করে

© নির্দিষ্ট ধরনের চোখের অস্ত্রোপচারের ইতিহাস, যেমন ছানি অস্ত্রোপচার। 

লক্ষন সমূহঃ
  • blurry, distorted, or fuzzy vision at all distances (up close and far away) যেকোনো দরত্ব দেখতে সমস্যা
  • difficulty seeing at night  রাতে দৃষ্টি সমস্যা
  • eyestrain৷ চোখে ব্যথা
  • squinting বা ট্যারা
  • eye irritation চোখে অস্বস্তি
  • headache বা মাথা ব্যথা।


চিকিৎসা: নির্দিষ্ট পাওয়ারের চশমা ব্যবহার।

চোখের ছানী(Cataract)

 ছানী(Cataract) 


 


কোনো কারনে যদি চোখের লেন্স (Lense) তার স্বচ্ছতা হারিয়ে দৃষ্টি শক্তি হ্রাস করে তখনই  তাকে ছানী(Cataract) বলে। এটি ধীরে ধীরে বিকাশ হয় এবং অবশেষে দৃষ্টিত শক্তি কমিয়ে দেয়। 

ছানি তখনই শুরু হয় যখন চোখের প্রোটিন গুচ্ছ তৈরি করে যা লেন্সকে রেটিনায় স্পষ্ট ছবি পাঠাতে বাঁধা দেয়। লেন্সের মধ্য দিয়ে আসা আলোকে সংকেতে রূপান্তর করে রেটিনা কাজ করে।

উভয় চোখেই এক সাথে ছানি পড়তে পারে তবে সাধারণত একই সময়ে দু চোখে ছানী হতেও পারে আবার বিভিন্ন সময়েও হতে পারে।

বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশী ছানি দেখা যায়। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট ট্রাস্টেড সোর্স অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি লোকের ছানি আছে বা 80 বছর বয়সে তাদের ছানি অপারেশন করা হয়েছে। তবে তা যেকোনো বয়সেই হতে পারে।


ছানি রোগের লক্ষণসমূহঃ

★ঝাপসা দৃষ্টি

★রাতে দেখতে সমস্যা

★বিভিন্ন রং দেখতে সমসঢ়া

★একদৃষ্টিতে দেখতে সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি

★আলোর চারপাশে বর্ণ বিভ্ম তৈরী

★একটি বস্তুকে দুটি দেখা


ছানি পড়ার কারণঃ

ছানি পড়ার বেশ কিছু অন্তর্নিহিত কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

©Oxydent অতিরিক্ত উৎপাদন, যা অক্সিজেন অণুর রাসায়নিকভাবে স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনের কারণে পরিবর্তিত হয়।

©ধূমপান

©অতিবেগুনী বিকিরণে কাজ করা

©স্টেরয়েড এবং অন্যান্য ওষুধের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার

©নির্দিষ্ট কিছু রোগ, যেমন ডায়াবেটিস,

©চোখে আঘাত

©বিকিরণ থেরাপি।

ছানীর প্রকারভেদঃ
ছানী পড়ার কারনের উপর ভিত্তি করে,
  • (নিউক্লিয়ার)Nuclear cataracts form in the middle of the lens and cause the nucleus, or the center, to become yellow or brown.
  • (কর্টিক্যাল)Cortical cataracts are wedge-shaped and form around the edges of the nucleus.
  • Posterior capsular cataracts form faster than the other two types and affect the back of the lens.
  • (জন্মগত)Congenital cataracts, which are present at birth or form during a baby’s first year, are less common than age-related cataracts.
  • Secondary cataracts are caused by disease or medications. Diseases that are linked with the development of cataracts include glaucoma and diabetes. The use of the steroid prednisone and other medications can sometimes lead to cataracts.
  • (আঘাত জনিত)Traumatic cataracts develop after an injury to the eye, but it can take several years for this to happen.
  • (অতি বেগুনী রশ্মি জনিত)Radiation cataracts can form after a person undergoes radiation treatment for cancer.



ছানির সাথে যুক্ত ঝুঁকির কারণঃ

ছানি সম্পর্কিত ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে রয়েছে,

*বয়স্ক বয়স

*ভারী অ্যালকোহল ব্যবহার

*ধূমপান

*স্থূলতা

*উচ্চ রক্তচাপ

*চোখে পুরোনো আঘাত

*ছানি রোগের একটি পারিবারিক ইতিহাস

*খুব বেশি সূর্যের এক্সপোজার

*ডায়াবেটিস

*এক্স-রে এবং ক্যান্সার চিকিত্সা থেকে বিকিরণ এক্সপোজার




ছানি নির্ণয়ঃ
ডাক্তার ছানি পরীক্ষা করার জন্য এবং দৃষ্টি মূল্যায়ন করার জন্য একটি ব্যাপক চক্ষু পরীক্ষা করবেন। এতে বিভিন্ন দূরত্বে দৃষ্টি পরীক্ষা করার জন্য একটি চোখের চার্ট পরীক্ষা এবং চোখের চাপ পরিমাপের জন্য টোনোমেট্রি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সবচেয়ে সাধারণ টোনোমেট্রি পরীক্ষা কর্নিয়া সমতল করতে এবং আপনার চোখের চাপ পরীক্ষা করতে একটি ব্যথাহীন পাফ বায়ু ব্যবহার করে। আোকের মনি বড় করার জন্য আপনার ডাক্তার চোখে ডায়লেট ড্রপ দেবেন চোখের পিছনে অপটিক স্নায়ু এবং রেটিনা পরীক্ষা করার জন্য।




চিকিৎসাঃ
ছানী অপারেশন।

ছানি প্রতিরোধঃ
আপনার ছানি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে,
$ বাইরে সানগ্লাস পরে UVB রশ্মি থেকে আপনার চোখকে রক্ষা করুন

$ নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করুন

$ ধূমপান বন্ধ করুন

$ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে এমন ফল এবং সবজি খান

$ ওজন নিয়ন্ত্রন

$ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন এবং অন্যান্য রোগ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ।

বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪

হাসিনা ভারতকে যা দিলো

 ১৬ বছরে হাসিনা ভারতকে যা দিলো




ভারতকে যা দিয়েছি সেটি তারা সারা জীবন মনে রাখবে’—উক্তিটি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে যিনি পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন ভারতেই। বর্তমানে তিনি ভারতের আতিথিয়েতায় দেশটিতে অবস্থান করছেন। সেই স্বৈরশাসকের উক্তির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসনসহ জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে—ভারতকে কী দিয়েছেন শেখ হাসিনা?

 গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে অন্তত ২০টি চুক্তি ও ৬৬টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। অন্তবর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দাবি, এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের অধিকাংশতেই উপেক্ষিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বার্থ। ফলে চুক্তিগুলো পর্যালোচনায় উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সরকারের একাধিক উপদেষ্টা।

ভারত ট্রানজিট পেলেও ‘সিঙ্গাপুরের মতো’ হয়নি বাংলাদেশঃ

২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রতিবেশি দেশ ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার বিষয়টি জোরেশোরে আলোচনায় আসে। সে সময়ের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী ও আমলাদের মুখেমুখে ছিল সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, দুবাইয়ের মতো হয়ে উঠছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামো। অনেকে দেশটিকে খুব শিগগির ইউরোপ-আমেরিকার দেশের সঙ্গেও তুলনা হবে বলে প্রচারণা শুরু করেন। ‘ভারতকে ট্রানজিট দিলে’ এই সম্ভাবনার দ্বারে খুব অল্প সময়েই পৌঁছাবে বলে আলোচনা হচ্ছিল। যদিওর ওই সময় প্রস্তাবিত ট্রানজিটের বিপক্ষে বিএনপিসহ বিরোধী দল ও মতের মানুষ তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে। তাতে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজ সিদ্ধান্তের পথে হেঁটে যায় শেখ হাসিনার সরকার।

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশ প্রথম নৌ-ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষর করে ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে। এর আগে নৌ-মন্ত্রণালয় চুক্তির খসড়া পর্যালোচনা করে মতামত চেয়ে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। আইন মন্ত্রণালয় নেতিবাচক মতামত দিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণসহ তিন দফায় চুক্তির খসড়াটি নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগ সূত্র বলছে, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার বিনিময়ে কোনো ধরনের শূল্ক বা ট্যারিফ আরোপের বিষয়টি চুক্তির খসড়ায় উল্লেখ করেনি। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ দফায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় আইন মন্ত্রণালয় ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার চুক্তির পক্ষে মতামত দিতে বাধ্য হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের অভিমতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার কথাটি উল্লেখ করে বলা হয়, ‘বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট চুক্তির খসড়া পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিনা শুল্কে ট্রানজিট দেওয়ার উদাহরণ (রেফারেন্স) নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ নির্দেশনা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাননীয় অর্থ উপদেষ্টার টেলিফোনে দেওয়া পরামর্শের আলোকে ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তির খসড়া পর্যালোচনা করে অভিমত দেওয়া গেল। তারপরও চুক্তিটি সম্পাদনের আগে এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ট্রিটিসমূহ গভীরভাবে পর্যালোচনা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে এ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হলো।’

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০১০ সালের চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালে ভারতের সঙ্গে আরও একটি প্রটোকল সই হয়। এ প্রটোকলের মাধ্যমে ভারতকে বাংলাদেশের চারটি নদীপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এতে করে ভারতের কলকাতা ও মুর্শিদাবাদকে বাংলাদেশের পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।

পর্যায়ক্রমে ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে সড়ক ও রেল ট্রানজিটও আদায় করে নিয়েছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যের পণ্যগুলো বাংলাদেশের সড়ক, রেল এবং জলপথে আখাউড়া আশুগঞ্জ ও আখাউড়া হয়ে ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের স্থল ও জলভাগ ব্যবহার করে নৌপথ, সড়কপথ ও রেলপথে ভারতের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পণ্য পরিবহণের বিনিময়ে কী পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে তার সঠিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভারতকে ট্রানজিটের বিনিময়ে বাংলাদেশ ‘সিঙ্গাপুর’ হয়নি কেনো? এমন প্রশ্ন ছিল নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে। জবাব দেওয়ার জন্য তিনি দুদিন সময় নেন। তৃতীয় দিনে এনটিভি অনলাইনকে ওই কর্মকর্তা জানান, আসলে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্টের বিনিময়ে আমরা ভারতের কাছ থেকে কী পরমাণ অর্থ পেয়েছি, তার হিসাব করা হচ্ছে। ট্রানজিট চুক্তির পর প্রায় ১৪ বছর পার হতে চলেছে। দেশটি যেহেতু সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত হয়নি, তাই শুল্ক ও ট্যারিফ বাবদ খুব বেশি কিছু পেয়েছি তা বলা যাবে না।


চট্রগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতিঃ

ট্রানজিট আদায় করে নেওয়ার পর ভারত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুবিধা পায়। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের এ দুটি বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারত বহু বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রটোকল সই হয়। এ প্রটোকলের আওতায় ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম এবং মংলা সমুদ্র বন্দরগুলোতে পৌঁছানো পণ্যসমূহ বাংলাদেশেল ভূখণ্ডের ভেতর দিয়ে সড়ক, রেল এবং জলপথে আখাউড়া হয়ে ত্রিপুরা, তামাবিল হয়ে মেঘালয় ও সুতারকান্দি হয়ে আসামে এবং বিবির বাজার হয়ে সীমান্তপুর (আসাম) আনা করতে পারবে।

