4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: মূর্তি পূজায় শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে শরয়ী দলিল ভিত্তিক আলোচনা > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫

মূর্তি পূজায় শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে শরয়ী দলিল ভিত্তিক আলোচনা

 


হিন্দুদের পূজায় অংশগ্রহন,প্রসাদ খাওয়া এবং শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে শরয়ী দলিল ভিত্তিক আলোচনা


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি নামক দলের কিছু ভাই প্রশ্ন করেছে যে হিন্দুদের পূজায় শুভেচ্ছা জানানো সহ অনেক বিষয়ে শরিয়ত কি বলে, তাই আমার আজকে এই আলোচনা, এটা কোনো ফতেয়া নয়।


বি:দ্র: ফতোয়া দিবেন শুধু মুহাদ্দিস গন অথবা এই বিষয়ে অভিজ্ঞ সন্মানিত আলেম গন, আমার লেখাটা একটা আলোচনা মাত্র। আমার আলচনায় ভুল থাকতেই পারে।


প্রশ্ন: হিন্দুদের পূজায় অংশগ্রহণের শরয়ী হুকুম কী?


উত্তর: হিন্দু বা যে কোনো কাফেরদের পূজা বা ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া হারাম। আর সেই উৎসবের প্রতি সম্মান জ্ঞাপনপূর্বক উপস্থিত হওয়া অথবা তাদের পূজা ও ধর্মীয় প্রথা পালনে অংশ গ্রহণ করা কুফর। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,


{وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا} [الفرقان: 72]


“(এবং রহমানের বান্দা তারা) যারা ‘যূরে’ উপস্থিত হয় না। আর অনর্থক কর্মকাণ্ডের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে সসম্মানে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।” –সূরা ফুরকান: ৭২


ইমাম ইবনে কাসির রহ. (৭৭৪ হি.) বলেন,


وقال أبو العالية، وطاوس، ومحمد بن سيرين، والضحاك، والربيع بن أنس، وغيرهم: هي أعياد المشركين – تفسير ابن كثير: 6/ 130


 


“আবুল আলিয়া, তাউস, মুহাম্মাদ বিন সিরিন, যাহহাক, রবি বিন আনাস প্রমুখ তাবিয়ি বলেছেন, ‘যূর’ হচ্ছে মুশরিকদের উৎসব।” -তাফসিরে ইবনে কাসির: ৬/১৩০; তাফসিরে বাগাবি: ৩/৪৫৯


ইমাম ফখরুদ্দিন রাযি রহ. (৬০৬ হি.) বলেন:


ويحتمل حضور كل موضع يجري فيه ما لا ينبغي ويدخل فيه أعياد المشركين ومجامع الفساق، لأن من خالط أهل الشر ونظر إلى أفعالهم وحضر مجامعهم فقد شاركهم في تلك المعصية، لأن الحضور والنظر دليل الرضا به. اهـ -التفسير الكبير: 24/485


“আয়াতে ‘যূর’ দ্বারা প্রত্যেক এমন জায়গা উদ্দেশ্য হতে পারে যেখানে অনুচিত কাজ সংঘটিত হয়। মুশরিকদের উৎসব এবং পাপাচারীদের মিলনমেলাও এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা যে অবাধ্যদের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করে, তাদের সমাবেশে উপস্থিত হয়, সেও তাদের সঙ্গে উক্ত অপরাধে অংশ নিল। উপস্থিত হওয়া ও পরিদর্শন করা তার প্রতি সন্তুষ্টির প্রমাণ।” –তাফসিরে কাবীর: ২৪/৪৮৫


উমর রা. বলেন:


اجتنبوا أعداء الله في عيدهم. –السنن الكبرى للبيهقي: 18862


“তোমরা আল্লাহর দুশমনদের উৎসবগুলোতে তাদের থেকে দূরে থাক।” – আসসুনানুল কুবরা: ১৮৮৬২


আল্লামা ইবনে নুজাইম রহ. (৯৭০ হি.) বলেন:


يكفر … بخروجه إلى نيروز المجوس والموافقة معهم فيما يفعلون في ذلك اليوم وبشرائه يوم النيروز شيئا لم يكن يشتريه قبل ذلك تعظيما للنيروز لا للأكل والشرب وبإهدائه ذلك اليوم للمشركين ولو بيضة تعظيما لذلك اليوم … اتفاقا. اهـ -البحر الرائق شرح كنز الدقائق ومنحة الخالق وتكملة الطوري: 5/ 133، الهندية: 2/276


