4547715 ডা.বশির আহাম্মদ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

নারীরা কেন পর্দা করবেন

 


নারীর পর্দা নিয়ে অনেক কোরআন হাদীসের আলোচনা শোনেছেন এখন কোরআন হাদীসের বাইরে কিছু কথা বলব ও প্রশ্ন করব। দয়া করে একটু পড়ে দেখুনঃ


১।আপনারা সুরক্ষিত ও মহা মূল্যবান এবং আল্লাহর দেয়া যে এক মহা রহমত তা আপনারা কেন বুঝতে পারছেন না?


২। সন্মানিত মা ও বোনেরা আপনারা কি একবারও ভেবেছেন যে আপনারা এ দুনিয়ার সকল পুরুষের মা?


৩। আপনাদের গর্বেই দুনিয়ার সকল মনিষী ও নবী রাসূলের জন্ম তা কি ভুলে গেছেন?


৪। আপনারা বেপর্দা থেকে শরীরের যে অংশ গুলো দেখিয়ে বেড়ান আপনারা কি জানেন না যে সে অংশ গুলোই পৃথিবীর সকল মানব সত্ত্বা সৃষ্টি ও পালনে নিয়োজিত?


৫। মা গো, আপনারা দুনিয়ার সকল সন্তানের নিকটই মা হিসেবে পবিত্র, তাই আপনার পবিত্র শরীরটা কেন ও কি কারনে পর পুরুষকে দেখিয়ে অপবিত্র করেন, কোন সন্তানই তার মাকে অপবিত্র দেখতে চায় না এটা বুঝতে পারছেন না কি কারনে?


৬। সকল মায়েরাই চায় তার গর্বে একজন দ্বীনদার ও নেককার সন্তান জন্ম হউক, কিন্তু যে গর্ব চোখের জিনায় অপবিত্র হয় তাতে কি পবিত্র সন্তান জন্ম নেয়া সম্ভব?


৭। বদনজর সম্পর্কে আপনারা সবাই জানেন, তাইলে চোখের নজরে যে জেনা হয় তাও জানেন, এখন ভাবুন তো মায়ের যে পবিত্র স্তন পান করে সন্তান বেড়ে উঠবে সে পবিত্র স্তনই যদি চক্ষু জেনার কারনে অপবিত্র হয় সে স্তনের দুধ পান করলে কি সন্তান পবিত্র থাকে? 


৮। এই যে আপনার কারনে পাক পবিত্র স্থান গুলো অপবিত্র হচ্ছে আর সেই অপবিত্র অঙ্গগুলো হতে চোর, বাটপার ও জেনাখোরের জন্ম হচ্ছে তার জন্য কি আপনি দায়ী নয়?


৯। আপনার কারনে জন্ম নেয়া একটি অপবিত্র সন্তান যখন আরেকজন নারী ধর্ষন করে তখন কি আপনার অপরাধ বোধ হয় না?


১০। মা গো আপনার যে স্থান হতে নবী-রাসূল জন্ম হয়েছিল ও মহামনিষীদের জন্ম হয় কিংবা মনিষীর জন্ম হবে সে স্থান গুলোকে কেন শুধু শুধু খেলার চ্ছলে অপবিত্র করছেন?


১১। আপনার পবিত্র ও সন্মানিত শরীরটাকে কেন অপবিত্র করছেন? 


১২। মনে রাখবেন বদনজর লাগা লাউ, কুমড়া, ফল ইত্যাদি যেমন কোন কাজে লাগে না এমনকি ঐ ফলের বীজ দিয়ে কোন চারাও হয় না,  তেমনি চক্ষুর জেনা হওয়া মা ও বোনদের গর্বে কোন সুস্থ এবং নেককার সন্তানও সম্ভব না। 


সন্মানি মা ও বোনেরা, আপনি আপনার সন্মানটা উপলব্দি করুন, পর্দা করুন, নিজেকে পবিত্র রাখুন এবং আমাদের একটি পবিত্র জাতি উপহার দিন।


রাস্ত-ঘাটে, হাট-বাজারে, বাস-ট্রেনে সকল স্থানে পর্দা করুন।

ডা.বশির আহাম্মদ

রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫

মুসলমানদের মাঝে বিভেদ তৈরীর নীল নকশায় মুসলমানরাই জড়িত



মুসলমানদের মাঝে বিভেদ তৈরীর নীল নকশায় বুঝে হোক আর না বুঝে হোক মুসলমানরাই দায়ী। আসুন দীপা মনি নামের একজনের লেখা হতে দেখি। এটি ইহুদি রাব্বিদের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও সফলতা…।

আরবের ইহুদিরা আরবদের থেকেও ভালো আরবি বলতে পারে। প্রতিটি ইহুদির সন্তানকে ছোটকাল থেকেই নানানমূখী প্রশিক্ষনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়।

হিউম্যান রিসোর্স এর উপর বিশ্বের বুকে একমাত্র ইহুদি অর্গানাইজেশান গুলোর আন্তর্জাতীক মানের রিচার্স সেন্টার রয়েছে। যেখানে ধর্ম, মানুষ ও সাইকোলজিক এর উপরে বিশাল গবেষনা ভান্ডার রয়েছে। ইহুদি নিয়ন্ত্রনে ব্রিটেন ফান্স, আমেরিকায় মুসলমান জাতীকে বিভ্রান্ত করার বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা কার্য্ক্রম রয়েছে। প্রতিটি মুসলিম দেশে তাদের বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।

আপনি হঠাৎ করে তাদের অপারেশন কর্মকান্ড বুঝতে পারবেন না। যেমন বাংলাদেশে কোন পীর খুব জনপ্রিয়, সেখানে তারা প্রথমে মুসলিম পরিচয়ে মুরিদ হিসাবে জয়েন করবে। এরপরে পীর সাহেবকে বলবে হুজুর আপনী অনেক বড় পীর, চারদিকে আপনার অনেক সুনাম। প্রথমে পীরের মনের ভিতর অহংকার ঢুকাবে। তারপর খুব দরদী হয়ে পীর সাহেবকে বলবে, হুজুর আপনার খানকা বড় দালান কোটার আলোকে গড়ে না তুললে ভবিষৎ বড় করে ওরশ করা সম্ভব হবেনা। আপনার জন্য ১০ কোটি টাকা জোগার করেছি, আপনি এগুলি নিয়ে বিশাল শান শওকতের সাথে হুজরাখানা গড়ে তুলুন। পীর সাহেবও খুশি, তার মুরীদ তার জন্য দিওয়ানা। ধীরে ধীরে পীর সাহেবকে আরাম-আয়েশের ভিতরে ঢুকিয়ে তার দ্বীলের ভিতরে অবস্থান নিয়ে আস্তে আস্তে তাকে শয়তানের কাতারে নিয়ে আসে, যা সাধারন মুরিদরা কখনোই বুজতে পারেনা।

এরপরে আহলে হাদিসের কাছে যায়, আপনারাই সঠিক পথে আছেন। কেন আপনারা আপনাদের আদর্শ প্রচার করছেন না..?। আমাদের হ্নদয় মন ভেঙ্গে যাচ্ছে, এই নিন ২ কোটি টাকা। এই টাকা নিয়ে এই বইগুলো ছাপিয়ে কম মূল্যে বিলি করুন। আহলে হাদিসও খুশি, এরা নিবেদীত কর্মী, তারা পকেটের টাকা খরচ করে আহলে হাদিস আন্দোলনের প্রসার কামনা করে। তাদের উদ্দেশ্যে মুমলমান মুসলমানে বিভেদ জিঁইয়ে রাখা, এতে তারা আজ বিশ্ব্যাপী সফল।

এরপর যায়, কওমীদের কাছে, বলে জামাতীদের আকিদা খুব মারাত্বক, এখনি যদি তাদের বিরুদ্ধে ওয়াজ মাহফিল, বই-কিতাব রচনা না করেন, তাহলে একাদিন আপনারাই নাই হয়ে যাবেন। এই নিন, আমরা ১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছি, এগুলো দিয়ে ওয়াজ-মাহফিল, বই-কিতাব রচনা করুন। এই নিন তথ্য উপাত্ত, এগুলোকেই বই আকারে ছাপিয়ে দিন, সেখানেও তারা সফল। প্রতিটি কাজ তারা খুব খাঁটি মুসলমান পরিচয়ে করে থাকে।

জামায়াতের কাছে গিয়ে আবার জামায়াতকে বলে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা এই যুগে সম্ভব না, তাই গনতন্ত্র চর্চা করেন, অমুসলিম শাখা খোলেন তাইলে বিশ্ব ব্যাপী আপনাদের স্বীকৃতি বাড়বে, রহন যোগ্যতা বাড়বে, ক্ষমতায় গিয়ে সব ঠিক করে নিবেন, এখন আপাতত শরীয়তের বিষয়ে কিছু ছাড় দিন, প্রাক মক্কী যুগে তো এমন ভাবেই দ্বীন প্রচার হয়ে ছিলো। ব্যাস, জামায়াতিরাও খুশি, পূজায় যায়, অমুসলিৃ শাখা খোলে।

ইহুদি জাতী সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছে সালাফি গ্রুপে। এখানে তারা ছোটকাল থেকেই মুসলিম পরিচয়ে, মুসলিম মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে, মুসলিম ডিগ্রি নিয়ে, মুসলিম বুদ্ধিজীবি হিসাবে গড়ে উঠে বিভিন্ন মাসা'লা, আর ফেরকার ভিতরে মুসলিম জাতিকে এমনভাবে গোলকধাধায় ঢুকিয়ে দিয়েছে, যা আজ এক বিশ্বকোষ ডায়েরীতে রুপান্তরিত হয়েছে। আপনি মাদ্রাসা হতে বড় মুহাদ্দিস হয়েও তাদের সামনে টিকতে পারবেন না, তারা এতই জ্ঞানের অধিকারী। এরাই কিয়ামতের পূর্বে ইসলামকে চরম ফিতনার ভিতরে ফেলে দিবে।

যেমন মিশরের এই রকম এক সালাফির নাম ইয়াসির বারহামি। মিশরের নির্বাচিত মুসলিম রাষ্ট্রপতি মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সিসির হাতকে শক্ত করেছিল এই সালাফি মোল্লা এবং ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল এই মোল্লার পক্ষে। সেই মোল্লা এখন ফতোয়া দিয়েছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েজ না। কারণ ইসরাইলের সাথে চুক্তি রয়েছে। ইজরায়েলের চুক্তি ভঙ্গ করতে পারবেনা আর মিশরও ভঙ্গ করতে পারবেনা। বলেছিলাম না মুখে দাঁড়ি আর কালো মার্কা কপাল হলেই যে তাকে সমর্থন করতে হবে এরকম কথা নেই। সেটা এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। 

ঠিক এমন কাজটিই করেছিলেন হোসাইন মাদানী।ল, ফরিদ উদ্দিন মাসুদ গংদের মত কিছু মোল্লা শেখ হাসিনার হাতেও ছিল, এখন তারা পালিয়ে রয়েছে। যেমন জান্নাতি মহিলা বলা কফিলউদ্দিন ১ জন আরো একজন রুহুল আমিন সহ হাজারো রুহুল আমিন বাংলার জমীনে কিলবিল করছে। মুসলমানদের পতন মুসলমানরাই করে ছাড়বে ফিতনার মাধ্যমে, আর সেই দিনটি সামনে,বেশি দূরে নয়।

