4547715 ডা.বশির আহাম্মদ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আলকোরআনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের দলিল

 

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কোরআন দ্বারা প্রমানিত নয়, আহলে কুরআন নামক জাহেলদের দাবি কি সত্য?

কতিপয় আহলে কুরআন নামক নব্য জাহেলদের দাবি নামায ২ ওয়াক্ত। শুধু কুরআন দিয়ে নাকি ৫ ওয়াক্ত নামায প্রমাণ করা যাবে না।


بسم الله الرحمن الرحيم

পবিত্র কুরআন দ্বারাও ৫ ওয়াক্ত নামায প্রমাণিত। দুই নামাযের কথা কোথাও বলা হয়নি। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-

فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ (17) وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ (18)

অনুবাদ- সুতরাং তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা কর সন্ধ্যায় [মাগরিব ও ইশার নামায দ্বারা] ও প্রভাতে [ফজর নামায দ্বারা] এবং অপরাহ্নে [আসরের নামাযের দ্বারা] ও যোহরের [যোহরের নামায দ্বারা] সময়। আর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে সকল প্রশংসা তো তাঁরই। {সূরা রূম-১৭-১৮}

 আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করার অর্থ হচ্ছে এই যে, মুশরিকরা নিজেদের শিরক ও আখেরাত অস্বীকারের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি যেসব দোষ-ত্রুটি ও দুর্বলতা আরোপ করে থাকে সেই অনন্য মহামহিম সত্ত্বাকে তা থেকে পাক-পবিত্র ঘোষণা করা এবং একথা প্রকাশ করা। এ ঘোষণা ও প্রকাশের সর্বোত্তম পদ্ধতি হচ্ছে নামায। এরই ভিত্তিতে ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, কাতাদাহ, ইবনে যায়েদ ও অন্যান্য মুফাসসিরগণ বলেন, এখানে “তাসবীহ পাঠ” তথা মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করার অর্থ নামায পড়া। এ তাফসীরের স্বপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ কুরআনের এ আয়াতের মধ্যেই রয়ে গেছে অর্থাৎ এখানে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করার জন্য কয়েকটি বিশেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। একথা সুস্পষ্ট, আল্লাহ‌ সমস্ত দোষ-ত্রুটিমুক্ত-এ আকীদা পোষণ করাই যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে এ জন্য আবার সকাল-সাঁঝে এবং দুপুরে(জোহর) ও রাতের (ঈশা) নামাযের সময় নির্ধারণের প্রশ্নই উঠতো না। কারণ এ আকীদা তো মুসলমানদের সবসময়ই পোষণ করতে হবে। এভাবে যদি শুধুমাত্র মুখেই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলেও এ সময়গুলো নির্ধারণ করার কোন অর্থ হয় না। কারণ মুসলমানকে তো সবসময় এ আকীদা প্রকাশ করতে হবে। এভাবে যদি নিছক কণ্ঠের মাধ্যমে আল্লাহর পবিত্রতা প্রকাশ করার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলেও এসময়গুলো নির্ধারণ করা অর্থহীন হয়ে পড়ে। কারণ মুসলমানকে তো সর্বক্ষণ একথা প্রকাশ করতে হবে। তাই সময় নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে আল্লাহর গুণ ও মহিমা প্রচার করার হুকুম নিঃসন্দেহে তাঁর একটি বিশেষ কার্যকর কাঠামোর প্রতিই ইঙ্গিত করে। আর এ কার্যকর কাঠামোটি নামায ছাড়া আর কিছুই নয়।

 উল্লেখিত ১৮ নং আয়াতে চারটি সময়ের প্রতি ইশারা করা হয়েছেঃ ফজর, মাগরিব, আসর ও যোহর। এছাড়াও নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে কুরআন মজিদে আরো যেসব ইশারা করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছেঃ 

أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ 

 

“নামায কায়েম করো সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত এবং ফজরের সময় কুরআন পাঠ করো।” (বনী ইসরাঈল ৭৮)

 وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ 

“আর নামায কায়েম করো দিনের দুই মাথায় এবং রাতের কিছু অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর।” (হুদ, ১১৪ আয়াত)

 وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ 

“আর তোমার রবের প্রশংসা সহকারে তাঁর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করো সূর্য উদিত হবার আগে এবং তার অস্ত যাবার আগে। আর রাতের কিছু সময়ও আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করো এবং দিনের প্রান্তভাগেও।” (ত্বাহা, ১৩০ আয়াত) 

এর মধ্যে থেকে প্রথম আয়াতটি বলছেঃ নামাযের সময়সীমা হচ্ছে সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে ঈশা পর্যন্ত এবং এরপর হচ্ছে ফজরের সময়। দ্বিতীয় আয়াতে দিনের দুই প্রান্ত অর্থ ফজর ও মাগরিবের সময় এবং কিছু রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পরের সময়টি হচ্ছে ঈশার ওয়াক্ত। তৃতীয় আয়াতে সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে অর্থ ফজরের সময় এবং অস্তমিত হওয়ার পূর্বে অর্থ আসরের সময়। রাতের সময়ের মধ্যে মাগরিব ও ঈশা উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। আর দিনের প্রান্ত হচ্ছে তিনটিঃ এক, সকাল। দুই, সূর্য ঢলে পড়া এবং তিন, মাগরিব। এভাবে সারা দুনিয়ার মুসলমানরা আজ যে পাঁচটি সময়ে নামায পড়ে থাকে কুরআন মাজীদ বিভিন্ন স্থানে সে সময়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছে। কিন্তু একথা স্পষ্ট শুধুমাত্র এ আয়াতগুলো পাঠ করেকোন ব্যক্তিও নামাযের সময় নির্ধারণ করতে পারতো না। মহান আল্লাহর নিযুক্ত কুরআনের শিক্ষক মুহাম্মাদ নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে এ ব্যাপারে তাদেরকে পথনির্দেশনা না দিলে তাদের পক্ষে সঠিক পথের সন্ধান পাওয়া সম্ভবপর ছিল না। 

এখানে একটু থেমে হাদীস অস্বীকারকারীদের ধৃষ্ঠতার কথা ভাবুন। তারা “নামায পড়া” কে বিদ্রূপ করে এবং বলে, মুসলমানরা বর্তমানে যে নামায পড়ছে এটা আদতে সে জিনিসই নয় কুরআনে যার হুকুম দেয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, কুরআন তো নামায কায়েম করার হুকুম দেয় এবং তার অর্থ নামায পড়া নয় বরং “রবুবিয়াতের ব্যবস্থা” কায়েম করা। এখন তাদেরকে একটু জিজ্ঞেস করুন, রবুবিয়াতের এ অভিনব ব্যবস্থাটি কোন্ ধরনের যাকে সূর্য উদিত হবার পূর্বেই কায়েম করা যেতে পারে অথবা আবার সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে কিছু রাত অতিবাহিত হওয়া পর্যন্তও কায়েম করা যায়? আর কোন্ ধরনের রবুবিয়াত ব্যবস্থা বিশেষ করে জুমার দিন কায়েম করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে? 

 

إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ 

আর বিশেষ ধরনের এমন কি রবুবিয়াত ব্যবস্থা আছে যা কায়েম করার জন্য মানুষ যখন অগ্রসর হয় তখন প্রথমে মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধুয়ে ফেলে গাঁট পর্যন্ত আর সেই সাথে মাথাও মসেহ করে নেয়, অন্যথায় তাকে কায়েম করা যেতে পারে না?

 إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ আর রবুবিয়াত ব্যবস্থার মধ্যে এমন কি বিশেষত্ব আছে, যার ফলে যদি মানুষ নাপাকির অবস্থায় থাকে, তাহলে যতক্ষণ গোসল না করে নেয় ততক্ষণ তাকে কায়েম করতে পারে না?

لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا 

আর এটাই বা কেমন ব্যাপার, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে মিলন করে এবং সেখানে পানি না পাওয়া যায় তাহলে এ অদ্ভুত রবুবিয়াত ব্যবস্থাকে কায়েম করার জন্য পাক-পবিত্র মাটিতে হাত ঘসে নিয়ে সেই হাত মুখমণ্ডলের ওপর ঘষতে হবে?

أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ منه

আর এ কেমন ধরনের অদ্ভুত রবুবিয়াত ব্যবস্থা যে, যদি কখনো সফর করতে হয় তাহলে মানুষ তাকে পুরোপুরি কায়েম করার পরিবর্তে অর্ধেকটাই কায়েম করে?

وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ 

আর এটা কোন্ ধরনের কৌতুকপ্রদ ব্যাপার যে, যদি মুসলিম সেনাদল শত্রুর সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত থাকে, তাহলে সেনাদলের অর্ধেক সিপাহী অস্ত্র সজ্জিত হয়ে ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে “রবুবিয়াত ব্যবস্থা” কায়েম করতে থাকবে এবং বাকি অর্ধেক ময়দানে শত্রুর মোকাবিলা করতে থাকবে? তারপর যখন প্রথম দলটি ইমামের পেছনে রবুবিয়াত ব্যবস্থা কায়েম করতে গিয়ে একটি সিজদা করে নেবে তখন উঠে দাঁড়িয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য চলে যাবে এবং দ্বিতীয় দলটি তাদের জায়গায় এসে ইমামের পেছনে “রবুবিয়াত ব্যবস্থা” কায়েম করতে থাকবে? وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِنْ وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ কুরআন মাজীদের এ আয়াতগুলো একথা পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছে যে নামায কায়েম করার অর্থ হচ্ছে এমন ধরনের নামায কায়েম করা যা সারা দুনিয়ার মুসলমানরা পড়ে থাকে। কিন্তু হাদীস অস্বীকারকারীদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তারা নিজেরা পরিবর্তিত না হয়ে ইসলামকে পরিবর্তিত করার জন্য চাপ দিয়ে চলছে। আসলে যতক্ষণকোন ব্যক্তি মহান আল্লাহর মোকাবিলায় একেবারেই শঙ্কাহীন ও নির্লজ্জ না হয়ে যায় ততক্ষণ সে তাঁর বাণীর সাথে এ বিদ্রূপাত্মক আচরণ করতে পারে না, যা এরা করছে। অথবা এমন এক ব্যক্তি কুরআনের সাথে এ তামাশা করতে পারে যে নিজের মনে কুরআনকে আল্লাহর কালাম বলে স্বীকৃতি দেয় না এবং নিছক ধোঁকা দেবার জন্য কুরআন কুরআন বলে চিৎকার করে মুসলমানদেরকে গোমরাহ করতে চায়।

সূরা রূমের উক্ত আয়াতে একই সাথে ৫ ওয়াক্ত নামাযের সময় আল্লাহর পবিত্র ও মহিমা প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর পবিত্রতা ও মহিমা প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম যে নামায একথা সর্বজন স্বীকৃত বিষয়। {তাফসীরে রূহুল মাআনী-৮/২৯, মাআরিফুল কুরআন-৬ খন্ড, ২১ পারা, পৃষ্ঠা- ৪০)

সুতরাং একথা বলা যে, কুরআনে শুধু দুই ওয়াক্ত নামাযের কথা আছে। তাই নামায কেবল দুই ওয়াক্তই ফরজ। তা দ্বীনে ইসলাম অস্বিকারকারী কাফেরের বক্তব্য হতে পারে। কোন মুসলিমের হতে পারে না। যদি কোন মুসলমান এ দাবি করে তাহলে সে সুনিশ্চিতভাবে কাফের হয়ে যাবে।

যদি কুরআনে ৫ ওয়াক্ত নামাযের কথা বলা নাও হতো, তবু নামায ৫ ওয়াক্তই ফরজ বলতে হবে মুসলমানদের। কারণ রাসূল সাঃ থেকে বর্ণিত হাদীসে পরিস্কার ভাষায় নামায ৫ ওয়াক্ত হওয়ার কথা এসেছে। রাসূল সাঃ থেকে বর্ণিত হাদীস অস্বিকারকারী কাফের। কারণ রাসূল সাঃ এর কথাকে মানার নির্দেশ খোদ আল্লাহ তাআলাই দিয়েছেন পবিত্র কুরআনে। তাই রাসূল সাঃ এর কথা মানা মানে কুরআন মানা। তাঁর কথা অস্বিকার করা মানে কুরআন অস্বিকার করা।

হাদীস অস্বিকারকারী কাফের। এতে কোন সন্দেহ নেই। পবিত্র কুরআন পরিস্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে রাসূল সাঃ যা এনেছেন, যা বলেছেন তা মানতে। আর যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকতে। আর রাসূল সাঃ এর কথা আমল সবই হাদীসে বর্ণিত। সুতরাং রাসূল সাঃ কে মানা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত। তাই রাসূল সাঃ কে অস্বিকার করা, তার কথাকে অস্বিকার করা মানে কুরআনের নির্দেশকেই অস্বিকার করা। সুতরাং নাম আহলে কুরআন রাখলেও আসলে তারা কুরআন অস্বিকারকারী। আর কুরআন ও হাদীস অস্বিকারকারী কাফের  এতে কোন সন্দেহ নেই।

রাসূল সাঃ বলেন, সবই মূলত আল্লাহ তাআলার বাণী। তবে যদি হুবহু আল্লাহর শব্দে নবীজী সাঃ বর্ণনা করেন, তাহলে উক্ত শব্দকে বলা হয় কুরআন। আর যদি বক্তব্য ঠিক রেখে নিজের পক্ষ থেকে শব্দ দিয়ে বলেন, তাহলে উক্ত বক্তব্যের নাম হয় হাদীস। কুরআন ও আল্লাহর বাণী। আবার হাদীসও মূলত আল্লাহর বাণী। শুধু পার্থক্য শব্দে। শব্দ আল্লাহর হলে কুরআন। আর বক্তব্য আল্লাহর আর শব্দ নবীর হলে তার নাম হাদীস। একথাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেন-

 

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4

তিনি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলেন না, তবে তিনি তা’ই বলেন, যা তাকে আল্লাহ তাআলার জন্য প্রত্যাদেশ দিয়েছেন। {সূরা নাজম-৩-৪}

এ আয়াত পরিস্কার জানাচ্ছে যে, কুরআনও আল্লাহর বাণী এবং রাসূল সাঃ এর হাদীস ও আল্লাহর বাণী।

রাসূল সাঃ এর আদেশ নিষেধ অমান্য করে বা অস্বিকার করে কেউ মুসলিম থাকতে পারে না। আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন-

 

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ (7

রাসূল সাঃ যা নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়ে ধর, এবং যা থেকে বারণ করেন তা ছেড়ে দাও। আর আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা প্রচন্ড শাস্তিদাতা। {সূরা হাশর-৭}

আরো ইরশাদ হচ্ছে-

قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ (31)

আপনি বলুন! যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাসতে চাও, তাহলে আমাকে [মুহাম্মদ সাঃ] অনুসরণ কর। তাহলেই আল্লাহ তাআলা তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, অতিশয় দয়ালু। {সূরা আলে ইমরান-৩১}

 

এক আয়াত মেনে আরেক আয়াত অস্বিকার করা কাফেরের কাজ। কোন মুসলমান একাজ করতে পারে না। পবিত্র কুরআনের আরেক আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে-

أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ (85)

তোমরা কি কুরআনের কিছু অংশের উপর ঈমান আন এবং কিছু অংশকে অস্বিকার করছো? তোমাদের মাঝে যারা এরূপ করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা, এবং আখেরাতে তাদের নিক্ষিপ্ত করা হবে ভয়াবহ শাস্তিতে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের কর্মকান্ড বিষয়ে অনবহিত নন। {সূরা বাকারা-৮৫}

 

সুতরাং পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে, পবিত্র কুরআনে রাসূল সাঃ এর অনুসরণ, রাসূল সাঃ এর কথা মানার যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তা অস্বিকারকারী কুরআন অস্বিকার করার কারণে কাফের হিসেবে জাহান্নামী হবে।

