শিশুর চোখে উঠলে কী করবেন? আঞ্জনি (Stye) হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
![]() |
| শিশুর চোখ উঠলে করনীয় |
শিশুর চোখে উঠলে কী করবেনকারন, লক্ষণ ও চিকিৎসা
Focus Keyword
শিশুর চোখে উঠলে
Related Keywords
- শিশুর চোখে আঞ্জনি
- চোখে উঠা কেন হয়
- শিশুর চোখ ফুলে যাওয়া
- Stye in child
- চোখের পাতায় ফোঁড়া
- শিশুর চোখে গুটি
- চোখে আঞ্জনির চিকিৎসা
- চোখের পাতার সংক্রমণ
- শিশুর চোখের সমস্যা
- চোখে উঠার ঘরোয়া যত্
শিশুর চোখে উঠলে বা আঞ্জনি হলে কী করবেন? কারণ, লক্ষণ, ঘরোয়া যত্ন, চিকিৎসা ও কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন তা বিস্তারিত জানুন।
শিশুর চোখে উঠলে, শিশুর চোখে আঞ্জনি, stye in child, চোখে উঠার চিকিৎসা, চোখের পাতায় গুটি, চোখে ফোঁড়া, শিশু চোখের সংক্রমণ, চোখ ফুলে যাওয়া, আঞ্জনি কেন হয়, চোখের রোগ।
শিশুর চোখ উঠা: কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা, প্রতিরোধ ও অভিভাবকদের করণীয়
শিশুর চোখ উঠা বা আঞ্জনি (Stye) শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত পরিচিত একটি সমস্যা। অনেক অভিভাবকই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে তাদের সন্তানের চোখের পাতায় ছোট ফোলা গুটি, লালচে ভাব বা ব্যথার মতো লক্ষণ দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সাধারণত এটি খুব গুরুতর কোনো রোগ নয়, তবে সঠিক পরিচর্যা না করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শিশুর চোখ উঠা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা জরুরি।
চোখ উঠা কী?
চোখ উঠা বা আঞ্জনি হলো চোখের পাতার তেল গ্রন্থি অথবা চোখের পাপড়ির গোড়ার লোমকূপে সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট একটি ছোট, ব্যথাযুক্ত ফোলা গুটি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে Hordeolum বলা হয়।
চোখের পাতার কিনারায় থাকা ক্ষুদ্র তেল গ্রন্থিগুলো চোখকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। কোনো কারণে এই গ্রন্থিগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে সেখানে প্রদাহ তৈরি হয় এবং চোখ উঠার সমস্যা দেখা দেয়।
শিশুদের মধ্যে চোখ উঠা কেন বেশি দেখা যায়?
শিশুরা প্রায়ই হাত না ধুয়ে চোখ স্পর্শ করে, বাইরে খেলাধুলা করে এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসরণ করে না। ফলে তাদের চোখে জীবাণু প্রবেশের ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও পরিপূর্ণভাবে বিকশিত না হওয়ায় সংক্রমণ তুলনামূলক সহজে হয়।
শিশুর চোখ উঠার কারণ
১. ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ
চোখ উঠার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো স্ট্যাফাইলোকক্কাস (Staphylococcus aureus) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
২. অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ ঘষা
শিশুরা প্রায়ই হাত ধোয়ার আগেই চোখে হাত দেয়। এতে হাতের জীবাণু চোখে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
৩. চোখের পাতার তেল গ্রন্থি বন্ধ হয়ে যাওয়া
তেল গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে ভেতরে তেল জমে যায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. ধুলাবালি ও দূষণ
অতিরিক্ত ধুলাবালি, ধোঁয়া বা দূষিত পরিবেশ চোখে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
৫. ব্লেফারাইটিস
চোখের পাতার দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ থাকলে বারবার আঞ্জনি হতে পারে।
৬. অ্যালার্জি
চোখে অ্যালার্জি হলে শিশু বারবার চোখ ঘষে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
৭. অপুষ্টি
পুষ্টির ঘাটতি থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সংক্রমণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
৮. ডায়াবেটিস বা অন্যান্য রোগ
কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে আঞ্জনি বেশি হতে পারে।
শিশুর চোখ উঠার লক্ষণ
চোখ উঠার শুরুতে লক্ষণগুলো খুবই হালকা হতে পারে। ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়তে পারে।
প্রাথমিক লক্ষণ
- চোখের পাতায় হালকা ব্যথা
- চুলকানি
- চোখ ভারী লাগা
- অস্বস্তি
পরবর্তী লক্ষণ
- চোখের পাতায় লালচে গুটি
- ফোলা
- স্পর্শ করলে ব্যথা
- চোখ দিয়ে পানি পড়া
- আলোতে তাকাতে কষ্ট
গুরুতর লক্ষণ
- চোখের পাতা অতিরিক্ত ফুলে যাওয়া
- পুঁজ বের হওয়া
- জ্বর
- দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া
চোখ উঠার বিভিন্ন ধাপ
প্রথম ধাপ
চোখের পাতায় সামান্য লালচে ভাব ও ব্যথা দেখা যায়।
দ্বিতীয় ধাপ
গুটি বড় হতে শুরু করে এবং ফোলা বাড়ে।
তৃতীয় ধাপ
গুটির মধ্যে পুঁজ জমতে পারে।
চতুর্থ ধাপ
পুঁজ বের হয়ে গেলে সাধারণত ধীরে ধীরে ভালো হতে শুরু করে।
চোখ উঠলে শিশুর কী সমস্যা হয়?
