dr-bashir.blogspot.com এখানে কলা, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, ভৌত, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন যাবতীয় বিষয়ের সাথে ইসলামের যোগসূত্র রয়েছে। পবিত্র কুরআন থেকে জ্ঞান বিজ ‘কুরআনের প্রায় সাত হাজারেরও বেশি জ্ঞানের কথা সন্নিবেশিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’ তাছাড়াও বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি, আরবী, ইসলাম শিক্ষা, যুক্তিবিদ্যা, রাষ্ট্রনীতি, লোকপ্রশাসন, লোকগীতি, প্রবাদসাহিত্য, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ, গণিত, জ্যামিতি, পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান,
Wikipedia
শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য
শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
যে ভাবে আগে থেকেই ভূমিকম্পের আগাম বার্তা পেতে পারেন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ভূমিকম্প সতর্কতা বা আর্থকোয়েক অ্যালার্ট চালু করার নিয়ম নিচে দেওয়া হলো।
এই ফিচারটি গুগল দ্বারা চালিত এবং এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার কাছাকাছি হওয়া ভূমিকম্প সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠায়।
চালু করার ধাপসমূহ:
সেটিংস (Settings) খুলুন: আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মূল সেটিংস অ্যাপটি খুলুন।
অবস্থান (Location) অপশনে যান: সেটিংস মেনুতে 'Location' বা 'অবস্থান' খুঁজে বের করে ট্যাপ করুন।
অবস্থান পরিষেবা (Location services) নির্বাচন করুন: 'Location' মেনুতে গিয়ে 'Location services' বা 'অবস্থান পরিষেবা' অপশনটি খুঁজুন।
ভূমিকম্প সতর্কতা (Earthquake alerts) চালু করুন: 'Location services'-এর অধীনে 'Earthquake alerts' বা 'ভূমিকম্প সতর্কতা' অপশন দেখতে পাবেন। এটিতে ট্যাপ করুন।
টগল সুইচ অন (ON) করুন: স্ক্রিনের উপরের দিকে থাকা টগল সুইচটি ট্যাপ করে চালু (ON) করে দিন।
সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
হিন্দুত্ববাদীদের বৌদ্ধ বিলীনে নিপীড়নের একাল-সেকাল
হিন্দুত্ববাদীদের বৌদ্ধ বিলীনে নিপীড়নের একাল-সেকাল, ইতিহাসের বয়ান!
-------------------------------------------------------
'বৌদ্ধ ধর্মের পতনের কারণ নিয়ে গবেষণা করা শ্রী নরেশ কুমার মনে করেন, বৌদ্ধবাদের বিরোধিতা ও একইসাথে ক্ষয়িষ্ণু ব্রাহ্মণ্য আধিপত্যবাদের পুনর্স্থাপনের জন্যে, ব্রাহ্মণ পুনর্জাগরণীরা তিন ধাপের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন।
প্রথম ধাপে তারা বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে ঘৃণা আর অত্যাচারের অভিযান শুরু করেন। এরপরে তারা বৌদ্ধ ধর্মের ভালো দিকগুলো আত্মস্থ করে নেয় যাতে করে "নীচু" জাতের বৌদ্ধদের মন জয় করা যায়। কিন্তু বাছাইকৃত আত্মীকরণের এই ধাপে ব্রাহ্মণ্যবাদের আধিপত্য যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয় তা নিশ্চিত রাখা হয়। বৌদ্ধবাদ ধ্বংস প্রকল্পের শেষধাপে – 'গৌতম বুদ্ধ হিন্দু বিধাতা বিষ্ণুর আরেকটি অবতার ছাড়া আর কিছুই নন' – এই ধারণা চালু করে তা চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এভাবে বুদ্ধকে ব্রাহ্মণ্যবাদের সর্বদেবতার মন্দিরের অগুন্তি ঈশ্বরের সামান্য একটিমাত্র-তে পরিণত করা হয়। অবশেষে, বৌদ্ধরা মূলত শুদ্র আর অচ্ছুত হিসেবে জাতপ্রথায় আত্মীকৃত হলেন – আর এভাবেই নিজ জন্মভূমিতেই বৌদ্ধরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে লাগলেন।
নরেশ কুমার বলেন, "বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে চলা এই নির্মূলাভিযানকে বৈধতা দিতে ব্রাহ্মণ্য লেখাগুলোতে বৌদ্ধদের প্রচণ্ডভাবে তিরস্কার করা হয়।
