4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: জামায়াতের কেরামতি > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫

জামায়াতের কেরামতি

 


কুমিল্লা–৭ (চান্দিনা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর ক্যান্ডিডেট দেওয়া নিয়ে যে নোংরামির ইতিহাস জানতে পারলাম গতকাল, তাতে আমি মোটেও বিস্মিত হইনি। ওই আসনের প্রায় অধিকাংশ রুকনের ভোটাভুটিতে নিরঙ্কুশ সমর্থন পেয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকেরুল্লাহ। কিন্তু কোনো অজানা কারণে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা না করে প্রার্থী করা হয় অন্য একজনকে। 


পরবর্তীতে সকল রুকন ঐক্যবদ্ধভাবে বিষয়টা নিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের কাছে সঠিক ব্যাখ্যা দাবি করে। কিন্তু তারা বারংবার আনুগত্যের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যেতে থাকে এবং বাড়াবাড়ি করলে রুকনিয়াত বাতিলের হুমকি দেখায়। চান্দিনা উপজেলার নেতাকর্মীদের চাপের মুখে পুনর্বার ভোটাভুটি হলে আবারও একই নাম আসে– ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকেরুল্লাহ। কিন্তু জেলা নেতৃবৃন্দের পূর্বে সিলেক্ট করা প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করতে বলা হয় সকলকে। 


বেশ কিছুদিন আগে বরিশাল বিভাগের একটি জেলা শাখার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা আমাকে ফোনে আক্ষেপ করে বলেন, 'ভাই! আমরা দুই উপজেলার অধিকাংশ রুকন যাকে ভোট দিলাম, তিনি ক্যান্ডিডেট হলেন না। নাম ঘোষণা করা হলো অন্য একজনের। এতগুলো মানুষের মতামতকে অবজ্ঞা করা হলো! তাহলে ভোট নেওয়ার দরকার কি ছিল?' এই প্রশ্নটা কি ভ্যালিড নয়– 'তাহলে ভোট নেওয়ার দরকার কি ছিল?' দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড কিংবা বিশেষ বিশেষ নেতাই যদি মনোনয়ন ঠিক করেন, তাহলে ভোটের নাটক করার তো দরকার নাই!


আমরা যখন এ সকল অন্যায্যতা নিয়ে কথা বলি, তখন নেতারা ফোন করে বলেন– 'এসব নিয়ে লেখালেখি বন্ধ করো।' কিন্তু নেতারা এই অন্যায্যতাগুলো বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নিতে পারেন না। বাপের বেটার মতো ঘোষণা করতে পারেন না– 'সংসদীয় আসনের অধিকাংশ নেতাকর্মী যাকে চাইবে, সে-ই এখানে প্রার্থী হবার সবচেয়ে বড়ো হকদার।' আর কতক গণ্ডমূর্খ কর্মী 'হা রে রে' করে উঠবে– 'এই লেখক কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে নেমেছে?' যেন জামায়াতে ইসলামীতে কোনো অন্যায্যতা নাই, বদমায়েশী নাই! ধোয়া তুলসীপাতা। 


আল্লাহর কসম! আমরা লেখালেখি বন্ধ করব না, যতক্ষণ না এরা এসব কোরামবাজি বন্ধ করে। আমরা ওপেন লেখালেখি করলে যদি পাপ হয়; তাহলে শহীদের লহুমাখা কাফেলা নিয়ে এসব সিন্ডিকেট, কোরামবাজি আরও বড়ো পাপ। আপনারা ওই পাপ করা ছেড়ে দেন, সাথে সাথে আমরাও ছেড়ে দেবো। এই আন্দোলনে নারী কেলেঙ্কারি, অর্থ কেলেঙ্কারিতে একাধিকবার রুকনিয়াত বাতিল হওয়া নেতাকেও এমপি ক্যান্ডিডেট হইতে দেখেছি। এতে দোষ হয় না, দলের জাত যায় না; আমরা লিখলেই জাত চলে যায়!


আপাদমস্তক বেনামাজি, দুর্নীতিবাজ লোককেও চেয়ারম্যান ক্যান্ডিডেট বানাতে দেখেছি। নেতাকর্মীদের রুকনিয়াত বাতিলের হুমকি দেখিয়ে তার পক্ষে ভোট চাইতে বলা হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর যখন জনগণ দেখেছে– জামায়াতের চেয়ারম্যান নামাজই পড়ে না, তখন তারা ভোট চাওয়া নেতাকর্মীদের ধরেছে। তাদের আর মাথা নিচু করে থাকা ছাড়া উপায় কী? চেয়ারম্যান আবার ঊর্ধ্বতন নেতাদের বিশেষ পেয়ারের পাত্র, সিন্ডিকেটের লোক! তার নামাজ না পড়লেও, অবৈধ পয়সা নিলেও অসুবিধা হয় না। 


আল্লাহর কসম! আমরা লেখালেখি বন্ধ করব না। আমাদের কোনো পদ-পদবি নেই যে, হারানোর আতঙ্ক থাকবে। ভবিষ্যতে আমাদের কোনো পদ-পদবি কিংবা নমিনেশন বাগানোর খায়েশ নেই যে, কাউকে তেল মেখে চলতে হবে। যাদের হারানোর কিছু নেই, তাদের কোনোদিন হারানো যায় না। হয় ওরা সংশোধিত হবে, নয়তো আমাদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এর বিকল্প কোনো অপশন নেই। আমরা আওয়ামী লীগ-বিএনপির নোংরামি নিয়ে যেমন চুপ থাকি না, জামায়াতের নোংরামি নিয়েও চুপ থাকব না। অসৎ নেতৃত্বের উৎখাতই ইসলামী আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য, সেটা যদি নিজ দলেরও হয়।


'আসন সমাচার–১৯'/ লাবিব আহসান

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...