4547715 ডা.বশির আহাম্মদ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫

মডারেট মুসলমান মানেই আমেরিকার আজ্ঞাবহ গৃহপালিত কুত্তা



প্রকৃত মুসলিম তারাই যারা কুরআনে যা লেখা আছে তা গ্রহণ করে এবং তার উপর আমল করে কারণ ইসলাম শুধুমাত্র কুরআন থেকেই এসেছে।কিন্তু:

• অধিকাংশ মানুষ আল্লাহতে বিশ্বাস করে, কিন্তু সেই সঙ্গে শিরকও করে। {১২:১০৬}

• কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফুরি করে তারা- আর মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। এরাই সৃষ্টির অধম। {৯৮:৬}

• আর তাদের বেশিরভাগ অনুমান/ধারণা (ظَنًّاۗ) ছাড়া অনুসরণ করে (يَتَّبِعُ) না; নিশ্চয়ই সত্যের (ٱلْحَقِّ) ক্ষেত্রে অনুমান/ধারণা (ٱلظَّنَّ) কোনো কাজ করে না…{১০:৩৬}

• যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না…{১৭:৩৬}

• যারা বিবেক বুদ্ধি খাটায় না, আল্লাহ তাদের উপর গুমরাহী চাপিয়ে দেন/ অপবিত্রতা স্থাপন করে দেন/ আযাব চাপিয়ে দেন। {১০:১০০}

• যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তাতে যাউত্তম তা গ্রহণ করে। এরাই সেসব লোক, যাদের আল্লাহ্‌ হিদায়াত করেছেন এবং তারাই বুদ্ধিমান লোক। {৩৯:১৮}


স্নায়ু যুদ্ধের সময় অ্যামেরিকানদের মুখে প্রায়ই একটা কথা শোনা যেত, ‘ র‍্যাডিকাল ন্যাশনালিস্ট’। সেই দিনগুলোতে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে র‍্যাডিকাল ন্যাশনালিস্টদের কবল থেকে রক্ষা করা নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিল অ্যামেরিকা। অ্যামেরিকার অস্তিত্বের প্রতি র‍্যাডিকাল ন্যাশনালিস্টরা কেন হুমকি, সেটা নিয়েও শোনা যেতো অনেক কথা। কিন্তু ‘র‍্যাডিকাল ন্যাশনালিস্ট’ নামের এ দানব আসলে কী ছিল?

শাব্দিকভাবে এর অর্থ হয় চরমপন্থী জাতীয়তাবাদ। কিন্তু অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যের কাছে র‍্যাডিকাল শব্দের একটা বিশেষ অর্থ ছিল। র‍্যাডিকাল মানে হল ‘আমাদের কথা শোনে না’। অ্যামেরিকার আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করা যেকোন দেশ, দল, গোষ্ঠী কিংবা ব্যক্তি এই সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘র‍্যাডিকাল’। তার রক্ত হালাল।

একইভাবে সাম্রাজ্যবাদের অভিধানে বিশেষ এক অর্থ ছিল ‘আগ্রাসনের’। আগ্রাসন মানে প্রতিরোধ। সাম্রাজ্যবাদী লুটপাট, হত্যা, সামরিক অভিযান চালানো অ্যামেরিকা শান্তিকামী, আগ্রাসী না। কিন্তু অ্যামেরিকান আগ্রাসন প্রতিরোধের চেষ্টা যে করে সে অবশ্যই, অতি অবশ্যই আগ্রাসী।

আজকের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যুগে প্রায় হুবহু ব্যবহার করা হচ্ছে স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার এই ফর্মূলা। শুধু চরমপন্থী জাতীয়বাদের জায়গায় ইসলামী চরমপন্থা (র‍্যাডিকাল ইসলাম) আর ‘আগ্রাসন’ এর জায়গায় এসেছে ‘সন্ত্রাস’। নিজেদের চিরাচরিত উদ্ভাবনী স্বভাব বজায় রেখে এই নতুন শব্দগুলো দিয়ে অ্যামেরিকা তৈরি করেছে ভালো-খারাপ মুসলিমের নতুন নতুন সংজ্ঞাও।

মডারেট, ‘ভালো মুসলিম’ হল আজ্ঞাবহ মুসলিম। যে অ্যামেরিকাকে ভালো পায়। অ্যামেরিকা যতোটুকু মেনে নেবে তার ইসলাম ততোটুকুই। অ্যামেরিকা যা পছন্দ করে না সেটা তার কাছে চরমপন্থা, সন্ত্রাস, জঙ্গিপনা। দু বেলা দু মুঠো খেয়েপরে অ্যামেরিকার কাছ থেকে শান্তিকামী, সভ্য, ভব্য খেতাব নিয়ে রাতে নিশ্চিতে ঘুমোতে পারলেই সে খুশি। হাউস নিগার। ডিনার টেবিলের পাশে মনিবের ছুড়ে দেয়া ছিটেফোঁটা খাবারের টুকরোর জন্য উদগ্রীব চোখে তাকিয়ে অনবরত লেজ নাড়াতে থাকা গর্বিত, সাম্রাজ্যপ্রেমী মডারেট কুকুর।

আর র‍্যাডিকাল মুসলিম হল অ্যামেরিকার কথা না শোনা দুষ্ট মুসলিম। ঐ মুসলিম যে অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যবাদ আর সন্ত্রাসবাদকে মেনে নেয় না।

ইসলামের বিরুদ্ধে নব্য ক্রুসেইডে যারা অ্যামেরিকার দলে তারা মডারেট, ভালো মুসলিম। যারা অ্যামেরিকান ক্রুসেইডের বিরোধিতা করে তারা র‍্যাডিকাল, খারাপ মুসলিম।অর্থাদ মডারেট মুসলমান হলো আমেরিকার আজ্ঞা পালন কারী গৃহপালিত কুত্তা।


মডারেট মুসলিম হলো সেই ধরনের মুসলিম, যাদের কার্যকলাপের ভেতরে ইসলামের কোন চিন্হ নেই। অথবা, তারা ইসলাম বহির্ভূত কার্যকলাপ করে। সহজ ভাষায় বললে, তারা নামে মুসলিম, কাজে কাফের (বা মুশরিক)। কাফের ও মুশরিক কথাগুলো অপমানজনক বলে, সেটার একটি সুন্দর নাম দিয়েছে - মডারেট মুসলিম।


মুসলিম নামধারী কিন্তু কার্যত অমুসলিম, এমন মানুষকে বলে - মডারেট মুসলিম। যাদের কার্যকলাপে মুসলিম প্রমান পাওয়া যায়, তাদের নাম দিয়েছে - প্র্যাকটিসিং মুসলিম।

আমাদের সমাজে যেটা হচ্ছে, সেটা এতক্ষণ বলেছি। এখন বলবো - কি হওয়া উচিত ছিলো।

সাধু সন্ন্যাসীরা হিমালয়ে গিয়ে তপস্যা করে, জঙ্গলে গিয়ে থাকে। এভাবে তারা জীবনটা উপভোগ করার সুযোগ হারায়। যীশু একজন মানুষ হলেও, তাকে ঈশ্বর বানিয়ে ফেলেছে। গির্জার নান আর মন্দিরের সেবাদাসী মেয়েরা আজীবন কুমারী থেকে মাতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

মোট কথা - স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ত্যাগ না করলে, বড় ধার্মিক হওয়া যায় না। এটাই হচ্ছে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি। এটা হলো চরমপন্থা (extremism)। ইসলাম আমাদের স্বাভাবিক থাকতে শিখিয়েছে। ইসলাম শিখিয়েছে, কাজকর্ম করে, বিয়ে-শাদি করে, বড় ধার্মিক হওয়া যায়। ইসলাম আমাদের মধ্যমপন্থায়, স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে শিখিয়েছে। ইসলাম একটি মধ্যপন্থী (moderate) ধর্ম।

কাজকর্ম করে, বিয়ে-শাদি করে, বড় ধার্মিক হয় কিভাবে? প্রতিটি কাজ আল্লাহর দেওয়া নিয়ম অনুসারে করতে হবে। কি করতে হবে? আল্লাহর দেওয়া নিয়মে কাজ করতে হবে। চুপ করে বসে ধ্যান করলে হবে না। কাজ করতে হবে। ওই কাজ করাটাই প্র্যাকটিস (practice)।

  • ইসলাম একটি মধ্যপন্থী (moderate) ধর্ম। ইসলাম হলো প্র্যাকটিস (practice) করার ধর্ম।

আসলে, মডারেট মুসলিম এবং প্র্যাকটিসিং মুসলিম বলে কিছু নেই। ইসলাম এমনিতেই মডারেটেড সর্বকালের জন্য এবং প্র্যাকটিসিং ধর্ম।


আল্লাহ কুরআনে যে বিধিনিদেশগুলি দিয়েছেন সেগুলি পরিপূর্ণভাবেই পালন করার চেষ্টা প্রতিটি মুসলমানকে করতে হবে; এখানে আধাআধি বা তথাকথিত মধ্যপন্থা অবলম্বনের কোনো অবকাশ নেই।

মানবজীবন সৃষ্টির লক্ষ্য সম্পর্কে আল্লাহ বলেন :

"He Who created Death and Life, that He may try which of you is best in deed: and He is the Exalted in Might, Oft-Forgiving." ( Al Quran # 67:2)

"যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।" ( আল কুরআন# ৬৭:২)

বিশ্বাসীদেরকে তাই নিজেদেরকে মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন এবং কর্মে শ্রেষ্ঠ হিসেবে তৈরী করতে চাইলে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং মানবতার সেবায় আত্মত্যাগী হতে হবেI কুরআনে শুধু মাত্র একটি রাস্তার কথাই বলা হয়েছে; তাহলো, সিরাতুল মুস্তাকীম বা সোজা রাস্তা, যা হচ্ছে রসূলুল্লাহর আদর্শ বা কুরআন।

কুরআনের ২:১৪৩ নং আয়াতে أُمَّةً وَسَطًا- ummatau wasatan বাক্যাংশটি অনুবাদকেরা middle nation, moderate nation, just nation, justly balanced nation বা balanced nation ইত্যাদি নানাভাবে অনুবাদ করেছেন। তবে balanced nation অনুবাদটিই যথোপযুক্ত। আয়াতটির ইংরেজি অনুবাদ নিচে উল্লেখ করছি:

"And as such, We have made you a balanced nation so that you may be witness over the people, and that the messenger may be witness over you…… " (Al Quran# 2:143)

এর বঙ্গানুবাদ নিম্নরূপ:

"এবং এরূপেই আমি তোমাদেরকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জাতি হিসেবে তৈরী করেছি যাতে তুমি লোকদের জন্য উদাহরণ হতে পার এবং রসূল তোমার জন্য উদাহরন………"

আপনি প্রশ্ন করতে পারেন ভারসাম্যপূর্ণ জাতি বলতে কি বোঝায় ?

