প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ কূটনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভক্তির ইতিহাস
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এবং আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের সংকট: প্রতিশ্রুতি, বিভাজন ও ভূ-রাজনীতির ইতিহাস
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪–১৯১৮) শুধু ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্রই বদলে দেয়নি; এটি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসকেও আমূল পরিবর্তন করে। যুদ্ধ চলাকালে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নীতি ছিল একাধারে কৌশলগত, দ্বৈতধর্মী এবং গভীরভাবে সাম্রাজ্যবাদী। ব্রিটেনের প্রধান লক্ষ্য ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের পতন নিশ্চিত করা, ভারতমুখী সামুদ্রিক ও স্থলপথের নিরাপত্তা বজায় রাখা, সুয়েজ খালের ওপর নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ রাখা এবং নবআবিষ্কৃত তেলসম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা।
ইতিহাসবিদ ডেভিড ফ্রমকিন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ A Peace to End All Peace-এ লিখেছেন:
“The Middle East that emerged from the First World War was not the fulfillment of ancient identities, but the product of European imperial diplomacy.”
এই সময় ব্রিটিশরা একই সঙ্গে আরবদের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয়, ফ্রান্সের সঙ্গে গোপনে অঞ্চল ভাগাভাগির চুক্তি করে এবং ফিলিস্তিনে ইহুদি জাতীয় আবাস প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও প্রদান করে। এই পরস্পরবিরোধী নীতির ফলেই আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সংকট, সীমান্তবিরোধ, আরব-ইসরায়েল সংঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী অবিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি হয় বলে বহু গবেষক মনে করেন।
১. হুসাইন–ম্যাকমোহন পত্রালাপ (১৯১৫–১৯১৬): স্বাধীন আরব রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোমান সাম্রাজ্য জার্মানির পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিলে ব্রিটিশরা বুঝতে পারে যে আরবদের সমর্থন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে তুর্কিদের দুর্বল করা কঠিন হবে। এই প্রেক্ষাপটে মিশরে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্যার হেনরি ম্যাকমোহন এবং মক্কার শরীফ হুসাইন বিন আলীর মধ্যে একাধিক গোপন চিঠি আদান-প্রদান হয়।
ব্রিটিশ প্রতিশ্রুতি
ম্যাকমোহনের চিঠিগুলোতে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, যদি আরবরা অটোমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, তবে যুদ্ধশেষে একটি স্বাধীন আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে ব্রিটেন সমর্থন করবে। আরব নেতারা ধারণা করেছিলেন, এই রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হবে সিরিয়া, ইরাক, হিজাজ এবং ফিলিস্তিনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
ইতিহাসবিদ ইউজিন রগান লিখেছেন:
“The Arabs entered the war believing Britain had pledged support for Arab independence.”
আরব বিদ্রোহ
১৯১৬ সালে শরীফ হুসাইনের নেতৃত্বে “Arab Revolt” শুরু হয়। ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা টি. ই. লরেন্স—যিনি “Lawrence of Arabia” নামে পরিচিত—আরব বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আরব গেরিলা বাহিনী হিজাজ রেললাইন ধ্বংস এবং অটোমান সামরিক ঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে তুর্কি প্রতিরক্ষা দুর্বল করে।
লরেন্স তাঁর Seven Pillars of Wisdom-এ লেখেন:
“The Arab movement was our main tactical weapon against the Turks.”