“অগ্নিপূজকদের নববর্ষে অংশগ্রহণ করলে এবং তাদের সাথে তাদের ওই দিনের কার্যাবলীর প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করলে অথবা শুধুমাত্র নববর্ষের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে সেদিন কিছু খরিদ করলে, যা সে খরিদ করার ছিল না এবং তা পানাহারের জন্যও নয়, এমনিভাবে ওই দিনের সম্মানার্থে কোনো মুশরিককে হাদিয়া প্রদান করলে; চাই তা একটা ডিমই হোক না কেন, সর্বসম্মতভাবে কাফের হয়ে যাবে।” –আলবাহরুর রায়িক: ৫/১৩৩; হিন্দিয়া: ২/২৭৬


আল্লামা যফর আহমদ থানভি রহ. বলেন,


ہندؤوں کا میلہ اگر مذہبی ہو تو اس میں شرکت جائز نہیں اور نہ مسلمانوں کو ان کے ایسے میلے میں اپنی دوکان لے جانی چاہئے۔ باقی سودا خرید نے میں دونوں قول ہیں۔ بعض فقہاء نے اس کو بھی منع کیا ہے اور بعض نے کہا ہے کہ اگر معمول کے مطابق ضروریات خریدی جائیں اور اس میلہ کی وجہ سے خاص کوئی چیز نہ خریدی جائے تو جائز ہے مگر احتیاط اسی میں ہے کہ ان کے مذہبی میلہ میں سے کچھ بھی نہ خریدے کیونکہ خریداروں سے بھی میلہ کی رونق بڑھتی ہے اور کفّار کے مذہبی میلہ کی رونق کو بڑھانا مناسب نہیں۔ ہاں اگر تجارتی میلہ ہو جیسے بعض جگہ جانوروں کی تجارت کے لئے میلہ لگتا ہے۔ اس میں جانے اور خرید وفروخت کرنے میں مضائقہ نہیں بشرطکیہ ناچ رنگ وغیرہ سے دور رہے۔ واللہ اعلم                                                                                                


حرره الاحقر ظفراحمد                                                                                             ۲۴؍جمادی الاولیٰ  ۴۰ ؁ھ –امداد الاحكام: 7/172


 


“হিন্দুদের মেলা-উৎসব যদি ধর্মীয় হয়, তাতে অংশগ্রহণ জায়েয নেই। তাদের এমন মেলাতে মুসলমানদের জন্য দোকান-পাট নিয়ে না যাওয়া চাই। তবে (মেলা থেকে) সওদাপাতি খরিদ করার ব্যাপারে দু’দিকেই বক্তব্য রয়েছে। কিছু ফকিহ সেটাও নিষেধ করেছেন। কেউ বলেছেন, যদি নিয়মিত প্রয়োজনীয় পণ্য খরিদ করা হয়; মেলার কারণে বিশেষভাবে কিছু ক্রয় না করা হয়, তাহলে জায়েয হবে। কিন্তু সতর্কতা হলো, তাদের ধর্মীয় মেলা থেকে কিছু খরিদ না করা। কেননা ক্রেতাদের দ্বারাও মেলার জৌলুস বৃদ্ধি পায়। আর কাফেরদের মেলার জৌলুস বাড়ানো সঙ্গত নয়। হ্যাঁ, যদি বাণিজ্যিক মেলা হয়, যেমন অনেক জায়গাতে পশু-পাখির বাণিজ্যমেলা বসে, সেখানে যেতে এবং কেনাকাটা করতে সমস্যা নেই। শর্ত হলো নাচ-গান থেকে দূরে থাকতে হবে।” –ইমদাদুল আহকাম: ৭/১৭২; আরা দেখুন: ফাতওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ: ১৬/৩৯৮-৩৯৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/২৬৮-২৭০; আযিযুল ফাতাওয়া, পৃ: ৭১৮; রশিদিয়া, পৃ: ৪৫৫ ও ৪৭১


যফর আহমদ থানভি রহ.এর সময়ে জনৈক হিন্দু তাদের ধর্মীয় প্রথায় স্থানীয় মুসলিদেরকে দাওয়াত করলে, জনৈক মুসলিম এবিষয়ে হযরতের নিকট ফতোয়া তলব করেন। তখন তিনি লিখেন,