প্রথমে আসা যাক একজন ভারসাম্য সম্পন্ন মানুষ কাকে বলে।ধরা যাক কেউ একজন নামাজ, রোজা, দান খয়রাত সবই করেন, আবার সেই সাথে ঘুষ, সুদ, গালিগালাজ, ব্যভিচারও করেন; তাহলে আপনি কি তাকে balanced বা ভারসাম্যপূর্ণ চরিত্রের অধিকারী বলতে পারেন?অবশ্যই নয়।

কুরআনের পরিভাষায় এদেরকে মুনাফিক বলা হয়- যারা কুরআনের একাংশ, যা তাদের পছন্দ তা অনুসরণ করে, আর যা পছন্দ নয় তা বাতিল করে; এবং এই উদ্দেশ্যে তারা তাদের পছন্দনীয় কোনো ধর্ম গুরুকে অনুসরণ করে। আল্লাহ এদের সম্পর্কে কুরআনে বলেন :

"...তবে কি তোমরা গ্রন্থের (কুরআনের) কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।" (আল কুরআন # ২:৮৫)

Balanced বা ভারসাম্যপূর্ণ লোক আপনি তাকেই বলবেন যার মধ্যে সমস্ত মানবিক গুণাবলীই সমভাবে বিকশিত। আল্লাহ ২:১৪৩ নং আয়াতে এটাই বুঝিয়েছেন যে তোমাকে সবাই রাসূলুল্লাহর আদর্শে গড়া একজন মানুষ বলেই মনে করবে, আর তোমার আদর্শগুরু হবেন রাসূলুল্লাহ(সা:)। এটাই হচ্ছে মুসলিম জাতি হিসেবে তোমাদের বৈশিষ্ট্য।

যদিও অনেকে এই আয়াতের 'ব্যাখ্যায়' মুসলমানদেরকে মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে নিজেদেরকে গড়ার ইঙ্গিত দেন কিন্তু মধ্যপন্থা কি এ বিষয়ে তাদের ধারণা মোটেই সুস্পষ্ট নয়। আল্লাহ বলেন:

"যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" ( আল কুরআন # ৩৩:২১)

ইসলামে তাই নম্রপন্থী, মধ্যপন্থী অথবা চরমপন্থী বলে কোনো কিছু নেই। আপনাকে নিজেকে শুদ্ধভাবে রাসূলুল্লাহর আদর্শে গড়ার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা করে যেতে হবে। সেটাই একমাত্র পন্থা, কর্মে শ্রেষ্ঠ হবার একমাত্র উপায়। ।

শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫

মডারেট মুসলিম ও ইসলাম


মডারেট মুসলিম ও ইসলাম


মডারেট মুসলিম কি?

মডারেট ইংরেজি Modify থেকে নেওয়া শব্দ Modaret যার বাংলা অর্থ হয় পরিবর্তিত কিংবা অভিযোজিত অথবা সংশোধিত। মডারেট মুসলিম শব্দের সরাসরি অর্থ হয় সংশোধিত মুসলিম কিংবা Updated মুসলিম। সোজা কথায় মূল অংশ হতে কম বেশি পরিবর্তন কেই মডিফাই বলে আর মডিফাই হওয়া মুসলিমকেই ৃমডারেটেড মুসলিম বলে।

এই মডারেট মুসলিম শব্দটি কাদের দেওয়াঃ

এই মডারেট মুসলিম শব্দটি আমেরিকায় জায়োনিস্ট ইহুদিদের RAND কর্পোরেশনের আবিষ্কার। অর্থাদ যেসকল ধার্মিক মুসলমান ইহুদি,খ্রিস্টান সহ পশ্চিমা সভ্যতা তাদের জন্য হুমকী মনে করে না বরং তাদের স্বার্থে কাজে লাগাতে পারে তাদেরকেই মডারেট মুসলিম বলে।

 

কোন বৈশিষ্ট্যের মুসলমানদেরকে পশ্চিমারা মডারেট মুসলিম বলেঃ

১। খিলাফত হলো পশ্চিমা উপনিবেশ বাদী শয়তানদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রধান বাঁধা,তাই যেসকল মুসলমান খিলাফতের বিষয়ে চুপ থাকে কিংবা নিরপেক্ষতা দেখায় তাদেরকেই তারা মডারেট মুসলিম বলে আদর করে।

২। যেসকল মুসলমান পশ্চিমাদের বস্তাপঁচা কুফুরী স্যেকুলারিজম এবং গনতন্ত্র মেনে নেবে তাদেরকে তারা মডারেট মুসলিম বলে।

৩।যেসকল মুসলমান বর্তমান যুগে জিহাদকে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অনুপযোগী বলে মনে করে তাদেরকেই তারা মডারেট মুসলিম বলে।

৪। যেসকল মুসলমান সুদি ব্যাংক ব্যবস্থার বিরোধিতা না করে এই ব্যাংক গুলোর উপর ইসলামী লেভেল লাগিয়ে জায়েজ করে নেয় তাদেরকে মডারেট মুসলিম বলে।

৫। যেসকল মুসলমানদের পশ্চিমারা তাদের কুফুরী এজেন্ডা বাস্তবায়নে হুমকী মনে করে না বরং সহযোগী মনে করে তাদেরকে মডারেট মুসলিম মনে করে।

                             

মডারেট মুসলিম শব্দ কবে থেকে চালু হয়ঃ

টুইন টাওয়ার হামলার পর হতে যেসকল মুসলমান আমেরিকার স্বার্থে কাজ করেছে সেসকল মুসলমানদের আমেরিকানরা ২০০১ সালের পর হতে মডারেট মুসলিম বলে আখ্যায়িত করা শুরু করে,বিশেষ করে যেসকল মুসলমানরা গনতন্ত্রকে জায়েজ মনে করে তাদেরকে তারা মডারেট বলে।

মডারেট মুসলিম বানানোর কারখনার নামঃ

না*স্তিক্য*বাদি জায়োনিস্টদের তৈরী গবেষনা কেন্দ্র আমেরিকার RAND কর্পোরেশন হলো মডারেট মুসলিম বানানোর কারখানা।

 

মডারেট মুসলিম বানানো কবে শুরু হয়:

১৭০০ সাল হতেই ক্রুসেডাররা বাহু শক্তির পরিবর্তে মজ্জাগত শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মুসলমানদের দূর্বল করার কৌশল হিসাবে মডারেট অর্থাদ তাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলে এমন মুসলমান তৈরী শুরু করে কমনওয়েলথ এর মাধ্যমে।

সর্ব প্রথম কে মডারেট মুসলিম বানানোর প্রজেক্ট শুরু করেঃ

কমনওয়েলথ ব্রিটিশ গোয়েন্দা ড.হামফ্যারী সর্ব প্রথম মডারেট মুসলিম বানানোর প্রজেক্ট চালু করে।

 

সর্ব প্রথম সফল মডারেট মুসলিম:

হাদিসে বর্নিত শয়তানের শিং খ্যাত নযদের কু-সন্তান এবং সোফিয়া নামক ব্রিটিশ নারী গোয়েন্দার সাথে জ্বেনাকারী, মসজিদে নববী লুন্ঠনকারী ও রক্তাক্তকারী, উসমানীয় সম্রাজ্য ধ্বংশকারী,আহলে বাইতকে রক্তাক্ত ও অপমান কারী এবং আল সৌদ পরিবারের ধর্মীয় উপদেষ্টা, ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় সমর্থনকারী,নরকের কীট মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব নযদি।

 

মডারেট মুসলিম কেনো পশ্চিমাদের এত পছন্দঃ

মডারেট মুসলমানরা পশ্চিমাদের জন্য কখনোই হুমকী নয় বরং পশ্চিমাদের স্বার্থ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে রক্ষাকরে চলে, সহায়তা করে, এ ধরনের মুসলমানরা কখনোই পশ্চিমাদের কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করে না তাই তারা মডারেট মুসলমানদের এত পছন্দ করে।

 

মডারেট মুসলমানরা কি ইসলামের সব কিছু মানেঃ

মডারেট মুসলমানরাও ইসলামের সব কিছু মানে শুধু কয়েকটি বিষয় পালন করে না বরং বিরোধিতা করে,

·       ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো মুসলমান জিহাদ করতে চাইলে আকিদার প্রশ্ন তুলে বিরোধিতা করে।

·       কখনোই পশ্চিমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে না।

·       ওরা সৌদি রাজতন্ত্রকে খিলাফতের অংশ মনে করে এবং সৌদি রাজাকে খলিফা মনে করে।

·       মডারেট মুসলিমরা ফিলাফতের বিরোধীতা করলেও রাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গনতন্ত্রকে তারা ইসলামি লেভেল লাগিয়ে জায়েজ করে নেয়।

·       মডারেট মুসলমানরা ব্যাংক ব্যবস্থাকে ইসলামি লেভেল লাগিয়ে জায়েজ ফতোয়া দেয়।

·       মডারেট মুসলমানরা শরীয়াহ আইনের কথা শোনলো রেগে যায়।

 

মডারেট মুসলমানরা কি প্রকৃত মুসলমান:

না, মডারেট মুসলমানরা প্রকৃত মুসলমান না,এরা মুনাফেক ও পথ ভ্রষ্ট।

 

মডারেট মুসলমানরা কোন যুক্তিতে পথভ্রষ্ট:

ইসলাম একটি অত্যাধুনিক ও সর্বকালের জন্য যুগোপযোগী আপগ্রেডেট ধর্ম, এখানে কোন কিছু যেমন সংযোজনের সুযোগ নাই তেমনী কোনো কিছু ছাড় দেওয়ারও সুযোগ কিছু নাই।কিন্তু মডারেট মুসলমানরা শরীয়তের কিছু অংশ মানে যেটুকু সুবিধাজনক, বাকি অংশের বিষয়ে বাতিল শক্তিকে খুশি রাখার জন্য চুপ থাকে অথবা কৌশলে এড়িয়ে যায়, ইসলামে মুসলমানদের এরকম করার সুযোগ নাই, তাই মডারেট মুসলমানরা মুনাফেক ও পথভ্রষ্ট।

 

মডারেট ইসলামিক দল কি:

যে ইসলাম নামধারী দল সেক্যুলারিজম ও গনতন্ত্রকে কুফরী মনে করে না, গনতন্ত্রকে জায়েজ মনে করে, যে ইসলামী দলের নেতারা মডারেট মুসলিম, যে নামধারী ইসলামী দল পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে রাজি নয় বরং পশ্চিমাদের পদলেহন করে চলে,যে ইসলামি দলের নেতারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন জারি করতে রাজি নয়, যেসকল ইসলামি দলের গঠনতন্ত্র গনতন্ত্রকে সাপোর্ট করে, যেসকল ইসলামি দলের নেতারা ভোটের জন্য নাজায়েজ কাজকে জায়েজ বলে ফতোয়া দেয় সে সকল নামধারী ইসলামি দল গুলো মডারেট ইসলামী দল, এসকল ইসলামি দলকে পশ্চিমারা খুব পছন্দ করে।

 

মডারেট ইসলামি দল করা কি শরীয়ত সম্মত:

না, মডারেট ইসলামিক দল করা শরীয়ত সম্মত নয়, যেহেতু মডারেট ইসলাম মুনাফেকী ও কুফুরীকে সমর্থন করে সেহেতু মডারেট ইসলামী দলও মুনাফেকের দল, অতএব মডারেট ইসলামি দল করা মুসলমানের জন্য জায়েজ নয়।

 

মডারেট মুসলমান ঠিক কারা?

