হাদীস অস্বীকার কারীদের মুখোশ খুলতে গিয়েই ফয়জুল করীম সাহেব আলকোরআন নিয়ে এমন কথা বলছেন, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।এই বিষয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া একটা মূর্খতা ছাড়া আর কিছু না, এটা আহলে কোরআন নামক কাফেরদের ষড়যন্ত্র।সকল মুসলমানের উচিত এই বিষয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানো।দুনিয়ার কোনো মুসলমান তাৃর পাশে না থাকলেও এই আহলে কোরআন নামক কাফেরদের বিষয়ে আমি এই মুফতী ফয়জুল করিম হাফি: এর পাশে আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ।
চরমোনাই পীরের ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে আমার চেয়ে বেশী সমালোচনা আর কেউ করেছে কি না আমার জানা নাই, কিন্তু আজ যখন এই ফয়জুল করিম ইসলামি ঐক্য নিয়ে কাজ করার কারনে তাঁর উপর জুলুম হয় সে সময় তো তার সত্যতার পক্ষে আমার কথা বলতেই হয়।
শরীয়ত বলার সময় কোরআন-সূন্নাহ একসাথে বলতে হয়, এটাই স্বাভাবিক কেননা হাদিস অস্বীকারকারী আহলে কোরআন নামক কাফেররা বলে হাদিস নাকি বিকৃত হয়ে গেছে,তাই হাদিস মানা যাবে না, হাদিস মানার কারনেই নাকি ইসলামে এত দল-উপদল। তাই হাদিস মানা যাবে না, শুধু কোরআন মানতে হবে। অর্থাদ হাদিসকে অস্বীকারের জন্য আহলে কোরআন নামক কাফেররা শুধু কেরআন, কোরআন বলে। এই কথাটা বলতে গিয়েই জনাব ফয়জুল করিম হাফি: শুধু আলকোরআন আলকোরআন বলাটা ভাওতাবাজী, উদ্দেশ্য ভাল না, কোরআন-সূন্নাহ একসাথেই বলতে হবে এটা বুঝাতে গিয়েই ঐ শব্দটা ব্যবহার করেছেন কিন্তু আমাদের দেশের ভিউ ব্যবসায়ীরা এই কথাটার কাটিং ভিডিও দিয়ে ভুল মেসেজ দিয়েছে মুসলমানদের মাঝে।আর এই কাটিং ভিডিও দেখে নাকি কোন উকিল লিগ্যাল নোটিশও পাঠিয়েছে। বিষয়টা হাস্যকর।ওই উকিল হয় নিজেই আহলে কোরআন নামক কাফের আর না হয় দ্বীনের বিষয়ে নিত্যান্তই অজ্ঞ।
এবার আসুন আহলে কোরআন নামক বাটপারদের বিষয়ে ফয়জুল করিম হাফি: কেন এত শক্ত কথা বলেছেন তা তথ্য ভিত্তিক আলোচনা করি।
হাদীসের প্রামাণিকতাকে অস্বীকারকারী নিঃসন্দেহে কাফের এবং ইসলামের গন্ডি বহির্ভূত। কেননা যে হাদীসকে অস্বীকার করে, সে মূলতঃ কুরআনকেই অস্বীকার করে। হাদীছ ব্যতীত দ্বীনের ওপর আমল করা অসম্ভব। এজন্য মুসলিম বিদ্বানগণ সর্বসম্মতভাবে হাদীছ অস্বীকারকারীকে কাফের আখ্যা দিয়েছেন। অর্থাৎ যারা গোটা হাদীসশাস্ত্রকে অস্বীকার করে তারা স্পষ্ট কাফের, কেননা তা রাসূল (ছাঃ)-এর রিসালাতকেই অস্বীকার করার শামিল। অনুরূপভাবে যারা কোন হাদীসকে সহীহ হিসাবে জানার পরও কোন প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়া তা সরাসরি অস্বীকার করবে সেও কুফরী করবে।
এ বিষয়ে ইমামদের মতামত নিম্নে উল্লেখিত হ’ল-
(১) খ্যাতনামা তাবেঈ আইয়ূব আস-সাখতিয়ানী (১৩১হি.) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তিকে তুমি হাদীছ শোনাও এবং সে বলে এসব ছাড়ো, আমাদেরকে কুরআন থেকে শোনাও, তবে জেনে রেখ সে একজন পথভ্রষ্ট’ (সুয়ূত্বী, মিফতাহুল জান্নাহ, পৃ. ৩৫)।