২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল ভারতে চট্রগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুড়ান্ত অনুমতি দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস ফ্রম ইন্ডিয়া’-এর আওতায় উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট পণ্যের কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। ফলে ভারত বন্দর দুটি ব্যবহার করে নিজ দেশে পণ্য পরিবহণ করতে পারবে। চট্টগ্রাম-আখাউড়া-আগরতলা, মোংলা-আখাউড়া-আগরতলা, তামাবিল-ডাউকি, শেওলা-সুতারকান্দি এবং বিবিরবাজার-শ্রীমন্তপুর রুটে ১৬টি ট্রানজিট রুট খোলা হয়েছে।


এ চুক্তির আগে শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেননি বলে অভিযোগ ওঠে। পানি বিশেষজ্ঞরাসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন এ চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ফেনী নদীর উৎপত্তি খাগড়াছড়িতে আর বাংলাদেশের ভেতরের ১১৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পতিত হয়েছে। কাজেই এ নদীর পানির ওপর ভারতের কোনো অধিকার নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা জানান, তিস্তা হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক নদী। ভারত চাইলেই একতরফাভাবে এ নদীর পানি প্রত্যাহার করতে পারে না। এটি আন্তর্জাতিক নদী শাসন আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন, কিন্তু ভারত সেটাই করে আসছে বছরের পর বছর ধরে।

এ চুক্তির পর দেশে ফিরে শেখ হাসিনা একটি সংবাদ সম্মেলন করে সমালোচনার জবাব দেন। ভারতকে ফেনী নদীর পানি দেওয়ার পক্ষে সাফাই গেয়ে শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশ হলেও এটি একটি সীমান্তবর্তী নদী। নদীর কিছু অংশ ভারতের সীমান্তেও লেগেছে। ফলে ত্রিপুরার মানুষকে কিছু পানি খাওয়ার জন্য দিচ্ছি। এ বিশাল নদীর কিছু পানি ভারতকে দেওয়ার ফলে এতো চিৎকার করা হচ্ছে কেনো? ভারত পান করার জন্য কিছু পানি চেয়েছে, আমরা দিয়েছি। এটা নিয়ে কিছু মানুষ খুব সমালোচনা করছে ও লেখালেখি করছে। আর বিএনপি তো সমালোচনা করেই চলেছে। তারা এটা নিয়ে সমালোচনা করছে কোন মুখে?’

মাসে ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি করে মোদির বন্ধু আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানিঃ

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৬ হাজার ৮৪৪ মেগাওয়াট। এ তথ্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ক্ষমতা বেশি হওয়ার পরও ভারত থেকে উচ্চ মূল্যে বিদ্যুৎ আমাদিনর চুক্তি করে শেখ হাসিনার সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালে তার নয়াদিল্লি সফরের সময় ভারতের আদানি পাওয়ারের সাথে চূড়ান্ত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) স্বাক্ষর হয়েছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত গৌতম আদানি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনি ব্যক্তিদের একজন। তিনি আদানি পাওয়ারের মালিক।

২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম ঢাকা সফরের সময় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে প্রথম চুক্তি হয়।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ভারতের আদানির সঙ্গে সম্পাদিত এ চু্ক্তি দেশের স্বার্থে নয়, ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানির স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সম্পাদন করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন বারবার দাবি করে আসলেও এ চুক্তিটি প্রকাশ করেনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা এনটিভি অনলাইনকে জানান, এ চুক্তিতে কিছু নিয়ম ও বিধান বজায় রাখতে পারলে বিদ্যুৎ আমদানি খরচ অনেক কমে যেতো। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় অতিরিক্ত ৭০০ কোটি টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। বিদ্যুৎ আমদানির কয়েকটি অসঙ্গতি তুলে ধরে তিনি বলেন, চুক্তিতে যে ট্যারিফের কথা বলা হয়েছে তা আমাদের স্থানীয় কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ক্রয়মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ২৫ বছরে ভারতের আদানি পাওয়ারকে বাংলাদেশ প্রায় ২৩ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে, যা বর্তমানে বাংলাদেশের সমুদয় রিজার্ভের চেয়েও বেশি।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের আদানি পাওয়ারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত ১১টি চুক্তি খতিয়ে দেখতে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের চুক্তি পর্যালোচনা’ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি ইতোমধ্যেই ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কিত সব নথিপত্র তলব করেছে।

বাংলাদেশের আশীর্বাদপুষ্ট ভারতের রেমেট্যান্স!

বাংলাদেশে লাখো বেকার চাকরির জন্য ঘুরছেন। শিক্ষিত বেকার তরুণরা ভালো চাকরি প্রত্যাশায় অবৈধভাবে ইউরোপের দেশগুলোতে পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে প্রাণ হারাচ্ছে। কেউ আবার লিবিয়ার কারাগারে কিংবা থাইল্যান্ডের গহীন অরণ্যে অরণ্যরোধন করে চলেছেন।  এই অবস্থায় বাংলাদেশে ভারতের কয়েক লাখ মানুষ বৈধ ও অবৈধভাবে চাকরি করছেন। ভারতে রেমিট্যান্স প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নামও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ তথ্য বলছে, ‘২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে কর্মরত বিদেশিরা ৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ নিজ দেশে পাঠিয়েছেন। ২০২১-২২ অর্থবছরে যা দাঁড়ায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। আর এই টাকা পাঠানোর দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ভারতীয়রা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, গত অর্থবছরে চার কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স গেছে ভারতে, যা দেশের বাইরে যাওয়া রেমিট্যান্সের মধ্যে সর্বোচ্চ।’

অসংখ্য বাংলাদেশি বেকার থাকলেও বাংলাদেশের শ্রম বাজারে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও বর্তমান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন৷ গত ২৬ জানুয়ারি এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অবশ্যই আনডকুমেন্টেড ভারতীয়রা কাজ করছে৷ আনঅফিশিয়ালি বাংলাদেশ থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ভারতে রেমিট্যান্স যায়৷’ এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সচিব বলেন, ‘ডকুমেন্টেড করলে কিছু ঝামেলা আছে৷ বিভিন্ন কোম্পানি যারা তাদেরকে নিয়োগ দেয় তারা হয়তো ভাবে, বাংলাদেশি নেওয়ার থেকে ভারতীয় নিয়োগ দিলে তাদেরকে এতো অধিকারের ব্যাপারে চিন্তা করতে হয় না৷ তারা যখন তখন চাকরি ছেড়েও যাবে না৷’

বাংলাদেশের চাকরির বাজার নিয়ে কাজ করা সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হলো বিডিজবস ডটকম৷ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়রাই শীর্ষে৷ তারপরে শ্রীলঙ্কা, চীন, থাইল্যান্ড৷ এদেরমধ্যে শতকরা ১০ ভাগেরও ওয়ার্ক পারমিট নেই৷ অধিকাংশই অবৈধভাবে কাজ করেন৷ তাদের পেমেন্টও এখানে করা হয়না৷ ভারতীয় হলে তার পেমেন্ট ভারতেই দেয়া হয়৷ যারা নিয়োগ করেন তারা এরকম একটা সিস্টেম গড়ে তুলেছেন৷


পাঠ্যপুস্তক বাংলাদেশের ছাপানো হতো ভারতে

প্রতিবছর দেশের স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক পর্যায়ের এক কোটি ৮৯ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ২৩ কোটির বেশি কপি বইয়ের প্রয়োজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এসব পাঠ্য বইয়ের যোগান দেয়। এনসিবিটির বই ছাপানোকে কেন্দ্র করে দেশে একটি বিশাল প্রকাশনা শিল্প গড়ে ওঠে। এ শিল্পের সঙ্গে দেশের কয়েক লাখ মানুষ যুক্ত হয়। কাগজ আমদানি, ছাপাখানা তৈরি, বই ছাপানো, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজে সরগরম থাকতো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষার্থীদের এসব পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর দায়িত্ব ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনার আমলে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর কাজ করায় প্রথম দিকে ব্যাপক আন্দোলন করে দেশের ছাপাখানার মালিক ও কর্মীরা।

আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের জন্য প্রাথমিকের প্রায় এক কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ পায় ভারতীয় প্রিতম্বর বুকস প্রাইভেট লিমিটেড ও পাইওনিয়ার প্রিন্টার্স নামের দুই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রকাশকদের বাদ দিয়ে ভারতীয় প্রকাশকদের বই ছাপাতে দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই।

ব্যাপক সমালোচনার পর গত ২৮ অক্টোবর ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া বই ছাপানোর কার্যাদেশ বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্তের কথা জানায়। ভারতের কব্জা থেকে পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর কাজ বাংলাদেশে পুরোপুরিভাবে ফিরে আসায় দেশের প্রকাশনা শিল্প ফের সরগরম হয়ে ওঠবে বলে আশা করছেন প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।

স্বার্বভৌমত্বকে হুমকিতে রেখে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চু্ক্তি

২০১৪ সালে শেখ হাসিনা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার পরপরই ভারতের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চু্ক্তি করতে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠতে থাকে। এ ধরনের একটি চুক্তি হলে বাংলাদেশ সিকিম ও হায়দারাবাদের মতোই স্বাধীনতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সিকিম ও হায়দারাবাদ দুটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র ছিল। বিভিন্ন চুক্তির বেড়াজালে ফেলে ভারত এ দুটি দেশকে নিজেদের অংগ রাজ্য হিসেবে দখল করে নেয়।

বিভিন্ন মহলের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করেই শেখ  হাসিনা ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই করেন। ২০১৮ সালের ১২ মে দেশের একটি প্রভাবশালী দৈনিক এ চুক্তি নিয়ে একটি বিষদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে,  প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ঋণ বাস্তবায়ন এবং সার্বিক সহযোগিতার বিস্তার ঘটাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারকে ভারত প্রতিরক্ষা খাতে যে ৫০০ মিলিয়ন ঋণ দিয়েছে, কীভাবে সেই অর্থ ব্যয় হবে তার রূপরেখা ঠিক করা ছাড়াও সই হয়েছে আরও তিনটি সমঝোতা স্মারক। বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লে. জেনারেল মাহফুজ রহমানের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল এই বিষয়ে বৈঠক করে ভারতের প্রতিরক্ষাসচিব সঞ্জয় মিত্রর সঙ্গে। ঋণের অর্থ কীভাবে খরচ হবে, কোন কোন প্রতিরক্ষাসামগ্রী কেনাবেচা হবে, সহযোগিতার ক্ষেত্র কোথায় কীভাবে বাড়ানো হবে, তা আলোচনার পর একটা কাঠামো বা ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের যেসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রয়োজন ভারত যদি সেসব তৈরি করে, তাহলে দুই দেশের সম্মতিতে তা কেনাবেচা হবে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের প্রয়োজনভিত্তিক চাহিদাপত্র ভারতকে দেবে, তা পাওয়ার পর ঠিক হবে ভারত কী কী সরবরাহ করতে পারে।