আহলে কুরআন মুসলমানদের কোন দল নয়। এটি নাস্তিক ও কাফেরদের একটি দল। সরলপ্রাণ মুসলমানগণ এ কুফরী দলকে মুসলিম দল মনে করে বিভ্রান্ত হবেন না। আল্লাহ তাআলা আমাদের নাস্তিক-মুরতাদ, কাফের ও নামধারী মুসলিমদের হাত থেকে উম্মতে মুসলিমাকে হিফাযত করুন। আমীন।

রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

চেতনা ৭১ ও ২৪শে রাজনৈতিক দল





আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক বৃন্দ।ইদানীং চেতনা ৭১ ও ১৯৭২ এর সংবিধান নিয়ে অনেক বাঘা বাঘা রাজনৈতিক দলের নেতারা মায়াকান্না করছেন। কেউ কেউ ৭২ এর সংবিধানকে কবর দেওয়ার কথাকে অপমান করা বলে দু:খ করছে। কেউ বলছে ছাত্ররা নয়, বরং নির্বাচিত সরকার সংবিধান সংশোধন করবে। আবার কেউ চেতনা একাত্তরকে নিয়ে চেতনাবাজী করছে।  কি একটা লেজে গোবরে অবস্থা!

এই চেতনার কথা গোড়া হতে আলোচনা দরকার। বেশি দিন নয় ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিপ্লব হতে শুরু করে ফকির আন্দোলন, বালাকোটের আন্দোলন, মজনু শাহের আন্দোলন, বাঁশের কেল্লা আন্দোলন ও ফরায়েজি আন্দোলন, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ খেদাও সব কিছুই আমাদের স্বাধীনতার  একটি ক্রম ধারা। উপরে লিখিত আন্দোলন গুলো যেমন আমাদের জাতীয় মুক্তি ও চেতনার সাথে জড়িত তেমনি পরবর্তী আন্দোলন গুলোও আমাদের মুক্তির চেতনায় যুক্ত। ১৯৪৭ এর আগের আন্দোলন গুলো ছিলো ব্রিটিশ হতে ভারত মুক্তির আন্দোলন আর ১৯৪৭ হতে ১৯৭১ এর মধ্যবর্তী আন্দোলন গুলো হলো বাংলাদেশের মানুষের পাকিস্তানের শোষন হতে মুক্তির আন্দোলন। আর সর্বশেষ ২০২৪ হলো ভারতের সম্রাজ্যবাদ হতে মাতৃভূমি ও জাতিকে রক্ষার আন্দোলন। এখানে কেউ একটি গন আন্দোলনকেও ফেলে দিতে পারবে না।

১৯৪৭ এর আগের আন্দোলন গুলোর চেতনা অস্বীকার করার অর্থ হবে ব্রিটিশ দের দালালী করা।১৯৪৭-১৯৬৬ এই সময়কার অধিকারের আন্দোলন গুলো নিয়ে চেতনাবাজি করে ১৯৭১ পরবর্তী বাংলাদেশে চালবাজি করার অর্থ হলো পশ্চিম পাকিস্তানের দালালি করা। আবার ১৯৭১ এর চেতনা পাছায় মেখে আগের আন্দোলন গুলোর বিরোধিতা করা বা চেতনাবাজী করার অর্থ হলো বাকশাল, ভারতীয় আগ্রাসনের দালালী করা কেননা ১৯৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ আমাদেরকে পিন্ডির গোলামি হতে মুক্তি দিলেও দিল্লীর গোলামীর শৃংখলে বেঁধে দিয়েছিলো।

রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লব শুধু মাত্র একটি আন্দোলনই নয়, শুধু মাত্র ভারতের বেতন ভুক্ত স্বৈরাচার হাসিনাকে সরানোই নয়, বরং ভারতের সম্রাজ্যবাদিতার শৃংখল হতে জাতিকে মুক্ত করা।  বিগত ৫৪ বছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গুলো বিনা প্রতিবাদে ভারতের গোলামী করে আসছিলো। গৌরিবালার অবৈধ সন্তান শেখ মুজিবই প্রথম ভারতের সাথে যৌথ ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতার লোভে ভারতীয় বাহিনীর নিকট দেশ বন্দক দিয়ে ক্ষমতার লোভে বাকশাল গঠন করেছিলো। তার পর দক্ষিন তালপট্টি নিয়ে ভারতের সাথে বিবাদের জেড়ে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর আর কোনো ভারত বিরোধী ও বাংলাদেশের জনগনের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে ভারতের সাথে চোখ তোলে কথা বলার মত শক্তি এদেশের মসনদে বসে নি।

সর্ব শেষ ২০২৪ বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতের কেনা গোলাম, গৌরিবালার নাতনী খুনি হাসিনাকে সরিয়ে বাংলাদেশকে ভারতের তাবেদারী হতে মুক্ত করে নতুন ভাবে দেশকে  স্বাধীন করেছে৷ ছাত্র জনতা। এই স্বাধীনতার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ছাত্র-জনতার, এই স্বাধীনতা কোনো রাজনৈতিক দলের দলীয় অর্জন নয়। এখন রাজনৈতিক দলগুলো এই ২৪ স্বাধীনতা কে দলীয়করণ করতে না পেরে ৭১ চেতনা দিয়ে ২৪  ম্লান করে আবারো ভারতের দালালিতে নির্লজ্জ ভাবে লেগে পড়েছে। বলছে ছাত্র জনতার দাবীতে নয়, বরং নির্বাচিত সরকার সংবিধান সংশোধন করবে, জাতিকে মুক্তির সাধ দিবে।

রাজনৈতিক দল জাতিকে কি দিয়েছে?
১। গৌরিবালার অবৈধ সন্তান শেখ মুজিব ও হাসিনা মিলে মোট ২৪ বছর শাসন করে আমাদের ভোটাধিকার হরন করেছে আর বাংলাদেশে স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব ভারতের নিকট বিক্রি করেছে।

২। মেজর জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়া মিলে মোট ১৪ বছর শাসন করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমিয়ে এক ব্যক্তির হুকুমের রাজ্যে পরিনত করেছে বাংলাদেশকে।

৩। বাচ্চা চোর হু.মু এরশাদ ৯ বছর ভারতের পদলেহন করেই ক্ষমতায় ছিলো।

রাজনৈতিক দল গুলোর প্রতি প্রশ্নঃ
১। বিগত ৫৪ বছরে আপনারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারেন নি অথচ আপনারা ৭১ নিয়ে চেতনাবাজী করেন, লজ্জা করে না?একটি স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা পর্যন্ত করার ক্ষমতা ছিলো না?

২। বিগত ৫৪ বছরে জাতির জন্য একটি শিক্ষা নীতি চালু করতে পারেন নি, আপনারা এবার ক্ষমতায় গিয়েই সব সংস্কার করে ফেলবেন এটা জাতি বিশ্বাস করবে কেমনে?

৩। বিতগ ৫৪ বছরে ৭১ এর চেতনা দিয়ে জাতির জন্য ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন? নাকি ভারতের পদলেহন করেছেন শুধু মাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য?

৪। বিগত সময়ে একটি শিল্প নীতি প্রনয়ন করতে পারছেন?

৫। ভারতের উজানের নদী হতে শুষ্ক মৌসুমে পানির হিস্যার নিশ্চয়তা ও বন্যায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহ বন্ধে কোনো অবদান রাখতে পেরেছেন?

৬। সবচেয়ে জরুরী হলো শিল্প নীতি, এটা চালু করতে পেরেছেন?

৭। মানুষের চিকিৎসার নিশ্চয়তা দিতে পেরেছেন? 

৮। একটি কৃষি নীতি চালু করতে পেরেছে রাজনৈতিক দলগুলো? 

৯। এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের টাকা চুরি ব্যতিত আর কি করেছেন?

