4547715 ডা.বশির আহাম্মদ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪

ঈমানের মর্ম কথা

 "ঈমানের মর্ম কথা"



আমরা মুসলমান মানে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা ঈমান আনায়নের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করি। 


এই যে ইসলামে প্রবেশ করি তার অর্থ কি? কেউ বলে ইসলাম অর্থ শান্তি আবার কেউ বলে ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পন। আসলে মূল অর্থটা কি? আসল অর্থটা আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না। আসল অর্থটা হলো ঈমান আনায়নের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পনের মাধ্যমে নিজের জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আখিরাতের সফলতা অর্জনের নামই হলো ইসলাম।


আমরা জানি ঈমান আনায়নের মাধ্যমে ইসলামে দাখিল হয় মানুষ। আর ঈমান আনায়ন করে কালেমার মাধ্যমে। 


আমাদের ইমান আনায়নের শাহাদা বাক্য কালেমা হলো ' লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ।  এখানে দেখুন কালেমায় লা+ইলাহা+ ইল্লাল্লাহু +মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ। 


১। লা মানে নাই। অর্থাদ দুনিয়ার সব কিছু অস্বীকার করা।


২। ইলাহ, এটা পরে আলোচনা করব।


৩। ইল্লাল্লাহু,  মানে আল্লাহ ছাড়া।  মানে হলো একমাত্র আল্লাহ ছাড়া বাকী সব ইলাহকে(পরের আলোচনায় ইলাহ বুঝানো হবে) বাতিল ঘোষনা করা।


৪। এখানে বলা হয়েছে শুধু মাত্র হযরত মুুহাম্মদ সা: এর বর্নিত, পালনকৃত, আদেশ কৃত মত ও পথ অনুসারেই। বাকী পথে এই ইলাহকে মেনে নেওয়ার নামও ইমান নয়। 


ইলাহ মানে কি(২ নাম্বারে বর্নিত):

আসুন "ইলাহ" মানে কি জানা যাক। ইলাহ এক অর্থে আল্লাহকে বুঝানো। এই অর্থ বিস্তৃত করলে বুঝা যায় ইলাহ মানে শুধু সৃষ্টি কর্তা আল্লাহ কে মেনে নেওয়ার নামই নয়। এখানে মহা বিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ তা'লার জারি কৃত সকল নিয়ম কানুন মেনে নেওয়ার কথাই বুঝানো হয়েছে।


আমার বলতে বা মানুষের তৈরী সকল কিছুই অস্বীকার করে একমাত্র আল্লাহর দেওয়া বিধিবিধানকে নি:সংকোচে মেনে নেওয়াই বুঝানো হয় আর সেই সাথে বাকী সকল বিধানকে অস্বীকারের কথাই বুঝায়। এ অর্থে আত্মসমর্পণ বুঝায়। মানুষের তৈরী যেমকোন বিধান হোক ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে,পারিবারিক ক্ষেত্রে, সামাজিক ক্ষেত্রে, রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে এমন কি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অর্থাদ মানব জীবনের কোন ক্ষেত্রেই নিজের মত চলার কোন সুযোগ নাই। একেউ যদি এই ধরা বাঁধা নিয়মের কিঞ্চিৎও ব্যতিক্রম করে তাইলেও ঈমানের শর্ত পূরন হবে না 


আবার মানুষের তৈরী বিধান অস্বীকারের মানে হলো মানুষের তৈরী আইন, মানুষের তৈরী জীবন ব্যবস্থা, মানুষের তৈরী অর্থ ব্যবস্থা, মানুষের তৈরী রাষ্ট্র ব্যবস্থা অস্বীকারের নামই হলো ঈমান এবং এসকল ব্যবস্থাকে অস্বীকার করে আল্লাহর তৈরী বিধান মেনে চলার নামই ইসলাম।


 ইসলামের আসল অর্থ হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ, এই বাক্যকে মেনে নিয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পনের মাধ্যমে মানুষের তৈরী সকল বিধিবিধানকে সমূলে উৎপাটনের মাধ্যমে আল্লাহর দেওয়া বিধান মতে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও এই শান্তি বজায় রাখার নাম ইসলাম।


আর আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ পূর্বক ইসলামের শান্তি শুধু মুসলমানের জন্যই প্রতিষ্ঠিত করা নয়, বরং আল্লাহর সৃষ্টি সকল প্রানী, সকল মানুষ, সকল জীবের বেলায় প্রজোয্য। আর এটার নাম ইসলামের ইনসাফ। ইসলাম ও ইনসাফ একই বৃক্ষের অংশ, একটা মূল হলে অন্যটা কান্ড। এই ইনসাফ মানুষের স্বাভাবিক দৃষ্টির বাইরের জীবানু হতে বৃহৎ নীল তিমির বেলায়ও প্রয়োজনে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা।


এখন জানতে হবে আত্মসমর্পণ মানে কি?

আত্ম সমর্পণ মানে হলো নিজের সকল ইচ্ছা, অনিচ্ছা, আনন্দ-বেদনা, আবেগ,-অনুভুতি, জীবন পদ্ধতি, স্বাধ-আহ্লাদ সব কিছু আল্লাহর দেওয়া বিধান মত পরিচালিত করা, এখানে নিজের ইচৃছা অনিচ্ছার কোন সুযোগ নাই।


আল্লাহ মানুষ এবং জ্বীন ব্যতিত তাঁর আর কোন সৃষ্টিকে তার নফস ও বিবেকের স্বাধীনতা দেয় নি। এই দুই জাতিকে যেমন নফস ও বিবেকের স্বাধীনতা সাময়িক সময়ের জন্য দিয়েছে তেমনি তাদেরকে যুগে যুগে নবী ও রাসূল পাঠিয়ে তাদের সঠিক পথ প্রদর্শনও করেছেন কেননা আল্লাহ এই দুই জাতিকে এক দিকে বিবেকের স্বাধীনতা দিয়েছে আবার অন্য দিকে এক মাত্র তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।


জ্বীন ও মানুষকে আল্লাহর দাসত্ব করা ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেন নি। তাদেরকে বিবেকের স্বাধীনতা দিয়ে যেমন পথ দেখিয়ে রেখেছেন,তেমনি আল্লাহর  নাফরমানী করার সাময়িক সুযোগও রেখেছে এবং এই মর্মে বার বার সতর্ক বানী দিয়েছেন যে নাফরমানী করলে কঠিন ভাবে দুনিয়া ও আখিরাতে পাকড়াও করা হবে।


এখন মানুষ এই দাসত্ব কিভাবে পালন করবে তা নবী ও রাসূলদের মাধ্যমে মানুষকে শিখিয়েছেন। আমাদের সর্ব শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা: এর মাধ্যমে মানুষকে এই শান্তির পথ ইসলাম হাতে-কলমে আল্লাহ মানুষকে শিখিয়েছেন এবং পরবর্তীতে যাতে মানুষ আবার এ শিক্ষা ভুলে যাওয়ার কোন সুযোগ না থাকে সে উদ্দেশ্যে অপরিবর্তনীয় মহা গ্রন্থ আল কোরআন নাজিল করেছেন।


এই ইসলাম কায়েম করতে গিয়ে আল্লাহ তাঁর পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ সা: এর মাধ্যমে শুধু গতানুগতিক একটি ধর্মই মানুষকে শিক্ষা দেন নি, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষের জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে কিভাবে চলতে হবে। ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবন, আন্তর্জাতিক জীবন, সমর নীতি, অর্থ নীতি, চিকিৎসা নীতি, মানবাধিকার নীতি সহ পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার সব কিছুই ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী শিখিয়ে দিয়েছেন। আর এই নীতি অনুযায়ী মানব জীবন পরিচালিত করলেই একজন মানুষের জীবনের আসল উদ্দেশ্য অর্থাদ আল্লাহ যে উদ্দেশ্যে মানুষ ও জ্বীনকে সৃষ্টি করেছেন তার উদ্দেশ্য সম্পন্ন হবে। তা থেকে ব্যতিক্রম হলেই আল্লাহর পাকড়াও দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদের গ্রাস করবে।


কিন্তু আজ অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় আমরা আজ সেই ঐশী শিক্ষা ভুলে গিয়ে সম্পূর্ণ নিজের নফসের প্রতারনা অনু্যায়ি চলতে গিয়ে এক দিকে নিজেরা আল্লাহর পাকড়াও হতে বাঁচতে পারছি না অপর দিকে আখিরাতেও যে সফলতা পাব না তা বুঝতেই পারছি। 


আল্লাহ সবাইকে সঠিক ভাবে ইসলাম বুঝে মেনে চলার তাওফিক দিক(আমীন)।


লেখক:

ডা.বশির আহাম্মদ,  চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী। 


লেখক:চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী।

বাংলাদেশে ইসলামী ঐক্যের চ্যালেঞ্জ

 " বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ইসলামী ঐক্যের চ্যালেঞ্জ"

ইসলামী ঐক্যের চ্যালেঞ্জ


১। দুনিয়ার এমন কোন ইসলামী ফেরকা নাই যা বাংলাদেশে নাই। এবং এদের মধ্যে বিভেদ এমন চরম পর্যায় যে এক দল অপর দলকে প্রকাশ্যে কাফের বলে ফতোয়া দেয়।


২। বাংলাদেশের সাধারন মানুষ গুলো ইসলামি ঐক্যের জন্য আবেগ প্রবন হলেও আলেম সমাজ একেবারেই তা গ্রাহ্য করে না অথবা ঐক্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে না, আর উপলব্ধি করতে পারলেও স্বার্থের জন্য বিষয়টি এড়িয়ে যায়।


৩। সকল দলের সকল আলেমরাই স্বার্থপর, ঐক্য হলেই যদি নিজের নেতাগিরি ছুটে যায় সে জন্য মুখে মুখে আলেমরা ঐক্যের কথা বললেও অন্তর হতে কেউ ঐক্য চায় না। এদেশের কিছু আলেম এতটাই নিচু স্বভাবের যে এক বেলা সরকারী ভবনে দাওয়াত খাওয়ার জন্য এক দল আরেক দলকে কাফের বলে ফতোয়া দেয়।


৪। পৃথিবীর যে কোন দেশের আলেমের চেয়ে বাংলাদেশের আলেম সমাজ বেশী হিংসুটে,  তাই তার কখনোই ছাড় দিতে শিখে নি।


৫। এদেশের আলেম সমাজ নিজেকে ব্যতিত/নিজের দল ব্যতিত দুনিয়ার সকল দল, মত ও পথকে বাতিল বলে মনে করে।


৬। বাংলাদেশের সকল আলেম বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে কোন জ্ঞান রাখে না, আর যতটুকু জ্ঞান রাখেন তা ইসলাম বিরোধীদের মোকাবেলায় কোন কাজে আসে না।


৭। কওমী বলেন, আলীয়া বলেন আর অন্যান্য ধারার ইসলামী শিক্ষা বলেন সবাই ফতোয়া আর বিতর্ক ছাড়া অন্য কিছু শিখে না। তাদের শিক্ষার এক মাত্র উদ্দেশ্য থাকে হয় ইমামতি আর না হয় মাদরাসায় শিক্ষকতা। আর যারা ভাল বা ব্রিলিয়ান্ট তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাল ডিগ্রী নিয়ে দুনিয়াবী কাজে লেগে যায়।


৮। বাংলাদেশের আলেমদের মাঝে পরস্পর পরস্পরের যে অবিশ্বাস এটাই তাদের ধ্বংশের জন্য নিজেরাই যথেষ্ট,  ইহুদি,  রাম-বার  অথবা খ্রিস্টান কারোরই তাদের নিয়ে ভাবার দরকার না।


৯। বাংলাদেশের আলেম সমাজ এতটাই অজ্ঞ যে তারা ইসলামী ঐক্যের বর্তমান প্রয়োজনীয়তা বুঝার নূন্যতম জ্ঞানটুকু রাখে না। বরং তারা নিয়মিত বিভাজন বাড়িয়েই চলছে।


১০। বাংলাদেশের আলেমরা বর্তমান বিশ্ব সভ্যতা সম্পর্কে এত কম ধারনা রাখে যে দেশের সেরা ১০০ জন আলেমকে জায়োনিস্টদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বক্তব্য দিতে বললে ১০ জনও এ বিষয়ে ১ মিনিনিটের বেশী কথা বলার যোগ্যতা রাখে কিনা না সন্দেহ আছে।


১১। বাংলাদেশের আলেম সমাজ ইসলাম বিধ্বংশী ২০ টি গুপ্ত সংগঠনের নাম বলতে বললে বাংলাদেশের ১ জন আলেমও বলতে পারে কিনা সন্দেহ আছে। অথচ ৭৭টার উপর গোপন সংগঠন নিয়মিত ইসলাম ধ্বংশের কাজ করে যাচ্ছে।


১২। বাংলাদেশে ১০ জন আলেমও পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ আছে যারা কাব্বালিস্ট, জায়োনিজম, ফ্রিম্যানশন, ঠগী, মোসাদ,এম সিক্সটিন, রথচাইল্ড ইত্যাদি সম্পর্কে নূন্যতম জানে।


১৩। বাংলাদেশের যেসকল ইসলামী সংগঠনকে শিক্ষিত মানুষেরা হাক্বানী বলে জানে সে সকল হাক্বানী ইসলামী সংগঠন গুলো মানব সৃষ্ট গনতন্ত্র নামক কুফুরী মতবাদকে চর্চা করে, ধারন করে, লালন করে, এটা যে হারাম এটা তো স্বীকার করেই না বরং এই কুফুরী গনতন্ত্রকে ইসলামী লেবাশ লাগিয়ে জায়েজ বলে ফতোয়া দেয়। এতটুকুও বুঝেননা যে এটা একটা কুফুরী ব্যবস্থা, গনতন্ত্র দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যায় কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব না।


১৪। কথায় আছে, যে সরিষা দিয়ে ভুত তাড়ায় সে সরিষায় ভূত আছর করলে ভূত কি কবু ছাড়ে? 

বাংলাদেশের সংবিধানে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা এই কথাটাই স্বীকার করা হয় না, মানে সৃষ্টি কর্তার স্বীকৃতিটাই যেই সংবিধানে নাই সেই সংবিধানের শর্ত জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস এ কাথাটার উপর স্বীকৃতি প্রদান পূর্বক ইসলামী দলের নিবন্ধন করে কূফুরী গনতন্ত্র চর্চা করে নিজেদের হাক্বানী দাবী করে ইসলামী দল দাবী করে, ইসলামী সমাজ কায়েমের স্বপ্ন দেখে, অথচ টোটাল পদ্ধতিটাকেই ইসলাম হারাম করেছে।


১৫।বাংলাদেশের আলেমদের বিভাজন এতটাই প্রকট যে PhD করা, আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রতিষ্ঠানের উচ্চ ডিগ্রীধারী আলেমরা রাফাদায়েন, নামাজে তাক্ববীর সংখ্যা বা কিয়াম এর মত ছোট ছোট বিষয় নিয়ে নিয়মিত বিতর্কে জড়িয়ে থাকে, অথচ এসকল আলেমরা মুসলমানদের মুক্তির উপায় নিয়ে গবেষনা করার কথা।


১৬। এদেশের আলেমরা প্রকাশ্যে ভরা মজলিশে বা মাহফিলে এমন ভাবে একে অপরকে গালিগালাজ ও অসন্মনিত করে যা দেখে ইবলিশ পর্যন্ত হতাশ হয়, অথচ আলেমদের ব্যবহার হওয়ার কথা ছিল মার্জিত, যা দেখে অমুসলিমরা আকৃষ্ট হয়। বরং এখন উল্টোটা হচ্ছে।


১৭। গ্রানাডায় স্পেনীয় বাহিনীর হাতে চরম সূচনীয় পরাজয় ও লাঞ্চিত হওয়ার পূর্বে মুসলমানরা যেমন ভাবে বিভাজিত ছিল বর্তমানে তার থেকে বাংলাদেশের আলেমরা কম বিভাজিত নয়।


১৮। এ দেশের হাতে গোনা যে কয়েকজন আলেম গভীর বিষয় গুলো নিয়ে ভাবে বা কথা বলে তাদেরকে বাকী আলেমরা দেশ ছাড়া করে অথবা ইসলাম বিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়ে জেলে আটকে রাখে।


১৯। এ দেশের আলেমরা এতটা স্বার্থপর যে জেলে যাওয়ার ভয়ে অথবা জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য নিজেদের ঈমান বিক্রয় করে জিহাদ, ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলবেনা মর্মে বাতিলদের সাথে চুক্তি করে।


২০। এ দেশ এমন একটি বিভাজিত মুসলিম দেশ যে দেশে একদল আলেমকে অন্যায় ভাবে ফাঁসিতে দিলে অন্য দলের আলেমরা হাজার হাজার কেজি মিষ্টি বিতরন করে উল্লাস করে।


আমার লেখায় কেউ দুঃখ পেয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থী আর সবিনয় অনুরোধ আমার সাথে রাগ না করে হাশরের ময়দানে কি জবাব দিবে সে বিষয়টি চিন্তা করার জন্য সবাইকে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় স্যেকুলারিজম ও ডেমোক্রসির মত মানব সৃষ্ট পদ্ধতি কি গ্রহন যোগ্য?

" ইসলাম প্রতিষ্ঠায় স্যেকুলারিজম ও ডেমোক্রসির মত মানব সৃষ্ট পদ্ধতি কি গ্রহন যোগ্য?"