* সৌদি রাজ পরিবার ও তাদের বংশধর,

* নামধারী আহলে হাদিস ও নামধারী জাল সালাফি,

* মধ্য প্রাচ্যের সকল রাজপরিবা র,

* সৌদি সমর্থিত সকল নামধারী ইসলামি দল,

* যেসকল ইসলামি দলকে আমেরিকা সহ পশ্চিমারা স্নেহ করে,

* নযদের শয়তানের শিং, মদ্যপ, সোফিয়া নামক ব্রিটিশ নারী গোয়েন্দার সাথে জ্বেনাকারী, কমনওয়েলথ ব্রিটিশ গোয়েন্দা ড. হামফ্যারীর প্রত্যক্ষ মদদে তৈরী, সৌদি রাজপরিবারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব নযদি।

 

জানতে হলে পড়ুন: হ্যামফারের ডায়েরি।

 

মডারেট মুসলিম তৈরির কারখানা RAND কর্পোরেশন


 

নাস্তিক্যবাদি RAND কর্পোরেশনের ইসলাম বিরোধী প্রকল্প,মডারেট মুসলিম তৈরীর কারখানা।


RAND মডারেট মুসলিম নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য ব্লুপ্রিন্ট প্রস্তাব করে: 
গত দুই দশকে, ইসলামের কট্টরপন্থী এবং গোঁড়ামী ব্যাখ্যা অনেক মুসলিম সমাজে স্থান পেয়েছে। সহিংসতার হুমকির মাধ্যমে, কট্টরপন্থী ইসলামপন্থীরা মধ্যপন্থী এবং উদারপন্থী মুসলমানদের ভয় দেখিয়েছে বা মুনাফেক তৈরী করেছে, যারা মানবাধিকারের স্বীকৃতি, বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান, আইনের অ-ধর্মীয় উত্সের স্বীকৃতি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা সহ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মূল নীতিগুলিকে সমর্থন করে। 

যদিও মৌলবাদীরা মুসলিম বিশ্বে সংখ্যালঘু, তারা তাদের অ-মৌলবাদী মুসলিম প্রতিপক্ষের তুলনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখে:
 কট্টরপন্থী ইসলামপন্থীরা মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। মধ্যপন্থী এবং উদারপন্থী মুসলমানরা, যদিও অধিকাংশ মুসলিম দেশ ও সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ, একই ধরনের নেটওয়ার্কের অভাব রয়েছে এবং তাদের তৈরি করতে বাহ্যিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। স্নায়ুযুদ্ধ এবং বর্তমান উগ্র ইসলামপন্থী চ্যালেঞ্জের মধ্যে সমান্তরালতা স্বীকার করে, RAND ঠান্ডা যুদ্ধের সময় গণতান্ত্রিক নেটওয়ার্ক এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সহযোগীদের প্রচেষ্টা পরীক্ষা করেছে এবং এমন পাঠ গ্রহণ করেছে যা আজকে মধ্যপন্থী মুসলিম নেটওয়ার্ক তৈরিতে প্রয়োগ করা যেতে পারে। গবেষকরা স্নায়ুযুদ্ধ এবং বর্তমান ইসলামপন্থী চ্যালেঞ্জের মধ্যে মিল এবং পার্থক্য চিহ্নিত করেছেন, মুসলিম বিশ্বের সাথে যুক্ত হওয়ার মার্কিন কর্মসূচির মূল্যায়ন করেছেন এবং মডারেটস মুসলিম নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য একটি রোড ম্যাপ তৈরি করেছেন। তারা সুপারিশ করে যে মার্কিন সরকার এই নেটওয়ার্কগুলি তৈরি করাকে মার্কিন নীতির একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য করে তোলে। গবেষকদের রোড ম্যাপ সম্ভাব্য এবং বিদ্যমান অংশীদারদের একটি আন্তর্জাতিক ডাটাবেস তৈরি করার আহ্বান জানায়, এই নেটওয়ার্কগুলিকে সমর্থন করার জন্য একটি সু-পরিকল্পিত পরিকল্পনা তৈরি করে এবং প্রচেষ্টাকে ট্র্যাক রাখতে "প্রতিক্রিয়া লুপ" এর ব্যবস্থা করে।

 স্নায়ুযুদ্ধের সময়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপন্থী নেটওয়ার্কগুলিকে সমর্থন করার জন্য একটি ফাউন্ডেশনের মতো কাজ করেছিল: স্নায়ুযুদ্ধের সময়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান তৈরির জন্য অর্থ এবং সংস্থা সরবরাহ করেছিল যা ইউরোপীয় নাগরিক সমাজে আধিপত্য বিস্তারের জন্য কমিউনিস্ট প্রচেষ্টার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্র কোল্ড ওয়ার নেটওয়ার্ক বিল্ডিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল সরকারী এবং বেসরকারী খাতের মধ্যে সংযোগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মধ্যে ইতিমধ্যেই কমিউনিজমের বিরোধী গণতান্ত্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন ছিল। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে একটি সুসংহত অভিযানে পরিণত করার জন্য অর্থ এবং সংগঠনের প্রয়োজন ছিল। এই প্রায় সমস্ত প্রচেষ্টায়, মার্কিন সরকার একটি ভিত্তির মতো কাজ করেছে: এটি প্রকল্পগুলিকে মূল্যায়ন করে যে তারা মার্কিন উদ্দেশ্যগুলিকে উন্নীত করেছে কিনা, যেগুলি করেছে তাদের জন্য তহবিল সরবরাহ করেছে এবং তারপরে হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংস্থাগুলিকে তাদের উদ্দেশ্যগুলি পূরণ করার অনুমতি দিয়েছে৷ চারটি কারণ শীতল যুদ্ধের নেটওয়ার্কিং প্রচেষ্টাকে সফল করেছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের নেটওয়ার্ক-বিল্ডিং প্রচেষ্টার সাফল্য কয়েকটি মূল কারণের জন্য দায়ী করা যেতে পারে। প্রথমত, নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রচেষ্টা ছিল একটি সামগ্রিক কৌশলের অংশ যা রাজনীতি, অর্থনীতি, তথ্য এবং সংবাদ মাধ্যম এবং কূটনীতিকে সম্বোধন করে। দ্বিতীয়ত, ইউএস নেটওয়ার্কিং প্রচেষ্টা বিদ্যমান আন্দোলনগুলিতে ট্যাপ করেছে এবং লালন করেছে। তৃতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সহযোগী দেশগুলির মধ্যে একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক ঐকমত্য ছিল যে সামরিক ফ্রন্ট ছাড়াও রাজনৈতিক ও আদর্শিক ফ্রন্টে কমিউনিস্টদের মোকাবিলা করার জন্য পশ্চিমাদের প্রয়োজন ছিল; এই ঐকমত্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া গোপন নেটওয়ার্কিং প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। অবশেষে, মার্কিন সরকার একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল যা তাদের ক্রিয়াকলাপগুলি দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন কৌশলগত লক্ষ্যগুলিকে উন্নীত করে তা নিশ্চিত করার সাথে সাথে এটির সমর্থনকারী গোষ্ঠীগুলিকে উচ্চ স্তরের স্বাধীনতা বজায় রাখার অনুমতি দেয়। শীতল যুদ্ধের পরিবেশ এবং বর্তমান ইসলামি হুমকির মধ্যে মিল এবং পার্থক্য: শীতল যুদ্ধ এবং বর্তমান উগ্র ইসলামবাদী চ্যালেঞ্জের তুলনা গুরুত্বপূর্ণ মিল এবং পার্থক্য তুলে ধরে। প্রথমত, 1940 এর দশকের শেষের দিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে নতুন নিরাপত্তা হুমকির সাথে একটি নতুন এবং বিভ্রান্তিকর ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশের মুখোমুখি। স্নায়ুযুদ্ধের শুরুতে, হুমকি ছিল পরমাণু-সজ্জিত সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট আন্দোলন; আজ, এটি একটি বৈশ্বিক জিহাদি আন্দোলন যা পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে গণহত্যাকারী সন্ত্রাসবাদের সাথে আঘাত করছে। উভয় ক্ষেত্রেই, নীতিনির্ধারকরা স্বীকার করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা একটি আদর্শিক সংঘাতে লিপ্ত ছিল যা কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক এবং মনস্তাত্ত্বিক জুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছিল।মাত্রা কিন্তু স্নায়ুযুদ্ধের বিপরীতে, বর্তমান যুদ্ধে ছায়াময় গোষ্ঠী জড়িত, একটি একক সত্তা নয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি সুস্পষ্ট সরকারী কাঠামো এবং সংজ্ঞায়িত ভৌগলিক সীমানা সহ একটি জাতি-রাষ্ট্র ছিল। কট্টরপন্থী ইসলামি হুমকির মধ্যে রয়েছে নন-স্টেট অ্যাক্টর যারা কোনো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে না, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নিয়ম প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রতিরোধের স্বাভাবিক উপায়ের অধীন নয়। এই পার্থক্যগুলির মানে হল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি নতুন নেটওয়ার্কিং কৌশল তৈরি করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে মধ্যপন্থী মুসলিম নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে: RAND সুপারিশ করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই অংশীদার, প্রোগ্রাম এবং অঞ্চলগুলিতে মনোনিবেশ করে যেখানে মার্কিন সমর্থন মুসলিম বিশ্বে চলমান ধারণার যুদ্ধকে প্রভাবিত করার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে৷ এই কৌশলের প্রথম ধাপ হল মার্কিন সরকার এবং তার মিত্রদের মধ্যপন্থী মুসলিম নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এবং এই লক্ষ্য এবং সামগ্রিক মার্কিন কৌশল ও কর্মসূচির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট যোগসূত্র তৈরি করতে একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া। এই কৌশলটির কার্যকরী বাস্তবায়নের জন্য প্রচেষ্টার নির্দেশনা, তত্ত্বাবধান এবং নিরীক্ষণের জন্য মার্কিন সরকারের মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। মার্কিন সরকারকে অবশ্যই এই কৌশলটি কার্যকর করার জন্য দক্ষতা এবং ক্ষমতা তৈরি করতে হবে, যার মধ্যে একটি সদা বিকশিত এবং সর্বদা তীক্ষ্ণ হওয়া মানদণ্ডের সেট যা মধ্যপন্থী হিসাবে ছদ্মবেশী চরমপন্থীদের থেকে সত্যিকারের মধ্যপন্থীদের আলাদা করে, সম্ভাব্য এবং বিদ্যমান অংশীদারদের একটি আন্তর্জাতিক ডাটাবেস এবং পর্যবেক্ষণের জন্য একটি প্রক্রিয়া। , পরিমার্জন, এবং প্রোগ্রাম তত্ত্বাবধান. মধ্যপন্থী নেটওয়ার্ক-বিল্ডিং প্রচেষ্টার অংশীদার হওয়া উচিত যারা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মূল মাত্রাগুলি মেনে চলে। প্রচেষ্টা প্রাথমিকভাবে নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের একটি মূল গোষ্ঠীর উপর ফোকাস করতে পারে যাদের আদর্শগত অভিযোজন পরিচিত এবং সেখান থেকে বাহ্যিকভাবে কাজ করে। গবেষকরা নেটওয়ার্কের জন্য সম্ভাব্য বিল্ডিং ব্লক হিসাবে পাঁচটি গ্রুপকে লক্ষ্য করার সুপারিশ করেন: উদার ও ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম শিক্ষাবিদ এবং বুদ্ধিজীবী; তরুণ, মধ্যপন্থী ধর্মীয় পণ্ডিত; কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট; লিঙ্গ সমতা প্রচারে নিয়োজিত নারী গোষ্ঠী; এবং মধ্যপন্থী সাংবাদিক এবং লেখক। একটি ভিত্তি-সদৃশ ভূমিকায় আবার কাজ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রোগ্রামগুলিকে সহায়তা করা উচিত যা গণতান্ত্রিক শিক্ষাকে উন্নীত করে, বিশেষ করে এমন প্রোগ্রামগুলি যা ইসলামিক পাঠ্য ও ঐতিহ্য, মধ্যপন্থী মিডিয়া, লিঙ্গ সমতা এবং মধ্যপন্থী এজেন্ডার পক্ষে সমর্থনকারী গণতান্ত্রিক এবং বহুত্ববাদী মূল্যবোধের সমর্থনকারী প্রামাণিক শিক্ষা গ্রহণ করে। RAND মধ্যপ্রাচ্য থেকে মুসলিম বিশ্বের এমন অঞ্চলে ফোকাস স্থানান্তরের প্রস্তাব করে যেখানে কর্মের অধিক স্বাধীনতা সম্ভব, পরিবেশ সক্রিয়তা এবং প্রভাবের জন্য আরও উন্মুক্ত এবং সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি। গবেষকরা ইউরোপের মুসলিম প্রবাসীদের মধ্যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং তুরস্কের মুসলমানদের মধ্যে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অপেক্ষাকৃত বেশি উন্মুক্ত সমাজে নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগের ওপর জোর দেন। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মৌলবাদী ধারণাগুলি বাকি মুসলিম বিশ্বের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তা স্বীকার করে, RAND যোগাযোগের চ্যানেল খোলার সুপারিশ করে যা মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামের আধুনিক এবং মূলধারার ব্যাখ্যাকে অন্যত্র মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের থেকে ছড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করবে।

