4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: অক্টোবর 2025 > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫

হৃদয় পাগলের আত্ম কাহিনী এবং মি. ইবলিশের স্বাস্থ্যহানী

ইবলিশের ডায়াবেটিস

  

ঘটনাটা ২০২১ সালের ঈদুল আজহার পরের দিন। আমি এবং আমাদের চাচাত ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে দুষ্টু রশিক জাকির ভাই সহ অনেকে ঈদের পরের দিন আমার গ্রামের দৈনিক বাজারে বসে সবার সাথে কৌশল বিনিময় করছিলাম। একে একে যারাই আসছে সবার সাথে হ্যান্ডসেক করে ভাব বিনিময় করছি কিন্তু করুনার ভয়ে কোলাকুলি করছিলাম না। এক পর্যায় পাশ দিয়ে আমার এক ভাতিজা, বয়সে আমার বড় নাম হৃদয় পাগলা আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, আমি ডাকলাম কি চাচা কেমন আছ? দাঁড়াও কথা আছে, আমার উদ্দেশ্য হল বেশ অনেক বছর পর এই ভাতিজাকে দেখতে পেলাম, কেমন আছে, কি করে জানব। কিন্তু ভাতিজা আমার কথা শুনে ভাল আছি বলে দ্রুত চলে গেল, দেখে তাড়া আছে মনে করে তাকে আর ডাকলাম না।

 

ওহে! এই হৃদয় পাগলের পরিচয়টা একটু বর্ননা না করলে পাঠকগন ঘটনা প্রবাহ বুঝতে কঠিন হবে। তাই বলছি, হৃদয় পাগলার আসল নাম গিয়াস উদ্দিন, বয়সে আমার তিন বছরের বড়, কিন্তু পরীক্ষায় ফেল করতে করতে ৫ম শ্রেনীতে গিয়ে আমার সমান হয়ে যায়। ঐ ক্লাসেই গিয়াস কাকার আমার সাথে খুব ভাল সম্পর্ক হয়। উনি বড় কিন্তু আমি উনাকে কাকু ডাকলেও উনিও আমার সম্পর্কে ভাতিজা বিধায় আমাকেও কাকু বলে ডাকত। বার্ষিক পরীক্ষার সময় আমার সাথে উনার সীট পড়ল, গিয়াস খুব খুশী,  আমার খাতা কপি করে করে পরীক্ষা দিল, ফেল করা ছাত্র হঠাৎ রেজাল্টের সময় ৫ম হয়ে গেল, আর আমি হলাম তৃতীয়। একই হাইস্কুলে একসাথে ভার্তি হলাম। সম্পর্ক খুবই গভীর হল। প্রায় রাতেই আমাদের ঘরে থাকত।

 

হঠাৎ কিছুদিন পর গিয়াসের মা মারা গেল, সে পড়াশোনা ছেড়ে কোথায় যে চলে গেল আর দেখা হল না। পরে জানতে পারলাম এক সময় তার সৎ মা তাকে বাড়ি হতে বের করে দিয়েছে, পরে সে নেশার জগতে জড়িয়ে গেছে। এক সময় সবাই তাকে হৃদয় পাগল নাম বসিয়ে দেয়।

 

যাকগে, ঐদিন চলে গেল কথা বলতে পারলাম না, পরের দিন সকালে যথা রীতি সে একই রাস্তায় যাচ্ছিল আর আমি তাকে ডাকলাম, সে বল্ল তাড়া আছে,  তার নাকি কোন বস অসুস্থ, সুগার বাড়ছে, ইনস্যুলিন আনতে যাচ্ছে।

 

একই দিনই বিকেল বেলা যথারীতি আমি আগের জায়গায় দাড়িয়ে ছিলাম জাকির ভাইকে নিয়ে আর হৃদয় একই পথে যাচ্ছিল, ডাকলাম কাকু দাঁড়াও, কেমন আছ? চা খেয়ে যাও। সে আবারও তাড়া দেখাচ্ছে কিন্তু দুষ্টু জাকির ভাই নাছর বান্দা, আজ তাকে ধরবেই। তৎক্ষনাৎ হৃদয় পাগলার মাথার গামছাটা খুলে একটা চলতি সিএনজির পেছনে আটকে দেয় আর চলমান সিএনজি ওটা নিয়ে চলে যায় আর শার্টটা খুলে গাছের উপর ছুড়ে মেরে মগ ডালে ঝুলিয়ে দেয়। ব্যাস আর যায় কই শুধু পরনে একটা লুঙ্গি। এখানে আরো অনেক হাসির কান্ড ঘটেছিল তা আর নাই বললাম। অবশেষে সে বসল, এক কাপ চা দিলাম, সে নিজেই একটা সিগারেট নিয়ে চা খাচ্ছে আর সিগারেট টানছে। জাকির ভাই জানতে চাইলো বার বার ডাকি দাঁড়াসনা কেনো? একই উত্তর বসের সুগার বাড়ছে ইনস্যুলিন আনতে যাওয়া লাগে। এবার আমি জিজ্ঞাস করলাম তোমার বস কে আর কেনই সুগার বাড়ছে?

 

এবার সে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলা শুরু করল। আমার বসের হায়াত কয়েক লক্ষ্য বছর, আর প্রায় ত্রিশ হাজার বছরের বেশি সময় যাবত নিজের কাজে অনেক পরিশ্রম করতাছে আর হাজার হাজার মুরীদ বানাইছে। জাকির ভাই ধমক দিয়ে বলল ফাজলামী করার জায়গা পাস না, দাঁড়া তোর মাথায় পানি দিতাছি, মাথা ঠান্ডা কইরা ক। আমি জাকির ভাইকে থামালাম। হৃদয় বলল যে, পানি দিলে কি সত্যটা মিথ্যা অইয়া যাইব? দেখতে দেখতে অনেক লোক জমে গেল। আমি হৃদয়কে অভয় দিয়ে বর্ননা করতে অনুরোধ করলাম। তখন আবার শুরু করে, বস্ জীবনে অনেক পরিশ্রম করছে। কিন্তু পরিশ্রম করে নিজের কাজের পাশাপাশি কিছু মুরীদ বানাইছে সারা দুনিয়া ব্যাপী যেই মুরীদরা বসের চেয়েও আরো কর্র্মঠ ও পরিশ্রমী। তাই বস আর এখন তেমন কাজ করা লাগে না, বসে বসে শুধু সারগেদ দের কাজ দেখে আর হাসে, মাঝে মাঝে আশ্চর্যও হয়। আমি বললাম  আশ্চর্য হয় কেনো?  সে বলে বসের সারগেদরা মাঝে মাঝে এমন কাজ করে বসে যে বস্ নিজেও এমন কাজ পারে না বা জানতও না। এই ভাবে বইসা থাকতে থাকতে বসের স্বাস্থ্য মোটা হয়ে ডায়াবেটিস হইয়া সুগার বাইড়া স্বাস্থ্যহানী হইয়া গেছে। 

 

জাকির ভাই বলে তোর বসটা কেডা তার নামতো কইলি না? নাম ক, নাইলে তোরে পানিতে ফেলব। হৃদয় বলে আমার বসের নাম মি. ইবলিশ। আর ইবলিশের সারগেদ হইলি তোরা। তোরা এমন এমন খারাপ কাজ করছ শয়তান আর কিছু করা লাগে না, বরং শয়তান বইসা বইসা দেখে আর হাসে। শয়তান বসে থেকে থেকে এই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হইয়া অসুস্থ হইছে। একথা শুনে উপস্থিত সবাই হুহু করে হেসে উঠে, আর আমার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।

 

মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫

রক্তের সাথে বেঈমানীর অভ্যাস ছাড়তে পারবে না জামায়াত?


 হ্যাঁ,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কথাই বলছি,আর শিরোনামে যা বলছি তা সত্যই বলছি, পড়ে দেখুন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান জামায়াতের অংশ, যার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা মওদূদী রাহি:। তাঁর বাড়িও ভারতেই ছিলো। সে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগের সাথে দ্বিমত পোষন করেন দ্বিজাতিতত্ত্ব নিয়ে। অর্থাদ ভারত ভেঙ্গে মুসলমানদের জন্য আলাদা দেশ তৈরীর বিরোধীতা করে বসেন এবং একই সাথে পাকিস্তান জন্মেরও বিরোধিতা করেন,পরে তিনও তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পাকিস্তান আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহন করে নিখিল পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী গঠন করে।সে কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষনার কারনে পাকিস্তানে রায়টে অনেক কাদিয়ানী নিহত হয় এবং এর দোষ গিয়ে পড়ে মাওলানা মওদূদীর উপর।মাওলানা মওদূদীর পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা যে ভুল ছিলো তা পরে বুঝতে পেরেছিলো। এই একই ভুল আবারও তারা ১৯৭১ সালে করে বসে বাংলাদেশ স্বাধীনতার যুদ্ধে, তারা বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে,এর পেছনেও তারা ভারতের প্রভাবের কথা বলে থাকে,কিন্তু পাকিস্তান জন্মের যে বিরোধিতা করেছিলো তার কোনো কারন তো তারা বলতে পারে না, এতে বুঝা যায় ভালো কিছুর বিরোধিতা করাই তাদের আদর্শ। 


আদত কথা হলো জামায়াত এমন একটা দল যারা বৃহৎ শক্তির পা চাটতে প্রফুল্য বোধ করে,তাই তারা প্রথমে বৃটিশ ভারতের মত বৃহৎ শক্তির পা চাটা বন্ধ করতে অস্বীকার করে এবং পরে তারা পাকিস্তানের মত আরে বৃহৎ শক্তির পা চাটা ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করে।এখন বাংলাদেশ জামায়াত আমেরিকার পা চাটছে একক ক্ষমতায় যেতে বাংলাদেশের মসনদে।

যাই হোক এই জামায়াতের যারা বা যেসব নেতা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ জন্মের বিরোধিতা করে তখনকার অনেক পূর্বপাকিস্তানের জামায়াত নেতা পাকিস্তান চলে যায়।স্বভাবতই তারা যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম চায় নি, স্বাধীনতার পর পাকিস্তান গেছে বরং তারা তাদের আদর্শের উপর অটল থেকেছে, কোনো ক্ষমা প্রার্থনা জাতির কাছে চায় নি।

কিন্তু বাংলাদেশে মেজর জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গনতন্ত্র চালু করার পর স্বাধীন বাংলাদেশের সকল দল রাজনীতিতে সক্রিয় হয় এবং এই ফাঁকে জামায়াতও সক্রিয় হয় কিন্তু জাতির কাছে ক্ষমা চায় নি। এখানে একটা রাজনৈতিক লজ্জার বিষয় হলো তারা যে বাংলাদেশের জন্ম চায় নি সে বাংলাদেশেই কিভাবে রাজনীতি করতে রাজি হলো,এতেই প্রমান হয় তারা তাদের কথার উপর মোটেও অটল থাকে না,বরং সৃয়ে সময়ে রং বদলায়, এরা নির্লজ্জ।১৯৭৭ সালে মেজর জিয়ার ঘোষনার পর জামায়াত স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি শুরু করে ১৯৮৬সালে৷৯ বছরের মাথায়ই তাদের চির শত্রু আওয়ামিলীগ এর সাথে হাত মিলিয়ে জাতির সাথে করা শপথ ভঙ্গ করে টাকার বস্তার বিনিময়ে এরশাদের পাঁতানো নির্বাচনে অংগ্রহন করে স্বৈরাচার এরশাদকে বৈধতা দিয়ে বসে শুধু মাত্র নিজের স্বার্থে।  ওমা!! যে জামায়াত বৈধতা দিয়ে যে এরশাদকে ১৯৮৬ সালে ক্ষমতা বসালো সে এরশাদকেই রাজনৈতিক ভাগাভাগির অসামঞ্জস্যতার কারনে এরশাদের সাথে বেঈমানী করে বসে ১৯৯০ সালে মাত্র ৪ বছরের মাথায় এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়। কি আশ্চর্য রাজনীতি শুরু ১০ বছরের মাথায় দুটি রাজনৈতিক সঙ্গীকে ল্যাঙ্গ মেরে বসে।

তার এক বছর পরই ১৯৯০ সালে একই জামায়াত আওয়ামিলীগ ছেড়ে বিএনপির সাথে বেঈমানী করে আওয়ামিলীগকে বাদ রেখে সংসদে চলে গেলো। আবার দেখেন ১৯৯১ সালের পর মাত্র ৫ বছর বিএনপির সাথে বেঈমানী করে আওয়ামিলীগ এর সাথে হাত করে সংবিধানে নাই এমন এক তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়ে বসলো জামায়াত। যথারিতি বিএনপিকে সরিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে আওয়ামিলীগ এর সঙ্গী হয়ে আবারো আসলো ক্ষমতা,কি সুন্দর পল্টিবাজ এই দল জামায়াত।

তার পর আবারো আওয়ামিলীগ এর সাথে গাদ্দারি করে ২০০১ সালে জামায়াত বিএনপির সাথে জোট করে ক্ষমতায় যায় জামায়ত।জামায়াত ৫ বছর জোটে ক্ষমতায় থাকলো কিন্তু তৎকালীন সরকারের কোনো ব্যর্থতার দায় তারা নিতে রাজি নয়। 

১৯৯১ সালে সংসদে গেলো কিন্তু কোরআনের আইনের বিষয়ে কোনো বিল তারা সংসদে আনে নি বরং ২০০১ সালে সংসদের এসেও তারা বাংলাদেশে ইসলামি আইন জারির কোনো বিল তারা সংসদে উপস্থাপন করে নি,জানি এই বিল পাশ হওয়ার কথা না, বিলতো উপস্থাপন করতে সমস্যা ছিলো না, না কি?বরং বিএনপি সরকারের মদের লাইসেন্স দেওয়ার সংসদে থেকে নিজেরা শরীয়া বিরোধী আইনের নিরব দর্শক হলো, বিরোধিতাও করে নি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তাদের বিল আনার মত সংসদ সদস্য না থাকার কারনে বিল আনতে পারে নি এটা না হয় বুঝলাম, বাকি দুই টার্ম? কাদিয়ানীরা মুসলমান নয় এই বিলটিও আনে নি। আমার প্রশ্ন কেনো আনে নি?

এবার দেখেন বর্তমান প্রেক্ষাপট, ২০০৬ সালে ২৮শে অক্টোবর লগি-বইঠা কান্ডে একজন ইসকন সদস্য ছিলো যার কারনে জামায়াত তাদের রক্তের সাথে বেঈৃানী করে ২৮শে অক্টোবরের শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করে এদের বিচারের বিষয়ে চুপ,কারন হিন্দুদের ভোট লাগবে, আগামী নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় যাবে। শুধু তাই নয়, ইসলামী দল নাম নিয়ে তারা পূজায় শুভেচ্ছা জানানো,পূজায় যাওয়া, প্রসাদ খাওয়া, মন্ত্র পড়া কি করে নি? শুয়োরের মাংশ খাইছে কিনা তারাই জানে।

তাদের দলের রোকন ছিলো এডভোকেট আলিফ, আলিফকে প্রকাশ্যে হত্যা করলো ইসকনীরা,অথচ তার বিচারের বিষয়ে তারা নিরব বরং বর্তমান ইসকন সংকট নিয়ে একটা বতক্তব্য দিতেও নারাজ কারন ভোট লাগবে হিন্দুদের আর সমর্থন লাগবে মুসলমানদের শত্রু ভারতের। এই জামায়াত এমন ইসলামি দল যার নায়েবে আমির শরিয়াহ আইনের জারী করবে না মর্মে বিবিসিতে স্বাক্ষাৎকার দিয়েছে বরং শরিয়া আইনের কথা শোনে মনে হয় আকাশ হতে পড়েছে।আমার তো গান গাইতে ইচ্ছে হচ্ছে যে পূজায় গেলি প্রসাদ খাইলি আর কি রাখলি বাকী, এবার কি তোদের দিবে রে ভোট হিন্দু দাদা বৌদি?