হাইকমিশন সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা খাতে যে ৫০ কোটি ডলার ভারত ঋণ দিচ্ছে, তার পুরোটাই যে ভারত থেকে আমদানির মাধ্যমে খরচ করতে হবে তা নয়। চুক্তির একটা অংশ (প্রায় ৩৫ শতাংশ) তৃতীয় দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনে বাংলাদেশ খরচ করতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ভারতের অনুমতি নিতে হবে।

দুই দেশের মধ্যে অন্য যে তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে তার দুটি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নৌবাহিনীর। খুলনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে নৌ-জাহাজ তৈরি করা এই দুই বোঝাপড়ার লক্ষ্য। চতুর্থ সমঝোতা দুই দেশের সামরিক স্কুলের শিক্ষার্থী বিনিময় নিয়ে। এর ফলে শুরু থেকেই পরস্পরকে চেনাজানার সুযোগ হয় এবং সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আগে থেকেই প্রশিক্ষণ বিনিময় চালু আছে। চালু আছে দুই বাহিনীর মধ্যে সামরিক মহড়াও। তার ব্যাপ্তিও ঘটছে। এই সমঝোতা স্মারক তার পরিধি আরও বাড়াবে।

ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতার বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে যথেষ্টই স্পর্শকাতর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে থেকেই এই সমঝোতা নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে কি না, সেই সংশয় বিভিন্ন মহল প্রকাশও করেছিল। কিন্তু সেই সব আশঙ্কা উপেক্ষা করে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়।

ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়চুক্তিঃ

বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের তিন পাশের প্রায় পুরোটাই ভারত দ্বারা বেষ্টিত। সেই ভারতের সঙ্গে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে অত্যন্ত গোপনে এ চুক্তি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ চু্ক্তির পর ২০২২ সালে ৬ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব বিনয় মোহন কাত্রা সাংবাদিকদের এ চুক্তির কথা জানান।

৫০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিটির বিষয়ে প্রতিরক্ষা সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিরক্ষা এলওসির (লাইন অব ক্রেডিট) অধীনে প্রথম চুক্তিটি এই সপ্তাহের শুরুতে স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে, আপনারা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সামান্য পরিমাণে হলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিরক্ষা এলওসি হলেও এটি উন্নয়ন অংশীদারত্ব কাঠামোর একটি অংশ। নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা আছে।’ 

এই প্রচেষ্টা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক অংশগ্রহণ আরও উন্মুক্ত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিনয় মোহন কাত্রা।


সীমান্ত হত্যা বন্ধে শেখ হাসিনার নতজানুনীতি

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশের মন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গ স্বামী-স্ত্রীর মতো’ কিংবা ‘বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্তের রাখিবন্ধনে আবদ্ধ। কেউ বলেছেন, বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। অথচ, সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে অংসখ্য বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। হতভাগা ফেলানিকে গুলি করে হত্যার পর তার মৃতদেহ কাঁটাতারের বেড়ার ওপর ঝুলিয়ে রেখেছে।

ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে সীমান্তে মানুষ মারা গেলেও বাংলাদেশের মন্ত্রীরা এর জন্য উল্টো নিহতদেরই দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন। তারা বিএসএফকে মোটেও দায়ী করতে রাজি ছিলেন না। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলি করে বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধ করতে হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের দোষ দিয়ে লাভ নেই বলে বক্তব্য দিয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি এক সভায় সাধারন চন্দ্র বলেন, ‘আসলে আমাদের চরিত্র যদি ভালো না হয়, পরের দোষ দিয়ে লাভ নেই। এখানে দোষ বাংলাদেশি নাগরিকদেরই, সুতরাং সরকারের কিছুই করণীয় নেই। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ২০০৯ সাল ১৫ বছরে প্রায় পাঁচশ বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্ত-রক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বাংলাদেশ কখনোই এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেনি। বরাবরই শেখ হাসিনার সরকার নতজানু নীতি অনুসরণ করে চলেছে।

দেশে ঢুকে বিজিবি সদস্যকে হত্যার পর লাশ নিয়ে গেলেও চুপ ছিলেন শেখ হাসিনা

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে সুখ্যাতি পায় ‘ডামি নির্বাচন’ নামে। এই ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে টানা চারবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর মসনদে বসেন শেখ হাসিনা। এ নির্বাচনেও শেখ হাসিনাকে প্রত্যক্ষ সমর্থন দেয় ভারত। নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে ডেকে নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন বলে দাবি ওঠে। দেশে ফিরে এই দাবি তোলেন তিনি নিজেই। যদিও ভারতের প্রেসক্রিপশন প্রকাশ করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও সাংবাদিকদের জানান জাপা চেয়ারম্যান।

ক্ষমতায় বসে শেখ হাসিনা ভারতের প্রতি কতটা অনুগত, তার পরীক্ষাও নেওয়া হয়। নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর ২২ জানুয়ারি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা সীমান্তে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিজিবি সদস্য করে গুলি করে হত্যা করে তাদের মৃতদেহ ভারতে নিয়ে যায়। অবশ্য দুদিন পর ভারত বিজিবি সদস্যের মরদেহ ফেরত দেয়। বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডের ভেতরে ঢুকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন সদস্যকে হত্যা করে লাশ নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশের মানুষের মনে ক্ষোভ জন্মালেও চুপ ছিলেন শেখ হাসিনা। এভাবে পরীক্ষার খাতায় অনেকটাই এগিয়ে যান স্বৈরশাসক।

পরে সচিবালয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার কাছে এমন একটি প্রশ্ন করেছেন সেটাও মিডিয়াতে আনবেন না। এ বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখভাল করছেন।’

বিষয়টি নিয়ে ওই সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের কাছেও প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘এমন কোনো ঘটনা আমি এখনও শুনিনি। আগে জেনে পরে আপনাদের প্রশ্নের জবাব দেব।’ যদিও এরপর এ বিষয়ে আর কোনো উত্তর দেননি হাছান মাহমুদ। তবে, সাবেক নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এমন ঘটনায় আমাদের বন্ধুপ্রতীম দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সমর্কে কোনো সমস্যা হবে না।’


পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত থেকে সরে আসেন শেখ হাসিনাঃ

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি অন্য দিনের মতোই সোনালি আভা ছড়িয়ে পূর্বদিগন্তে সূর্য ওঠে।  কর্মব্যস্ত দিন শুরু হয়েছে মাত্র। তখনই সবাইকে হতবাক করে দিয়ে নরকে পরিণত হয় রাজধানীর বিডিআর সদর দপ্তর। মাত্র ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে বিডিআররের তৎকালীন মহাপরিচালকসহ (ডিজি) দেশের মেধাবী ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয় এ বিদ্রোহে।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের সীমান্তকে অরক্ষিত করে তোলা। আর এ ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকাশ্যভাবে প্রতিবেশি দেশ ভারতের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। এ কারণেই এ ঘটনার আর আন্তর্জাতিক কোনো তদন্ত হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল (অব.) মঈন ইউ আহমেদও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে। নিজের ইউটিউভ চ্যানেলে সাবেক এ সেনা প্রধান বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনার আমি যখন তদন্তের আদেশ দেই, তখন আমাকে বলা হয় যখন সরকার এই বিষয়ে তদন্ত করছে, তখন আমাদের এর প্রয়োজনটা কী? এই তদন্ত করতে ওই সময় সরকারের কাছ থেকে যে সাহায্য প্রয়োজন তা আমরা পাইনি।’

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতকে সরাসরি দায়ী করেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল ইসলাম, যিনি বিডিআর হত্যকাণ্ডের পরপরই বিজিবি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁকে এ বিষয়ে তিনটি প্রশ্ন করা হয়েছিল।

প্রথম প্রশ্নে ‘ইন্ডিয়ানদের প্রসঙ্গ এলো কেন’র উত্তরে মইনুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ইন্ডিয়ান বিএসএফ পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বর্ডারের খুব কাছে অবস্থান নিয়েছিল। যুদ্ধের পর ইন্ডিয়ান বিএসএফ কয়েকটি ঘাঁটি ছেড়েছিল। আবার কোথাও কোথাও ছাড়েনি। বিডিআরের তুলনায় ইন্ডিয়ান বিএসএফ দুর্বল ছিল। কারণ, বিএসএফের কমান্ডিংয়ে আর্মি ছিল না। কিন্তু বিডিআরের কমান্ডে ছিল আর্মি। ইন্ডিয়ান বিএসএফ তাদের ক্যাম্পের সীমা পেরিয়ে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বিওপিতে অবস্থান করছিল সেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে। ১৯৭৫ সালের পর ১৯৮১ সালের আগে ইন্ডিয়ান বিএসএফকে বাংলাদেশের বিওপি ছাড়তে বাধ্য করার জন্য বেশ কয়েকটি অপারেশন শুরু হয়েছিল। অপারেশনে ইন্ডিয়ান বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। ইন্ডিয়া এটার কাউন্টার কখনো করেনি বা করতে পারেনি। সেই সক্ষমতা বিএসএফের ছিলও না। সেই সুযোগও বিএসএফ পায়নি। ইন্ডিয়া সব সময়ই চেয়েছিল, কীভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা যায়। পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল মোক্ষম সময়। সেনাবাহিনীর সবগুলো মেধাবী কর্মকর্তাকে দুদিনের মধ্যে গুলি করে মেরে ফেলা হলো। এটা সবাই সেভাবেই দেখে। এই বিষয়টিও তখন আমলে নেওয়া জরুরি ছিল, বিভিন্ন পক্ষ থেকে কথাও এসেছিল। এর ওপর পিলখানার পরিস্থিতি বিশেষ করে অস্ত্রাগারের পরিবেশ দেখে পরিষ্কার বোঝাই যাচ্ছিল এটি পরিকল্পিত ভাবেই ঘটানো হয়েছিল এবং সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার পেছনের লোকজন ২০-২১ দিন আগেই এখানে ঢুকেছিল।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রশ্নে ইন্ডিয়ার সম্পৃক্ততার আলামত ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা বিষয়ে জানতে চাইলে মইনুল ইসলাম বলেন, ইন্ডিয়া সবসময়ই বিডিআরের কমান্ডিংয়ে আর্মি এবং ১৯৮১ সালের আগের বেশ কয়েকটি অপারেশন এবং পরবর্তিতেও বেশ কয়েকটি অপারেশন নিয়ে প্রতিশোধপরায়ণ ছিল। তারা চেষ্টাও করেছিল। এখানেই পরিষ্কার, এখানে ইন্ডিয়ার ইন্ধন ছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা যখন বিডিআর (বিজিবি) রিফর্ম করি তখনও ইন্ডিয়ানদের অনেক বাধার মুখে পড়েছি। আর্মি কেন বিডিআরকে কমান্ড করে এটাও ইন্ডিয়া সহ্য করতে পারত না। সঠিক তদন্ত করলে নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসত। আরো অনেকের সম্পৃক্ততা ছিল। তা-ও বেরিয়ে আসত।


মইনুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক একটি পক্ষের সম্পৃক্ততা ছিল। বিদ্রোহের আগে বেশ কয়েকবার স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা সদর দপ্তরে বিভিন্ন ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বিডিআরের অভিযুক্ত জওয়ানদের পক্ষে দাবি নিয়ে যেতে দেখা গেছে। বিদ্রোহের দিন বিডিআরের কিছু লোক রিভেঞ্জ (প্রতিশোধপরায়ণ) ছিল। তাদের সাথে আশপাশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকজন ছিল। কেন বিডিআর আর্মি অফিসার দ্বারা পরিচালিত হবে- এসব নিয়ে কথাও বলেছেন তারা। ঘটনার দিন পিলখানায় গোলাগুলি চলছে, আশপাশের সাধারণ মানুষ জীবন নিয়ে নিরাপদে সরে যাচ্ছিলেন। আর পাশেই বিদ্রোহীদের পক্ষে আজিমপুরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ রাস্তায় মিছিলও করেছে। নিশ্চয়ই তাদেরও সমর্থন ছিল এই ঘটনায়। আর তারাও নিশ্চিত ছিল তাদের ওপর কেউ গুলি করবে না। সেগুলোও তদন্ত করা হয়নি। সবকটি পক্ষ মিলেই আর্মিকে শেষ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল।

ভারতের সঙ্গে ‘গোলামি’র রেল চুক্তিঃ

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো থেকে পণ্য ও মালামাল আনার-নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ বেগ পেতে হয় ভারতকে। মাঝখানে বাংলাদেশ থাকায় দেশের অন্য অংশের সাথে রাজ্যগুলোর পণ্য পরিবহণ বেশ ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। সেই কারণেই বাংলাদেশের কাছে পণ্য ট্রানজিট সুবিধা চেয়ে আসছিল ভারত।

ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে পলায়নের মাত্র দুই মাস আগে দেশটিতে যান শেখ হাসিনা। ওই সফরটিই ছিল শেখ হাসিনার শেষ আনুষ্ঠানিক সফর। এ সফরে তিনি ভারতকে রেল ট্রানজিট প্রদানে সম্মতি দিয়ে আসেন। এটিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন ‘গোলামির চুক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র সমালোচনা করেন। তারা চুক্তিটি প্রকাশ করারও দাবি জানান। ভারতকে একতরফা রেল ট্রানজিট দেওয়ার বিষয়ে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যম বিশ্লেশষণধর্মী সংবাদ প্রকাশ করে।

রেল ট্রানজিট চুক্তির পর শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা হলেও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা সাংবাদিদের জানান, ‘এই ট্রানজিট চালু হলে নিজ দেশের মধ্যে রেলপথে দূরত্ব অনেকখানি কমবে ভারতের।


ভারতের স্বার্থ রক্ষায় রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্যমতে, ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) সেই দেশের ছত্তিশগড়ে ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই দেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের গ্রিন প্যানেলের ইআইএ রিপোর্ট প্রকল্পটিকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে প্রতিবেদন দাখিল করায় ভারত সরকার এ প্রকল্পটি সেদেশের পরিবর্তে বাংলাদেশে করার প্রস্তাব করে।

২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল সেখানে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সঞ্চালনের একটি প্রস্তাব ছিল। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০১২ সালে সুন্দরবনের নিকটবর্তী রামপালে দুটি ৬৬০ ইউনিট মিলে মোট ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপ-বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর কোনোরূপ পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ না করেই প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের আদেশ জারি করা হয় এবং অবকাঠামো উন্নয়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।

সুন্দরবনের সঙ্কট দূরত্বের মধ্যে এই কয়লাভিত্তিক তাপ-বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশ ঝুঁকি বিবেচনা করে বাংলাদেশের পরিবেশবিদরা প্রতিবাদ করেন এবং এক পর্যায়ে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সার্টিফিকেট না নিয়ে এই প্রকল্প চালুর বিষয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে। এমতাবস্থায় তড়িঘড়ি করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ইনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টে এই প্রকল্পকে পরিবেশবান্ধব বলে সার্টিফিকেট দেয় এবং সেই প্রতিবেদন অনলাইনে আপলোড করে জনগণের মতামত চাওয়া হয়। বিতর্কিত ইআইএ প্রতিবেদনকে সঠিক ধরে নিয়েই ঢাকায় ভারতের সঙ্গে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্বাক্ষরিত তিনটি চুক্তির মধ্যে রয়েছে- যৌথ উদ্যোগ চুক্তি, বাস্তবায়ন চুক্তি ও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি।

তীব্র সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে ২০২২ সালের শেষ দিকে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করা হলেও কারিগরি ত্রুটি, কয়লা সংকট ও অন্যান্য কারণে এখন পর্যন্ত মোট সাতবার বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত ভারতের আবদার রক্ষার জন্যই করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশেল জন্য কখনোই লাভজনক হবে না। এটি দেশের জন্য একটি বিশাল বোঝা ছাড়া আর কিছু্ই নয়।


এদিকে, এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর আগে সরেজরিমনে গিয়ে দেখা গেছে, এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ শ্রমিক থেকে শুরু করে কারিগরি কাজে যুক্তদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ভারতের নাগরিক। খুব সামান্য সংখ্যকই বাংলাদেশের নাগরিক। ভারতীয় নাগরিকদের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনের ব্যবহৃত সবকিছুই শ্রমিকরা ভারত থেকে আমদানি করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভারতীয়দের দখলে তুলে দেওয়া হয় বাংলাদেশের আইটি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতে ভারতের একচেটিয়া প্রাধান্য রয়েছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের আইটি খাতে এখন ভারতীয় নাগরিকদের রাজত্ব চলছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, এসব খাতে এখন প্রায় পাঁচ লাখ ভারতীয় নাগরিক কাজ করছে। এর মধ্যে শতকরা মাত্র ১০ ভাগ বৈধভাবে। বাকি ৯০ ভাগই অবৈধভাবে কাজ করছে। পোশাকের বায়িং হাউসগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ভারতীয়রা৷

চীনকে পাশ কাটিয়ে ভারতকে তিস্তা প্রকল্প দেওয়ার পরিকল্পনা

ভারত তিস্তা নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে বাংলাদেশ উত্তরাঞ্চলে দিনদিন মরুময়তা তৈরি হচ্ছে। এতে কৃষি ফলন মারাত্মক ব্যহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই বাংলাদেশ তিস্তা মহাপ্রকল্প নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। চীন এ প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চীনের পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না বা পাওয়ার চায়নার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অথচ, চলতি বছরে শেখ হাসিনা ভারত সফর করে দেশে ফিরে হঠাৎ করেই তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে উল্টো কথা বলা শুরু করেন। তিনি তিস্তা প্রকল্প ভারতকে দিয়ে করাবেন বলে ঘোষণা দেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্প আমাদের করতে হবে। এ নিয়ে চীন-ভারত দুই দেশই আমাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছিল। এরই মধ্যে চীন সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। ভারতও সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। দুই দেশের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে আমাদের জন্য যুক্তিযুক্ত হবে আমরা সেটা নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে বেশি প্রাধান্য দেবে যে এটা ইন্ডিয়া করুক। কারণ তিস্তার পানিটা ইন্ডিয়া আটকে রেখেছে। তাদের কাছ থেকে যদি আমাদের আদায় করতে হয় তাহলে এই প্রজেক্টের কাজ তাদেরই করা উচিত। তারা প্রজেক্ট করে যখন যে প্রয়োজন তারা দেবে। এটা তো একটা ডিপ্লোমেসি।’

হাসিনা জানান, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন তো রেডি, কিন্তু আমি চাচ্ছি এটা ইন্ডিয়া করে দিক। তাহলে এই প্রজেক্টের জন্য যা যা দরকার, ইন্ডিয়া দেবে।’


বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের অবাধ সম্প্রচার

বাংলাদেশ ও ভারত অকৃত্রিম বন্ধুত্বের সব সীমা অতিক্রম করেছে বলে প্রতিনিয়ত বলতেন শেখ হাসিনাসহ তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। যদিও বহু চেষ্টার পরও ভারতে বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার চালু করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে, বাংলাদেশে ভারতের একশটিরও বেশি টিভি চ্যানেল সম্প্রচার চালিয়ে আসছে। সেইসঙ্গে শত কোটি টাকার বিজ্ঞাপন ব্যবসাও ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোই নিয়ন্ত্রণ করেছে।

ভারতের জি ও স্টার গ্রুপের দুটি চ্যানেল ‘জি বাংলা’ ও ‘স্টার জলসা’ আলাদা বিমে বাংলাদেশে মাত্র তিন লাখ টাকায় ডাউনলিংক করে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন নিয়েছে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকদের হিসাবে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন পেয়েছে এ দুটি চ্যানেল। অথচ, বাংলাদেশ কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬-এর ১৯ (১৩) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোনো টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না।

বাংলাদেশ ছিল ভারতের উম্মুক্ত বাজারঃ

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭১৬০.৮১ মিলিয়ন ডলার। এমন বাণিজ্য ঘাটতি বিশ্বে বিরল ঘটনা বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বাংলাদেশ ভারতের একটি উম্মুক্ত বাজারে পরিণত হয়েছিল গত ১৫ বছরে।

দেশের চাহিদা অনুযায়ী অনেক পণ্যই আমদানি করতে হয়। কিন্তু বিকল্প বাজার না খুঁজে সবকিছুই ভারত থেকে কিংবা ভারতের মাধ্যমে আমদানি করা শেখ হাসিনার একটি প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেও জানান অর্থনীতিবিদরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর স্থলপথে দু’দেশের মধ্যে এক কোটি ৬০ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। এর মধ্যে ভারত থেকে আমদানি হয় এক কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৩ টন পণ্য। এ সময় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয় ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩৮ টন পণ্য। অর্থাৎ প্রায় ৯৪ শতাংশই ভারতের অনুকূলে। ভারত থেকে আমদানি হয় এমন পণ্যের তালিকায় রয়েছে তুলা, সুতা, বস্ত্র, শিল্পের বিভিন্ন রাসায়নিক, পাথর, আদা-রসুন-পেঁয়াজ, সব ধরনের মসলা, বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল।


বাংলাদেশের গ্যাস ক্ষেত্র বিনা মূল্যে ভারতকে প্রদানঃ

স্বৈরাচার হাসিনা বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশের ১৯ নং সালদা গ্যাসক্ষেত্র হতে কাশিরামপুর পয়েন্ট হতে ভারতের ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী কোনাবনের ড্রিলিং পয়েন্টে ও কসবার তারাপুর পয়েন্ট হতে একই রাজ্যের সীমান্তবর্তী কমলা সাগর থানার হরিয়াবাহা ড্রিলিং পয়েন্টে সরাসরি এঙ্গেল পাইপ ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে চুরিনকরার সুযোগ করে দিয়ে বাংলাদেশের এই দুটি পয়েন্ট পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেছে, অথচ এই  দুটি খনি হতে ৯৯ বছর চট্টগ্রাম বিভাগের বর্ধিত চাহিদা সহ সম্পূর্ণ চাহিদা পূরন হওয়ার কথা।