সনাতন ধর্মের পিছনের নগ্ন ইতিহাস

 লেখক: ডা.দীপা মনি(সনাতন ধর্মী)

এটি আমাদের সনাতন ধর্মের পিঁছনের নগ্ন ইতিহাসকে তুলে ধরে।


আমরা মূলত পৃথিবী বাসীকে ধোকা দেওয়ার জন্য বলে থাকি, সনাতন ধর্ম প্রাচীন ধর্ম। আদতে আমাদের ইতিহাস আর্য্ জাতী থেকে শুরু।


আমি আমার অনেকগুলো পোষ্টে বলেছি, ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু ও কর্নভাট মুচলমান জাতী জাযাবর গোষ্টি হতে জন্ম নিয়েছে। সে সময়ে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের ৭০% ছিলো গভীর বন-জঙ্গলে ভরা। রাস্তা-ঘাট না থাকায় নদী পথই ছিলো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম।


সেই আলোকে সিন্ধু নদীর অববাহিকতায় ছন্নছাড়া বিভিন্ন জাযাবর গোষ্টি বাস করত। তাদের নির্দিষ্ট কোন ধর্মীয় বিশ্বাস ছিলোনা। যার যার মত ভগবান বিশ্বাস নিয়ে কাজ করতো। সেই একই সময়ে আরব জাতীও বিভিন্ন ধরনের মৃর্তি পূঁজায় মগ্ন ছিলো।


আরবদের একটি বৈশিষ্ট্য ছিলো, তারা বানিজ্যের জন্য বিভিন্ন দিকে যাতাযাত করতো আর সাথে তাদের দেবদেবীর মূর্তিগুলোও নিয়ে যেত। সিন্ধু নদী ধরে তারা বিভিন্ন বানিজ্যের পাশাপাশি জাযাবার গোষ্টির কাছে তাদের মূর্তি সংস্কৃতিকেও তুলে ধরে।



ধীরেধীরে জাযাবর গোষ্টি মুর্তি পূঁজায় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায়। এজন্যই আমাদের সনাতন ধর্মের শতশত মূর্তির নাম আরবী ভাষার সাথে মিলে যায়। একটি সময়ে আরব জাতী ইসলামের সুশিতল ছায়ায় মুসলমান হয়ে যায়, অপরদিকে সিন্ধু নদীর অববাহিকতায় থাকা জাযাবর গোষ্টি সিন্ধু হতে হিন্দু নামে আলাদা একটি ধর্মীয় গোষ্টিতে পরিণত হয়। কিন্ত তাদের বন্য যৌন সংস্কৃতিও সাথে থেকে যায়।


এই বন্য যৌন সংস্কৃতিকে আমাদের ব্রাম্মন পৌরহিতরা নিজের ভোগ-বিলাস, লালসাকে পাকাপোক্ত করার জন্য সেটিকে ধর্মীয় আবরনে রুপদেয়। তাদের কারনেই আমাদের পুরো হিন্দু ধর্মটাই একটি লিলাখেলার ধর্মে পরিণত হয়। সেখানে বেশ্যা প্রথাকে ধর্মীয় মর্যাদা দিয়ে তাকে স্থায়ী রুপ দেয়া হয়। সেইসাথে যৌনতাকে এত গভীর, প্রান্জল, সুশোভীত এক শিল্পের রুপ দেয়া হয়। নারী সনাতন ধর্মে হয়ে যায় ভোগের পণ্য আর সেটি ধর্মীয় রুপও পায়।


বিশ্বের বুকে আজো অবদি সবছেয়ে বেশি পতিতালয় ভারতীয় উপমহাদেশে অবস্থিত। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়ে আমাদের সনাতন ধর্মে ৭০% সন্তান জারজ। বর্তমান ডিএনএ টেষ্ট সেই সত্যকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। এক বিচিত্র লিলাখেলার ধর্ম, এর থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।


এই কঠিন সত্যকে মেনে নিয়েই আমাদেরকে সংস্কারের মন নিয়ে সামনের দিকে পথ চলতে হবে।  না হলে শুধু এটি একটি বংশধারা ক্রম অনূসারে ধুকেধুকে সামনের ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আগাবে, কখনোই বিকাশমান ধর্মে রুপ নিবেনা।


সূত্রঃ[https://www.facebook.com/share/p/1BZBiSVJSb/]

মুফতি ফয়জুল করিম হাফি:সত্য কথাই বলেছেন, লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া একটা মূর্খতা,মুসলিমরা তাঁর পাশে দাঁড়ান

 

হাদীস অস্বীকার কারীদের মুখোশ খুলতে গিয়েই ফয়জুল করীম সাহেব আলকোরআন নিয়ে এমন কথা বলছেন, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।এই বিষয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া একটা মূর্খতা ছাড়া আর কিছু না, এটা আহলে কোরআন নামক কাফেরদের ষড়যন্ত্র।সকল মুসলমানের উচিত এই বিষয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানো।দুনিয়ার কোনো মুসলমান তাৃর পাশে না থাকলেও এই আহলে কোরআন নামক কাফেরদের বিষয়ে আমি এই মুফতী ফয়জুল করিম হাফি: এর পাশে আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ। 


চরমোনাই পীরের ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে আমার চেয়ে বেশী সমালোচনা আর কেউ করেছে কি না আমার জানা নাই, কিন্তু আজ যখন এই ফয়জুল করিম ইসলামি ঐক্য নিয়ে কাজ করার কারনে তাঁর উপর জুলুম হয় সে সময় তো তার সত্যতার পক্ষে আমার কথা বলতেই হয়।


শরীয়ত বলার সময় কোরআন-সূন্নাহ একসাথে বলতে হয়, এটাই স্বাভাবিক কেননা হাদিস অস্বীকারকারী আহলে কোরআন নামক কাফেররা বলে হাদিস নাকি বিকৃত হয়ে গেছে,তাই হাদিস মানা যাবে না, হাদিস মানার কারনেই নাকি ইসলামে এত দল-উপদল। তাই হাদিস মানা যাবে না, শুধু কোরআন মানতে হবে। অর্থাদ হাদিসকে অস্বীকারের জন্য আহলে কোরআন নামক কাফেররা শুধু কেরআন, কোরআন বলে। এই কথাটা বলতে গিয়েই জনাব ফয়জুল করিম হাফি: শুধু আলকোরআন আলকোরআন বলাটা ভাওতাবাজী, উদ্দেশ্য ভাল না, কোরআন-সূন্নাহ একসাথেই বলতে হবে এটা বুঝাতে গিয়েই ঐ শব্দটা ব্যবহার করেছেন কিন্তু আমাদের দেশের ভিউ ব্যবসায়ীরা এই কথাটার কাটিং ভিডিও দিয়ে ভুল মেসেজ দিয়েছে মুসলমানদের মাঝে।আর এই কাটিং ভিডিও দেখে নাকি কোন উকিল লিগ্যাল নোটিশও পাঠিয়েছে। বিষয়টা হাস্যকর।ওই উকিল হয় নিজেই আহলে কোরআন নামক কাফের আর না হয় দ্বীনের বিষয়ে নিত্যান্তই অজ্ঞ। 


এবার আসুন আহলে কোরআন নামক বাটপারদের বিষয়ে ফয়জুল করিম হাফি: কেন এত শক্ত কথা বলেছেন তা তথ্য ভিত্তিক আলোচনা করি। 


হাদীসের প্রামাণিকতাকে অস্বীকারকারী নিঃসন্দেহে কাফের এবং ইসলামের গন্ডি বহির্ভূত। কেননা যে হাদীসকে অস্বীকার করে, সে মূলতঃ কুরআনকেই অস্বীকার করে। হাদীছ ব্যতীত দ্বীনের ওপর আমল করা অসম্ভব। এজন্য মুসলিম বিদ্বানগণ সর্বসম্মতভাবে হাদীছ অস্বীকারকারীকে কাফের আখ্যা দিয়েছেন। অর্থাৎ যারা গোটা হাদীসশাস্ত্রকে অস্বীকার করে তারা স্পষ্ট কাফের, কেননা তা রাসূল (ছাঃ)-এর রিসালাতকেই অস্বীকার করার শামিল। অনুরূপভাবে যারা কোন হাদীসকে সহীহ হিসাবে জানার পরও কোন প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়া তা সরাসরি অস্বীকার করবে সেও কুফরী করবে।


এ বিষয়ে ইমামদের মতামত নিম্নে উল্লেখিত হ’ল- 


(১) খ্যাতনামা তাবেঈ আইয়ূব আস-সাখতিয়ানী (১৩১হি.) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তিকে তুমি হাদীছ শোনাও এবং সে বলে এসব ছাড়ো, আমাদেরকে কুরআন থেকে শোনাও, তবে জেনে রেখ সে একজন পথভ্রষ্ট’ (সুয়ূত্বী, মিফতাহুল জান্নাহ, পৃ. ৩৫)। 


(২) ইসহাক ইবনু রাহওয়াইহ (২৩৮হি.) বলেন, ‘যে ব্যক্তির নিকট রাসূল (ছা.)-এর কোন হাদীছ পৌঁছেছে যাকে সে সত্য বলে স্বীকার করেছে, অতঃপর প্রকাশ্যে তা পরিত্যাগ করেছে, সে কাফের (ইবনু হাযম, আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ১/৯৯)। 


(৩) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (২৪১হি.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূল (ছা.)-এর হাদীছকে অস্বীকার করল, সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিপতিত হ’ল (ইবনুল জাওযী, মানাক্বিবুল ইমাম আহমাদ, পৃ. ২৪৯)।’ 


(৪) ইমাম আল-বারবাহারী (৩২৯হি.) বলেন, ‘যখন কোন ব্যক্তি রাসূল (ছা.)-এর হাদীছের ব্যাপারে কটূক্তি করবে, তখন তার ইসলামের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হবে। কেননা সে নিকৃষ্ট বক্তব্য এবং নিকৃষ্ট পথের অনুসারী। সে মূলতঃ রাসূল (ছা.) ও তার ছাহাবীদের উপরই কটূক্তি করেছে (শারহুস সুন্নাহ, পৃ. ৮৯)। তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত অস্বীকার করে, সে যেন পুরো কিতাবকেই অস্বীকার করে। যে ব্যক্তি রাসূল (ছা.)-এর কোন একটি হাদীছকে অস্বীকার করে, সে যেন পুরো হাদীছ সম্ভারকেই অস্বীকার করে (শারহুস সুন্নাহ, পৃ. ১০১-১০২)।


