শিবির না থাকলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যর্থ হত,লেখক দিপা মনি।
একমাত্র শিবিরের রণ-কৌশলের কারনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সফলতা লাভ করে, হাঁচিনা পালিয়ে যেতে বাধ্যে হয়। আমার এই লেখাটির কারনে আমার পাঠকেরা আমাকে রাজাকার উপাধী দিতে একমূহর্ত দেরী করবেনা। আমি নিরপেক্ষ অবস্থান হতে হাঁচিনা পালিয়ে যাওয়া অবদি আন্দোলনকে বিশ্লেষন করেছি, আপনি চাইলে দ্বিমত পোষন করতে পারেন।
এখানে ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র-ইউনিয়ন সহ কোন ছাত্র সংগঠনেরই সংগঠিত, সু-চিন্তিত মূভমেন্ট ছিলনা। আন্দোলন যখন তুঙ্গে উঠে, সে সময়ে যেকোন উপায়ে একে ধ্বংস করা বা ছাত্রদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিদা দিয়ে কিনে নেয়া সহ প্রয়োজনে ঘুম করার সকল শক্তি নিয়েই সরকারের ৩টি বিভাগ মাঠে নেমেছিল।
সরকারের এই পরিকল্পনায় দেখে দেখে সমন্বয়কদের আটক ও টোপ দেয়ার প্রক্রিয়ায় ৯ জন কেন্দ্রিয় সমন্বয়ক সরকারের ফাঁদে পা দিয়ে জাতীর সাথে বিশ্বাস ঘাতকতায় চুড়ান্ত সির্দ্বান্ত নিয়ে ফেলে। প্রতিটি জায়গায় আটক, হামলা-মামলায় সাধারন ছাত্ররা পিঁছিয়ে যাওয়া, লুকিয়ে যাওয়া সহ আন্দোলন থেমে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে চলে যায়।
কঠিন এই সময়ে ছাত্রশিবির এককভাবে তার জনশক্তিকে মাঠে নামিয়ে আন্দোলনকে সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে তুঙ্গে নিয়ে আসে। যে কয়েক জন সমন্নায়ক বেইমানি করতে চেয়েছিলো, শিবিরের কারনে তারা আর পারে নাই। যত ছাত্র মারা গিয়েছে, তাদের বেশিরভাগই ছাত্র শিবির জনতার। হামলা-মামলায়, আটকে ৭০% ছিল ছাত্র শিবির ও জামাতের এবং তাদের অনূসারীদের।
এখানে আন্দোলনের সফলতা দাবী করলে সেটি একমাত্র শিবির দাবী করতে পারে, অন্যরা পরে। শিবির নিজের ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে এগিয়ে আসলে সেখানে সবাইর আগে ছাত্রদল বেঈমানী করত। ছাত্রদল ছাত্রলীগ হতে হিংস্রতায় অনেক অগ্রগামী, তারা ছাত্রলীগকে সহ্য করেতে পারে কিন্ত শিবিরকে নয়। তাই স্বৈরাচার হাঁচিনার পতনে যেসব ছাত্রকে সাধারণ ছাত্ররা নিরপেক্ষ জানে, তাদেরকে সামনে এনে শিবিরই প্রথমে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনটি দাঁড় করায়। অন্যরা বিক্রি হয়ে গেলেও শিবির এককভাবে আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যায় এবং হাঁচিনা পালাতে বাধ্য হয়।
৫ তারিখ হাঁচিনার পতনের দিন শিবিরের ছেলেরা বাড়ী-ঘর থেকে শেষ বিদায় নিয়ে আসে। তারা সেদিন বুকে ষ্টিলের প্লেট, ব্যাগে পানির বোতল, রুমাল, প্রয়োজনীয় সামগ্রি নিয়ে ৫টি স্তর মেইন্টেন করে কারা প্রথমে থাকবে, ২য় ফ্রন্টে কারা, তয় লাইনে কারা, চতুর্থ লাইনে কারা, ৫ম ষ্টেজে এ্যাম্বুলেন্স, নার্স, রিলিফ টিম সহ এক সামরিক ষ্টেজ আদলে বঙ্গবভনের দিকে এগিয়ে যায়, যেটি সাধারণ ছাত্রদের পক্ষে সম্ভব নয়। আবার ছাত্রদল বা অন্যকোন দলের পক্ষেও সম্ভব নয়, হলে সেটি সরকার জেনে যেত। অন্যদলের ভিতরে সরকারের গোয়েন্দা যত সহজে ঢুকতে পারে, শিবিরের ভিতরে তত সহজ নয়।
৫ তারিখের অভিযানটি শিবির খুব দক্ষতার সাথে গোপন রাখতে সক্ষম হয়। বিএনপি বিগত ১৫ বছরে সরকারের ১টি চুলও চিড়তে পারেনি, ৫ই আগষ্টের বিপ্লবে অনেক পরে এসে তারা গা লাগিয়ে দেয়। শিবিরের সে সময়ে সকল শক্তিকে মাঠে নামানো ও জনতার সমর্থন খুব দরকার ছিল। তাই নিজেদের ক্রেডিট ও পরিছয়কে যতটুকু সম্ভব লুকিয়ে সাধারন ছাত্রদের ব্যানারকে সামনে রেখে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং জনগণও রাস্তায় নেমে আসে। এটাই শিবিরের সফলতা, তারা নিজেদের প্রচারের ছেয়েও সরকার পতনের চেষ্টায় বেশি ব্যাস্ত ছিল, কারন তাদেরকে ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। আন্দোলনটি তাদের বাঁচা মরারমত ছিল, বিএনপির কোন দায়বদ্ধতা ছিলনা, কারণ তাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়নি।
যদি বাংলাদেশকে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক, নাগরিক অধিকার ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে হয় তাহলে প্রথমেই এদেশের সব রাজনৈতিক, সামাজিক, সুশীল দল, গ্রুপ, ব্যাক্তিকে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবিরকে মেনে নিতে হবে।এদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নাগরিক অধিকারের লিটমাস টেস্ট হলো জামায়াত-শিবির।আপনি সুশীল ভাব দেখাবেন কিন্তু জামায়াত-শিবিরকে সহ্য করতে পারবেন না, তাতে এটাই প্রমাণিত আপনি আসলে ফ্যাসিবাদী।
যদিও আমি দিপামনি জামাত-শিবিরের রাজনিতীকে পচন্দ করিনা, কিন্ত তাদের আদর্শ, সততা ও রণকৌশলকে পচন্দ করি। হাঁচিনার পতনে সিংহ ভাগ সফলতার দাবীদার জামায়াত-শিবির, তাদের কারনেই ২য় বিপ্লব সফলতা লাভ করেছে, কিন্ত তাদের এই সফলতার সুফল ভোগ করবে অন্যরা। আপনি এই সত্যকে মেনে নিতে না পারলে আপনি একজন জ্ঞানপাপী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