আমি দিপামনির কখনো সুযোগ আসলে এগুলার পাঁছায় ডান্ডার বাড়ি  মেরে মেরে তীরে ফলায় বসিয়ে নরকের দরজায় পৌঁছে দিতে এক মূহূর্ত দেরী করবো না।

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫

ইসলামে গান-বাদ্য হারামের স্পষ্ট দলিল

 





ইদানীং অনেকে জোর দিয়ে দাবী করছে যে ইসলামে নাকি গান বাদ্য হারামের স্পষ্ট কোনো দলিল নাই। আসুন দেখি আছে কি না দলিল।

সুরা: লুকমানের ৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,

وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّشْتَرِیْ لَهْوَ الْحَدِیْثِ لِیُضِلَّ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ بِغَیْرِ عِلْمٍ ۖ ۗ وَّ یَتَّخِذَهَا هُزُوًا ؕ اُولٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِیْنٌ

আর মানুষদেরই মধ্যে এমনও কেউ আছে, যে মনোমুগ্ধকর কথা কিনে আনে লোকদেরকে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য এবং এ পথের আহ্বানকে হাসি-ঠাট্টা করে উড়িয়ে দেয়।  এ ধরনের লোকদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব।

শানেনজুল:

উক্ত আয়াতের শানে নুযূলে বলা হয়েছে যে, নযর ইবনে হারিস বিদেশ থেকে একটি গায়িকা বাঁদী খরিদ করে এনে তাকে গান-বাজনায় নিয়োজিত করল। কেউ কুরআন শ্রবণের ইচ্ছা করলে তাকে গান শোনানোর জন্য সে গায়িকাকে আদেশ করত এবং বলত মুহাম্মদ তোমাদেরকে কুরআন শুনিয়ে নামায, রোযা এবং ধর্মের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার কথা বলে। এতে শুধু কষ্টই কষ্ট। তার চেয়ে বরং গান শোন এবং জীবনকে উপভোগ কর।-মাআরিফুল কুরআন ৭/৪।এরই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াত নাযিল করেন।

সাহাবী ও তাবেয়ীদের ব্যাখ্যাঃ

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে উক্ত আয়াতের ‘লাহওয়াল হাদীস’-এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তা হল গান।’ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. একই কথা বলেন। তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে যুবাইর থেকেও অনুরূপ মত বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রাহ. বলেন, উক্ত আয়াত গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যা বান্দাকে কুরআন থেকে গাফেল করে দেয়।-তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৪১

কুরআন মজীদের অন্য আয়াতে আছে, ইবলিস-শয়তান আদম সন্তানকে ধোঁকা দেওয়ার আরজী পেশ করলে আল্লাহ তাআলা ইবলিসকে বললেন,তোর আওয়াজ দ্বারা তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস পদস্খলিত কর।-সূরা ইসরা : ৬৪

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যে সকল বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তাই ইবলিসের আওয়াজ। বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, ইবলিসের আওয়াজ বলতে এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসব বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তার মধ্যে গান-বাদ্যই সেরা। এজন্যই একে ইবলিসের আওয়াজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯।

সাহাবী ও তাবেয়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী বহু গুনাহর সমষ্টি হল গান ও বাদ্যযন্ত্র। যথা :

ক) নিফাক এর উৎস খ) ব্যভিচারের প্রেরণা জাগ্রতকারী গ) মস্তিষ্কের উপর আবরণ ঘ) কুরআনের প্রতি অনিহা সৃষ্টিকারী ঙ) আখিরাতের চিন্তা নির্মূলকারী চ) গুনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ও ছ) জিহাদী চেতনা বিনষ্টকারী।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭ বস্তুত গান বাজনার ক্ষতিকর প্রভাব এত বেশি যে, তা নাজায়েয হওয়ার জন্য আলাদা কোনো দলীল খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না। এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু হাদীসের মাধ্যমে তা প্রমাণিত।

হাদীসের ভাষ্যঃ

গান-গায়িকা এবং এর ব্যবসা ও চর্চাকে হারাম আখ্যায়িত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

তোমরা গায়িকা (দাসী) ক্রয়-বিক্রয় কর না এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না। আর এসবের ব্যবসায় কোনো কল্যাণ নেই। জেনে রেখ, এর প্রাপ্ত মূল্য হারাম।-জামে তিরমিযী হাদীস : ১২৮২; ইবনে মাজাহ হাদীস : ২১৬৮

বর্তমানে গান ও বাদ্যযন্ত্রের বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে যাতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এর সকল উপার্জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমনীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন।-সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ৪০২০; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস : ৬৭৫৮

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩; তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২

উপরোক্ত বাণীর সত্যতা এখন দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার। গান-বাজনার ব্যাপক বিস্তারের ফলে মানুষের অন্তরে এই পরিমাণ নিফাক সৃষ্টি হয়েছে যে, সাহাবীদের ইসলামকে এ যুগে অচল মনে করা হচ্ছে এবং গান-বাদ্য, নারী-পুরুষের মেলামেশা ইত্যাদিকে হালাল মনে করা হচ্ছে। সহীহ বুখারীতে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে।-সহীহ বুখারী হাদীস : ৫৫৯০ মুসনাদে আহমদের হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

আল্লাহ তাআলা আমাকে মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন এবং বাদ্যযন্ত্র, ক্রুশ ও জাহেলি প্রথা বিলোপসাধনের নির্দেশ দিয়েছেন।


হাদীসের আলোয় সাহাবীদের জীবন

দু’একটি ক্ষেত্রে শুধু দফ বাজানোর বিষয়টি ব্যতিক্রম থাকলেও যে কোনো বাদ্যযন্ত্রই হারাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস এবং সাহাবীদের বাস্তব আমল তা প্রমাণ করে।

বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত নাফে’ রাহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার চলার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বাঁশির আওয়াজ শুনলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুই কানে আঙ্গুল দিলেন। কিছু দূর গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে নাফে’! এখনো কি আওয়াজ শুনছ? আমি বললাম হ্যাঁ। অতঃপর আমি যখন বললাম, এখন আর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না তখন তিনি কান থেকে আঙ্গুল সরালেন এবং বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলার পথে বাঁশির আওয়াজ শুনে এমনই করেছিলেন। -মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৪৫৩৫; সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪৯২৪ বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. থেকেও এমন একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।-ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৯০১

একটু ভেবে দেখুন তো, যে আওয়াজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম মুহূর্তের জন্যও কানে তুলতে রাজি ছিলেন না সেই ইবলিসী আওয়াজের অনুকূলে কথা বলার দুঃসাহস আমরা দেখাতে পারি কি না?

বাজনাদার নুপুর ও ঘুঙুরের আওয়াজও সাহাবায়ে কেরাম বরদাশত করতেন না। তাহলে গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রশ্নই কি অবান্তর নয়? নাসাঈ ও সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত আছে, একদিন হযরত আয়েশা রা.-এর নিকট বাজনাদার নুপুর পরে কোনো বালিকা আসলে আয়েশা রা. বললেন, খবরদার, তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।-সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ হাদীস : ৫২৩৭ সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঘণ্টি, বাজা, ঘুঙুর হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ২১১৪ মৃদু আওয়াজের ঘণ্টি-ঘুঙুরের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আধুনিক সুরেলা বাদ্যযন্ত্রের বিধান কী হবে তা খুব সহজেই বুঝা যায়। চার ইমামের ভাষ্য

গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-অভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সকলেই গান-বাদ্যকে হারাম বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ইমাম মালেক রাহ. কে গান-বাদ্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেবল ফাসিকরাই তা করতে পারে।-কুরতুবী ১৪/৫৫ ইমাম শাফেয়ী রাহ. বলেছেন যে, গান-বাদ্যে লিপ্ত ব্যক্তি হল আহমক।

তিনি আরো বলেন, সর্বপ্রকার বীণা, তন্ত্রী, ঢাকঢোল, তবলা, সারেঙ্গী সবই হারাম এবং এর শ্রোতা ফাসেক। তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৭৯; কুরতুবী ১৪/৫৫

হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা আলী মারদভী লেখেন, বাদ্য ছাড়া গান মাকরূহে তাহরীমী। আর যদি বাদ্য থাকে তবে তা হারাম।-আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৮৮

ইমাম শাফেয়ী রাহ. শর্তসাপেক্ষে শুধু ওলীমা অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশ আছে বলে মত দিয়েছেন। কেননা বিয়ের ঘোষণার উদ্দেশ্যে ওলীমার অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশের বর্ণনা হাদীসে রয়েছে।-জামে তিরমিযী হাদীস : ১০৮৯; সহীহ বুখারী হাদীস : ৫১৪৭, ৫১৬২ মনে রাখতে হবে, এখানে দফ বাজানোর উদ্দেশ্য হল বিবাহের ঘোষণা, অন্য কিছু নয়।-ফাতহুল বারী ৯/২২৬।


দফ-এর পরিচয়

যারা সরাসরি আরবে দফ দেখেছেন, তাদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, দফ-এর এক পাশ খোলা। বাজালে ঢ্যাব ঢ্যাব আওয়াজ হয়। প্লাস্টিকের গামলা বাজালে যেমন আওয়াজ হবে তেমন। আসলে দফ কোনো বাদ্যযন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে না।

আওনুল বারী গ্রন্থে দফ-এর পরিচয় দিতে গিয়ে লেখা হয়েছে যে, এর আওয়াজ স্পষ্ট ও চিকন নয় এবং সুরেলা ও আনন্দদায়কও নয়। কোনো দফ-এর আওয়াজ যদি চিকন ও আকর্ষণীয় হয় তখন তা আর দফ থাকবে না; বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হবে।-আওনুল বারী ২/৩৫৭ আর দফ-এর মধ্যে যখন বাদ্যযন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এসে যাবে তখন তা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয বলে পরিগণিত হবে।-মিরকাত ৬/২১০ এখন কেউ যদি বলেন, তৎকালীন যুগে দফ ছিল আরবের সর্বোচ্চ বাদ্যযন্ত্র, বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা-ই উন্নত হয়েছে। তাহলে একে অজ্ঞতাপ্রসূত অবাস্তব কথা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারি না। কেননা একাধিক হাদীসে ঢোল, তবলাসহ অনেক বাদ্যযন্ত্রের নাম এসেছে। বাস্তবে না থাকলে এসব বাদ্যযন্ত্রের নাম আসবে কোত্থেকে? তাছাড়া মুহাদ্দিসদের ভাষ্য অনুযায়ী দফ বাদ্যযন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে না, যা ইতিপূর্বে আমরা জেনেছি। আরবে এখনো দফ বিদ্যমান আছে।

দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদানী উস্তাদকে ছাত্ররা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, দফ তো বাচ্চাদের জন্য, আর বড়দের জন্য হল কুরআন। পরিণত ব্যক্তিদের জন্য কুরআন ছেড়ে এসবের মধ্যে লিপ্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এরপরও যদি মেনে নেওয়া হয় যে, তৎকালীন যুগে দফ সর্বোচ্চ বাদ্যযন্ত্র ছিল তবে তাতেই বা লাভ কী? বাদ্যযন্ত্রকে তো আর জায়েয বানানো যাচ্ছে না। হাদীসে রাসূলই তাকে হারাম বলে আখ্যায়িত করেছে। ইসলামকে আধুনিক বানানোর ‘সদুদ্দেশ্যে’ আজ কেউ কেউ ফতোয়া দিচ্ছেন যে, মেয়েদের সাথে হাত মেলানো জায়েয, নারী-পুরুষের মাঝে পর্দা বিধানের এত কড়াকড়ির প্রয়োজন নেই, গান-বাদ্য, সিনেমা, টেলিভিশন এসব তো বিনোদনেরই অংশ। ক্লীন শেভে কোনো সমস্যা নেই, দাড়ি ইসলামের কোনো জরুরি বিষয় নয় ইত্যাদি বহুবিধ ‘আধুনিক’, ‘অতি আধুনিক’ ফাতাওয়া আজ শুনতে পাওয়া যায়। মনে রাখা উচিত যে, ইসলাম অন্যান্য ‘ধর্মে’র মতো নয়; বরং তা আল্লাহ প্রদত্ত চির আধুনিক আদর্শ, একে নিজেদের পক্ষ থেকে আরো অতি আধুনিক বানানোর কোনো প্রয়োজন নেই। ইসলামে যেমন বাড়াবাড়ির অবকাশ নেই, তেমন ছাড়াছাড়িরও সুযোগ নেই। ইসলাম হল মধ্য পন্থা। যে বিধান যতটুকু দেওয়া প্রয়োজন আল্লাহ তাআলা তা ততটুকুই দিয়েছেন। এর পূর্ণ অনুসরণই যে সকল কল্যাণের সূত্র সাহাবায়ে কেরামের পুণ্যযুগই তার বাস্তব প্রমাণ। আমরাও যদি কল্যাণের প্রত্যাশা করি তাহলে আমাদেরকেও ইসলামের সকল বিধানের পূর্ণ অনুসরণ করতে হবে এবং আমাদের ঈমান, আমল ও ফতোয়া সবকিছুকে যাচাই করতে হবে তাদেরই মানদণ্ডে।

আমরা কেউ তো এ দাবি করতে পারি না যে, সাহাবীদের চেয়ে ইসলামকে ও রাসূলের হাদীসকে চেপ্টা করে আমরা বেশি বুঝে ফেলেছি। বাদ্যসহ কাওয়ালি

সুফী সাধকের নাম ব্যবহারকারী একটি জগতেও আজ আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। তাই আধুনিক কিছু সুফী বলে থাকে, বাদ্যসহ যিকির ও কাওয়ালি জায়েয। দলীল হিসেবে তারা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এ বর্ণিত দুটি বালিকার দফ বাজিয়ে কবিতা গাওয়ার হাদীসটি উপস্থাপন করে। এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. লেখেন, উক্ত হাদীসে আয়েশা রা.-এর বর্ণনাই তাদের অবাস্তব দাবির বিরুদ্ধে উৎকৃষ্ট জবাব। গান-বাদ্য যে নাজায়েয এই বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য হাদীসের রাবী হযরত আয়েশা রা. বলছেন, উক্ত বালিকাদ্বয় কোনো গায়িকা ছিল না। তারা কোনো গান গায়নি।-ফাতহুল বারী ২/৪৪২

ইমাম কুরতুবী রাহ. বলেন, গান বলতে যা বুঝায়, বালিকাদ্বয় তা গায়নি। পাছে কেউ ভুল বুঝতে পারে তাই আয়েশা রা. বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ইমাম কুরতুবী আরো বলেন, বর্তমানে একশ্রেণীর সুফীরা যে ধরনের গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন ঘটিয়েছে তা সম্পূর্ণ হারাম।-তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫৪ বিখ্যাত সাধক হযরত জুনাইদ বাগদাদী রাহ. তার যুগে কাওয়ালি শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, বর্তমানে কাওয়ালি শোনার শর্তগুলো পালন করা হয় না। তাই আমি এর থেকে তওবা করছি।-আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৯২



 একদিকে তো আল্লাহর পক্ষ থেকে এ পথনির্দেশনা ও অনুগ্রহ এসেছে, যা থেকে কিছু লোক লাভবান হচ্ছে। অন্যদিকে ঐ সমস্ত সৌভাগ্যবান লোকদের পাশাপাশি এমন দুর্ভাগ্যবান লোকেরাও রয়ে গেছে যারা আল্লাহর আয়াতের মোকাবিলায় এ কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করেছে।

আসল শব্দ হচ্ছে “লাহওয়াল হাদীস” অর্থাৎ এমন কথা যা মানুষকে আত্ম-সমাহিত করে অন্য প্রত্যেকটি জিনিস থেকে গাফিল করে দেয়। শাব্দিক অর্থের দিক দিয়ে এ শব্দগুলোর মধ্যে নিন্দার কোন বিষয় নেই। কিন্তু খারাপ, বাজে ও অর্থহীন কথা অর্থে শব্দটির ব্যবহার হয়। যেমন গালগল্প, পুরাকাহিনী, হাসি-ঠাট্টা, কথা-কাহিনী, গল্প, উপন্যাস, গান বাজনা এবং এ জাতীয় আরো অন্যান্য জিনিস। 

‘লাহওয়াল হাদীস’ কিনে নেয়ার এ অর্থও হতে পারে যে, ঐ ব্যক্তি সত্য কথা বাদ দিয়ে মিথ্যা কথা গ্রহণ করে এবং সঠিক পথনির্দেশনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে এমন কথার প্রতি আগ্রহান্বিত হয় যার মাধ্যমে তার জন্য দুনিয়াতেও কোন মঙ্গল নেই এবং আখেরাতেও নেই। কিন্তু এটি এই বাক্যাংশটির রূপক অর্থ। এর প্রকৃত অর্থ এই যে, মানুষ তার নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে কোন বাজে জিনিস কিনে। এ ব্যাখ্যার সমর্থনে বহু হাদীসও রয়েছে। ইবনে হিশাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাকের হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, মক্কার কাফেরদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যখন এ দাওয়াত সম্প্রসারিত হয়েই চলছিল তখন নদ্বর ইবনে হারেস কুরাইশ নেতাদেরকে বললো, তোমরা যেভাবে এ ব্যক্তির মোকাবিলা করছো, তাতে কোনো কাজ হবে না। এ ব্যক্তি তোমাদের মধ্যেই জীবন যাপন করে শৈশব থেকে প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছেছে। আজ পর্যন্ত নৈতিক চরিত্রের দিকে দিয়ে সে ছিল তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো, সবচেয়ে সত্যবাদী ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক। এখন তোমরা বলছো, সে গণক, যাদুকর, কবি, পাগল। একথা কে বিশ্বাস করবে? যাদুকর কোন্ ধরনের তুকতাক কারবার চালায় তা কি লোকেরা জানে না? গণকরা কি সব কথাবার্তা বলে তা কি লোকদের জানতে বাকি আছে? লোকেরা কি কবি ও কবিতা চর্চার ব্যাপারে অনভিজ্ঞ। পাগলরা কেমন কেমন করে তা কি লোকেরা জানে না? এ দোষগুলো মধ্য থেকে কোন্‌টি মুহাম্মাদ ﷺ এর ওপর প্রযোজ্য হয় যে, সেটি বিশ্বাস করার জন্য তোমরা লোকদেরকে আহ্বান জানাতে পারবে? থামো, এ রোগের চিকিৎসা আমিই করবো। এরপর সে মক্কা থেকে ইরাক চলে গেলো। সেখান থেকে অনারব বাদশাহদের কিস্‌সা কাহিনী এবং রুস্তম ও ইসফিন্দিয়ারের গল্পকথা সংগ্রহ করে এনে গল্প বলার আসর জমিয়ে তুলতে লাগলো। তার উদ্দেশ্য ছিল, এভাবে লোকেরা কুরআনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং এসব গল্প-কাহিনীর মধ্যে ডুবে যাবে। ( সীরাতে ইবনে হিশাম, ১ম খণ্ড, ৩২০-৩২১পৃঃ ) আসবাবুন নযুলের মধ্যে এ বর্ণনাটি ওয়াহেদী কালবী ও মুকাতিল থেকে উদ্ধৃত করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) এর ওপর আরো এতটুকু বৃদ্ধি করেছেন যে, নদ্বর এ উদ্দেশ্যে গায়িকা বাঁদীদেরকেও কিনে এনেছিল।কোন ব্যক্তি সম্পর্কে নবী (সা.) এর কথায় প্রভাবিত হতে চলেছে বলে তার কাছে খবর এলেই সে তার জন্য নিজের একজন বাঁদী নিযুক্ত করতো এবং তাকে বলে দিতো ওকে খুব ভালো করে পানাহার করাও ও গান শুনাও এবং সবসময় তোমার সাথে জড়িয়ে রেখে ওদিক থেকে ওর মন ফিরিয়ে আনো। বিভিন্ন জাতির বড় বড় অপরাধীরা প্রত্যেক যুগে যেসব ধুর্তামী ও চালবাজীর আশ্রয় নিয়ে এসেছে এ প্রায় সে একই ধরনের চালবাজি ছিল। তারা জনগণকে খেল-তামাশা ও নাচগানে (কালচার) মশগুল করতে থাকে। এভাবে তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার প্রতি নজর দেবার চেতনাই থাকে না এবং এ অস্তিত্ব জগতের মধ্যে তারা একথা অনুভবই করতে পারে না যে, তাদেরকে এক ভয়াবহ ধ্বংসের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

লাহওয়াল হাদীসের এ ব্যাখ্যাই বিপুল সংখ্যক সাহাবী ও তাবেঈ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে (রা.) জিজ্ঞেস করা হয়, এ আয়াতে যে লাহওয়াল হাদীস শব্দ এসেছে এর তাৎপর্য কি? তিনি তিনবার জোর দিয়ে বলেন,هو والله الغناء “আল্লাহর কসম এর অর্থ হচ্ছে গান।” (ইবনে জারীর, ইবনে আবি শাইবাহ, হাকেম, বায়হাকী) প্রায় এ একই ধরনের উক্তি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), জাবের ইবনে আবদুল্লাহ, মুজাহিদ, ইকরামাহ, সাঈদ ইবনে জুবাইর, হাসান বাসরী ও মাকহূল থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। ইবনে জারীর, ইবনে আবি হাতেম ও তিরমিযী হযরত আবু উমামাহ বাহেলীর (রা.) হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। তাতে নবী (সা.) বলেছেনঃ 

لايحِلُّ بَيْعُ المُغَنِّيَاتِ، وَلا شِرَاؤُهُنَّ، وَلا التِّجارَةُ فِيهِنَّ، وَلا أثمَانُهُنَّ 

“গায়িকা মেয়েদের কেনাবেচা ও তাদের ব্যবসায় করা হালাল নয় এবং তাদের দান নেয়াও হালাল নয়।” 

অন্য একটি হাদীসে শেষ বাক্যটির শব্দাবলী হচ্ছেঃ

أكْلُ ثَمَنِهِنَّ حَرَامٌ  

“তাদের মূল্য খাওয়া হারাম।”

