হ্যাঁ,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কথাই বলছি,আর শিরোনামে যা বলছি তা সত্যই বলছি, পড়ে দেখুন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান জামায়াতের অংশ, যার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা মওদূদী রাহি:। তাঁর বাড়িও ভারতেই ছিলো। সে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগের সাথে দ্বিমত পোষন করেন দ্বিজাতিতত্ত্ব নিয়ে। অর্থাদ ভারত ভেঙ্গে মুসলমানদের জন্য আলাদা দেশ তৈরীর বিরোধীতা করে বসেন এবং একই সাথে পাকিস্তান জন্মেরও বিরোধিতা করেন,পরে তিনও তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পাকিস্তান আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহন করে নিখিল পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী গঠন করে।সে কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষনার কারনে পাকিস্তানে রায়টে অনেক কাদিয়ানী নিহত হয় এবং এর দোষ গিয়ে পড়ে মাওলানা মওদূদীর উপর।মাওলানা মওদূদীর পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা যে ভুল ছিলো তা পরে বুঝতে পেরেছিলো। এই একই ভুল আবারও তারা ১৯৭১ সালে করে বসে বাংলাদেশ স্বাধীনতার যুদ্ধে, তারা বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে,এর পেছনেও তারা ভারতের প্রভাবের কথা বলে থাকে,কিন্তু পাকিস্তান জন্মের যে বিরোধিতা করেছিলো তার কোনো কারন তো তারা বলতে পারে না, এতে বুঝা যায় ভালো কিছুর বিরোধিতা করাই তাদের আদর্শ।
আদত কথা হলো জামায়াত এমন একটা দল যারা বৃহৎ শক্তির পা চাটতে প্রফুল্য বোধ করে,তাই তারা প্রথমে বৃটিশ ভারতের মত বৃহৎ শক্তির পা চাটা বন্ধ করতে অস্বীকার করে এবং পরে তারা পাকিস্তানের মত আরে বৃহৎ শক্তির পা চাটা ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করে।এখন বাংলাদেশ জামায়াত আমেরিকার পা চাটছে একক ক্ষমতায় যেতে বাংলাদেশের মসনদে।
যাই হোক এই জামায়াতের যারা বা যেসব নেতা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ জন্মের বিরোধিতা করে তখনকার অনেক পূর্বপাকিস্তানের জামায়াত নেতা পাকিস্তান চলে যায়।স্বভাবতই তারা যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম চায় নি, স্বাধীনতার পর পাকিস্তান গেছে বরং তারা তাদের আদর্শের উপর অটল থেকেছে, কোনো ক্ষমা প্রার্থনা জাতির কাছে চায় নি।
কিন্তু বাংলাদেশে মেজর জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গনতন্ত্র চালু করার পর স্বাধীন বাংলাদেশের সকল দল রাজনীতিতে সক্রিয় হয় এবং এই ফাঁকে জামায়াতও সক্রিয় হয় কিন্তু জাতির কাছে ক্ষমা চায় নি। এখানে একটা রাজনৈতিক লজ্জার বিষয় হলো তারা যে বাংলাদেশের জন্ম চায় নি সে বাংলাদেশেই কিভাবে রাজনীতি করতে রাজি হলো,এতেই প্রমান হয় তারা তাদের কথার উপর মোটেও অটল থাকে না,বরং সৃয়ে সময়ে রং বদলায়, এরা নির্লজ্জ।১৯৭৭ সালে মেজর জিয়ার ঘোষনার পর জামায়াত স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি শুরু করে ১৯৮৬সালে৷৯ বছরের মাথায়ই তাদের চির শত্রু আওয়ামিলীগ এর সাথে হাত মিলিয়ে জাতির সাথে করা শপথ ভঙ্গ করে টাকার বস্তার বিনিময়ে এরশাদের পাঁতানো নির্বাচনে অংগ্রহন করে স্বৈরাচার এরশাদকে বৈধতা দিয়ে বসে শুধু মাত্র নিজের স্বার্থে। ওমা!! যে জামায়াত বৈধতা দিয়ে যে এরশাদকে ১৯৮৬ সালে ক্ষমতা বসালো সে এরশাদকেই রাজনৈতিক ভাগাভাগির অসামঞ্জস্যতার কারনে এরশাদের সাথে বেঈমানী করে বসে ১৯৯০ সালে মাত্র ৪ বছরের মাথায় এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়। কি আশ্চর্য রাজনীতি শুরু ১০ বছরের মাথায় দুটি রাজনৈতিক সঙ্গীকে ল্যাঙ্গ মেরে বসে।