এদের রক্তের সাথে বেঈমানী মিশে আছে, এরা শুধু, রাজনৈতিক সঙ্গী কিংবা জাতির সাথেই গাদ্দারি করে না, সময়ে তারা নিজ দলের রক্তের সাথেও বেঈমানী করে। আজকে আবার দেখলাম জামায়ত সেক্রেটারি নতুন ডায়লগ দিয়েছে ইসলামি ব্যাংক আর ইবনে সিনার সাথে তাদের নাকি কোনো সম্পর্ক নাই, আর কত লোক হাসাবে জামায়ত?

ডা.শফিকও এক কালের নাস্তিক আবার গোলাম পারওয়ারও এক কালের নাস্তিক, এই দুই নাস্তিক দিয়ে কি ইসলামি দল চলবে? কথায় আছে নাস্তিক কখনো আস্তিক হয় না, আতিকতার ভান ধরে। ওটাও হয়তো ভান ধরে আছে। এদের বিষয়ে সবাইকে সাবধান করা সবার জরুরী।কেননা তারা রক্তের সাথে বেঈমানীর স্বভাব ছাড়তে পারবে না।


সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫

জামায়াতের কেরামতি

 


কুমিল্লা–৭ (চান্দিনা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর ক্যান্ডিডেট দেওয়া নিয়ে যে নোংরামির ইতিহাস জানতে পারলাম গতকাল, তাতে আমি মোটেও বিস্মিত হইনি। ওই আসনের প্রায় অধিকাংশ রুকনের ভোটাভুটিতে নিরঙ্কুশ সমর্থন পেয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকেরুল্লাহ। কিন্তু কোনো অজানা কারণে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা না করে প্রার্থী করা হয় অন্য একজনকে। 


পরবর্তীতে সকল রুকন ঐক্যবদ্ধভাবে বিষয়টা নিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের কাছে সঠিক ব্যাখ্যা দাবি করে। কিন্তু তারা বারংবার আনুগত্যের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যেতে থাকে এবং বাড়াবাড়ি করলে রুকনিয়াত বাতিলের হুমকি দেখায়। চান্দিনা উপজেলার নেতাকর্মীদের চাপের মুখে পুনর্বার ভোটাভুটি হলে আবারও একই নাম আসে– ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকেরুল্লাহ। কিন্তু জেলা নেতৃবৃন্দের পূর্বে সিলেক্ট করা প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করতে বলা হয় সকলকে। 


বেশ কিছুদিন আগে বরিশাল বিভাগের একটি জেলা শাখার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা আমাকে ফোনে আক্ষেপ করে বলেন, 'ভাই! আমরা দুই উপজেলার অধিকাংশ রুকন যাকে ভোট দিলাম, তিনি ক্যান্ডিডেট হলেন না। নাম ঘোষণা করা হলো অন্য একজনের। এতগুলো মানুষের মতামতকে অবজ্ঞা করা হলো! তাহলে ভোট নেওয়ার দরকার কি ছিল?' এই প্রশ্নটা কি ভ্যালিড নয়– 'তাহলে ভোট নেওয়ার দরকার কি ছিল?' দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড কিংবা বিশেষ বিশেষ নেতাই যদি মনোনয়ন ঠিক করেন, তাহলে ভোটের নাটক করার তো দরকার নাই!


আমরা যখন এ সকল অন্যায্যতা নিয়ে কথা বলি, তখন নেতারা ফোন করে বলেন– 'এসব নিয়ে লেখালেখি বন্ধ করো।' কিন্তু নেতারা এই অন্যায্যতাগুলো বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নিতে পারেন না। বাপের বেটার মতো ঘোষণা করতে পারেন না– 'সংসদীয় আসনের অধিকাংশ নেতাকর্মী যাকে চাইবে, সে-ই এখানে প্রার্থী হবার সবচেয়ে বড়ো হকদার।' আর কতক গণ্ডমূর্খ কর্মী 'হা রে রে' করে উঠবে– 'এই লেখক কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে নেমেছে?' যেন জামায়াতে ইসলামীতে কোনো অন্যায্যতা নাই, বদমায়েশী নাই! ধোয়া তুলসীপাতা। 


আল্লাহর কসম! আমরা লেখালেখি বন্ধ করব না, যতক্ষণ না এরা এসব কোরামবাজি বন্ধ করে। আমরা ওপেন লেখালেখি করলে যদি পাপ হয়; তাহলে শহীদের লহুমাখা কাফেলা নিয়ে এসব সিন্ডিকেট, কোরামবাজি আরও বড়ো পাপ। আপনারা ওই পাপ করা ছেড়ে দেন, সাথে সাথে আমরাও ছেড়ে দেবো। এই আন্দোলনে নারী কেলেঙ্কারি, অর্থ কেলেঙ্কারিতে একাধিকবার রুকনিয়াত বাতিল হওয়া নেতাকেও এমপি ক্যান্ডিডেট হইতে দেখেছি। এতে দোষ হয় না, দলের জাত যায় না; আমরা লিখলেই জাত চলে যায়!


আপাদমস্তক বেনামাজি, দুর্নীতিবাজ লোককেও চেয়ারম্যান ক্যান্ডিডেট বানাতে দেখেছি। নেতাকর্মীদের রুকনিয়াত বাতিলের হুমকি দেখিয়ে তার পক্ষে ভোট চাইতে বলা হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর যখন জনগণ দেখেছে– জামায়াতের চেয়ারম্যান নামাজই পড়ে না, তখন তারা ভোট চাওয়া নেতাকর্মীদের ধরেছে। তাদের আর মাথা নিচু করে থাকা ছাড়া উপায় কী? চেয়ারম্যান আবার ঊর্ধ্বতন নেতাদের বিশেষ পেয়ারের পাত্র, সিন্ডিকেটের লোক! তার নামাজ না পড়লেও, অবৈধ পয়সা নিলেও অসুবিধা হয় না। 


আল্লাহর কসম! আমরা লেখালেখি বন্ধ করব না। আমাদের কোনো পদ-পদবি নেই যে, হারানোর আতঙ্ক থাকবে। ভবিষ্যতে আমাদের কোনো পদ-পদবি কিংবা নমিনেশন বাগানোর খায়েশ নেই যে, কাউকে তেল মেখে চলতে হবে। যাদের হারানোর কিছু নেই, তাদের কোনোদিন হারানো যায় না। হয় ওরা সংশোধিত হবে, নয়তো আমাদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এর বিকল্প কোনো অপশন নেই। আমরা আওয়ামী লীগ-বিএনপির নোংরামি নিয়ে যেমন চুপ থাকি না, জামায়াতের নোংরামি নিয়েও চুপ থাকব না। অসৎ নেতৃত্বের উৎখাতই ইসলামী আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য, সেটা যদি নিজ দলেরও হয়।


'আসন সমাচার–১৯'/ লাবিব আহসান

রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫

জামায়াতের ১০টি গাদ্দারী:



 জামায়াতের ঐতিহাসিক গাদ্দারির কিছু ইতিহাস:

১। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর সাহেব বলেছেন বিএনপির সাথে জামায়াতের কোন জোট নাই, কিন্তু আমরা সাধারন জনগন জানি ২০০১ সাল হতেই জামায়াত-বিএনপি জোট আছে। আমার প্রশ্ন কোন সালের কত তারিখ আপনারা বিএনপির সাথে রাজনৈতিক জোট ভেঙ্গেছেন তা জাতিকে জানিয়েছেন? জোট ভাঙ্গার বিষয়ে কোথাও কোনো সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন?

২।জামায়াতের রাজনৈতিক জোটের আর ভোটের ইতিহাস টানলে কতটুকু নি:স্বার্থ ও সচ্ছতা মেলে ডা. শফিকুর রহমান বলতে পারবেন? আমি যদি প্রশ্ন করি ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদের সাজানো নির্বাচনে আওয়ামিলীগ এর সাথে আঁতাত করে যে অংশ গ্রহন করে ছিলেন এতে জাতির কোন উপকারটা হয়েছিলো? বিএনপি কিন্তু তখন নির্বাচনে যায় নি। এতে কি প্রমানিত হয় না যে ১৯৮৬ র নির্বাচনে কোনো লোভ লালশা বিএনপিকে জাতির সাথে বেইমানী করতে প্রলুব্ধ করতে পারে নি, কিন্তু আওয়ামিলীগ ও জামায়াত ঐ বছর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ৮৬'র বেঈমান হিসাবে পরিচিত হয়ে ছিলো। আপনারা এই বিষয়টিকে কি আজ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করতে পেরেছেন বা কোথাও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন?এটা কি নিজের ক্ষমতায় আরোহনের লোভে করে নি? নাকি ইসলামের স্বার্থে করেছেন, ইসলামের স্বার্থে করলে ইসলামের কি উপকার হয়েছে বলতে পারবেন?

৩।১৯৯১ সালে ৫ বছরের মাথায় আপনাদের পুরানো সঙ্গী আওয়ামিলীগের সংসার ছেড়ে হঠাৎ করে নির্বাচনের পর বিএনপিকে সরকার গঠন করার জন্য নিজেদের সংসদীয় আসন গুলো যৌতুক দিলেন, সে সময়ে এই বিএনপির সাথে সখ্যতা কি জাতির স্বার্থে করে ছিলেন নাকি নিজের স্বার্থে করেছিলেন? ছিয়াশি সালের নির্বাচনে জাতির সাথে গাদ্দারীর জন্য কি জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন নাকি তখনকার সেই বেঈমানীটাকে সঠিক বলে মনে করেছেন? এত তাড়াতাড়ি লীগের সাথে সংসার ভাঙ্গলো কেনো?

৪। আওয়ামিলীগের সাথে আঁতাত করে এরশাদের পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহনের ঠিক ১০ বছর পর, আর বিএনপির সাথে সংসার চলাকালীন ১৯৯৬ সালে আবার ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ নামক কুফুরী আকিদা ধারী আওয়ামিলীগ এর সাথে জোট করে বিএনপিকে সরিয়ে আবার লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য যে ভুমিকা রেখেছিলেন তা বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় কি উপকার হয়েছিলো? নাকি ঐ সময় সেক্যুলারিজম এর সহায়তা জায়েজ ছিলো?নাকি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সব জায়েজ?

৫। মেজর জিয়াউর রহমন কর্তৃক আপনাদেরকে রাজনৈতিক মাঠে পুনর্বাসনের মতো উপকারের কথা বেমালুম ভুলে, ছিয়াশিতে আপনাদের পুরানো বন্ধু আওয়ামীলীগ এর সাথে যৌথ ভাবে জাতীয় বেঈমান খ্যাতি পাওয়ার পর আবার ২০০১ সালে বিএনপির সাথে জোট করলেন। ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপির সাথে মিলে আপনাদের দলের লোকেরা যে জমি ব্যবসার নামে মানুষের রক্ত চুষেছে, জীবন বীমা, ইসলামি শরীয়াহ ভিত্তিক অর্থনীতির নামে সুদের ব্যবসা, আইসিএল, এফ আই সিএল অর্থ আত্মসাৎ,  একটি ফ্ল্যাটকে ১০০ মালিকের নিকট বিক্রি করে মানুষকে পথে বসানো, এমএল এম কোম্পানী ইত্যাদির মতো অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের বিলিয়ন, বিলিয়ন টাকা জামায়াতে নেতাকর্মীরা হাতিয়ে নিয়ে ছিলো তার দায় কি আপনাদের দলের একার নাকি আপনাদের জোট সঙ্গীদেরও ছিলো? এই বিষয়ে জনগনকে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন?নাকি আপনাদের শরীয়ত আলাদা?

৬। ২০০৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায় নি, মনে আছে? না থাকলে খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞেস করে নিবেন। তখন জামায়াতের তৎকালীন আমীর জনাব শহীদ মতিউর রহমান নিজামী (রাহি:) এর উদ্যোগে বিএনপিকে আবার সংগঠিত করে নির্বাচনে গেলেন, গিয়ে নিজেরা শূন্য হাতে ঘরে আসলেন, আর নিজের জোট সঙ্গীকে ৩৩ আসনের মালিক বানিয়ে ভরাডুবি করলেন। আমার প্রশ্ন কার নিশ্চয়তায় কিংবা কার ইঙ্গিতে অথবা কার স্বার্থে আপনারা তখন বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়েছিলেন? জাতিকে ব্যাখ্যা করতে পারবেন?আপনাদের যারা নির্বাচনী জরিপে ২৭০ আসন পাওয়ার কথা বলেছিলো সে সংস্থার নাম বলতে পারবেন?

৭। ২০০১ সাল হতে আজ পর্যন্ত আমি কখনোই শুনি নি আপনারা আনুষ্ঠানিক ভাবে জোট ছেড়েছেন, কিন্তু ফখরুল সাহেবের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দর্শকদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুরকে দেখলাম পাল্টা প্রশ্ন করছে জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে। এখন আমার প্রশ্ন হলো আপনাদের জোটের খাঁচার ভেতর আপনারা কি করছেন, না করছেন তা আপনারা আনুষ্ঠানিক ভাবে না জানালে মানুষ কি উত্তর দিবে বলেন তো?

৮।ফখরুল সাহেব তো ঐ দিন প্রধান উপদেষ্টার নিকট আশা করেছে এবং প্রশ্ন করেছে নির্বাচনী রোড ম্যাপের বিষয়ে, এখানে জামায়াতের নামও মুখে আনে নি, কিন্তু আপনারা বিএনপিকে যে ভাবে খোঁচা দিলেন তা কি এই মুহূর্তে খুব দরকার ছিলো?

৯। আপনারা বার বার বিএনপিকে আলাদা দেখিয়ে বক্তব্য দেন, এমন একটা ভাব করেন বিএনপি আপনাদের কেউ না। জোট না থাকলে হেন করে ফেলবেন, তেনো করে ফেলবেন। তো ২০১০ সালে ৩০% এর উপর আপনাদের রিজার্ভ ভোট আছে দাবী করে বিএনপিকে বাদ দিয়ে সিলেট সিটি নির্বাচনে আলাদা নির্বাচন করলেন আর পেলেন ১২.৫০%। বাকী ১৮.৫% ভোট কে খাইলো? আপনাদের হিসাব ভুল নাকি জামায়াত কর্মীরা নিজের দলের সাথে বেইমানী করে ছিলো ঐদিন? না জোট সঙ্গী বিএনপিকে ফেল করানের জন্য নিজেদের ভোট আওয়ামিলীগ কে বর্গা দিয়ে ছিলেন? জাতিকে এর ব্যাখ্যা দিবেন?

১০। জুলাই -২৪ এর সব কৃতিত্ব ছাত্রদের দিল মি.শফিকুর, ভালো কথা, আমিও দেই এবং এটাই সত্য। বাংলাদেশে বন্যার শুরুতে গভীর রাতে ভারত বিরোধী স্লোগান দিয়ে জানিয়ে দিলো তারা দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কিংবা বিনা লাভে ভারতের সাথে বাংলাদেশর মাখা মাখি পছন্দ করে না বরং বিরোধিতা করে। কিন্তু মি. শফিকুর সাহেব আপনি হঠাৎ করে ছাত্রদের আকাঙ্খকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভারতের সাথে সম্পর্কে উন্নয়ন করতে চান বলে যে বক্তব্য দিলেন তা বাংলাদেশের কোন স্বার্থে এবং কেন? ভারত কি বাংলাদেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবে মর্মে বলেছে? আপনি ভারত বিরোধী ছাত্র সমাজকে জুলাই স্বাধীনতার কৃতিত্ব দিলেন আবার ভারতের সাথে সু সম্পর্ক গাড়ার ইচ্ছা দেখালেন, এটা দিয়ে কি বুঝালেন? এতে ছাত্ররা কি অপমানিত হয় নি? আর ভারতের সাথে এতো মাখামাখি কি আবার আওয়ামিলীগ কে পুনর্বাসনের জন্য? এক মুখে দুরকম কথা ,  এটা কি মি.শফিকুরের ব্যক্তিগত সমস্যা, না দলীয় ঐতিহাসিক ক্রমধারা?