আবার রাজনৈতিক দল নামের চোরের দল বলে তারা ক্ষমতায় গিয়ে সংস্কার করবে নাকি।  কত বড় নির্লজ্জ এই দল গুলো।


ছাত্ররা কি করেছে দেখুন:
১। কোনো রাজনৈতিক দল যেখানে হাসিনার কিছু করতে পারেন নি সেখানে হাসিনাকে ছাত্ররা পালাতে বাধ্য করেছে।

২। যে রাজনৈতিক দল তাদের নেতৃকে ৫বছরে মিথ্যা মামলা হতে মুক্ত করতে পারে নি, সেখানে ছাত্ররা কয়েক ঘন্টায় তা করেছে।

৩। ৫ আগষ্টের পর যখন রাজনৈতিক দল গুলো নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলো তখন ছাত্ররাই দেশকে আবর্জনা মুক্ত করেছে এবং বন্যা মোকাবেলা করেছে।

এখন বলুন জনগন ৫৪ বছরের চোর, ব্যর্থ, বস্তাপঁচা ৭২ এর সংবিধানের পুজারী ও ৭১ এর চেতনা ধারী অসভ্য রাজনৈতিক দল গুলোকে সংস্কারের দায়িত্ব দেবে নাকি দায়িত্বশীল ও পরিক্ষীত জাতির বীর সেনানী ছাত্রজনতাকে জাতির অভিবাবক বানাবে?

আমি বলি, ছাত্রজনতা ও জনগন ৪৭,৫২,৬৬,৭১ কে সমান ভাবে ধারন করেই ২৪ স্বাধীনতাকে প্রধান্য দিয়ে ৭২ এর সংবিধানকে ডাসবিনে ছুঁড়ে বর্তমান চাহিদার আলোকে একটি সংবিধান রচনা করা উচিত।

এই প্রচলিত চোর, বাটপার, সুবিধাবাদী ও চরিত্রহীন ও ৭১ এর চেতনাধারী রাজনৈতিক দল গুলোকে বাদ দিয়ে বর্তমান ছাত্র জনতাই সংস্কারের কাজ নিশ্চিত করুক।

শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

মাও: মওদূদীর ভ্রান্ত আকীদা নিয়ে ৮৫ বছর যাবত ভারতবর্ষের কাজ্জাব আলেমদের মিথ্যাচার




 মওদূদীর বিষয়ে বিগত ৮৫ বছর যাবৎ যে অপবাদ ছড়িয়ে যাচ্ছে উপ মহাদেশের মিথ্যুক কাজ্জাব আলেমরা।



 

১৮৫৭ সালে ব্রিটিশরা লক্ষ লক্ষ মুক্তিকামী আলেম হত্যা করেছিলো হিন্দুদের ইন্ধনে,তার পরও অনেক আলেম বেঁচে ছিলো এবং ব্রিটিশদের সান্নিধ্যও পেয়েছিলো বেঁচে থাকা আলেমরা।প্রকৃত আলেমদের কাউকেই তখন বাঁচিয়ে রাখেনি জালেমরা, যে সকল আলেমরা ১৮৫৭ সালে বেঁচে ছির সবাই ছিলমোনাফেক ও ব্রিটিশদের দালাল। সন্মনিত পাঠক খেয়াল করে দেখবেন ঐ ১৮৫৭ সালের পরই ভারত বর্ষে সকল বাতিল ফেরকা গুলো ব্রিটিশদের সহায়তায় সৃষ্টি হয়। ১৮৭৬ সালে দেও বন্ধি ফেরকা যারা কিনা হিন্দু মুসলিম এক জাতি তত্ত্বের মত কুফুরি মতাদর্শের জনক,১৮৮৬ সালে কাদিয়ানী ফেরকা, ১৮৮৪ সালে নিকৃষ্ট আ: ওহাব নযদির ওহাবী ফেরকার জন্ম হয়। তাছাড়াও ভারত বর্ষের বাকী মতবাদ গুলোকেও বিকৃত করে একদলকে আরেক দলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয় এই ব্রিটিশদের দালাল আলেমদের দিয়ে কেননা আগেই বলেছি ১৮৫৭ বালের পর আর কোনো বেঁচে ছিলো না একমাত্র ব্রিটিশদের দালালরা ব্যতিত।তার প্রমান হলো কুমিল্লার আদালতের আফতাব স্মরনিকা মামলা।বিগত ৮৫ বছর যাবৎ মাওলানা মওদূদীর বিষয়ে আকিদাগত অভিযোগ করে আসছিলো সব মিথ্যা প্রমান করে প্রমান করে দিয়েছে এদেশে মিথ্যুক চাড়া কোনো আলেম নাই। আমি মনে করি যা আছে সব লেবাসধারী, মিথ্যুক, দালাল এবং বিদেশী প্রভু ও ইহুদি-খ্রিস্টানের টাকার গোলামী করে ধর্মের মাঝে বিবেূ জিয়ে রাখাই তাদের কাজ, সকলে মোনাফেক।





৫ই আগষ্টের পর বাংলাদেশে একটা ইসলামী ঐক্যের সম্ভাবনা তৈরী হলেও বিভিন্ন ইসলামী দল গুলো আকিদার দোহাই দিয়ে ঐক্য হতে নিজেদের সরিয়ে রাখছে, যেনো ঐক্যের কথা শোনলেই ওদের গায়ে ফোসকা পড়ে। গতকাল দেখলাম বাংলাদেশের কিছু আলেম বৃহত্তর ইসলামী দল জামায়াতের সাথে আকীদার দোহাই দিয়ে ঐক্য করতে নারাজি পেশ করেছে। আমার কথা হলো জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানগত দিকের কারনে যদি ঐক্য করতে নারাজ হয় তাইলে আলেমদের বিষয়ে আমার বলার কিছু থাকত না। কিন্তু তারা তা না করে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদূদীর আকীদা গত সমস্যার কারন দেখিয়ে ঐক্য করতে অসম্মতি জানায় আর এ কারনেই আমি মওদূদীর আকীদাগত সমস্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি। পড়তে গিয়ে দেখি বিগত ৮৫ বছর যাবত ভারত বর্ষের নামধারী আলেম নামক জালেমরা মওদূদীর বিষয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে। আমি মওদূদীর আকিদা নিয়ে পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করি আফতাব স্মরনিকা মামলা, মামলার সার্টিফাইড কপি নিজ টাকায় কুমিল্লার চীফ জুডিশিয়াল আদালত হতে তুলে তাজ্জব হয়ে যাই। এদেশে তো আসলে আলেম মামের যাদের দেখছি সবই বাটপার আর মোনাফেক।




 

বাবু নগরী সহ যেসকল আলেম মওদূদীর আকীদা নিয়ে বর্তমানে মাতামাতি করে মওদূদীকে কাফের বলছে, আল্লাহর নামে শপথ করে বলতে পারিমএরা সব মিথ্যুক আর মোনাফেক।

 

এবারের বিতর্ক সৃষ্টির বিষয়টি আমি মনে করি অনর্থক, এই বিষয় গুলো নিয়ে ২০০৪ সালে কুমিল্লার আদালতে " আফতাব স্মরনিকা মামলার " রায়ের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে এবং এই বিষয় গুলো নিয়ে যে বিগত ৮৫ বছর ভারত বর্ষের আলেম সম্প্রদায় সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করেছে,  তাও আবার আদালতে প্রমানিত করে দেয়। নিজের টাকায় আদালত হতে আমি এই মামলার রায়ের সার্টিফাইড কপি তুলেমযা পেয়েছি তা আপনাদের সামনে তুলে ধরব।




 

চলুন আফতাব স্মরনিকা নিয়ে আগে জানি,

 এত বড় ধ্রুব সত্য প্রকাশ পাওয়ার পরও আবার একদল আলেম নামের জালেম বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার টাকা পেয়ে নতুন করে একই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কিছুদিন আগে পুরাতন অভিযোগ গুলো মাঠে খাওয়াতে না পেরে নতুন একটি শব্দ চয়ন করেছে মিয়ারে হক্ব। অথচ এই মিয়ারে হক্ব কোন শরীয়তের পরিভাষা নয়। এটিও হিন্দু-মুসলিম একজাতি তত্ত্বের মত আরেকটি নতুন তত্ত্ব যার উদ্দেশ্য শুধু মাত্র উম্মাহর ক্ষতি করা এবং বিভেদ সৃষ্টি করা।