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় স্যেকুলারিজম ও গনতন্ত্রের মত মানব সৃষ্ট পদ্ধতি কখনোই গ্রহন যোগ্য নয়।

কারনটা বুঝার জন্য শেষ লাইনটা পর্যন্ত দয়া করে পড়তে হবে প্রিয় পাঠকগন।


 আমরা সবাই জানি ইসলাম শুধু মাত্র একটি গতানুগতিক ধর্মই নয়, এটা একটা স্বাশত ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এখানে দোলনা হতে কবর পর্যন্ত সকল পর্যায়ে কখন ও কিভাবে চলতে হবে, মানব সভ্যতার অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে।


এই মানব সমাজের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হলো সমাজ ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা। রাষ্ট্র ব্যবস্থা যদি ইসলামের অনুকূলে না থাকে তাইলে যতই চেষ্টা করা হোক অথবা যত বড় বুজুর্গ হউক নিজের অজান্তেই কুফরিতে জড়িয়ে যাবে। আর এই সুমসৃন ইসলাম পালনের জন্য ব্যক্তিগত, সমাজিক ও রাষ্ট্রীয় সকল স্তরে ইসলামী করনের কোন বিকল্প নাই। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্ব স্তরে ইসলামীক ব্যবস্থা প্রবর্তনের নাম ই ইক্বামতে দ্বীন এবং এই কাজে বিভিন্ন পর্যায়ে নানান কৌশলে প্রচেষ্টার নামই হলো ইসলামি আন্দোলন। এই ইসলামি আন্দোলন যারা বুঝে না তারা ইক্বামতে দ্বীন বুঝে না। ইক্বামতে দ্বীন না বুঝলে ইসলাম বুঝা সম্ভব না।


দুনিয়ার বুকে সকল জাতি, ধর্ম,বর্ন নির্বিশেষে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ফরজ করেছে আল্লাহ তা'লা। কোরআন-হাদিসে বহু আয়াত ও হাদিসের মাধ্যমে তা প্রমানিত।পরে একটি পোষ্টে এই বিষয়ে আলোচনা করা যাবে।


এখন আমি এক এক করে ইসলামী আন্দোলন তথা ইক্বামতে দ্বীন প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি গুলো বর্ণনা করব।


১। হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর দ্বীন প্রতিষ্ঠা:

হযরত মুহাম্মদ (সা:) হলেন আল্লাহর সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি, জীবন্ত কোরআন। হযরত মুহাম্মদ সা: যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা ছিলো সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ। 

দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সাহাবা কেরামদের সঙ্গে নিয়ে দাওয়াত, হিযরত,রক্ষনাত্বক জি*হা*দ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো আর ঐ সমাজটা ছিলো পৃথিবীর ইতিহাসে সর্ব শ্রেষ্ঠ সমাজ ও রাষ্ট ব্যবস্থা। এই পদ্ধতিটা সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি। 


২। এর পরের যুগে পর্যায়ে আরেকটি পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো আর তা হলো সাহাবাদের আমলে, যা ১০০% হুবহু মদিনা রাষ্ট্র পদ্ধতির মত হলেও স্থান, কাল ও পাত্র নির্বিশেষে কিংশ্চিৎ পরিবর্তিত কিছু নতুন নতুন কৌশল যুক্ত করতে হয়েছিলো। কেননা হযরত মুহাম্মদ সা: এর প্রস্থানের পর ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যেসকল নতুন নতুন সমস্যা উপস্থিত হয়েছিলো সেগুলো ইসলামের আলোকে হযরত মুহাম্মদ সা: এর নীতিকে সর্বোচ্চ প্রধান্য দিয়েই নতুন কিছু কৌশল অবলম্বনে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। ঐ আন্দোলন গুলাতেও দাওয়াত, রক্ষনাত্বক জি*হা*দ ও কৌশল সবই ছিলো।


৩। তৃতীয় পর্যায়ের ইসলামী আন্দোলন গুলো ছিলো সাহাবা কেরামদের পরবর্তী যুগ। এই যুগটাও মুটামুটি ২য় পর্যায়ের আন্দেলনের মতই ছিলো। প্রথমে দাওয়াত ও পরেদ্বীন প্রতিষ্ঠায় যে সকল দুনিয়া পূজারীরা শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাঁধা দিয়েছে সে সকল জালিমদের সাথে মজলুমদের পক্ষে রক্ষনাত্বক জি*হা*দ করতে হয়েছে।


৪। চতুর্থ স্তরে ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিষয়টা ছিলো ১১০০ শতাব্দীর পরবর্তী যুগে। এই সময় ইসলামের শান্তির পতাকা উড়ানোর জন্য দাওয়াত, রক্ষনাত্বক জি*হা*দ ও কোন কোন স্থানে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পর্যন্ত সরাতে হয়েছে।


৫। পঞ্চম স্তরটা হলো মুটা মুটি বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে। সন্মানিত পাঠক গন, আমার লেখায় খেয়াল করে দেখবেন যে প্রত্যেকটি স্তরেই হযরত মুহাম্মদ সা: এর পদ্ধতি হুবহু ঠিক রেখে সময়, স্থান, পাত্র ও অবস্থার প্রেক্ষিতে আরো কিছু নতুন,নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে। কোথাও দাওয়াতি কাজেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়েছে(যেমন মালদ্বীপ),  আবার কোথাও কোথাও নির্যাতিত-নিপিরীত মানবতার পক্ষ হয়ে রক্ষনাত্বক যুদ্ধ করতে হয়েছে(যেমন ভারতীয় জালিম হিন্দু রাজাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে)।


৬। শেষ পর্যায়টা হল বর্তমান পরিপ্রেক্ষিত। এই সময়ে মুসলমানদের ক্ষমতাসীনদের ভুলে হউক, আমাদের ইসলাম হতে সরে যাওয়ার কারনে হউক আর আমাদের যেকোন ভুলেই হউক বর্তমান সমাজের উপর মানব সৃষ্ট ও ১০০% ত্রুটিপূর্ন স্যেকুলারিজম, না*স্তি*ক্য বাদ ও গনতন্ত্র নামক কুফরী বোঝা ঝেঁকে বসেছে। এটা আমরা সহজেই অস্বীকার করতেও পারব না, আবার এটা কৌশল ছাড়া ভাঙ্গতেও পারব না। এই কুফুরী ব্যবস্থা গুলোকে কিন্তু আমরা মেনেও নিতে পারব না। মন থেকে মেনে নিলে কুফরীকে মেনে নেওয়ারই শামীল হবে।


তাইলে এই ত্রিশঙ্কু অবস্থায় করবটা কি? ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটাই বা হবে কি? আল্লাহ ও আল্লাহর দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী মানব জাতির মুক্তির লক্ষ্যে সরাসরি জি*হা*দের ডাক দেব? কিন্তু জিহাদের ডাক যে দেব, মুসলমানদের ৮০% লোক তো ইক্বামতে দ্বীন বুঝে না। এদের বেশীর ভাগ জেনে হউক আর না জেনেই বাতিলের দালালি করছে। এ অবস্থায় তো জি*হা*দের ডাক দিলে সবার আগে মুসলমানরাই বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। তাইলে কি জি*হা*দ ইসলাম প্রতিষ্ঠায় বর্তমান প্রেক্ষিতে ভুল পন্থা? আল্লাহ ও আল্লাহর হাবীবের প্রদর্শিত পথ ভুল হতে পারে?৷ শুধু জি*হা*দের মাধ্যমেও যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব তার প্রমান তো আফগানিস্তান ও ইরান আমাদের চোখের সামনেই ভাসছে।


আফগানিস্তান ও ইরানের অবস্থা আর অন্যান্য দেশের অবস্থা এক নয়। কোন কোন মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশে গনতন্ত্র ও স্যেকুলারের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করলেই জি*হা*দ দূরে থাক মুসলমানদের বেঁচে থাকা দায়, যেমন বাংলাদেশ, মিশর।


এসকল দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতিটা কি হবে? আমরা কি মানব সৃষ্ট গনতন্ত্র ও স্যেকুলারিজম মেনে নেব? এই পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব? এটা জায়েজ হবে? কই গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মিশরে মুরসি ক্ষমতায় গিয়ে কত দিন টিকেছিলো? পারে নি, পারবেও না। কেন না কথায় আছে শুকনা মাটি দিয়ে পাতিল বানানো যায় না, মাটিকে ভিজিয়ে কাঁদা বানাতে হয়। তদ্রুপ আল্লাহর দেওয়া নিয়ম মতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা না করলে তা বেশি দিন টিকবে না, কেননা গনতন্ত্র, স্যেকুলারিজম ও কমিউনিজম সব গুলোইতো শয়তানের সৃষ্টি। 


এখন আবার প্রশ্ন আসে তাইলে প্রলিত গনতন্ত্র বিদ্যমান সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম দেশ গুলোর লোকজন যেখানে আর কোন বিকল্প পদ্ধতি বিদ্যমান নাই তারা কি করবে?


সোজা উত্তর আল্লাহ ও রাসূল সা: এর প্রদর্শিত পথ ব্যতিরেকে অন্য কোন পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ব্যর্থ হবেই।


আমার কথায় আরো বিরক্ত হলেন? মানুষটা বলে কি? তাইলে মানব সৃষ্ট পদ্ধতি প্রচলিত মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশের মুসলমানরা করবেটা কি? ইক্বামতে দ্বীন ছেড়ে দেবে?


না আমি তা বলি নি। আমি বার বার জোড় দিয়ে একটা কথাই বলছি যে জি*হা*দ ব্যতিত কখনোই পূর্ণাঙ্গ ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব না, আর হলেও সাময়িক।


তাইলে এখানে একটাই পদ্ধতি মানব সৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা, যেখানে সরাসরি বিকল্প কোন ব্যবস্থা নাই, সে সকল মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ গুলোতে চুড়ান্ত পর্যায় জি*হা*দের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে  দাওয়াতের মাধ্যমে মুসলমানদের ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত করতে হবে, মানব সৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা গুলোকে কৌশলে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ইচ্ছুক লোকদের দ্বারা প্রভাবিত করতে হবে। বাতিল শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে থাকা বাতিল পন্থি লোক গুলোকে সুক্ষ্ম কৌশলে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ইচ্ছুক লোকদের দ্বারা প্রতিস্থাপন করে তারপর চুড়ান্ত জি*হা*দের মাধ্যমে মানব সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যেতে হবে। এই কৌশল অবলম্বন করতে হলে কখনো কখনো জি*হা*দকে মূল টার্গেটে রেখে মানব সৃষ্ট মতবাদ গুলো হারাম জেনেই কোন কোন জায়গায় গনতন্ত্রিক ব্যবস্থাকে ইসলাম ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার অনুকূলে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তাদের সাথে কাজ করা লাগতে পারে। কিন্তু জি*হা*কেই একমাত্র ইসলাম প্রতিষ্ঠার অবলম্বন রাখতে হবে। জি*হা*দের পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই গনতন্ত্রকে হারাম জেনেই বার বার মনে মনে তাওবা ও সর্বক্ষন আল্লাহর নিকট সহায়তা কামনা করে গনতন্ত্র ও মানব সৃষ্ট পদ্ধতি গুলোকে জি*হা*দের দিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে যেতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক ইসলামী দল আছে জি*হা*দের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা না ভেবে গনতন্ত্রকেই ইসলামি করনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ রুপে ভুল। 


আল্লাহর দেওয়া পদ্ধতি ব্যতিত আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা কখনোই সম্ভব না এবং অন্য পদ্ধতিকে ইসলামি করনের চেষ্ট কাকের শরীরে ময়ূরের পালক লাগানোর মত বোকামী ও হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই না।


ডা.বশির আহাম্মদ, চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী।

জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্য ও বাস্তবতা

 "জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্য ও বাস্তবতা"



নানক সাহেব বলেন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার অধিকার 'ফ্যাসিস্ট সরকারের' নেই- নানক।


বাস্তবতা: ছাত্রলীগ নিষিদ্ধকরণের অধিকারই না শুধু বর্তমান সরকারই অবৈধ,তবে বাস্তবতা হলো এই অন্তর্বতীকালীন সরকার বিপ্লব পরবর্তী সরকার, বিপ্লবী সরকার কোন কিছুই নিয়ম মেনে করে না,তাই এটাও কোনো নিয়ম মেনে করবে না এটাই স্বাভাবিক।


নানক বলেন কিশোর গ্যাং থেকে উত্তরণ পাওয়া তথাকথিত সমন্বয়করা'।


বাস্তবতা: যদি কিশোর গ্যাংয়ের কথাই বলে তাইলে সবাই জানে এই কিশোর গ্যাংয়ের জন্মদাতা কারা, এদের লালন কর্তা কারা। সবই তৎকালী আওয়ামিলীগ সরকারের লিডাররা করত, তাই সমন্বয়করা যদি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হয়েই থাকে তাইলে এর দায়ও আওয়ামিলীগের।


এই সমন্বয়করা যদি অপরাধীই হয়ে থাকতো তাইলে তাদেরকে বিচারের আওতায় না এনে বার বার কেনো তৎকালীন মন্ত্রী এমপিরা তাদের সাথে বৈঠক করেছিলো,তখন তো কখনোই তাদেরকে কিশোর গ্যাং হিসাবে ঘোষনা দেয় নি?


নানক:যেহেতু শেখ হাসিনা সংবিধান অনুযায়ী, সশরীরে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে লিখিত পদত্যাগপত্র দেননি তার মানে তিনি এখনো বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী।


বাস্তবতা: 

যদি তিনি পদত্যাগ পত্র না দিয়েই থাকেন তথাপিও উনি পালায়ন করেছেন।উনি বৈধ প্রধান মন্ত্রী হলে দেশে আসেন না কেনো? ৩০০জন এমপি সহ সংসদ বিলুপ্ত,  শেখ হাসিনা কোন সংসদের রায়ে বর্তমানে প্রধান মন্ত্রী? 


নানক: মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার অবৈধ।


বাস্তবতা: এ সরকার ৭২ এর সংবিধান অনুযায়ী অবৈধ,এটা সত্য, কিন্তু এই বৈধতা নির্ভর করে বিপ্লবী সরকারের ৭২ সালের সংবিধানের আনুগত্য করা বা না করার উপর। যদি ৭২ সালের সংবিধান মানে তাইলে অবৈধ, না মানলে বৈধ-অবৈধের প্রশ্ন আসে না।


 


নানক: সরকার অবৈধ তাই, ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার অধিকার তাদের নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে ছাত্রলীগের ইতিহাস ওতপ্রোতোভাবে জড়িত।"


বাস্তবতা: ৭২ এর সংবিধান অস্বীকার করলে এসকল বৈধতার প্রশ্ন ডাস্টবিনে যাবে। আর বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ৭১ সালে ছাত্র ইউনিয়ন রক্ত দিয়েছে, তখন ছাত্রলীগের নেতারা ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কলকাতার টান বাজারে উল্লাশে মত্য ছিলো, বাংলাদেশ স্বাধীনতায় ছাত্রলীগের সরাসরি কোনো অবদান নাই( সূত্র: বই তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা)


নানক: আওয়ামী লীগ কখনো কাউকে মারেনি, নিপীড়ন করেনি। ষড়যন্ত্র করে "শেখ হাসিনার ওপর হত্যার দায় চাপিয়ে জনগণকে ভুল বোঝানো হয়েছে।"


বাস্তবতা: সারা জীবন শোনলাম আওয়ামিলীগ দেশের মানুষকে বোকা বানিয়েছে, যত হাজার গুজব যেমন ছেলে ধরা গুজব, রাসেল ভাইপার গুজব সবই তো আওয়ামিলীগের আবিস্কার, আর সেই গুজবের আবিস্কারক হাসিনাকে মানুষ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সরিয়ে দিলো? তো মিথ্যা অপবাদ দিলে হাসিনা প্রমান না করে পালিয়ে গেলো কেনো? হাজার হাজার ভিডিও, আন্তর্জাতিক মিডিয়া, লাইভ টেলিকাস্টে সবই মিথ্যা আর আওয়ামিলীগ একমাত্র ফেরেশতা?  হাস্যকর ও দেওলিয়াপনার বহি:প্রকাশ। দেশের মানুষকে একনও আওয়ামিলীগ বোকা মনে করছে বোধ হয়।


নানক:বাংলাদেশে এখন ফ্যাসিস্ট শাসন চালু হয়েছে।


বাস্তবতা: আওয়ামিলীগ ছাড়া কারো জন্য এটা ফ্যাসিস্ট শাসন নয়, কেননা ওদের বিচার হচ্ছে তো তাই চিল্লাচ্ছে।


নানক:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা 'কিশোর গ্যাং' থেকে এসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বস্ত্রমন্ত্রী। বলেন, হিজবুত তাহরীর, জামায়াত শিবিরসহ জঙ্গীরা আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর গুলি চালিয়ে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র চালিয়েছিল।


বাস্তবতা: শেখ হাসিনা এ পর্যন্ত একটাও কি প্রমান করতে পেরেছে যে সমন্বয়করা নিজেরা গুলি করেছে? বরং হাজার হাজার ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জা*ঙ্গী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, এমনকি সংসদে এমপিরা পুলিশের সাথে সংঘবদ্ধভাবে  সরাসরি ছাত্রদের গুলি করেছে।


নানকের এমন বক্তব্য দেওয়ার দু:সাহসের জন্য কেনো ড.ইউনুস সরকার, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গুলো ও সমন্বয়করা দায়ী তা প্রমান করবো পরের লেখায়, চোখ রাখুন আমার পেজে।


লেখক:ডা.বশির আহাম্মদ

বিপ্লবীদের সরকার কি সংবিধান মানতে হয়?


 "বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি ৭২ এর অনুসরন না লঙ্ঘন, রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায় এড়াবেন কিভাবে?"