১১। এই মুহূর্তে মি. শফিকুর আপনি এই বক্তব্য দিয়ে জাতির মধ্যে বিভেদ তৈরীর কি দরকার ছিলো? আপনি যে বিএনপিকে জালিম বললেন, বিএনপির নেতারা ৫ আগষ্টের পর কাকে,  কোথায় নির্দেশ দিয়ে জুলুম করিয়েছে কিংবা কোন দলীয় অপরাধীদেরকে পশ্রয় দিয়েছে দেখাতে পারবেন? মাঠ পার্যায়ের কর্মীদের দূর্বলতা দলের উপর চাপিয়ে দিলেন কেমনে? তাইলে তো বলা যায় আপনাদের দলেও আকাম-কুকামের অভাব নাই, প্রত্যাকটা থানায় আপনাদের পুলিশের দালাল নাই, আসামী ধরা ও ছাড়ার বিষয়টা ওপেন সিক্রেট, এটা অস্বীকার করতে পারবে?এর দায় কে নেবে?

১২। বিপ্লবের পর সকল দল নিয়ে যেখানে জাতীয় ঐক্য করার কথা সেখানে জাতিকে বিভেদ মূলক বক্তব্য দিয়ে জনগনকে দিধাবিভক্ত করে আপনি কি ফায়দা করলেন? এই জোট গড়া আর জোট ছাড়া এই অভ্যাস কি পরিবর্তন হবে না?

১৩। জোট ভাঙ্গার সুর আপনারাই তুলেছেন, ডা: আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাহেব বল্ল বিএনপি বাদে অন্য সবাইকে নিয়ে জোট হচ্ছে, জোট হতেই পারে, একটা ইসলামী জোট দেশের ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরী, তো বিএনপির সাথে কেনো জোট ভাঙ্গলেন তা বলবেন কি জাতিকে?

পরের লেখায় এক কালের নাস্তিক, ব্রিটিশ দালাল, কথিত আহলে হাদিসের মানহাজের ধারক, জঙ্গী নেতার পিতা, লেবাস ধারী মুসলিম মি.ডা.শফিকুর রহমানের গোপন নথি প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ,সাথে বোনাস হিসাবে মুনিয়া হত্যার আসামি আনভীরের বাসায় নুরুল ইসলাম বুলবুলকে নিয়ে কোথায় গিয়েছে এবং এতে ইসলামের কি উপকার হয়েছে এবং সাথে জামায়াতের কত গুলো আসনের এমপি নির্বাচনে সিলেক্টেড প্রার্থী মাঠ পর্যায়ে টাকার লবিং করেছে প্রমান সহ পেশ করবো ইনশাআল্লাহ।  রেডি থাকুন, এই একটি লেখাতেই লাফবেন না, আরো লাফানোর জন্য শক্তি সঞ্চিত রাখুন।আপনারা ভাবছেন আপনাদের রাজনৈতিক বেশ্যাবৃত্তি কেউ বুঝে না।আওয়ামিলীগ ও আপনাদের মত সাধারন মানুষকে এমনই ভাবতো।

 

মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫

অন্ধানুকরন ইসলামে হারাম,শিরকের সমতুল্য"

 

অন্ধানুগত্য



অন্ধানুকরন ইসলামে সম্পূর্ণ নিষেধ, কিন্তু আজকাল পীরের মূরীদদের মগ্ত কিছু ইসলামী দলের কর্মী তাদের নেতা ও দলের সিদ্ধান্তকে অন্ধানুকরন করছে,হোক এটা শরীয়তের বিষয়ে আবার হতে পারে ব্যক্তিগত কিংবা সামাজিক বিষয়ে। চলুন অন্ধানুকরনের বিষয়ে শরীয়ত কি বলে দেখি।

মুমিন যে কারো আনুগত্য গ্রহণ করতে পারে না। ইসলামি শরিয়তে আনুগত্য ও অনুসরণের মূল ভিত্তি হলো- আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশের অনুকূল হতে হবে, বিপরীত হবে না। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘পাপ কাজের আদেশ না করা পর্যন্ত ইমামের কথা শোনা ও তাঁর আদেশ মান্য করা অপরিহার্য। তবে পাপ কাজের আদেশ করা হলে তা শোনা ও আনুগত্য করা যাবে না।’ (সহিহ বুখারি: ২৯৫৫)

অর্থাৎ মুমিনের জন্য আনুগত্য তখনই বৈধ, যখন ইমাম দীনের বিরুদ্ধাচরণ করবেন না, বরং দীনের সহযোগী হবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীরা, তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রাসুলের ও তোমাদের নেতৃবৃন্দের’ (সুরা নিসা: ৫৯)। আয়াতে উল্লেখিত ‘উলুল আমর’ দ্বারা বিশেষভাবে ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং সাধারণভাবে সব ধরনের বৈধ নেতৃত্ব উদ্দেশ্য।

আনুগত্যের প্রশ্নে ব্যক্তি, বংশ বা বর্ণের চেয়ে ‘দীনদারি’ ও ন্যায়ানুগতাকে প্রাধান্য দিয়েছে ইসলাম। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যদি তোমাদের নেতা হিসেবে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ দাসকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং সে আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের নেতৃত্ব দেয়, তবে তার কথা শোনো এবং আনুগত্য করো।’ (সহিহ মুসলিম: ৪১৯২)।

তাই অনুসারীদের দায়িত্ব হলো কারো আনুগত্য ও অনুসরণ করার আগে কোরআন-হাদিসের আলোকে যাচাই করে নেওয়া। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম—যারা আমার নির্দেশ অনুসারে পথপ্রদর্শন করত, যেহেতু তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তারা ছিল আমার নিদর্শনাবলিতে দৃঢ় বিশ্বাসী।’ (সুরা সাজদা: ২৪)

পূর্বপুরুষের অন্ধ অনুকরণ নিন্দনীয়

যারা সত্যের বিপরীতে অন্ধ অনুকরণের অংশ হিসেবে পূর্বপুরুষের সংস্কার, মতবাদ ও বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে পবিত্র কোরআনের অসংখ্য স্থানে তাদের নিন্দা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

‘যখন তাদের বলা হয়, এসো আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসুলের দিকে। তারা বলে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের যার ওপর পেয়েছি তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা মায়েদা: ১০৪)।

নেতা মানেই সুপথের অনুসারী নয়

একজন নেতার কাজ অনুসারীদের সঠিক পথ দেখানো। কিন্তু কোনো কোনো নেতা তার অনুসারীদের বিপথগামীও করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তাদের নেতা বানিয়েছিলাম, তারা লোকদের জাহান্নামের দিকে আহবান করত, কেয়ামতের দিন তাদের সাহায্য করা হবে না।’ (সুরা কাসাস: ৪১)।

নেতার অধঃপতনে সমাজ ধ্বংস

যখন নেতা সত্যবিচ্যুত হয়, তখন তার মন্দ প্রভাব সমাজের ওপর পড়ে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি যখন কোনো জনপদ ধ্বংস করতে চাই, তখন তার সমৃদ্ধশালীদের ভালো কাজের নির্দেশ দিই। কিন্তু তারা সেখানে অসৎকর্ম করে। ফলে তাদের প্রতি দণ্ডাদেশ বৈধ হয়ে যায় এবং আমি তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিই।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ১৬)।

অন্ধ আনুগত্যের পরকালীন পরিণতি

অন্ধ অনুকরণ ও আনুগত্যের পরকালীন পরিণতি হবে ভয়াবহ। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে বিষয়টি বিবৃত হয়েছে।

অনুসারীরা অনুগতদের দোষারোপ করবে কেয়ামতের দিন। আল্লাহ বলেন, ‘তারা আরো বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের আনুগত্য করতাম এবং তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল।’ (সুরা আহজাব: ৬৭)

অনুসারীরা শুধু দোষারোপ করে থামবে না; বরং নেতাদের দ্বিগুণ শাস্তি দাবি করবে। প্রসঙ্গটি পবিত্র কোরআনে এসেছে এভাবে—‘হে আমাদের প্রতিপালক, তাদের দ্বিগুণ শাস্তি দাও এবং তাদের দাও মহা অভিশাপ।’ (সুরা আহজাব: ৬৮)।

অনেক সময় ব্যক্তি মানুষ নিজের বিবেক ও বুদ্ধি দিয়ে সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে। কিন্তু সমাজের নেতৃবৃন্দের অনুকরণ-প্রিয়তা বা তাদের বিরোধিতার অনাগ্রহ তাকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে।

একজন সাধারণ মুশরিক যখন কুরআনের যুক্তিগুলি নিয়ে চিন্তা করে তখন শিরকের অসারতা ও তাওহীদের আবশ্যকতা বুঝতে পারে। মহান আল্লাহই একমাত্র প্রতিপালক ও সর্বশক্তিমান। তাঁর ইচ্ছার বাইরে কারো কিছু করার ক্ষমতা নেই। কাজেই তাকে ছাড়া অন্যকে ডাকার, সাজদা করার, মানত করার, নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করার দরকার টা কি? আমরা দাবি করছি যে, মহান আল্লাহ কোনো কোনো বান্দাকে কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন, কিন্তু এ দাবি আমরা ওহীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারছি না। তিনি কাউকে কোনো ক্ষমতা দিয়েছেন বলে কোথাও বলেন নি। তিনি তার কোনো নবী বা প্রিয় বক্তিত্বকে ডাকতেও নির্দেশ দেন। তিনি কোথাও বলেন নি যে, অমুক নবী, ফিরিশতা বা অমুক ব্যক্তিকে ডাক এবং তার কাছে সাহায্য চাও, মানত কর, ভেট দাও, তাহলে আমি খুশি হব। বরং তিনি বারংবার বলছেন যে, আমাকে ছাড়া কাউকে ডেক না। কেবল আমাকেই ডাক আমিই সব প্রয়োজন মেটাতে পারি। কাজেই আমি কেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকব বা তার ইবাদত করব? সকল যুক্তি ও বিবেকের দাবি তো এই যে, আমি শুধু মহান আল্লাহরই ইবাদত করব।

এভাবে একজন সাধারণ তার নিজের বুদ্ধি ও বিবেক দিয়ে শিরকের অসারতা বুঝতে পারে। কিন্তু সে তার এ চিন্তা ধর্মগুরু বা সমাজপতির মতামতের বিরুদ্ধে প্রকাশ করতে দ্বিধা বোধ করে অথবা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। অথবা এরূপ ধর্মগুরু বা সমাজপতিদের কাছে তার চিন্তা প্রকাশ করলে তারা বলে, আরে বাদ দে ওসব কথা! যারা পিতাপিতামহদের ধর্ম পরিত্যাগ করে নতুন কথা বলছে তাদের মত বেয়াদবদের কথায় কান দিবি না। যুগ যুগ ধরে সকলেই করছে, কেউ কিছু বুঝল না আর তুমি বেশি বুঝলে। অমুক, অমুক, তমুক বুজুর্গ, পাদরি, যাজক, ধর্মগুরু এরূপ বলেছেন ও করেছেন, তাদের কথা তোমার ভাল লাগে না! এরূপ করে অমুক এত কিছু পেয়েছেন, বেয়াদবি করে অমুক অমুক শাস্তি পেয়েছে, কাজেই সাবধান!! ... ইত্যাদি বিভিন্ন যুক্তির কাছে দুর্বল চিত্ত মানুষের বিবেক খেই হারিয়ে ফেলে। সে নিজের বিবেকের ডাক প্রত্যাখ্যান করে সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে থাকে।

এদের অবস্থা বর্ণনা করে মহান আল্লাহ বলেন:

إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُوا مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الأَسْبَابُ وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا مِنَّا

‘‘যখন অনুসৃতগণ অনুসরণকারিগণ সম্বন্ধে দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকার করবে এবং তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে এবং তাদের মধ্যকার সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। এবং যারা অনুসরণ করেছিল তারা বলবে, ‘হায়! যদি একবার আমাদের প্রত্যাবর্তন ঘটত তবে আমরাও তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করতাম যেমন তারা আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করল।’’’[সূরা (২) বাকারা: ১৬৬-১৬৭ আয়াত।]

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন:

وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ مَوْقُوفُونَ عِنْدَ رَبِّهِمْ يَرْجِعُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ الْقَوْلَ يَقُولُ الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا لَوْلا أَنْتُمْ لَكُنَّا مُؤْمِنِينَ. قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا أَنَحْنُ صَدَدْنَاكُمْ عَنِ الْهُدَى بَعْدَ إِذْ جَاءَكُمْ بَلْ كُنْتُمْ مُجْرِمِينَ. وَقَالَ الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا بَلْ مَكْرُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِذْ تَأْمُرُونَنَا أَنْ نَكْفُرَ بِاللَّهِ وَنَجْعَلَ لَهُ أَنْدَادًا

‘‘তুমি যদি দেখতে জালিমদেরকে যখন তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে তাদেরকে দন্ডায়মান করা হবে, তখন তারা পরস্পর বাদ-প্রতিবাদ করবে। যাদেরকে দুর্বল মনে করা হতো তারা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলবে, তোমরা না থাকলে আমরা অবশ্যই মুমিন হতাম। যারা ক্ষমতাদর্পী ছিল তারা দুর্বলদেরকে বলবে, ‘তোমাদের নিকট সৎপথের দিশা আসার পর কি আমরা তোমাদেরকে তা থেকে বিবৃত্ত করেছিলাম? বস্তুত তোমরাই ছিলে অপরাধী। দুর্বলরা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলবে, ‘প্রকৃতপক্ষে তোমরাই তো দিবারাত্র চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে, আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আল্লাহকে অমান্য করি এবং তার শরীক স্থাপন করি।’[সূরা (৩৪) সাবা: ৩১-৩৩ আয়াত।]

কিন্ত দুনিয়ার অহংকারী নেতারা দায় অস্বীকার করবে। ‘যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল দাম্ভিকরা তাদেরকে বলবে- তোমাদের কাছে সত্য পথের দিশা আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে বাধা দিয়েছিলাম? বরং তোমরা নিজেরাই ছিলে অপরাধী। (সুরা সাবা: ৩২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অন্ধ আনুগত্যের পাপ থেকে হেফাজত করুন। দীন পালনে সহযোগী, উম্মাহর দরদী, ন্যায়পরায়ণ ও যোগ্য নেতার আনুগত্য করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫

ছিয়াশির নির্বাচনের গাদ্দারদের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ২০২৫ সালে জুলাই সনদে


ছিয়াশির নির্বাচনের গাদ্দারদের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ২০২৫ সালে জুলাই সনদে


বাংলাদেশ জামায়াতে(জমের হাত) ইসলামীকে সহ অনেক দলকে বাংলাদেশের মানুষ ছিয়াশির বেঈমান বলে কেননা তারা জাতির সাথে বেঈমানী করে আওয়ামিলীগ এর সাথে মিলে এরশাদ সরকারের বিতর্কিত ১৯৮৬ এর নির্বাচনের বৈধতা দেওয়ার জন্য।ল অংশগ্রহণ করেছিলো। এই ছিয়াশির বেঈমানীকে নানা ভাবে ব্যাখ্যা করে জামায়াত(জমের হাত)জায়েয  করেছে কিন্তু ২০২৫ সালের জুলাই সনদ নিয়ে এনসিপি ও জাতির সাথে বেঈমানীর কি জবাব দেবে জামায়াত(জমের হাত) এটাই এখন দেখার বিষয়