মনুসংহিতায় মনু বলেন, "কেউ যদি বুদ্ধকে স্পর্শ করে […] তবে সে স্নান করে নিজেকে শুচি-শুদ্ধ করে নেবে।"
অপরাকা তার গ্রন্থে একই ধরণের আদেশ দেন। ব্রাদ্ধ হরিত ঘোষণা করেন যে বৌদ্ধ মন্দিরে প্রবেশ করাই পাপ, যা কেবল আচারিক স্নানের মাধ্যমে স্খলিত হতে পারে। এমনকি সাধারণ জনগণের জন্যে লেখা নাটিকা কিংবা পুথিগুলোতেও ব্রাহ্মণ পুরোহিতেরা বুদ্ধের বিরুদ্ধে ঘৃণার অর্গল ছড়িয়েছেন। প্রাচীন নাটিকা 'মৃচ্ছাকথিকা'তে (পর্ব ৭), নায়ক চারুদত্ত এক বৌদ্ধ সন্তকে হেঁটে আসতে দেখে, বন্ধু মৈত্রীয়কে ক্রোধক্তিতে বলেন – 'আহ্! কী অশুভ দৃশ্য – এক বৌদ্ধ সন্ত দেখছি আমাদের দিকেই আসছে।''
"ছয় শতকের গোড়ার দিক থেকে গুপ্ত সাম্রাজ্য ভেঙে পড়তে শুরু করে এবং ক্রমান্বয়ে স্থানীয় রাজাদের উত্থান হতে থাকে এবং স্থানীয় রাজাদের হাতেই বাংলা এবং উত্তর ভারত শাসিত হতে থাকে। সাত শতকের শুরুতে (৬০১ খ্রিস্টাব্দে) পশ্চিম বঙ্গে হিন্দু রাজা শশাঙ্কের আবির্ভাব হয়। তার শাসনকাল ৬৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শশাঙ্ক ছিলেন চরম বৌদ্ধ বিদ্ধেষী। শশাঙ্কের নিষ্ঠুর অত্যাচারে অনেক বাঙালি বৌদ্ধ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
( R .C. Majumdar, বাংলা দেশের ইতিহাসঃ প্রাচীন যুগ, ১৯৮৮, পৃঃ১২৮।)
রাজা শশাঙ্কের বৌদ্ধনীতি সম্পর্কে রামাই পন্ডিতের শূন্য পুরান থেকে ধারণা পাওয়া যায়। ‘সেতুবন্ধ হইতে হিমালয় পর্যন্ত যেখানে যত বৌদ্ধ আছে তাহাদের বৃদ্ধ ও বালকদের পর্যন্ত যে না হত্যা করিবে, সে প্রাণদন্ডে দণ্ডিত হইবে-রাজভৃত্যদিগের প্রতি রাজার এই আদেশ। (শ্রীচারু বন্দোপাধ্যায়, রামাই পন্ডিতের শূন্য পুরান, পৃষ্ঠা ১২৪)
'হিউয়েন সাং শশাঙ্কের কয়েকটি বৌদ্ধ ধর্মবিরোধী কাজকর্মের উদাহরণ তুলে ধরেন,
*কুশীনগর বৌদ্ধবিহার থেকে বৌদ্ধদেরকে তাড়িয়ে সমূলে বৌদ্ধধর্মের বিনাশ ঘটান।
*পাটলিপুত্রে বুদ্ধের পদচিহ্ন অঙ্কিত এক খণ্ড পাথর গঙ্গাজলে নিক্ষেপ করেন।
*গয়ার বোধিবৃক্ষ (বোধিবৃক্ষঃ যে গাছের নিচে কঠোর তপস্যার ফলে সিদ্ধার্থ বোধি প্রাপ্ত হন। তাই গাছটি বৌদ্ধদের কাছে পবিত্রতম বলে বিবেচিত ছিল) কেটে মাটি খুঁড়ে এর শিকড়গুলো কেটে ফেলে বাকি যা ছিল সব আগুনে পোড়ান।
*নিকটবর্তী বৌদ্ধ মন্দির থেকে বুদ্ধমূর্তি সরিয়ে সেখানে শিবের মূর্তি প্রতিস্থাপন করেন।'
কুশিনগর বা হার্রাম্বাতে গৌতম বুদ্ধ মারা যান বিধায় এটি বৌদ্ধদের কাছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ স্থান। এই নামকরা শহরের চাকচিক্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে ব্রাহ্মণরা এই কুৎসা রটায় যে এই শহরে মৃত্যু হলে সে সরাসরি নরকে চলে যাবে কিংবা পরজন্মে গাধা হয়ে জন্মাবে – কিন্তু ব্রাহ্মণীয় পবিত্র নগর কাশিতে মৃত্যু হলে সে সরাসরি স্বর্গে চলে যাবে।"
সবার প্রিয় 'কৌটিল্যে'র বৌদ্ধ ও নিচু বর্ণের হিন্দুদের সম্পর্কে একটি মন্তব্য!
'অর্থশাস্ত্র গ্রন্থের রচয়িতা ব্রাহ্মণ বর্ণের চাণক্য ঘোষণা করেন,
"যদি কেউ শক্য (বৌদ্ধ), অজিবিকাশ, শুদ্র বা নিষ্ক্রান্ত ব্যক্তিদের ঈশ্বর বা পূর্ব-পুরুষদের পূণ্যার্থে উৎসর্গিত ভোজসভায় যোগদান করে – তবে তার উপর একশ পানা অর্থদণ্ড আরোপিত হবে।"
ওডিশার পুরীতে অবস্থিত জগন্নাথ মন্দিরটি মূলত একটি বৌদ্ধ মন্দির ছিল। পরবর্তীতে হিন্দুরা তা জোরপূর্বক দখল করে নিজেদের ধর্মীয় স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
জগন্নাথ মন্দির বিষয়ে বিখ্যাত শিল্প ও প্রত্নতত্ত্ববিদ ডঃ স্টেলা ক্র্যামরিশ (Stella Kramrisch) লিখেছেন:
“The image of Jagannath is clearly non-Brahmanic and has Buddhist affinities.”