শিরোনামে বর্নিত বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার :

১৯৭২ সালের সংবিধানের অনুসর না লঙ্ঘন এই প্রশ্নকে প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করেই এগোতে হচ্ছে যার কারনে সরকার বড় কোন পদক্ষেপ নিতে হাজার বার ভয় পাচ্ছে। আর এই প্রশ্নগুলো সববচেয়ে বেশী আসছে গন পেদানী খেয়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নিয়োগকৃত অপরাধী আমলারদের নিকট হতে। এই আমলারা দেশের মানুষকে গোলাম বানিয়ে কোটি কোটি টাকা দূর্নীতি করে বেঁচে যাওয়ার জন্য সংবিধানের অপব্যবহার করে নিজেদের জন্যকিছু আইন ও অধ্যাদশ জারি করে রেখেছে যার ফলে এই আইন ও অধ্যাদেশের কারনে কোনো সরকারই তাদেরকে নাড়া দিতে চায় না। যাই হোক, এখন প্রশ্ন আসছে এই ইউনুস সরকার কি বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী বৈধ না অবৈধ?


এই প্রশ্নের জবাবটা নিয়ে সবাই শঙ্কিত,  যদি সরকার সংবিধান অনুযায়ী অবৈধ হয়ে থাকে তাইলে সবার রাষ্ট্র দ্রোহী হওয়ার কথা, আসলেই তাই, বর্তমান সরকার অবশ্যই অবৈধ। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারও হয় তাইলে তাও অবৈধ কেননা সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বীকৃতি নাই।

এই প্রশ্নের উত্তর হলো বর্তমান সরকার কোনো মতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, এই সরকার বিপ্লবীদের সরকার বা বিপ্লব পরবর্তী সরকার। আর বিপ্লব পরবর্তী সরকার কখনোই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে হয় না, বিপ্লবী প্রক্রিয়ায় হয়। অন্তর্বতী সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার সব সময়েই প্রচলিত সংবিধানের কোন না কোন নিয়ম মেনে তৈরী হয়, কিন্তু বর্তমান ইউনুস সরকার কোনো নিয়ম মেনেই গঠিত হয় নি, অতএব এটা নিশ্চয়ই বিপ্লবী সরকার। এবার আসুন বিপ্লবী সরকার নিয়ে একটা সুস্পষ্ট ধারনা নেওয়া যাক।


বিপ্লবী সরকার কি?

"বিপ্লবী সরকার" বলতে বোঝানো হয় যা কিনা একটি সরকার, যা প্রচলিত রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তন বা বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। এই ধরনের সরকার সাধারণত একটি প্রচলিত সরকারের পতনের পর গঠিত হয় এবং নতুন আদর্শ বা ব্যবস্থার প্রবর্তনের জন্য কাজ করে।

বিপ্লবী সরকার সাধারণত প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতাকাঠামো বা শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন, সশস্ত্র সংগ্রাম বা অন্যান্য বিপ্লবী কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ফরাসি বিপ্লবের পর ফ্রান্সে গঠিত সরকার বা রাশিয়ান বিপ্লবের পর সোভিয়েত সরকারের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশের বর্তমান ইউনুস সরকারও কোনো নিয়ম নীতি মেনে হয় নি, সম্পূর্ণ ছাত্র জনতার রক্তাক্ত সংগ্রামের মাধ্যমে একজন স্বৈরাচারের হাত হতে জাতিকে মুতির মাধ্যমে তৈরী হয়েছে। সব কিছু নতুন ভাবে তৈরী হবে, পুরাতন সব কিছু বাতিল হবে, পুরান সংবিধানের অস্বীকৃতিই বতৃাম সরকারের ভিত্তি মূল।


বিপ্লবী সরকারে বৈশিষ্ট্য কি কি?

বিপ্লবী সরকারের বেশ কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা এই ধরনের সরকারকে স্বতন্ত্র করে তোলে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো পরিস্থিতি এবং বিপ্লবের প্রকৃতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে, তবে সাধারণত নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায়:


১।প্রচলিত শাসনব্যবস্থার পতন: 

বিপ্লবী সরকার সাধারণত পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার পতনের পর গঠিত হয়, যা প্রচলিত নিয়ম-কানুন ও শাসনব্যবস্থা বদলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কাজ করে।


এখানে বাংলাদেশে শুধু শেখ হাসিনা কেই পালাতে বাধ্য করা হয় নি, বরং তার পুরো সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে।


২।বিকল্প রাজনৈতিক ও সামাজিক আদর্শ: 

বিপ্লবী সরকার সাধারণত একটি নতুন রাজনৈতিক বা সামাজিক আদর্শ নিয়ে আসে, যেমন সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ, বা জাতীয়তাবাদ। এই আদর্শের মাধ্যমে পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তন করার প্রচেষ্টা থাকে।


এই কাজটি করার প্রক্রিয়াও চলমান, বাংলাদেশের শিক্ষা, পুলিশ, আইন সব কিছুই নতুম ভাবে গড়ার কাজ চলছে।


৩।গণ আন্দোলনের ফলাফল: 

বিপ্লবী সরকার প্রায়শই জনসাধারণের বৃহৎ অংশের সমর্থন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। গণঅসন্তোষ বা বিদ্রোহের মাধ্যমে প্রচলিত সরকারকে উচ্ছেদ করা হয়।


বাংলাদেশেও ছাত্র-জনতার অসন্তোষ ও গন আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিতারিত করা হয়েছে।


৪। প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠান ভাঙার প্রবণতা: 

বিপ্লবী সরকার প্রচলিত আইন, বিচার ব্যবস্থা, সংবিধান, এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত কাঠামোগুলো পরিবর্তন বা ভাঙার চেষ্টা করে এবং তাদের জায়গায় নতুন নিয়ম বা কাঠামো প্রবর্তন করে।


বাংলাদেশের এই বিপ্লবী সরকার এই খনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ, এটা করতে পারছে না।আরে বিপ্লবী সরকার আবার কিসের সংবিধান মানবে, সরকারের সামনে যারা প্রচলিত সংবিধানের প্রশ্ন তুলবে তারাই ফ্যাসিস্ট।


৫। সশস্ত্র সংগ্রাম বা শক্তি প্রদর্শন: 

অনেক ক্ষেত্রে বিপ্লবী সরকার সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। যুদ্ধ, বিদ্রোহ বা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তারা ক্ষমতা গ্রহণ করে।


বংলাদেশের বেলায়ও এটাই হয়েছে, আমাদের ছাত্র জনতা এই সশস্ত্র প্রক্রিয়ায়ই হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছে।


৬। দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ: 

বিপ্লবী সরকার প্রায়শই তাদের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি গ্রহণ করে। বিরোধী শক্তি বা প্রাক্তন শাসকদের প্রতি দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


এই জায়গায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, কেনো ব্যর্থ হয়েছে এই নিয়ে পরের একদিন লিখবো।


৭। নতুন অর্থনৈতিক নীতি: 

বিপ্লবী সরকার প্রায়ই নতুন ধরনের অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করে, যা প্রচলিত শাসনব্যবস্থার তুলনায় সম্পদ বিতরণ বা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, জমি সংস্কার, রাষ্ট্রায়ত্ত অর্থনীতি, বা ধনিক শ্রেণির উপর নিয়ন্ত্রণ।


এই প্রক্রিয়া চলমান।


৮। বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব: 

অনেক বিপ্লবী সরকার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এবং অন্য দেশগুলোর জন্য বিপ্লবের উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়।


এই বৈশিষ্ট্যগুলো বিপ্লবী সরকারের মৌলিক দিকগুলো বোঝায়, যা প্রায়শই প্রচলিত সরকারের থেকে তাদের আলাদা করে তোলে।


কখন বিপ্লবী সরকার গঠন হতে পারে?


বিপ্লবী সরকার গঠন সাধারণত তখন ঘটে যখন একটি দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক ব্যবস্থা ব্যর্থ হয় বা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারায়। বিশেষ করে নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলোতে বিপ্লবী সরকার গঠনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়:


১. গভীর সামাজিক বা অর্থনৈতিক অসন্তোষ:

• যখন জনগণের মধ্যে ব্যাপক বেকারত্ব, দারিদ্র্য, খাদ্য সংকট, বা অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, তখন জনগণ প্রচলিত সরকারকে অকার্যকর বা অন্যায় হিসেবে দেখাতে শুরু করে।


• জনগণের একটি বড় অংশ যদি নিজস্ব জীবনমান উন্নত করার কোনো উপায় দেখতে না পায়, তাহলে তারা বিপ্লবী পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকতে পারে।


২. রাজনৈতিক দুর্বলতা বা অকার্যকরতা:

• যখন একটি সরকার জনগণের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়, বা দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও স্বৈরাচারিতার কারণে জনপ্রিয়তা হারায়, তখন বিপ্লবের সম্ভাবনা তৈরি হয়।


• দুর্বল রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, এবং সরকারের প্রতি জনগণের বিশ্বাসের অভাব বিপ্লবী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।


৩. গণআন্দোলন ও প্রতিবাদ:

• যদি দীর্ঘমেয়াদী গণআন্দোলন বা প্রতিবাদ আন্দোলন হয় এবং সরকার সেই আন্দোলনকে দমন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আন্দোলনকারীরা সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন একটি বিপ্লবী সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে।


• ঐতিহাসিকভাবে ফরাসি বিপ্লব বা রাশিয়ান বিপ্লবের উদাহরণ এই ধরনের পরিস্থিতিতে এসেছে।


৪. সামরিক ব্যর্থতা বা যুদ্ধপরাজয়:

• একটি দেশের সামরিক ব্যর্থতা, বিশেষ করে বড় যুদ্ধে পরাজয় বা সামরিক কৌশলে বড় ভুল, জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে এবং সরকার পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়।


• যুদ্ধপরাজয় বা অভ্যন্তরীণ সামরিক সংগ্রামের ফলে একটি বিপ্লবী সরকার ক্ষমতা দখল করতে পারে।


বাংলাদেশের বেলায় সামরিক ও আইনী ব্যর্থতা সুস্পষ্ট।  বাললাদেশ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা ও দূর্নীতি এবং গুম-খুন, আয়না ঘর, হাজার হাজার মানুষ গুম, মে:জে জিয়াউর সহ শত শত ভারতীয় চরের সেনাবাহিনীতে চাকুরী, জেনারপল ওয়াকারের আওয়ামী তাবেদারী ও আওয়ামিলীগ এর নেতাদের সেফ কাস্টোরীর নামে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বিদেশ পাচার সবই সামরিক ব্যর্থতার সুস্পষ্ট প্রমান। 


৫. অত্যাচারী বা স্বৈরাচারী শাসন:

• যদি কোনো সরকার দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করে এবং স্বৈরাচারীভাবে শাসন করে, তখন সেই শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সম্ভাবনা বাড়ে। এই বিদ্রোহের ফলে এক সময় একটি বিপ্লবী সরকার গঠিত হতে পারে।


• বিশেষ করে মুক্ত মতপ্রকাশ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, এবং রাজনৈতিক দমনপীড়নের কারণে জনগণ বিদ্রোহ করতে বাধ্য হতে পারে।এই ক্ষেত্র বাংলাদেশ বিগত ১৬ বছরের আদর্শ প্রমান।


৬. আদর্শিক সংগ্রাম:

• কোনো আদর্শিক বা নৈতিক কারণে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার বিপরীতে যদি একটি নতুন আদর্শ বা নীতি জনগণের মধ্যে প্রচলিত হয়, তখন বিপ্লবী আন্দোলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।


উদাহরণস্বরূপ, সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ বা ধর্মীয় আদর্শের ভিত্তিতে সরকার পরিবর্তন করা হতে পারে।বাংলাদেশে পরিবর্তন করা হচ্ছে আওয়ামী স্বৈরতন্ত্র। 


৭. সরকারের পতন বা ভেঙে পড়া:

• যখন প্রচলিত সরকার কোনো আভ্যন্তরীণ কারণে ভেঙে পড়ে (যেমন: নেতৃত্ব সংকট, আর্থিক ধ্বংস, প্রশাসনিক বিপর্যয়), তখন বিপ্লবী শক্তিগুলো সুযোগ নিয়ে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।


এই পরিস্থিতিগুলো একত্রিত হলে একটি দেশ বিপ্লবী সরকার গঠনের পথে যেতে পারে।


বিপ্লবী সরকারের কাছে কি পুরাতন সংবিধান বিবেচ্য বিষয়?


বিপ্লবী সরকারের কাছে সাধারণত পুরাতন সংবিধান কখনোই  বিবেচ্য বিষয় হতেমপারে না। বিপ্লবী সরকারগুলোর লক্ষ্যই থাকে পুরাতন শাসনব্যবস্থা এবং তার সাথে সম্পর্কিত আইন ও সংবিধানকে পরিবর্তন করা বা বাতিল করা। তারা নতুন আদর্শ বা শাসনব্যবস্থার ভিত্তিতে একটি নতুন সংবিধান বা আইন প্রণয়নের চেষ্টা করে। তবে, পুরাতন সংবিধান এবং তার কিছু নীতিমালা সাময়িকভাবে ব্যবহার করা হতে পারে যদি তা তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সহায়ক হয়।


বর্তমান বাংলাদেশেও সংবিধানের কোনো বালাই রাখার মানে নাই। নতুন সংবিধান প্রনয়ন করতে হবে। এর আগ পর্যন্ত কোনো কোনো নিয়োগ, বদলি ও চাকুরী চ্যুতির বিষয়ে পুরাতন সংবিধানকে মানার কোনো মানে হয় না। পুরাতন সংবিধানের দোহাই যারাই দিবে তাদেরকেই আওয়ামিলীগের দোসর হিসাবে চিহ্নিত করে তার পর তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে তবেই প্রমান হবে এটা বিপ্লবী সরকার। আর পুরাতন সংবিধান বাতিল না করলে বর্তমান সরকার ও আন্দোলন কারীরা এক সময় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ফাঁসবে।

সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস

 "ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠা ও বীরত্বের ইতিহাস"



সৌম্য, শক্তি, ক্ষিপ্ৰতা'- এ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময় এবং ঐতিহ্যপূর্ণ। ঐতিহ্যবাহী এই রেজিমেন্টের ডাকনাম বা উপাধি হল “The Tigers"। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী এ রেজিমেন্টের ইতিহাস আমাদের প্রিয় সেনাবাহিনীর চেয়েও পুরানো, যার সূচনা হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগে। তবে বর্তমানে এই রেজিমেন্টের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, প্রত্যেক বাংলাদেশীর কাছেই এক গর্বের বিষয়। ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট কে বিশ্বের অন্যতম সাহসী রেজিমেন্ট হিসেবে গন্য করা হয়। প্রায় অর্ধ শতক যাবৎ বিশ্বের একমাত্র বাঙালি ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট এর খেতাব ধরে রেখেছে। মেজর আবদুল গনির হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টই ১৯৭১ সালের মুক্তযুদ্ধ ও বর্তমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনির নিউক্লিয়াস।


 ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টঃ


ব্রিটেন-এর নিকট থেকে ভারতের স্বাধীন হওয়ার ফলশ্রুতিতে ১৯৪৮ সালের ১৫ই ফেব্রুযারী এই বাহিনী গঠিত হয়। স্বাধীনতার চুক্তি মোতাবেক, মুসলিম জনগণকে আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তান দেওয়া হয়, যা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে গঠিত হয়। নতুন পাকিস্তান সেনাবাহিনী গঠিত হয়েছিল প্রধানত দেশের পশ্চিমাংসের মানুষের সমন্বয়ে। পরবর্তীতে পূর্বাংশেও একটি রেজিমেন্ট গঠন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে, বিহার রেজিমেন্ট-এর বাঙালি সৈনিকদের দুটি কোম্পানির সমন্বয়ে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট-এর ১ম ব্যাটেলিয়ন গঠন করা হয়।ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এর প্রতিষ্ঠার সাথে যার নামটি জড়িত তিনি হলেন তৎকালীন পূর্ব পাকীস্তানের কুমিল্লার তদানীন্ত বুড়িচং থানা, বর্তমান ব্রাহ্মণ পাড়া উপজেলার নাগাইশ গ্রামের ক্যাপ্টেন গনি, যিনি সম্পর্কে আমার নামা ভাই হোন।  ১৯৫১ সনে জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর ১ম ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক নিযুক্ত হন। এর কিছুকাল পরেই ২য় ব্যাটেলিয়ন গঠন করা হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত মোট ৮টি ব্যাটেলিয়ন গঠন করা হয়, যার মধ্যে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম ব্যাটেলিয়ন পশ্চিম পাকিস্তানে গঠন করা হয়।


১৯৭১ সালের মার্চ মাসে, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপর সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়া সরূপ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটেলিয়ন বিদ্রোহ করে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা করে। প্রথমে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিয়েই স্বাধীনতা যোদ্ধাদের বাহিনী গঠিত হয়, যা মুক্তিবাহিনী নামে পরিচিত হয়। পরবর্তীতে পশ্চিম পাকিস্তানে রয়ে যাওয়া অংশকে প্রতিস্থাপন করতে অন্যান্য ইউনিট গড়ে তোলা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এদের নিয়েই নতুন সেনা বাহিনী গঠন করা হয়। অবশ্য ৭ম ব্যাটেলিয়ন ৪৪তম ব্যাটেলিয়ন হিসাবে পাকিস্তান সেনা বাহিনীর ফ্রন্টিয়ার্স ফোর্স রেজিমেন্টে একত্রীভূত হয়, যারা ১৯৭১ সালে ১০ম ব্যাটেলিয়ন গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছিল।


আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অধীনে থাকা বাঙ্গালী সেনা তথা ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। পূর্ব-পাকিস্তান বাঙালীদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রেক্ষিতে দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে গঠন করা হয় "ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট(EBR)”। উল্লেখ্য, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অন্যান্য অনেক ভাগে বাঙ্গালী সেনারা থাকলেও বিপুল আকারে এবং সম্পূর্ণ বাঙ্গালিদের নিয়ে গঠিত পূর্ণ-শক্তির বাহিনী ছিল ইস্ট- বেঙ্গল রেজিমেন্ট। যদিও সত্তরের দিকে এই ইস্ট- বেঙ্গালের সেনাদের মধ্যে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের উপস্থিতি দেখে, তা রোধ করতে ফ্রন্টিয়ার-ফোরসের কিছু সেনাকে আস্তে আস্তে ইস্ট বেঙ্গলের সেনাদের সাথে মিশিয়ে দেবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়, যা কখনোই আলো দেখেনি পুরোপুরি।


পাঞ্জাব, বালুচ, বিহার জনগোষ্ঠীর সেনাসংখ্যা যতটা ছিল, তার তুলনায় বাঙ্গালী রেজিমেন্টের সংখ্যা ছিল একেবারেই অপ্রতুল। প্রথম দিকে শুধু একটি ব্যাটেলিয়ন থাকলেও পরবর্তীতে ব্যাটেলিয়ন সংখ্যা উন্নীত করা হয় আটে। ১ম ইস্ট বেঙ্গলকে বলা হত সিনিয়র টাইগার। বাছাই করা চৌকশ বাঙ্গালী সেনা এবং ওসমাণীর ছায়াতে থাকা এই রেজিমেন্ট অচিরেই পরিণত হয় পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ব্যাটেলিয়নে। এই ব্যাটেলিয়নে যোগ দেওয়া যেকোনো বাঙ্গালীর জন্য ছিল গর্বের। অল্প দিন পরেই গঠিত হয় ২য় ইস্ট বেঙ্গল, দীর্ঘ ২২ বছর তাদের জুনিয়র টাইগার নাম নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এভাবে একে একে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাঙ্গালিদের নিয়ে আটটি রেজিমেন্ট গঠন করা হয়, যা পাকিস্তানের তখনকার ৪৪ টি রেজিমেন্টের মধ্য সংখ্যা ছিল অতি নগণ্য, যদিও বাঙ্গালীরা ছিল পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার বৃহদাংশ। পাকিস্তান আর্মিতে বাঙ্গালী সেনাদের উপহাসের দৃষ্টিতে দেখা হলেও এই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের 5th EBR – এর সাহসী সৈনিক এবং অফিসারেরা ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধে অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করে এবং ভারতীয় বাহিনীর কাছ থেকে লাহোরকে রক্ষা করে।


• ১৯৬৫ পাক-ভারত যুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদানঃ


১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ৬ সেপ্টেম্বর থেকে। এ যুদ্ধে বাঙ্গালি সেনাদের অসাধারণ ভূমিকা বারবার চেপে যেতে চেয়েছে পাকিস্তান। ৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন পরামর্শে ভারত হঠাৎ করেই করাচি আক্রমণ করে বসে। এ সময় বাঙ্গালিসেনাদের প্রচ- আক্রমণের মুখে লাহোরের উপকণ্ঠে এসে থেমে যায় ভারতীয় বাহিনীর অগ্রযাত্রা। লাহোর প্রতিরক্ষার সেই যুদ্ধ ছিল আধুনিক যুগে বাঙ্গালি সেনাদের অংশ নেওয়া প্রথম সক্রিয় ও সর্বাত্মক যুদ্ধ। এর আগে বাঙ্গালিদের দেখা হতো নন-মার্শাল রেস (অযোদ্ধা জাতি) উদ্ভূত সৈন্য হিসেবে।


১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের ৮ টি ডিভিশনের মধ্যে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট মাত্র ৪ টি ব্যাটেলিয়নের মাধ্যমে সংগঠিত ছিল। এর অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল আতিক হক। মাত্র এই ৪ টি ব্যাটেলিয়ন নিয়ে তিনি যুদ্ধে যে দক্ষতা দেখান তার জন্য যুদ্ধের পর পাকিস্তান বাধ্য হয় তাদের সর্বোচ্চ সামরিক পদক প্রদান করতে।


সে যুদ্ধে পরবর্তীতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থান পাওয়া প্রায় প্রত্যেক সমরনায়কই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশাররফ, আবু তাহের, আবুল মনজুরসহ প্রত্যেকেই বীরত্ব দেখান। জিয়াউর রহমান ৪৬৬ জন সৈন্যের একটি বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন। সেই বাহিনীই প্রথম ভারতীয় বাহিনীর সামনে পড়ে। তাজুল ইসলাম নামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন এনসিও নিজের বুকে মাইন বেঁধে আগুয়ান ভারতীয় ট্যাংক বহরের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মাহুতি দেন।


স্থলবাহিনীর পাশাপাশি বিমানবাহিনীতে কর্মরত সেনারাও ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে কৃতিত্ব দেখান। বাঙ্গালি বৈমানিক মোহাম্মদ মাহমুদুল আলমের নাম এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। একটি হীনবল এফ-৮৬ স্যাবর জঙ্গিবিমান দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্রথম মিনিটেই পাঁচটি ভারতীয় হকার হান্টার বিমান ভূপাতিত করে বিমানযুদ্ধের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা রেকর্ড গড়েন। যার মধ্যে প্রথম চারটি ভূপাতিত করেন মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে। এটি আজ পর্যন্ত একটি বিশ্বরেকর্ড। পুরো যুদ্ধে তিনি মোট নয়টি ভারতীয় জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করেন। পাকিস্তানে এখনো তিনি একজন জাতীয় বীর হিসেবেই পরিগণিত। ২০১৪ সালে তার নামে পাঞ্জাবের মিয়ানওয়ালী বিমানঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে 'পিএএফ বেস এম এম আলম'। লাহোরের একটি প্রধান সড়কের নামও এম এম আলম রোড। ঢাকা মিউনিসিপালটি করপোরেশন ৬৫'র যুদ্ধের পর তাকে ঢাকায় একটি বাড়ি উপহার দেয়।


আরেক বাঙ্গালি বৈমানিক সাইফুল আজমও বীরত্বের সাথে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাথে ডগফাইট করে একটি জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করেন। পরবর্তীতে সাইফুল আজম ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধেও অংশ নেন। সেখানেও তিনি ইসরাইলি বিমানবাহিনীর ত্রাসে পরিণত হন। তিনি যতগুলো ইসরাইলি বিমান ভূপাতিত করেন তা আজও রেকর্ড হয়ে আছে। আজ পর্যন্ত অন্য কেউ একা এতগুলো ইসরাইলি বিমান ধ্বংস করতে পারেনি। সাইফুল আজম বিশ্বের ২২ জন লিভিং ঈগলের একজন বলে বিবেচিত। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ অমীমাংসিতভাবে সমাপ্ত হলেও এর কিছু সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য থেকে যায়। এই যুদ্ধের মাধ্যমেই বাঙ্গালিদের কপাল থেকে নন-মার্শাল রেসের কলঙ্ক মুছে যায়।


বাঙ্গালিদের নন-মার্শাল রেস বা অযোদ্ধা জাতি হিসেবে চিহ্নিত করা শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে। বাঙ্গালিদের বিদ্রোহ দমন করে রাখার জন্য ব্রিটিশরা অপপ্রচার চালাত, বাঙ্গালিরা কৃষিকাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে যতটা দক্ষ যুদ্ধে ততটাই অদক্ষ। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ বাঙ্গালি অফিসারই বীরত্ব পদক লাভ করেন। জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক পদক হিলাল-ই-জুররাত লাভ করেন। জিয়ার ইউনিট তিনটি তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক পদক সিতারা-ই-জুররাত ও নয়টি চতুর্থ সর্বোচ্চ সামরিক পদক তমঘা-ই-জুররাত অর্জন করে।


১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টঃ


মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকা অতুলনীয়। একাত্তরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ ছিল উত্তাল। স্বাধীনতাকামী মানুষের আকাশ ভেদি সেøাগানে প্রকম্পিত। শেখ মুজিবের ডাকে পুলিশ, ইপিআর, সরকারী-বেরকারী চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সাড়ে সাত কোটি বাঙালী তখন আনুগত্য প্রকাশ করে তাঁর নির্দেশ মেনে চলছিল। শুধু কর্মরত বাঙালী সেনারা তখনও আনুগত্য প্রকাশের পর্যায়ে ছিল না। তাদের কেউ কেউ পাকিস্তানী সেনাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা চালানোর পর। বাঙালী সেনাদের অনেকে পাকিস্তানীদের হাতে নিহত হন সে সময়েই।


বাঙালী সৈনিকদের সমন্বয়ে গঠিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট কী পর্যায়ে ছিল ১৯৭১ সালে বা কী অবস্থা হয়েছিল তাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দিকে তাকালে এই প্রশ্ন সামনে আসবেই। এই সৈনিকদের হাল-হকিকত কী দাঁড়িয়েছিল ১৯৭১ সালে সে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কোন কাজ হয়নি তেমন। ছিল যারা সহকর্মী; তারাই শত্রুতে পরিণত হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কাছে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের শীর্ষ কর্তারা কেউ সারেন্ডার করেন, কেউ মারা পড়েন।


১৯৭১ সালে পাকিস্তানী শাসন যন্ত্র যখন এদেশের নিরীহ বাঙ্গালীদের হত্যাযজ্ঞের নীল নকশা করছিল তখন থেকেই বাংলাদেশ অবস্থানকারী এই রেজিমেন্টগুলোর অনেক অফিসার পরিকল্পনা করছিলেন বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেওয়ার। এখানে উল্লেখ্য,সামরিক আইনে বিদ্রোহের চেষ্টা,পরিকল্পনার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড যোগ্য অপরাধ। কোর্ট মার্শালের ভয় বিন্দুমাত্র দমিয়ে রাখতে পারেনি দেশপ্রেমিক এই সব বীর সেনাদের। পাকিস্তানের তৎকালীন এক মেজর সাদিক সালেকের "Witness to surrender" বই থেকে জানা যায় বাঙ্গালী সেনারা ঊর্ধ্বতন অফিসারের নির্দেশ অমান্য করবে, কিন্তু তারপরও নিজ জাতভাই এর উপর গুলি চালাবে না। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নিশ্চিত জীবন ছেড়ে দিয়ে পরিবার-পরিজনদের পাকিস্তানী বাহিনীর কব্জায় ফেলে এবং মাথার উপর মৃত্যু দণ্ডের খড়গ নিয়ে সেই সব বীর সেনা এবং অফিসাররা শুরু করেন অনিশ্চিত বাংলাদেশের স্বপ্নের উদ্দেশ্যে যাত্রা। এভাবেই শুরু। দেশের টানে,সব কিছু ফেলে শুরু হয় নয় মাসের সংগ্রাম। যেসব সৈনিক এবং অফিসার বিদ্রোহ করেছিলেন তারা শুধু নিজেদের প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম নিয়েই সেসময় ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়েছিলেন। বাকী সব জিনিসপত্র তারা ফেলে আসেন এবং যা পরবর্তীতে পাকবাহিনীর সদস্যরা লুণ্ঠন করে। ফলে যারা সেদিন বিদ্রোহ করেছিলেন, যুদ্ধের পর আক্ষরিকঅর্থে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পর্যন্ত ছিলনা।


ব্রিটিশকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বাঙালীর অংশগ্রহণ ছিল নামমাত্র। পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭০ পর্যন্ত তাতে বাঙালীর প্রতিনিধিত্ব ছিল শতকরা ৫ ভাগ। ৯৫ ভাগ পাকিস্তানীর পাশে ৫ ভাগ নস্যি যেন। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বা প্রতিষ্ঠানে বাঙালীরা ছিল ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায়। পুরোপুরি বাঙালী সৈনিকের গঠিত কোন ইউনিট বা প্রতিষ্ঠানও ছিল না। একমাত্র পদাতিক বাহিনীর রেজিমেন্টগুলো ছিল পাকিস্তানীদের আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক ভিত্তিতে। প্রাদেশিক ভিত্তিতে সৈনিক রিক্রুটমেন্ট বা নিয়োগ করা হতো। অঞ্চল ভিত্তিতেই নামকরণ করা হয় রেজিমেন্টগুলোর। একাত্তর সালেও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চারটি পদাতিক রেজিমেন্ট ছিল। পাঞ্জাব রেজিমেন্ট, বেলুচ রেজিমেন্ট, ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্ট এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। এগুলোর আবার একাধিক ব্যাটালিয়ন ও ব্রিগেড ছিল। বাঙালীরা অন্য রেজিমেন্টগুলোতে কাজ করার সুযোগ পেত তা নয়। বাঙালী রেজিমেন্টেরও শীর্ষ পদসহ অন্যপদগুলো বাকি তিন রেজিমেন্ট থেকে আসা সেনাদের দখল বা নিয়ন্ত্রণে থাকত। কুমিল্লার বুড়িচংয়ের মেজর জেনারেল গণি বা টাইগার গণি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।


পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বাঙালী সৈনিক সমন্বয়ে গঠিত একমাত্র রেজিমেন্ট ছিল ইস্ট বেঙ্গল। যার ছিল মাত্র ৮ ব্যাটালিয়ন সৈনিক। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল ছিল নাম। এই ৮ ব্যাটালিয়নের মধ্যে ২৫ মার্চ ১৯৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানের লাহোর, করাচিতে ছিল তিনটি ব্যাটালিয়ন। আর পূর্ববাংলায় ৫টি। এই ৫টি ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়কদের মধ্যে দু'জন ছিলেন বাঙালী। বাকি তিনজন পাকিস্তানী উর্দুভাষী অবাঙালী।


প্রথম ইস্ট বেঙ্গল ছিল যশোরে। যার অধিনায়ক বাঙালী লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল জলিল এবং দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল জয়দেবপুরে। অধিনায়ক বাঙালী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদুল হাসান খান। এই দুই রেজিমেন্টের দুই অধিনায়কই পাকিস্তানীদের কাছে বড় কোন চাপ ছাড়াই আত্মসমর্পণ করেন। এই দুই ব্যাটালিয়ন সেনাদের কেউ কেউ পাকিস্তানীদের হাতে নিহত হলেও অধিকাংশই পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।


১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে আওয়ামী লীগ- এমন হিসাবটা পাকিস্তানী সামরিক জান্তাদের ধারণার বাইরে ছিল। 'বাঙালীর হাতে পাকিস্তানের শাসনভার যে দেয়া যায় না' এই মতে একাট্টা ছিল সামরিক জান্তারা। তাই তারা 'পূর্ব পাকিস্তান' জুড়ে পাকিস্তানী সেনাবহর সংখ্যা বাড়ানোতে মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিল। ১৯৭১-এর ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানী সেনা ছিল বাংলাদেশে দশ থেকে বারো হাজার। ১৫ মার্চ থেকে এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। সারা বাংলায় পাকিস্তানীদের মাত্র ৪টি ব্রিগেড ছিল। ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানীদের শক্তি ছিল ১৪তম ডিভিশনের কয়েকটি ব্যাটালিয়ন মাত্র।


১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারত সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এ সময় বাংলাদেশে পাকিস্তানের সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। এই বাহিনী 'ইস্টার্ন কমান্ড হেড কোয়ার্টার্সের' অধীনে কুখ্যাত লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজীর নেতৃত্বে ৫টি পদাতিক ডিভিশন ও ১টি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ব্রিগেডের ছত্রছায়ায় ছিল। শুধু এক লাখ পাকিস্তানী সেনারাই গণহত্যা, বর্বরতা,নৃশংসতাসহ যুদ্ধ করেনি, তাদের সহযোগী হিসেবে ছিল আরও বাহিনী। বাংলাদেশীয় দালাল, চাটুকার, মোসাহেবদের দিয়ে পাকিস্তান বাহিনী গঠন করেছিল এক লাখের বেশি আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী। এছাড়াও ছিল পাকিস্তানী সেনাদের পক্ষে বাংলাদেশে বসবাসকারী তিন লক্ষাধিক অবাঙালী বিহারি মুসলমান। সব মিলিয়ে পাকিস্তানী সেনা সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল নিয়মিত বাহিনীর সৈনিক ১ লাখ ও রাজাকার বদরসহ আধা সামরিক আরও ১ লাখ সদস্য। মানবতাবিরোধী সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে এরা জড়িত ছিল।


অপরদিকে জুলাই মাস পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল- ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩ হাজার সেনা, রাইফেলসের ১২ হাজার সেনা এবং আনসার, মুজাহিদ, পুলিশ ও ছাত্র স্বেচ্ছাসেবক ছিল মাত্র কয়েক হাজার। অস্ত্র বলতে ৩০৩ রাইফেল, সামান্যসংখ্যক হালকা মেশিনগান এবং নগণ্য ভারি মেশিনগান ও তিন ইঞ্চি মর্টার। পরে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। নিয়মিত বাহিনী ও গণবাহিনী এবং অন্যান্য বাহিনী মিলিয়ে কয়েক লাখ যোদ্ধা যুদ্ধ করেছিল। শেষে ভারতীয় সেনারা এসে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে মিত্রবাহিনী গড়ে তোলাতে সেনা সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়ে।


পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের যে তিনটি রেজিমেন্ট ছিল, সেখান থেকে অনেক মেজর, ক্যাপ্টেন পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। বাকিরা ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। অনেক বাঙালী সেনা পাকিস্তানীদের হয়ে বাঙালী নির্বাণে নেমেছিল। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়ন, যারা 'সিনিয়র টাইগার' নামে পরিচিত তারা সব সেনা, অস্ত্র ও রসদসহ বাঙালী অধিনায়ক লে. কর্নেল রেজাউল জলিলের নেতৃত্বে যশোরের চৌগাছায় অবস্থান করছিল। তারা ২৪ মার্চ থেকেই বার্ষিক 'ফিল্ড এক্সারসাইজ' উপলক্ষে সেখানে ছিলেন। ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরুর খবর জানার পরও তারা নির্বিকার ছিলেন। দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনের মুক্তিযুদ্ধের সেনা অধিনায়ক মেজর আবু উসমান চৌধুরী দু'দফা পত্র পাঠান লে. কর্নেল জলিলকে। যাতে উল্লেখ করেন, 'দেশ ও দশের লোকের নিরাপত্তা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বিপর্যস্ত। মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত, জ্ঞানী-গুণী ও ছাত্ররা হতাহত হচ্ছে। তাই এর বিরুদ্ধে আমি আমার ইপিআর বাহিনীকে নিয়ে বিদ্রোহ করেছি। বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছি। আর কে কি করছে জানি না। কিন্তু আপনি সিনিয়র, আপনার কাছে সৈন্য আছে, হাতিয়ার আছে, আপনি আসুন, অধিনায়কত্ব গ্রহণ করুন। আমরা সম্মিলিতভাবে এদের হনন করতে সক্ষম হব।' প্রথম দফা চিঠিটি পেয়ে কোন জবাব না দিলে পরদিন ২৮ মার্চ একই পত্র পাঠালে কর্নেল জলিল পত্রবাহককে 'পাগলের প্রলাপ' বলে হেসে উড়িয়ে দেন, কোন জবাব না দিয়ে। এমনকি এ বিষয় নিয়ে পুনরায় না আসার জন্য বার্তাবাহককে সতর্ক করে দেন।


কী করলেন এই কর্নেল, পরের দৃশ্যে দেখি তাকে। যশোর সেনানিবাসের পাকিস্তানী কমান্ডারের নির্দেশে কর্নেল জলিল 'সিনিয়র টাইগার'দেরসহ সব অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহন নিয়ে ২৯ মার্চ যশোর ক্যান্টনমেন্ট পৌঁছেন। এবং সব জমা দেন। পাকিস্তানী ব্রিগেড অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার সরদার আবদুর রহিম দুররাণী অস্ত্রগারের চাবি হস্তগত করেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিনিয়র টাইগারদের এর পরের পর্বের ইতিহাস অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক। টাইগার ক্যাপ্টেন হাফিজউদ্দিন আহমদ লিখেছেন, ‘৩০ মার্চ সকাল ৯টার সময় যশোর সেনানিবাসে পাকিস্তানী বাহিনী প্রথম বেঙ্গল রেজিমেন্টের ওপর অতর্কিতে তিন দিক থেকে আক্রমণ করে। তার আগে সকালে ব্রিগেডিয়ার দুররাণী ব্যাটালিয়ন অফিসে যান এবং কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল জলিলকে বলেন যে, আমাদের ব্যাটালিয়নকে নিরস্ত্র করা হলো এবং আমাদের অস্ত্রশস্ত্র জমা দিতে করেন।' আর একই সময়ে পাকিস্তানী বাহিনী যশোরের পুলিশ লাইন ও ইপিআর সেক্টর সদরে বেপরোয়া আক্রমণ চালায়।


পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদ থেকে পদত্যাগকারী ও মুক্তিযুদ্ধের নৌ-কমান্ডের উপ- অধিনায়ক আহমদ রেজা 'একাত্তরের স্মৃতিচারণ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, 'কর্নেল জলিলের অধীনস্থ রেজিমেন্ট পাকিস্তানী কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশে যশোর সেনানিবাসে ফিরে যায় এবং সেখানে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাদের ঘিরে ফেলে ও হামলা চালায়। যার ফলে প্রথম বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়। মাত্র এক দেড়শ' সৈনিক কোনমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের সঙ্গে ছিলেন ক্যাপ্টেন হাফিজ। অবশ্য কর্নেল জলিল ইতোমধ্যে আত্মসমর্পণ করে বন্দিত্বের বিনিময়ে জীবন রক্ষা করতে সমর্থ হন। পাকিস্তানে তিনি লে-কর্ণেল পদে উন্নীত হন। কর্নেল জলিল পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তা ছিলেন দীর্ঘদিন।


২য় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল জয়দেবপুরে। অধিনায়ক বাঙালি লে. কর্নেল মাসুদের রেজিমেন্টটি ২২ মার্চ থেকেই একরকম বিদ্রোহ করে। মেজর মঈনুল হোসেন চৌধুরীর অধীনে রেজিমেন্টটির এই অংশটি এরই মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার আবরারের বাঙালী নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ২৫ ও ২৬ মার্চ ঢাকায় অপারেশন সার্চলাইট শুরুর পর তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান ছেড়ে সরে যায়। রেজিমেন্টের অপর দলটি মেজর শফিউল্লাহর অধীনে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে ছিল। তারই নেতৃত্বে সেনারা বিদ্রোহ করে। এমন পরিস্থিতিতে লে. কর্নেল মাসুদ স্ত্রী পুত্র কন্যাসহ সেনানিবাসে নিজ গৃহে অবস্থান করছিলেন। তিনিও আত্মসমর্পণ করেন। পুরো নয় মাস তার পরিবারটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ছিল মেজর জিয়ার পরিবারসহ। অধীনস্থ রেজিমেন্টের বিদ্রোহের দায়িত্ব তাকে গ্রহণ করতে হবে; তিনি তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু কেন-সে প্রশ্নের জবাব মেলেনি।


তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল রংপুরে । যার অধিনায়ক ছিলেন পাকিস্তানী লে. কর্নেল ফজলুর রহমান। এখানে বাঙালী সেনারা সুবিধা করতে পারেনি।


চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল কুমিল্লায়। যার অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল খিজির হায়াত খান পাঞ্জাবি। উপ-অধিনায়ক হিসেবে মেজর খালেদ মোশাররফ ২৪ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেয়ার পর পরই তাকে পাঠানো হয় একটি কোম্পানিসহ শমসেরনগর। আরেকটি কোম্পানি মেজর শাফায়েত জামিলের অধিনায়কত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছিল। ২৭ মার্চ শাফায়াত জামিল অধিনায়ক খিজির হায়াত খানকে আটক করেন। এই দুটি কোম্পানি প্রথমেই বিদ্রোহ করে এবং পাকিস্তানী সেনাদের ওপর হামলা চালায়।প্রায় সবাই যুদ্ধে অংশ নেয়।


অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল চট্টগ্রামে। পাঞ্জাবি


লে. কর্নেল রশিদ জানজুয়া ছিলেন এর অধিনায়ক।


তবে এই ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক ছিলেন বাঙালী মেজর জিয়াউর রহমান। এই বেঙ্গল ব্যাটালিয়নকেও পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানোর জন্য ২৫ মার্চের আগেই আদেশ জারি করা ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাটালিয়নের এক কোম্পানি সেনা একজন পাঞ্জাবি অফিসারের নেতৃত্বে 'এডভান্সড পার্টি' বা অগ্রবর্তী দল হিসেবে পাকিস্তানের খাবিয়ান সেনানিবাসে চলে যায়। ব্যাটালিয়নের একটি কোম্পানিকে কর্নেল জানজুয়ার আদেশে 'সোয়াত' জাহাজ থেকে গোলাবারুদ খালাস করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োজিত রাখা ছিল। অবশিষ্টাংশ লে. কর্নেল জানজুয়ার অধীনে ষোলশহর নামক স্থানে প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় পাকিস্তান পাড়ি দেয়ার জন্য দিন গুনছিল। কোন ব্যাটালিয়নকে দেশের এক উইং থেকে অন্য উইং-এ পাড়ি দেয়ার প্রাক্কালে গাড়ি 

অস্ত্রশস্ত্রসহ গোলাবারুদ ইত্যাদি জমা দিতে হয় নিয়মানুযায়ী, যা বদলিস্থানে যোগদানের পর পুনরায় পূরণ করা হয়। অষ্টম ইস্ট বেঙ্গলের এই ব্যাটালিয়নটির এই অবস্থা তখন। কেবল সৈনিকদের দৈনন্দিন প্রশিক্ষণের জন্য ন্যূনতম গাড়ি ও হাতিয়ার ছিল। এই ব্যাটালিয়নটি পুরোপুরি যুদ্ধোপযোগী ছিল না। সব মিলিয়ে রেজিমেন্টের প্রায় তিনশ' বাঙালী তখন চট্টগ্রামে ছিল।


ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের রিক্রুটিং ট্রেনিং সেন্টারটি ছিল চট্টগ্রামের সেনানিবাসে। যার নাম ছিল 'ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টার' বা 'ইবিআরসি'। একাত্তরের মার্চে এই সেন্টারে সব মিলিয়ে আড়াই হাজার সেনা ছিল। সেন্টার কমান্ড্যান্ট ছিলেন বাঙালি ব্রিগেডিয়ার এ আর মজুমদার। আর প্রধান প্রশিক্ষক কর্মকর্তা ছিলেন বাঙালি লে. কর্নেল এম আর চৌধুরী। এছাড়া সেন্টারে বেশকিছু বাঙালি অফিসার অবস্থান করছিল। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল হামিদ ২৪ মার্চ পাঞ্জাবি ব্রিগেডিয়ার আনসারীকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে চট্টগ্রাম যান। চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণ ভার প্রদান করেন আনসারীকে ব্রিগেডিয়ার মজুমদারের স্থলে। আর মজুমদার ২৫ মার্চ আটক হন এবং পুরো নয় মাস বন্দী জীবন কাটান।


২৫ মার্চ রাতে চট্টগ্রামে বন্দী হন লে. কর্নেল এম আর চৌধুরী। তিনি পাকিস্তানীদের বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু ২০ বালুচ রেজিমেন্টের সেনারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সেই বিশ্বাসের জবাব দিয়েছিল। চট্টগ্রামে তখন পাকিস্তানী সেনা সংখ্যা ছিল মাত্র শ'তিনেক। আর ইপিআর তথা রাইফেলসের বাঙালী সৈনিকই ছিল প্রায় দেড় হাজার।


অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের মাত্র ৩টি কোম্পানি ২৫ মার্চ ষোলশহরে অবস্থান করছিল। পাকিস্তানী ব্রিগেডিয়ার আনসারী রেজিমেন্টের অধিনায়ক জানজুয়াকে নির্দেশ দেন, যে কোন মূল্যেই হোক সব অবরোধ পরিষ্কার করতে হবে। নির্দেশানুযায়ী জানজুয়া অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে ষোলশহর হতে সেনানিবাস পর্যন্ত সব ব্যারিকেড সরাবার কাজে নিয়োগ করলেন। হাজার হাজার জনতার বাধা সত্ত্বেও সেনারা ব্যারিকেড সরাতে বাধ্য হলো। রাত নয়টার মধ্যে তারা সব সরায়। এই ব্যাটালিয়নকে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত করে রাখা এবং বাঙালী অফিসারদের সৈনিকদের কাছ হতে পৃথক করে রাখা, এমনকি সুযোগমতো হত্যা করার উদ্দেশ্যে ব্রিগেডিয়ার আনসারী ও জানজুয়ারা পরিকল্পনা করে। তাই ২৫ মার্চ সন্ধ্যার পর ষোলশহর থেকে ব্যাটালিয়নের 'সি' কোম্পানিসহ মেজর মীর শওকতকে ট্রানজিট ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়। মেজর জিয়াকে চট্টগ্রাম বন্দরে রিপোর্ট করার জন্য বলা হয়। এই বাঙালী সেনারাই পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। সঙ্গে ইপিআর বাহিনী। এই ব্যাটালিয়নের সব সেনাদের একত্রিত করে অধিনায়কত্ব নিজ হাতে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া। তারা পাকিস্তানী বেশকিছু সেনাদের হত্যা করে। এই ব্যাটালিয়নটি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেছিল। তারা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রামকে ধরে রাখে। কালুরঘাটে হেরে গিয়ে পিছু হটে। এখানে ক্যাপ্টেন হারুন আহমদ চৌধুরী গুরুতর আহতাবস্থায় দু'জন সহযোদ্ধার সহায়তায় পেছনে সরে আসেন। আর আহতাবস্থায় লে. শমশের মবিন চৌধুরী পাকিস্তানীদের হাতে ধরা পড়েন। তিনি পুরো ৯ মাস ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বাধীনতার পর তাকে জার্মান পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য।


মুক্তিযুদ্ধের নৌ-কমান্ডোর উপ-অধিনায়ক আহমদ রেজার মনে হয়েছে, 'ইবিআরসির অধিকর্তা ব্রিগেডিয়ার মজুমদার ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পর বন্দী হন। তখনকার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তার সেই সময় ঢাকায় আসার কোন যুক্তিই সুবিবেচিত মনে হয়নি।' কিন্তু এমনটা কেন হলো, সে নিয়েও প্রশ্ন 

তুলেছেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একদা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আহমদ রেজা। লিখেছেন, 'দুটি বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিকর্তা ও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের অধিকর্তা- এই তিনজন কেনো এমন বিবেচনাহীন হলেন? জাতির প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অপরাধ কি কেবল তাদের? ঢাকা সেনানিবাসে একক কোন বাঙালী ইউনিট ছিল না। তাই ২৫ মার্চ বা তার পরবর্তী সময়ে সেখানে কোন আক্রমণ, , প্রতিরোধ বা প্ৰতি আক্রমণ ঘটেনি।'


১৯৭১ এর ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ জুড়ে পাকিস্তানী সেনার অবস্থান ছিল দশ থেকে বারো হাজার। ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানীদের শক্তি বলতে ছিল ১৪তম ডিভিশনের কয়েকটি ব্যাটালিয়ন মাত্র। সারা বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের ৪টি ব্রিগেড ছিল। এর মধ্যে ঢাকায় ৫৭তম ব্রিগেড, যশোরে ১০৭তম ব্রিগেড, রংপুরে ২৩তম ব্রিগেড, কুমিল্লায় ৫৩তম ব্রিগেড। এই চার ব্রিগেডে যে সেনা ছিল তা তুলনায় বেশি নয়। পদাতিক ব্যাটালিয়ন ছিল ১৫টিÑ যার মধ্যে ১১টি পাকিস্তানী ও ৪টি ইস্ট বেঙ্গল, ১টি আরমার বা ট্যাংক রেজিমেন্ট, ১টি কমান্ডো ব্যাটালিয়ন, ৫টি ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ১টি এফ এফ ব্যাটারি বিমান বিধ্বংসী কামান, ২টি মর্টার ব্যাটারি (১২০ মি.মি. মর্টার)। এসব রেজিমেন্ট ৮টি ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করছিল।


ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ছিল ২২তম বেলুচ রেজিমেন্ট, ১টি এফ এফ ব্যাটালিয়ন, ১টি পাঞ্জাব ব্যাটালিয়ন ও ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ব্যাটালিয়ন (জয়দেবপুর) এবং ২টি ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি। চট্টগ্রামে ছিল ২০তম বেলুচ রেজিমেন্ট ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের অংশ। যশোরে ২৭তম বেলুচ রেজিমেন্ট, ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ২২তম ফ্রন্টিয়ার ফোর্স এবং ১টি ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি। রাজশাহীতে ২৫তম পাঞ্জাব রেজিমেন্ট। সৈয়দপুরে ২৬তম ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্ট ও ৩য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। রংপুরে ১টি আরমার (ট্যাঙ্ক) রেজিমেন্ট, ১টি মর্টার ব্যাটারি ও ৬ষ্ঠ বালুচ রেজিমেন্ট। সিলেটে ৩১তম পাঞ্জাব রেজিমেন্ট। কুমিল্লাতে ছিল ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১টি কমান্ডো ব্যাটালিয়ন, ১টি ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি ও ১টি মর্টার ব্যাটারি।


১৯৭১ সালের মার্চের মাঝামাঝি হতে পুরো এপ্রিল পর্যন্ত সেনা সংখ্যা বাড়াতে থাকে পাকিস্তান। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নবম এবং ষোড়শ ডিভিশন দুটিকে বাংলাদেশে আনা হয়। নবমকে পাঠানো হয় যশোর এবং ষোড়শকে উত্তরবঙ্গ। চতুর্দশ ডিভিশন ঢাকা ও ময়মনসিংহ এলাকায় গণহত্যা, নির্যাতন, লুটপাট, ধর্ষণ কাজে নিয়োজিত থাকে। ১৫ এপ্রিলের পর সামরিক জান্তারা ৩৬ ও ৩৯ ডিভিশন দুটিকেও বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এদের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব দেয়া হয় সামরিক প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাকিস্তানে যে তিনটি রেজিমেন্ট ছিল, সেখান থেকে অনেক মেজর ক্যাপ্টেন পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। বাকিরা ১৯৭৪ সালে দেশে ফেরত আসেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও পুরো যুদ্ধকালে প্রতিরোধ গড়েছিল স্থায়ীভাবে সর্বত্র।


এই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টই ছিল পরবর্তীতে গঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রান। ২০০০ সাল পর্যন্ত এই রেজিমেন্টই ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট। চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীর কারনে যখন পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তাল,তখন এই রেজিমেন্ট এর সদস্যরা বিদ্রোহ দমনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সদস্যরা ইউএন পিসকিপিং মিশনগুলোতে সাফল্যের সাথে অংশগ্রহন করে তারা তাদের যোগ্যতা প্রমান করছেন। ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট আমাদের গর্ব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্ব, সমগ্র বাংলাদেশী জাতির গর্ব।


লেখক:চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী।

শয়তানের চ্যালেঞ্জ

 "ইবলিশের মানব জাতি ও আল্লাহর ওহীর প্রতি চ্যালেঞ্জ"



শয়তান পূজারীরা আগুনকে শক্তির উৎসহ মনে করে তাই আগুন নিয়ে শয়তানের পূজারীদের বিশ্বাস স্বমন্ধে আগে বলে নেই,তার পর শয়তানের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলব।