সূত্র: এনটিভি নিউজ, গুগল, ওনিওন সার্চ।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমনের ভবিষ্যদ্বাণী ও পূর্ণতা

 "বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমনের ভবিষ্যদ্বাণী ও পূর্ণতা"



পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ, জাতি ও গোষ্ঠিতে যুগে যুগে যত নবী, রসূল ও মহাপুরুষ আগমন করেছেন তাদের কেউ-ই নিজেদেরকে সমগ্র মানব জাতির জন্য প্রেরিত হওয়ার দাবী করেন নি। একমাত্র নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)-ই এ দাবী করেছেন যে, আমি সমগ্র মানব জাতির জন্য প্রেরিত হয়েছি এবং আমার উপর অবতীর্ণ ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন সর্বশেষ ও পরিপূর্ণ ঐশী গ্রন্থ। কুরআন শরীফে মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে আল্লাহ তা’লা স্বয়ং ঘোষণা করছেন-
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
(সুরা আম্বিয়া : ১০৮) অর্থাৎ, ‘আমরা তোমাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরুপ প্রেরণ করেছি’। তাছাড়া মুহাম্মদ (সা.) যে, সকল নবীগণের নেতা, সর্দার বা সকল নবীগণের মোহর সে সম্পর্কেও কুরআনের সাক্ষ্য হচ্ছে-
مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَٰكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ
(আহযাব: ৪১) 
অর্থাৎ, ‘মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মাঝে কারো পিতা নয়। কিন্তু (সে) আল্লাহ রসূল ও নবীদের মোহর।’ অর্থাৎ সারকথা হলো মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্বের সকল নবীই ছিলেন নির্দিষ্ট জাতির জন্য প্রেরিত। তাই এমন এক নবীর আগমনের প্রয়োজন ছিল যিনি সমগ্র জাতিকে উম্মতে ওয়াহেদা অর্থাৎ এক জাতিতে পরিণত করবেন। তাই এই আগমনকারী নবীর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণীও পূর্বের নবীগণ করে গেছেন যেন সকল জাতিই তাকে খুব সহজেই চিনতে পারে আর তারা যেন এই অজুহাত দেখাতে না পারে যে, আমাদের ধর্মে তো সেই নবী সম্বন্ধে কোন সংবাদ নেই, আমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবো কিভাবে? তাই মহান আল্লাহ তা’লা সেই ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন আর পবিত্র কুরআনের পূর্বে আগত অন্যান্য ধর্মগ্রন্থেও সেই মহাপুরুষের আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান রেখেছেন। যদিও সেগুলো মানুষের অন্যায় হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে তথাপি পবিত্রাত্মা ও পূণ্যবানদের জন্য এখনো সেগুলোতে সত্যের জ্যোতি বিদ্যমান যা দেখে তারা সেই আগমনকারী মহাপুরুষের প্রতি ঈমান এনে হেদায়াত লাভের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে।

বাইবেলের পূরাতন নিয়মে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের 
ভবিষ্যদ্বাণীঃ

ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: 
বনী ইসমাঈলের মধ্য থেকে মূসা সদৃশ এক নবীর আগমন হবে।
বাইবেলের পুরাতন নিয়মে আছে “তোমাদের ঈশ^র সদাপ্রভু তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য আমার মত একজন নবী দাঁড় করাবেন। তাঁর কথামত তোমাদের চলতে হবে।” ( দ্বিতীয় বিবরন- ১৮:১৫)।

আবার এর সাথে বাইবেলে এ কথাও আছে, “আমি তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তাদের জন্য তোমার মত একজন নবী দাঁড় করাবো। তার মুখ দিয়েই আমি আমার কথা বলব, আর আমি যা বলতে তাকে আদেশ দেব সে তাই তাদের বলবে।” (দ্বিতীয় বিবরন ১৮:১৮)

মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন সংক্রান্ত এই ভবিষ্যদ্বাণী যখন উপস্থাপন করা হয় তখন খৃষ্টান ভাইয়েরা এই আপত্তি করেন যে, মুহাম্মদ (সা.) নয় বরং যীশুর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণীই এখানে করা হয়েছে। তাদের এই দাবীর মোটেও কোন ভিত্তি নেই। কারণ বাইবেলের উপরোক্ত উদ্ধৃতিদ্বয়ের মাঝেই তাদের এই দাবীর খন্ডন বিদ্যমান।
যেমন: 
(১) এখানে মোশি অর্থাৎ মূসা (আ.) স্পষ্টভাবে বলছেন ‘আমার মত একজন নবী দাঁড় করাবেন’ অথচ যীশু কখনো নিজেকে মূসার সদৃশ বলে ইঞ্জিলের কোথাও দাবী করেননি। 
(২) যীশু মূসার ন্যায় কোন নতুন ব্যবস্থা বা শরীয়ত নিয়ে আসেন নি বরং তার শরীয়তকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য আগমন করেছেন। (মথি ৫: ১৭-১৮) 
(৩) এই ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে, এই নবী তাদের অর্থাৎ ‘ইস্রায়েলীয় ভাইদের মধ্য হতে’ আগমন করবেন। এখানে ‘তাদের মধ্য থেকে’ বলা হয় নি। আর ইস্রায়েলীয় ভাই বলতে আব্রাহামের আরেক পুত্র ইসমাঈলের বংশধর অর্থাৎ বনী ইসমাঈলকেই বোঝায়। আর হযরত মুহাম্মদ (সা.) বনী ইসমাঈলেই জন্মগ্রহন করেছেন। ইস্রায়েলীয় ভাই বলতে বনী ইসমাঈলকেই যে বোঝানো হয়েছে এর জন্য আরো দেখুন (আদি পুস্তক ১৬: ১১-১২ ও আদি পুস্তক ২৫: ১৭-১৮) । 
(৪) নবুয়ত লাভের ক্ষেত্রেও মূসা (আ.)-এর সাথে মুহাম্মদ (সা.)-এর সাদৃশ্য রয়েছে। মূসা (আ.) ৪০ বৎসর বয়সে নবুয়ত লাভ করেছিলেন (প্রেরিত ৭ : ৩০)। অনুরুপভাবে মুহাম্মদ (সা.) ও ৪০ বৎসর বয়সে নবুয়ত লাভ করেছেন পক্ষান্তরে যীশু নবুয়ত লাভ করেছিলেন ৩০ বৎসর বয়সে।


ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: 
"পারন’ নামক এলাকা থেকে তিনি অর্থাৎ সেই নবী আগমন করবেন বাইবেলে আছে “সদাপ্রভূ সিনাই থেকে আসলেন, তিনি সেয়ীর থেকে তাদের উপর আলো দিলেন, তার আলো ‘পারন’ পাহাড় থেকে ছড়িয়ে পড়ল। তিনি লক্ষ লক্ষ পবিত্র স্বর্গদূতদের মাঝখান থেকে আসলেন; তার ডান হাতে রয়েছে তাদের জন্য আগুন ভরা আইন।” (দ্বিতীয় বিবরন ৩৩ : ২)
মক্কা সহ সমগ্র হেজাজ এলাকাকে ‘পারন’ বা আরবীতে ‘ফারান’ বলা হয়। আরব ভূগোল বিশারদদের মতানুযায়ী এ কথা প্রমাণিত। আর বাইবেলে এ কথা স্পষ্টভাবে বিদ্যমান যে, মহানবী (সা.) এর পূর্ব-পুরুষগণ অর্থাৎ বনী ইসমাঈল এ এলাকাতেই বসবাস করতেন। বাইবেলে বলা হয়েছে-“পারন নামে এক মরু এলাকায় সে (ইসমাঈল) বাস করতে লাগলো।” (আদিপুস্তক ২১:২১) এই ভবিষ্যদ্বাণীর আরেকটি অংশে যে আগুন ভরা আইনের কথা বলা হয়েছে তা-ও কুরআন করীম নাযেল হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছে।

ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন: 
সেই নবীর চেহারার বর্ণনা ও দশ হাজার পবিত্র আত্মাসহ আগমন- বাইবেলে হযরত সুলায়মান (আ.) সেই প্রতিশ্রুত নবীর চেহারার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলছেন, “আমার প্রিয়ের চেহারা শ্বেত, লালচে তার গায়ের রং; দশ হাজার জনের মধ্যে তিনি বিশেষ একজন। তাঁর মাথা খাঁটি সোনার মত, তাঁর চুল ঢেউ খেলানো আর দাঁড় কাকের মত কালো।” (পরমগীত ৫:১০-১৬)
এই ভবিষ্যদ্বাণীও মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। ভবিষ্যদ্বাণীতে সেই নবীর চেহারার যে বর্ণনা এসেছে তা পুরোপুরি মুহাম্মদ (সা.)-এর চেহারার সাথে সাদৃশ্য রাখে। যেমন, মহানবী (সা.) এর চেহারা ছিল সাদা ও উজ্জ্বল লালচে আর চুল ছিল কালো ও ঢেউ খেলানো। পক্ষান্তরে হযরত ঈসা (আ.)-এর চেহারা ছিল রক্তিম বর্ণের ও চুল ছিল কোকড়ানো ও সোনালী বর্ণের। এই ভবিষ্যদ্বাণীর আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, সেই নবী দশ হাজার জনের মধ্যে বিশেষ একজন। মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কা বিজয় করেন তখন তাঁর সাথে দশ হাজার সাহাবী ছিলেন। তিনি (সা.) ছিলেন তাদের সবার মাঝে বিশেষ একজন।

বাইবেলের নূতন নিয়মে অর্থাৎ ইঞ্জিলে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী
ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: 
প্রতিশ্রুত সেই নবীর অস্বীকারকারীদের শাস্তি প্রদান করা হবে। ইঞ্জিলে এসেছে নবী মুসা বলেছিলেন, “তোমাদের ঈশ^র সদাপ্রভূ তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য আমার মত একজন নবী দাঁড় করাবেন। তার কথামত তোমাদের চলতে হবে। যে তার কথা শুনবেনা তাকে তার লোকদের মধ্য থেকে একেবারে ধ্বংস করা হবে।” (প্রেরিত ৩:২২-২৩)
বাইবেলের এই ভবিষ্যদ্বাণীও আঁ হযরত (সা.)-এর ক্ষেত্রে পূর্ণ হয়েছে। কারণ তাঁর (সা.) জীবদ্দশাতেই তাঁর বড় বড় বিরোধীরা ধ্বংস হয়েছিল যেমন আবু জাহেল, আবু লাহাব, আরো অনেকেই। এই ভবিষ্যদ্বাণী কখনো মসীহ্ দ্বারা পূর্ণ হয় না কেননা তার জীবদ্দশাতে তাঁর কোন বিরুদ্ধবাদী মারা যায় নি উপরন্তু তাঁকেই ক্রুশে চড়তে হয়েছিল।

ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: 
মসীহ্ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, তাঁর পর এমন এক সত্যের রুহ্ (আত্মা) আগমন করবেন তিনি যা কিছু বলবেন ঈশ্বরের পক্ষ থেকেই বলবেন এবং তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হবে। ইঞ্জিলে মসীহ্ সেই প্রতিশ্রুত নবীর আগমন সম্পর্কে বলছেন- “কিন্তু সেই সত্যের রুহ্ যখন আসবেন তখন তিনি তোমাদের পথ দেখিয়ে পূর্ণ সত্যে নিয়ে যাবেন। তিনি নিজ থেকে কথা বলবেন না, কিন্তু যা কিছু শোনেন তাই বলবেন। আর যা কিছু ঘটবে তাও তিনি তোমাদের জানাবেন।” (যোহন ১৬:১৩)
এই ভবিষ্যদ্বাণীটিও মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। মসীহ্ পর মুহাম্মদ (সা.)-ই এসেছেন যিনি পূর্ণ সত্য দেখিয়েছেন । মুহাম্মদ (সা.) যা কিছু বলতেন আল্লাহ তা’লার পক্ষ থেকেই বলতেন (সূরা নজম : ৪-৫)। পৃথিবী সাক্ষী যে, মুহাম্মদ (সা.) আজ থেকে চৌদ্দ শত বৎসর পূর্বে যে সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে এবং আজও পূর্ণ হচ্ছে।

ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন: 
সেই নবী এসে মসীহ্ মহিমা প্রকাশ করবেন মসীহ্ সেই নবী সম্পর্কে বলছেন, “সেই সত্যের রুহ্ আমারই মহিমা প্রকাশ করবেন, কারণ আমি যা করি ও বলি তাই তিনি তোমাদের কাছে প্রকাশ করবেন” (যোহন ১৬:১৪)।
মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে মসীহ্ এই ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণতা পেয়েছে। মুহাম্মদ (সা.) এসে মসীহ্ মহিমা প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁকে ক্রুশীয় মৃত্যুর অপবাদ থেকে এবং তাঁর মাকে অসতী অপবাদ থেকে মুক্ত করেছেন।

ভবিষ্যদ্বাণী (৪) চার: 
মসীহ্ পর অন্য একজন সাহায্যকারী আসবেন। যার শিক্ষা চিরকাল থাকবে। মসীহ্ বলেন “আমি পিতার কাছে চাইব, আর তিনি তোমাদের কাছে চিরকাল থাকবার জন্য আরেকজন সাহায্যকারীকে পাঠিয়ে দিবেন।” (যোহন ১৪:১৬)
এই ভবিষ্যদ্বানীটিও একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করেছে কেননা মসীহ্র পর চিরস্থায়ী শরীয়ত নিয়ে একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-ই আগমন করেছেন।
হিন্দু ধর্ম গ্রন্থসমূহে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী
পবিত্র কুরআনের ঘোষনা-
وَإِن مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ
অর্থ: পৃথিবীতে এমন কোন জাতি নেই যাদের মাঝে আল্লাহ্ তা’লা সতর্ককারী অর্থাৎ নবী রসূল পাঠান নি। (সুরা ফাতির: ২৫)
সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাচীন তীর্থস্থান ভারতবর্ষও তার ব্যতিক্রম নয়। সিন্ধু নদের অববাহিকায় যে জাতির বাস ছিল তারাই আজ হিন্দু নামে অভিহিত। এই হিন্দু জাতিতেও অনেক মহাপুরুষের আগমন ঘটেছে। যাদেরকে বর্তমানে হিন্দুরা ঈশ্বরের অবতার হিসেবে পূজা করে থাকে। অথচ তারা সবাই ছিল তাদের নিজ নিজ সময়ের খোদার পক্ষ থেকে আসা সতর্ককারী। তেমনি তাদের ধর্মগ্রন্থগুলোও ছিল খোদার পক্ষ থেকে আসা ঐশীগ্রন্থ। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এতে অনেক সংযোজন ও বিয়োজন হয়েছে। মানুষের অন্যায় হস্তক্ষেপের হাত থেকে এই পবিত্র গ্রন্থগুলো রেহাই পায় নি। তাই আজ সেগুলো তাদের প্রকৃত রুপ থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে। তথাপি খোদা তা’লার অপার মহিমা যে এখনো সেগুলোতে কিছু সত্যের ঝলক বিদ্যমান এবং কিছু সত্য ভবিষ্যদ্বাণীও বিদ্যমান যেগুলো সত্য প্রমাণিত হয়ে নিজেদের সত্যতার প্রমান বহন করে চলেছে। যদিও এ সমস্ত ধর্মগ্রন্থ ছিল একটি জাতি বা গোষ্ঠির জন্য সীমাবদ্ধ কিন্তু এতে ভবিষ্যতে আগমনকারী সেই মহাপুরুষের ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান যিনি সমগ্র মানব জাতির জন্য আগমন করবেন। আর একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমেই সেই সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণতা লাভ করেছে।
হিন্দুদের ধর্ম গ্রন্থ বেদে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের কিছু ভবিষ্যদ্বাণীঃ

ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: 
মানব কর্তৃক প্রশংসিত এক নবীর আগমন হবে-
অথর্ব বেদে আগমনকারী সেই নবী সম্পর্কে বলা হয়েছে- “ইদংজনা উপশ্রুত নরাশংসঃস্তবিষ্যতে।” (অথর্ব বেদ ২০ নম্বর গ্রন্থ, ১২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ, ১ নম্বর মন্ত্র) অর্থ: ‘এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব হবে যিনি হবেন মানব কর্তৃক প্রশংসিত।’
আমরা যদি ‘নরাশংস’ শব্দটিকে মুহাম্মদ শব্দটির সাথে মিলিয়ে দেখি তাহলে দেখতে পাই দুটি শব্দের অর্থ পুরোপুরি এক। ‘নরাশংস’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে নর দ্বারা অর্থাৎ মানুষ দ্বারা প্রশংসিত। তদ্রুপ মুহাম্মদ শব্দের অর্থও প্রশংসিত অর্থাৎ মানব কর্তৃক যিনি অনেক বেশী প্রশংসিত।

ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: 
সেই প্রতিশ্রুত নবী উটে আরোহণ করবেন- অথর্ব বেদের আরেক স্থানে আছে- “উষ্ট্রা যস্য প্রবাহনো বধুমন্তো দ্বির্দশ” (অথর্ব বেদ ২০ নম্বর গ্রন্থ, ১২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ, ২ নম্বর মন্ত্র) অর্থাৎ ‘ঐ প্রশংসিত মহাপুরুষ উটের উপর আরোহণ করে আবির্ভূত হবেন। তার দ্বাদশ সহধর্মিণী হবেন।’

গীতায় মুহাম্মদ (সা.) এর আগমন সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীঃ

ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: 
যখনই ধর্মের পতন ও অধর্ম দেখা দিবে তখনই একজন মহাপুরুষের আগমন ঘটবে-
গীতায় রয়েছে- “যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত – অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ // পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্ ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে //” (গীতা,অধ্যায়: ৪, শ্লোক: ৭-৮) অনুবাদ: ‘যখনই ধর্মে অধঃপতন হবে এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হবে, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হব। সাধুদের পরিত্রাণ, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করে ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হব।’

ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: 
সমস্ত জাতির জন্য এক বিশ্ব নবীর আগমন ঘটবে। গীতায় রয়েছে কৃষ্ণ তাঁর শিষ্য অর্জুনকে ভবিষ্যতে আগত তাঁর কয়েকটি বিশ্বরুপ দেখালেন। যেখানে অর্জুন সহস্র সূর্যের দীপ্তিতে উদ্ভাসিত এক মহাপুরুষকে দেখে বলে উঠলেন “দিবি সূর্যসহস্রস্য ভবেদ্ যুগপদুত্থিতা যদি ভাঃ সদৃশী সা স্যাদ্ ভাসস্তস্য মহাত্মনঃ” (গীতা, অধ্যায়: ১১, শ্লোক: ১২) অর্থাৎ ‘যদি আকাশে সহস্র র্সূ্যের প্রভা যুগপৎ উদিত হয়, তাহলে সেই মহাত্ম বিশ্বরূপের প্রভার কিঞ্চিত তুল্য হতে পারে।’
শ্রী কৃষ্ণ ছিলেন জাতীয় অবতার। কিন্তু অর্জুন তাঁর সামনে বিদ্যমান এই কৃষ্ণের চেয়ে হাজারো গুণ দীপ্তিমান এক সত্তাকে দেখলেন। যিনি হাজারো সূর্য তুল্য। যিনি শুধু এক জাতি, এক দেশের জন্য আসবেন না। আসবেন এক বিশ্বরূপ নিয়ে সমগ্র বিশ্বের জন্য। গীতার উপরোক্ত এই ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে নিঃসন্দেহে মুহাম্মদ (সা.)-ই হচ্ছেন সেই মহাপুরুষ যাকে পবিত্র কুরআনে ‘সিরাজুম্ মুনীর’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন: 
আহমদ নামে এক সর্বশ্রেষ্ঠ রসূলের আগমন হবে- গীতায় রয়েছে- “অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাঞ্চ সর্বশঃ” (গীতা, অধ্যায়: ১০, শ্লোক: ২) অর্থাৎ ‘আহমদ দেবতা দেবতাদের মাঝে সর্বোতভাবে মহির্ষী।’
পুরানে হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী
পুরানে খুবই স্পষ্টভাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন সর্ম্পকিত কিছু ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান।

ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: 
মহামদ’ নামে এক মহাপুরুষের আগমন হবে। ভবিষ্য পুরানে রয়েছে- “মহামদ ইতিখ্যাত: শিষ্যশাখা সমন্বিত: নৃ পশ্চব মহা দেবং মরুস্থল নিবাসিনম।” (ভবিষ্যপুরান-৩, খন্ড: ৩, অধ্যায়: ৩ শ্লোক: ৫, ৬) অর্থাৎ ‘মহামদ নামে এক মহাপুরুষ মরু অঞ্চলে শিষ্যসহ আবির্ভূত হবেন। তাকে অর্থাৎ সেই মরুস্থলে আগমনকারী মহাদেবকে নমস্কার।’

ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: 
খৎনা সম্পন্ন একজন মহাপুরুষ আগমন করবেন। ভবিষ্য পুরানে আরেক স্থানে এসেছে-“লিঙ্গচ্ছেদী শিখাহীন: শ্মশ্রুধারী স দ্রষক: উচ্চালাপী সর্বভক্ষী ভবিষ্যতি জনো মম।” (ভবিষ্যপুরান-৩, খন্ড: ৩, অধ্যায়: ৩, শ্লোক: ২৫) অর্থাৎ ‘এই মহাপুরুষের খৎনা হবে, টিকি না রেখে তিনি দাড়ি রাখবেন। তিনি উঁচু আওয়াজে আহবান করবেন। তিনি হালাল খাদ্য গ্রহন করবেন’।
ভবিষ্যপুরানের উপরোক্ত ভবিষ্যদ্বাণীসমূহের প্রতিটি বাক্য একমাত্র হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আগমনের মাধ্যমেই অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণতা লাভ করেছে।

ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন: 
শান্তির শহর অর্থাৎ মক্কায় সেই মহাপুরুষের জন্ম হবে- কল্কি পুরানে আছে “শাম্ভলে বিষ্ণুয শস্যে গৃহে প্রাদুর্ভবামাহম” (কল্কি পুরান, ২য় অধ্যায়, শ্লোক: ৪) অর্থাৎ ‘কলির কালে বিষ্ণু দাসের গৃহে, সম্ভল শহরে কল্কি অবতারের জন্ম হবে।’ বিষ্ণু শব্দের আরবী অনুবাদ হচ্ছে ‘আল্লাহ্’ আর দাসের আরবী হচ্ছে ‘আব্দ। অর্থাৎ আব্দুল্লাহ্ ঘরে সেই মহাপুরুষ জন্ম নিবেন। তাছাড়া এখানে ‘সম্ভল’ যে শব্দ এসেছে তার আরবী হচ্ছে আমান অর্থাৎ শান্তি। আর এক সাথে অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘দারুল আমান’। পবিত্র মক্কা নগরীর আরেক নাম হচ্ছে ‘দারুল আমান’ অর্থাৎ শান্তির শহর।


ভবিষ্যদ্বাণী (৪) চার: 
সেই মহাপুরুষের চার খলীফা থাকবে- কল্কি পুরানে আছে “চতুর্ভি ভ্রাতৃভির্দেব! করিষ্যামি কলিক্ষয়ম” (কল্কি পুরান, ২/১৫) অর্থাৎ ‘তার ভ্রাতৃতুল্য চারজন সহকর্মী হবেন, তাদের সহযোগে তিনি কলি (জাহেলিয়াত) ক্ষয় করবেন।

ভবিষ্যদ্বাণী (৫) পাঁচ: 
নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার যুগে সেই মহাপুরুষ আগমন করবেন। “কলি যুগে যখন রাজারা হবে ডাকাতের মত তখন বিষ্ণু দাশের ঘরে কল্কি জন্ম নিবে। (কল্কিপুরান, ২/৭)
আমরা সকলেই অবগত যে, মুহাম্মদ (সা.) সেই জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতার যুগেই জন্ম নিয়েছিলেন যখন সর্বত্রই ছিল হানাহানি নৈরাজ্য ও অধিকার হননের চিত্র।

এখন আমাদের নিকট দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থ সমূহে একজন সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর আগমন সম্বন্ধীয় যে সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান তা একমাত্র আমাদের নেতা ও প্রভূ নবীকূলের শিরোমণি রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা আহমদ মুজতবা (সা.)-এর শুভাগমনের মাধ্যমেই অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণতা লাভ করেছে। তাঁর (সা.) আগমনের মাধ্যমে শরীয়ত পূর্ণতা লাভ করেছে। মানবজাতি তার উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে উপনীত হয়েছে। তাই আমাদের সকলের উচিৎ এই মহান নবীর প্রতি প্রতিনিয়ত অবারিত দরুদ প্রেরণ করা আর এই দোয়া করা যে, এই পৃথিবীর যে সমস্ত মানুষ এখনো এই মহান নবীর শান ও মর্যাদা সম্বন্ধে অবহিত নয় আল্লাহ তা’লা তাদের সকলকে এই মহা মর্যাদাবান নবীর শান ও মর্যাদা অনুধাবন করার তৌফিক দান করুন এবং এই নবীর প্রতি ঈমান এনে হেদায়াত লাভ করার তৌফিক দান করুন। আর আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকেও এই মহান নবীর পবিত্র জীবনাদর্শ অনুসরণ করার ও তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ প্রেরণ করার তৌফিক দান করুন (আমীন)।

বাঁদর ও দরবেশের গল্প

 

একটি বাঁদর ও দরবেশের শিক্ষনীয় গল্প





বহু বছর পূর্বে এক দেশে এক নির্জন জায়গায় এক দরবেশ থাকত। আর আশে পাশের দশ গ্রামের শত শত লেক প্রতিদিন দীক্ষা নিতে আসত এই দরবেশের কাছে। দরবেশের মানবতা ও শিক্ষার সুনাম দিন দিন দেশ দেশান্তরে ছড়াতে লাগল। দরবেশ সব সময় হাতে একটা বেত রাখত।

দরবের শখ করে একটা বাঁদর পালত আর  সেই বাঁদরটিকে দরবেশের জন্য ভক্তদের নিয়ে আসা ভাল ভাল খাবার তিন বেলা সমান ভাবে  করে পরম যতনে বাঁদরটিকে খেতে দিত। কিন্তু খাওয়ানোর পর প্রতি বেলায়ই দরবেশ বাঁদরটিকে হাতে থাকা বেতটি দিয়ে তু্নিটি করে বাড়ি দিত মানে বেত্রঘাত করত। এটা দেখে অনেকেই খুব মন খারাপ করত।

একদিন এক সারগেদ সাহস করে দরবেশকে জিজ্ঞপস করল যে, হুজুর এত আদর করে বাঁদরটিকে খাওয়ানোর পর কেন এত নিষ্ঠুর ভাবে মারেন কেন একটু বলবেন? প্রতিদিন এটা দেখে আমাদের খুব মন খারাপ লাগে।

এ কথা শোনে দরবেশ চুপ করে রইলো, কিছু বল্লেন না। পরের দিন থেকে খাবার দিয়ে দরবেশ বাঁদরটিকে আর মারল না। এভাবে কিছুদিন চলার পর বাঁদরটি খাবার পর দরবেশেরে কাছে গা ঘেঁষে বসে শুরু করল। 
তারও সপ্তাহ খানেক পর বাঁদরটি খাবার পর দরবেশের কোলে বসতে শুরু করল। তারও এক সপ্তাহ পর বাঁদরটি হুজুরের মাথায় উঠে বসতে শুরু করল, দরবেশ কিছু বলত না, সবাই ব্যাপারটি খেয়াল করল।

একদিন দরবেশ বাঁদরটিকে খাওয়ানোর পর অনেক ভক্ত নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে কথা বলছিল, তখনি বাঁদরটি দরবেশের ঘাড়ে যথারীতি চড়ে বসল এবং ঘাড়ে বসে দরবেশের নাকে মুখে খামচি দিতে লাগল এমন ভাবে যেন দরবেশ খুবই বিরক্ত হল এবং বার বার বাঁদরটিকে মাটিতে নামিয়ে দিচ্ছিল আর বাঁদরটি আবার ঘাড়ে চড়ে বসে আবার বাঁদরামী শুরু করছিল। 

এক পর্যায় এমন ভাবে দরবেশকে বাঁদরটি দরবেকে বিরক্ত করতে লাগল দরবেশ আর কথাই বলতে পারছিল না। তখন দরবেশ বিরক্ত হয়ে বাঁদরটিকে মাটিতে নামিয়ে হাতে থাকা বেতটি দিয়ে বাঁদরটিকে আচ্ছা করে কষে তিনটি বেত্রাঘাত করল। বাঁদরটি বেতে আঘাত পেয়ে চুপ চাপ পাশে বসে রইলো। তখন ভক্তরা বুঝতে পারল দরবেশ কেন বাঁদরটিকে প্রতিদিন খাবার দিয়ে পরে আবার মারত। 

অক্ষি কোটর (Humen orbit)

 অক্ষি কোটর:




এই নিবন্ধটি অক্ষিকোটর সম্পর্কে। অন্যান্য ব্যবহারের জন্য, অরবিট (দ্ব্যর্থহীনতা) এবং অরবিট।
এনাটমিতে অক্ষিকোটর হল মাথার খুলির গহ্বর বা সকেট যেখানে চোখ এবং এর সংযোজনগুলি অবস্থিত। "অরবিট" হাড়ের সকেটকেও বোঝাতে পারে অথবা এটি অক্ষির অংশ গুলো বোঝাতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এর আয়তন  30 মিলিলিটার।  এই অক্ষিকোটরে চোখ এবং রেট্রুবালবার ফ্যাসিয়া, বহির্মুখী পেশী, ক্রেনিয়াল নার্ভ II, III, IV, V, এবং VI, রক্তনালীগুলি, চর্বি, তার থলি এবং নালী সহ ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি, চোখের পাতা এবং মাঝারি এবং পার্শ্বীয় palpebraলিগামেন্টস, চেক লিগামেন্টস, সাসপেনসারি লিগামেন্ট, সেপটাম, সিলারি গ্যাংলিয়ন এবং সংক্ষিপ্ত সিলিয়ারী স্নায়ু।

চারপাশের হাড়ের সাথে অরবিটের 3 ডি মডেল
কক্ষপথটি শঙ্কুযুক্ত বা চার-দিকের পিরামিডাল গহ্বরগুলি, যা মুখের মধ্যরেখায় খোলে এবং মাথার দিকে ফিরে আসে। প্রতিটি একটি বেস, একটি শীর্ষ এবং চার প্রাচীর গঠিত। 



প্রারম্ভিক আলোচন:
কক্ষপথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফোরামিনা, বা উইন্ডো, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফিশার বা খাঁজ এবং একটি ক্যানেল রয়েছে surrounding এখানে একটি সুপার্রোবিটাল ফোরামেন, ইনফ্রাওরবিটাল ফোরামেন, উচ্চতর অরবিটাল ফিশার, একটি নিকৃষ্ট কক্ষপথ বিচ্ছিন্নতা এবং অপটিক খাল রয়েছে, যার প্রতিটিটিতে এমন কাঠামো রয়েছে যা চোখের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুপার্রোবিটাল ফোরামেনের মধ্যে রয়েছে সুপার্রোবিটাল নার্ভ, ট্রাইজেমিনাল নার্ভ বা VI এর প্রথম বিভাগ এবং সামনের সাইনাসের ঠিক পাশের অংশে অবস্থিত। ইনফ্রাওরবিটাল ফোরামেনে ট্রাইজিমিনাল নার্ভের দ্বিতীয় বিভাগ, ইনফ্রোরবিটাল নার্ভ বা VII রয়েছে এবং ম্যাক্সিলারি সাইনাসের পূর্ববর্তী প্রাচীরের উপর বসে থাকে। উভয় ফোরামিনা ক্যান্সার এবং কক্ষপথের সংক্রমণ মস্তিষ্কে বা অন্যান্য গভীর মুখের কাঠামোতে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য পথ হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ।