 

এই আলোচনা করতে গিয়ে উস্তাদ মূফতী জসিম উদ্দিন রহমানীর একটা কথা বার বার কানে বাজছে আর তা হলো "যখনই মুসলমানদের মাঝে ঐক্যের কথা হয়েছে তখনই এই চরমোনাই পীরের দাদা হুজুর, বাবা হুজুর ও চরমোনাই গংরা যুগে যুগে ইসলামী ঐক্যকে পেছন থেকে ছুড়ি মেরেছে।

 



এবারেও এই চরমোনাই সহ কওমীদের একই কাজ করতে ভুল করে নি, তবে কৌশলটা আলাদা। এখানে চরমোনাইরা সর্প হয়ে ধ্বংশন করা আর হোজা হয়ে বিষ ঝড়ানোর মত কাজ করে যাচ্ছে। এক দিকে চরমোনাই হুজুর সকল দলকে নিয়ে ইসলামী ঐক্যের জন্য বার বার মিটিং করছে আবার যখন দেখছে এই ঐক্য হলে আখেরে জামায়াতে ইসলামীর লাভের পরিমান বেশী হবে তখনই তাদের চিংড়ির মত লাফানো, সাহাবাদের সাথে বেয়াদবী কারী চিংড়ি মূফতি রেজাউল করিম আবরারকে দিয়ে এমন এমন ইস্যু নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে যেন জামায়াতে ইসলামি এই ঐক্যে ইচ্ছা থাকলেও সম্মত হতে না পারে।



 

এই ঐক্যকে বার বার ছুড়ি মারারও একটা কারন আছে। এই কুফুরী আকিদা লালন কারী চরমোনাইরা চিরকালই ঐক্য বিরোধী, কিন্তু এবার নামে মাত্র ঐক্যের ডাক দিলেও ভিতরের উদ্দেশ্য একেবারে খারাপ। নিজের প্ল্যাটফরমে ঐক্যের নামে সকল ইসলামী দল গুলোকে একত্রিত করার অজুহাতে বিভিন্ন ইস্যু তৈরী করে ঐক্যে বাঁধা সৃষ্টি করাই কাজ। চরমোনাইর কাজই হলো সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন, কেননা বর্তমান সরকারের নিকট এই ফয়জুল-রেজাউল দুই ভাই ধরা আছে। তারা দুই ভাই নারী ও মাদক ব্যবসার অপরাধে সাজা প্রাপ্ত ও প্যারোলে মুক্ত, তাই তারা চাইলেও সরকারের হাতের মুঠোর বাইরে যেতে পারছে না আর এই সুযোগে পার্শ্ববর্তী কোন এক দেশের গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধনে সরকারের সুবিধার জন্য এই অপকর্ম গুলো করে যাচ্ছে এই চরমোনাই গংরা।

 

আর যারা মওদূদীর লেখার ভুল নিয়ে বিগত ৮৫ বছর যাবত বিতর্ক করে যাচ্ছে তাদের উস্তাদদের যদি এরকম সমালোচনা করত তাইলে নিজেরাই নিজেদের আকাবীরদের কাফের ঘোষনা করতে বাধ্য হতো। হিন্দু-মুসলিম একজাতি তত্ত্বের মত কুফুরী আকিদা তাদের উস্তাদদের ই সৃষ্টি। তাদের দেওবন্ধের প্রতিষ্ঠাতা কাশেম নানুতুবী তার বইয়ে হেন কোন অপমান নাই যে হযরত মুহাম্মদ সা: কে করে নি, অবশেষে এমনও দাবী করেছে যে এই মিথ্যুক নানুতুবীর কাছে নাকী হযরত মুহাম্মদ সা: স্বপ্নে উর্দু শিখতে আসত(নাউজু বিল্লাহ)।

 

এবারে বিতর্কের মধ্য মনি বেয়াদব মোহেবুল্লা বাবু নগরী যিনও ও তার দল শেখ হাসিনাকে কওমী জননী উপাধি দিয়েছিলো এনং ঘোষনা দিয়ে ছিলো শেখ হাসিমা ২০০ বছর ক্ষমগায় থাকলেও তাটা খুশি এবং তার আগে  রেজাউল করিম আবরার উরফে চিংড়ি মূফতি নিজেই যেখানে দাবী করেছে আল্লাহ ইচ্ছা করে সাহাবাদের দিয়ে জেনার মত পাপ করিয়েছেন (নাউজুবিল্লাহ),তার পীর বলেছে সাহাবারা মূরদাত হয়ে গেছে, এজিদের ব্যাপারে দাবি করেছে এজিদ নাকি আল্লাহ ওয়ালা সাহাবী ছিলো,তার পীরের দাদা হুজুর আল্লাহর আন্দাজ নাই বলে দাবী করেছে এমন এক পীরের দরবারের মূরীদ চিংড়ি মুফতী রেজাউল করিম আবরার যখন বিশ্ব্য বারন্য আলেম, মদিনা বিশ্ব বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের ভুল ধরার চেষ্টা করে তখন অনুমান করতে অসুবিধা হয় না যে সে নিজেই কত বড় বেয়াদব, মূর্খ আর পথ ভ্রষ্ট। সে এমন একজন মূফতী তাকে বলা হয় সে নাকি গরিবের আবু হানিফা, আমার প্রশ্ন হলো ইমাম আবু হানিফা (হাফি:) কি এমন কোন পীরের মূরীদ ছিলো যে আল্লাহর আন্দাজ নাই দাবী করত, মনসুর হাল্লাজের কিচ্ছা করত, ১২৬ তরিকার আবিষ্কারক, ইল্লাল্লাহ জিকির করত আর মানুষের টাকা মেরে খেত, মাদক ও নারী ব্যবসায় দোষী সব্যস্ত? নিশ্চয়ই না। অতএব এধরনের একজন পীরের মূরীদ যখন দাবী করে গরিবের আবু হানিফাকে তখন বলতেই হয় পীর, মূরীদ আর এই গরিবের আবু হানিফা সবাই পথ ভ্রষ্ট শয়তান।

 

এই গরিবের আবু হানিফা খ্যাত চিংড়ি মূফতি রেজাউল করিমদেরকেই যুগে যুগে বাতিল শক্তিরা ভাড়া করে ইসলামের ক্ষতি সাধন করে। দেওবন্ধী ও দুশ্চরিত্র কওমী সম্প্রদায়ের পীর বুজুর্গদের হাজারো বই আমি দেখাতে পারব যেখানে তারা নিজেদেরকে আল্লাহর চেয়েও শক্তিশালী দাবী করেছে( চরমোনাইনপীরের রূহ ছিনাইয়া আনার ঘটনা) এবং নবী -রাসূলদের এমন অপমান করেছে যা বিধর্মীরাও করার সাহস দেখায় নি(কাশেম নানুতুবীর নামাজে নবী করিম সা: এর স্মরন উট,ভেড়া ও ছাগলের স্মরনের সাথে তুলনা করা)।

 

অতএব এই চরমোনাই পীর ও কওমী গংরা নতুন করে যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে তা বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধনে, পতিত স্বৈরাচারদের পরামর্শে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ইচ্ছা করেই এসকল ফালতু বিতর্ক তৈরী করছে এই ইসলামের শত্রু বন্ড ও কুফুরী আকিদার ধারক-বাহক চরমোনাই পীরের দল।

 

 বহুল আলোচিত আফতাব স্মরণিকা মামলার তদন্ত রিপোর্ট ও মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় এর কপি পাওয়ার পর মাওলানা মওদুদী বিরোধী আলেমদের প্রতি আমার জীবনের সব ঘৃনা তাদের উপর পড়ছে, কেননা আলেম হয়তারা কেমনে এত বড় মিথ্যা কথা দেূারসে বলে যাচ্ছে!!! প্রবাদ আছে বেহায়ার এ বাড়ী যেমন, অন্য বাড়ীও তেমন।