مسلمانوں کو اس دعوت میں شریک ہونا جائز نہیں کیونکہ یہ دعوت ہندوؤں کی مذہبی دعوت هے اور كفار كى مذهبى دعوتوں میں شرکت جائز نہیں۔ امداد الاحكام: 7/181


“মুসলমানদের জন্য এই দাওয়াতে শরিক হওয়া জায়েয নেই। কেননা এটা হিন্দুদের ধর্মীয় দাওয়াত। আর কাফেরদের ধর্মীয় দাওয়াতে শরিক হওয়া জায়েয নেই।” –ইমদাদুল আহকাম: ৭/১৮১


আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)


আমার পরিচিত এক ভাই ভারতে অন্যায়ভাবে বন্দী আছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, জেলে পূজা উপলক্ষে বন্দীদেরকে একটু ভালো খাবার, যেমন মাছ, গোশত, ডিম ইত্যাদি দেওয়া হয়। তারা কি সেই খাবার খেতে পারবে?


উল্লেখ্য, ওই দিন অন্য কোনও খাবার দেওয়া হয় না। তবে কেন্টিন খোলা থাকে, কেউ চাইলে কিনে খেতে পারে।আর এটা সম্ভব না হলে দেওয়া খবারই খবে এতে সমস্যা হবে কি না? কেননা এখানে তো আর বিকল্প নাই।


-আবদুল মুমিন


بسم الله الرحمن الرحيم


الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، أما بعد:


আল্লাহ তাআলা ভাইদের মুক্তি ত্বরান্বিত করুন, ধৈর্য ধারণের তাওফীক দান করুন এবং এ কুরবানীর বিনিময়ে আজরে আযীম নসীব করুন। ঈমানের উপর অবিচল রাখুন। আমীন!


জেলে সরবরাহকৃত যেসব খাবার বছরের অন্যান্য সময় খাওয়া জায়েয, সেসব খাবার পূজা উপলক্ষে সরবরাহ করা হলে তখনও খাওয়া জায়েয। পূজা উপলক্ষে সরবরাহ করার কারণে তা নাজায়েয হবে না।


আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে এক নারী সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের কিছু অগ্নিপূজারী প্রতিবেশী আছে, তারা তাদের উৎসবের দিন আমাদেরকে হাদিয়া দেয় (এটার বিধান কী)? তিনি বলেন,


أما ما ذبح لذلك اليوم فلا تأكلوا ، ولكن كلوا من أشجارهم. -المصنف  لابن أبي شيبة، رقم الأثر: 24856، ط. شركة دار القبلة – مؤسسة علوم القرآن


“ওই দিন উপলক্ষে যা জবেহ করা হয়েছে, তা খাবে না, তবে তাদের দেওয়া ফলফলাদি খেতে পারো।” –মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা: ২৪৮৫৬


আবু বারযা আসলামী রাযিয়াল্লাহু আনহুও অনুরূপ কথা বলেছেন। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা:  ২৪৮৫৭


সালাফের এসব বাণী উল্লেখ করার পর শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ (৭২৮ হি.) বলেন,


فهذا كله يدل على أنه لا تأثير للعيد في المنع من قبول هديتهم، بل حكمها في العيد وغيره سواء؛ لأنه ليس في ذلك إعانة لهم على شعائر كفرهم. –اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم (2/ 52)، ط. دار عالم الكتب، بيروت، لبنان


“সালাফের এসব বাণী প্রমাণ করে, তাদের দেওয়া হাদিয়া গ্রহণ করার ক্ষেত্রে উৎসবের নেতিবাচক কোনও ভূমিকা নেই। বরং উৎসব এবং অন্য সময়ের হাদিয়ার বিধান একই। কারণ, এ (হাদিয়া গ্রহণের মাঝে) কুফুরী শিআরে তাদেরকে সহযোগিতা করার মতো কিছু হচ্ছে না।” –ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম: ২/৫২।


বুঝা গেল, ফলফলাদি বা মুশরিকদের অন্য যেসব খাবার মুসলিমদের জন্য অন্য সময় হালাল, তা পূজা উপলক্ষে হাদিয়া প্রদান করলেও হালাল। পূজা উপলক্ষে প্রদান করার কারণে তা নাপাক বা নাজায়েয হবে না। অবশ্য মুশরিকদের জবাইকৃত পশু-পাখির গোশত যেহেতু হালাল নয়, তাই তা খাওয়া জায়েয হবে না; পূজার সময়ও না, অন্য সময়ও না।


ইমাম সারাখসী রহিমাহুল্লাহ (৪৯০ হি.) বলেন,


ولا بأس بطعام المجوس، وأهل الشرك ما خلا الذبائح، فإن النبي – صلى الله عليه وسلم – كان لا يأكل ذبائح المشركين، وكان يأكل ما سوى ذلك من طعامهم، فإنه كان يجيب دعوة بعضهم تأليفا لهم على الإسلام.