— Stella Kramrisch, "The Hindu Temple", Volume 2, p. 324।
বিখ্যাত ভারতীয় ইতিহাসবিদ ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার তাঁর “History and Culture of the Indian People” গ্রন্থে লিখেছেন:
"It is highly probable that the cult of Jagannath is originally a Buddhist one which was gradually assimilated by Hinduism."
— R.C. Majumdar, "History and Culture of the Indian People", Volume 3, p. 505
শুধু দেশ-বিদেশের বিখ্যাত ও নিরপেক্ষ ইতিহাসবিদই নয়, জগন্নাথ মন্দিরটি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
স্বামী বিবেকানন্দ নিজেও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তাঁর "বাণী ও রচনা" গ্রন্থের ৫ম খণ্ডে (পৃষ্ঠা ১৫৮) লিখেছেন:
"যাহারা ভারতের ইতিহাস কিছুমাত্র জানেন, তাহাদের নিকট পুর্বোক্ত বিবৃতি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, পুস্তকখানি আগাগোড়া প্রতারণা। কারণ জগন্নাথ-মন্দির একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির। আমরা ঐটিকে এবং অন্যান্য বৌদ্ধ মন্দিরকে হিন্দু মন্দির করিয়া লইয়াছি।"
— স্বামী বিবেকানন্দ, বাণী ও রচনা ৫/১৫৮।
জগন্নাথ মন্দির দখল স্রেফ কোন স্থাপনা দখল মনে করলে ভুল হবে। এটি নির্দিষ্ট কোন জনপদ হতে পুরোপুরিভাবে বৌদ্ধ নিধনের পর মন্দির পুনর্গঠন এবং দেবতার রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে বৌদ্ধ প্রভাব সম্পূর্ণ মুছে ফেলার চেষ্টা হয়।
ড.দীনেশচন্দ্র সেন বলেন, “যে জনপদে (পূর্ববঙ্গ) একর কোটির অধিক বৌদ্ধ এবং ১৫৫০ ঘর ভিক্ষু বাস করিত, সেখানে একখানি বৌদ্ধ গ্রন্থ ত্রিশ বছরের চেষ্টায় পাওয়া যায় নাই। যে পূর্ব ভারত বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান লীলাকেন্দ্র ছিল, তথায় বৌদ্ধ ধর্মের যে অস্তিত্ব ছিল, তাহাও ইউরোপীয় প্রত্নতাত্ত্বিক চেষ্টায় অধুনা আবিস্কৃত হইতেছে”।
(প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, পৃষ্ঠা ১১-১২)
ড. দীনেশ চন্দ্র সেন এ প্রসঙ্গে বলেছেন ........
" ....বৌদ্ধগণ এতটা উৎপীড়িত হইয়াছিল যে তাহারা মুসলমানদের পূর্বকৃত শত অত্যাচার ভুলিয়া বিজয়ীগণ কর্তৃক ব্রাহ্মণ দলন এবং মুসলমান কর্তৃক বঙ্গবিজয় ভগবানের দানস্বরূপ মনে করিয়াছিল। শূন্যপুরাণের ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ নামক অধ্যায়ে দেখা যায়-তাহারা (বৌদ্ধরা) মুসলমানদিগকে ভগবানের ও নানা দেবদেবীর অবতার মনে করিয়া তাহাদের কর্তৃক ব্রাহ্মণ দলনে নিতান্ত আনন্দিত হইয়াছিল।….ইতিহাসে কোথাও একথা নাই যে সেনরাজত্বের ধ্বংসের প্রাক্কালে মুসলমানদিগের সঙ্গে বাঙালি জাতির রীতিমত কোনো যুদ্ধবিগ্রহ হইয়াছে। পরন্তু দেখা যায় যে বঙ্গবিজয়ের পরে বিশেষ করিয়া উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে সহস্র সহস্র বৌদ্ধ ও নিম্নশ্রেণীর হিন্দু, নব ব্রাহ্মণদিগের ঘোর অত্যাচার সহ্য করিতে না পারিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণপূর্বক স্বস্তির নিশ্বাস ফেলিয়াছে....