কেননা জামায়াত(জমের হাত) ইতি মধ্যেই পূজা ইস্যুকে ভোটের জন্য নরমালাইজেশন করে ফেলেছে, এক প্রকার জায়েজ ফতোয়া দেওয়ার মত, তারা বলছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বহি: প্রকাশ ও নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রেক্ষিতে নাকি তারা পূজায় গেছে যদিও তারা এত দিন খোদ ক্ষমতাসীনরাও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের জন্য পূজায় গেলেও জামায়াত(জমের হাত) শিবির সমর্থিতরা কাফের ফতোয়া দিত কিন্তু নিজের বেলায় সে ফতোয়া উল্টে গেছে।

মানুষ জামায়াতের(জমের হাতের) ৭১ এর গাদ্দারি ও স্বৈরাচার এরশাদের আমলে ১৯৮৬ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীর সাথে গাদ্দারীর কথা প্রায় ভুলতে বসেছিলো কিন্তু ২০২৫ সালে আবারো জুলাই সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে পল্টিমেরে আবারো জাতীয় গাদ্দারের খাতায় নতুন ভাবে নাম উঠালো ৭১ এর গাদ্দাররা।

সবাই জানে এনসিপি নামক নতুল দলটি গুপ্ত শিবিরের সদস্যদের নেতৃত্বে গঠিত। এই দলকে লালনপালন তারাই এত দিন করতো, এখন তারা আবারো গাদ্দারি করে তাদের সাথেও পল্টি মেরেছে। বিগত ১ বছর যাবত জামায়াত(জমের হাত) বলত যে তারা নিম্ন কক্ষেও পিআর না হলে তারা নির্বাচন হতে দিবে না এবং জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না। এই কথা শোনে এনসিপি জুলাই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গেলো না, জুলাই যোদ্ধাদের  একাংশ প্রতিবাদ করে মার খেলো কিন্তু যেই জামায়াতের(জমের হাতের) ভরসায় এনসিপি জুলাই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বর্জন করলো তারা ঠিকই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলো। আর এনসিপিকে দেখালো কাচকলা।

এই জামায়াত(জমোর হাত) আজকের গাদ্দার নয়, তারা ইতিহাসের বহু পুরান কারিগর ও গাদ্দার, বাংলাদেশ আমলের সকল সময়ই তারা তাদের স্বার্থে গাদ্দারের খাতায় নাম লেখাতে ভুল করে নি।
ছিয়াশির নির্বাচনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ২০২৫ সালে জুলাই সনদের স্বাক্ষরের বেলায়ও একই কাজ করতে ভুলেনি জামায়াত(জমের হাত)।


এই জামায়াত(জমের হাত) দলটি এমন একটি ইসলামি দল যাদের চরিত্র আর গিরগিটির চরিত্রের মধ্যে পুরোপুরি মিল রয়েছে। আমরা সবাই জানি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র হয়েছি।এই স্বাধীন রাষ্ট্রটি জন্মের শুরুতে অনেক রাজনৈতিক দল বিরোধীতা করেছিলো যার মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিরোধীতা করেছে জমিঈয়ত, তার পর সংখ্যা লঘু হিসাবে জামায়াত(জমের হাত)। 

জামায়তকে(জমের হাতকে) কেউ একাত্তর নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা যদি/কিন্তু মিশিয়ে তাদের ৫৪ বছর আগের নেতাদের গাদ্দারির  কথা অস্বীকার করে বসে। বর্তমান জামায়াত(জমের হাত) নেতা গুলো প্রায় সবাই গিরগিটি টাইপের।একাত্তর বিষয়ে একেক নেতা একেক সময়ে একেক মন্তব্য করে বসে। তারা একাত্তর বিষয়ে অবস্থান বার বার পরিবর্তন করছে। ১৯৮৬ তে জাতীয় বেঈমানীর নির্বাচনে আওয়ামিলীগ এর সাথে জোট করে নির্বাচনে গিয়ে জাতীয় বেঈমানের খাতায় নাম লেখায়,তার পর ১৯৯১ সালে বিএনপির সাথে জোট, ১৯৯৬ সালো আবার তাদের পুরানো সঙ্গী আওয়ামিলীগের সাথে জোট, ২০০১ সালে বিএনপির সাথে জোট বার বার তাদের রাজনৈতিক আদর্শের কুরবানী ও আদর্শের  বলিদান দলটিকে রাজনৈতিক ও আদর্শিক পতিতায় পরিনত করেছে। এখন নতুন কথা বলছে তারা নাকি একাত্তর বিষয়ে কখন কোথায় ক্ষমা চেয়েছে।কোথায় ক্ষমা চেয়েছে আমার জানা নাই, ক্ষমা যদি চেয়েই থাকে তাইলে সত্যিই কি একাত্তরের অপকর্মের জন্য তারা দোষী? এটা কি তারা মেনে নেবে?

জামায়াত(জমের হাত) ইসলাম প্রতিষ্ঠার আদর্শ হতেও সরে এসেছে ইদানীং। কয়েকদিন আগে এক বিবিসি স্বাক্ষাতকারে জামায়াতের(জমের হাতের) সাবেক এমপি ও নায়েবে আমীর ডা.সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে প্রশ্ন করা হয় আপনারা কি ক্ষমতায় গেলে শরীয়াহ আইন জারি করবেন? তখন ডা.তাহের গাছ হতে পড়ার ভান করে বলেন এ দাবী আবার কবে করলাম? অর্থাদ জামায়াত(জমের হাত) ক্ষমতায় আসলে ইসলামি শরীয়তের আইন জারি করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর না।

আগে তাদের দলীয় সংবিধানে ছিলো ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের দফা, এ দফাকে তারা বদল করে করেছে কল্যান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা। অর্থাদ জামায়ত(জমের হাত) খিলাফত প্রতিষ্ঠার কোনো এজেন্ট নিয়ে কাজ করতে বাধ্য নয়। কল্যান রাষ্ট্র তো ইসলামি উপায় ছাড়াও অনেক উপায়েই করা যায়। তারা কোন উপায়ে করতে চায়? 

আবার দেখেন তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবিরের গঠন তন্ত্রের পঞ্চম দফা ছিলো ইসলামি বিপ্লব,অর্থাদ বিপ্লবের মাধ্যমে চুড়ান্ত ইসলাম প্রতিষ্ঠা, এটা তারা পরিবর্তন করে করেছে ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা। 

জামায়াত(জমের হাত) যে ভারতের জুজুর ভয় দেখিয়ে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলো এবং তাদের তখনকার সিদ্ধান্ত বাস্তবতার আলোকে যে সঠিক ছিলো তা জুলাই বিপ্লবে প্রমানও হলো তার পরও জামায়াত নেতারা ভারতের সহিত সম্পর্ক উন্নয়নে নিজ হতে প্রকাশ্যে ঘোষনা দিচ্ছে,অথচ আজও স্বাধীন পাকিস্তানকে অস্বীকার করে ইসলামি শক্তির দমন নীতিতে যে ভারত বদ্ধপরিকর সে ভারত।

কেউ কি একবারও চিন্তা করেছেন যে জামায়াত ১৯৭১,১৯৮৬,১৯৯১,১৯৯৬,২০০১ এত এত পল্টিবাজির পরও বর্তমানে ২০২৫ সালে পল্টি মেরে কিভাবে জুলাই যোদ্ধাদের সাথে বেঈমানী করেছে? এন সি পির মত গৃহপালিত দলের সাথে জুলাই সনদ নিয়ে কি ধরনের নীচু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে?

জামায়াত(জমের হাত) আজীবন জাতির সাথে বেঈমানী করেছে,ভবিষ্যতেও করবে,প্রয়োজনেই করবে। এদের বিশ্বাস করা আর কালসাপকে বিশ্বাস করা একই কথা।

সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫

যুদ্ধ যখন পাক বনাম আফগান, উভয় দলই পাপিষ্ঠ


ইসলামি ইমারত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধে কে জিতলো আর কে হারলো এটা নিয়ে গর্ব করার আগে নিচের দলীল গুলোর দিকে মুসলমানরা একবার চোখ বুলানো দরকার।


কাফির মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব না করাটাও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বলেছেন,


لَّا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَن تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً


মুমিনগণ যেন ঈমানদারদের পরিবর্তে কাফিরদেরকে নিজেদের বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষক রূপে গ্রহণ না করে। যে এরূপ করবে তার সাথে আল্লাহর কোনও সম্পর্ক থাকবে না। অবশ্য তাদের নির্যাতন থেকে বাচার জন্য এরূপ করলে আল্লাহ্ মাফ করবেন।[আলইমরান-২৮]


অন্য জায়গায় কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখা তো দূরের কথা তাদের সাথে সংগ্রাম চালিয়ে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে,


يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ


‘হে নবী! কাফির এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যান, আর তাদের সম্পর্কে কঠোর নীতি অবলম্বন করুন।(তাওবাহ-৭৩)


আরও বলা হয়েছে,


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُم مِّنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً


“হে ঈমানদার লোকেরা! লড়াই করো সেইসব কাফিরদের বিরুদ্ধে যারা তোমাদের কাছাকাছি রয়েছে। তারা যেন তোমাদের মধ্যে দৃঢ়তা ও কঠোরতা দেখতে পায়।[১২৩]


সূরা আল মুমতাহিনা-এ বলা হয়েছে,


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِم بِالْمَوَدَّةِ وَقَدْ كَفَرُوا بِمَا جَاءَكُم مِّنَ الْحَقِّ يُخْرِجُونَ الرَّسُولَ وَإِيَّاكُمْ ۙ أَن تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ رَبِّكُمْ إِن كُنتُمْ خَرَجْتُمْ جِهَادًا فِي سَبِيلِي وَابْتِغَاءَ مَرْضَاتِي


“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি সংগ্রাম করার জন্য এবং আমার সন্তোষ লাভের আশায় বের হয়ে থাকো তাহলে আমার ও তোমাদের যারা শত্রু তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো কিন্তু যে সত্য তোমাদের কাছে এসেছে তা মেনে নিতে তারা অস্বীকার করেছে। রাসূল ও তোমাদের নির্বাসিত করার যে আচরণ তারা শুরু করেছে তা এজন্য যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে।[মুমতাহিনা-১]


এতো গেল দূর সম্পর্কীয় কাফিরদের কথা। এবার বলা হয়েছে যাদের সাথে রক্তের বাঁধন রয়েছে তারাও যদি কুফরী করে, তাদের সাথে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক না রাখার জন্য। ইরশাদ হচ্ছে-


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ


‘হে ঈমানদারেরা! নিজের পিতা এবং ভাইও যদি ঈমানের চেয়ে কুফরীকে বেশী ভালোবাসে তাদেরকেও বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। যে ব্যক্তিই এ ধরনের লোকদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে সেই যালিম হিসেবে গণ্য হবে।[তাওবাহ-২৩]


আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন,


اذا لقيم المشركين في الطريق فلا تبدءوهم بالسلام واضطروهم الى اضيقها


‘তোমরা যদি রাস্তা চলার সময় কোনো মুশরিককে দেখ তাহলে প্রথমে তাদের সালাম দেবে না। বরং তাদেরকে রাস্তার এক পাশ দিয়ে চলতে বাধ্য করবে।[সহীহ মুসলিম]


আবু সাঈদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন,


لاَ يَأْكُلْ طعَامَكَ إِلَّا تَقِيٌّ وَلاَ تُصَاحِبْ إِلَّا مُؤْمِنًا


মুত্তাকী ছাড়া কেউ যেন তোমার খাদ্য না খায় এবং ঈমানদার ছাড়া কেউ যেন তোমার সাথী না হয়।[হাফিয সুয়ূতী এ হাদীসটি জামিউস সগীর নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান এবং হাকিম স্ব স্ব গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।]


কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন-


يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُوْدَ وَالنَّصٰرٰۤي اَوْلِيَآءَ ؔۘ بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَّتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَاِنَّهٗ مِنْهُمْ اِنَّ اللهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظّٰلِمِيْنَ.


হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু বানিয়ো না। তারা পরস্পরে একে অন্যের বন্ধু! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদেরকে বন্ধু বানাবে, সে তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদেরকে হেদায়েত দান করেন না। -সূরা মায়িদা : ৫১


অন্যত্র ইরশাদ করেছেন-


يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْكٰفِرِيْنَ اَوْلِيَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِيْنَ اَتُرِيْدُوْنَ اَنْ تَجْعَلُوْا لِلهِ عَلَيْكُمْ سُلْطٰنًا مُّبِيْنًا.


হে মুমিনগণ! তোমরা মুসলিমদের ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধু বানিয়ো না। তোমরা কি আল্লাহর কাছে নিজেদের বিরুদ্ধে (অর্থাৎ নিজেদের শাস্তিযোগ্য হওয়া সম্পর্কে) সুস্পষ্ট প্রমাণ দাঁড় করাতে চাও? [সূরা নিসা - ১৪৪]


এমনিভাবে যারা মুসলমানদের ক্ষতি করার চেষ্টায় থাকে এবং মুসলমানদের ক্ষতি দেখলে খুশি হয়, তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-


يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْا بِطَانَةً مِّنْ دُوْنِكُمْ لَا يَاْلُوْنَكُمْ خَبَالًا وَدُّوْا مَا عَنِتُّمْ  قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَآءُ مِنْ اَفْوَاهِهِمْ  وَمَا تُخْفِيْ صُدُوْرُهُمْ اَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْاٰيٰتِ اِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُوْنَ.


হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের বাইরের কোনো ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানিয়ো না। তারা তোমাদের অনিষ্ট কামনায় কোনো রকম ত্রুটি করে না। তারা মনে-প্রাণে কামনা করে- তোমরা কষ্ট ভোগ কর। তাদের মুখ থেকে আক্রোশ বের হয়ে পড়ে। আর তাদের অন্তর যা-কিছু (বিদ্বেষ) গোপন রাখে, তা আরও গুরুতর। আমি আসল বৃত্তান্ত তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিলাম- যদি তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাও! -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১১৮


কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন-


يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُوْدَ وَالنَّصٰرٰۤي اَوْلِيَآءَ ؔۘ بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَّتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَاِنَّهٗ مِنْهُمْ اِنَّ اللهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظّٰلِمِيْنَ.


হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু বানিয়ো না। তারা পরস্পরে একে অন্যের বন্ধু! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদেরকে বন্ধু বানাবে, সে তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদেরকে হেদায়েত দান করেন না। -সূরা মায়িদা (৫) : ৫১


অপরদিকে মুমিনদের উদ্দেশে বলেন-


وَالْمُؤْمِنُوْنَ وَالْمُؤْمِنٰتُ بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍ يَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَيُطِيْعُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ اُولٰٓىِٕكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللهُ اِنَّ اللهَ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ .


মুমিন নর ও মুমিন নারী পরস্পরে একে অন্যের সহযোগী। তারা সৎকাজের আদেশ করে, অসৎ কাজে বাধা দেয়, নামায কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। তারা এমন লোক, যাদের প্রতি আল্লাহ নিজ রহমত বর্ষণ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান। -সূরা তাওবা (৯) : ৭১


অন্যত্র ইরশাদ করেছেন-


يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْكٰفِرِيْنَ اَوْلِيَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِيْنَ اَتُرِيْدُوْنَ اَنْ تَجْعَلُوْا لِلهِ عَلَيْكُمْ سُلْطٰنًا مُّبِيْنًا.