Fire (আগুন)

স্যাটানিক বাইবেল বইটি স্রষ্টাকে শুধু নিন্দার একটি প্রচেষ্টাই নয় বরং, এটাকে বলা যেতে পারে "ডায়াবলিক্যাল ক্রোধের" একটি বিবৃত্তি। যদিও ঈশ্বরের ভক্তরা অবিরত ও ধারাবাহিকভাবে শয়তানকে আক্রমণ করেছে, কিন্তু অন্ধকারের যুবরাজের পক্ষে কখনো ধার্মিকদের পালনকর্তার মুখপাত্রদের মত কথা বলা বা লেখার সুযোগ নেই। অতীতকালে পাদ্রী, রাব্বি অথবা ধর্মযাজকরা নিজ থেকে সংজ্ঞায়ন করতেন “ভালো” এবং "খারাপ"-কে, যেনো তারা সেই কাজ করার জন্য একমাত্র যোগ্য প্রার্থী এবং যারা তাদের প্রচারিত মিথ্যা বা মন ভোলানো বাণীর সাথে একমত নয়, তাদেরকে তারা অতি উৎসাহের সাথে বা চুপ করিয়ে দিয়েছে অপমানকরে কিংবা শারীরিকভাবে। তাদের ধর্মীয় বন্দনা গুলো অন্তঃসারশূন্য যখন তা নরকীয় নীতির উপর প্রয়োগ করা হয়। কারণ, শয়তান ছাড়া তাদের বানানো ঈশ্বরের ধর্ম ভেঙে পরবে। খুবই পরিতাপের বিষয়,আধ্যাত্মিক ধর্মগুলোতে সাফল্যের জন্য যে রূপক ব্যক্তিত্বকে সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়েছে, তার গুণাবলী খুব কম প্রকাশিত হয়েছে এবং সেই সাথে তাকে অপব্যবহার করা হয়েছে। আর এটা তারাই করেছে যারা পবিত্র প্রত্যাদেশ পাওয়ার দাবিদার। শত সহস্র বছর ধরে শয়তান নিস্তব্ধ ভাবে সকল প্রকার ভর্ৎসনা সহ্য করেছে ঈশ্বরের নির্বোধ নিন্দুকদের কাছ থেকে, কিন্তু তার পরিবর্তে শয়তান কখনো তার নিন্দুকদের প্রতি উত্তর দেয়নি। শয়তান সব সময় ভদ্রতা বজায় রেখেছে। সে নিজেকে উত্তম চরিত্রের প্রতিকৃতি হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছে, কিন্তু এখন সময় এসেছে সবকিছু সুদে আসলে ফেরত দেওয়ার। অবশেষে, সে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এখন তার সমস্ত দেনা পাওনা মেটানোর সময় এসেছে। এখন আর অযৌক্তিক শর্ত এবং নিয়ম-নীতিপূর্ণ পুস্তকের প্রয়োজন নেই। প্রকৃতির নিয়ম পুনঃনিরীক্ষণের জন্য এই ছোট্ট পুস্তকই যথেষ্ট। এর প্রতিটি আয়াত এক একটি জাহান্নাম, প্রতিটি শব্দ একেকটিঅগ্নিবান। জাহান্নামের আগুনে নিজেদের পোড়াও, কারণ ইহা পরিশুদ্ধকারক।পোড়াতে থাকো এবং শয়তানের আইন সম্পর্কে অবহিত হও।


শয়তানের প্রথম চ্যালেঞ্জ(ষীশুর জমের আগের):


১. এই ইস্পাত ও পাথরের শুকনো প্রান্তরে আমি আমার কন্ঠস্বর সুউচ্চ করেছি যাতে তুমি শুনতে পাও। আমি পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণে ইশারা করেছি এবং ঘোষণা করেছি, দুর্বলদের কাছে মৃত্যু, যা শক্তিশালীদের জন্য সম্পদ। 


২. চোখ খোল, হয়তো তুমি দেখতে পাবে কতগুলো জঘন্য মনের মানুষ এবং লক্ষ লক্ষ বার হতবুদ্ধ হবে আমার কথা শুনে।


৩. কারন আমি দাঁড়িয়ে আছি পৃথীবির সমস্ত জ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য, আর মানুষ এবং ঈশ্বরের প্রদত্ত "আইন" কে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য।


৪. আমি তোমার সোনালী নিয়মগুলো জানতে অনুরোধ করছি এবং জিজ্ঞাসিত করছি তোমার সেই দশটি আদেশ সম্পর্কে, যা তুমি দিয়েছো।


৫. তোমার (ঈশ্বরের) কোন আদর্শের প্রতীমা নেই যে আমার পূর্বে আত্মবিশ্বাসের সাথে তোমার দিকে ঝুঁকেছে এবং যে আমাকে বলেছে “তুমি তোমাকে", আমার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সে আমার শত্রু।


৬. আমি তোমার সেই পাগল মুক্তিদাতার তরল রক্তে আমার তর্জনী আঙ্গুল ডুবালাম এবং তার বিশাল সিংহাসনের উপরে লিখলামঃ সত্যিকারের খারাপের রাজপুত্র ক্রিতদাসের রাজা।


৭. কোন ধূসর মিথ্যা আমার কাছে সত্য হবে না; কোন উত্তেজনা সৃষ্টিকারি মতবান আমার কলম আটকানোর সামর্থ্যও রাখে না। 


৮. আমি আমার সেই সমস্ত সম্মেলন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি যা আমাকে পার্থিব সফলতা ও আনন্দ দেয় না।


৯. আমি আমার মানসম্পন্ন কঠোর শক্তিশালী আক্রমনের দ্বারা জেগে উঠি।


১০. আমি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম সেই ভয়ংকর জিহ্বার (ঈশ্বরের) স্বচ্ছ চোখের দিকে এবং দাঁড়ি দিয়ে তাকে পেঁচিয়ে ধরার মত সাহস করলাম; আমি একটা বড় কুঠার উঁচু করলাম এবং তার পোকা খাওয়া মাথার খুলি দ্বিখণ্ডিত করলাম।


১১. সেই চুনামাটির তৈরি কবরের ব্যপারে কিছু ভয়ানক তাত্ত্বিক বিষয় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যেগুলা আমাকে খুবই রাগান্বিত করে আর উচ্চস্বরে হাসায়।


শয়তানের দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জঃ(খ্রিস্টের জন্মের পরের):


১. ক্রুশবিদ্ধ যীশুমূর্তিটির দিকে দেখো কি বোঝা যাচ্ছে? এক অক্ষম পঙ্গু গাছে ঝুলে আছে।


২. আমি সব কিছুতেই প্রশ্ন করি। যেহেতু আমি অহংকারী রঙ্গিন চেহারা নিয়ে সকলের সম্মুখে আছি, আমি জ্বলন্ত নিন্দা নিয়ে লিখছিঃ দেখ দেখ; এই সবগুলা জালিয়াত


৩. আমার চারপাশে জড়ো হও, অহ! হ্যাঁ মৃত্যু আবশ্যক কিন্তু এই পৃথিবীটা তোমার, যদি তা তুমি অর্জন করো এবং ধরে রাখো।


৪. এক জীবিতকে শুদ্ধ করার জন্য মৃতকে দীর্ঘ সময়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 


৫. ভুয়া নবীগনের দ্বারা দীর্ঘ সময় যাবত কোনটা ঠিক বা ভুল কিংবা ভালো বা মন্দ তা বিপর্যন্ত হয়েছে।


৬. " ঐশ্বরীক” বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে অবশ্যই কোন ধর্ম গৃহীত হবে না। ধর্মকে অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ করতে হবে। কোন নৈতিক মতবাদ মঞ্জুর অথবা মানসম্পন্ন হওয়াটাই ঐশ্বরীকতার মাপকাঠি হতে পারে না। নৈতিক কোড নামক কোন পবিত্র কিছু আসলে নেই। যেমনঃ প্রাচীন কালের কাঠের তৈরী প্রতীমাগুলো মানুষের হাতে তৈরি, আর মানুষ যা তৈরি করেছে তা ধ্বংস করার ক্ষমতাও রাখে।


৭. সে কোন কিছু খুবই ধীরে বিশ্বাস করে এবং সবকিছু খুব দ্রুত বুঝায়, আর একটা মিথ্যা বিষয়ের উপরে বিশ্বাস করাই সমস্ত মূর্খতার শুরু।


৮. প্রতিটা নতুন যুগের প্রধান কাজ হলো মানুষকে স্বাধীনভাব সিদ্ধান্ত নিতে বাঁধা প্রদান করা, যে সকল বিষয় মানুষকে বস্তুগত সাফল্যের দিকে নিয়ে যায় সে সকল বিষয়ে বাধা প্রদান করা। মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে একটা শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা। যে সকল তত্ত্ব ও ধারণাগুলো আমাদের পূর্বপুরুষের জন্য বেঁচে থাকার অভিপ্রেত ছিলো, সেইগুলোই আমাদের জন্য আমাদের আশা কিংবা স্বাধীনতার মাঝখানে দেয়াল এবং আমাদের কাছে ধ্বংস ও দাসত্বের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।


৯. যেহেতু সময় পরিবর্তনশীল, তাই কোন মানুষের ধারণাই নিশ্চিতভাবে দাঁড়াতে পারে না।


১০. যখনি কোন একটা মিথ্যা রাজ্যে নিজের মত করে তৈরি হয়ে যায়, কোন দয়া আর অনুশোচনা ছাড়াই একে হত্যা করা উচিত।


সূত্র: Book of satanic bible, oxford academy.

লেখক: চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী।

জুলাই বিপ্লবে অর্জন ও ব্যর্থতা

 "রক্তাক্ত জুলাই ২৪'শে ছাত্রদের অর্জন ও ব্যর্থতা"



নি: সন্দেহে আমাদের দেশের রক্তাক্ত জুলাই ২৪ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সারা বিশ্ব তাকিয়ে দেখেছে যে কিভাবে যুব সমাজ তথা ছাত্ররা স্বৈরাচারের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে জাতীয় অধিকার আদায় করতে হয়। আমি আজ এই আন্দোলনে অর্জন ও  ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।  যদিও এদেশের মানুষ সফলতার কথা শোনতে রাজি থাকলেও ব্যর্থতার কথা শোনলে গালাগাল করে তবুও বলে যাব।


অর্জন:

১। রক্ত দেওয়ার যে বিরল দৃষ্টান্ত ছাত্ররা তৈরী করেছে তা বিশ্ব ইতিহাসে অভূতপূর্ব। 


২। পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দেওয়া:

এটা আরেকটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত যে একজনকে গুলি করে মারলে বাকিরা দৌড়ে না পালিয়ে আবারো বুক পেতে দেয় গুলির সামনে।


৩।নারী পুরুষের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনঃ

এবারের আন্দোলনে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহন এটাও স্বৈরাচারকে হতবম্ভ করেছে আর বিশ্বের নির্যাতিত জনতার অনুপ্রেরনা যুগিয়েছে।


৪। স্বল্প সময়ে স্বৈরাচার সমূলে পতন:

পৃথিবীর বুকে এই আন্দোলন একমাত্র আন্দোলন যা এক দিনেই একটি সরকারের সকল মন্ত্রী ও এমপিদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।


৫। আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণ: 

আন্দোলনের পর পৃথিবীর সকল সভ্য দেশেই কয়েকদিন গনহত্যা ও নির্যাতন চলে অথচ এই আন্দোলনের পর দিন হতেই পুলিশ বিহীন রাষ্ট্র টি মুটামুটি বড় ধরনের অঘটন ব্যতিত চলছে।


৬। দূর্যোগ নিয়ন্ত্রন: 

দেশের টালমাটাল অবস্থায় প্রায় ২কোটি পানি বন্ধির খাবার বিতরন ও উদ্ধার কাজ নিয়ন্ত্রন ছাত্র সমাজের সহ, জাতির একটি বিরাট অর্জন।


৭। বিশ্ব সমাজে প্রভাব:

আমরা আগে বিদেশের আন্দোলন গুলাকে অনুপ্রেরনার ইতিহাস হিসাবে পড়তাম, এখন পাকিস্তান, ভারতের সেভেন সিস্টার্স,  আফ্রিকার নানান দেশ আমাদের আন্দোলন অনুকরন করছে। সারা বিশ্বের সকল নির্যাতিত মানুষের মুক্তির স্লোগান হচ্ছে "তুমি কে আমি কে, বাংলাদেশ বাংলাদেশ"। এ যেন বিশ্ব মানবতার মুক্তির স্লোগান।


৮। ধর্মীয় সম্প্রীতি:

মাদরাসা ছাত্র সহ সকল ছাত্ররা মিলে মন্দির পাহারা পৃথিবীতে বিরল।


তা ছাড়াও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন, রাস্তা-ঘাট পরিস্কার করন সহ হাজারো সফলতা যা বর্ননা করে শেষ করা সম্ভব না। এ সকল অর্জন জন মনে বিরাট আশার সঞ্চার ঘটিয়েছে।


আসুন ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলিঃ

১। শহীদদের তালিকাঃ

এই রক্তাক্ত জুলাই ২৪ এর বিজয়ীদের সবচেয়ে বড় ও দু:খ জনক ব্যর্থতা হলো এখনও দেড় মাস হলো কিন্তু আন্দোলনে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশে ব্যর্থতা। এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কি হতে পারে?


২। সকল আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতে ব্যর্থতাঃ

এই আধুনিক যুগের বাংলাদেশে, মানবতার বাংলাদেশে আজও শোনতে হয় জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার জন্য সন্তান বিক্রি করতে হয়েছে। যদিও পরে তাকে সাহায্য করা হয়েছে, আমার প্রশ্ন হলো আগে হলো না কেনো? তাইলে কি আমরা ধরে নিতে পারি না যে আরো অনেক আহত অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আছে যাদের আমরা আজও খবর পাই নি? ছাত্ররা এই ব্যর্থতাকে কি দিয়ে ঢাকবে?


৩। ঢাবিতে বন্যার্তদের জন্য জমাকৃত টাকার হিসাবে ব্যর্থতাঃ

বানবাসীদের জন্য মানুষ এবার প্রান উজার করে দান করেছে ছাত্রদের নিকট। এই জাতীয় ঐক্য ও মানুষের প্রান উজার করে সব কিছু দিয়ে দেওয়া বানবাসীদের জন্য ছাত্রদের বিশ্বাস করেই মানুষ দিয়েছে।কিন্তু ছাত্ররা তার সঠিক ভাবে বন্টন করলেও জমাকৃত টাকার হিসাব বিগত তিন সপ্তাহে প্রদান না করার ব্যর্থতা মানুষকে হতাশ করেছে এবং এটা যে ভোগে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


৪। বেসরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রদের বঞ্চিত করা:

এবারের আন্দোলনে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অবদান নি:সন্দেহে অনস্বীকার্য, কিন্তু অত্যন্ত দু:খ জনক ও চরম বৈষম্যের বিষয় হলো আন্দোলনকারীরা এই বেসরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ের কোন ছাত্রদেরকে সমন্বয়ক হিসাবে রাখে নি এবং তাদের অবদানের কথা স্বীকার পর্যন্ত করে নি।


৫। হলে না ফেরাঃ

ছাত্রদের প্রথম কাজ পড়াশোনা। কিন্তু ছাত্ররা তাদের প্রধান কাজ বাদ দিয়ে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হতেই বেশী মজা পাচ্ছে। এদের নিকট এখনও দেখলামনা যে হলে ফিরে পড়াশোনায় মন দেওয়ার কোনো প্রচেষ্টা। ওরা লীগ জুজুর ভয় দেখিয়ে হলে উঠতে চাচ্ছে না, অথচ লীগ এখন হলে ঝামেলা করবে না এটা পাগলও বুঝে। এরা হলে ফিরতে বিলম্ব এদের চরম ব্যর্থতা।


৬। সারজিসদের বাড়াবাড়িঃ

সাারজিস গংরা এখন দেশ গড়ার চেয়ে নিজের আখের গুছাতে ব্যস্ত বলে মনে হয়। সরজিসের নামে ওর বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনদের বাড়াবাড়ি ও নানান স্থানে চাঁদাবাজির এত এত প্রমান সরজিসকে জানানোর পরও সে ও তার সহকর্মীরা এই বিষয়ে নিয়ন্ত্রনের ব্যর্থতা চরম হতাশার বিষয়।


৭। মাদরাসা ছাত্র ও আলেমদের স্বীকৃতিঃ

এবারের আন্দোলনে মাদরাসার হাফেজ ও আলেম মিলেে ৭৭জন শহীদ হয়েছে, অথচ সমন্বয়কদের মুখে কোন দিন এই স্বীকৃতিটা আমরা শোনতে পেলাম না, কোন মাদরাসায় বড় প্রোগ্রাম করতেও শোনলাম না।


৮। মুরব্বীদের অপমান:

আন্দোলন কারীরা কথায় কথায় মুরব্বীদের তারা অপমান করে।আন্দোলন কারীদের সকলকে বলতে শোনা যায় বড়রা কি করেছে, বড়দের কারনে দেশের এই অবস্থা, বড়রা হেন করেছে, তেন করেছে। আমি স্বীকার করছি বড়দের একটা অংশের কারনে স্বৈরাচার ঝেঁকে বসেছিলো, তাই বলে বড়দের সবাই খারাপ?


°তাইলে প্রশ্ন থাকে বিদেশের মাটিতে বিদেশী ডিপ্লোমেটদের কারা এদেশের বিষয়ে অবগত করেছিলো?


° কারা এই আন্দোলনে অর্থের যোগান দিয়েছিলো, মুরব্বীরা না ছাত্ররা?