অন্য একটি হাদীসে একই আবু উমামাহ থেকে নিম্নোক্ত শব্দাবলী উদ্ধৃত হয়েছেঃ 

لا يحلّ تَعْلِيمُ المُغَنِّياتِ، وَلا بَيْعُهُنَّ وَلا شِرَاؤُهُنَّ، وَثمَنُهُنَّ حَرامٌ 

‘বাঁদীদেরকে গান-বাজনা করার শিক্ষা দেয়া এবং তাদের বেচা-কেনা করা হালাল নয় এবং তাদের দাম হারাম।” 

এ তিনটি হাদীসে একথা সুস্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে যে, مَنْ يَشْتَرِى لَهْوَ الْحَدِيثِ

আয়াতটি এ ব্যাপারেই নাযিল হয়। কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী ‘আহকামুল কুরআনে’ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক ও ইমাম মালেকের বরাত দিয়ে হযরত আনাস (রা.) একটি রেওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, নবী সাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেছেনঃ 

من جلس الى قينة يسمع منها صب فى اذنيه الانك يوم القيمة- 

“যে ব্যক্তি গায়িকা বাঁদীর মাহফিলে বসে তার গানশুনবে, কিয়ামতের দিন তার কানে গরম শীসা ঢেলে দেয়া হবে।” 

(এ প্রসঙ্গে একথা জেনে নেয়া উচিত যে, সে যুগে গান-বাজনার “সংস্কৃতি” বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বরং পুরোপুরি বাঁদীদের বদৌলতেই জীবিত ছিল। স্বাধীন ও সম্ভ্রান্ত মেয়েরা সেকালে “আর্টিষ্ট” হননি। তাই নবী (সা.) গায়িকাদের কেনা-বেচার কথা বলেছেন, দাম শব্দের সাহায্যে তাদের “ফী” র ধারণা দিয়েছেন এবং গায়িকা মেয়েদের জন্য “কাইনা” শব্দ ব্যবহার করেছেন। আরবী ভাষায় বাঁদীদের জন্য এ শব্দটি বলা হয়।)


“জ্ঞান ছাড়াই” শব্দের সম্পর্কে “কিনে আনে” এর সাথেও হতে পারে আবার “বিচ্যুত করে” এর সাথেও হতে পারে। যদি প্রথম বাক্যাংশের সাথে এর সম্পর্ক মেনে নেয়া হয়, তাহলে এর অর্থ হবে, সেই মূর্খ অজ্ঞ লোক এই মনোমুগ্ধকর জিনিসটি কিনে নেয় এবং সে জানে না কেমন মূল্যবান জিনিস বাদ দিয়ে সে কেমন ধ্বংসকর জিনিস কিনে নিচ্ছে। একদিকে আছে জ্ঞান ও সঠিক পথনির্দেশনা সমৃদ্ধ আল্লাহর আয়াত। বিনামূল্যে সে তা লাভ করছে কিন্তু তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে রয়েছে সব অর্থহীন ও বাজে জিনিস। সেগুলো চিন্তা ও চরিত্রশক্তি ধ্বংস করে দেয়। নিজের টাকা পয়সা খরচ করে সে সেগুলো লাভ করছে। আর যদি একে দ্বিতীয় বাক্যাংশের সাথে সম্পর্কযুক্ত মনে করা হয়, তাহলে এর অর্থ হবে যে, সে জ্ঞান ছাড়াই লোকদের পথ দেখাচ্ছে এবং আল্লাহর সৃষ্টিকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করে সে যে নিজের ঘাড়ে কত বড় জুলুমের দায়ভাগ চালিয়ে নিচ্ছে, তা সে জানে না।


পরের অংশে বুঝানো হয়েছে যে, এ ব্যক্তি লোকদেরকে কিস্‌সা-কাহিনী গান-বাজনায় মুশগুল করে আল্লাহর আয়াতের প্রতি বিদ্রূপ করতে চায়। সে কুরআনের এ দাওয়াতকে ঠাট্টা-তামাশার মধ্যে উড়িয়ে দিতে চায় আল্লাহর দ্বীনের সাথে লড়াই করার জন্য সে যুদ্ধের এমনসব নকশা তৈরি করতে চায় যেখানে একদিকে মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর আয়াত শোনাতে বের হবেন, অন্যদিকে কোন সুশ্রী ও সুকণ্ঠী গায়িকার মাহফিল গুলজার হতে থাকবে, আবার কোথাও কোন বাচাল কথক ইরান-তুরানের কাহিনী শুনাতে থাকবে এবং লোকেরা এসব সাংস্কৃতিক তৎপরতায় আকণ্ঠ ডুবে গিয়ে আল্লাহ, আখেরাত ও নৈতিক চরিত্রনীতির কথা শোনার মুডই হারিয়ে ফেলবে।

 এ শাস্তি তাদের অপরাধের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই নির্ধারিত। তারা আল্লাহর দ্বীন, তার আয়াত ও তার রসূলকে লাঞ্ছিত করতে চায়। এর বদলায় আল্লাহ‌ তাকে কঠিন লাঞ্ছনাকর আযাব দেবেন।

আশা করি আর দলিল লাগবে না।



নোবেল প্রাইজ শয়তানের সৃষ্টি!


 


 বিখ্যাত আইরিশ চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক জর্জ বার্নার্ড শ বলেছিলেন, আমি ডিনামাইট তৈরির জন্য আলফ্রেড নোবেলকে ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তনকারীকে ক্ষমা করতে পারি না, কারণ একমাত্র মানুষরূপী শয়তানই এমন পুরস্কার প্রবর্তন করতে পারে। সূত্র : ইন্টারনেট।

 

আজ থেকে ৮৭ বছর আগে ১৯২৬ সালের এই দিনে নোবেল পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেছিলেন।

 

সুইডিশ রসায়ন বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কারের পর 'মৃত্যুর সওদাগর' হিসেবে নিন্দিত হওয়ায় নোবেল পুরস্কার প্রথা চালু করেছিলেন। কিন্তু এই প্রথা চালু হওয়ার পর বেশি দিন না যেতেই পুরস্কারটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে পাশ্চাত্য। কেবল তাই নয় এই পুরস্কারকে ব্যবহার করা হয় পাশ্চাত্যের আধিপত্যকামী, বিভেদকামী, শোষণকামী ও হত্যাযজ্ঞের নীতি জোরদারের হাতিয়ার হিসেবে।

 

তাই স্পষ্টভাষী সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ জর্জ বার্নার্ড শ (১৮৫৬-১৯৫০) এই পুরস্কারের তীব্র সমালোচনা করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

 

পবিত্র ধর্ম ইসলাম ও বিশ্বনবী (সা.) সম্পর্কে নিজের গভীর শ্রদ্ধাবোধের জন্যও খ্যাতি অর্জন করেছেন এই সুনাম-ধন্য মনীষী। তিনি বলেছেন, আগামী একশ’ বছরের মধ্যে যদি কোনো ধর্ম ব্রিটেন, এমনকি গোটা ইউরোপের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তা হলে সেটা হবে ইসলাম।

 

শ আরো বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ (সা.) এর ধর্মকে সব সময়ই গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখি, কারণ এর রয়েছে বিস্ময়কর গতিশীলতা বা শক্তি। আমার দৃষ্টিতে এটা হচ্ছে একমাত্র ধর্ম যার রয়েছে অস্তিত্বের জগতের পরিবর্তশীলতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার বা খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা, আর এ কারণে ইসলাম প্রত্যেক যুগেই মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম।

 

তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদকে (সা.) কে অধ্যয়ন করেছি, তিনি ছিলেন একজন বিস্ময়কর মানুষ এবং আমার মতে খ্রিস্ট বা ঈসা (আ.) এর বিরোধী হওয়ার ধারে কাছেও তিনি ছিলেন না, মুহাম্মাদ (সা.) কে অবশ্যই মানবতার ত্রাণকর্তা বলা উচিত।

 

জর্জ বার্নার্ড বলেন, আমি মুহাম্মাদ (সা.) এর ধর্ম সম্পর্কে এ ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, এই ধর্ম আগামী দিনের ইউরোপে গৃহীত হবে এবং এই ধর্মকে সাদরে বরণ করে নেয়া এখনই শুরু হয়েছে।


ইসলামে গান-বাদ্য হারামের দলিল নাই?




কয়েকদিন যাবত এক হিজবুত তাহীদের একজন অনলাইন এক্টিভিস্ট দাবী করছে যে কোরআন ও হাদীসে নাকি গান বাদ্য হারামের কোনো দলিল নাই, তাই নাকি গান শোনা জায়েয হয়ে গিয়েছে, হয়ত উনি না জেনেই এ কথা বলে থাকতে পারে আর যদি জেনে শোনে এ কথা বলে থাকে তার জন্য দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নাই। আরেক জন দেখলাম বলছে ড. ইউসুফ কারযাভী তো বাদ্যসহ গানকে জায়েয বলেছেন! গান-বাজনার পক্ষে কেউ এই যুক্তি দেন যে, দফ ছিল তৎকালীন আরবের বাদ্যযন্ত্র। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন তা আরো উন্নত হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ এমন কথাও বলেন যে, বিয়ে-শাদিতে গান-বাজনা করা সুন্নত। কিছুদিন পর আমার সেই ছাত্র এসে বলল, উস্তাদ! বাদ্যসহ গান জায়েয, এটা শোনার পর গানের প্রতি আমার সংকোচ কেটে গেছে। কেমন আনন্দ আনন্দ লাগছে। এই বিষয়ে আপনি কিছু একটা বলুন।

বিষয়টি আমি অনুধাবন করলাম এবং সুস্পষ্টভাবেই বুঝতে পারলাম যে, এ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত শোনার চেয়ে প্রিয় শিল্পীর গান শোনাই তার কাছে বেশি ভালো লাগবে। আর ইবলিস শয়তান তো এটাই চায় যে, আল্লাহর বান্দা কুরআন থেকে দূরে থাকুক। এজন্যই তো আবু বকর রা. গানবাদ্যকে শয়তানের বাঁশি বলে আখ্যায়িত করেছেন। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার চেয়েও এটা ভয়ঙ্কর।

কুরআনের ভাষ্য : আল্লাহ তাআলা সূরা লুকমানে আখেরাত-প্রত্যাশী মুমিনদের প্রশংসা করার পর দুনিয়া-প্রত্যাশীদের ব্যাপারে বলছেন,

আর একশ্রেণীর লোক আছে, যারা অজ্ঞতাবশত খেল-তামাশার বস্তু ক্রয় করে বান্দাকে আল্লাহর পথ থেকে গাফেল করার জন্য।-সূরা লুকমান : ৬ উক্ত আয়াতের শানে নুযূলে বলা হয়েছে যে, নযর ইবনে হারিস বিদেশ থেকে একটি গায়িকা বাঁদী খরিদ করে এনে তাকে গান-বাজনায় নিয়োজিত করল। কেউ কুরআন শ্রবণের ইচ্ছা করলে তাকে গান শোনানোর জন্য সে গায়িকাকে আদেশ করত এবং বলত মুহাম্মদ তোমাদেরকে কুরআন শুনিয়ে নামায, রোযা এবং ধর্মের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার কথা বলে। এতে শুধু কষ্টই কষ্ট। তার চেয়ে বরং গান শোন এবং জীবনকে উপভোগ কর।-মাআরিফুল কুরআন ৭/৪