উল্লেখ্য মাওলানা মওদুদীর বিশাল রচনা ভান্ডার থেকে বেশ কয়েকটি বই কিতাবের উদৃতি তে মাওলানা মওদুদী কে ইসমতে আম্বিয়া ও সাহাবা বিদ্বেষী সহ ভ্রান্ত আক্বীদার প্রচারক বলে আমরা মাওলানা মওদুদীর সমালোচনা যুগ যুগ ধরেই শোনে আসছিলাম এই আলেম নামক পাগলা কুকুরদের কাছে। বেশ ক বছর ধরে ক্বওমী মাদ্রাসার সিলেবাসে ও এ রকম একটি বইও পাঠ্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ।

 

দেশের প্রাচীনতম বৃহত্ত ক্বওমী বিদ্যাপীঠ কুমিল্লার বরুড়া মাদ্রাসা থেকে আফতাব স্মরণিকা নামে একটি বই প্রকাশিত হলে তাতে মাওলানা আবুল আলা মওদুদীর কথিত ভ্রান্ত আকীদার খতিয়ান দিয়ে একাধিক প্রবন্ধ ছাপা হলে তা চ্যালেঞ্জ করে কুমিল্লা জুডিশিয়াল আদালতে মামলা করা হয় ২০০৪ সালে আর একেই বলে আফতাব স্মরনিকা মামলা। 

 

মামলা আমলে নিয়ে আদালত বিষয়টি তদন্তে দেশের শীর্ষ ৭ জন ওলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ দিন পর প্রায় ৮০০পৃষ্টার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ আদালত আফতাব স্মরণিকা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ মিথ্যা বানায়োট কাল্পনিক অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানো বলে রায় দিলে আফতাব স্মরণিকা কর্তৃপক্ষ তথা বরুড়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অনুতপ্ত হয়ে আদালতে ভুল স্বীকার করে জীবনে আর কখনও এমন করবে না মর্মে আদালতে মুচলেকা দেন।

 

সম্প্রতি এই মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে লেখক গবেষকদের একটি দল এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হয়ে মাওলানা মওদুদীর বিরুদ্ধে কুৎসা অপবাদ,ও অপপ্রচার বন্ধে রুল জারি করার আবেদনও করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে ।

 

জামায়াতে ইসলামী দলীয় ভাবে এ নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া বা মাতা মাতি না করলেও ক্বওমী ওলামায়ে কেরামের মধ্যে এ নিয়ে একটা ধাক্কা দিয়েছে। কারণ আরো অনেকে মাওলানা মওদুদীর বিরোধিতা করলেও কেউ লিখিত বা পাঠ্য তালিকাভুক্ত করেনি মাওলানা মওদুদী বিরোধিতা কে এর আগে।

 

 

২০০৩ সালে আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম বরুড়া নামক মাদ্রাসা কর্তৃক "আফতাব স্মরণিকা" নামে একটি পুস্তক প্রকাশিত হয় এবং এতে ‘মওদূদী সাহেবের মতবাদ ও ইসমাতুল আম্বিয়া’ শিরোনামে প্রকাশিত দু’টি প্রবন্ধে মাওলানা মওদূদী সাহেবের নামে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। যার প্রেক্ষিতে বরুড়ার একজন সত্যাশ্রয়ী আলেমে দ্বীন মাওঃ আবদুর রহমান এই মিথ্যাচারের কঠোর প্রতিবাদ করেন এবং এই অপবাদ ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কারণে ৮ জনকে আসামী করে কুমিল্লা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২১৯/০৪। আদালতে বাদী মাওলানা আবদুর রহমান "আফতাব স্মরণিকা"য় মাওলানা মওদূদীর নামে প্রকাশিত তথ্য সমুহ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যায়িত করে আসামীদের শাস্তি প্রদানের আবেদন করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তপূর্বক বিশেষজ্ঞ মতামতসহ রিপোর্ট প্রদানের জন্য অভিযোগ নামাটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিকট প্রেরণ করেন। ফাউন্ডেশন বাইতুল মুকাররমের ভারপ্রাপ্ত খতিব মুফতি মুহাম্মদ নূরুদ্দীন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ইসলামী বিশ্বকোষের প্রকাশনা কর্মকর্তা মাওলানা মুহাম্মদ মুসা, মুহাদ্দিস মুফতি ওয়ালিয়ুর রহমান খান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস এর সদস্য মাওলানা মুফাজ্জল হোসাইন খান, মুফাসসির মাওলানা আবু সালেহ পাটোয়ারী ও জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মহিবুল্লাহ বাকী নদভীর সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করেন এবং স্মরণিকায় উল্লেখিত অভিযোগ ও মন্তব্যগুলো মাওলানা মওদূদীর পুস্তক সমূহের সাথে মিলিয়ে তার সত্যতার বিষয়ে রিপোর্ট প্রদানের অনুরোধ করেন। 

বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টি প্রনয়ন করতে অনেক সময় লেগে যায়। অবশেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক জনাব সিরাজুল ইসলাম ৯/৬/২০০৮ তারিখে ৭৯৯ নং স্মারকে কুমিল্লার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জেলা প্রশাসক, কুমিল্লার নিকট সংশ্লিষ্ট সাতজন বিশেষজ্ঞের স্বাক্ষর সম্বলিত তথ্য যাচাই প্রতিবেদন পেশ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্মরণিকায় মাওলানা মওদূদীর নামে উল্লেখিত প্রত্যেকটি অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাঁরা আরো উল্লেখ করেন যে, নবী-রাসূল,খোলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরামের বিরুদ্ধে মাওলানা মওদূদীর কোনো মন্তব্য বা মতামত তাঁর কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায়নি। এই রিপোর্টের পর আসামীগণ বিপাকে পড়ে যান এবং আপোস মিমাংসার জন্য বাদী মাওলানা আবদুর রহমান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে ধর্না দেন। তারা আপোষ মিমাংসার জন্য আদালতে আবেদন করেন এবং দেষী সাব্যস্ত আসামী মাওলানা বশিরুল্লাহ কাজ্জাব, মো. ইয়াকুব কাজ্জাব, আনোয়ার হোসাইন কাজ্জাব, মো. মোয়াজ্জেম হোসাইন কাজ্জাব, মো. নোমান কাজ্জাব, সালমান কাজ্জাব, আলী আশরাফ কাজ্জাব প্রমুখ। আরজীর ২ নং অনুচ্ছেদে ‘আফতাব স্মরণিকার বিতর্কিত উক্তিসমূহ “ভুলবশতঃ লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং এর জন্য আসামীগণ মর্মাহত এবং অনুতপ্ত” এই মর্মে স্বীকারোক্তি দেন। আদালত বাদীর সায় অনুযায়ী আপোষ নামা গ্রহণ করেন। এই মামলা, ইসলামী ফাউন্ডেশন গঠিত ওলামাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি কর্তৃক মাওলানা মওদূদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলো মিথ্যা আখ্যায়িত করে দেয়া রিপোর্ট ও অভিযোগ কারীদের ভুল স্বীকার করে মর্মাহত ও অনুতপ্ত হয়ে আদালতে স্বীকাররোক্তি প্রদানের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।  

 

উল্লেখ্য যে, স্মরণিকার ৭০ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়, “মিষ্টার মওদূদী সাহেব বলেন, নবীগণ মাসুম নন, প্রত্যেক নবীই গুনাহ করেছেন (তাফহীমাত, ২য় খন্ড পৃষ্ঠা ৪৩)।


স্মরণিকার ৩৫ পৃষ্ঠায় মাওলানা মওদূদী প্রণীত তাজদীদ ও এহইয়ায়ে দ্বীন পুস্তকের ২২ নং পৃষ্ঠার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তিনি লিখেছেন “হযরত আবুবকর (রা.) খেলাফতের দায়িত্বের অযোগ্য ছিলেন।” 