°কনক সারেয়ার, মুশফিক আনসারী, সাংবাদিক ইলিয়াস ও ড.পিনাকী সহ কয়েক ডজন অনলাইন এক্টিভিস্ট তারা কি মুরব্বী নয়?


° মুরব্বীদের গালিগালাজ করেন ভালো কথা কিন্তু সকল মুরব্বীকে যদি আপনারা অপরাধী মনে করেন তাইলে আরেকটা বিষয় সামনে আসে, সকল মুরব্বী চোর হলে ছাত্ররা সবাই চোরের সন্তান, সকল মুরব্বী অত্যাচারী হলে সকল ছাত্র অত্যাচারীর সন্তান। সকল মুরব্বী অপরাধী হলে সকল ছাত্র অপরাধীর সন্তান এবং এই অপরাধীর টাকা, খাবার ও রক্ত সকল ছাত্রদের শরীরে বহমান। অতএন আপনারাও দুধের ধোয়া তুলসীপাতা নয়।


আমি আশা করবো আমার লেখা দেখে আপনারা ব্যর্থতা গুলো সংশোধন করে অর্জনটাকে প্রধান্য দিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে যাবেন।

বাংলাদেশের হাজার বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতি

 "হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে কিছু সুবিধাবাদী রানা দাশ-রমেশ চন্দ্ররা আর বলির পাঁঠা হচ্ছে মাথা মোটা নিরীহ হিন্দুরা"

ধর্মীয় সম্প্রীতি


আমি আজ যে বিষয়টি নিয়ে লিখছি সে বিষয়টি নিয়ে ২০২১ সালেই লিখার কথা ছিলো কিন্তু কুমিল্লায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দূগা মূর্তি ভাঙ্গার ঘটনায় আর লোখ হয়ে উঠেনি। আজ যে সকল প্রিয় হিন্দু ভাইয়েরা এই নিবন্ধনটি পড়বেন তারা দয়া করে শেষ পর্যন্ত না পড়ে মন্তব্য করবেন না।


ভারতীয় উপ মহাদেশে বাংলাদেশ অংশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস হাজারো বছরের ইতিহাস। এখানে হিন্দু-মুসলিমদের সহ অবস্থান বিশ্বের মানুষের নজর কাড়ে। এখানে মুসলমান মারা গেলে হিন্দু বন্ধু অজরে কান্না করতে দেখা যায়, আবার হিন্দুদের পূজার সময় নৌকা ডুবিতে নিহত তীর্থ যাত্রীদের পরিবারে সবার আগে ইসলামি রাজনৈতিক দলের প্রধানের স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ভোর বেলা সমবেদনা প্রকাশ সহ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে দেখ যায়। এদেশেই সুবিধাবাদীরা যখন হিন্দুদের মূর্তি ভেঙ্গে আলেমদের ফাঁসাতে যায় তখনই হিন্দুরা বিবৃতি দিয়ে জানায় এসকল অপকর্মে কোন আলেম জড়িত থাকে না। আবার কুমিল্লায় হিন্দুদের মূর্তি ভাঙ্গার ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মসজিদ গুলোর মিম্বার হতেই জুমা'র নামাজের দিন এক যোগে এই জঘন্য ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। নিরপেক্ষ ভাবে একবার চিন্তা করে দেখেন তো দুনিয়ার কোন দেশে এরকম সম্প্রতি দেখাতে পারবেন? পারবেন না। তাই বলে আমি এমনটা বলছি না যে এদেশে অমুসলিমদের উপর কোন নির্যাতন হয় না। অবশ্যই হয়, আমি বলি এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই নির্যাতন গুলো সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমান ও আলেম সমাজ কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। 




তাইলে এই ঘটনা গুলো সংগঠিত করে কারা এই প্রশ্ন আসবেই। এই ঘটনা গুলো ঘটায় সুবিধা বাদী কিছু প্রভাবশালী লোক তারা ধর্মের লেবাস লাগিয়ে রাখলেও আদতে তারা কোন ধর্মই মানে না। কখনোই দেখবেন না ওরা মসজিদে যেতে।৷ এদের আসলে কোন ধর্মই নাই। একজন নামাজি মুসলমান কখনোই একটা মন্দিরে ঢিল ছুড়বে না, ছুড়তে পারে না। বিগত বছরে যত ঘটনা হয়েছে সব গুলোর মূলে কোন দাঁড়িওয়ালা বা টুপিওয়ালা নয়। ঘটনার পড়ে ঝুকের বশে কেউ জড়িয়ে গেলে ঐটা আলাদা ভাবে ভাবতে হবে। 


এ পর্যন্ত কোন হিন্দুকেও দেখিনি সাধারন আলেম সমাজ কিংবা সাধারন আপামর মুসলিম সমাজকে জড়িয়ে অভিযোগ করতে। কেননা হিন্দুরা ঐতিহাসিক ভাবেই এ অঞ্চলে একটু ঠান্ডা মাথার ও প্রখর বুদ্ধি সম্পন্ন জাতি। ব্রিটিশ আমল হতেই হিন্দুরা তাদের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে আসছে। আমরা বলি হিন্দুরা অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ব্রেইনের লোক হয়।


কিন্তু রানা দাশ গুপ্ত,রমেশ চন্দ্র ঘোষ ও ভারতের আর এস এস সদস্য গোবিন্দ প্রমানিকের মত কিছু নাম ধারী সুবিধাবাদি লোক হিন্দুদের আবেগ ও অনুভুতি কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে বাংলাদেশে হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংশ করার পায়তারা করছে, কিন্তু হিন্দুরা বেমালুৃম সব ভুলে যাচ্ছে।


আরে দাদা এই রানা দাশ ও রমেশ চন্দ্ররা ভিদেশী নাগরিক,নিজেরা হিন্দু নয়, আদতে না*স্তি*ক। দরবার লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করে ঝামেলা দেখলে কেটে পড়বে। আপনারা খোঁজেও পাবেন না। এরা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এসে প্রার্থনা করে বাংলাদেশ অখন্ড ভারতের অংশ করতে। এতে করে প্রমান হয় তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে,আর আপনারা তাদের সমর্থন করেন।কখনো কোন দরবার হলে তারা ঠিকই পালিয়ে যাবে কিন্তু আপনারা হবেন বলির পাঁঠা। আর আপনারা এগুলো প্রতিবাদ করেন না কারন বাংলাদেশ ভারতের অংশ হলে স্বর্গ রাজ্য পেয়ে যাবেন এই আশায়। আসলে না। ভারতের চেয়ে হাজার গুন ভাল আছে বাংলাদেশ। এদেশের ২০ লক্ষ হিন্দু যে ভারতে গেছে তাদের ৯০% লোক আজও ভারতের নাগরিকত্ব পায় নি। সারাক্ষন হাঙ্গামা লেগেই আছে আর তাদের দেশে কখনোই শান্তি আসার সম্ভাবনা নাই। রানা দাশ আর রমেশ চন্দ্ররা আপনাদের আবেগ ব্যবহার করছে তাদের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। এটাকেই ধর্ম ব্যবসা বলে। এজন্যই শিরোনামে মাথা মোটা শব্দটা লিখেছি।


এদেশে হিন্দু নির্যাতন হয় না এটা যারা বলে আমি বলি আপনারা কাঠের চশমা পড়ে আছেন অথবা নিজেরা জানেনই না। গোপনে গোপনে অনেক কিছুই ঘটে যায় যা হিন্দুরা মুখ বুঝে সহ্য করতে হয়। প্রকাশ করলে আরো বিপদ হয়। আমার কাছে অনেক ঘটনার ফাইল ফুটেজ আছে। কিন্তু আমার কথা হলো এগুলো যে সকল মুসলমানরা করে তারা নিজের ধর্মের লোকের সাথেও সুযোগ পেলে করে, এদের কোন জাত নাই, এদের কোন ধর্ম নাই। বিস্তারিত আর বললাম না এই বিষয়ে, বুঝে নিবেন। 

বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি 


এবার কিছু প্রশ্ন আপনাদের বিবেকের কাছে করি, নিরপেক্ষ ভাবে চিন্তা করবেন। কোন দেশে বা এলাকায় সংখ্যায় কম কোন সম্প্রদায় থাকলে প্রাকৃতিক ভাবেই কিছু সমস্যা ফেস করতে হয়। এটা দুনিয়ার সব জায়গায়ই হয়। আর আমরা বাংলাদেশীরা তো এখনো ফেরেশতার পর্যায় পৌঁছতে সক্ষম হই নি। তাইলে কিছু সমস্যা থাকবেই। আপনারা যখন নিজেদের সমাজে থাকেন তখন কি ভাইয়ে ভাইয়ে, বাপে ছেলে, গুষ্টিতে গুষ্ঠিতে কোন সমস্যা হয় না?  নিজেদের মধ্যে একের প্রতি অন্যজন কখনো নির্যতন করে না? অবশ্যই করে। এই সময়ে কি আপনারা নির্যাতিত হয়ে আপনজন ছেড়ে ভারতে চলে যান? যান না তো, কারন এক সাথে থাকলে সবারই কিছু সেক্রিফাইস করতে হয়। 

তাইলে মুসলমানদের সাথে কোন সমস্যা হলেই আপনারা কেন কথায় কথায় ভারতে চলে যাবার কথা বলেন? ভারত কি আপনাদের বাপ-দাদার দেশ? আপনাদের বাপ-দাদার দেশ তো বাংলাদেশ!! ভারতে আপনাদের কে থাকে? যারা ভারতে গেছে খবর নিয়ে দেখেন তারা কেমন আছে? খুব ভাল নেই। আপনারা ভারতে গেলে আপনাদের স্থান দিয়ে আপনাদেরকে ভারতীয়রা আপন করে না। বাংলাদেশে যেমন রোহিঙ্গাদের স্থান দিয়েছে কিন্তু তাদেরকে আমরা নাগরিক মনে করি না ঠিক ভারতেও বাংলাদেশের হিন্দু মাইগ্রেট হলে রোহিঙ্গাদের ৃত আচরন করে ভারতীয়রা। ওরা আপনাদের জন্য যে কান্না করে তা কুমীরের কান্না, তাদের দেশকে আন্তর্জাতিক মহলে অসাম্প্রদায়িক প্রমানের জন্য এটা করে, আদতে ভারত কতটা অসাম্প্রদায়িক তা নিজেই দেখছেন। 

হিন্দু -বৌদ্ধ -খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গঠন করেছে রানা দাশ আর রমেশরা আপনাদের উদ্ধার করার জন্য। উদ্দেশ্য যদি সাম্প্রদায়িক সহবস্থানই হয় তাইলে এটা সর্ব ধর্মীয় ঐক্য পরিষদ হলো না কেনো? হবে না কারন উদ্দেশ্য ভাল না। এই হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মূলে আছে না*স্তি*কের দল। এই সুবিধাবাদী না*স্তি*করা সারা দুনিয়া ব্যাপী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘাড়ে চড়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরী করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। 

অতএব, বাংলাদেশে যাদের জন্ম, এদেশই যাদের পিতৃ ভূমি এদেশেই তারা থাকবে। বিচ্ছিন্ন ঘটনা হলে তার বিচার হবে কিন্তু অন্য দেশে যাওয়া যাবে না, যেতে দেব না। যেখানে জন্মেছেন সেখানেই মরতে হবে। কোথায় যাবেন মায়ের বুক ছেড়ে? খাঁচায় আটকে রাখব তবুও স্বদেশ ছাড়তে দেব না আপনাদের।রানা দাশ, রমেশরা আদতে নাস্তিক, ওরা হিন্দুও না মুসলমানও না। ওদের কুপরামর্শে কেউ ভুল পথে পা বাড়াবেন না। যারা ওদের মিষ্টি কথায় ভুলে যাবেন তারাই মাথা মোটা হিন্দু।

লেখক:চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী


বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে ইসরায়েলের হাত

 "পাকিস্তান-ইসরায়েল সম্পর্কের ইতিহাস ও বাংলাদেশ জন্মের ইতিকথা"

ভারত-ইসরায়েল যৌথ প্রজোযনা


পাকিস্তান-ইসরায়েল দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বন্ধন গঠনের প্রাথমিক উদ্যোগ গৃহীত হয় ১৯৪৭ সালে, যখন ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেনগারিন পাকিস্তানের প্রতিস্থতা মোহাম্মাদ আলি জিন্নাকে একটি তারবার্তা প্রেরণ করেন, কিন্তু জিন্না কোন প্রকার সাড়া দেয়া থেকে বিরত থাকেন আর তখন থেকেই ইসরায়েল পাকিস্তানকে চির শত্রু ও পাকিস্তানের চির শত্রু ভারতকে বন্ধু ভাবতে শুরু করে । ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের কর্তাব্যক্তিরা বিশ্বাস করতেন যে করাচীর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্মাণ করা সম্ভব, অন্তত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক। ১৯৫০ এর প্রথম দিকে লন্ডনের পাকিস্তান দূতাবাস ও ইহুদী-ইসরাইলের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়। ভারত কিছু আফগান ইহুদীদের ইসরাইলে প্রত্ত্যাবাসনের জন্য পাকিস্থানের মাটি ব্যবহারের করার অনুমতি চায়। পাকিস্তান অস্বীকৃতি জানালে ইহুদীরা ইরানের মাটি ব্যবহার করে।


১৯৫২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার জাররুল্লাহ খান ইসরাইলের ব্যাপারে দেশটির বৈরিনীতি প্রনয়ন করেন এবং আরব জাতীয়তাবাদের গড়ার দিকে জোড় দেন। এভাবেই আরব বিশ্বের সাথে পাকিস্তানের নিবিড় সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ইসরায়েলের চক্ষুশূলে পরিনত হতে থাকে।



দখলদার ইসরাইলের তথাকথিত স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন ওয়াশিংটনের ইসরাইলের দূতাবাসকে এইমর্মে অবহিত করা হয় যে, পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে সৈন্য প্রেরণ করতে যাচ্ছে। আরও বলা হয় যে, দেশটি আরবদের জন্য চেকশ্লোভাকিয়া থেকে ২৫০০০০ রাইফেল ও মিসরীয় বাহিনীর জন্য ইতালি থেকে ৩ টি প্লেন ক্রয় করবে। 


পাকিস্তানের বিমান বাহিনী ১৯৬৭ সালের "৬ দিনের যুদ্ধ" ও ১৯৭৩ সালের "ইওম কাপোর যুদ্ধে" সরাসরি অংশগ্রহণ করে। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান ও পিএলও এক সমঝোতায় আসে যার ফলে পিএলওর অফিসাররা পাকিস্তানের মিলিটারি স্কুলগুলোতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবে। ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের স্বেচ্ছাসেবী সৈনিকরা অংশগ্রহণ করে এবং বৈরুত অবরোধের সময় ৫০ জনকে আটক করা হয়। 


ফরাসী প্রবীণ সাংবাদিক বার্নার্ড হেনরি লেভি টাইম সাময়িকীতে অভিযোগ করেন যে, ডেনিয়াল পার্ল নামক এক মার্কিন-ইসরাইলি সাংবাদিক আল কায়েদার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাকে ইসরাইলে চর সন্দেহে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা আটক করে এবং হত্যা করে ( যদিও লেভি কোন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেন নি )। বিবিসি ও টাইমের অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয় যে পার্লকে সাংবাদিক বেশধারী মোসাদের চর সন্দেহে আটক করে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়। 


এই ঘটনার পরে পাকিস্তানের ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য সংগঠন যেমন জামাত-ই-ইসলাম, জামিয়াত উলামাহ-ই-ইসলাম ও লস্করে তয়েবা পৃথক বিবৃতিতে ইসরাইলের সাথে সকল সম্পর্কের বিরোধিতা করে এবং ইসরাইলকে ইসলাম ও পাকিস্তানের শত্রু ঘোষণা দেয়। 

পাকিস্তানি পাসপোর্টে এই মর্মে উল্লেখ আছে যে, "এই পাসপোর্ট ইসরাইল ব্যতীত পৃথিবীর সকল দেশের জন্য প্রযোজ্য।"


বলা হয় যে, ১৯৮০ এর দিকে ভারতের সহযোগিতা সহ বা ছাড়া ইসরাইল পাকিস্তানের বোমার মজুদের উপর সম্ভাব্য আক্রমণের পরিকল্পনা করে। ১৯৮১ সালে ইরাকি পারমাণবিক চুল্লীতে আক্রমণের পড় ইসরাইল ভারতের সহযোগিতা নিয়ে পাকিস্তানের কাহুতা পারমাণবিক স্থাপনার উপর অনুরূপ আক্রমণের পরিকল্পনা করে। স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে এই আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয় যেখানে এফ-১৫ ও এফ-১৬ বিমান দ্বারা উসকানিমূলক আক্রমণ রচিত হবে। 


"দি এশিয়ান এজ" এর সাংবাদিক আদ্রেয়ান লেভি ও ক্যাথরিন স্কট ক্লার্কের বই "Deception: Pakistan, the US and the Global Weapons Conspiracy" এ বলা হয় যে ইসরাইল ১৯৮০ এর মধ্য ভাগে গুজরাটের জামনগর বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করে কাহুতা নিউক্লিয়ার স্থাপনায় হামলা চালাতে চেয়েছিল। আরও বলা হয় যে, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিজেদের সীমানার খুব কাছে তিনটি দেশের এমন সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশংকায় পরিকল্পনাটি রদ করে দেন। 


এখানে লক্ষ্য করার বিষয় এটাই যে পাকিস্তান যেমন গোড়া হতেই দখলদার ইসরায়েলকে ইসলামের শত্রু মনে করে ইসরায়েলের অস্তিত্ব অস্বীকার করছে তেমনি ইসরায়েলও গোড়া হতেই পাকিস্তানের স্থিতিশীলতার বিরোধিতা করে আসছে। পাকিস্তান সরাসরি ইসরায়েলের বিরোধিতা করছে আর ইসরায়েল কৌশলে পাকিস্তানকে দূর্বল রাষ্ট্রের তালিকায় ফেলার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং সফলও হয়েছে। তারা ১৯৫২ সাল হতে পাকিস্তানি শাসকদের মূর্খতা ও গোয়ার্তমিকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানকে ভেঙ্গে টুকরো করার ফন্দি আঁটে এবং বাংলাদেশে শোষিত ও নির্যাতিত অসহায় মানুষ গুলোকে উদ্ধারে ভারতকে সুকৌশলে সহায়তা করে ইসরায়েল ও ভারত উভয়ের চির দুশমন পাকিস্তানকে ভেঙ্গে বাংলাদেশ নামক একটি দেশের অভ্যূদয় ঘটায় আর আমরা পাই আমাদের মহান স্বাধীনতা।  অপর দিকে পাকিস্তানে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে লেলিয়ে দিয়ে ঘাওড়া পাকিস্তানকে দিন দিন ভেতরগত ভাবে আরো দূর্বল করে দিচ্ছে।


যাই হোক বুঝতেই পারছেন দুই সাপে-নেউল দখলদার ইসরায়েল-পাকিস্তানের দন্দ্বের কারন আমাদের মহান স্বাধীনতাকে নিঃসন্দেহে ত্বরানিত করেছে এবং অখন্ড পাকিস্তান ও ভারত বিরোধীরা আজও দেশের মাটিতে কোন ঠাসা আছে।

কিন্ত ৫ আগষ্ট ২০২৪ সালে এসে এই স্বাধীনতা পূর্নতা পেলো।


লেখক:চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী।

ভার্সিটিতে পড়া মানেই চরিত্রহীন?