(৫) ইমাম আল-আজুর্রী (৩৬০হি.) বলেন, ‘আল্লাহ তাঁর কিতাবে যে সকল বিষয় ফরয করেছেন, তার কোনটিরই হুকুম জানার সুযোগ নেই রাসূল (ছা.)-এর সুন্নাহ ব্যতীত। এটিই মুসলিম বিদ্বানগণের অভিমত। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বাইরে অন্য কোন কথা বলবে, সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাবে এবং অবিশ্বাসী নাস্তিকদের দলভুক্ত হবে (আশ-শারী‘আহ, ১/৪১২)।’ 


(৬) ইবনু হাযম (৪৫৬হি.) বলেন, ‘কোন মুসলিম যে তাওহীদকে স্বীকৃতি দিয়েছে তার পক্ষে বিতর্কের সময় কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। তাতে যা পেয়েছে তা অস্বীকার করারও কোন সুযোগ নেই। যদি সে তার নিকট দলীল স্পষ্ট হওয়ার পরও অস্বীকার করে তবে সে ফাসিক। আর যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহর হুকুম থেকে বেরিয়ে যাওয়া হালাল মনে করে এবং এ দু’টির যে কোন একটির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করে, সে কাফির। এ বিষয়ে আমাদের কোন সন্দেহ নেই (আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ১/ ৯৯)।


(৭) তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি বলে যে কুরআনে যা পাব তা ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করব না, তবে সে মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মতে কাফির।... আর যদি কেউ কেবল মুসলিম উম্মাহর ইজমা‘কৃত বিষয়কে স্বীকৃতি দেয় এবং তাদের মধ্যে কুরআন ও হাদীছ থেকে উৎসারিত সকল মতভেদ পূর্ণ বিষয়গুলো পরিত্যাগ করে, তবে সে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমতে ফাসিক (আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ২/৮০)।


(৮) ইবনু তায়মিয়াহ (৭২৮ হি.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই রাসূল (ছা.) তাঁর প্রভুর পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব। তার অর্থ আমরা বুঝি আর না বুঝি। কেননা তিনি সত্যবাদী এবং সত্যায়িত ব্যক্তি। কিতাব ও সুন্নাহে যা কিছু তিনি নিয়ে এসেছেন প্রত্যেক মুমিনের জন্য তার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, যদিও সে তার অর্থ না বোঝে। এটাই সালাফে ছালেহীন এবং ইমামগণের ঐক্যমত দ্বারা সাব্যস্ত (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ৩/৪১)।


(৯) শাত্বেবী (৭৯০হি.) বলেন, ‘একটি দল রয়েছে যারা কেবলমাত্র কুরআনকে যথেষ্ট মনে করে, তারা চরম দুর্ভাগা। তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত থেকে বহির্ভূত (আল-মুওয়াফাক্বাত, ৪/৩২৫-৩২৬)।’ (১০) ইবনু ওয়াযীর (৮৪০ হি.) বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছ প্রমাণিত হওয়ার পরও যারা তা অস্বীকার করে, তারা সুস্পষ্ট কাফের (আল-‘আওয়াছিম মিনাল ক্বাওয়াছিম ২/২৭৪)। (১১) সুয়ূত্বী (৯১১হি.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি রাসূল (ছা.)-এর কোন ভাষ্য বা কর্মগত হাদীছ অস্বীকার করে এবং সে জানে যে হাদীছ হ’ল ইসলামের মৌলিক দলীল, সে ব্যক্তি কুফরী করল এবং ইসলামের গন্ডী থেকে বেরিয়ে গেল এবং তার হাশর হবে ইহূদী এবং নাছারাদের সাথে অথবা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী কোন কাফের দলের সাথে (সুয়ূত্বী, মিফতাহুল জান্নাহ, পৃ. ৬)।


(১২) শাওকানী (১২৫০হি.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই পবিত্র সুন্নাহর প্রামাণিকতা এবং শরী‘আতের আহকাম প্রণয়নে তাঁর একচ্ছত্র দ্বীনের অবধারিত জ্ঞান। এ বিষয়ে কেউই মতভেদ করে না, ইসলাম থেকে বহির্ভূত ব্যক্তি ব্যতীত’ (ইরশাদুল ফুহূল, ১/৯৭)।


(১৩) বর্তমান যুগের সকল বিদ্বানের ঐক্যমতে, হাদীছ অস্বীকারকারীরা মুরতাদ ও কাফির। কেননা তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর মিথ্যারোপ করে। এদের সাথে কোন প্রকার ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পর্ক রাখা বৈধ নয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৩/১৯৪, মাজমু ফাতাওয়া বিন বায ২/৪০৩, ৩/২৭৩)।


এখন এই কাফেরদের বিষয়ে যদি সচেতনতা তৈরী করা অপরাধ হয় কিংবা এই সচেতনতা প্রচার করতে গিয়ে একটা ভুল করেই ফেলে তাইলে আর কি করার থাকে একজন আলেমের?


এই বিষয়টি নিয়ে কোন এক আইনজীবী নাকি তাকে লিগ্যাল নোটিশও দিয়েছে, আমি বলবো মাননীয় ফয়জুল করিম হাফি: আপনি ভুল করেন নি, আপনার ক্ষমা চাওয়ার কোনো কারনও নাই, আপনি ক্ষমা চাইলে আহলে কোরআন নামক কাফেররা জিতে যাবে আর আমরা মুসলমানরা হেরে যাবে।


এই বিষয়ে তাঁকে কাটিং ভিডিও দেখে লিগ্যাল নোটিশ করা একটা ধমীয় মূর্খতা এবং আহলে কোরআন নামক কাফেরদের ষড়যন্ত্র। সকল মুসলমানের উচিত তাঁর পাশে দাঁড়ানো।

বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫

সেক্যুলারিজম, ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক

 

সেক্যুলারিজম, ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক
রশিদ ঘানুশী
নভেম্বর ১০, ২০১৫
এডিটর’স নোট: রশিদ ঘানুশী তিউনিসিয়ার আননাহদা পার্টির প্রেসিডেন্ট। Center for the Study of Islam and Democracy (CSID)-র আয়োজনে ২০১২ সালের ২ মার্চ অনুষ্ঠিত এক সিম্পোজিয়ামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক একটি ভাষণ দেন। এই ভাষণের উপর প্রাণবন্ত ও খোলামেলা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শীর্ষস্থানীয় স্কলার, অ্যাক্টিভিস্ট, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং রাজনীতিবিদসহ মরক্কো, আলজেরিয়া, মিশর ও আমেরিকান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তব্যটি আরবি থেকে ট্রান্সক্রিপ্ট করে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন সিএসআইডির কর্মকর্তা ব্রাহিম রওয়াবাহ। সিম্পোজিয়ামের শুরুতে সিএসআইডির প্রেসিডেন্ট ড. রেদওয়ান মাসমোদী সংক্ষেপে অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট বর্ণনাপূর্বক ঘানুশীর পরিচয় তুলে ধরেন। ড. রেদওয়ানের ভূমিকাসহ ঘানুশীর বক্তব্যটি সিএসসিএস-এর পাঠকদের জন্য অনুবাদ করেছেন মাসউদুল আলম।

*****

ড. রেদওয়ান মাসমোদীর ভূমিকা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, সম্মানিত অতিথিবৃন্দ!

আমরা আপনাদেরকে সিএসআইডির সিম্পোজিয়ামে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করায় আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি সংলাপ ও জাতীয় ঐক্যের পথ ধরে সফলভাবে তিউনিসিয়ার গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটবে। এই মুহূর্তে তিউনিসিয়া এক ঐতিহাসিক পরীক্ষার মুখোমুখি। এই পরীক্ষার ফলাফল শুধু আমাদের দেশেরই ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, আরববিশ্বের ভাগ্যও নির্ধারণ করবে। এ জন্যে সবার দৃষ্টি এখন তিউনিসিয়ার দিকে। আমি সম্প্রতি জর্ডান, মিশর ও আলজেরিয়া সফর করেছি। বিশ্বাস করুন, বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে তারা সবাই তিউনিসিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। আরব বসন্তের মাধ্যমে তিউনিসিয়া ইতোমধ্যে মুক্তি ও মর্যাদা ফিরে পেয়েছে। প্রতিবেশী ও অন্যান্য আরবদেশগুলো তিউনিসিয়াকে অনুসরণ করছে। তারা আমাদের কাছে অনেক কিছুই আশা করছে। আত্মমর্যাদা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও আরব-ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক তিউনিসিয়ায় উত্তরণে সবাই প্রতীক্ষা করছে।

ধর্ম ও রাষ্ট্রের সাথে সেক্যুলারিজমের সম্পর্ক খুবই জটিল। একই সাথে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুও বটে। আমরা একটি নতুন গঠনতন্ত্র ও সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যাচ্ছি। এটি হবে এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যা মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে বলে আমরা আশা করছি। ঠিক এমনই একটা সময়ে আমরা বিষয়টির সম্মুখীন হয়েছি।

আন-নাহদার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক রশিদ ঘানুশীকে আমন্ত্রণ জানাতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। তারপরও স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য বলছি – তিনি ‘দ্য মুভমেন্ট অব ইসলামিক টেনডেন্সি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এটিই পরবর্তীতে আন-নাহদা মুভমেন্ট এবং বিপ্লবের আগে আন-নাহদা পার্টি হিসেবে পরিচিত হয়। এখন পর্যন্ত ঘানুশীই এর প্রধান নেতা। তিনি এই আন্দোলনের অন্যতম তাত্ত্বিক ও চিন্তাবিদও বটে। আরব বিশ্বসহ পুরো বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনগুলোর মধ্যে শীর্ষ চিন্তাবিদ হিসেবেও তিনি পরিচিত। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও এগুলোর সাথে ইসলামের সম্পর্ক নিয়ে তিনি ব্যাপক লেখালেখি করেছেন।

গণতন্ত্র ও মুক্তির জন্য সংগ্রাম এবং স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কারণে ঘানুশীকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। তাঁকে মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হয়েছিল। আল্লাহর প্রতি শোকরিয়া, তিনি এখন এই দেশেই আমাদের মাঝে অবস্থান করছেন সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র হয়ে। অথচ যিনি তাঁকে দণ্ড দিয়েছিলেন, তিনিই এখন নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।

ঘানুশীর কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ হলো – 1) Our Way to Civilization, 2) Us and the West, 3) The Right to Differ and the Duty of Unity, 4) The Palestinian Issue at a Cross Road, 5) Women Between the Quran and the Reality of Muslims, 6) From the Islamic Thought in Tunisia, 7) Public Freedoms in the Islamic State, 8) Predestination in Ibn Taymiyya’s Thought, 9) Contemplations on secularism and Civil Society, 10) The Islamist Movements and Points of Change, 11) From the Experience of the Islamist Movement in Tunisia, and 12) A Rebellion of Silence.