হে মুমিনগণ! তোমরা মুসলিমদের ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধু বানিয়ো না। তোমরা কি আল্লাহর কাছে নিজেদের বিরুদ্ধে (অর্থাৎ নিজেদের শাস্তিযোগ্য হওয়া সম্পর্কে) সুস্পষ্ট প্রমাণ দাঁড় করাতে চাও? -সূরা নিসা (৪) : ১৪৪


শুধু কাফের নয়। কাফেরদের সঙ্গে যারা মিলেমিশে থাকে এবং ঈমানের উপর কুফরকে প্রাধান্য দেয়- এমন লোকদের সাথেও বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে। সেই ব্যক্তি যদি নিজের বাবা কিংবা ভাই হন তবুও। ইরশাদ হয়েছে-


يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْۤا اٰبَآءَكُمْ وَاِخْوَانَكُمْ اَوْلِيَآءَ اِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَي الْاِيْمَانِ وَمَنْ يَّتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ.


হে মুমিনগণ! তোমাদের পিতা ও ভাইয়েরা যদি ঈমানের বিপরীতে কুফরকে পছন্দ করে, তবে তাদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ো না। তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তারাই জালেম। -সূরা তাওবা (৯) : ২৩


এমনিভাবে যারা মুসলমানদের ক্ষতি করার চেষ্টায় থাকে এবং মুসলমানদের ক্ষতি দেখলে খুশি হয়, তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-


يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْا بِطَانَةً مِّنْ دُوْنِكُمْ لَا يَاْلُوْنَكُمْ خَبَالًا وَدُّوْا مَا عَنِتُّمْ  قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَآءُ مِنْ اَفْوَاهِهِمْ  وَمَا تُخْفِيْ صُدُوْرُهُمْ اَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْاٰيٰتِ اِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُوْنَ.


হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের বাইরের কোনো ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানিয়ো না। তারা তোমাদের অনিষ্ট কামনায় কোনো রকম ত্রুটি করে না। তারা মনে-প্রাণে কামনা করে- তোমরা কষ্ট ভোগ কর। তাদের মুখ থেকে আক্রোশ বের হয়ে পড়ে। আর তাদের অন্তর যা-কিছু (বিদ্বেষ) গোপন রাখে, তা আরও গুরুতর। আমি আসল বৃত্তান্ত তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিলাম- যদি তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাও! -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১১৮


এক আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ইহুদী ও মুশরিকরাই মুসলমানদের সবচে কঠিন শত্রু। আল্লাহ তাআলা বলেন-


لَتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِيْنَ اٰمَنُوا الْيَهُوْدَ وَالَّذِيْنَ اَشْرَكُوْا.


আপনি অবশ্যই মানুষের মধ্যে মুসলমানদের শত্রুতায় সর্বাপেক্ষা কঠোর পাবেন ইহুদীদেরকে এবং সেই সমস্ত লোককে, যারা শিরক করে। -সূরা মায়িদা (৫) : ৮২


মুসলমানদের জন্য কত বড় সৌভাগ্যের বিষয় এই যে, তাদেরকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিজের বন্ধু হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ঘোষণা করেছেন তাঁর রাসূল এবং অপরাপর মুমিনদেরও বন্ধু হিসেবে। ইরশাদ হয়েছে-


اِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللهُ وَرَسُوْلُهٗ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوا الَّذِيْنَ يُقِيْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَهُمْ رٰكِعُوْنَ.


(হে মুসলিমগণ!) তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ, যারা (আল্লাহর সামনে) বিনীত হয়ে সালাত আদায় করে ও যাকাত দেয়। -সূরা মায়িদা (৫) : ৫৫


শুধু তাই নয়। ঘোষণা করেছেন- যারা আল্লাহকে এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে তাদের বিজয় ও সফলতা সুনিশ্চিত। ইরশাদ হয়েছে-


وَمَنْ يَّتَوَلَّ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا فَاِنَّ حِزْبَ اللهِ هُمُ الْغٰلِبُوْنَ.


আর যে কেউ আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদেরকে বন্ধু বানাবে (সে আল্লাহর দলভুক্ত হয়ে যাবে)। আর নিশ্চয় আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে। -সূরা মায়িদা (৫) : ৫৬


এই আশ্বাস ও ভরসা পাওয়ার পর কোনো মুমিনের কী প্রয়োজন হতে পারে ইহুদী-খ্রিস্টানের সাথে বন্ধুত্ব করার! কী দরকার হতে পারে তাদের আপনত্ব কিংবা মিত্রতা লাভে আকাক্সক্ষী হওয়ার!


উপরোক্ত আয়াতদুটির ধারাবাহিকতা ছিল এই যে, কিছুসংখ্যক মুনাফিক সবসময় ইহুদী-খ্রিস্টানদের সাথে উঠাবসা করত এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্রেও তাদের সাথে শরীক হত। এ ব্যাপারে তাদেরকে প্রশ্ন করা হলে বলত, তাদের সাথে সম্পর্ক না রাখলে তারা আমাদেরকে সংকটে ফেলে দেবে; তখন তো আমরা মসিবতে পড়ে যাব। তারা মনে মনে ভাবত- কখনো মুসলিমগণ ইহুদী-খ্রিস্টানদের কাছে পরাস্ত হয়ে গেলে তো তাদের সাথেই আমাদেরকে চলতে হবে। [দ্র. সূরা মায়িদা (৫) : ৫২, তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন ১/৩৭৮; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/১৩২]


এবার একবার সরল মনে ভাবুন ভারতের ইন্ধনে আফগানিস্তান আর আমেরিকার ইন্ধনে পাকিস্তান যুদ্ধ করে ইসলামের কোন উপকারটা করছে?বরং উভয় দলই পাপিষ্ঠ।

 

শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫

আমেরিকার RAND কর্পোরেশনের তৈরী শিকারী কুত্তা হলো মডারেট মুসলিম

 

মূল লেখক: আসিফ আদনান।


মডারেট মুসলমানরা আমেরিকার তৈরী কুত্তা


RAND (র‍্যান্ড), মডারেট ইসলাম, মডার্নিস্ট মুভমেন্ট– ইত্যাদি নিয়ে বিভিন্ন সময় কথাবার্তা ওঠে। পক্ষেবিপক্ষে অনেক তর্ক হয়। তবে আফসোসের ব্যাপারে হল অনেকেই বিষয়গুলো সম্পর্কে ভাসাভাসা ধারণা নিয়ে কিংবা একেবারে না জেনে কথা বলেন। যার ফলে নিতান্ত আবেগপ্রসূত, ডিফেন্সিভ, কিংবা প্যাসিভ অ্যাগ্রেসিভ কথাবার্তা দেখা যায়। আমি ঠিক করেছি, ইন শা আল্লাহ্‌ এই বিষয়টা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কিছু ম্যাটেরিয়াল তুলে ধরবো। যাতে করে যারা এ ব্যাপারগুলো নিয়ে জানতে আগ্রহী তারা জানার সুযোগ পান। তারপর নিরেট তথ্য আর কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনার ভিত্তিতে যে যার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

লেখাগুলো কিছুটা এলেমেলো হবে। আমি খুঁতখুঁতে মানুষ, মনমতো গুছিয়ে লিখতে গেলে দেখা যাবে কাজটা হয়তো আর করাই হয়ে উঠবে না। আশা করি লেখার এলেমেলোভাবে পাঠক ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।


তাহলে শুরু করা যাক। আমরা শুরুটা একটু পেছন থেকে করি। ইসলাম এবং মুসলিমদের চিন্তা বদলানো পশ্চিমা প্রজেক্ট কতো আগে থেকে চলছে তা একটু দেখে নেয়া যাক।


ব্রিটিশরা মিশরে ঢুকেছিল তৎকালীন শাসক ইসমাইল পাশাকে তার আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে সাহায্য করার অজুহাতে। কিন্তু খুব দ্রুত এই ‘সাহায্য’ পরিণত হয়েছিল ঔপনিবেশিক দখলদারিত্বে। মিশরের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সাথেসাথে ব্রিটিশরা এক সুদূরপ্রসারী ‘সংস্কার’ প্রক্রিয়া হাতে নেয়, যার প্রভাব আমরা আজও অনুভব করছি। সহজ ভাষায়, মিশরীয় সমাজ, শিক্ষা, চিন্তা এবং প্রশাসনকে নিজেদের আদলে গড়ে তোলার এক বিস্তৃত প্রজেক্ট চালু করে ব্রিটিশরা - মিশরকে ‘আধুনিক’ বানানোর প্রজেক্ট। ১৮৭৭-১৯০৭ পর্যন্ত মিশরের ব্রিটিশ দখলদারিত্বের নেতৃত্বে ছিল এভারলিন বেরিং ওরফে ‘লর্ড ক্রোমার’। ১৯১৬ সালে প্রকাশিত ‘মডার্ন ইজিপ্ট’ বইতে মিশরের পশ্চিমাকরণের এ প্রক্রিয়া নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করে ক্রোমার।


‘লর্ড’ ক্রোমার তার বইতে কী বলেছিল দেখা যাক। র‍্যান্ড প্রজেক্টের আলোচনায় কথাগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ তা সম্ভবত পাঠক নিজেই ধরতে পারবেন।


১. পশ্চিমারা কখনো ইসলামী শাসন ও সরকার মেনে নেবে না।


ক্রোমারের ভাষায় – ‘কেবল মোহাম্মাদান নীতিমালা আর প্রাচ্যীয় ধ্যানধারণার ভিত্তিতে গড়া সরকারকে ইউরোপ মেনে এমন ধারণা করাই হাস্যকর। অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ এর সাথে জড়িয়ে আছে, (তাই এমন কিছু মেনে নেয়া সম্ভব না)’


২. মুসলিমদের অবশ্যই পশ্চিমা ধ্যানধারণা ও মূল্যবোধ গ্রহণ করতে হবে।


ক্রোমারের ভাষায় – ‘…নতুন প্রজন্মের মিশরীয়দেরকে বুঝিয়েসুঝিয়ে কিংবা প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে পশ্চিমা সভ্যতার মূল স্পিরিট ধারণ করাতে হবে।’


৩. মুসলিম সমাজে পশ্চিমাকরণ করতে হবে। আর এই প্রক্রিয়া শুরু করার অন্যতম মূল হাতিয়ার হল ‘নারী অধিকার’।


ক্রোমারের মতে - মুসলিম দেশগুলোতে ‘নারীর সামাজিক অবস্থান’ হল ইউরোপীয় ধ্যনধারণা আমদানির ক্ষেত্রে ‘মারাত্মক প্রতিবন্ধক’ হিসেবে কাজ করে।


৪. এক দল তরুণ সেক্যুলার মুসলিম তৈরি করতে হবে, যাদের শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে


ক্রোমারের ভাষায় – ‘বাস্তবতা হল ইউরোপীয় শিক্ষা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবার পর একজন তরুণ মিশরীয় মুসলিমের ‘ইসলামিসম’ হারিয়ে যায়’।


৫. পশ্চিমকে অবশ্যই ইসলামের সংস্কার করতে হবে। এই সংস্কারের ফলে যে ‘ইসলাম’ পাওয়া যায় তা আর ইসলাম থাকে না। নামে ইসলাম, বাস্তবে অন্য কিছু।


ক্রোমারের ভাষায় – ‘…এটা কখনও ভোলা যাবে না যে, ইসলামের সংস্কার সম্ভব না। অর্থাৎ সংস্কাকৃত ইসলাম সত্যিকার অর্থে আর ইসলাম থাকে না। অন্য কিছুতে পরিণত হয়’।


৬. সংস্কার, আধুনিকায়ন কিংবা পশ্চিমাকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যারা তৈরি হয় তারা ‘ডি-মুসলিমাইযড’। তারা না মুসলিম হতে পারে, আর না পুরোপুরি ইউরোপিয়ান হিসেবে গণ্য হয়।


ক্রোমারের ভাষায় – ‘বর্তমানে মিশরীয় সমাজ নিরন্তর পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে তার ফলে এমন এক দল মানুষ তৈরি হয়েছে যারা একই সাথে ডি-মুসলিমাইড মুসলিম এবং মেরুদন্ডহীন ইউরোপিয়ান’।


৭. ইসলামের ব্যাপারে মুসলিমদের চিন্তাকে প্রভাবিত করার ঐসব ব্যক্তিদের প্রমোট করতে হবে যারা ‘সংস্কারপন্থী’, যারা ‘আধুনিকায়ন’ চায়। মুসলিম বিশ্বে মডার্নিস্ট আন্দোলনের জনক মুহাম্মাদ আবদুহ ছিল ক্রোমারের পছন্দের ব্যক্তি। মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি পদে আব্দুহকে বসানো এবং টিকিয়ে রাখার পেছনে ক্রোমার এবং ব্রিটিশদের অবদান ছিল।


ক্রোমারের ভাষায় – ‘ওরা (আব্দুহ-র মতো লোকেরা) ইউরোপীয় সংস্কারকদের সহজাত মিত্র…’


‘বহু বছর ধরে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সকলভাবে উৎসাহ দিয়েছি। তবে কাজটা সহজ ছিল না। একদিকে রক্ষণশীল মুসলিমদের দিক থেকে তার প্রতি ব্যাপক বিরোধিতা ছিল। অন্যদিকে, দুঃখজনকভাবে খেদিভের (শাসক) সাথে তার সম্পর্ক খুবই খারাপ ছিল। কেবল মাত্র শক্তিশালী ব্রিটিশ সমর্থনের কারণে আব্দুহ গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে তার অবস্থান টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল’।


দেখতেই পাচ্ছেন আজ থেকে ১০০ বছর আগে ‘আধুনিকায়ন’ প্রজেক্টের ব্যাপারে বলা কথাগুলো আজকের ‘র‍্যান্ড ইসলাম’ প্রজেক্টের সাথে প্রায় হুবহু মিলে যায়। আজকের ‘সিভিল ডেমোক্রেটিক মডারেট ইসলাম’ তৈরি প্রজেক্টে যেন সেই ‘ঔপনিবেশিক সংস্কার’ প্রজেক্টের উত্তরসূরী।


যেকোন জনগোষ্ঠীকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তাদের মধ্য থেকে ঐ আদর্শ মুছে দিতে হয় যা তাদেরকে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিপ্লবে উদ্ভূত করবে। পশ্চিমারা তাদের দীর্ঘ ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতার আলোকে এটা জানতো। আর মুসলিমদের জন্য এই আদর্শ হল ইসলাম। ইসলামী শরীয়াহ এবং শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামী সভ্যতা গড়ার আকাঙ্ক্ষা। ক্রোমারের ভাষায় ‘ইসলামিসম’। এই আদর্শকে নষ্ট করার উপায় হল ভেতর থেকে একে কলুষিত করা। কাজটা সহজ না। এর বিভিন্ন দিক আছে। পশ্চিমারা এমনভাবে শিক্ষাব্যবস্থা এবং প্রশাসনকে সাজাতে পারে যাতে করে এই ব্যবস্থাগুলোর মধ্য থেকে ‘ডি-মুসলিমাইযড’, মেরুদন্ডহীন, বাদামি চামড়ার সাহেব তৈরি হয়। এটা তারা করেছে। মধ্য প্রাচ্যে করেছে, উপমহাদেশেও করেছে।


কিন্তু এটুকু যথেষ্ট না। ইসলামের আদর্শকে নষ্ট করতে হলে যারা ইসলামী জ্ঞান এবং চিন্তাকে কলুষিত করতে হবে। পশ্চিমারা এটা সরাসরি করতে পারবে না। এটা এমন কিছু মানুষ করতে হবে যারা নামে মুসলিম, হয়তো বিশ্বাসেও মুসলিম, কিন্তু পশ্চিমা দর্শন ও সভ্যতা দ্বারা এতোটাই প্রভাবিত যে তারা পশ্চিমের আদলে ইসলামকে বদলে নিতে চায়। ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় তারা ঐ ‘ইসলাম’টাই প্রচার করে যেটা পশ্চিমারা চায়। এরা হল সেই সংস্কারবাদী, মডার্নিস্ট কিংবা হাল আমলের ‘মডারেট’। আগ্রাসী পশ্চিমের ইসলাম সংস্কার প্রজেক্টের সহজাত মিত্র। পশ্চিমারা খুশিমনে এই সংস্কারবাদী কিংবা মডারেট ইসলাম প্রচারকদের সাহায্য করে। সমর্থন দিয়ে যায়। যেমন মুহাম্মাদ আব্দুহকে ক্রোমার সাহায্য করেছিল। গ্র্যান্ড মুফতির আসনে বসিয়েছিল।


এখানে আরো একটা প্রশ্ন এসে যায়, মুহাম্মাদ আব্দুহরা কি পশ্চিমের টাকা খায়?