- চোখ খোলা কষ্টকর হতে পারে
- ঘুমের সমস্যা হতে পারে
- স্কুলে মনোযোগ কমে যেতে পারে
- চোখে অস্বস্তির কারণে শিশুর মেজাজ খিটখিটে হতে পারে
চোখ উঠা কি ছোঁয়াচে?
বেশিরভাগ চোখ উঠা ছোঁয়াচপ, তবে সরাসরি খুব বেশি ছোঁয়াচে নয়, তবে জীবাণু এক চোখ থেকে অন্য চোখে বা অন্য শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে।
তাই:
- আলাদা তোয়ালে ব্যবহার করুন
- হাত ধোয়ার অভ্যাস করান
- চোখে হাত দিতে নিরুৎসাহিত করুন
শিশুর চোখ উঠলে কী করবেন?
গরম সেঁক
এটি সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ পদ্ধতি।
পদ্ধতি:
- পরিষ্কার কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন
- হালকা চিপে নিন
- ১০–১৫ মিনিট চোখের উপর রাখুন
- দিনে ৩–৪ বার করুন
চোখ পরিষ্কার রাখা
পরিষ্কার পানি ও পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করে চোখের চারপাশ পরিষ্কার রাখুন।
বিশ্রাম
শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন।
পর্যাপ্ত পানি পান
শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পানি গুরুত্বপূর্ণ।
কী করবেন না?
গুটি চেপে ধরবেন না
অনেকে মনে করেন পুঁজ বের করে দিলে দ্রুত ভালো হবে। এটি ভুল ধারণা।
অপরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করবেন না
এতে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
নিজে নিজে ওষুধ দেবেন না
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ড্রপ বা মলম ব্যবহার করা উচিত নয়।
স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহার করবেন না
এটি চোখের ক্ষতি করতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?
নিম্নোক্ত অবস্থায় দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত:
- জ্বর থাকলে
- চোখ অতিরিক্ত ফুলে গেলে
- চোখ খুলতে না পারলে
- দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে
- ১–২ সপ্তাহেও ভালো না হলে
- বারবার একই সমস্যা হলে
চিকিৎসা
অ্যান্টিবায়োটিক মলম
কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক মলম দিতে পারেন।
অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ
প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়।
মুখে খাওয়ার ওষুধ
সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসক মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।
অস্ত্রোপচার
খুব কম ক্ষেত্রে পুঁজ জমে গেলে ছোট একটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
বারবার চোখ উঠলে কী করবেন?