আশা করি, তাঁর ব্যাপারে এই সংক্ষিপ্ত পরিচিতিই যথেষ্ট। অধ্যাপক রশিদ ঘানুশী, আপনাকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্যে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

***

রশিদ ঘানুশীর বক্তব্য
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আল্লাহর রাসূল (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবী ও উম্মতের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, ভাই ও বোনেরা– আসসালামু আলাইকুম।

তিউনিসিয়ার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশী অতিথিদের সামনে এই সন্ধ্যায় আমাকে কিছু বলার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি সিএসআইডিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আপনাদেরকে জ্ঞান দিতে এখানে আসিনি। আজকের নির্ধারিত বিষয়ে নতুন করে বলার মতো কিছু নেই। তবুও একটি সাধারণ ঐক্যমত্যে পৌঁছার লক্ষ্যে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আমরা আরেকটু যাচাই করে নিতে পারি। এটি হয়তো আমাদের নেতৃবৃন্দকে সার্বজনীন ঐক্যমত্য, কিংবা অন্ততপক্ষে কাজ চালিয়ে নেয়ার মতো ঐক্যমত্যে পৌঁছতে সাহায্য করবে।

আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো ইসলামের সাথে সেক্যুলারিজমের সম্পর্ক। এক দৃষ্টিতে বিষয়টি বেশ জটিল। এই সম্পর্ক কি দ্বন্দ্ব ও অনৈক্যের? নাকি সম্প্রীতি ও সাযুজ্যতার? প্রাসঙ্গিক বিষয় হিসেবে আরো কিছু প্রশ্ন এসে যায়। যেমন: সরকারব্যবস্থার সাথে ইসলামের সম্পর্ক কী? ইসলাম ও আইনের মধ্যকার সম্পর্ক কী? এই প্রশ্নগুলো তর্কসাপেক্ষ ব্যাপার।

সেক্যুলারিজম ও ইসলাম নিয়ে কথা বলার সময় মনে হতে পারে– তুলনামূলকভাবে সহজ ও স্পষ্ট কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলছি। অথচ এ বিষয়গুলো নিয়ে লোকজনের মাঝে যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়েছে, রয়েছে নানা ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি। তারমানে হলো, সেক্যুলারিজমের শুধু একটি ধরনই রয়েছে, তা নয়; বরং এর নানা ধরন রয়েছে। ইসলামের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। কে, কোন উদ্দেশ্যে, কী প্রস্তাব করছে– এর ভিত্তিতে ইসলাম ও সেক্যুলারিজমের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে।

সেক্যুলারিজমের উৎপত্তি

সাদামাটাভাবে মনে করা হয়– সেক্যুলারিজম একটি দর্শন এবং আদর্শবাদী ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি মোকাবেলার ক্ষেত্রে একটি দার্শনিক চিন্তা। প্রকৃতপক্ষে ব্যাপারটা তা নয়। ইউরোপে সৃষ্ট নানা ধরনের সমস্যার একটি নিয়মতান্ত্রিক সমাধান হিসেবে পাশ্চাত্যে সেক্যুলারিজম হাজির হয়। ক্রমান্বয়ে এর বিবর্তন ও রূপায়ন ঘটে। নিছক দর্শন বা অধিবিদ্যাগত ব্যাপার হিসেবে এর উদ্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর অধিকাংশ সৃষ্ট হয়েছে প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টানরা আলাদা হয়ে যাওয়ার ঘটনা থেকে। এর ফলে ক্যাথলিক চার্চের একাধিপত্য খর্ব হয়ে যায়। ১৬-১৭ শতকে ইউরোপের সংঘটিত ধর্মযুদ্ধগুলোও এই সমস্যার অন্যতম কারণ। এরই প্রেক্ষাপটে সেক্যুলারিজমের উদ্ভব ঘটে।

এখানে প্রাসঙ্গিক একটি প্রশ্ন হলো– যেসব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সেক্যুলারিজমের সূচনা হয়েছে, আমাদের এখানে কি সেসব পর্যায় এসেছে? এই সমগ্র প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিলো রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার প্রসঙ্গ। যেমন: ধর্মের ব্যাপারে নিরপেক্ষতা এবং মানুষের বিবেচনাবোধের ওপর হস্তক্ষেপ করা হতে বিরত থাকা। এর ফলে রাষ্ট্রক্ষমতা সামাজিক ব্যাপারে সীমাবদ্ধ হয়েছে এবং ধর্মের পরিধি ব্যক্তিগত ব্যাপারে সীমিত থেকেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মের ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক জীবনে ধর্মীয় হস্তক্ষেপ সুস্পষ্ট। রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথকীকরণ সত্ত্বেও সেখানে ধর্মের তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। সেখানকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তৃতায় উল্লেখযোগ্য হারে ধর্মকে ব্যবহার করেন। তাদের সকল নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্ম একটি আলোচিত বিষয়। স্কুলে প্রার্থনা করা এবং গর্ভপাতের অধিকারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রত্যেক দলেরই নিজস্ব বক্তব্য থাকে।

সেখানকার এই বাস্তবতার পেছনে একটা ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। আমেরিকা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ইভানজ্যালিক খ্রিষ্টানদের দ্বারা। তারা ইউরোপের ক্যাথলিক চার্চের নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্যে স্বীয় ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আমেরিকায় পালিয়ে এসেছিলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তারা ‘প্রমিজড ল্যান্ড’ তথা ‘প্রতিশ্রুত ভূমি’ হিসেবে বিবেচনা করেছিলো। তাদের মতে, এই স্বপ্নভূমির কথা তাওরাত ও গসপেলে বর্ণিত রয়েছে।

ফ্রাঙ্কো-আমেরিকান চিন্তক টকুইভেল একবার মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনৈতিক দল হচ্ছে চার্চ। সেখানে চার্চ যে রকম ব্যাপক ক্ষমতা ভোগ করে, ইউরোপে তা দেখা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে চার্চে প্রার্থনাকারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও ইউরোপে তা ৫ শতাংশেরও কম।

ইউরোপে ধর্মের ভূমিকা

ইউরোপীয় প্রেক্ষাপটেও ধর্মের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। এখানে ফ্রেঞ্চ ও অ্যাংলো-স্যাক্সন নামে দুইটি ধারা বিদ্যমান। অ্যাংলো-স্যাক্সন ধারায় ব্রিটিশ রাণী পার্থিব ও ধর্মীয় উভয় ধরনের শক্তির প্রতীক। অন্যদিকে, ফ্রান্সে ধর্ম ও রাষ্ট্র সম্পূর্ণ পৃথক। চার্চ ও রাষ্ট্রের বিপ্লবীদের মধ্যে সংঘাতের যে ইতিহাস ফ্রান্সের রয়েছে, তার পরিণতি হিসেবে এই পৃথকীকরণ ঘটেছে। তাহলে ইউরোপেও আমরা সেক্যুলারিজমের একক ধরন দেখছি না। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা তো বটেই, এমনকি ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবীরাও সেক্যুলারিজমের শুধু ফরাসী ভার্সন দ্বারা প্রভাবিত। ফ্রেঞ্চ ব্যাখ্যা অনুসারে, জনপরিমণ্ডল থেকে ধর্ম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকবে। রাষ্ট্রই হবে জাতীয় পরিচয়ের একমাত্র শর্ত। জনপরিমণ্ডল থেকে ধর্ম ও এর প্রতীকগুলোকে বাদ দেয়ার এই মূলনীতির কারণে শুধু ফ্রান্সে হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশে এ ধরনের মূলনীতি না থাকায় সেসব দেশে হেডস্কার্ফ নিয়ে এ ধরনের কঠোর অবস্থান দেখা যায় না। নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার ফলে শুধু ফ্রান্সেই রাষ্ট্র ও ধর্মের মধ্যে এই বিশেষ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, আমরা সাধারণত সেক্যুলার ওয়ার্ল্ডভিউর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনটির দিকে দৃষ্টি দেই না। সেটি হলো রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা সম্পর্কিত সেক্যুলার বোঝাপড়া। এর মানে, রাষ্ট্র হচ্ছে ধর্মীয়, রাজনৈতিক বা সব ধরনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদানকারী। রাষ্ট্র নির্দিষ্ট কোনো দলের পক্ষ হয়ে কোনো বিষয়ে নাক গলাবে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিভিন্ন ধর্মের ব্যাপারে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার মতো ব্যাপার কি ইসলামে আছে?

ইসলাম একটি সমন্বিত ব্যবস্থা

ইসলাম হচ্ছে রাজনীতি, ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত ব্যবস্থা। মহানবী (সা.) ধর্মের সাথে সাথে রাষ্ট্রেরও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। মদীনা থেকে মক্কায় আগত যে দলটি প্রথমে আনুগত্যের শপথ (আকাবার প্রথম শপথ) করেছিলো, তা ছিলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) প্রতি ঈমানের ধর্মীয় শপথ। কিন্তু দ্বিতীয়বারের শপথ (আকাবার দ্বিতীয় শপথ) ছিলো মদীনা আক্রান্ত হলে প্রয়োজনে তরবারী দিয়ে হলেও মুসলমানদেরকে রক্ষা করা সংক্রান্ত। ইসলামপূর্ব সময়ে মদীনা পরিচিত ছিলো ইয়াসরিব হিসেবে। মোহাম্মদ (সা.) সেখানে হিজরত করার পর নাম পাল্টে রাখা হয় মদীনা। এই পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মদীনা অর্থ শহর বা নগর। এই নামের মধ্যেই নিহিত রয়েছে– ইসলাম নিছক কোনো ধর্ম নয়, বরং এটি একটা সভ্যতা সংক্রান্ত ব্যাপার। ইসলাম মানুষকে যাযাবর জীবন থেকে নাগরিক জীবনে নিয়ে এসেছে। তাই নগরব্যবস্থায় অভ্যস্ত হয়ে যাবার পর যাযাবর জীবনে ফিরে যাওয়াকে নিতান্তই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তাই ইসলাম যেখানেই গেছে সেখানেই নগরের পত্তন হয়েছে। উত্তর আফ্রিকার সবচেয়ে পুরনো নগরীটি আমাদের দেশে অবস্থিত, যেটি আরবরা গড়ে তুলেছে। ইসলাম যে একটি সভ্যতা নির্মাণকারী ধর্ম, মহানবী (সা.) কর্তৃক নগর প্রতিষ্ঠাই এর সুস্পষ্ট প্রমাণ। এ ধর্ম যুদ্ধরত গোত্রগুলোকে যাযাবর জীবন থেকে সভ্য হিসেবে উন্নীত করেছে এবং একটা রাষ্ট্রের অধীনে তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছে।

ইসলামে ধর্ম ও রাজনীতির প্রসঙ্গ

যেহেতু মহানবী (সা.) মসজিদে নামাজ পড়াতেন, তাই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ছিলেন ইমাম। আবার একই সাথে তিনি ছিলেন রাজনৈতিক নেতা। তিনি লোকজনের বিরোধ মীমাংসা করতেন, সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন এবং বিভিন্ন সন্ধি ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করতেন। মহানবী (সা.) মদীনায় এসে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি একটি সংবিধান উপস্থাপন করেন, যা ‘সহীফাহ’ নামে পরিচিত। আপনাদের কাছে এর উদাহরণ হলেন মোস্তফা।[1] এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সংবিধান। অনেকগুলো চুক্তির সমন্বয়ে প্রণীত এই সংবিধানটি ছিলো মক্কার মুহাজির ও তাদের আশ্রয়দাতা মদীনার আনসারদের মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তি। পরবর্তীতে ইহুদী গোত্রগুলো এই সংবিধানের আওতায় আসে।