 "ভার্সিটিতে পড়া মানেই কি চরিত্রহীন? মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা ও চাকুরী করা কি ইসলামের অন্তরায়"

আমি শুরুতেই নারী জাতির প্রতি যথাযাথ সন্মান ও তাদের ব্যক্তিত্ব ও পর্দার প্রতি সন্মান জানাচ্ছি। গত বছর নারীর পর্দা নিয়ে আমার একটি পোস্ট করেছিলাম। ওখানে আমি পর্দার বিষয়ে আমার দৃষ্টি ভঙ্গি প্রকাশ করেছি। আবারও বলছি আমি মেয়েদের পর্দার বিষয়ে কঠোর পর্দার কথা বলি ও বিশ্বাস করি। গত সপ্তাহেও আমার সবচেয়ে প্রিয় একটি পরিবারের আমার সন্ত্বানের সমতুল্য এক মেয়ে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার পর তাকে চরম বকাঝকা করায় সম্পর্ক অবনতি হয়েছে।


যাই হোক ইদানীং কিছু সেলিব্রিটি ও আলেম সমাজের একটা অংশ এবং মাদরাসায় পড়ুয়া আলেমা গনও একটি বিষয়ে বিশোধাগার করছে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে আর তা হলো ভার্সিটিতে ফ্রি মিক্সিং ও মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা ও চাকুরী নিয়ে। সমালোচকদের এমন মনোভাব যেন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে মানেই পাপিষ্ঠ আর চাকুরীজিনী মহিলা মানেই নষ্টা-ভ্রষ্টা।


বাংলাদেশের মাদরাসা গুলোর মধ্যে দ্বীনি শিক্ষা ও পর্দার বিষয়টা কড়াকড়ি থাকার কারনে এখানে ছেলে মেয়ের ফ্রি মিক্সিং ও বেপর্দা হওয়ার সুযোগ কম।  আর কলেজ-ভার্সিটির ছেলে মেয়েদের মধ্যে বাধ্যবাধকতা না থাকায় বেশীর ভাগ ছেলে মেয়ে শিক্ষার অভাবে হোক, জানার অভাবে হোক আর ইচ্ছাকৃত ভাবেই হোক পর্দার বিষয়টা ৫০% ভাগ ছেলে মেয়ে অবহেলা করে কিন্তু ইদানীং পর্দা করা মেয়ের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে(আলহামদুলিল্লাহ)।




এবার আসুন কলেজ-ভার্সিটিতে যারা পড়াশোনা করে তাদের বিষয়ে মাদরাসায় পড়ুয়া ভাই বোনেরা যে অভিযোগ করেছে তা কতটুকু সত্য বলি, মন দিয়ে শুনুন। আপনারা মাদরাসায় নামাজ পড়েন আর পর্দা করেন এটা আপনাদের ক্যাম্পাস গুলোতে স্রোতের পক্ষে করেন। আর স্কুল-কলেজে যারা পর্দা করে এবং নামাজ পড়ে তারা স্রোতের বিপরীতে করতে হয়। পরতে পরতে বাঁধা আসে ইসলাম মানার ক্ষেত্রে। ক্লাশ, পরীক্ষা ও চাকুরী সব জায়গায়ই হাজারো প্রতিকূলতা পেরিয়ে পর্দা ও ইবাদত করতে হয়।আর আপনারা স্রোতের অনুকূলে থেকে নিজেরা পরহেজগার হচ্ছেন।


আমি নিজেও কলেজ-ভার্সিটির ছাত্র। আমি নিজেই দেখেছি কত ছেলে হলের মধ্যে রাতে আঁধারে তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলায় রাতের পর রাত। কিভাবে নিজের ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করে ইসলামী আন্দোলন করে। আমি নিজেই স্বাক্ষী কত ভাইয়েরা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার জন জেল জুলুম সহ্য করছে। আমার মেডিকেলের ১ দিনেই ছাত্র-চিকিৎসক সহ ৮৮জন জেলে নিয়েছে পুলিশ শুধু মাত্র ঈদ পরবর্তী পূর্মিলনীর অনুষ্ঠান হতে। যে মামলা এখনো চলমান। কই কেউ তো ইসলামী আন্দোলন ছেড়ে যায় নি। তবে হ্যাঁ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কযাম্পাস গুলোতে বাতিল শক্তির দাপটের কারনে এখানে যে কেউ চাইলেই নফসের গোলামী করতে পারে এবং করছেও। কিন্তু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাতো এই বিপরীত মূখী স্রোত হতে দোজখের পথ যাত্রী গুলোকে দ্বীনের পথে আনছে। আর মাদরাসায় বসে আপনারা স্রোতের অনুকূলে বসে নিজেদের একমাত্র বুজুর্গ মনে করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে গনহারে চরিত্রহীন বলছেন। আচ্ছা বুকে হাত দিয়ে বলেন তো মাদরাসার ক্যাম্পাস হতে কত গুলো ছার-ছাত্রী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছেড়ে দিলে নিজের দ্বীন আর বুজুর্গ গিরি কতক্ষন ধরে রাখতে পারবেন? কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস গুলোতে ইসলামি সংগঠন গুলো দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে কি আপনাদের ধারনা করা চরিত্রহীন লোকদের দিয়ে? কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এতনখারাপ হলে ইসলামি সংগঠন গুলোমদিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিভাবে?


আমি যদি প্রশ্ন করি মাদরাসায় পড়ুয়া ছাত্ররা বা আলেমরা চলমান বিশ্বের বাতিলের মোকাবেলায় ইসালমকে কতটুকু শক্তিশালী করতে পেরেছেন তার উত্তর কি দিবেন? উইলিয়ম ক্যাম্পবেলের কোরআন নিয়ে অভিযোগের উত্তর দাতা ডা. জাকির নায়েক এবং নাস্তিক আসাদ নূরের কোরআন নিয়ে ১১টি মিথ্যা অভিযোগের জবাব দাতা ডা:বশির আহাম্মদের পড়াশোনাও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েই হয়েছে। আমি তাই বলে মাদরাসার আলেম-আলেমাদের অবদান অস্বীকার করছি না। আপনারা আপনাদের জায়গা হতে আপনাদের কাজ করছেন, আর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের কাজ৷ নিজ নিজ অবস্থান করছে। কোন কাজই অবহেলার নয়। তবে মাদরাসায় পড়াশোনাটাই ইসলামকে কেন্দ্র করে আর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের কাজটা ঐচ্ছিক।

আপনারা গনহারে যে বলছেন কলেজে পড়ুয়া মেয়েদের বিয়ে করলে সন্ত্বান ভাল মা পাবে না এটা সর্ববৈ মিথ্যা এবং আপনাদের অহঙ্কারের প্রকাশ। বহু বাংলা পড়া মায়ের সন্ত্বানরা আজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ইসলামি সংগঠন গুলোর ঝান্ডা বাহী।


আপনারা যে ক্যাম্পাসকে ফ্রি মিক্সিংয়ের কারখানা বলেন সে ক্যাম্পাসের একটা ঘটনা বলি। মেডিকেলে ২য় বর্ষের ছাত্র আমি তখন। এক বেপর্দা বান্ধবী(যেহেতু চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়টাই কো-ডুকেশন, সেখানে ছেলে-মেয়ে আলাদা করে রাখা সম্বব নয়) পাশাপাশি হাটছিলাম, দূর থেকে মনে হয়েছিলো আমরা গায়ে গা লাগিয়ে হাটছিলাম,কিন্তু আদতে তা ছিলো না। হঠাৎ এক বোরকা ও নেকাব পড়া বড় আপু যাকে কখনোনদেখিনি তিনি আমাকে ক্যান্টিনে ডেকে নিয়ে আমাকে বিনা কারনে বকা ঝকা দিয়ে তার পড় আমার কাছে থাকা ফিমারের হাড় দিয়ে কয়েক ঘা পেদানী দিয়ে বলল কেন মেরেছি আগামী কাল সকাল ৮ টায় এখানে এসে জেনে যাবি। চুপচাপ চলে গেলাম। পরের দিন সকালে আমি আর আপুর বলা ঐ স্থানে রাগের কারনে যাই নি। কিন্তু বোরকাওয়ালা আপু নাছর বান্দা, আমার ৩ বছরের সিনিয়র, আমার ক্লাশে গিয়ে সামনে দাঁরিয়ে আছে, ক্লাশ শেষে ধরে নিয়ে যায় ক্যান্টিনে, তার পর বলে তোকে কাল কেন মেরেছি জানিস? আমি বলি আপনি ভাল জানেন। তখন আপু বলে সত্য করে বল কাল কি তুই ঐ মেয়েটার গায়ে ঘেঁষে হাটছিলি। এ কথা শোনে আমি তো বেকুবের মত। আপু অবস্থা বুঝতে পেরে বলল সত্য করে বল,  আমি জানি তুই মিথ্যা বলবি না, আমি বললাম না আপু ভিড়ের মাঝে ও আমার পাশ দিয়ে কথা বলতে বলতে হাটছিলো। আপু বলল সত্যি, আমি মন খারাপ করে বল্লাম সত্যি, তা ছাড়া আমি এই বিষয়ে আল্লাহর দেওয়া বিধানকে মেনে চলার চেষ্টা করি। তার পর আপু সরি বলে ব্যাগ হতে নিজের তৈরী করা এক বক্স খাবার আমার ১১ জন একই ক্লাশের ইসলামি সংগঠনের সাথে জড়িত ছেলে বন্ধুদের নিয়ে খাওয়ার কথা বলে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে সবাই মিলে খাবি আর ইসলামী সংগঠন করবি। ১ বছর পর জানতে পারি ঐ আপু ছিলো তখন আমাদের ক্যাম্পাসের ছাত্রী সংস্থার সভা নেত্রী।  এমন শাসন আর স্নেহও তো আমাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস গুলোতে আছে।


এবার আসেন মাদরাসা পড়েয়া আলেমরা যে নিজেদের নিয়ে অহঙ্কার করেন, আর বলেন কলেজে পড়া ছেলে মেয়েরা ধর্মহীন তাদের মাদরাসার ঘটনা একটু বিস্তারিত বিবরন দেই।

আগে আসুন আলিয়া মাদরাসা গুলোর বিষয়ে। আগেই ক্ষমা চেয়ে নেই,কারন এখনে বাস্তবতা তোলে ধরব এবং এতে তিতা কিছু কথা আসবে, এটা আমার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার ফল নয়, বরং সত্যতা প্রকাশ। আলিয়া মাদরাসায় ছেলে মেয়ে ফ্রি মিক্সিং হয় না? অধিকাংশ আলিয়া মাদরাসায় ছেলে মেয়ে পাশাপাশি বসে ক্লাস করে আর প্রায় সব আলিয়া মাদরাসায়ই ছেলে-মেয়ে একই ক্যাম্পাসে থাকে। এটা কি ফ্রি মিক্সিং নয়? আলিয়া মাদরাসার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সম্পর্ক হয় না? প্রেম-পিরিতী করে না? কত শত শত প্রমান লাগবে? কোন আলিয়া মাদরাসায় পড়ুয়া কোন বন্ধু থাকলে গোপনে জিজ্ঞেস করবেন। আলিয়াতে ছেলে-মেয়ের মধ্যে অবৈধ দৈহিক সম্পরকের মাধ্যমে অপ গর্বের ঘটনারও ভুড়ি ভুড়ি প্রমান দেখাতে পারব। কিন্তু তাই বলেকি আলিয়ার সকল আলেম খরাপ? না বরং ঐগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটমা এবং সংখ্যাও কম। তদরুপ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঘটনা গুলো আপনারা দেখছেন তার পরিমানও নেহায়েত কম।


এবার আসুন কওমী মাদরাসার বিষয়ে আসি।কওমীতে তো ছেলে মেয়ে একসাথে থাকার সুযোগ নাই। তাই বলে সবাই ফেরেশতা? কওমীর আলেম আলি হোসেন উসামার কওমীর চরিত্র নিয়ে একটি ভাইরাল ওয়াজ আসা করি আপনারা শুনেছন। আমি আর বেশী কিছু বলব না। এত টুকুই বলব তিনি তার বক্তব্যে বলেছে কওমী মাদরাসার আলেমরা প্রায় সবাই সমকামীতায় জড়িত, আমি জানি না সত্য কিনা, তবে উনি মিথ্যা বলে থাকলে তার জাবাব আল্লাহর কাছে সে দিবে। উসামা সাহেব কওমী পুরুষ ও মহিলা আলাদা বলেন নি। তবে সংবাদিকতার সুবাদে আমার কাছেও কওমী মাদরাসার অনেক ঘটনার ফাইল ফুটেজ আছে যা আলী হাসান উসামার কথার সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। তাই বলে কওমীর সবাই খারাপ না।


এবার আসুন মেয়েদের উচ্ছ শিক্ষা আর চাকুরী নিয়ে কথা বলি। আপনারা যারা মেয়েদের চকরী নিয়ে চুলকান সে সকল আলেম-আলেমাদের বলছি। আলেমারা যখন অসুস্থ হন তখন কি পুরুষ ডাক্তার দেখান না মহিলা ডাক্তার দেখান? আলেমদের বউদের তল পেটে যখন ব্যাথা হয় তখন পরীক্ষার জন্য কোন ডাক্তার দেখান, মহিলা ডাক্তার না পুরুষ ডাক্তার? যদি মেযেরা ুচ্চ শিক্ষা না করে তখন মহিলা চিকিৎসক কোথায় পাবেন?


যদি আপনি বিদেশ যাওয়ার সময় মহিলা ইমিগ্রেশন অফিসার না পান তবে আপনার মেডিকেল পুরুষ করতে হবে, মহিলা পুলিশ মহিলা ক্রিমিনাল ধরার জন্য সহ এমন বহু কাজ আছে যেখানে মহিলা অবশ্যম্ভাবী। এরকম অনেক কাজ আছে যেগুলো উচ্চ শিক্ষিত নারী ছাড়া সম্ভব না।


কিন্তু কথা হলো এই চাকুরী গুলো যেন অবশ্যই পর্দা মেনে করা হয়। যেকানে পর্দা ও ইজ্জত হুমকীর মুখে পড়বে সেই চাকুরী হতে অবশ্যই সরে পড়তে হবে।


লেখক:চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী।

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

মুরগী নামা

 মুরগী কবিরের মুরগী নামা



মুরগী নামা-১:
"শাহরিয়ারকে আমি ছেলের মতো স্নেহ করি, আমরা একসঙ্গে বহুদিন কাজ করেছি, বিশেষ করে '৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিতে। কিন্তু যখনই জানতে চেয়েছি সে কোথায় যুদ্ধ করেছে, তখনই সে নিশ্চুপ থেকেছে, কোনো দিন সদুত্তর দেয়নি ৷৷”

- কর্ণেল (অব:) কাজী নুর-উজ্জামান / ৭ নং সেক্টর কমান্ডার 

মুরগী নামা-২:
"ওরা প্রায় সকলেই একসাথে বলে উঠল, ‘আপা, আমরা মুক্তিযোদ্ধা, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, শাহরিয়ার কবির মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তাই আমাদের সেন্টিমেন্ট তিনি বুঝতে পারছেন না।' একজন বলল, ‘উনি আমাদের চরিত্রহীন বানাতে চান, মনে করেন উনার চরিত্র সম্পর্কে আমরা কেউ কিছুই জানি না? জানেন, ৭১ সালে আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছি, উনি তখন দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে মুরগি সাপ্লাইয়ের কাজ করেছেন।
আমি তাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলাম। চুপ করো, আমি কারো অতীত শুনতে চাই না। তোমরা যদি তার সম্পর্কে এত কিছুই জেনে থাক, তাহলে তাকে তোমরা অনুরোধ করে কমিটিতে এনেছিলে কেন? আর আমাকেই বা কেন এনেছিলে?”

— বেগম মুশতারী শফী / চিঠি : জাহানারা ইমামকে (একটি অসমাপ্ত সামাজিক আন্দোলন) 



ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...