(২) ইসহাক ইবনু রাহওয়াইহ (২৩৮হি.) বলেন, ‘যে ব্যক্তির নিকট রাসূল (ছা.)-এর কোন হাদীছ পৌঁছেছে যাকে সে সত্য বলে স্বীকার করেছে, অতঃপর প্রকাশ্যে তা পরিত্যাগ করেছে, সে কাফের (ইবনু হাযম, আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ১/৯৯)।
(৩) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (২৪১হি.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূল (ছা.)-এর হাদীছকে অস্বীকার করল, সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিপতিত হ’ল (ইবনুল জাওযী, মানাক্বিবুল ইমাম আহমাদ, পৃ. ২৪৯)।’
(৪) ইমাম আল-বারবাহারী (৩২৯হি.) বলেন, ‘যখন কোন ব্যক্তি রাসূল (ছা.)-এর হাদীছের ব্যাপারে কটূক্তি করবে, তখন তার ইসলামের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হবে। কেননা সে নিকৃষ্ট বক্তব্য এবং নিকৃষ্ট পথের অনুসারী। সে মূলতঃ রাসূল (ছা.) ও তার ছাহাবীদের উপরই কটূক্তি করেছে (শারহুস সুন্নাহ, পৃ. ৮৯)। তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত অস্বীকার করে, সে যেন পুরো কিতাবকেই অস্বীকার করে। যে ব্যক্তি রাসূল (ছা.)-এর কোন একটি হাদীছকে অস্বীকার করে, সে যেন পুরো হাদীছ সম্ভারকেই অস্বীকার করে (শারহুস সুন্নাহ, পৃ. ১০১-১০২)।
(৫) ইমাম আল-আজুর্রী (৩৬০হি.) বলেন, ‘আল্লাহ তাঁর কিতাবে যে সকল বিষয় ফরয করেছেন, তার কোনটিরই হুকুম জানার সুযোগ নেই রাসূল (ছা.)-এর সুন্নাহ ব্যতীত। এটিই মুসলিম বিদ্বানগণের অভিমত। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বাইরে অন্য কোন কথা বলবে, সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাবে এবং অবিশ্বাসী নাস্তিকদের দলভুক্ত হবে (আশ-শারী‘আহ, ১/৪১২)।’
(৬) ইবনু হাযম (৪৫৬হি.) বলেন, ‘কোন মুসলিম যে তাওহীদকে স্বীকৃতি দিয়েছে তার পক্ষে বিতর্কের সময় কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। তাতে যা পেয়েছে তা অস্বীকার করারও কোন সুযোগ নেই। যদি সে তার নিকট দলীল স্পষ্ট হওয়ার পরও অস্বীকার করে তবে সে ফাসিক। আর যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহর হুকুম থেকে বেরিয়ে যাওয়া হালাল মনে করে এবং এ দু’টির যে কোন একটির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করে, সে কাফির। এ বিষয়ে আমাদের কোন সন্দেহ নেই (আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ১/ ৯৯)।
(৭) তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি বলে যে কুরআনে যা পাব তা ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করব না, তবে সে মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মতে কাফির।... আর যদি কেউ কেবল মুসলিম উম্মাহর ইজমা‘কৃত বিষয়কে স্বীকৃতি দেয় এবং তাদের মধ্যে কুরআন ও হাদীছ থেকে উৎসারিত সকল মতভেদ পূর্ণ বিষয়গুলো পরিত্যাগ করে, তবে সে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমতে ফাসিক (আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ২/৮০)।