আনসার ও মুহাজিরদেরকে একটি জাতি হিসেবে বিচেনা করা হয়েছিলো এবং ইহুদীদেরকে এ জাতিসত্তায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো। এ সংবিধানে দুই ধর্মীয় জাতিকে একটি একক রাজনৈতিক জাতিসত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা অন্যদের চেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে পরিচয় লাভ করে। এই সংবিধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ধর্ম ও রাজনৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য, যা বর্তমানকালের ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণ ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ। মোহাম্মদ সালিম আল আওয়া এবং মোহাম্মদ ওমরের মতো খ্যাতনামা স্কলারগণ এই অভিমত দিয়েছেন।

ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো পৃথকভাবে এ সংবিধানে উল্লেখিত ছিলো। সেখানে বলা ছিলো, মুসলিমরা একটি ধর্মীয় জাতি (উম্মাহ) এবং ইহুদীরা আরেকটি ধর্মীয় জাতি। এই দুই পক্ষ ও পৌত্তলিকরা মিলে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি জাতি হিসেবে গঠিত হয়েছিলো। ধর্ম ও রাজনীতির মধ্যে পার্থক্যের সীমারেখা সর্বদা স্পষ্ট না থাকলেও মহানবী (সা.) কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থা থেকে এই পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। এরই আলোকে বলা যায়, ধর্ম হলো ইবাদত ও আনুগত্য সংক্রান্ত ব্যাপার, আর রাজনীতি হলো যুক্তি ও বিবেচনাবোধের ব্যাপার। মহানবীর (সা.) কোনো বক্তব্য সাহাবীদের কাছে বোধগম্য না হলে তাঁরা জিজ্ঞেস করতেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ওহী, নাকি নিছক তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। ওহী হলে তাঁরা মেনে নিতেন। আর মহানবীর (সা.) ব্যক্তিগত মতামত হলে প্রয়োজনবোধে ভিন্নমত পোষণ করতেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মহানবী (সা.) কর্তৃক বিভিন্ন সময় গৃহীত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সাহাবীরা একাধিকবার দ্বিমত পোষণ করেছেন।[2]

একদিন মদীনায় কিছু লোক খেজুর গাছের পরাগায়ণের কাজ করছিলো। মহানবী (সা.) তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, “আমি এ কাজের কোনো সুফল দেখছি না।” লোকেরা এ কথাকে ওহী মনে করে পরাগায়ণের কাজ বন্ধ করে দিলো। ফলে সে বছর অন্যবারের তুলনায় ফলন কম হলো। তারপর তারা মহানবীকে (সা.) জিজ্ঞেস করলো, কেন তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি জবাব দিলেন, তোমাদের জাগতিক ব্যাপারের লাভজনক ব্যাপারগুলো তোমরাই ভালো জানো।

ধর্মের প্রকৃত ভূমিকা

সুতরাং, কৃষি, শিল্প, সরকার পরিচালনার পদ্ধতির মতো বিষয় সম্পর্কে ব্যবহারিক নির্দেশনা প্রদান ধর্মের কাজ নয়। কারণ, অভিজ্ঞতার আলোকে সত্যে উপনীত হতে যুক্তিবোধই যথেষ্ট। ধর্মের ভূমিকা হলো মানুষের অস্তিত্ব, উৎপত্তি, গন্তব্য এবং সৃষ্টির উদ্দেশ্য ইত্যাদি সম্পর্কিত গভীর প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া। ধর্মের আরেকটা কাজ হলো কিছু মূল্যবোধ ও মূলনীতি প্রদান করা। এগুলো আমাদের চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়নে নির্দেশনা প্রদান করবে।

জনজীবন থেকে ধর্মকে বাদ দেওয়া অর্থে রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথকীকরণের ধারণা কখনোই ইসলামে ছিলো না। এ পর্যন্ত মুসলমানদের জীবনে ইসলামের প্রভাব সুস্পষ্ট। মুসলিম জনজীবন ইসলামের শিক্ষা ও নির্দেশনা দ্বারা উদ্বুদ্ধ। যদিও ধর্ম ও রাজনীতির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তারা সচেতন। ইসলামী স্কলারদের চিন্তাধারায়ও এই পার্থক্য সুস্পষ্ট। তারা মুয়ামালাত (ইবাদত ব্যতীত অন্যান্য কাজ) এবং ইবাদতকে আলাদা হিসেবে বিবেচনা করেছেন। ইবাদত হচ্ছে অপরিবর্তনীয় ও প্রথাগতভাবে পালনের বিষয়। অর্থাৎ এখানে সত্যে পৌঁছার জন্যে যুক্তি যথেষ্ট নয়। আর সাধারণ কল্যাণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্র হলো মুয়ামালাত। ইমাম শাতিবী ও ইবনে আশুরের মতো মহান স্কলারগণ জোর দিয়ে বলেছেন, ইসলাম এসেছে মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য। স্কলারগণ একমত হয়েছেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই সকল ঐশীগ্রন্থের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। ধর্মীয় নির্দেশনা, উদ্দেশ্য, মূল্যবোধ ও মূলনীতি অনুযায়ী পরিচালিত যুক্তিবোধের আলোকে এই ব্যাপারগুলো বাস্তবায়নযোগ্য। মুয়ামালাতের ব্যাপারগুলো প্রতিনিয়ত বিকশিত ও পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু আকীদা, মূল্যবোধ ও সদগুণ সবসময়ই অপরিবর্তনীয়।

ইসলামে বহুত্ববাদ ও চিন্তার স্বাধীনতার ধারণা

ইসলামের ইতিহাসে সবসময়ই রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম কোনো না কোনোভাবে ইসলাম দ্বারা প্রভাবিত ছিলো। কোনো বিশেষ স্থান-কালের লোকেরা ইসলামী মূল্যবোধকে যেভাবে বুঝেছে, তার আলোকে রাষ্ট্রের আইন প্রণীত হয়েছে। এতদসত্তেও, নিছক ঐশী আইন-কানুন দ্বারা পরিচালিত হতো বলেই কোনো রাষ্ট্র ইসলামী হিসেবে গণ্য ছিলো না। বরং, সেখানে মানবীয় বিচার-বিবেচনাও কার্যকর ছিলো, যার সমালোচনা করা যেতো। রাষ্ট্র একটা পর্যায় পর্যন্ত নিরপেক্ষতা বজায় রাখতো। রাষ্ট্র যখন এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতো এবং একটা একক ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিতো – যেমনটা ঘটেছিলো আব্বাসীয় আমলে – তখনই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়তো। বলে রাখা দরকার, একই ধর্মের নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও দৃষ্টিকোণ নিয়ে আব্বাসীয় খলীফা আল মনসুর উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁর আশংকা ছিলো, রাষ্ট্রের উপরও এই বিভাজন প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তিনি ইমাম মালেককে (রহ.) ডেকে আনলেন এবং সবকিছুর সমন্বয় করে একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রণয়ন করার অনুরোধ করলেন। এর ফলে ইমাম মালেক (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল মুয়াত্তা’ রচনা করেন। এতে খলীফা আল মনসুর খুবই খুশি হলেন। তিনি এটাকে সকল মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক আইনে পরিণত করতে চাইলেন। এতে ইমাম মালেক (রহ.) আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি এ রকম কিছু না করার জন্যে খলিফাকে অনুরোধ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিলো– মহানবীর (সা.) সাহাবীরা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছেন এবং তাঁরা ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তাঁরা লোকজনকে পরিস্থিতির আলোকে উপযুক্ত পন্থা বেছে নেয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। এ কারণেই আমরা উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় একটা মাজহাব, পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অন্য মাজহাব, আবার মিশরে আরেকটা মাজহাবের প্রাধান্য দেখি।

ধর্মীয় ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে খ্রিষ্টধর্মে চার্চই একমাত্র কর্তৃপক্ষ। ইসলামে এ ধরনের কর্তৃপক্ষ না থাকায় ব্যাখ্যাদান ও চিন্তার অর্থবহ স্বাধীনতা রয়েছে। এই স্বাধীনতার ফলে স্বভাবতই বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। আইন প্রণয়ন ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে আইন প্রণয়ণের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচন ও গণতন্ত্রই হচ্ছে এখন পর্যন্ত অনুসরণীয় মানবজাতির জন্যে সর্বাধিক কার্যকর ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতির নেতৃত্ব গড়ে ওঠে এবং ব্যক্তিচিন্তার পরিবর্তে সামষ্টিক মতামত প্রাধান্য লাভ করে। অন্যদিকে, খ্রিষ্টধর্মের মতো ইসলামে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে ‘চার্চ’ ও কোরআনের মুখপাত্র হিসেবে ‘পোপ’ না নেই। ফলে কোনো বিশেষ স্কলার, দল বা রাষ্ট্রের পরিবর্তে সমগ্র জাতি পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে ঐশী ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

আব্বাসীয় খলীফা আল মামুন কোরআনের একটিমাত্র ব্যাখ্যা এবং আকীদা সংক্রান্ত মুতাজিলা দর্শনকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বিদ্রোহ করেন এবং ধর্মের ওপর রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের চেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেন। এতে তিনি হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন। তাঁর এই প্রচেষ্টার ফলে জনমত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলে যায় এবং আল মামুন শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হন।

আমাদের চ্যালেঞ্জ

পাশ্চাত্যের সমস্যাগুলো আবর্তিত হচ্ছিলো ধর্ম থেকে রাষ্ট্রের মুক্তিকে কেন্দ্র করে। এটি করতে গিয়ে তারা ধ্বংসাত্মক যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়েছিলো। অন্যদিকে, আমাদের প্রেক্ষাপটে বিবেচ্য বিষয় হলো– রাষ্ট্রের কবল থেকে ধর্মের মুক্তি এবং ধর্মের ওপর আধিপত্য করা থেকে রাষ্ট্রকে বিরত রাখা। এর পাশাপাশি ধর্মকে সামাজিক পরিমণ্ডলের মধ্যে বজায় রাখা, সকল মুসলমানের জন্য কোরআন পড়া এবং তাদের বুঝজ্ঞান অনুযায়ী কোরআন বুঝার সুযোগ রাখা আমাদের বিবেচনার বিষয়। বহুত্ববাদে কোনো সমস্যা নেই, এটা মানুষের মধ্যে সহনশীলতা তৈরি করে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্যে মুসলমানদের প্রয়োজন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। ইসলামে যে ‘শুরা’র (পরামর্শ) ধারণা রয়েছে, তার সঠিক মূল্যায়ন করার এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, আমাদের ঐতিহ্যে চার্চের মতো কোনো একক ধর্মীয় কর্তৃত্ববাদী প্রতিষ্ঠান নেই। সম্ভবত আমাদের শিয়া ভাইয়েরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশ্বাসী। কিন্তু সুন্নীদের মাঝে দ্বিমত ও ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার মতো স্কলারদের কাউন্সিল বা এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তাই আমাদের প্রচুর স্কলার ও বুদ্ধিজীবী দরকার, যারা মুক্ত পরিবেশে আমাদের ইস্যুগুলো নিয়ে বিতর্ক ও গবেষণা করবেন এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইনসভাকে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন।

রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক

আমাদের দেশে সেক্যুলার ও ইসলামপন্থীদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে চরমপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করছে। একটা পক্ষ রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ইসলাম সম্পর্কে তাদের বুঝজ্ঞানকে উপর থেকে চাপিয়ে দেয়ার পক্ষপাতি। আরেকটা পক্ষ রাষ্ট্র, শিক্ষাব্যবস্থা ও জাতীয় সংস্কৃতি থেকে ইসলামের প্রভাব উপড়ে ফেলতে আগ্রহী।

মুসলিম বিশ্বসহ পুরো বিশ্বে এখন একটা ধর্মীয় পুনর্জাগরণ চলছে। পোপ দ্বিতীয় জন পল যে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন, সেই সূত্রে পূর্ব ইউরোপে ক্যাথলিক চার্চের অধিকতর ভূমিকা দৃশ্যমান হচ্ছে। পুতিনের পক্ষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের সাফল্যও লক্ষ্যনীয়। এমন এক সন্ধিক্ষণে সংস্কৃতি ও শিক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নে ধর্মের প্রভাবের বিরোধিতা করাটা অযৌক্তিক। তবে ইসলামকে চাপিয়ে দেয়ারও প্রয়োজন নেই। এটা অভিজাতদের ধর্ম নয়, এটা গণমানুষের ধর্ম। রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য নয়, বরং ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা আছে বলেই ইসলামের এত অনুসারী এবং দীর্ঘসময় ধরে এটি টিকে আছে। রাষ্ট্র বরং প্রায়শ ধর্মের উপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমি আগেও বলেছি, ইসলামপন্থী বা অন্যান্য ধারার সাথে যারা যুক্ত তাদের অনেকের মধ্যে রাষ্ট্রের বন্ধন থেকে মুক্ত করে ধর্মকে একটা সামাজিক ব্যাপার হিসেবে রেখে দেওয়ার ব্যাপারে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। তাদের প্রতি আমার প্রশ্ন হলো– রাষ্ট্র কেন ইমামদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়? কেন মসজিদকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়?