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াত নাযিল করেন।


সাহাবী ও তাবেয়ীদের ব্যাখ্যা

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে উক্ত আয়াতের ‘লাহওয়াল হাদীস’-এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তা হল গান।’ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. একই কথা বলেন। তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে যুবাইর থেকেও অনুরূপ মত বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রাহ. বলেন, উক্ত আয়াত গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যা বান্দাকে কুরআন থেকে গাফেল করে দেয়।-তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৪১

কুরআন মজীদের অন্য আয়াতে আছে, ইবলিস-শয়তান আদম সন্তানকে ধোঁকা দেওয়ার আরজী পেশ করলে আল্লাহ তাআলা ইবলিসকে বললেন,

তোর আওয়াজ দ্বারা তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস পদস্খলিত কর।-সূরা ইসরা : ৬৪

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যে সকল বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তাই ইবলিসের আওয়াজ। বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, ইবলিসের আওয়াজ বলতে এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসব বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তার মধ্যে গান-বাদ্যই সেরা। এজন্যই একে ইবলিসের আওয়াজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯

সাহাবী ও তাবেয়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী বহু গুনাহর সমষ্টি হল গান ও বাদ্যযন্ত্র। যথা :

ক) নিফাক এর উৎস খ) ব্যভিচারের প্রেরণা জাগ্রতকারী গ) মস্তিষ্কের উপর আবরণ ঘ) কুরআনের প্রতি অনিহা সৃষ্টিকারী ঙ) আখিরাতের চিন্তা নির্মূলকারী চ) গুনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ও ছ) জিহাদী চেতনা বিনষ্টকারী।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭ বস্তুত গান বাজনার ক্ষতিকর প্রভাব এত বেশি যে, তা নাজায়েয হওয়ার জন্য আলাদা কোনো দলীল খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না। এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু হাদীসের মাধ্যমে তা প্রমাণিত।

হাদীসের ভাষ্যঃ

গান-গায়িকা এবং এর ব্যবসা ও চর্চাকে হারাম আখ্যায়িত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

তোমরা গায়িকা (দাসী) ক্রয়-বিক্রয় কর না এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না। আর এসবের ব্যবসায় কোনো কল্যাণ নেই। জেনে রেখ, এর প্রাপ্ত মূল্য হারাম।-জামে তিরমিযী হাদীস : ১২৮২; ইবনে মাজাহ হাদীস : ২১৬৮

বর্তমানে গান ও বাদ্যযন্ত্রের বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে যাতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এর সকল উপার্জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমনীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন।-সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ৪০২০; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস : ৬৭৫৮

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩; তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২

উপরোক্ত বাণীর সত্যতা এখন দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার। গান-বাজনার ব্যাপক বিস্তারের ফলে মানুষের অন্তরে এই পরিমাণ নিফাক সৃষ্টি হয়েছে যে, সাহাবীদের ইসলামকে এ যুগে অচল মনে করা হচ্ছে এবং গান-বাদ্য, নারী-পুরুষের মেলামেশা ইত্যাদিকে হালাল মনে করা হচ্ছে। সহীহ বুখারীতে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে।-সহীহ বুখারী হাদীস : ৫৫৯০ মুসনাদে আহমদের হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

আল্লাহ তাআলা আমাকে মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন এবং বাদ্যযন্ত্র, ক্রুশ ও জাহেলি প্রথা বিলোপসাধনের নির্দেশ দিয়েছেন।


হাদীসের আলোয় সাহাবীদের জীবন

দু’একটি ক্ষেত্রে শুধু দফ বাজানোর বিষয়টি ব্যতিক্রম থাকলেও যে কোনো বাদ্যযন্ত্রই হারাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস এবং সাহাবীদের বাস্তব আমল তা প্রমাণ করে।

বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত নাফে’ রাহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার চলার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বাঁশির আওয়াজ শুনলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুই কানে আঙ্গুল দিলেন। কিছু দূর গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে নাফে’! এখনো কি আওয়াজ শুনছ? আমি বললাম হ্যাঁ। অতঃপর আমি যখন বললাম, এখন আর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না তখন তিনি কান থেকে আঙ্গুল সরালেন এবং বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলার পথে বাঁশির আওয়াজ শুনে এমনই করেছিলেন। -মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৪৫৩৫; সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪৯২৪ বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. থেকেও এমন একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।-ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৯০১

একটু ভেবে দেখুন তো, যে আওয়াজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম মুহূর্তের জন্যও কানে তুলতে রাজি ছিলেন না সেই ইবলিসী আওয়াজের অনুকূলে কথা বলার দুঃসাহস আমরা দেখাতে পারি কি না?

বাজনাদার নুপুর ও ঘুঙুরের আওয়াজও সাহাবায়ে কেরাম বরদাশত করতেন না। তাহলে গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রশ্নই কি অবান্তর নয়? নাসাঈ ও সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত আছে, একদিন হযরত আয়েশা রা.-এর নিকট বাজনাদার নুপুর পরে কোনো বালিকা আসলে আয়েশা রা. বললেন, খবরদার, তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।-সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ হাদীস : ৫২৩৭ সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঘণ্টি, বাজা, ঘুঙুর হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ২১১৪ মৃদু আওয়াজের ঘণ্টি-ঘুঙুরের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আধুনিক সুরেলা বাদ্যযন্ত্রের বিধান কী হবে তা খুব সহজেই বুঝা যায়। চার ইমামের ভাষ্য

গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-অভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সকলেই গান-বাদ্যকে হারাম বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ইমাম মালেক রাহ. কে গান-বাদ্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেবল ফাসিকরাই তা করতে পারে।-কুরতুবী ১৪/৫৫ ইমাম শাফেয়ী রাহ. বলেছেন যে, গান-বাদ্যে লিপ্ত ব্যক্তি হল আহমক।

তিনি আরো বলেন, সর্বপ্রকার বীণা, তন্ত্রী, ঢাকঢোল, তবলা, সারেঙ্গী সবই হারাম এবং এর শ্রোতা ফাসেক। তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৭৯; কুরতুবী ১৪/৫৫

হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা আলী মারদভী লেখেন, বাদ্য ছাড়া গান মাকরূহে তাহরীমী। আর যদি বাদ্য থাকে তবে তা হারাম।-আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৮৮

ইমাম শাফেয়ী রাহ. শর্তসাপেক্ষে শুধু ওলীমা অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশ আছে বলে মত দিয়েছেন। কেননা বিয়ের ঘোষণার উদ্দেশ্যে ওলীমার অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশের বর্ণনা হাদীসে রয়েছে।-জামে তিরমিযী হাদীস : ১০৮৯; সহীহ বুখারী হাদীস : ৫১৪৭, ৫১৬২ মনে রাখতে হবে, এখানে দফ বাজানোর উদ্দেশ্য হল বিবাহের ঘোষণা, অন্য কিছু নয়।-ফাতহুল বারী ৯/২২৬।


দফ-এর পরিচয়

যারা সরাসরি আরবে দফ দেখেছেন, তাদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, দফ-এর এক পাশ খোলা। বাজালে ঢ্যাব ঢ্যাব আওয়াজ হয়। প্লাস্টিকের গামলা বাজালে যেমন আওয়াজ হবে তেমন। আসলে দফ কোনো বাদ্যযন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে না।

আওনুল বারী গ্রন্থে দফ-এর পরিচয় দিতে গিয়ে লেখা হয়েছে যে, এর আওয়াজ স্পষ্ট ও চিকন নয় এবং সুরেলা ও আনন্দদায়কও নয়। কোনো দফ-এর আওয়াজ যদি চিকন ও আকর্ষণীয় হয় তখন তা আর দফ থাকবে না; বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হবে।-আওনুল বারী ২/৩৫৭ আর দফ-এর মধ্যে যখন বাদ্যযন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এসে যাবে তখন তা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয বলে পরিগণিত হবে।-মিরকাত ৬/২১০ এখন কেউ যদি বলেন, তৎকালীন যুগে দফ ছিল আরবের সর্বোচ্চ বাদ্যযন্ত্র, বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা-ই উন্নত হয়েছে। তাহলে একে অজ্ঞতাপ্রসূত অবাস্তব কথা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারি না। কেননা একাধিক হাদীসে ঢোল, তবলাসহ অনেক বাদ্যযন্ত্রের নাম এসেছে। বাস্তবে না থাকলে এসব বাদ্যযন্ত্রের নাম আসবে কোত্থেকে? তাছাড়া মুহাদ্দিসদের ভাষ্য অনুযায়ী দফ বাদ্যযন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে না, যা ইতিপূর্বে আমরা জেনেছি। আরবে এখনো দফ বিদ্যমান আছে।

দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদানী উস্তাদকে ছাত্ররা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, দফ তো বাচ্চাদের জন্য, আর বড়দের জন্য হল কুরআন। পরিণত ব্যক্তিদের জন্য কুরআন ছেড়ে এসবের মধ্যে লিপ্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এরপরও যদি মেনে নেওয়া হয় যে, তৎকালীন যুগে দফ সর্বোচ্চ বাদ্যযন্ত্র ছিল তবে তাতেই বা লাভ কী? বাদ্যযন্ত্রকে তো আর জায়েয বানানো যাচ্ছে না। হাদীসে রাসূলই তাকে হারাম বলে আখ্যায়িত করেছে। ইসলামকে আধুনিক বানানোর ‘সদুদ্দেশ্যে’ আজ কেউ কেউ ফতোয়া দিচ্ছেন যে, মেয়েদের সাথে হাত মেলানো জায়েয, নারী-পুরুষের মাঝে পর্দা বিধানের এত কড়াকড়ির প্রয়োজন নেই, গান-বাদ্য, সিনেমা, টেলিভিশন এসব তো বিনোদনেরই অংশ। ক্লীন শেভে কোনো সমস্যা নেই, দাড়ি ইসলামের কোনো জরুরি বিষয় নয় ইত্যাদি বহুবিধ ‘আধুনিক’, ‘অতি আধুনিক’ ফাতাওয়া আজ শুনতে পাওয়া যায়। মনে রাখা উচিত যে, ইসলাম অন্যান্য ‘ধর্মে’র মতো নয়; বরং তা আল্লাহ প্রদত্ত চির আধুনিক আদর্শ, একে নিজেদের পক্ষ থেকে আরো অতি আধুনিক বানানোর কোনো প্রয়োজন নেই। ইসলামে যেমন বাড়াবাড়ির অবকাশ নেই, তেমন ছাড়াছাড়িরও সুযোগ নেই। ইসলাম হল মধ্য পন্থা। যে বিধান যতটুকু দেওয়া প্রয়োজন আল্লাহ তাআলা তা ততটুকুই দিয়েছেন। এর পূর্ণ অনুসরণই যে সকল কল্যাণের সূত্র সাহাবায়ে কেরামের পুণ্যযুগই তার বাস্তব প্রমাণ। আমরাও যদি কল্যাণের প্রত্যাশা করি তাহলে আমাদেরকেও ইসলামের সকল বিধানের পূর্ণ অনুসরণ করতে হবে এবং আমাদের ঈমান, আমল ও ফতোয়া সবকিছুকে যাচাই করতে হবে তাদেরই মানদণ্ডে।