অপটিক কেনেলে ক্রেণিয়াল নার্ভ II এবং চক্ষু ধমনী থাকে এবং এথময়েড বায়ু কোষগুলির সাথে স্পেনয়েড সাইনাসের সংযোগস্থলে বসে, অণুবৃত্তীয় শীর্ষে কাঠামোয় সুপারোমোডিয়াল এবং উত্তরোত্তর হয়। এটি কক্ষপথের বিষয়বস্তু এবং মাঝের ক্রেনিয়াল ফোকাসের মধ্যে একটি পথ সরবরাহ করে। উচ্চতর কক্ষপথ বিচ্ছিন্নতা অপটিক খালের তুলনায় পার্শ্ববর্তী এবং নিকৃষ্ট, এবং স্পেনয়েড হাড়ের কম এবং বৃহত্তর ডানার সংমিশ্রণে গঠিত হয়। এটি ক্র্যাকিয়াল নার্ভ III, IV, VI রয়েছে যা আন্তঃক্রান্তিক যোগাযোগের জন্য একটি প্রধান পথ, যা বহির্মুখী পেশীগুলির মাধ্যমে চোখের চলাচল এবং ক্রেনিয়াল নার্ভ V, বা VI এর চোখের শাখা নিয়ন্ত্রণ করে। ট্রাইজিমিনাল নার্ভের দ্বিতীয় বিভাগটি ফোমারেন রোটানডাম বা VII এর মাথার খুলি বেসে প্রবেশ করে। নিকৃষ্ট কক্ষপথ বিচ্ছিন্নতা ম্যাক্সিলারি সাইনাসের পার্শ্বীয় প্রাচীরের অকুলার গ্লোবের নিকৃষ্ট এবং পার্শ্বীয় অবস্থিত। এটি কার্যক্রমে যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, যদিও এটিতে ম্যাক্সিলারি স্নায়ুর কয়েকটি শাখা এবং ইনফ্রোরবিটাল ধমনী এবং শিরা রয়েছে  অক্ষীপথের অন্যান্য ছোট ছোট কাঠামোর মধ্যে পূর্ববর্তী এবং উত্তরোত্তর নৃতাত্ত্বিক ফ্রেমেন এবং জাইগোমেটিক অরবিটাল ফোরাম্যান অন্তর্ভুক্ত।

হাড়ের দেয়াল:



অক্ষিকোটর গঠন করে যে সাতটি হাড়:
হলুদ = সামনের হাড়
সবুজ = ল্যাক্রিমাল হাড়
বাদামী = এথময়েড হাড়
নীল = জাইগোমেটিক হাড়
বেগুনি = ম্যাক্সিলারি হাড়
অ্যাকোয়া = প্যালাটাইনের হাড়
লাল = স্পেনয়েড হাড়




টিল = নাকের হাড় (চিত্রিত তবে কক্ষপথের অংশ নয়)
মানুষের অরবিটাল খালের হাড়ের প্রাচীরগুলি একটি অস্থি থেকে উদ্ভূত হয় না, তবে সাতটি ভ্রূণতাত্ত্বিকভাবে পৃথক কাঠামোর একটি মোজাইক: জাইগোমেটিক হাড়টি পরবর্তীকালে, স্পেনয়েড হাড়, এর কম ডানা অপটিক খাল গঠন করে এবং এর বৃহত্তর হয়ডানাটি হাড়ের কক্ষপথের প্রক্রিয়ার পাশ্ববর্তী অংশ গঠন করে, ম্যাক্সিলারি হাড়কে নিকৃষ্টতর ও মধ্যস্থতাকারী করে তোলে যা ল্যাক্রিমাল এবং এথময়েড হাড়ের সাথে অরবিটাল খালের মধ্যবর্তী প্রাচীর গঠন করে। এথময়েড বায়ু কোষগুলি অত্যন্ত পাতলা এবং লামিনা পেপিরাস নামে পরিচিত একটি কাঠামো গঠন করে, এটি মাথার খুলির সবচেয়ে সূক্ষ্ম হাড় কাঠামো এবং কক্ষপথের ট্রমাতে সবচেয়ে সাধারণভাবে ভাঙা হাড়গুলির মধ্যে একটি। ল্যাক্রিমাল হাড়ের মধ্যে নাসোল্যাক্রিমাল নালীও রয়েছে। অরবিটাল রিমের উচ্চতর বনি মার্জিন, অন্যথায় কক্ষপথ প্রক্রিয়া নামে পরিচিত, সামনের হাড় দ্বারা গঠিত হয়। 


ছাদ (উচ্চতর প্রাচীর) মূলত কক্ষপথের প্লেট সামনের হাড় দ্বারা গঠিত হয়, এবং কক্ষপথের শীর্ষের নিকটে স্পেনয়েডের কম ডানা থাকে। অরবিটাল পৃষ্ঠটি ট্রোক্লিয়ার ফোওয়া এবং মধ্যবর্তীভাবে ল্যাক্রিমাল ফোসায় মধ্যস্থতার উপস্থাপন করে। 

মেঝে (নিকৃষ্ট প্রাচীর) ম্যাক্সিলার কক্ষপথ, জাইগমেটিক হাড়ের কক্ষপথ এবং প্যালাটিন হাড়ের মিনিটের কক্ষপথ প্রক্রিয়া দ্বারা গঠিত হয়। মিডিয়ালি, অরবিটাল মার্জিনের নিকটে, নাসোল্যাক্রিমাল নালীগুলির জন্য খাঁজটি অবস্থিত। মেঝেটির মাঝের কাছে, ইনফ্রোরবিটাল খাঁজটি অবস্থিত, যা ইনফ্রোরবিটাল ফোরামেনের দিকে নিয়ে যায়। নিম্নতর কক্ষপথ ফিশার দ্বারা তলটি পার্শ্বীয় প্রাচীর থেকে পৃথক করা হয়, যা কক্ষপথটিকে পটারিগোপ্যালাটিন এবং ইনফ্র্যাটেম্পোরাল ফসাকে সংযুক্ত করে।

মধ্যস্থ প্রাচীরটি মূলত এথময়েডের কক্ষপথের প্লেট দ্বারা গঠিত হয়, পাশাপাশি ম্যাক্সিলা, ল্যাক্রিমাল হাড় এবং স্পেনয়েডের দেহের একটি ছোট অংশের সামনের প্রক্রিয়া থেকে অবদান রয়েছে। এটি কক্ষপথের সবচেয়ে পাতলা প্রাচীর, এটি বায়ুসংক্রান্ত নৃতাত্ত্বিক কোষ দ্বারা প্রমাণিত। 

পার্শ্বীয় প্রাচীরটি জাইগোমেটিকের সম্মুখভাগ প্রক্রিয়া এবং আরও উত্তরোত্তর দিকে স্পেনয়েডের বৃহত্তর উইংয়ের কক্ষপথের প্লেট দ্বারা গঠিত হয়। জাইগোমেস্টোফেনয়েড সিউনে হাড়গুলি মিলিত হয়। পার্শ্বীয় প্রাচীরটি কক্ষপথের ঘন প্রাচীর, এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সর্বাধিক উদ্ভাসিত পৃষ্ঠ, ভোঁতা বল আঘাতজনিত ট্রমাতে অত্যন্ত দুর্বল।

সীমানা:
বেস, কক্ষপথ মার্জিন, যা মুখ খুলবে, এর চারটি সীমানা রয়েছে। নিম্নলিখিত হাড়গুলি তাদের গঠনে অংশ নেয়:

উচ্চতর মার্জিন: সামনের হাড়
নিকৃষ্ট মার্জিন: ম্যাক্সিলা এবং জাইগমেটিক হাড়
মধ্যবর্তী প্রান্তিক: সামনের হাড় এবং ম্যাক্সিলা
পার্শ্বীয় মার্জিন: জাইগোমেটিক হাড় এবং সামনের হাড়
ফাংশন সম্পাদনা
কক্ষপথ চোখকে ধারণ করে এবং সুরক্ষিত করে।

চোখের চলাচল:
চোখের চলাচল ছয়টি স্বতন্ত্র বহির্মুখী পেশী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, একটি উচ্চতর, একটি নিকৃষ্ট, একটি মধ্যস্থ এবং একটি পাশ্বিক রেক্টাস, পাশাপাশি উচ্চতর এবং একটি নিকৃষ্ট তির্যক। উচ্চতর চোখের শিরাটি কক্ষপথের ক্যানেলের উচ্চতর প্রান্তের সাথে একটি সিগময়েডাল জাহাজ যা চারপাশের পেশী থেকে ডিওসাইজেনেটেড রক্ত ​​নিষ্কাশন করে। চোখের ধমনীটি কক্ষপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো, কারণ এটি বৃহত অভ্যন্তরীণ ক্যারোটিড সংক্রমণের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রায়শই রক্তের একমাত্র উত্স, কারণ এটি উইলিসের বৃত্তের সমান্তরাল পথ। তদতিরিক্ত, অপটিক কেনেল রয়েছে, যার মধ্যে অপটিক স্নায়ু, বা ক্রেনিয়াল নার্ভ II রয়েছে এবং এটি পুরোপুরি স্পেনয়েডের কম ডানা দ্বারা গঠিত হয়, অপটিক স্ট্রুট দ্বারা সুপ্রেব্রিটাল ফিশার থেকে পৃথক হয়। সংক্রমণ, ট্রমা বা নিউওপ্লাজমের মাধ্যমে এই কাঠামোর যে কোনও একটিতে আঘাতের কারণে অস্থায়ী বা স্থায়ী চাক্ষুষ কর্মহীনতা এবং তাত্ক্ষণিকভাবে সংশোধন না করলে অন্ধত্বের কারণ হতে পারে [[8] কক্ষপথগুলি যান্ত্রিক আঘাত থেকে চোখকে সুরক্ষা দেয়। [৪]

ক্লিনিকাল তাৎপর্য:
অক্ষিকোটর, পার্শ্ববর্তী fascia মসৃণ ঘোরার জন্য অনুমতি দেয় এবং কক্ষপথের বিষয়বস্তু সুরক্ষিত করে। যদি অতিরিক্ত টিস্যু অকুলার গ্লোব এর পিছনে জমে থাকে তবে চোখটি প্রোট্রোড হতে পারে বা এক্সোফালথ্যালমিক পরিণত হতে পারে।

টিয়ার সিস্টেম:
ক। টিয়ার গ্রন্থি / ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি,
খ। উচ্চতর লম্বালম্বী নিয়ামক,
গ। উচ্চতর জঘন্য খাল,
d। টিয়ার স্যাক / ল্যাক্রিমাল স্যাক,
e। নিকৃষ্টতর লঘুচক্র পাঙ্ক,
চ। নিকৃষ্ট জঘন্য খাল,
ছ। নাসোল্যাক্রিমাল খাল

অক্সিকোটরের মধ্যে সুপারোটেম্পোরালিভাবে অবস্থিত ল্যাক্রিমাল গ্রন্থির বৃদ্ধি, চোখের নিম্নমানের ও মধ্যস্থতার (ল্যাক্রিমাল গ্রন্থির অবস্থান থেকে দূরে) প্রসার ঘটায়। লাক্ষার গ্রন্থি প্রদাহ (উদাঃ সারকয়েড) বা নিউপ্লাজম (উদাঃ লিম্ফোমা বা অ্যাডিনয়েড সিস্টিক কার্সিনোমা) থেকে বাড়ানো যেতে পারে। 

অনুভূমিক রেকটাস পেশীগুলির দ্বারা গঠিত শঙ্কুর মধ্যে টিউমারগুলি (যেমন গ্লিওমা এবং অপটিক নার্ভের মেনিংনিওমা) চোখের অক্ষীয় প্রস্রাব (সামনের দিকে এগিয়ে) উৎপন্ন করে।

রেকটাসের পেশীগুলিতে এক্সট্রা সেলুলার ম্যাট্রিক্স প্রোটিন এবং ফাইব্রোসিস গঠনের কারণে কবর রোগের কারণে চোখের অক্ষীয় প্রস্রাব হতে পারে, যা গ্রাভের চোখের ডাক্তার হিসাবে পরিচিত। গ্রাভের চোখের চিকিত্সার বিকাশ থাইরয়েড ফাংশন থেকে স্বাধীন হতে পারে।

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...