তার এক বছর পরই ১৯৯০ সালে একই জামায়াত আওয়ামিলীগ ছেড়ে বিএনপির সাথে বেঈমানী করে আওয়ামিলীগকে বাদ রেখে সংসদে চলে গেলো। আবার দেখেন ১৯৯১ সালের পর মাত্র ৫ বছর বিএনপির সাথে বেঈমানী করে আওয়ামিলীগ এর সাথে হাত করে সংবিধানে নাই এমন এক তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়ে বসলো জামায়াত। যথারিতি বিএনপিকে সরিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে আওয়ামিলীগ এর সঙ্গী হয়ে আবারো আসলো ক্ষমতা,কি সুন্দর পল্টিবাজ এই দল জামায়াত।
তার পর আবারো আওয়ামিলীগ এর সাথে গাদ্দারি করে ২০০১ সালে জামায়াত বিএনপির সাথে জোট করে ক্ষমতায় যায় জামায়ত।জামায়াত ৫ বছর জোটে ক্ষমতায় থাকলো কিন্তু তৎকালীন সরকারের কোনো ব্যর্থতার দায় তারা নিতে রাজি নয়।
১৯৯১ সালে সংসদে গেলো কিন্তু কোরআনের আইনের বিষয়ে কোনো বিল তারা সংসদে আনে নি বরং ২০০১ সালে সংসদের এসেও তারা বাংলাদেশে ইসলামি আইন জারির কোনো বিল তারা সংসদে উপস্থাপন করে নি,জানি এই বিল পাশ হওয়ার কথা না, বিলতো উপস্থাপন করতে সমস্যা ছিলো না, না কি?বরং বিএনপি সরকারের মদের লাইসেন্স দেওয়ার সংসদে থেকে নিজেরা শরীয়া বিরোধী আইনের নিরব দর্শক হলো, বিরোধিতাও করে নি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তাদের বিল আনার মত সংসদ সদস্য না থাকার কারনে বিল আনতে পারে নি এটা না হয় বুঝলাম, বাকি দুই টার্ম? কাদিয়ানীরা মুসলমান নয় এই বিলটিও আনে নি। আমার প্রশ্ন কেনো আনে নি?
এবার দেখেন বর্তমান প্রেক্ষাপট, ২০০৬ সালে ২৮শে অক্টোবর লগি-বইঠা কান্ডে একজন ইসকন সদস্য ছিলো যার কারনে জামায়াত তাদের রক্তের সাথে বেঈৃানী করে ২৮শে অক্টোবরের শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করে এদের বিচারের বিষয়ে চুপ,কারন হিন্দুদের ভোট লাগবে, আগামী নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় যাবে। শুধু তাই নয়, ইসলামী দল নাম নিয়ে তারা পূজায় শুভেচ্ছা জানানো,পূজায় যাওয়া, প্রসাদ খাওয়া, মন্ত্র পড়া কি করে নি? শুয়োরের মাংশ খাইছে কিনা তারাই জানে।
তাদের দলের রোকন ছিলো এডভোকেট আলিফ, আলিফকে প্রকাশ্যে হত্যা করলো ইসকনীরা,অথচ তার বিচারের বিষয়ে তারা নিরব বরং বর্তমান ইসকন সংকট নিয়ে একটা বতক্তব্য দিতেও নারাজ কারন ভোট লাগবে হিন্দুদের আর সমর্থন লাগবে মুসলমানদের শত্রু ভারতের। এই জামায়াত এমন ইসলামি দল যার নায়েবে আমির শরিয়াহ আইনের জারী করবে না মর্মে বিবিসিতে স্বাক্ষাৎকার দিয়েছে বরং শরিয়া আইনের কথা শোনে মনে হয় আকাশ হতে পড়েছে।আমার তো গান গাইতে ইচ্ছে হচ্ছে যে পূজায় গেলি প্রসাদ খাইলি আর কি রাখলি বাকী, এবার কি তোদের দিবে রে ভোট হিন্দু দাদা বৌদি?
এদের রক্তের সাথে বেঈমানী মিশে আছে, এরা শুধু, রাজনৈতিক সঙ্গী কিংবা জাতির সাথেই গাদ্দারি করে না, সময়ে তারা নিজ দলের রক্তের সাথেও বেঈমানী করে। আজকে আবার দেখলাম জামায়ত সেক্রেটারি নতুন ডায়লগ দিয়েছে ইসলামি ব্যাংক আর ইবনে সিনার সাথে তাদের নাকি কোনো সম্পর্ক নাই, আর কত লোক হাসাবে জামায়ত?
ডা.শফিকও এক কালের নাস্তিক আবার গোলাম পারওয়ারও এক কালের নাস্তিক, এই দুই নাস্তিক দিয়ে কি ইসলামি দল চলবে? কথায় আছে নাস্তিক কখনো আস্তিক হয় না, আতিকতার ভান ধরে। ওটাও হয়তো ভান ধরে আছে। এদের বিষয়ে সবাইকে সাবধান করা সবার জরুরী।কেননা তারা রক্তের সাথে বেঈমানীর স্বভাব ছাড়তে পারবে না।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