(ড. দীনেশ চন্দ্র সেন, বৃহৎ বঙ্গ, পৃষ্ঠা-৫২৮)
এদেশে ব্রাহ্মণ্য প্রভাবের পুনর্ভ্যুদয়ে বিজিত বৌদ্ধদিগের প্রতি যেরূপ কঠোর নিপীড়ন চলিয়াছিলো, তাহাতে বৈষ্ণবেরা যদি সেই সকল হতভাগ্যের জন্য স্বীয় সমাজের দ্বার উদঘটনা না করিতেন, তবে সেই শ্রেণীর সকলেই মুসলমান হইয়া যাইতো।
(ড. দীনেশ চন্দ্র সেন, বৃহৎ বঙ্গ, পৃষ্ঠা-১০)।।
হিন্দুত্ববাদীদের বৌদ্ধ নিপীড়ন ও মন্দির দখল এখনো বন্ধ হয়নি।
২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ভারতের বিহারের মহাবোধি মন্দির, যেটা বৌদ্ধ দের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান। বৌদ্ধ ধর্ম অনুযায়ী, মহাবোধি মন্দির হলো সেই স্থান যেখানে গৌতম বুদ্ধ আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ করেছিলেন। ২৬০ খ্রিষ্টপূর্বে সম্রাট অশোক বুদ্ধ গয়া সফরের পর মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন, যা বুদ্ধের আত্মপ্রকাশের প্রায় ২০০ বছর পর।
১৩শ শতাব্দীতে অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে এর অবস্থা পাল্টাতে শুরু করে। ১৩শ থেকে ১৮শ শতাব্দী পর্যন্ত মন্দিরটি অনেকটা পরিত্যক্ত ছিল। ১৫৯০ সালে এক হিন্দু সাধু মন্দিরে এসে বসবাস করতে শুরু করেন, যেখানে তিনি পূজা-অর্চনা করতেন। পরবর্তীতে সেখানে বুদ্ধ গয়া মন্দির নামে একটি হিন্দু মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে মন্দিরটি তাদের উত্তরাধিকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
বিহারের বুদ্ধ গয়া মন্দির ১৯৪৯ সালের একটি রাজ্য আইনের অধীনে গত ৭৬ বছর ধরে একটি ৮ সদস্যের কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। এই কমিটিতে ৪ জন হিন্দু ও ৪ জন বৌদ্ধ সদস্য রয়েছেন। ভারতের সকল ধর্ম নিজ নিজ ধর্মীয় স্থানগুলোর দেখাশোনা ও পরিচালনা করে, তাহলে হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর লোকজন কেন একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থানের কমিটিতে যুক্ত হচ্ছেন? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর লোকজনের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে ও তারা এমন কিছু ধর্মীয় আচরণ ও অনুষ্ঠান করছে যা বৌদ্ধ ধর্মের মৌলিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
কলমেঃ
মঈন উদ্দিন চিশতী,
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
মুসলিম বিজ্ঞানীদের আড়াল করার চক্রান্ত
মুসলিম বিজ্ঞানীদের আড়াল করার চক্রান্ত : ল্যাটিন অনুবাদে নাম পরিবর্তন।
স্বর্ণযুগে মুসলিম বিজ্ঞানীদের সবগুলাে বই ল্যাটিনসহ অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করা হয়। তবে অনূদিত গ্রন্থগুলােতে পরিকল্পিতভাবে মুসলিম বিজ্ঞানীদের নামও ল্যাটিনে অনুবাদ করা হয়। অন্য যে কোনাে ভাষায় কোনাে লেখকের বই অনুবাদ করার সময় কেবলমাত্র বইয়ের বিষয়বস্তু অনুবাদ করা হয়। কখনাে লেখকের নাম অনুবাদ করা হয়। । লেখকের নাম অনুবাদ করার এমন অদ্ভুত উদাহরণ ইতিহাসে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। পৃথিবীর সব দেশের কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের নাম অক্ষত রেখে অনুবাদ কর্ম সম্পাদন করা হলেও স্বর্ণযুগের মুসলিম দার্শনিক ও বিজ্ঞানীদের নাম অক্ষত রাখা হয়নি।
ল্যাটিন ভাষায় মুসলিম পণ্ডিত ও বিজ্ঞানীদের নাম বিকৃত করার এই হীন প্রচেষ্টা অধ্যাপক সারটনের উক্তিকে সত্য বলে প্রমাণ করছে।
আরবী গ্রন্থগুলাে ইউরােপীয় ভাষায় অনুবাদ করা হলেও গ্রন্থকারের ল্যাটিন নাম দেখে বুঝার উপায় নেই যে, তারা মুসলমান। প্রত্যেক মুসলমান গ্রন্থকারের নাম আরবীতে লম্বাচুরা হলেও ল্যাটিন ভাষায় তাদের নাম দেয়া হয়েছে, একটি মাত্র শব্দে। আবার অনেল অনুবাদকারী অনেক বই নিজের নামে ও পান্ডুলিপিটি প্রদানকারীরার নামেও প্রকাশ করে এমনকি ভারত শাসন করার সময় ভারতীয় বিভিন্ন বই জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা ও সম্পদ একই ভাবে ব্রিটিশরা লূট করে।
নিচে তাদের কাজের মাত্র অল্প কিছু উদাহরণ বুঝার জন্য,
ইবনে সিনার পুরাে নাম আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সিনা। কিন্তু ল্যাটিন ভাষায় তার নাম ‘আভিসিনা’ (Avicenna)।
বীজগণিতের জনক খাওয়ারিজমির পূর্ণ নাম আবু আবদুল্লাহ মােহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি। ল্যাটিন ভাষায় তার নাম ‘এলগােরিজম’ (Algorism)।
ইবনে বাজ্জাহর পুরাে নাম আবু বকর মােহাম্মদ ইবনে ইয়াহিয়া ইবনে আল-সায়িগ। কিন্তু তার ল্যাটিন নাম ‘অ্যাভামপেস (Avempace)।
আল-ফরগানি আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মােহাম্মদ ইবনে কাছির হলাে আলফরগানির পূর্ণ নাম। কিন্তু ল্যাটিনে তার নাম ‘আলফ্রাগানাস’ (Alfraganus)।
পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র অঙ্কনকারী আল-ইদ্রিসীর পূর্ণ নাম আবু আবদুল্লাহ মােহাম্মদ ইবনে মােহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস আল-শরীফ আল-ইদ্রিসী। কিন্তু ল্যাটিন ভাষায় তিনি ‘দ্রেসেস’ (Dreses) নামে পরিচিত।
শুধু ইবনে সিনা, খাওয়ারিজমি, ইবনে বাজ্জাহ, আল-ফরগানি কিংবা আল-ইদ্রিসী নয়, সব মুসলিম বিজ্ঞানীর প্রতি ল্যাটিন ইউরােপ এ অবিচার করেছে।
মুসলিম বিজ্ঞানীদের শুধু নামের বিকৃতি নয়, খােদ তাদের পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের কারাে কারাে ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, তারা আদৌ মুসলমান নন, জরােস্ত্রীয় অথবা ইহুদী কিংবা ইউরােপীয়। রসায়নের জনক জাবির হাইয়ান এমন এক অপপ্রচারের শিকার। ইউরােপের কোনাে কোনাে ঐতিহাসিক দাবি করছেন, জাবির ইবনে হাইয়ান ছাড়া আরেকজন জাবির ছিলেন। তার নাম ‘জিবার’ এবং এ জিবার হলেন ইউরােপীয় ।
বীজগণিতের জনক আল-খাওয়ারিজমি সম্পর্কেও অনুরূপ কথা বলা হচ্ছে। কোনাে কোনাে ঐতিহাসিক তাকে জরােস্ত্রীয় হিসাবে দাবি করছেন। খাওয়ারিজমির বিপরীতে আরেকজন ‘খাওয়ারিজমি’র অস্তিত্ব আবিষ্কার করা হয়েছে। বলা হচ্ছে দ্বিতীয় খাওয়ারিজমি হলেন গণিতে প্রথম শূন্য ব্যবহারকারী।
পৃথিবীর ব্যাস নির্ণয়কারী আলফরগানিও ষড়যন্ত্রের শিকার। তার পরিচয় নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করে বলা হচ্ছে, ফরগানি হলেন দু’জন।
এমনি আরাে কতভাবে বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান অস্বীকার অথবা তাদের অবদানকে খাটো করার হীন চক্রান্ত চালানাে হচ্ছে তার শেষ নেই। অনেক জ্ঞানী ও আলেমদেরকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং হত্যা করে ফেলা হয়েছিল।
আমরা সবাই একনামে কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও ও নিউটনের মতাে ইউরােপীয় বিজ্ঞানীদের চিনি, চিনি না কেবল তাদের গুরু ইবনে বাজ্জাহ, ইবনে রুশদ অথবা নাসিরুদ্দিন তুসিকে।
এভাবেই অরা ইতিহাসের সেরা প্রতারণা গুলো করে গিয়েছে এবং এখনো করেই চলেছে।
আমরা না চিনলেও ইতিহাস থেকে তারা হারিয়ে যাবেন না।
বিজ্ঞান যতদিন টিকে থাকবে মুসলিম বিজ্ঞানীরাও ততদিন ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবেন ।
– সাহাদত হোসেন খান
শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
ইসলামি রাষ্ট্রে নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারবে কি?
বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
গনতন্ত্র হারামের শরয়ী দলিল
"ইসলামে গনতন্ত্র হারামের শরয়ী দলিল"
গণতন্ত্র কেন শিরক, কুফরী?
বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের সাবেক এক সভাপতি বলেছেন গনতন্ত্র হারাম এরকম আয়াত বা দলিল নাকি নাই। মনে রাখবেন কোরআন নাজিলের বহু বছর পরে গনতন্ত্র নামক জাহেলিয়াতের আগমন, তাই গনতন্ত্র সরাসরি শব্দিক ভাবে হারাম না থাকরার কারনে মানুষের তৈরী বিধান গনতন্ত্র জায়েজ হয়ে যায় না, এখানে শুধু গনতন্ত্র নয়, মানুষের তৈরী অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যতের মানুষের তৈরী সকল বিধানই হারাম করা হয়েছে।
আমি অনুরোধ করবো এই ছাত্র শিবিরের সাবেক এই সভাপতি যেনো "খেলাফত ও মুলকিয়াত" বইটি পড়ে তার পর পরবর্তীতে এই বিষয়ে মন্তব্য করেন এবং এই লেখার পাঠকরাও যেন ঐ বইটি পড়ে আমার লেখার বিষয়ে মন্তব্য করেন তাইলে খামোখা বিতর্ক এড়ানো যাবে, ভুল মেসেজ এড়ানো যাবে,কারন ঐ বইয়ে আপনাদের রাজনীতির আদর্শিক নেতা আরো বিস্তারিত লিখেছেন।
আবার অনেকে এই লেখার পড়ার পর মন্তব্য করবেন যে তাইলে গনতন্ত্র হারাম হলে বর্তমানে ইসলাম প্রতিষ্ঠার উপায় কি? বিকল্প কি? হ্যাঁ আমি এই বিকল্প নিয়ে বিষদ আলোচনা করবো এই লেখাটি পড়ুন আগে, মন্তব্য করুন প্রান খুলে।
গণতন্ত্রের মূলনীতিসমূহ সুস্পষ্টভাবে শিরক এবং কুফরী হিসাবে প্রতীয়মান হওয়া দলিল সমূহ নীচে পেশ করা হলো। চলুন দেখি আল কোরআন কি বলেঃ
(১) সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে :
গণতন্ত্রের মূল কথা জনগণের সার্বভৌমত্ব। অর্থাৎ সকল ক্ষমতার মালিক সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। একথা নিঃসন্দেহে শিরক।
কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيْكٌ فِي الْمُلْكِ ‘রাজত্বে তাঁর কোন শরীক নেই’ (বনী ইসরাঈল ১৭/১১১)।
তিনি আরো বলেন, قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ ‘
তুমি বল, হে আল্লাহ, রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন’ (আলে ইমরান ৩/২৬)।
অন্যত্র তিনি বলেন, تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
‘বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব। আর তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান’ (মূলক ৬৭/১)।