(৮) ইবনু তায়মিয়াহ (৭২৮ হি.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই রাসূল (ছা.) তাঁর প্রভুর পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব। তার অর্থ আমরা বুঝি আর না বুঝি। কেননা তিনি সত্যবাদী এবং সত্যায়িত ব্যক্তি। কিতাব ও সুন্নাহে যা কিছু তিনি নিয়ে এসেছেন প্রত্যেক মুমিনের জন্য তার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, যদিও সে তার অর্থ না বোঝে। এটাই সালাফে ছালেহীন এবং ইমামগণের ঐক্যমত দ্বারা সাব্যস্ত (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ৩/৪১)।
(৯) শাত্বেবী (৭৯০হি.) বলেন, ‘একটি দল রয়েছে যারা কেবলমাত্র কুরআনকে যথেষ্ট মনে করে, তারা চরম দুর্ভাগা। তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত থেকে বহির্ভূত (আল-মুওয়াফাক্বাত, ৪/৩২৫-৩২৬)।’ (১০) ইবনু ওয়াযীর (৮৪০ হি.) বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছ প্রমাণিত হওয়ার পরও যারা তা অস্বীকার করে, তারা সুস্পষ্ট কাফের (আল-‘আওয়াছিম মিনাল ক্বাওয়াছিম ২/২৭৪)। (১১) সুয়ূত্বী (৯১১হি.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি রাসূল (ছা.)-এর কোন ভাষ্য বা কর্মগত হাদীছ অস্বীকার করে এবং সে জানে যে হাদীছ হ’ল ইসলামের মৌলিক দলীল, সে ব্যক্তি কুফরী করল এবং ইসলামের গন্ডী থেকে বেরিয়ে গেল এবং তার হাশর হবে ইহূদী এবং নাছারাদের সাথে অথবা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী কোন কাফের দলের সাথে (সুয়ূত্বী, মিফতাহুল জান্নাহ, পৃ. ৬)।
(১২) শাওকানী (১২৫০হি.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই পবিত্র সুন্নাহর প্রামাণিকতা এবং শরী‘আতের আহকাম প্রণয়নে তাঁর একচ্ছত্র দ্বীনের অবধারিত জ্ঞান। এ বিষয়ে কেউই মতভেদ করে না, ইসলাম থেকে বহির্ভূত ব্যক্তি ব্যতীত’ (ইরশাদুল ফুহূল, ১/৯৭)।
(১৩) বর্তমান যুগের সকল বিদ্বানের ঐক্যমতে, হাদীছ অস্বীকারকারীরা মুরতাদ ও কাফির। কেননা তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর মিথ্যারোপ করে। এদের সাথে কোন প্রকার ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পর্ক রাখা বৈধ নয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৩/১৯৪, মাজমু ফাতাওয়া বিন বায ২/৪০৩, ৩/২৭৩)।
এখন এই কাফেরদের বিষয়ে যদি সচেতনতা তৈরী করা অপরাধ হয় কিংবা এই সচেতনতা প্রচার করতে গিয়ে একটা ভুল করেই ফেলে তাইলে আর কি করার থাকে একজন আলেমের?
এই বিষয়টি নিয়ে কোন এক আইনজীবী নাকি তাকে লিগ্যাল নোটিশও দিয়েছে, আমি বলবো মাননীয় ফয়জুল করিম হাফি: আপনি ভুল করেন নি, আপনার ক্ষমা চাওয়ার কোনো কারনও নাই, আপনি ক্ষমা চাইলে আহলে কোরআন নামক কাফেররা জিতে যাবে আর আমরা মুসলমানরা হেরে যাবে।
এই বিষয়ে তাঁকে কাটিং ভিডিও দেখে লিগ্যাল নোটিশ করা একটা ধমীয় মূর্খতা এবং আহলে কোরআন নামক কাফেরদের ষড়যন্ত্র। সকল মুসলমানের উচিত তাঁর পাশে দাঁড়ানো।
.jpeg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