যদি শিশুর বারবার আঞ্জনি হয়, তাহলে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
সম্ভাব্য কারণ:
- ব্লেফারাইটিস
- অ্যালার্জি
- চোখের পাতার তেল গ্রন্থির সমস্যা
- অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বলতা
চোখ উঠা এবং ক্যালাজিয়নের পার্থক্য
অনেক সময় আঞ্জনি সেরে যাওয়ার পর একটি শক্ত গুটি থেকে যায়। এটিকে ক্যালাজিয়ন বলা হয়।
| আঞ্জনি | ক্যালাজিয়ন |
|---|---|
| ব্যথাযুক্ত | সাধারণত ব্যথাহীন |
| সংক্রমণজনিত | গ্রন্থি ব্লক হওয়ার কারণে |
| লালচে | কম লাল |
| দ্রুত হয় | ধীরে হয় |
শিশুর চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয়
নিয়মিত হাত ধোয়া
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
চোখে হাত না দেওয়া
শিশুকে বারবার চোখ ঘষা থেকে বিরত রাখুন।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ
ধুলাবালি ও দূষণ থেকে শিশুকে দূরে রাখুন।
পর্যাপ্ত ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
পুষ্টিকর খাদ্য
সুষম খাদ্য শিশুর সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব
চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিম্নোক্ত খাবার উপকারী:
- গাজর
- কুমড়া
- মিষ্টি আলু
- পালং শাক
- ডিম
- মাছ
- দুধ
- আম
- পেঁপে
- কমলা
অভিভাবকদের সাধারণ ভুল
অনেক অভিভাবক:
- গরম সেঁকের পরিবর্তে বরফ ব্যবহার করেন
- গুটি চেপে ধরেন
- ফার্মেসির পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার করেন
- চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন
এসব অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।
সম্ভাব্য জটিলতা
যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে আঞ্জনি নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়, তবে অবহেলা করলে কিছু জটিলতা হতে পারে।
ক্যালাজিয়ন
দীর্ঘস্থায়ী গুটি তৈরি হতে পারে।
সেলুলাইটিস
চোখের আশপাশে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে।
পুনঃপুন সংক্রমণ
বারবার আঞ্জনি হওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
উপসংহার
শিশুর চোখ উঠা বা আঞ্জনি একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে হয় এবং সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসার মাধ্যমে দ্রুত ভালো হয়ে যায়। গরম সেঁক, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে চোখ অতিরিক্ত ফুলে যাওয়া, জ্বর, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা বারবার সমস্যা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
শিশুর চোখ উঠা কি বিপজ্জনক?
সাধারণত নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা হতে পারে।
চোখ উঠা কত দিনে ভালো হয়?
সাধারণত ৭–১৪ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়।
গরম সেঁক কতবার দিতে হবে?
দিনে ৩–৪ বার, প্রতিবার ১০–১৫ মিনিট।
আঞ্জনি কি নিজে নিজে ভালো হয়?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে হ্যাঁ।
চোখ উঠলে কি স্কুলে যেতে পারবে?
সাধারণত পারবে, যদি অন্য কোনো গুরুতর সমস্যা না থাকে।
আঞ্জনি কি ছোঁয়াচে?
সরাসরি নয়, তবে জীবাণু হাতের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।
চোখ উঠলে কি ড্রপ ব্যবহার করা উচিত?
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নয়।
বারবার আঞ্জনি হলে কী করবেন?
চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কারণ নির্ণয় করতে হবে।
FAQ (SEO FAQ)
১. শিশুর চোখে উঠা কী?
চোখের পাতার তেল গ্রন্থি বা লোমকূপে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে ছোট ব্যথাযুক্ত ফোলা গুটি তৈরি হলে তাকে আঞ্জনি বা Stye বলা হয়।
২. শিশুর চোখে আঞ্জনি কেন হয়?
অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ ঘষা, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, চোখের পাতার অপরিচ্ছন্নতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে আঞ্জনি হতে পারে।
৩. শিশুর চোখে উঠলে কী করণীয়?
হালকা গরম সেঁক দিন, চোখ পরিষ্কার রাখুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
৪. আঞ্জনি কি নিজে নিজে ভালো হয়ে যায়?
অনেক ক্ষেত্রে ১–২ সপ্তাহের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তবে জটিলতা হলে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
৫. আঞ্জনিতে কি অ্যান্টিবায়োটিক দরকার হয়?
সব ক্ষেত্রে নয়। সংক্রমণের মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক মলম বা ড্রপ দিতে পারেন।
৬. শিশুর চোখে উঠলে কি স্কুলে যেতে পারবে?
সাধারণত যেতে পারে, তবে চোখে বেশি সংক্রমণ বা অস্বস্তি থাকলে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।
৭. আঞ্জনি কি ছোঁয়াচে?
সরাসরি খুব বেশি ছোঁয়াচে নয়, তবে সংক্রমিত চোখ স্পর্শ করে অন্যের চোখে হাত দিলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
৮. কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?
যদি চোখ বেশি ফুলে যায়, জ্বর আসে, দৃষ্টিশক্তি কমে যায় বা কয়েক দিনের মধ্যে উন্নতি না হয়, তাহলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
ডা:বশির আহাম্মদ,এমবিবিএস
জনস্বার্থে প্রচারিত।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