মহান আল্লাহ আরো বলেন,الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ
‘যার হাতে রয়েছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব। যিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেন না এবং তাঁর রাজত্বে কোন শরীক নেই’ (ফুরক্বান ২৫/২)।
আল্লাহর বাণী থেকে বুঝা গেল আল্লাহই সকল ক্ষমতার মালিক। মানুষকে ক্ষমতার মালিক বা উৎস বানানো তাঁর সাথে শরীক স্থাপনের শামিল, যা স্পষ্ট শিরক।
(২) আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে :
গণতন্ত্রে আইন-বিধান রচনার চূড়ান্ত ক্ষমতা অর্পণ করা হয় পার্লামেন্ট সদস্যদের উপর। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যেটা বলবে, যে বিষয়ে সম্মত হবে সেটাই হবে দেশের সর্বোচ্চ আইন, যার বিরোধিতা করা আইনত অপরাধ। গণতন্ত্রে সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কুরআন-সুন্নাহর উপরে স্থান দেওয়া হয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তারা কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী আইন তৈরী করতে পারে, এমনকি আল্লাহর আইনকে বাতিলও করতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়- পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেওয়া, মদের লাইসেন্স দেওয়া, সূদের বৈধতা দেওয়া, ১৮ বছরের পূর্বে বিয়ে নিষিদ্ধ করা, ১৬ বছর বয়স পারস্পরিক সম্মতিতে যেনা করলে তার বৈধতা দেওয়া, স্বামীর অনুমতিতে স্ত্রী অন্য পুরুষের সাথে ব্যভিচার করলে তার বৈধতা দেওয়া, যাত্রা, সিনেমাহলে প্রকাশ্যে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার চর্চাকে অনুমোদন দেওয়া ইত্যাদি। এ ধরনের নীতিমালা নিঃসন্দেহে আল্লাহর বরুবিয়্যাতের (ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের) ক্ষেত্রে শিরক এবং স্পষ্ট কুফরী।
কেননা আল্লাহ বলেন, اَلَا لَهُُ الْخَلْقُ وَالْاَمْرُ
‘শুনে রাখ! সৃষ্টি যার হুকুম চলবে তার’ (আ‘রাফ ৭/৫৪)।
তিনি আরো বলেন,إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ-
‘আল্লাহ ব্যতীত কারু বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ব্যতীত তোমরা অন্য কারু ইবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না’ (ইউসুফ ১২/৪০)।
তিনি আরো বলেন, وَاللهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ
‘আল্লাহ নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশকে পিছনে নিক্ষেপ করার কেউ নেই। তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী’ (রা‘দ ১৩/৪১)।
(৩) বিরোধ মিমাংসার ক্ষেত্রে :
গণতন্ত্রে যেকোন মতবিরোধ বা বিতর্কের চূড়ান্ত মিমাংসাকারী বানানো হয় সংবিধান ও এর ধারা সমূহ এবং পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে। এটা একটা স্পষ্ট কুফরী।
মহান আল্লাহ বলেন,فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا-
‘অতঃপর যদি কোন বিষয়ে তোমরা বিতন্ডা কর, তাহ’লে বিষয়টি আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। এটাই কল্যাণকর ও পরিণতির দিক দিয়ে সর্বোত্তম’ (নিসা ৪/৫৯)।
তিনি আরো বলেন,وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا-
‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে ফায়ছালা দিলে কোন মুমিন পুরুষ বা নারীর সে বিষয়ে নিজস্ব কোন ফায়ছালা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করবে, সে ব্যক্তি স্পষ্ট ভ্রান্তিতে পতিত হবে’ (আহযাব ৩৩/৩৬)।
এখন ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি যে কথা বলেছে সে কথা সত্য কিনা নিজেরাই যাচাই করুন।
মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
১৭ নভেম্বর ভয়াল নানিয়ারচর গণহত্যা দিবস
১৭ নভেম্বর ভয়াল নানিয়ারচর গ-ণ-হ-ত্যা দিবস: এত বছর পরও বিচার চায় নানিয়ারচরের ভুক্তভোগীরা
আজ ১৭ নভেম্বর, পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের একটি কালো দিন। ১৯৯৩ সালের এই কালো দিনে রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বাঙ্গালীদের উপর সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন শান্তিবাহিনী তথা আজকের জেএসএস সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা পরিচালনা করে। এই গণহত্যার ৩২ বছর আজ। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে নানিয়ারচর গণহত্যাটি ১৯তম কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে পরিচিত।
এই গণহত্যাকে পার্বত্য বাঙ্গালীরা ভুলে গেছে। এইভাবেই ৩২টি বছর কেটে গেছে। এই গণহত্যায় ৪৯ জনের অধিক নিরস্ত্র বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয়। বাঙ্গালী মা-বোনদের জেএসএস সন্ত্রাসীরা গণধর্ষণ করে হত্যা করে। আহত হয় প্রায় ১৫০/২০০ জন।
কী ঘটেছিলো সেই দিন?