ولا بأس بالأكل في أواني المجوس، ولكن غسلها أحب إلي، وأنظف. … ولا بأس بالجبن، وإن كان من صنعة المجوس؛ لما روي أن غلاما لسلمان – رضي الله عنه – أتاه يوم القادسية بسلة فيها جبن، وخبز، وسكين، فجعل يقطع من ذلك الجبن لأصحابه، فيأكلونه، ويخبرهم كيف يصنع الجبن؛ ولأن الجبن بمنزلة اللبن.


ولا بأس بما يجلبه المجوس من اللبن. إنما لا يحل ما يشترط فيه الذكاة إذا كان المباشر له مجوسيا أو مشركا، والذكاة ليست بشرط لتناول اللبن والجبن، فهو نظير سائر الأطعمة والأشربة بخلاف الذبائح. – المبسوط 24/33، ط. دار الكتب العلمية


“যবাইকৃত জন্তু ছাড়া অগ্নিপূজকদের এবং মুশরিকদের অন্য সকল খাবার খাওয়াতে নাজায়েযের কিছু নেই। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুশরিকদের যবাইকৃত জন্তু খেতেন না, অন্যান্য খাবার খেতেন। ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য তিনি তাদের কারও কারও দাওয়াত কবুল করতেন।


… খাবারের জন্য অগ্নিপূজকদের পাত্র ব্যবহার করাতেও নাজায়েযের কিছু নেই। তবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।


… পনির খাওয়াতেও নাজায়েযের কিছু নেই; যদিও তা অগ্নিপূজকদের তৈরিকৃত হয়। বর্ণিত আছে যে, সালমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর এক গোলাম কাদিসিয়ার যুদ্ধের দিন তাঁর কাছে একটি ঝুড়ি নিয়ে আসে, যাতে কিছু পনির, কিছু রুটি এবং সাথে একটি ছুরি ছিলো। তিনি পনির কেটে সবাইকে দিতে লাগলেন, তারা খেতে থাকলেন, আর তিনি তাঁদেরকে বলতে থাকেন, পনির কীভাবে বানানো হয়। তাছাড়া (পনির খাওয়া বৈধ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো) তা দুধের মতোই।


অগ্নিপূজকদের আনীত দুধ খাওয়াতেও নাজায়েযের কিছু নেই। যেটা (খাওয়া বৈধ হওয়ার জন্য) যবাই করা শর্ত, সরাসরি যদি অগ্নিপূজক বা মুশরিক তা যবাই করে, তাহলে তখন তা খাওয়া হালাল নয়। দুধ-পনির বৈধ হওয়ার জন্য যবাই শর্ত নয়। তাই এগুলো অন্যান্য খাবার-পানীয়ের মতোই। কিন্তু যবাইকৃত জন্তু ব্যতিক্রম।” –মাবসূত: ২৪/৩৩


ফাতাওয়া রশীদিয়াতে এসেছে (২/৩০৯),


ہندوؤں کا ہديہ قبول کرنا   


سوال:   ہندو تہوار ہولی ، يا ديوالی ميں اپنے استاذ يا حاکم يا نوکر  کو کھيليں يا  پوری يا  اور کچھ کھا نا  بطور تحفہ بھيجتے ہيں ،ان چيزوں کا لينا اورکھا نا استاذ و حاکم نوکر مسلمان کو درست ہے يا نہيں؟


(1096)

جواب: درست ہے

۔


فتاوی رشيديہ، کتاب جواز وحرمت کےمسائل 2/309، ط۔مکتبہ فقیہ الامت ديوبند


প্রশ্ন:


হিন্দুরা হোলি বা দেওয়ালি উৎসবের দিন তাদের (মুসলমান) উস্তাদ, হাকেম এবং কর্মচারীদের কাছে খই, লূচি কিংবা অন্য কোনও খাবার বস্তু হাদিয়াস্বরূপ পাঠায়। এসব জিনিস নেওয়া এবং খাওয়া মুসলমান উস্তাদ, হাকেম ও কর্মচারীদের জন্য দুরস্ত কি না?