আমরা কেউ তো এ দাবি করতে পারি না যে, সাহাবীদের চেয়ে ইসলামকে ও রাসূলের হাদীসকে চেপ্টা করে আমরা বেশি বুঝে ফেলেছি। বাদ্যসহ কাওয়ালি

সুফী সাধকের নাম ব্যবহারকারী একটি জগতেও আজ আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। তাই আধুনিক কিছু সুফী বলে থাকে, বাদ্যসহ যিকির ও কাওয়ালি জায়েয। দলীল হিসেবে তারা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এ বর্ণিত দুটি বালিকার দফ বাজিয়ে কবিতা গাওয়ার হাদীসটি উপস্থাপন করে। এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. লেখেন, উক্ত হাদীসে আয়েশা রা.-এর বর্ণনাই তাদের অবাস্তব দাবির বিরুদ্ধে উৎকৃষ্ট জবাব। গান-বাদ্য যে নাজায়েয এই বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য হাদীসের রাবী হযরত আয়েশা রা. বলছেন, উক্ত বালিকাদ্বয় কোনো গায়িকা ছিল না। তারা কোনো গান গায়নি।-ফাতহুল বারী ২/৪৪২

ইমাম কুরতুবী রাহ. বলেন, গান বলতে যা বুঝায়, বালিকাদ্বয় তা গায়নি। পাছে কেউ ভুল বুঝতে পারে তাই আয়েশা রা. বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ইমাম কুরতুবী আরো বলেন, বর্তমানে একশ্রেণীর সুফীরা যে ধরনের গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন ঘটিয়েছে তা সম্পূর্ণ হারাম।-তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫৪ বিখ্যাত সাধক হযরত জুনাইদ বাগদাদী রাহ. তার যুগে কাওয়ালি শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, বর্তমানে কাওয়ালি শোনার শর্তগুলো পালন করা হয় না। তাই আমি এর থেকে তওবা করছি।-আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৯২

জুনাইদ বাগদাদী রাহ.-এর যুগেরই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আমাদের যুগের অবস্থা কেমন হবে তা ভাববার বিষয়। এক বিদ্যান ব্যক্তি একটি শিক্ষণীয় উক্তি করেছিলেন যে, তোমরা আধুনিক হও ভালো কথা, কিন্তু আধুনিক হতে গিয়ে মনুষ্যত্বের সীমানা অতিক্রম করো না এবং শয়তানের দোসর বনে যেও না।

 

বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫

ত্রিপুরা রাজার গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড স্বপ্ন: পার্বত্যাঞ্চলসহ ১১ জেলা গিলে খাওয়ার আগ্রাসী ষড়যন্ত্র

 


ত্রিপুরা রাজার গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড স্বপ্ন: পার্বত্যাঞ্চলসহ ১১ জেলা গিলে খাওয়ার আগ্রাসী ষড়যন্ত্র...


প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেব বর্মা, এই নামটি শুনলেই মনে পড়ে ত্রিপুরার এক প্রাক্তন তথাকথিত রাজপরিবারের সদস্য, যিনি আজকাল রাজনীতির মাঠে 'বুবাগ্রা' নামে পরিচিত। কিন্তু এই 'বুবাগ্রা'র পিছনে লুকিয়ে আছে এক উগ্রবাদী মানসিকতা, যা শুধু ত্রিপুরার সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখলের স্বপ্ন দেখছে। জন্ম নেওয়া নয়াদিল্লির একটি বিলাসবহুল পরিবেশে, বর্তমানে আগরতলার উজ্জয়ন্ত প্রাসাদে বাসকারী এই কথিত 'মহারাজা', যিনি আসলে কোনো রাজত্বের অধিকারী নন, আজ TIPRA Motha পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। এই পার্টি, যা বির্তিক Indigenous Progressive Regional Alliance নামে পরিচিত, তার মাধ্যমে তিনি 'গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড' (Greatertipraland) নামক এক বিভ্রান্তিকর দাবি তুলে ধরেছেন, যা বাংলাদেশের ১১টি জেলাকে গিলে খাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এই ব্লগে আমি তার উৎপত্তি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক উস্কানিমূলক কথাবার্তা, ফেসবুক পোস্ট এবং মানচিত্রের মাধ্যমে তার আগ্রাসী মুখোশ খুলে ধরব। এটি শুধু একজন ব্যক্তির সমালোচনা নয়, বরং একটি জাতীয় হুমকির সতর্কবাণী।


প্রদ্যোতের জন্ম ৪ জুলাই, ১৯৭৮ সালে নয়াদিল্লিতে। তার বাবা কিরীট বিক্রম কিশোর দেব বর্মা এবং মা বিভু কুমারী দেবী, একটি কথিত রাজপরিবারের সদস্য হলেও, ত্রিপুরার মাটির সঙ্গে তার সরাসরি যোগসূত্র কতটা? তিনি শিলংয়ের সেন্ট এডমন্ডস কলেজ এবং নর্থ-ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু ত্রিপুরার উপজাতি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তার জন্মগত সম্পর্ক কোথায়? তিনি জার্নালিস্ট, ব্যবসায়ী এবং সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে TNT-The Northeast Today ম্যাগাজিনের এডিটরও ছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে TIPRA Motha-র চেয়ারম্যান হয়ে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, এবং ২০২১ সালের ১৯ এপ্রিল থেকে ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের (TTAADC) মেম্বার। তার কনস্টিটুয়েন্সি তাকারজালা-জম্পুইজালা। এই পদগুলো তার জন্য একটা ছদ্মবেশ, যার আড়ালে লুকিয়ে আছে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ষড়যন্ত্র। তার দাদু বীর বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা ছিলেন ত্রিপুরার কথিত শেষ রাজা, কিন্তু প্রদ্যোতের চাচা জিষ্ণু দেব বর্মা বা বোন প্রগ্যা দেববর্মা এবং কৃতি দেবী দেবর্মানের মতো পরিবারের সদস্যরাও এই উগ্রবাদী পথে যোগ দেননি। তাহলে প্রদ্যোত কেন এতটা আগ্রাসী?


গত দুই বছরে প্রদ্যোতের উস্কানিমূলক কথাবার্তা বাংলাদেশের প্রতি তার বিদ্বেষকে প্রকাশ করেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার পোস্টগুলোতে চট্টগ্রাম বন্দর দখলের হুমকি, পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি চাকমা, মারমা, তংচঙ্গ্যা, বম, খুমি, চাক, ম্রো, লুসাই, পাংখোয়া এবং রাখাইন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের কথা উঠেছে। তিনি দাবি করেন যে এরা ত্রিপুরার সঙ্গে যুক্ত হতে চান, এবং 'গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড' এর অংশ হয়ে উঠবেন। কিন্তু এটা কি সত্যি? পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কখনো গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের পক্ষে কথা বলেনি। তারা কখনো দাবি করেনি বরং কিছু তাদের জাতির সংগঠন নিজস্ব স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলে আসছে, যা বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ' এর আদলে মেনে নেয় এবং এখনো কিছু সংগঠন বিভিন্ন দাবিদাওয়া উত্থাপন করে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ এই অঞ্চলগুলোতে বাঙালি জনগোষ্ঠী ৪০০০ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী যাযাবর, তাদের আদিনিবাস ইতিহাস অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু এরা কি বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখলের অধিকার আছে? না, এটা প্রদ্যোতের কল্পনা, যা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।


সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে গত ১১ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি.। তার ফেসবুক আইডি 'Bikram Manikya Deb Barma' থেকে এক পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে, যা দিল্লির ব্লাস্টের প্রেক্ষাপটে ISI-এর হুমকির কথা বলে। পোস্টে লেখা: "In view of what has happened in delhi blast it is becoming very clear ISI will train home grown terror amongst disgruntled youth to target India. I have reports from credible source to suggest the presence of Pakistani Generals and brigadiers in Chittagong and Dhaka. ISI is already on a recruitment drive to lure frustrated Youth of our region to wage a war against India. Politics should Take a backseat over national interest and we all need to ensure that our youth are given jobs, constitutional rights and development across. And we need to also ensure that our minorities are not just protected but also empowered in bangladesh." 


এই পোস্টে তিনি চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় পাকিস্তানি জেনারেলদের উপস্থিতির কথা বলে বাংলাদেশকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। এটা শুধু গুজব নয়, এর সঙ্গে যুক্ত একটা মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের ম্যাপ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম জেলা, কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১টি জেলাকে লাল মার্ক করে 'গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড' নামকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই মানচিত্রটি একটা ষড়যন্ত্রের প্রতীক, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। প্রদ্যোতের এই দাবি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে আরও স্পষ্ট হয়েছে, যখন তিনি বলেন যে 'গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড' বাংলাদেশে সম্ভব, কারণ সেখানে উপজাতিদের সংখ্যা বেশি। কিন্তু এটা কি তার জন্মস্থান নয়াদিল্লির কারণে তার অধিকার? না, বাংলাদেশ এক স্বাধীন ভূখণ্ড, যেখানে বাঙালিরা হাজার বছরের ইতিহাস বহন করে। ত্রিপুরাদের যাযাবর জীবনযাপনের কারণে তারা কখনো এখানকার মালিক হয়নি।


নিরাপত্তা বিশ্লেষক, রাজনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রদ্যোতকে এক আগ্রাসী এবং সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী হিসেবে দেখেন। তার এই কথাবার্তা বাংলাদেশের ভূখণ্ড নিয়ে, যা তার অধিকারের বাইরে। বাংলাদেশের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণে ভারত থেকে এমন একজন 'কথিত রাজা' বাংলাদেশ-বিরোধী প্রচারণা, কুৎসা এবং বিভ্রান্তিমূলক গুজব ছড়াতে পারছেন। এর ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। ভারতের উচিত তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, যেমন তার পার্টির ফান্ডিং কাটা বা রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা। যদি ভারত ব্যর্থ হয়, তাহলে বাংলাদেশকে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এই মানচিত্র প্রত্যাহার এবং প্রদ্যোতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাতে হবে।


বাংলাদেশী সচেতন যুব সমাজ মনে করে, প্রদ্যোতের এই বাংলাদেশ মানচিত্র পরিবর্তন এবং ভাগের ষড়যন্ত্রের জন্য তার বিরুদ্ধে ভারতে এবং বাংলাদেশে মামলা করা উচিত। এধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজের জন্য তাকে শিক্ষা দেওয়া বাংলাদেশীদের জন্য জরুরি। তার উগ্র মানসিকতা যদি না রোধ করা হয়, তাহলে এটা শুধু সীমান্ত উত্তেজনা নয়, বরং একটা যুদ্ধের বীজ বপন করবে। বাঙালি জনগণ এই ধৃষ্টতা মেনে নেবে না, এর জবাবে 'বিষদাঁত উপড়ে ফেলা' হবে, যেমন আন্তর্জাতিক ফোরামে তার প্রচারণা উন্মোচন করে। প্রদ্যোতের স্বপ্ন ভেঙে দিতে হবে, না হলে বাংলাদেশের অখণ্ডতা বিপন্ন হবে।

সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫

আল-কোরআন আল্লাহর প্রেরিত কিতাব তার প্রমান কি?