সন্তুর জেএসএস সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্য ছিল পার্বত্য বাঙ্গালীকে নিধন করে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী শূন্য করবে এবং পাহাড়কে সন্ত্রাসে পরিণত করে রাজত্ব কায়েম করবে। তারা সেই স্বপ্ন নিয়ে বাঙ্গালী গণহত্যায় মেতে উঠেছিল সেসময়৷ এই গণহত্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩৫ হাজার বাঙ্গালী নিহত হয়। এরা সবাই নিরস্ত্র বাঙ্গালী ছিল।
গণহত্যার পর নানিয়ারচর থেকে প্রায় ২১৮ পরিবার সমতলে ভয়ে ফিরে যান। সেদিন রাস্ট্র-প্রশাসন তাদেরকে নিরাপদ দিতে ব্যর্থ হয়৷ সন্ত্রাসে পরিণত হয় সমগ্র নানিয়ারচর সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম। বাঙ্গালীরা প্রাণের ভয়ে দিগদিগন্তে ছুঁড়তে থাকে। সেইদিনের লোমহর্ষক ঘটনার কথা মনে পড়লে আজও গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যায়।
সেদিন ছিল সাপ্তাহিক হাটবাজারের দিন, বুধবার (১৭ নভেম্বর)। তাই স্বভাবিকভাবে দুর-দূরান্ত থেকে বাজারে এসেছিল শত শত বাঙালী, শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সকালের দিকে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার আহমেদ মিয়া ও বুড়িঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফসহ পার্বত্য গণপরিষদের ব্যানারে একটি মিছিল স্থানীয় লাইবেরী প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় যাদের প্রধান দাবীগুলো ছিল: শান্তিবাহিনীর হাত থেকে নানিয়ারচরের নিরীহ বাঙালীদের বাঁচাও, লঞ্চঘাটের যাত্রী ছাউনি দিতে হবে ও সেনাবাহিনীর ৪০ ইবি রেজিমেন্টের সেনাছাউনি স্থাপন করতে হবে।
কয়েক হাজার বাঙালী ছাত্র-জনতার মিচ্ছিলে তখন সারা নানিয়ারচর উজ্জীবিত। মিচ্ছিল থেকে গনতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকারের দাবী উচ্চকন্ঠে জানানো হচ্ছিল। মিচ্ছিলটি শান্তিপুর্ণভাবে শহরের রাস্তা প্রদক্ষিন শেষে কৃষি ব্যাংক এর সামনে সমাবেশ করে।
মিছিল প্রতিহত করার জন্য হামলা করে বেতছড়ি, ছয়কুড়িবিল, মাইচ্ছড়ি, গবছড়ি, তৈচাকমা, যাদুকাছড়া, বগাছড়ি, বড়াদম, বুড়িঘাট, কাঁঠালতলী, শৈলেশ্বরী, নানাক্রুম, সাবেক্ষ্যং, এগারাল্যাছড়া, বাকছড়ি, কেঙ্গালছড়ি থেকে আগত উগ্র উপজাতিরা শান্তিবাহিনীর নেতৃত্বে হামলা করে। জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল বাঙালীদের ১শ ৩২টি ঘর বাড়ি।
ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী জানা যায়, সন্তু লারমা নিজেই এই গণহত্যার নেতৃত্ব দেন। সন্তু লারমা, ফনি ভূষণ চাকমা, শোভাপূর্ণ চাকমা ও বীরেন্দ্র চাকমা নেতৃত্বে ৭৭ জন জেএসএস সন্ত্রাসী গণহত্যায় অংশ নেন। সন্তু লারমার বাড়ি ছিল এই নানিয়ারচর উপজেলায়। সন্তু নিজেই ১৩ মাসের নুর কায়েদা নামের এক মেয়ে শিশুকে পিষে হত্যা করে এবং তার মাকে ধর্ষণ করে যৌনাঙ্গে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
আহত বাঙালীদেরকে আহত অবস্থায়ই কাপুরুষেরা অনেক পশুর মত জবাই করে হত্যা করেছে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে সেদিন বাঙালীরা কাপ্তাই লেকের পানিতে ঝাঁপ দিলেও জনসংহতি সমিতির শান্তিবাহিনী ও উগ্র পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ নামক হায়নার নির্মমতার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। যারা দোকানে, বাড়িতে লুকিয়ে ছিল তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে বের করে হত্যা করা হয়েছে অথবা পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পাশের বাঙালীদের গ্রামগুলি লুটপাট করে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সময় রাঙ্গামাটি থেকে আসা লঞ্চ পৌঁছালে সেখানেও হামলা করে অনেক নিরীহ নিরস্ত্র বাঙ্গালীকে হতাহত করা হয়। আনিসুজ্জামান নামক এক মৌলভীকে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়। এভাবে প্রায় দু’ ঘন্টা ধরে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় বাঙালীদের উপর।