উত্তর: দুরস্ত হবে।” -ফাতাওয়া রশিদিয়া ২/৩০৯


ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দে এসেছে,


سوال : (67)  جو شخص ہولی ديوالی وغيرہ تہوار ہندوؤں کا پکوان وغيرہ کھاوے اور مرغ وغيرہ بکرہ مينڈھا کہ جس کے بارے ميں قرآن شريف ميں ( ما اهل  به لغير الله )ہے اس کا کھاوے ( تو اس کا کھا نا جائز ہے يا نہيں؟) (702/1335)


الجواب: کفار اگراپنے تہوار ديوالی وغيرہ ميں مسلمانوں کو کچھ ہديہ مٹھائی وغيرہ کا حسب رواج ديويں مسلمانوں کو اس کا کھانا درست ہے، يہ امر لائق اعتراض کے نہيں ہے، اور جو جانور بتوں پر چڑھا يا جاوے يا بتوں کے نام پر چھوڑا جاوے وہ (ما اهل  به لغير الله )ہے اس کا کھانا مسلمانوں کو درست نہيں ہے۔


فتاوی  دار العلوم ديوبند، کتاب الحظر والاباحہ16/72،  ناشر۔ مکتبہ دار  العلوم ديوبند


প্রশ্ন: হিন্দুদের হোলি, দেওয়ালি বা অন্য কোনও উৎসবের রান্না করা খাবার বা মিঠাই ইত্যাদি যে মুসলমান খায় এবং (দেবতাদের নামে উৎসর্গকৃত) মোরগ, বকরি-ভেড়া বা অন্য কোনও প্রাণীর গোশত খায়, যেগুলোকে কুরআনে কারীমে ما اهل به لغير الله তথা গায়রুল্লাহর জন্য যবাইকৃত বলা হয়েছে; এগুলো খাওয়া কি জায়েয?


উত্তর: কাফেররা যদি স্বাভাবিক প্রচলন অনুযায়ী তাদের হোলি, দেওয়ালি বা অন্য কোনও উৎসবের দিনে মুসলমানদেরকে মিঠাই ইত্যাদি হাদিয়া দেয়, তাহলে মুসলমানদের জন্য এগুলো খাওয়া জায়েয। এ বিষয়ে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু যে জন্তু মূর্তির নামে উৎসর্গ করা হয় বা মূর্তির নামে আযাদ ছেড়ে দেয়া হয়, সেটা ما اهل به لغير الله তথা গায়রুল্লাহর নামে যবাইকৃতের অন্তর্ভুক্ত। মুসলমানদের জন্য তা খাওয়া জায়েয নয়। -ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ (১৬/৭২)


আরও দেখুন, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ২৭/৬২


এ হচ্ছে পূজা উপলক্ষে প্রদানকৃত হাদিয়া তোহফার বিধান। আর আপনাদের প্রশ্নোক্ত সুরতে যে ভালো খাবার দেওয়া হয়, তা মূলত স্বতন্ত্র কোনও হাদিয়াও নয়; বরং আপনাদের নামে বরাদ্দ খাবারই আপনাদের দেওয়া হচ্ছে। তাই তা খেতে কোনও সমস্যা নেই।


উল্লেখ্য, পূজা উপলক্ষে মুশরিকদের তরফ থেকে কোনও হালাল খাবার প্রদান করলে তা নাপাক বা হারাম নয় ঠিক, কিন্তু পূজা বা বিধর্মীদের অন্য কোনও ধর্মীয় উৎসবে শরীক হওয়া হারাম। এমনিভাবে এসব উপলক্ষে কোনও বিধর্মী বা মুসলিমকে হাদিয়া প্রদান করাও মুসলিমের জন্য হারাম, বরং ক্ষেত্র বিশেষে তা কুফর পর্যন্ত গড়াতে পারে। কাজেই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। দেখুন, তাবয়ীনুল হাকায়িক: ৬/২২৮, রদ্দুল মুহতার: ৬/৭৫৪-৭৫৫


فقط، والله تعالى أعلم بالصواب


আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...