এই পৃষ্ঠায় তরজমান রবিউস সানির সংখ্যার ৩৫৭ পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয় যে, তিনি বলেছেন, “নবী করিম (সা.) এর  ওফাতের সময় ব্যক্তি সম্মানের কুমনোবৃত্তি হযরত ওমর (রা.)কে পরাভূত করেছিল।”


 আফতাব স্মরণিকার ৩৫ পৃষ্ঠায় আরো বলা হয়েছিল যে, মওদূদী সাহেব তার খেলাফত ও মুলুকিয়াত গ্রন্থের ১২২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “হযরত ওসমানের মধ্যে স্বজনপ্রীতির বদভ্যাস বিদ্যমান ছিল।” 


স্মরণিকার ৩৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, তাফহিমাত গ্রন্থের ৩১৮ পৃষ্ঠায় মাওলানা মওদূদী মুহাদ্দিসানে কিরাম হাদিস ভুল বলে মন্তব্য করেছেন। 


এর ৭১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে মাওলানা মওদূদী “হযরত আদম (আ.) মানবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন” বলে মন্তব্য করেছেন। 


আবার স্মরণিকার ৭০ ও ৭১ পৃষ্ঠায় ‘কোন কোন নবী ও রাসুল দ্বীনের চাহিদার উপর স্থির থাকতে পারেননি’, এবং ‘হযরত নূহ (আ.) এর মধ্যে জাহেলিয়াতের জজবা স্থান পেয়েছিল।’ আবার ‘হযরত দাউদ (আ.) এক বিবাহিতা যুবতীর উপর তালাকের দরখাস্ত করেছিলেন’ প্রভৃতি মন্তব্যও মাওলানা মওদূদীর নামে ছাপা হয়।

 

দুর্ভাগ্যবশত: ভারত বর্ষের কাজ্জাব ধর্মীয় নেতা তথা আলেম উলামাদের একটি বিশাল অংশ মাওলানা মওদূদীর সাহিত্যের বরাত দিয়ে তার ও জামায়াতের বিরুদ্ধে নানা অপবাদ দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এই অপবাদগুলোর জবাবও বিভিন্ন সময়ে জামায়াত নেতৃবৃন্দের তরফ থেকে দেয়া হয়েছে। অনেকগুলো অভিযোগ ও জবাব পুস্তিকা আকারেও পাওয়া যায়। কিন্তু একই অভিযোগের চর্বিত চর্বণ বার বারই পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে সামাজিক  মাধ্যমে এর বিস্তৃতি দেখা যায় এবং রাজনৈতিক মাঠেও এগুলোর চর্চা হচ্ছে।


এ ব্যাপারে কয়েকজন পীর ও ওলামা মাশায়েখ এবং তাদের কিছু অনুসারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন,বিশেষ করে চরমোনাই পীর, মাজার পূজারী, কওমী, মোহেবুল্লা বাবু নগরী সহ অনেক ইসলামি দল। জামায়াত এ ব্যাপারে নিশ্চুপ।  


তবে এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া উপমহাদেশের উল্লখিত চাঞ্চল্যকর মামলা ও মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে মাওঃ মওদুদী এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার বন্ধ হওয়া সময়ের অপরিহার্য দাবী। উল্লেখ্য যে, "জামেয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম বরুড়া" মাদ্রসাটি চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মত বরুড়াতে একটি বিশাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রাচীনতম এই মাদ্রাসাটি সুবিশাল এলাকা নিয়ে অনেকগুলো বহুতল ভবনে সুসজ্জিত। এর শিক্ষকরাও বহুগুণে গুণান্বিত আলেমে দ্বীন।

  

অভিযোগঃ

১. আফতাব স্মরণিকার ৭০ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, "নিস্টার মওদুদী সাহেব বলেন, নবীগণ মা'সুম নন, প্রত্যেক নবীই গুনাহ করেছেন"। (তাফহীমাত, ২য় খ০, ৪৩ পৃ.)।

 

মন্তব্য: উপরোক্ত বক্তব্যের রেফারেন্স দেয়া হয়েছে মাওলানা মওদূদী রচিত গ্রন্থ তাফহীমাত, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৩-এর। উক্ত খণ্ডের জানুয়ারি ১৯৭৮ খৃঃ ৭ম (লাহোর) সংস্করণের ৪৩ পৃষ্ঠায় এই মন্তব্য পাওয়া যায়নি। (আদালতের সদয় অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠার ফটোকপি সংযুক্ত করা হল।)



 

২. আফতাব স্মরণিকার ৩৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, মওদূদী সাহেব তাজদীদ ও এহইয়ারে দ্বীনের ২২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন," হযরত আবু বকর (রাঃ) খিলাফতের দায়িত্বের অযোগ্য ছিলেন।"

 

মন্তব্য। উক্ত বইয়ের এপ্রিল ১৯৭৮ খৃঃ দিল্লী হতে প্রকাশিত সংস্করণের ২২ পৃষ্ঠায় এ ধরনের কোনো কথা পাওয়া যায়নি। (আদালতের সদয় অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠার ফটোকপি সংযুক্ত করা হল।)

 

৩. আফতাব স্মরণিকার ৩৫ পৃষ্ঠায় "তরজমান" রবিউস সানী, ৩৫৭ পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, "নবী করীম (সাঃ)-এর ওফাতের সময় ব্যক্তি সম্মানের কু-মনোবৃত্তি হযরত ওমরকে পরাভূত করেছিল।"

 

মন্তব্য: আফতাব স্মরণিকার উদ্ধৃতিতে তরজমান রবিউস সানী পত্রিকার কোন সন উল্লেখ না থাকায় এ সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

৪. আফতাব স্মরণিকার ৩৫ পৃষ্ঠায় 'খেলাফত ও মুলুকিয়াত' গ্রন্থের ১২২ পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, মওদূদী লিখেছেন," হযরত উসমান (রা)-এর মধ্যে স্বজনপ্রীতির বদঅভ্যাস বিদ্যমান ছিল।"

 

মন্তব্য: 'খেলাফত ও মুলুকিয়াত' গ্রন্থের জুলাই ১৯৭০ খৃঃ লাহোর (৫ম) সংস্করণের ১২২ পৃষ্ঠায় এই উক্তিটি পাওয়া যায়নি। (আদালতের সদয় অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠার ফটোকপি সংযুক্ত করা হল।)

 

 

৫। আফতাব স্মরণিকা পৃষ্ঠা নং ৭১-

 

"হযরত আদম (আঃ) মানবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।" উক্ত অভিযোগটিও যথাস্থানে নেই। তবে প্রাসঙ্গিক আয়াতগুলো তালাশ করে যেটুকু (সংযুক্তি ৭, ৮ ও ৯ দ্রষ্টব্য) পাওয়া যায় তা-ও পূর্বাপর নিপৈক্ষভাবে অধ্যয়ন করলে এবং এতদসংক্রান্ত অপরাপর তাফসীর গ্রন্থগুলো তার সঙ্গে তুলনা করলে মাও. মওদুদীর সমালোচনা করা যায় না।

 

৬। আফতাব স্মরণিকা পৃষ্ঠা ৭০ ও ৭১-

 

"কোন কোন নবী ও রাসূল দীনের চাহিদার উপর স্থির থাকতে পারেননি।"

 

"হযরত নূহ (আঃ)... জাহিলিয়্যাতের জযবা স্থান পেয়েছে।"

 

উক্ত উদ্ধৃতিদ্বয়ও বিকৃতরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে (সংযুক্তি ১০ ও ১১ দ্রষ্টব্য) সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর বাহ্যিক তরজমা ও বাস্তব ঘটনাবলীর প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করলে মাও. মওদুদীর দোষ বের করা ইনসাফ পরিপন্থী হবে।

 

৭। আফতাব স্মরণিকা পৃষ্ঠা ৭১-

 

"হযরত দাউদ (আঃ) এক বিবাহিতা যুবতীর উপর... তালাকের দরখাস্ত করেছিলেন।"

 