আসলে আলকোরআন আল্লাহর কিতাব এটার প্রমান হাজারো আছে, নিচে কয়েকটি দেওয়া হলো,

তোমারা যারা আল-কোরআনকে অস্বীকার করো অথবা আল-কুরাআন নিয়ে যাদের সন্দেহ আছে, তোমরা কখনো কি আল-কুরআন খুলে দেখেছ? আল-কুরআনের আয়াতগুলো কখনো অনুধাবন করার চেষ্টা করেছ? তোমাদেরকে আমি আহবান করছি, আগে সম্পূর্ণ কুরাআন বাংলা আর্থসহ পড়ে দেখ। তারপর তুমি তোমার সিদ্ধান্ত গহন করো। যদি তুমি মানুষ হয়ে থাকো এবং যদি তোমার হিতাহিত জ্ঞান থাকে তবে তুমি অবশ্যই আল-কুরআনের সত্যতা স্বীকার করবে।

কুরআন বিজ্ঞানের বাইরে কিছু নয়। কুরআন এবং বিজ্ঞানকে আলাদা করার কিছু নেই। আল-কোরআনে ছয় হাজারেরও বেশি নিদর্শনস্বরুপ আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে যার মধ্যে এক হাজারেরও বেশি আয়াত বিজ্ঞানের বিষয়বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করে নাযিল হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি যা জানতে পেরেছে সেসব কথা আরো ১৪০০ আগেই কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞানের অনেক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়। কুরআনের যেসব আয়াতের বৈজ্ঞানিক সত্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে অবশ্যই একদিন তা সত্য বলে প্রমানিত হবে।

দিন ও রাত্রির বিবর্তন সম্পর্কে:

"তুমি কী দেখো না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন।" (লুকমান: ২৯)।

পৃথীবির আকৃতি সম্পর্কে:
"এবং আল্লাহ পৃথিবীকে ডিম্বাকৃতি করে তৈরি করেছেন" (আন-নাবিয়াত: ৩০)।

বিশ্বের উত্‍পত্তি ও বিগ ব্যাঙ সম্পর্কে:
"কাফেররা কী দেখে না যে, আকালমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল (সৃষ্টির একটা অংশ হিসেবে) অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম।" (আম্বিয়া: ৩০)।

"তারপর তিনি আকাশের দিকে মনযোগ দিলেন যা ছিল ধূমপুঞ্জ, তিনি তাকে এবং পৃথিবীকে বললেন, তোমরা আস ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় এলাম।" (হামীম মাজদাহ: ১১)।

সূর্য ও চাঁদের আলোর পার্থক্য সম্পর্কে:
"কল্যানময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সূর্য ও দীপ্তিময় চঁন্দ্র।" (আল-ফুরকান: ৬১)।

"তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সূর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চাঁদকে স্নিগ্ধ আলো বিতরনকারীরুপে। (ইউনুস-৫)।

সূর্যের ও পৃথীবির আবর্তন সম্পর্কে:
"তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।" (আম্বিয়া-৩৩)।

"সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি আগে চলে না দিনের। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে প্রদক্ষিন করে।" (ইয়াসিন:৩৩)।

"সূর্য আবর্তন করে তার নির্দিষ্ট অবস্থানে। এটা পরাক্রমশীশ সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিয়ন্ত্রনে।"


মহাবিশ্বের সম্প্রসারন সম্পর্কে:
"আমি নিজ হাত দ্বারা আকাশ নির্মান করেছি এবং আমিই এর সম্প্রসারনকারী" (যারিয়াত: ৪৭)

এখানে উল্লেখ করা দরকার, খ্যাতনামা বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার 'সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস' (A Brief History Of Time) নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, "মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে"।

পানি বাষ্পে পরিনত হওয়া সম্পর্কে:
"আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি, অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষন করি, অতঃপর তোমাদেরকে তা পান করাই।" (হিজর: ২২)।

পানি, বৃষ্টি ও বায়ু সম্পর্কে:
"তুমি কি দেখনা যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখ যে, তা হতে বৃষ্টিনারা নির্গত করেন।" (আন-নূর: ৪৩)

এজাড়াও সুরা ত্বারিক ১১, রাদ ১৭, ফুরকান ৪৮,৪৯, ফাতির ৯, আরাফ ৫৭, ইয়াসীন ৩৪, জামিয়া ৫, কাফ ৯,১০,১১, ওয়াক্বিয়া ১৯ উল্লেখযোগ্য।

পাহাড় পর্বতের পেরেক সাদৃশতা সম্পর্কে:
"আমি কি ভূমিকে বিছানা করিনি, এবং পর্বতমালাকে পেরেক তৈরি করিনি" (নাবা: ৬-৭)

"আমি পৃথিবীতে ভারি বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে।" (আম্বিয়া: ৩১)

সুমুদ্র, মিষ্টি ও লবনাক্ত পানি সম্পর্কে:
"তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন, উভয়ের মাঝখানে রয়েছে অন্তরাল, যা কখনো অতিক্রম করে না।" (আর রাহমান: ১৯-২০)

"তিনিই সমান্তরালে দুই সমুদ্র করেছেন, এটি মিষ্ট তৃষ্ঞা নিবারক ও এটি লোনা বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য আড়াল।" (ফুরক্বান: ৫৩)

সব কিছুর জোড়ায় জোড়াস সৃষ্টি সম্পর্কে:
"আমি প্রত্যেক জিনিসকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহন কর।" (অয-যারিয়াত: ৪৯)

"আর আকাশ থেকে তিনি পানি বর্ষন করেন, তা দিয়ে বিভিন্ন লতা-যুগল উত্‍পন্ন করেন, যার একেকটি অন্যটি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।" (ত্ব-হা: ৫৩ )

পানি দ্বারা প্রাণী সৃষ্টি সম্পর্কে:

অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তাকে স্তরে

স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখ যে, তা হতে বৃষ্টিনারা নির্গত করেন।" (আন-নূর: ৪৩)

এজাড়াও সুরা ত্বারিক ১১, রাদ ১৭, ফুরকান ৪৮,৪৯, ফাতির ৯, আরাফ ৫৭, ইয়াসীন ৩৪, জামিয়া ৫, কাফ ৯,১০,১১, ওয়াক্বিয়া ১৯ উল্লেখযোগ্য।


পাহাড় পর্বতের পেরেক সাদৃশতা সম্পর্কে:
"আমি কি ভূমিকে বিছানা করিনি, এবং পর্বতমালাকে পেরেক তৈরি করিনি" (নাবা: ৬-৭)

"আমি পৃথিবীতে ভারি বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে।" (আম্বিয়া: ৩১)

সুমুদ্র, মিষ্টি ও লবনাক্ত পানি সম্পর্কে:
"তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন, উভয়ের মাঝখানে রয়েছে অন্তরাল, যা কখনো অতিক্রম করে না।" (আর রাহমান: ১৯-২০)

"তিনিই সমান্তরালে দুই সমুদ্র করেছেন, এটি মিষ্ট তৃষ্ঞা নিবারক ও এটি লোনা বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য আড়াল।" (ফুরক্বান: ৫৩)

সব কিছুর জোড়ায় জোড়াস সৃষ্টি সম্পর্কে:
"আমি প্রত্যেক জিনিসকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহন কর।" (অয-যারিয়াত: ৪৯)

"আর আকাশ থেকে তিনি পানি বর্ষন করেন, তা দিয়ে বিভিন্ন লতা-যুগল উত্‍পন্ন করেন, যার একেকটি অন্যটি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।" (ত্ব-হা: ৫৩ )


পানি দ্বারা প্রাণী সৃষ্টি সম্পর্কে:
"আল্লাহ প্রত্যেক প্রাণীকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।" (আন-নূর: ৪৫)

মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে:
"পড় তোমার প্রভূর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।" ( আলক্ব: ১,২ )

আমি এখানে বৈজ্ঞানিক সত্য স্বল্প সংখ্যক আয়াত উল্লেখ করলাম। আপনার নিশ্চই স্বীকার করবেন, আরো ১৪০০ বছর আগে কোনো মানুষের পক্ষে এরকম বৈজ্ঞানিক ও বিশ্লেষনমূলক সত্য জানা সম্ভব নয়। তার মানে, আল-কুরাআন যে আল্লাহর কালাম তাতে কোনো সন্দেহ নই।

যদি তারপরেও কেউ অবিশ্বাস করেন তাকে আমার কিছু বলার নেই। আল-কুরআনে আল্লাহ নিজেই উল্লেখ করেছেন,

"তারা বধির, বোবা ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।" (বাকারাহ: ১৮)।

এই পর্বটি পড়ার আগে পাঠকগন নিশ্চয়ই মনে রাখতে হবে যখন কোরআন নাজিল হয়েছিলো তখন পৃথিবীতে ক্যালকুলাস ছিলো না, কম্পিউটার ছিলো না,ইন্টারনেট ছিলো না, ছিলো না কোনো যোগাযোগের উন্নত ব্যবস্থা, আরবে তখন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো না, ছিলো না গবেষনাগার,তবে কে শিখালো এই মহা আশ্চর্যময় কোরআন যদি তার একজন মাহান স্রষ্টাই না পাঠিয়ে থাকে?

আলকোরআনের গানিতিক মুজিজা:

কুরআনে ১৯ সংখ্যাটির প্রয়োগঃ 

আল্লাহ পবিত্র কুরআনকে এক বিশেষ সংখ্যা দ্বারা কোড করে রেখেছেন। অর্থাৎ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছেন, যার ফলে আপনি আমি একটি অক্ষরও এই কুরআন থেকে কমাতে বা বাড়াতে পারবো না। আর সেই সংখ্যা বা কোডটি হলো ১৯। 

১৯৭৪ সালে রাশাদ খালিফা নামক একজন মিশরীয়-মার্কিন জৈব-রসায়নবিদ ও ধর্মতাত্ত্বিক দাবী করেন যে, কুরআনে ১৯ সংখ্যাকে কেন্দ্র করে একটি জটিল গাণিতিক অলৌকিক মোজেজা বা মিরাকল রয়েছে। 

১৯ সংখ্যাটির ১ এবং ৯ এর যোগফল হচ্ছে ১০, আবার ১ এবং ০ এর যোগফল হচ্ছে ১। অর্থাৎ এখানে আসলে এক আল্লাহকেই বোঝানো হচ্ছে। এবং উনি আরো দাবী করেন, কুরআনের অনেক কিছুই ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। যা প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর আগের একজন মরুভূমির উট চরানো অক্ষর না চেনা মানুষের পক্ষে রচনা করা কিছুতেই সম্ভব নয়। এর অর্থ হচ্ছে, কুরআন আল্লাহর বাণী। এই নিয়ে তিনি ‘The Computer Speaks: God’s Message to the World’  নামে একটি বই বের করেন। যদিও তার এই বই এর অনেকেই বিরোধিতা করেন এবং তার এই মতবাদের জন্য তাকে শাস্তি প্রদান করা হয়।

পবিত্র কুরআনে ১৯ এর ঘোষণাঃ

সূরা মুদ্দাসসির এর ৩০ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “এর উপর রয়েছে ১৯” যা আমি শুরুতে একবার বলেছি। ঘটনা তা না, ঘটনা হল- আল্লাহ তায়ালা সূরা মুদদাসসির এর ৩০ নং আয়াতটি নাযিলের পর একটু বিরতি দিয়ে সুরা আলাকের বাকি ১৪ টি আয়াত নাযিল করেন। এর ফলে পুর্বে নাযিলকৃত ৫ আয়াত সহ, গোটা সূরা আলাকের আয়াত দাড়ালো ১৯ ।