উত্তর হল, টাকা খাওয়া না খাওয়ার বিষয়টা অপ্রাসঙ্গিক। কারণ তাদের বিরুদ্ধে আপত্তিটা টাকা খাওয়া নিয়ে না। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হল তারা পশ্চিমের এজেন্ডা অনুযায়ী ইসলামকে পরিবর্তনের চেষ্টা করে। আর এই অভিযোগ যে সত্য, সেটা সাক্ষ্য খোদ পশ্চিমারাই দেয়। কখনো এই সাক্ষ্য ক্রোমারের বইয়ের মাধ্যমে আসে, কখনো র‍্যান্ডের রিপোর্টের মাধ্যমে আসে, কখনো হয়তো আসে উইকিলিক্সের মাধ্যমে। কাজেই তারা টাকা না খাওয়া না খাওয়াতে কিছু যায় আসে না। তারা যদি টাকা খাওয়ার পরও প্রকৃত ইসলাম প্রচার করে তাহলে আর অভিযোগের কিছু নেই। আর টাকা না খেয়েও যদি ‘পশ্চিমের ঠিক করে দেয়া ইসলাম’ প্রচার করে তাহলে টাকা না খেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন পরিবর্তন হয় না। কাজেই এই প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক, এবং যারা এই প্রশ্নে আটকে যান তারা হয়তো মূল আলোচনায় বিষয়বস্তুই এখনো ধরতে পারেননি।


ইসলামকে পরিবর্তন করার জন্য পশ্চিমারা যে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এটা ঐতিহাসিক সত্য। এটা কোন কন্সপিরেসি থিওরি না। বিদ্বেষপ্রসূত বানোয়াট অভিযোগ না। একথা পশ্চিমারা খোলাখুলি স্বীকার করেছে। আজও করছে। ‘লর্ড ক্রোমার’ পরিকল্পনার ফসল হিসেবে যুলমাই খালিলযাদের মতো লোকেরা জন্ম নিয়েছে, যারা ক্রোমারদের কাজ করে যাচ্ছে। ‘সংস্কার’, ‘আধুনিকায়ন’ আর ‘পশ্চিমাকরণ’ এর জায়গায় এসেছে ‘মডারেট ইসলাম’, ‘ইসলামী জ্ঞান নিয়ে পুনঃভাবনা’ কিংবা ‘ইসলামকে বোঝার জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামো পরিবর্তন’ এর কথা। কিন্তু মৌলিকভাবে এজেন্ডা সেই একই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা, মুসলিমরা – এই ব্যাপারে জানতে আগ্রহী না। আমরা নিজে থেকে এ ব্যাপারে জানার চেষ্টা তো করি না-ই, যখন কেউ এ বিস্ময়গুলো নিয়ে কথা বলে তখন আমরা ব্যক্তিমুগ্ধতা কিংবা দলবাজীর ওপরে উঠে কথাগুলো বিশ্লেষণও করি না।


২০০৩ সালে অ্যামেরিকান গ্লোবাল পলিসি থিংকট্যাঙ্ক RAND Corporation একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এ রিপোর্টের বিষয় হল - কীভাবে এবং কাদের সহায়তায় অ্যামেরিকার বৈশ্বিক পলিসির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক নতুন “ইসলাম” বানানো যায়। Civil Democratic Islam: Partners, Resources & Strategies নামের এই রিপোর্টে অ্যামেরিকাবান্ধব নতুন এই ‘ইসলামের’ নাম দেয়া হয় ‘মডারেট ইসলাম’ বা Civil Democratic Islam। ২০০৭ সালে “Building Moderate Muslim Networks নামে র‍্যান্ড একটি বিস্তারিত ফলোআপ রিপোর্ট প্রকাশ করে। ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয় Promoting Online Voices for Countering Violent Extremism শিরোনামে তৃতীয় একটি প্রতিবেদন। আজ আমরা ‘মডারেট ইসলাম’ নিয়ে র‍্যান্ডের প্রথম প্রতিবেদনের দিকে তাকাবো। এই প্রতিবেদনে মোটাদাগে নিচের বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।


ক) কেন অ্যামেরিকাবান্ধব এই নতুন ‘ইসলাম’-এর প্রবর্তন ও প্রচার করা উচিৎ


খ) মুসলিমদের শ্রেণীবিভাগ


গ) অ্যামেরিকা কী ধরণের ইসলাম ও মুসলিম তৈরি করতে চায়। একজন মডারেট মুসলিমের বৈশিষ্ট্য কী কী হবে?


ঘ) কীভাবে মুসলিমদের মধ্যে এই ‘মডারেট ইসলাম’ –এর প্রচার ও প্রচলন করা হবে।


অ্যামেরিকা বান্ধব মডারেট ইসলাম তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে র‍্যান্ডের বক্তখুব স্পষ্ট। অ্যামেরিকা এবং পশ্চিমা বিশ্ব এমন এক ‘ইসলাম’ চায় যা ‘গণতন্ত্র এবং আধুনিকতাকে গ্রহণ করে নেবে’। তারা এমন এক মুসলিম বিশ্ব চায় যা ‘গণতান্ত্রিক, সামাজিকভাবে প্রগতিশীল, স্থিতিশীল, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিয়ম মেনে চলে’। সেই সাথে অ্যামেরিকা সরাসরি ইসলামের সাথে ‘সভ্যতার সংঘাতে’ জড়াতে চায় না।


এটা পশ্চিমা ডাবলস্পিক। এমন কথা যা শব্দের মারপ্যাঁচে মূল বাস্তবতা আড়াল করে। তাই র‍্যান্ডের মূল কথাটা সহজ বাংলায় বলি। ওরা এমন ‘ইসলাম’ চায় যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বিশ্বব্যবস্থাকে মেনে নেবে। যে ‘ইসলাম’ ইস্রাইল রাষ্ট্র, উপসাগরীয় যুদ্ধের গণহত্যা, মুসলিম বিশ্বের স্বৈরাচারী তাগুত শাসকের পেছনে পশ্চিমা সমর্থন, মুসলিম ভূখন্ডগুলোতে চালানো পশ্চিমা নব্য-ঔপনিবেশিক লুটপাট মেনে নেবে বিনা বাক্য ব্যয়ে। যা পশ্চিমা সাংস্কৃতিক ও চিন্তার আগ্রাসনের সামনে নতি স্বীকার করে লিবারেল-সেক্যুলারিসমের সাথে খাপ খাইয়ে ইসলামকে নতুন করে ব্যাখ্যা করবে। এমন এক ‘ইসলাম’ যা পশ্চিমা বিশ্ব ব্যবস্থার সাথে কোন সংঘাত জরুরী মনে করে না। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট – এমন ‘ইসলাম’ যা ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী শাসনের কথা বলে না। সহজ ভাষায় এই হল ‘মডারেট ইসলাম’ তৈরির কারণ।


কিন্তু ‘মডারেট ইসলাম’ তৈরির কাজটা কীভাবে হবে? কে করবে? কাজটা সহজ না। র‍্যান্ড বেইসিকালি মৌলিকভাবে ইসলাম ধর্মকে বদলে দেয়ার কথা বলছে। প্রতিবেদনের লেখিকার ভাষায় – ‘রাষ্ট্রগঠন যদি দুরূহ হয়ে থাকে তাহলে ধর্ম-গঠন আরো অনেক বেশি বিপদজনক এবং জটিল’।


‘বিপদজনক এবং জটিল’, কিন্তু র‍্যান্ডের মতে অসম্ভব না। তবে কাজটা করতে হলে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন আদর্শিক ও ধর্মীয় ধারাগুলোর মধ্য থেকে কিছু কিছু ধারাকে বেছে নিয়ে তাদের সাথে কাজ করতে হবে। তাদেরকে সমর্থন দিতে হবে। এই সমর্থন আর্থিক হতে পারে, কূটনৈতিক হতে পারে, কিংবা হতে পারে মিডিয়ার দিক থেকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে কিছু কিছু ধারার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হতে যাতে তারা পশ্চিমে দেখানো ছকের মধ্যে চলে আসে। পশ্চিমের ঠিক করে দেয়া বাক্সের বাইরে না যায়। কোন কোন ধারাকে বাছাই করা হবে, কাদের সাথে মিলে কাজ করা হবে, তা ঠিক করতে হবে খুব সতর্কতার সাথে। র‍্যান্ডের প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য এই জটিল কাজটার ব্যাপারে অ্যামেরিকান সরকারকে কিছু দিকনির্দেশনা দেয়া।


সহজ ভাষায় বললে – আদি ও অকৃত্রিম ইসলাম অ্যামেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য হুমকি স্বরূপ। অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যবাদের জন্য সমস্যা মুসলিমদের মধ্যে না, সমস্যা ইসলামেই। এটা অ্যামেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। তাই ইসলামকে বদলে দিতে হবে। এমন এক ‘ইসলাম’ তৈরি ও প্রচার করতে হবে যা নিরীহ। যা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ, আগ্রাসন আর লুটপাটের জন্য হুমকি না। যা লিবারেল-সেক্যলারিসমের জঘন্য কুফরকে মেনে নিতে রাজি। তবে এই কাজটা অ্যামেরিকা বা ইউরোপ সরাসরি করতে পারবে না। এটা করাতে হবে মুসলিমদের সামনে রেখে। এমন কিছু ‘মুসলিম’-কে বাছাই করতে হবে যারা ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধে পশ্চিমা এই এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করবে। কোলাবোরেটর – দালাল – পশ্চিমা ‘রাজাকার’। আর যারা দালালী করবে না, তাদেরকে নানানভাবে চাপ দিয়ে করে কিংবা সুবিধা দিয়ে তুলনামূলক ‘পশ্চিমবান্ধব’ একটা ইসলাম প্রচার করাতে হবে।


র‍্যান্ডের ভাষ্যমতে ‘মডারেট ইসলাম’ এর বিপরীত হল র‍্যাডিকাল ফান্ডামেন্টালিসম (উগ্র মৌলবাদী ইসলাম)। উগ্র মৌলবাদী ইসলাম বলতে র‍্যান্ড আসলে কী বোঝায়? এই প্রশ্নের উত্তর জানাটা জরুরী। কারণ র‍্যান্ডের পুরো আলোচনার কাঠামো গড়ে উঠেছে উগ্র মৌলবাদের এই সংজ্ঞার ওপর। এই সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে র‍্যান্ড ‘মডারেট’ বা ‘মধ্যপন্থীর’ সংজ্ঞা দাড় করিয়েছে। উগ্রবাদী হিসেবে প্রতিবেদনের বিভিন্ন জায়গায় যেসব মুভমেন্টের নাম এসেছে তাদের মধ্যে আছে – হিযবে ইসলামী (আফগানিস্তান/গুলাবুদ্দিন হেকমতিয়ার), তালিবান, আল-[কা]য়েদা, হামাস, ইসলামিক স্যালভেইশান ফ্রন্ট, হিয[বু]ত তা[হ]রীর, ইরানীয়ান রেভ্যুলুশানারী গার্ডস, ইত্যাদি। এ থেকে মনে হতে পারে যে উগ্র মৌলবাদ বলতে তারা হয়তো বিভিন্ন ইসলামী মুভমেন্টকে বোঝাচ্ছে। কিন্তু তারা আসলে কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতি (যেমন সশস্ত্র পদ্ধতি) বা কর্মকান্ডকে উগ্রবাদ বলছে না। তাদের দেয়া উগ্রবাদের সংজ্ঞা আর ব্যাপক। আরো বিস্তৃত।


র‍্যান্ডের এই পুরো প্রতিবেদন পড়লে পরিষ্কার হয়ে যায় যে তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী, উগ্রবাদ হল এমন সবকিছু যা আধুনিক গণতন্ত্র, লিবারেল সেক্যুলার মূল্যবোধ, এবং অ্যামেরিকার প্রতি শত্রুভাবাপন্ন। যারা উম্মাহর কথা বলে, এথনিসিটি (বর্ণ পরিচয়) কিংবা পশ্চিমের ঠিক করে দেয়া জাতিরাষ্ট্রের সীমানার ভিত্তিতে চিন্তা করে না। এই বৈশিষ্ট্যগুলো যার মধ্যে থাকবে সে উগ্র মৌলবাদী মুসলিম। সে সশস্ত্র নাকি নিরস্ত্র, তা গুরুত্বপূর্ণ না (যেমন হি[য]বুত তা[হ]রীর সশস্ত্র দল না)। সে নির্বাচনে কখনো অংশগ্রহণ করেছে কি না সেটা গুরুত্বপূর্ণ না (যেমন আলজেরিয়ার FIS নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল)। সে যদি সশস্ত্র হয় তাহলে তার অস্ত্র হাতে নেয় জাস্টিফাইড কি না, আত্মরক্ষার জন্য নেয়া কি না, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নেয়া কি না, আগ্রাসী শত্রুর মোকাবেলায় নেয়া কি না - তাও গুরুত্বপূর্ণ না। এই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকাই যথেষ্টা। আর র‍্যান্ডের মতে, ইসলামী উগ্র মৌলবাদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামের অবস্থান থেকে চিন্তা করা। ইসলামী শাসন চাওয়া এবং এর জন্য কোন না কোন ভাবে কাজ করে। সেটা হাত দিয়ে হোক, মুখ দিয়ে হোক বা কলম দিয়ে হোক।


কিছু উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা সহজে বোঝা যাবে।


প্রতিবেদনে আলজেরিয়ার ইসলামিক স্যালভেইশান ফ্রন্ট (FIS) এর মুখপাত্রক আলি বেনহাজকে উগ্র ইসলামী মৌলবাদী আখ্যায়িত করে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী মৌলবাদ গণতন্ত্র এবং আধুনিক (মানে পশ্চিমা) সমাজের কেন্দ্রীয় মূল্যবোধগুলোর প্রতি মৌলিক এবং পূর্ণাংগ প্রত্যাখ্যানের প্রতিনিধিত্ব করে’। তাই বেনহাজ একজন মৌলবাদী, কারণ তিনি বলেছিলেন ‘…গণতন্ত্রের ঘাড় ভেঙ্গে দিতে হবে’। যদিও বেনহাজ এবং তার দল, ইসলামিক স্যালভেইশান ফ্রন্ট ১৯৯০ এ আলজেরিয়ার গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। শুধু তাই না ৯০ এর ৯১ এর নির্বাচনে স্যালভেইশান ফ্রন্ট জিতেছিল। কিন্তু আলজেরিয়ার সামরিক জান্তা - সেক্যুলার এবং অ্যামেরিকার মিত্র – সেই নির্বাচনের ফলাফল মানেনি। হত্যা দমন, পীড়ন, নির্যাতনের মাধ্যমে আলজেরিয়াকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু র‍্যান্ডের জন্য গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলা উগ্রবাদী হিসেবে গণ্য হবার জন্য যথেষ্ট।