প্রতিশ্রুতির ভঙ্গ
যুদ্ধ শেষে আরবরা স্বাধীনতার প্রত্যাশা করলেও বাস্তবে ব্রিটেন ও ফ্রান্স মধ্যপ্রাচ্যকে নিজেদের প্রভাববলয়ে ভাগ করে নেয়। ফলে আরবদের মধ্যে ব্রিটিশদের প্রতি “betrayal narrative” বা বিশ্বাসঘাতকতার ধারণা গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. সাইকস–পিকট চুক্তি (১৯১৬): গোপন ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র
হুসাইন–ম্যাকমোহন আলোচনার সমান্তরাল সময়েই ব্রিটেন ও ফ্রান্স মধ্যপ্রাচ্য ভাগাভাগির গোপন পরিকল্পনা করছিল। ১৯১৬ সালের এই গোপন চুক্তির মূল স্থপতি ছিলেন ব্রিটিশ কূটনীতিক স্যার মার্ক সাইকস এবং ফরাসি প্রতিনিধি ফ্রঁসোয়া জর্জেস-পিকট।
চুক্তির মূল বিষয়
চুক্তি অনুযায়ী:
- সিরিয়া ও লেবানন ফরাসি প্রভাববলয়ে যাবে;
- ইরাক ও জর্ডানের বৃহৎ অংশ ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকবে;
- ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক প্রশাসনের অধীনে রাখার প্রস্তাব করা হয়;
- আরবদের প্রকৃত স্বাধীনতার সুযোগ সীমিত রাখা হয়।
ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ জেমস বার লিখেছেন:
“Sykes-Picot became the symbol of imperial duplicity in the Arab world.”
চুক্তি ফাঁস
১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের পর রাশিয়ার নতুন সরকার জার আমলের গোপন নথিপত্র প্রকাশ করে দেয়। এর মাধ্যমে সাইকস–পিকট চুক্তির বিষয় বিশ্ববাসীর সামনে আসে। আরব নেতারা বুঝতে পারেন যে স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতির আড়ালে ইউরোপীয় শক্তিগুলো অঞ্চল ভাগাভাগির পরিকল্পনা করছিল।
৩. বেলফোর ঘোষণা (১৯১৭): ফিলিস্তিন প্রশ্নের সূচনা
১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর ব্রিটিশ ইহুদি নেতা লর্ড রথচাইল্ডকে একটি ঐতিহাসিক চিঠি পাঠান, যা “Balfour Declaration” নামে পরিচিত।
ঘোষণার মূল বক্তব্য
চিঠিতে বলা হয়:
“His Majesty’s Government view with favour the establishment in Palestine of a national home for the Jewish people.”
এই ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটেন প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনে একটি “Jewish National Home” প্রতিষ্ঠাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়।
আরবদের প্রতিক্রিয়া
সমস্যা ছিল—একই ভূখণ্ড নিয়ে ব্রিটিশরা আগে আরবদের স্বাধীনতার আশ্বাস দিয়েছিল। ফলে আরবদের কাছে এটি দ্বৈত নীতি ও রাজনৈতিক প্রতারণার প্রতীক হয়ে ওঠে।
প্যালেস্টাইনি ইতিহাসবিদ রশিদ খালিদি মন্তব্য করেন:
“The Balfour Declaration ignored the political rights of the Arab majority in Palestine.”
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
বেলফোর ঘোষণার পর ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আরব–ইসরায়েল সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
৪. “Divide and Rule”: বিভাজনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ
বহু ইতিহাসবিদ মনে করেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে এমন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছিল যা দীর্ঘমেয়াদে বিভাজন ও সংঘাতকে উৎসাহিত করে।
বিভাজনের ধরন
- কুর্দিদের চারটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করা হয়;
- শিয়া-সুন্নি জনগোষ্ঠীকে একই রাষ্ট্র কাঠামোয় রাখা হয়;
- গোত্রীয় ও ধর্মীয় বাস্তবতা উপেক্ষা করে সীমান্ত টানা হয়।
ইতিহাসবিদ আলবার্ট হোরানি লিখেছেন:
“The new Arab states were often political constructions rather than natural nations.”
৫. “Lines in the Sand”: কৃত্রিম সীমান্তের জন্ম
মধ্যপ্রাচ্যের বহু সীমান্ত মানচিত্রে অস্বাভাবিকভাবে সোজা দাগের মতো দেখা যায়। এগুলোকে প্রায়ই “Lines in the Sand” বলা হয়।
কেন বিতর্কিত?