আধুনিক ও প্রাচীন অপরাপর একাধিক তাফসীর গ্রন্থে হযরত দাউদের সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি সামনে রাখলে এবং এতদসংক্রান্ত মাও, মওদুদীর (৪) চার পৃষ্ঠাব্যাপী দীর্ঘ উপস্থাপন (সংযুক্তি ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ দ্রষ্টব্য) সামনে রাখলে যে কোন নিরপেক্ষ বিজ্ঞজন মাও. মওদুদীকে নন্দীত না করে পারবে না।সমালোচনার তো প্রশ্নই উঠে না।

 

 

হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ক্ষণিকের জন্য শিরকের গুনাহে নিমজ্জিত ছিলেন। (তাফহিমুল কুরআন ১ম খন্ড ৫৫৮ পৃঃ)

 


 

৮।আরবের মত উপযুক্ত ক্ষেত্র পেয়ে ছিলেন বলেই তো হুজুর (সাঃ) সফলকাম হয়েছিলেন, অন্যথায় কি তিনি এ সফলতা লাভ করতে পারতেন? (আখলাকী বুনিয়াদ ১০ পৃঃ)

 

মওদুদী সাহেব আরও বলেন: ইসমাত নবীগণের জাতি গত

 

অপরিহার্য গুণ নয়, বরং নবুওয়্যাতের দায়িত্ব যাতে তারা সঠিক ভাবে আদায় করতে পারে, এজন্য আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ভুল ত্রুটি থেকে হিফাজত করেছেন। তবে আল্লাহতায়ালা ইচ্ছা কৃত ভাবে, কখনো কখনো নবীদের থেকে ইসমাতের পর্দা উঠিয়ে নিয়েছেন। যাতে মানুষ তাদেরকে খোদা বলে মনে না করেন, এবং যাতে লোকেরা একথা জানতে পারে যে, তারা মহা মানব খোদ নন। (তাফহিমাত ২য় খন্ড ৪র্থ সংস্করণ)

 

৯।মহানবী (সঃ) সম্পর্কে মন্তব্য

 

ইসলাম বলে: মহানবী (সঃ) মানবীক দুর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন। (তরজমানুস-সুন্নাহ ৩য় খন্ড ৩০৫ পৃঃ)

 

১০।মিষ্টার মওদুদী বলেন: মহানবী (সঃ) মানবীক দুর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না, (তরজমানুল কুরআন ৫শ সংখ্যা ২০০ পৃঃ) ৫৫নং ইসলাম বলে: মহানবী (সঃ) মনগড়া কোন কথা বলেননি। (আল কুরআন)

 

মিষ্টার মওদুদী বলেন: মহানবী (সঃ) নিজ মনগড়া কথা বলেছেন এবং তিনি নিজের কথায় নিজেই সন্দেহ করেছেন। (তরজমানুল

 

 

অনুসন্ধানের বিস্তারিত প্রতিবেদন

 

১। বাদীর চ্যালেঞ্জকৃত ১০টি বক্তব্যের মধ্য থেকে ১নং অর্থাৎ "হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ক্ষণিকের জন্যে .." বাস্তবে সম্পূর্ণ বিপরীত পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ মরহুম মাও, মওদুদী বরং অন্যান্যদের মতবাদ খগুণ করে (খ্রিস্ট ধর্ম গ্রন্থ বা তালমুদের বরাতে যা বর্ণিত হয়েছে) প্রমাণ করতে সচেষ্ট হয়েছেন যে, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ক্ষণিকের জন্যও শিরক করেননি। (মূল উরদু প্রমাণ: সংযুক্তি -১৯ ও ২০ দ্রষ্টব্য)




 

২। ২নং অভিযোগ-"মহানবী (সাঃ) নিজ মনগড়া........"- অনেক চেষ্টার পরও সংশ্লিষ্ট তরজমামুল-কুরআন-৩৫৩ হিজরী বা ১৩৫৩ হিজরী কোথাও পাওয়া যায়নি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রজীবন থেকে আজ পর্যন্ত মাও. মওদুদীর ইসলামী সাহিত্য মোটামুটি যতটুকু ঘাটাঘাটি করেছি তাতে উপরোক্ত অশোভনীয় কোন উক্তি কোথাও নজরে পড়েনি।

 

৩। ৩নং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মাও, মওদুদীর ব্যাখ্যা সম্বলিত (সংযুক্তি- ১ দ্রষ্টব্য) মাও. মওদুদীর অত্র ব্যাখ্যা কুরআন-সুন্নার মাপকাঠি বিরুদ্ধ নয়। তিনি বরং নবীগণের নিস্পাপ হওয়া বিষয়ে আহেল- সুন্নাত জামাতের মাপকাঠি অনুযায়ী একজন সাধারণ পাঠকের মনে যে প্রশ্ন জাগতে পারে তার কুরআন ভিত্তিক জবাবদানের চেষ্টা করেছেন।

 

৪। ৪নং অভিযোগ যথাস্থানে বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশ্য আমি কিছুটা পূর্বাপর তালাশ করেও তেমনকিছু পাইনি। (সংযুক্তি-২১ দ্রষ্টব্য)

 

৫। ৫নং অভিযোগ সন ও তারিখ বিহীন হওয়াতে তা খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি।

 

৬। ৬নং অভিযোগ বাস্তবে যথাস্থানে নেই: এমনকি তার আগে-পরেও তেমনকিছু পাওয়া যায়নি। (সংযুক্তি- ১৭ দ্রষ্টব্য)



 

৭। ৭নং অভিযোগও যথস্থানে পাওয়া যায়নি। (সংযুক্তি- ১৬ দ্রষ্টব্য)

 

৮। ৮নং অভিযোগে যা বলা হয়েছে তার নূন্যতম প্রমাণও সংশ্লিষ্ট স্থানে পাওয়া যায়নি বরং ত ইজমালীভাবে খলীফা চতুষ্টয়ের ভূয়শী প্রশংসা করা হয়েছে। (সংযুক্তি- ১৮ দ্রষ্টব্য)

 

. ৯। ৯নং অভিযোগ বিবাদীগণ নিজেরাই পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট আফতাব স্মরণিকা- ৭১নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

 

১০। ১০নং অভিযোগের বিষয়ে মাও. মওদুদীর তাফহীমাত- ২য় খণ্ডের বরাত দেওয়া হয়েছে। গ্রন্থখানা যদিও আমরা অনেক চেষ্টা করে পাইনি তারপরও অভিযোগকৃত বক্তব্য বাস্তবতা ও যুক্তির আলোকে এমনকি শরীয়া আইন বিষয়ে যাদের সার্বিক জ্ঞান রয়েছে তাদের জানা মতে সম্পূর্ণ যথার্থ। তার কারণ, ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা শরীয়া আইন প্রয়োগের পূর্বশর্ত। আর যেখানে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা পূর্ব থেকে রয়েছে সেখানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ থাকে না। অন্যকথায় যেখানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশার সুযোগ রয়েছে তথা ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা অনুপস্থিত, সেখানে ব্যভিচারের শরীয়া আইন প্রয়োগ করতে যাওয়া শরীয়ত মতেই যুলুম হওয়ার কথা।

 

د در میان قصر در یا تخته بندم کردائی تو بعد میگوئی که دامن تر مکن ہوشیار باش : د وضع الشيء في غير محله ظلم.





 এই মামলার রাশ প্রমান করে এদেশে আলেম নামে যারা আছে তারা সবাই মিথ্যুক,জালেম, দালাল, িিসলামী ঐক্যের বিরোধী  আর আমরা সাধারন ৃুসলমান যারা আছি তারা এসকল আলেম নামক কাজ্জাবদের দ্বারা প্রতারিত৷ এসকল আলেম হতপ সবাই সাবধান হওয়া জরুরী। এরা যখনই িিসলামি ঐক্য দেখবে তখনই তারা পুছন হতে ছুড়ি মেরে ইসলামের বারোটা বাজাবে। এসকল আলেম ব্রুটিশদের দালাল। এদের প্রতি হেূায়েতের দেয়া ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নাই।


বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...