একইভাবে উগ্র মৌলবাদের উদাহরণ হিসেবে শায়খ আব্দুর রাহিম গ্রীন এর নিচের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে -


‘ইসলাম প্রতিশোধ নেয়ার লক্ষে পশ্চিমা বিশ্ব কিংবা অন্য কারো বিরোধিতা করে না।


আত্মাভিমানে আঘাত লাগার কারণে কিংবা সম্পদ বা জমি দখলের জন্য ইসলাম যুদ্ধ করে না। যুদ্ধের উদ্দেশ্য একটাই - দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত করা।


জি[হা]দের তিনটি বৈশিষ্ট্য আছে। প্রথম পর্যায় হল সঠিক বিশ্বাস ও আকিদাহ অর্জন করা, নিজের ভেতরের সব সন্দেহ ও সংশয় দূর করা…দ্বিতীয় পর্যায়, শত্রুর হাত থেকে মুসলিম ভূখণ্ডগুলোকে মুক্ত করা। আর সর্বশেষ পর্যায় হল, কাফিরদের ভূমিতে আল্লাহ্‌র বিধান প্রতিষ্টার পথ উন্মোচনের জন্য যুদ্ধ করা’।


বলাবাহুল্য এই বক্তব্য মোটাদাগে ইসলামের আদি ও অকৃত্রিম অবস্থান। ইসলামের শুরু থেকে প্রথম তেরশো বছর এটি ছিল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত অবস্থান। কিন্তু র‍্যান্ডের অবস্থানটা এখানে খেয়াল করুন। যারা ইসলামের সুপ্রতিষ্ঠিত অবস্থানের কথা বলছে, র‍্যান্ডের মতে তারা উগ্র মৌলবাদী। এই অবস্থান ইসলামি শরীয়াহ, কুরআন-সুন্নাহ এবং সালাফুস সালিহিনের অবস্থানের আলোকে সঠিক কি না, সেটা এখান বিবেচ্য বিষয় না। উগ্রতা আর সহনশীলতার মাপকাঠি হল পশ্চিমা এজেন্ডার সাথে সামঞ্জস্যতা, আর কিচ্ছু না।


তৃতীয় উদাহরণ। ইসলাম অনলাইন সাইটে প্রকাশিত একটি লেখাকে উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইসলামঅনলাইন এর এই লেখায় বলা হয়েছে –


‘কুরআন এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কথা প্রচার করা (অর্থাৎ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের দোহাই দিয়ে কুরআনের আয়াত ও বিধান পুনঃব্যাখ্যা করার কথা বলা) লোকেদের অধিকাংশই পুরোপুরিভাবে পশ্চিমের দার্শনিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ধারণাগুলো আত্মস্থ করেছে। আজকের যুগে সরাসরি সংঘাত আর সামরিক অভিযান হল সংস্কৃতি ও বাজার নিয়ন্ত্রনের সেকেন্ডারি (গৌন) উপাদান। পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার হল মানুষের অভ্যাস এবং লাইফস্টাইল। (এগুলো পরিবর্তনের) মাধ্যমে মুক্ত চিন্তার স্বাধীন ভোক্তাদের নিয়ে গড়ে ওঠা মুক্ত বাজার নিশ্চিত করা যায়।’ [লেখক, আহমেদ কামাল সুলতান]


পশ্চিমা চিন্তার আগ্রাসন, অর্থনৈতিক আগ্রাসন এবং নব্য সাম্রাজ্যবাদের এমন তাত্ত্বিক সমালোচনাও র‍্যান্ডের চোখে প্রবলেম্যাটিক এবং উগ্রবাদের দুর্গন্ধযুক্ত। লেখক এখানে আধুনিক সময়, আপেক্ষিকতা আর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের দোহাই দিয়ে ইসলামের পুনঃব্যাখ্যা করার প্রবণতার বিরুদ্ধে বলেছেন, তাই র‍্যান্ডের মতে তার এই অবস্থান উগ্র। উল্লেখ্য, ইসলামঅনলাইন ইউসুফ আল-ক্বারদ্বাউয়ির অধীনে পরিচালিত সাইট। এবং র‍্যান্ডের মতে ক্বারদ্বাউয়ি মৌলবাদী না, বরং রিফর্মিস্ট বা সংস্কারপন্থী ট্র্যাডিশানালিস্ট। কিন্তু তবু ওপরের এই কথাগুলো র‍্যান্ডের কাছে উগ্র মৌলবাদী বক্তব্য।


উগ্রবাদী চিন্তার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে এই প্রতিবেদনে ইসলামিক সেন্টার অফ ওয়াশিংটনের সাবেক ইমাম মুহাম্মাদ আল-আসির লেখা একটি গবেষণাপত্রের কথা বলা হয়েছে। আল-আসি এখানে বলেছেন -


‘রাজনীতির পশ্চিমা সংজ্ঞা কলঙ্কিত এবং কলুষিত। আর রাজনীতির ইসলামী সংজ্ঞা পরিষ্কার এবং সুস্থ। (মুসলিমদের উচিৎ) কুফরি ব্যবস্থার পতন ঘটানো, এবং কথিত ‘আধুনিক ও উন্নত বিশ্ব’এর অংশ হওয়া থেকে বিরত থাকা। (কারণ ‘আধুনিক’ আর ‘উন্নত’ বিশ্বে) পুঁজিবাদ আর মুক্তবাজার অর্থনীতির মতো গালভরা নাম দিয়ে অর্থনৈতিক শোষনকে জায়েজ করা হয়।’


এর কাছাকাছি বক্তব্য অনেক কমিউনিস্টের আছে। এর চেয়ে আরো অনেক বেশি ‘গরম’ কথাবার্তা অনেক মার্ক্সিস্ট অ্যাকাডেমিক অনেক সময় বলেছে। আজো বলে। তাদের কথা উগ্রবাদ না। কিন্তু মুহাম্মাদ আল-আসির কথা উগ্রবাদী। এই বক্তব্য কেন উগ্রবাদী? কারণ এর মাধ্যমে পশ্চিমা রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। আর র‍্যান্ডের মতে এগুলো উগ্র মৌলবাদী ইসলামের সুস্পষ্ট নিদর্শন।


এরকম আরো উদাহরণ দেয়া সম্ভব। কিন্তু আশা করি মূল পয়েন্টটা পাঠক বুঝতে পেরেছেন। উগ্র মৌলবাদ বলতে র‍্যান্ড আসলে আদি ও অকৃত্রিম ইসলামকে বোঝাচ্ছে। যারা মনে করে ইসলাম শুধু কিছু বিশ্বাস, ইবাদত আর আচার-অনুষ্ঠানের নাম না, বরং ইসলাম হল একটি পলিটিকো-সোশিও-একোনমিক সিস্টেম। একটি সম্পূর্ণ জীবন ব্যবস্থা, একটি শাসন ব্যবস্থা’ – তারাই মৌলবাদী। যারা মনে করে যে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আল্লাহ্‌র যমিনে আল্লাহ্‌র আইন বাস্তবায়ন করতে হবে, তারা মৌলবাদী। যারা এনলাইটেনমেন্টের মূল্যবোধগুলোকে সর্বজনীন মনে করে না, যারা লিবারেলিসম এবং সেক্যুলার হিউম্যানিসমকে ইসলামের সাংঘর্ষিক মনে করে এবং এই দর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে তারা মৌলবাদী। যারা অ্যামেরিকা নিয়ন্ত্রিত বিশ্বব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী ব্যবস্থা আনতে চায় তারা উগ্রবাদী। যারা লিবারেল ক্রুসেইডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তাঁরা উগ্রবাদী। আর যারা এর উল্টোটা তারা হল মডারেট। অ্যামেরিকা আর পশ্চিমের গৃহপালিত ‘মুসলিম’। ইসলামের বিরুদ্ধে পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়নের এজেন্ট, দালাল, পশ্চিমা রাজাকার কিংবা ভীত, স্বন্ত্রস্ত, কাপুরুষ সহযোগী। এই হল বিভিন্ন গালভরা কথাবার্তার আড়ালে র‍্যান্ডের মূল বক্তব্য।


গত পর্বে আমরা ‘লর্ড ক্রোমার’রের কথা বলেছিলাম। ক্রোমারের মতে ‘ইসলামিসম’ (ইসলামপন্থা) হল - ইসলামী শরীয়াহ এবং শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামী সভ্যতা গড়ার আকাঙ্ক্ষা। ক্রোমারের ভাষায় - কেবল মোহাম্মাদান নীতিমালা আর প্রাচ্যীয় ধ্যানধারণার ভিত্তিতে গড়া সরকারকে ইউরোপ মেনে নিবে, এমন ধারণা করাই হাস্যকর। অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ এর সাথে জড়িয়ে আছে, (তাই এমন কিছু মেনে নেয়া সম্ভব না)’। ক্রোমার ‘ইসলামিসম’ এর যে সংজ্ঞা দিয়েছিল তার সাথে র‍্যান্ডের দেয়া উগ্র মৌলবাদী ইসলাম এর তেমন কোন মৌলিক পার্থক্য নেই। মূল এজেন্ডা সেই একই। শত বছরের পার্থক্যে খুঁটিনাটি কিছু বিষয় বদলেছে কেবল।


মডারেট মুসলিমের বৈশিষ্ট্য

আলোচনা করছিলাম, ‘মডারেট ইসলাম’ নিয়ে র‍্যান্ডের প্রথম প্রতিবেদন নিয়ে। গত পর্বে কথা বলেছিলাম, ‘মডারেট ইসলাম’ কিংবা ‘সিভিল ডেমোক্রেটিক ইসলাম’ তৈরির কারণ নিয়ে। সেই সাথে আমরা আলোচনা করেছিলাম র‍্যান্ড কর্পোরেইশানের দেয়া ‘উগ্র মৌলবাদ’-এর সংজ্ঞায়ন নিয়ে।


আজ আলোচনা করবো অ্যামেরিকা কোন ধরণের ইসলাম ও মুসলিম তৈরি করতে চায়, তা নিয়ে। একজন মডারেট মুসলিমের বৈশিষ্ট্য কী কী হবে, সেটা র‍্যান্ডের প্রতিবেদনে রীতিমতো ছক টেনে দেখানো হয়েছে। আজ আমরা সেই অংশের দিকে মনোযোগ দেবো। র‍্যান্ডের এই প্রতিবেদনে ১১ টি ইস্যু চিহ্নিত করা হয়েছে। র‍্যান্ডের ভাষ্যমতে এই ইস্যুগুলোতে কে কোন অবস্থান গ্রহণ করছে তা থেকে তার আদর্শিক কাঠামো এবং ঝোঁকটা বোঝা যায়। আর একবার এই দুটো ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে গেলে, তাদের কাজে লাগানো যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেয়া অ্যামেরিকার জন্য সহজ হয়ে যাবে। তাই এ ১১টা ইস্যু হল র‍্যান্ডের মতে মার্কার ইস্যু।


এমন ইস্যু ১১টার মধ্যে সীমাবদ্ধ না। সংখ্যাটা ১১ এর চেয়ে কমবেশি হতে পারতো। তবে র‍্যান্ড মনে করে, ইস্যুগুলোর দিকে তাকানো মুসলিমদের মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্ত হবে।


এই ১১টা মার্কার ইস্যু হল –


১) গণতন্ত্র,

***২) মানবাধিকার ও ব্যাক্তিস্বাধীনতা, ***

***৩) বহুবিবাহ, ***

***৪) হুদুদ, ***

***৫) হিজাব, ***

৬) প্রয়োজনে স্ত্রী-কে আঘাত করার বিধান,

***৭) কাফিরদের অবস্থান, ***

***৮) ইসলামী রাষ্ট্র, ***

***৯) পাবলিক অঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ, ***

***১০) [জি]হাদ, ***

১১) চিন্তাধারার উৎস


পুরো মুসলিম বিশ্বকে র‍্যান্ডের এই রিপোর্টে মোটা দাগে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে – উগ্র মৌলবাদী, ট্র্যাডিশানালিস্টস বা রক্ষণশীল, মডার্নিস্ট, এবং সেক্যুলার। প্রত্যেক ইস্যুতে কোন মুসলিমদের কেমন অবস্থান সেটা র‍্যান্ডের প্রতিবেদনে টেবিল আকারে দেখানো হয়েছে। আগেই বলা হয়েছে, র‍্যান্ডের পুরো আলোচনার কাঠামো গড়ে উঠেছে ‘উগ্র মৌলবাদ’ দমন ও এর সংজ্ঞার ওপর। অ্যামেরিকার কাছে সবচেয়ে অগ্রহণযোগ্য মুসলিম হল ‘উগ্র মৌলবাদীরা’। অন্যদিকে অ্যামেরিকার কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হল মডার্নিস্ট এবং সেক্যুলারিস্টরা। র‍্যান্ডের ভাষ্যমতে –


‘মডার্নিস্ট এবং সেক্যুলারিস্টরা মূল্যবোধ এবং পলিসির দিক থেকে পশ্চিমের সবচেয়ে কাছাকাছি।’


অর্থাৎ অ্যামেরিকার কাছে ‘খারাপ ইসলাম’ হল উগ্র মৌলবাদীদেরটা। আর ‘ভালো ইসলাম’ হল মডার্নিস্টদেরটা।


আমরা এখানে প্রতিটি ইস্যুর ক্ষেত্রে এই দুই অবস্থান তুলে ধরবো। আমরা দেখবো এই ১২টি ইস্যুর ক্ষেত্রে কোন অবস্থান অ্যামেরিকার কাছে ‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান হিসেবে বিবেচিত আর কোন অবস্থান ‘গ্রহণযোগ্য’।


[১] গণতন্ত্র


‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান - গণতন্ত্র ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, আল্লাহ্‌র আইন দিয়ে শাসন করা আবশ্যিক, আল্লাহ্‌র আইনকে বাতিল করে তার বিপরীতে মানুষ আইন প্রণয়ন করতে পারবে না, বিধান প্রণয়নের অধিকার এক আল্লাহ্‌র।


অ্যামেরিকা কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান - গণতন্ত্রকে মেনে নিতে হবে। বরং ইসলামের ভেতরেই গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণা আছে। সেগুলোকে সামনে নিয়ে আসতে হবে।


তবে, ‘গণতন্ত্র মানে শূরা’, ‘ইসলামী গণতন্ত্র’, ইত্যাদি দুই কূল রাখা অবস্থান গ্রহণযোগ্য না। র‍্যান্ড পুরো প্রতিবেদনে পরিষ্কার করে দিয়েছে যে গণতন্ত্রকে হতে হবে পশ্চিমের দেয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী আদি ও অকৃত্রিম গণতন্ত্র। অর্থাৎ ইখওয়ানুল মুসলিমীন কিংবা অর্থোডক্স জামাআতে ইসলামী-র মতো হলে হবে না। কমসেকম আন-নাহদা, জনআকাঙ্ক্ষা এবং/অথবা সংস্কারপন্থী জামাআত, কিংবা একেপার্টির মতো হতে হবে, এবং সেটাও হয়তো সবসময় যথেষ্ট হবে না।।


[২] হুদুদ (ইসলামী দন্ডবিধি)


‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান - শরীয়াহর অপরিবর্তনীয়, আবশ্যকীয় এবং অলঙ্ঘনীয় অংশ। ন্যায়বিচার, ইনসাফ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মহান আল্লাহ্ যে শরীয়াহ নাযিল করেছেন তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।


অ্যামেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান –এই শাস্তিগুলো সেকেলে, অথবা ১৪০০ বছর আগের সমাজ আর প্রেক্ষাপটের জন্য উপযুক্ত, অথবা এগুলোকে শুরু থেকেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আজকের পৃথিবীতে হুদুদ বাস্তবায়ন করা উচিৎ না।