সীমান্ত নির্ধারণের সময় স্থানীয় জনগণের:
- ভাষা,
- গোত্রীয় পরিচয়,
- ধর্মীয় বাস্তবতা,
- ঐতিহাসিক সম্পর্ক
যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
ফলে:
- একই জাতিগোষ্ঠী ভিন্ন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়;
- ভিন্নমুখী সম্প্রদায়কে একই রাষ্ট্রে বসবাস করতে বাধ্য করা হয়।
এই কৃত্রিম রাষ্ট্র কাঠামো পরবর্তীতে সিরিয়া, ইরাক ও লেবাননের মতো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করে।
৬. সালাফি–ওয়াহাবি শক্তি, সৌদি উত্থান ও ব্রিটিশ ভূ-রাজনীতি
কিছু বিশ্লেষক দাবি করেন, ব্রিটিশরা আরব অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে নির্দিষ্ট শক্তিকে সমর্থন দিয়েছিল।
সৌদি শক্তির উত্থান
ইবনে সৌদের নেতৃত্বে আরব উপদ্বীপে সৌদি শক্তির উত্থানে ব্রিটিশ যোগাযোগ ও সমর্থনের ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে। তবে মূলধারার ইতিহাসবিদরা এটিকে কেবল “ব্রিটিশ ষড়যন্ত্র” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন না।
মাদাওয়ি আল-রশিদ লিখেছেন:
“The rise of the Saudi state was rooted as much in tribal alliances and regional dynamics as in foreign support.”
অর্থাৎ, স্থানীয় ক্ষমতার রাজনীতি, গোত্রীয় বাস্তবতা এবং ধর্মীয় আন্দোলনও সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
৭. ম্যান্ডেট ব্যবস্থা: উপনিবেশবাদের নতুন রূপ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে লীগ অব নেশনস “Mandate System” চালু করে।
আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা
বলা হয়, আরব অঞ্চলগুলো এখনো স্বশাসনের জন্য প্রস্তুত নয়; তাই উন্নত শক্তিগুলো “অভিভাবক” হিসেবে শাসন করবে।
বাস্তবতা
- ব্রিটেন নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরাক, ট্রান্সজর্ডান ও ফিলিস্তিনের;
- ফ্রান্স নিয়ন্ত্রণ নেয় সিরিয়া ও লেবাননের।
আরবদের কাছে এটি ছিল উপনিবেশবাদের নতুন সংস্করণ।
জর্জ আন্তোনিয়াস লিখেছিলেন:
“The mandates were colonies in all but name.”
৮. তেল, সুয়েজ খাল ও সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতি
মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ আগ্রহের বড় কারণ ছিল ভূ-কৌশলগত ও অর্থনৈতিক।
তেলের গুরুত্ব
বিশ শতকের শুরুতে ব্রিটিশ নৌবাহিনী কয়লা থেকে তেলে রূপান্তরিত হচ্ছিল। ফলে পারস্য উপসাগর ও মেসোপটেমিয়ার তেলক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন:
“Safety and certainty in oil lie in variety and variety alone.”
সুয়েজ খাল
সুয়েজ খাল ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের “imperial lifeline”। ভারত ও পূর্ব উপনিবেশের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য এটি ছিল অপরিহার্য। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা ব্রিটিশদের জন্য কৌশলগত বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়ায়।
৯. আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের সংকট: ইতিহাসের দীর্ঘ ছায়া
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের বহু সংকটের শিকড় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে নিহিত:
- ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাত;
- সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ;
- ইরাকের সাম্প্রদায়িক সংঘাত;
- কুর্দি রাষ্ট্রের দাবি;
- লেবাননের অস্থিতিশীলতা।
তবে অধিকাংশ গবেষক একমত যে এসব সমস্যার জন্য শুধুমাত্র ব্রিটিশ নীতিকে দায়ী করা যথেষ্ট নয়। স্থানীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতা, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, শীতল যুদ্ধ, মার্কিন হস্তক্ষেপ, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং স্বৈরশাসনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ছিল মূলত কৌশলগত স্বার্থনির্ভর। তারা একই সময়ে আরবদের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ফরাসিদের সঙ্গে গোপনে অঞ্চল ভাগাভাগি করেছে এবং ফিলিস্তিনে ইহুদি জাতীয় আবাসের প্রতিশ্রুতিও প্রদান করেছে। এই বহুমুখী ও পরস্পরবিরোধী নীতির ফলেই মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অবিশ্বাস, সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি হয়।
তবে ইতিহাসকে সরল ষড়যন্ত্র তত্ত্বে সীমাবদ্ধ করাও ভুল হবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট গঠনে যেমন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সমানভাবে দায়ী।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই—
একটি অঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্র কেবল সীমান্ত দিয়ে নয়, প্রতিশ্রুতি, বিশ্বাস এবং বিশ্বাসঘাতকতার স্মৃতি দিয়েও নির্মিত হয়।
Bibliography
Primary Sources
-
Balfour, Arthur James. The Balfour Declaration, 2 November 1917. British Government Archives.