রাষ্ট্রের পক্ষে নিরপেক্ষ থাকাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদসঙ্কুল ব্যাপার। ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণ বলতে কী বুঝানো হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করছে এটা গ্রহণযোগ্য নাকি বর্জনীয়। ওহীর প্রত্যক্ষ বিষয় এবং প্রায়োগিক রাজনৈতিক বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্য প্রাথমিক যুগের মুসলিমরা যেভাবে বুঝতেন সেভাবে যদি বিবেচনা করা হয় – অর্থাৎ রাষ্ট্র হচ্ছে একটা মানবীয় ব্যাপার, আর ওহী হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত – তাহলে তা ঠিক আছে। আর যদি একে ফরাসী ধারণা কিংবা মার্ক্সীয় অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে তা ভয়ানক বিপদজনক ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। এই ব্যাখ্যা রাষ্ট্র ও ধর্ম উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পূর্ণ পৃথকীকরণের ফলে রাষ্ট্র মাফিয়াচক্রে পরিণত হবে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হয়ে পড়বে লুণ্ঠনবাদী, রাজনীতি হয়ে পড়বে প্রতারণা ও ভণ্ডামিপূর্ণ। কিছু ইতিবাচক দিক ছাড়া বাকি ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যে ঠিক এই ব্যাপারগুলোই ঘটেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি অল্প কয়েকজন অর্থনৈতিক দালালের খপ্পড়ে বন্দি। এরা প্রচুর অর্থের মালিক, অসংখ্য মিডিয়া তাদের হাতে। এসবের মাধ্যমে তারা রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণ করে।

এই বিবেচনায় মানুষের জন্যে ধর্ম খুবই প্রয়োজনীয়। ধর্মের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক নির্দেশনার ফলে মানুষ ন্যায় ও অন্যায়ের (হালাল ও হারাম) মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে।[3] হালাল-হারাম নির্ধারণে একচ্ছত্র কর্তৃত্ববাদী চার্চের ধারণা যেহেতু ইসলামে নেই, তাই এসব সমস্যা অগ্রগণ্য চিন্তাবিদগণ, জনগণ ও মিডিয়া আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে।

রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে ধর্মকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এবং সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অতএব, মানুষের মুক্তি ও অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম একটা ভারসাম্যপূর্ণ উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। ধর্মই এই কাজটি করতে পারে। এই ভারসাম্য অর্জন করতে আমাদেরকে ধর্ম ও রাজনীতির পৃথকীকরণ প্রসঙ্গে ফিরে যেতে হবে। ধর্মের কোনটা অপরিবর্তনীয়, আর কোনটা পরিবর্তনীয়– সেই মানদণ্ড ঠিক করতে হবে। আমাদের আইনপ্রণেতাদেরকে ধর্মের মূল্যবোধ সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত ও প্রশিক্ষিত হতে হবে। এমন ব্যক্তিদের দ্বারা আইন প্রণয়নের সময় ধর্মীয় স্কলারদের মুখাপেক্ষী থাকার দরকার পড়ে না। একই কথা রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ধর্মীয় ইবাদত পালনে বলপ্রয়োগের মধ্যে কোনো ফায়দা নেই। রাষ্ট্রীয় পেশিশক্তির মাধ্যমে আল্লাহর অবাধ্য বান্দাদের মুনাফিকে পরিণত করার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। মানুষকে স্বাধীন হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষের বাহ্যিক কিছু দিককে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও তাদের অন্তরের অবস্থা ও দৃঢ় বিশ্বাসকে পরিবর্তন করা অসম্ভব।

হেডস্কার্ফ বা নেকাব হলো এক্ষেত্রে আমাদের সামনে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ। এর দুইটা মডেল রয়েছে। প্রথমটিতে নেকাব পরিধানের রাষ্ট্রীয় হুকুম তামিল করতে বাধ্য করা হয়েছে। দ্বিতীয়টিতে রাষ্ট্র নেকাবকে নিষিদ্ধ করেছে। একবার আমি একটি মুসলিম দেশের এয়ারপোর্টে সব নারীকেই বোরকা পরিহিত অবস্থায় দেখলাম। কিন্তু বিমানটি আকাশে উড়ার সাথে সাথে সব বোরকাও যেন উড়ে গেলো! এটা যে ওই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা, তা স্পষ্ট। জনগণের ধর্ম পালনের নিশ্চয়তা সাধনে দেশটি দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বেন আলীর শাসনামলে তিউনিসিয়ায় নারীদের নেকাব পরা নিষিদ্ধ ছিলো। নারীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরে জনসমক্ষে আসতে পারতো না। এখানেও রাষ্ট্র দমনপীড়ন চালিয়েছে এবং ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্বাসের স্বাধীনতা

ধর্মের মূল ক্ষেত্র রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি নয়, বরং ব্যক্তিগত বিশ্বাস। আর রাষ্ট্রের সর্বপ্রথম দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সেবা তথা কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ইত্যাদি নিশ্চিত করা। মানুষের হৃদয়-মন নিয়ন্ত্রণ করা রাষ্ট্রের কাজ নয়। এ কারণে আমি জনগণের উপর সব ধরনের বলপ্রয়োগের বিরোধী। “ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই”– কোরআনের এই আয়াতের উপর ভিত্তি করে আমি মানুষের নিজস্ব ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী চলা কিংবা ধর্মত্যাগ করার স্বাধীনতার পক্ষে।

কাউকে জোর করে মুসলিম বানানোর কোনো মানে নেই। প্রকাশ্যে বিশ্বাসী, আর অন্তরে অবিশ্বাসী– মুসলিম জাতির এ ধরনের মুনাফিকের দরকার নেই। স্বাধীনতা এমন এক মৌলিক বিষয়, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ইসলামের ওপর অবিচল থাকতে পারে। অতএব, যিনি কালিমায়ে শাহাদাতের ঘোষণা দেন, স্বাধীন ইচ্ছার ভিত্তিতেই তিনি সেটি করেন। যার মূলে রয়েছে সচেতনতা এবং দৃঢ় বিশ্বাস।

মক্কার লোকেরা যখন মোহাম্মদকে (সা.) তাঁর ধর্মের ব্যাপারে আপত্তি জানালো, তখন তিনি তাঁর দাওয়াতী তৎপরতায় হস্তক্ষেপ না করতে তাদেরকে অনুরোধ করেন। তিনি লোকদের কাছে তাঁর বাণী প্রচারের স্বাধীনতা চাইলেন। মক্কার লোকেরা যদি তাঁকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিতো, তাহলে তিনি মাতৃভূমি ছেড়ে হিজরত করতেন না। তাঁর বাণী এতই শক্তিশালী ছিলো যে, তারা একে দমিয়ে রাখার জন্য বিকল্প কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না। একমাত্র সত্য হওয়ার কারণে ইসলাম এতই শক্তিশালী যে, এর প্রতি আকৃষ্ট করতে মানুষের ওপর পেশিশক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। যাবতীয় রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ে ইসলাম ঘোষণা করে– “যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তাহলে প্রমাণ হাজির করো”।[4]

শেষ কথা

আমাদের দেশে চলমান বিতর্কের অধিকাংশই সেক্যুলারিজম ও ইসলাম নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কারণে হচ্ছে। আমরা বাস্তবে দেখিয়েছি– সেক্যুলারিজম কোনো নাস্তিক্যবাদী দর্শন নয়। বরং বিশ্বাস ও চিন্তার স্বাধীনতাকে অক্ষুন্ন রাখতে এটা একটা প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা। আব্দুল ওয়াহহাব আল মাসিরি তাঁর গবেষণায় কট্টর সেক্যুলারিজম ও উদার সেক্যুলারিজমের মধ্যে পার্থক্য দেখিয়েছেন। কট্টর সেক্যুলারিজমের উদাহরণ হিসেবে ফ্রান্সের ইতিহাস থেকে জ্যাকবীয় মডেলের কথা বলা যায়। যাজকতন্ত্রের বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ চলছিলো, তখন জ্যাকবীয়দের প্রধান শ্লোগান ছিলো– “শেষ রাজাকে ফাঁসি দাও শেষ পাদ্রিটার দড়িতে” (strangle the last king with the entrails of the last priest)। এটা হচ্ছে ফ্রান্সের বাস্তবতা, যেটি সেক্যুলারিজমের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা নয়। ইসলাম নিয়েও এ ধরনের কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। এ কারণে অনেকে মনে করে– ইসলাম শুধু মানুষের স্বাধীনতা হরণ করে বিজয়ী হতে চায় এবং জোরপূর্বক নামাজ, রোজা ও নেকাবের মতো বিষয় চাপিয়ে দিতে চায়। অথচ ইসলামের চূড়ান্ত লক্ষ্য থেকে এগুলো অনেক দূরের ব্যাপার। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা কপটতাকে সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছেন। কপট লোকদের জন্যে চিরস্থায়ী দোজখের আগুন রয়েছে বলে সাবধান করা হয়েছে।

আমরা ইতোমধ্যে বিপ্লবের মাধ্যমে একটা স্বৈরাচারকে উৎখাত করতে সক্ষম হয়েছি। এই বিপ্লব আমাদেরকে নাগরিক মূল্যবোধ মেনে চলার কথা বলে। এই দেশ নির্দিষ্ট কোনো দলের হবে না। বরং এই দেশ হবে ধর্ম, লিঙ্গ বা অন্য যে কোনো বিবেচনার ঊর্ধ্বে সকল নাগরিকের। নাগরিকদের সমঅধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে যে কোনো কিছু করার স্বাধীনতা এবং নাগরিক প্রতিনিধিদের দ্বারা সংসদে প্রণীত আইন মেনে চলার অধিকার ইসলাম আমাদেরকে দিয়েছে।

সেক্যুলারিজমের সাথে ইসলামের সম্পর্ক নিয়ে এই হচ্ছে আমার দৃষ্টিভঙ্গি। আশা করি আমি মূল ব্যাপারটা বলতে পেরেছি। মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্যে আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...