**[৩] মানবাধিকার এবং ব্যাক্তিস্বাধীনতা**


‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান - এই ধারণাগুলো ভুল এবং ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। বস্তুবাদী এবং অনেকে ক্ষেত্রে নাস্তিক্যবাদী কিংবা সংশয়বাদী দর্শনের জায়গা থেকে তৈরি করা, তাই পরিত্যাজ্য। ব্যক্তি এবং সমাজের কল্যাণের জন্য, সঠিক এবং পরিপূর্ণভাবে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত হওয়া যথেষ্ট।


অ্যামেরিকা কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান - পশ্চিমা বিশ্ব যে মানবাধিকার এবং ব্যাক্তি স্বাধীনতার কথা বলে, সেগুলোর প্রাথমিক কনসেপ্ট ইসলামের আছে। তাই পশ্চিমা অর্থে মানবাধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা মেনে নিতে কোন সমস্যা নেই। বরং এটাই ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসলাম ব্যাক্তিকে গুনাহ করার স্বাধীনতাও দেয়।


[৪] ইসলামী রাষ্ট্র


‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান - আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র হবে বৈশ্বিক এবং গত শতাব্দীতে তৈরি করা জাতীয়তাবাদী সীমান্তের সীমানা থেকে মুক্ত। ইসলামী রাষ্ট্র রাষ্ট্র ও সমাজে শরীয়াহর বিধান প্রতিষ্ঠা করবে। যেসব বিষয়ে ব্যাপারে শরীয়াহর স্পষ্ট বক্তব্য নেই, সেগুলোর ব্যাপারে আলিমগণের পরামর্শের সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


অ্যামেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান – ইসলাম রাষ্ট্র হিসেবে আসেনি। ইসলামী রাষ্ট্রের কোন কনসেপ্ট নেই। ইসলাম কোন জীবনযাপনের কিছু মূলনীতি এবং দর্শন। ব্যক্তি তার ইচ্ছে মতো সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রাখে। আর এর তার সিদ্ধান্ত আর কাজের দায়ভারও তার।


**[৫] বহুবিবাহ**


‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান – জায়েজ। এই বিধানে কোন সমস্যা নেই, আল্লাহর নাযিলকৃত শরীয়াহর অন্য সব অংশের মতো এই বিধানও নিখুত। একই সাথে এই বিধান পশ্চিমা অনৈতিকতা, বহুগামীতা এবং সিরিয়াল ডিভোর্সের সমাধান।


অ্যামেরিকা কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান – বহুবিবাহ জায়েজ না। সেকেলে, পশ্চাৎপদ প্রথা, যেমনটা অন্যান্য ধর্মে দেখা যায়। এমনকি নববী যুগেও বহুবিবাহকে আদর্শ অবস্থান মনে করা হতো না। প্রয়োজনের খাতিরে মেনে নেয়া হয়েছিল। এমনকি রাসূলুল্লাহ ﷺ এই প্রথা রহিত করার চেষ্টা করছিলেন, এমন প্রমাণও আছে।


**[৬] পাবলিক অঙ্গনে নারীর অংশগ্রহণ**


‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান – ঘরের বাইরে নারী ও পুরুষের মেলামেশার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ মাত্রায় পৃথকীকরণ বজায় রাখতে হবে। নারীর মূল অবস্থান ও ভূমিকা তার ঘরে। তাকে পাবলিক ডোমেইন থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে। নারী নেতৃত্ব জায়েজ না।


অ্যামেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান – সব পেশায়, সব ভূমি এবং সব ধরণের অবস্থানে নারী অংশগ্রহণ করতে পারবে। 'নববী যুগে এমনই হয়েছিল'।


**[৭] হিজাব**


‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান – মেয়েদের জন্য পর্দা করা ফরয। নারীরা যেন এই বিধান মেনে চলে সেই চেতনা তাদের মধ্যে তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেয়া সমাজের দায়িত্ব। এই বিধান পাবলিক প্লেইসে পালিত হচ্ছে কি না, সেটা নিশ্চিত করা ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব।


অ্যামেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান – ইসলাম নারীদের জন্য কোন ধরণের পর্দা করার বা মাথা ঢেকে রাখার বিধান দেয় না। এই জাতীয় বিধানের পক্ষে কোন দালীলিক প্রমাণ নেই। কে কী পড়বে না পড়বে, সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। তার ব্যক্তি স্বাধীনতার ব্যাপার। পুরুষরা যদি নারীদের দিকে ঐভাবে তাকায় তাহলে সেটা নারীর দোষ না। বরং কুরআনে পুরুষকে ‘দৃষ্টি অবনত রাখতে’ বলা হয়েছে।


উল্লেখ্য এটা র‍্যান্ডের ২০০৩ সালে প্রকাশিত প্রথম প্রতিবেদনের অবস্থান। পরের ১৭ বছরে এই অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন মনে করা হয়, যদি কোন নারী তার ‘মুসলিম পরিচয়’ বা আইন্ডেন্টিটিকে আকড়ে ধরার জন্য, কিংবা (শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের বিরুদ্ধে) কোন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের জন্য, কিংবা নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে স্বেচ্ছায় মাথায় স্কার্ফ (‘হিজাব’) পড়ে, তাহলে সেটা ঠিক আছে। অর্থাৎ সে ব্যক্তি স্বাধীনতার অনুশীলন হিসেবে মাথায় স্কার্ফ পড়তে পারে। তবে তাকে জোর করার অধিকার কারো নেই (বাবা, ভাই, স্বামী, সমাজ, রাষ্ট্র)। হিজাব ‘চয়েস’ হিসেবে গ্রহণ করলে ঠিক আছে। আল্লাহ্‌র হুকুম হিসেবে পালন করা যাবে না।


**[৮] [জি]হাদ**


‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান – [জি]হাদের বিভিন্ন স্তর আছে। কিন্তু আগ্রাসী শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বব্যাপী চলা লড়াইয়ে সাধ্যমত অংশগ্রহণ করা আবশ্যক। এই লড়াইয়ের পদ্ধতি হতে পারে ক্লাসিকাল ওয়ারফেয়ার (প্রচলিত যুদ্ধ), ইনসার্জেন্সি (গেরিলা যুদ্ধ) কিংবা টেরোরিসম (ট্যাকটিকাল বা রণকৌশলগত অর্থে/অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার)।


অ্যামেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান – [জি]হাদ একটি রূপক শব্দ। এর দ্বারা আধ্যাত্মিক সাধনা ও উন্নয়নের জন্য প্রচেষ্টাকে বোঝানো হয়।


[৯] প্রয়োজনে স্ত্রীকে আঘাত করা


‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান – জায়েজ। পরিবারের ব্যাপারে আল্লাহ্‌ যে বিধানগুলো দিয়েছেন তার অন্তর্ভুক্ত।


অ্যামেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান – জায়েজ না। এটা স্পটতই ইসলামের স্পিরিটের সাথে সাংঘর্ষিক। এবং যারা এটাকে জায়েজ বলেছে তারা আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করেছে।


**[১০] কাফিরদের অবস্থান**


‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান – ইসলামী রাষ্ট্রে তাদের অবস্থান মেনে নেয়া হবে। তবে তারা প্রকাশ্যে তাদের ধর্ম প্রচার করতে পারবে না। ঈমান ও কুফর সমান না। তাই মুসলিম ও কাফিরদের ব্যাপারে আইন, শরীয়াহর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলাদা হবে।


অ্যামেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান – মুসলিমদের সমান হিসেবে গণ্য করতে হবে।


**[১১] চিন্তাধারার উৎস**


‘উগ্র মৌলবাদী’ অবস্থান - কুরআন, সুন্নাহ, 'উগ্রবাদী লেখক ও ক্যারিশম্যাটিক নেতাদের 'অবস্থান। খুঁটিনাটি সব বিষয় ইসলামী শরীয়াহর অধীনে পরিচালিত সমাজ গঠনের যে চিন্তা তার সাথে মিলিয়ে সমাধান করা।


অ্যামেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান – কুরআন, সুন্নাহ, ঐতিহাসিক এবং বর্তমান সময়ের দর্শন। আধুনিক আইন, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ।


* * *

এই হল অ্যামেরিকার মতে ‘উগ্র মৌলবাদী' মুসলিম আর অ্যামেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য ‘মডারেট মুসলিম’ এর বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি ইস্যুতে ঐ অবস্থানকে ‘উগ্র মৌলবাদী’ বলা হচ্ছে যার ভিত্তি হল কুরআন সুন্নাহ, প্রথম তিন প্রজন্মের দৃষ্টান্ত এবং প্রথম ১৩০০ বছরের উলামায়ে কেরাম এর অবস্থান। যাদেরকে ‘উগ্র মৌলবাদী’ বলা হচ্ছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করার জন্য র‍্যান্ড এও বলেছে যে তাদের চিন্তার ভিত্তি হল বিভিন্ন ‘উগ্রবাদী লেখক ও ক্যারিশম্যাটিক নেতাদের অবস্থান’। কিন্তু ওপরের অন্যান্য পয়েন্টগুলো থেকে যে কেউ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন যে বহুবিবাহ, হিজাব, হুদুদ, ইসলামী রাষ্ট্র, [জি]হাদ, আল্লাহর আইন ব্যাতীত অন্য আইন দ্বারা শাসন, কোন ক্ষেত্রেই ‘উগ্র মৌলবাদী’দের অবস্থানের সাথে ক্লাসিকাল অবস্থানের কোন পার্থক্য নেই।


উল্লেখ্য, র‍্যান্ডের দেয়া এই মাপকাঠিকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক হবে না। আলোচনাটা দুয়েক লাইনে নামিয়ে আনার চেষ্টা সবসময়ই কাউন্টার প্রোডাক্টিভ। কারো মধ্যে কোন একটি বিষয়ে এক বা দুটি মডার্নিস্ট অবস্থান পেলে তাকে মডারেট বলে দেয়া ভুল। একইভাবে এক দুটো পয়েন্ট কেউ র‍্যান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী 'উগ্রবাদী' অবস্থান গ্রহণ করলে সে 'মডারেট ইসলাম' অনুসরণ বা প্রচার করে না, এমন উপসংহার টানাও ভুল। এর ভালো দুটো উদাহরণ হল বহুবিবাহ এবং হিজাব। বর্তমান পৃথিবীতে যারা মডারেট ইসলাম প্রচারের রথী-মহারথী তাদের বেশির ভাগ এই দুটো অবস্থানে 'উগ্র মৌলবাদী'। ‍আমরা এখানে আপাতত শুধু র‍্যান্ডের দেয়া শ্রেনীবিভাগ আর মাপকাঠি তুলে ধরলাম। মুসলিম হিসেবে আমরা কিভাবে যাচাইবাছাই করবো সেই আলোচনা ইন শা আল্লাহ্‌ পরের পর্বগুলোতে আসবে।


মজার ব্যাপারটা হল এই ১১টা ইসুর সবগুলো কিন্তু র‍্যান্ডের ভাষায় ‘রাজনৈতিক কিংবা আদর্শিক’ ইস্যু না। বরং এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ইস্যু হল ব্যক্তিগত জীবনাচার, বিশ্বাস কিংবা বিধানের সাথে যুক্ত। [জি]হাদ, গণতন্ত্র, ইসলামী রাষ্ট্র – এগুলো নিয়ে অ্যামেরিকা এবং পশ্চিমা লিবারেল ক্রুসেইডারদের যে সমস্যা আছে তা তো জানা কথা। কিন্তু, বহুবিবাহ, হিজাব, ইসলামের উৎস, মানবাধিকার, ব্যাক্তিস্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়ে অ্যামেরিকার কী সমস্যা? এগুলোকে মার্কার ইস্যু হিসেবে আনার কারণ কী?


এই প্রশ্নের দুটো উত্তর আছে। একটা উত্তর র‍্যান্ডের প্রতিবেদনে সরাসরি বলে দেয়া আছে, অন্য উত্তরটা সরাসরি বলা হয়নি। আমরা আগে র‍্যান্ডের দেয়া উত্তরটা দেখি।


র‍্যান্ডের মতে, অনেক সময় বিশ্বরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কিংবা আঞ্চলিক চাপের কারণে অনেক মুসলিম শক্তির ব্যাবহার বা সশস্ত্র পন্থার ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান গোপন করে। অথবা এসব ব্যাপারে অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থক কথাবার্তা বলে। কিন্তু এখানে যেসব ‘লাইফস্টাইল’ কিংবা ‘বিশ্বাসগত’ (ডকট্রিনাল) ইস্যু আনা হয়েছে (বহুবিবাহ, হিজাব, চিন্তাধারার উৎস, মানবাধিকার ইত্যাদি) সেগুলোর ক্ষেত্রে নিজেদের প্রকৃত অবস্থান গোপন করা তাদের পক্ষে সম্ভব না। কারণ এবিষয়গুলো তাদের পরিচয়, আদর্শের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাই এই ধরণের বিষয়গুলোকে মার্কার হিসেবে নিয়ে আসা দরকার। এগুলো ফিল্টার হিসেবে কার্যকরী।


এবার অন্য কারণটা বলি, যেটা র‍্যান্ড সরাসরি বলেনি। ইসলামকে পশ্চিমা বিশ্ব শুধু একটা রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখে না। ইসলামকে তারা এক আদর্শিক এবং সভ্যতাগত শত্রু মনে করে। তারা মনে করে ইসলাম তাদের গড়া লিবারেল-সেক্যুলার বিশ্বব্যবস্থার জন্য হুমকি। ইসলাম শুধু তাদের রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক আগ্রাসনকে প্রত্যাখ্যান করে না, বরং ইসলাম তাদের সভ্যতার মৌলিক দর্শনকে অস্বীকার করে। ইসলাম তাদের এনলাইটেনমেন্ট এবং মডার্নিটির দর্শনের বিরুদ্ধে।


‘উগ্রবাদ’ হল এমন সবকিছু যা আধুনিক গণতন্ত্র, লিবারেল সেক্যুলার মূল্যবোধ, এবং অ্যামেরিকার প্রতি শত্রুভাবাপন্ন। তাই তারা ইসলামের এমন কিছু বিষয় এই লিস্টে নিয়ে এসেছে যেগুলো লিবারেল অবস্থানের সাংঘর্ষিক। যতোক্ষণ কোন মুসলিম এসব বিষয়ে ইসলামের অবস্থান আকড়ে থাকবে ততক্ষণ সে পাশমার্ক পাবে না। [জি]হাদ, ইসলামী রাষ্ট্র, গণতন্ত্রের মতো ইস্যুগুলোতে অ্যামেরিকার পছন্দের অবস্থান গ্রহণ করলে, কিংবা চুপ থাকলে হয়তো তাদেরকে সীমিত সময়ের জন্য সহ্য করা হবে। কিন্ত ইসলামের সাথে পশ্চিমা সভ্যতার যেখানে যেখানে সংঘর্ষ, সেখানে ইসলামের মূলনীতি ছেড়ে না দিলে হবে না। ইসলামকে লিবারেল-সেক্যুলার ফ্রেইমওয়ার্ক অনুযায়ী নতুন করে ব্যাখ্যা না করলে তারা অ্যামেরিকা এবং পশ্চিমের কাছে কখনো পুরোপুরিভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।


দিনশেষে আদি ও অকৃত্রিম ইসলামী হল অ্যামেরিকা ও পশ্চিমের কাছে ‘উগ্র মৌলবাদ’। আর যে চিন্তাধারা, যে সব ফতোয়া, যেসব পদ্ধতি লিবারেল-সেক্যুলার কাঠামোর সাথে খাপ খাইয়ে নেয়, এবং এই কাঠামোর অনেক প্রস্তাব ও অবস্থানকে মেনে নিয়ে সেগুলোর আলোকে ইসলামকে নতুন করে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে, সেটাই অ্যামেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য।

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...