-
Hussein bin Ali & Sir Henry McMahon. The Hussein–McMahon Correspondence (1915–1916). British National Archives.
-
League of Nations. The Covenant of the League of Nations and the Mandate System. Geneva, 1920.
-
Sykes, Mark & François Georges-Picot. The Sykes–Picot Agreement (1916). British and French Diplomatic Archives.
-
Lawrence, T. E. Seven Pillars of Wisdom. London: Jonathan Cape, 1926.
Books
-
Antonius, George. The Arab Awakening: The Story of the Arab National Movement. London: Hamish Hamilton, 1938.
-
Barr, James. A Line in the Sand: Britain, France and the Struggle That Shaped the Middle East. London: Simon & Schuster, 2011.
-
Cleveland, William L., and Martin Bunton. A History of the Modern Middle East. 6th ed. Boulder: Westview Press, 2016.
-
Fromkin, David. A Peace to End All Peace: The Fall of the Ottoman Empire and the Creation of the Modern Middle East. New York: Henry Holt & Company, 1989.
-
Gelvin, James L. The Israel-Palestine Conflict: One Hundred Years of War. 4th ed. Cambridge: Cambridge University Press, 2021.
-
Hourani, Albert. A History of the Arab Peoples. Cambridge: Harvard University Press, 1991.
-
Khalidi, Rashid. The Hundred Years’ War on Palestine. New York: Metropolitan Books, 2020.
-
Mansfield, Peter. A History of the Middle East. 4th ed. London: Penguin Books, 2013.
-
Paris, Timothy J. Britain, the Hashemites and Arab Rule: The Sherifian Solution. London: Routledge, 2003.
-
Rogan, Eugene. The Arabs: A History. New York: Basic Books, 2009.
-
Rogan, Eugene. The Fall of the Ottomans: The Great War in the Middle East. New York: Basic Books, 2015.
-
Said, Edward W. The Question of Palestine. New York: Vintage Books, 1992.
-
Shlaim, Avi. The Iron Wall: Israel and the Arab World. New York: W.W. Norton & Company, 2014.
-
Teitelbaum, Joshua. The Rise and Fall of the Hashemite Kingdom of Arabia. New York: New York University Press, 2001.
-
Al-Rasheed, Madawi. A History of Saudi Arabia. Cambridge: Cambridge University Press, 2010.
Academic Articles and Research Papers
-
Kedourie, Elie. “England and the Middle East: The Destruction of the Ottoman Empire 1914–1921.” The Historical Journal 3, no. 2 (1960): 195–197.
-
Muslih, Muhammad. “Arab Politics and the Rise of Palestinian Nationalism.” Journal of Palestine Studies 16, no. 4 (1987): 77–94.
-
Smith, Charles D. “The Historiography of the Balfour Declaration.” Middle Eastern Studies 45, no. 5 (2009): 789–807.
-
Wasserstein, Bernard. “The British in Palestine: The Mandatory Government and the Arab-Jewish Conflict.” The Historical Journal 27, no. 3 (1984): 719–733.
Recommended Further Reading
-
Anderson, Scott. Lawrence in Arabia: War, Deceit, Imperial Folly and the Making of the Modern Middle East. New York: Doubleday, 2013.
-
Fisk, Robert. The Great War for Civilisation: The Conquest of the Middle East. London: Fourth Estate, 2005.
-
Lewis, Bernard. The Shaping of the Modern Middle East. New York: Oxford University Press, 1994.
-
Seale, Patrick. The Struggle for Syria. New Haven: Yale University Press, 1986.
-
Yapp, Malcolm E. The Near East Since the First World War: A History to 1995. London: Longman, 1996.

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