১৯৯৩ সালের ১৭ নভেম্বর রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর গণহত্যাটি ঘটনার মাধ্যমে কয়েক ঘন্টা সময়ের ব্যবধানে ৪৯ জনের অধিক নারী, শিশু, আবাল বৃদ্ধ বনিতা নিরস্ত্র নিরীহ বাঙ্গালীকে হত্যা করে, অধিকাংশ লাশগুলোকে গুম করা হয়েছে এবং আহত করা হয়েছে আরও শতাধিকের অধিক, অপহরণ করা হয়েছে আরো শত শত বাঙ্গালীকে। ২০৪টি বাড়ি লুটতরাজ করে সম্পূর্ণ ভাবে পুড়িয়ে দেয়া হয়। জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল বাঙালীদের ১শ ৩২টি ঘর বাড়ি। গৃহহীন হয়েছেন প্রায় শহস্রাধীক পরিবার। এরা লাশগুলোকে গুম করে আত্মীয়-স্বজনকে ফেরত না দিয়ে বা কবর দেয়ার সুযোগ না দিয়ে একত্রে পুড়িয়ে ফেলে মুসলিম ধর্মীয় রীতিকে অবমাননা করে।
বাঙ্গালী লেখক না থাকায় এসব নৃশংস গণহত্যা ও বর্বরোচিত ঘটনাগুলো বরাবরের মত ইতিহাস থেকে মুছে গিয়েছে। তৎকালীন গণমাধ্যম জেএসএস সন্ত্রাসীদের ভয়ে সত্য প্রকাশ করতো না। এমনকি তাদের পাহাড়ে প্রবেশে ছিলো কঠোর সেন্সর আরোপ।
তবে, নানা প্রতিকূলতা ভেদ করে এ খবর দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
সুরুজ মিয়া (৮১) ইসলামপুর, ফয়জ আলী (৭৯) বেতছড়ি ও আনোয়ার মোল্লা (৮৪) তারা নানিয়ারচর গণহত্যার পরের দিন মৃত্যুর ভয়ে এলাকা ছেড়ে ময়মনসিংহ ভালুকা চলে যান। তারা সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। নৃশংস গণহত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার তারা জ্ঞান হারিয়েছেন। তারা বাঙ্গালী গণহত্যার বিচার চেয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারগুলোর সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য
ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...
-
শেখ মুজিবের জন্ম পরিচয় নিয়ে বিতর্ক ও সত্যতা শেখ মুজিবের জন্ম পরিচয় নিয় বিতর্ক ইদানীং বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গৌরিবালা ...
-
ইসলামে সূফিবাদ নামক কুফুরী ভ্রান্তি সূফীবাদ একটি কুফুরী মতবাদ কম বেশী সকল মুসলমান সুফিবাদ শব্দটি সথে পরিচিত। সুফিবাদ বা সুফি দর্শন ...
-
" বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের সহায়তার নামে পুকুর চুরি" ভারতীয় বাহিনীর সম্পদ চুরি ভারত বাংলাদেশের জঘন্যতম প্রতিবেশী চ...
-
"ওহাবীজমের আদ্যোপান্ত" ভন্ড আহলে হাদিস "আধুনিক ওহাবীজমের নতুন ফেতনা" বিখ্যাত তাবেঈ ইবনে শিরিন (রঃ) বলেছেন, 'নিশ্চয...
-
ঈমান আনায়নের পর প্রথম কাজ মুসলমানদের ভূমি রক্ষা মুসলমানদের ভূমি রক্ষা ঈমান আনার পর একজন ঈমানদারের প্রথম কাজ কি? একথা ব...
-
মওদূদীর বিষয়ে বিগত ৮৫ বছর যাবৎ যে অপবাদ ছড়িয়ে যাচ্ছে উপ মহাদেশের মিথ্যুক কাজ্জাব আলেমরা। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশরা লক্ষ লক্ষ মুক্তিকামী আলেম হ...
-
"জামায়াত সমর্থক বহিষ্কার ও শালী তালাক একই কথা" গত দুই দিন আগে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কৃষক লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তি যোদ্ধা(৭১) কানু ...
-
জয়বাংলা কখনোই বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান ছিলো না,এটা পাকিস্তানি হাইব্রিড স্লোগান। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ লেখা সামরিক ব্যাজ জাতীয় স্লোগান হ...
-
দেশের জন্য সব হারানো বেগম খালেদা জিয়ার সফল সংগ্রামী জীবন atOptions = { 'key' : '4fe169585f5e254774297632cfb99592', ...
-
প্রকৃত বুদ্ধিজীবি হত্যাকারী নিজামী নয় আওয়ামিলীগ, তাদের বিচার চাই শিরোনাম দেখে চোখ কপালে উঠলো? আসুন প্রমান দেই শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজ...