সূরাটিতে ১৯ এর যে আকষ্যিক কোন কারিশমা রচিত হয় নি, বরং এর পিছনে রয়েছে আল্লাহ তায়ালার সূক্ষ ইচ্ছা তা এই ঘটনার রহস্য বুঝে বুদ্ধিমানরা সহজেই আন্দাজ করতে পারবেন।

গোপন সূরার গোপন খবর: 

কুরআন যে ১৯ সংখ্যার গাণিতিক কোড দিয়ে সাজানো এটা প্রথম ১৯৭৪ সালে আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। আরবী “মুদ্দাসসির” শব্দটির অর্থ “লুকায়িত” বা ‘গোপন’। সূরা মুদ্দাসসির কুরআনের ৭৪ তম সূরা। আর এই সূরাতেই ১৯ সংখ্যাটির প্রয়োগ উল্লেখ করা হয়েছে সুরাটির ৩০ নং আয়াতে। যা এই অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করেছি। কথা হচ্ছে, যখন আমরা আবিষ্কৃত ১৯ আর সূরা মুদ্দাসসির এর কুরআনে অবস্থান ৭৪ কে পাশাপাশি বসাই, তখন যে সংখ্যাটি পাওয়া যায় তা হলো ১৯৭৪, যা যে সালে বিষয়টি আবিষ্কার করা হয়েছে তার সমান। হযরত ইসা (আঃ) এর জন্মের পর ১৯৭৪ বছর ধরে একটা গোপন রহস্য মানবজাতীর জ্ঞানচক্ষুর আড়ালে রেখে দিয়েছিলেন মহাশক্তিশালী বিচার দিনের মালিক!! কি মহামহিম তিনি!

 

রহস্য যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো! অহ!  কি পহাপরাক্রমশালী তিনি !!

পৃথিবীতে যখন ১৯৭৪ সালটি চলছিল, তখন হিজরী সাল চলছিল ১৩৯৩ সাল। কুরআন প্রথম নাজিল হওয়া শুরু হয় হিজরতের ১৩ বছর আগে। এই তের বছর ১৩৯৩ এর সাথে যোগ করলে মোট দাড়ায় ১৪০৯ বছর। অর্থাৎ কুরআন নাজিলের শরু থেকে শুরু করে মোট ১৪০৯ বছর পর কুরাআনের একটা “মুদ্দাসসির” বা “গোপন” রহস্য উন্মোচিত হয়। 

এই ১৪০৯ ?? এটার আবার গুরুত্ব কি ? এরও কি রহস্য আছে? হুমম-আছে বৈকি! 

১৯ কে ৭৪ দিয়ে গুন করলে ১৪০৯ হয়ে যায় যে! ১৯*৭৪=১৪০৯। 

কি অবাক কান্ড! সবই কি কাকতালীয়ভাবে মিলে যাচ্ছে!! 

রহস্যটা তো এখানেই শেষ নয়! এই সূরার প্রথম দুই আয়াত এরকম 

يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ74.1 قُمْ فَأَنْذِرْ74.2 

“হে চাদরাবৃত ২. উঠুন, সতর্ক করুন।” [সুরা মুদ্দাসসির, ৭৪ঃ১-২]

 

এই দুই আয়াতে মোট অক্ষর এর সংখ্যা ১৯ টি। আর আয়াতদুটির মোট সংখ্যাগত মান কত হতে পারে? আপনি হয়তো ভাবতেও পারছেন না যে, উত্তরটা কি হবে! হ্যাঁ, এই আয়াতদুটির সংখ্যাগত মান হিসাব করলে তা দাঁড়ায় ১৯৭৪!

আল্লাহ কেন সতর্ক করতে বলেছেন, এবার বুঝা যাচ্ছে? কত রহস্য করে রহস্যের বর্ণনা দিচ্ছেন! সতর্ক করে সতর্কের বাণী পাঠালেন!  

কুরআনের সর্বশেষ সূরাটি হল সূরা আন-নাস। এটি ১১৪ তম সূরা। এ সূরার শব্দ সংখ্যা হল ১৯। আর এই ১৯ টি শব্দে আছে মোট ৬ টি আয়াত। ১৯*৬ = ১১৪। কি দারুণ মিল! না 

প্রথম ওহী সূরা আলাক এর প্রথম পাচটি আয়াতের শব্দ সংখ্যার মতই কুরআনের আরো বহু পরিসংখ্যান ১৯ দিয়ে ভাগ করা যায়। 

কোরআন যিনি নিয়ে এসেছেন তিনি রাসূল। রাসূল শব্দটি এসেছে- ৫১৩ বার।

যার বাণী রাসূল নিয়ে এসেছেন তিনি রব। রব শব্দটি এসেছে- ১৫২ বার।

কেন্দ্রীয় বাণীর অপর পরিভাষা হচ্ছে আবদ। আবদ শব্দটিও এসেছে- ১৫২ বার।

আবদ এর কাজ যে করবে তাকে বলে আবীদ। আবিদ শব্দটিও এসেছে- ১৫২ বার।

কোরআনের কেন্দ্রীয় বাণী হচ্ছে ইবাদাত। ইবাদাত শব্দটি এসেছে- ১৯ বার।

এ সব কটি পরিসখ্যানই ১৯ দিয়ে ভাগ করা যায়।

নাস্তিক এবং সন্দেহবাদীরা সব সময় প্রশ্ন করে ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনেনীত ধর্ম এর প্রমান কি? সকল ধর্মই তো নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে,তাইলে কি হযরত মুহাম্মদ সা: গতানুগতিক একজন মানুষ ও আদর্শ প্রচারকারী নয়?

ইসলাম শুধু আল্লাহর মনোনীত সত্য ধর্মই নয়, বরং আগের সকল ধর্ম ও সত্য পয়গ্বরদের সত্যায়ন কারীও বটে, কেননা আলকোরআনে আগের সকল বিশুদ্ধ ধর্ম ও নবীদের সত্যায়ন করেছে,কিন্তু হযরত মুহাম্মদ সা: আগমনের পর আগের সকল ধর্মের আইন রহিত হয়ে গেছে।

চলুন ইসলাম একমাত্র আল্লাহর মনোনীত ধর্ম এই বিষয়ে কোরআন কি বলেছে দেখি।

ইসলাম শুধু ধর্ম নয়; দ্বীন, মুসলিম ধার্মিক হিসেবে আপনি নিশ্চয়ই ইসলামকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম বা একমাত্র সত্য ধর্ম বলে বিশ্বাস করেন। কিন্তু কুরআন মাজীদে ইসলামকে একমাত্র দ্বীন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে,  إن الدين عند الله الإسلام

‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।’ (সূরা আলে ইমরানঃ ১৯)

 

ومن يبتغ غير الإسلام دينا فلن يقبل منه وهو في الآخرة من الخاسرين

‘যদি কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের ইচ্ছা করে তবে তাকে গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সূরা আলে ইমরানঃ ৮৫)।

 

মুহাম্মদ (সঃ) শুধু ধর্মগুরু ননঃ

আল্লাহ্ তা’আলা কুরআনে রাসূলুল্লাহকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে সুন্দরতম আদর্শ বলে ঘোষণা করেছেন:

لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة لمن كان يرجو الله واليوم الآخر وذكر الله

 

‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে সুন্দর আদর্শ রয়েছে।’

(সূরা আহযাব: ২১)

অর্থাৎ তিনি নবুওয়াত লাভ করার পর যাকিছু করেছেন সবই নবী হিসেবেই করেছেন। মসজিদে ইমামতি করার সময় যেমন নবী হিসাবেই করেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করার সময়ও নবী হিসেবেই করেছেন। কেননা কুরআন মাজীদে ঘোষণা করা হয়েছে-

‘তিনি মনগড়া কথা বলেন না, বরং এটা তো ওহী, যা তার উপর নাযিল করা হয়, إن هو إلا وحي يوحى   /     وما ينطق عن الهوى

(সূরা নাজম: ৩-৪)।

অর্থাৎ তিনি যাকিছু করেছেন আল্লাহর নির্দেশেই করেছেন।সুতরাং শুধু নামায-রোযা-হজ্জ- যাকাতের বেলায় তাঁকে মেনে চলাই যথেষ্ট নয়। জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁকে অনুকরণ ও অনুসরণ করাই প্রত্যেক মুসলমানের কর্তৃব্য।

আল্লাহ তাআলা রাসূল (সঃ)-কে শুধু ্একজন দূত হিসেবে কুরআন মাজীদকে পৌঁছেয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে পাঠাননি। বরং তাঁকে কুরআনের একমাত্র সরকারি ব্যাখ্যাতার দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কথা, কাজ ও অনুমোদন ইত্যাদি সবই কুরআনের ব্যাখ্যা, যা হাদীসে পাওয়া যায়। তাঁর দেওয়া ব্যাখ্যা ছাড়া কুরআনে বর্ণিত কোন হুকুমই পালন করা সহজ নয়। মূলত দেখা যায়, রাসূল (সঃ)-এ বাস্তব জীবনের সবটুকুই কুরআরনের ব্যাখ্যা। তিনিই জীবন্ত কুরআন, আসল কুরআন ও বাস্তব কুরআন। আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, ‘রাসূলের (সঃ) জীবনই কুরআনরে বাস্তব রূপ’।

 

দীনদারী ও দুনিয়াদারিঃ

আমাদের সমাজে নামায পড়া, রোযা রাখা, যাকাত দেওয়া, হজ্জ করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, যিকর করা দু’য়া করা ইত্যাদি কাজকে দীনদারি মনে করা হয়।আর বিয়ে-শাদি, ব্যবসা-বাণিজ্য, আয়-রুজগার, সন্তান লালন-পালন করা ইত্যাদি কাজকে দুনিয়াদারি বলে ধারণা করা হয়।

আসলে মুমিনের জীবনে দীনদারি ও দুনিয়াদারি আলাদা কিছু নয়। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে হলে যা কিছু করতে হয় তা সবই দীনদারিতে পরিণত হয়, যদি তা আল্লাহর হুকুম ও রাসূল (সঃ)-এর তরিকা অনুযায়ী পালন করা হয়। যদি আল্লাহর হুকুম ও রাসূল (সঃ)-এর তরিকা অনুযায়ী করা না হয় তাহলে নামায-রোযাও দীনদারি নয়।

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুাহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (কালেমা তাইয়্যেবা)

মর্ম বুঝে যে তা মুখে উচ্চারণ করে তাকেই মুমিন বলা হয়। এ কালেমার মাধ্যমে একথাই ঘোষণা করা হয় যে, আমি আল্লাহকে একমাত্র হুকুমকর্তা প্রভু বলে মানি এবং তাঁর হুকুমের বিরোধী কারো হুকুম মানতে রাজি নই।আর আল্লাহর হুকুম যে পদ্ধতিতে রাসূল (সঃ) পালন করেছেন আমি একমাত্র ঐ পদ্ধতিতে আল্লাহর হুকুম পালন করবো।আমার ইচ্ছা মত যা খুশি তা করতে পারব না।

এ কালেমার মাধ্যমে একথাও স্বীকার করা হয় যে, আমার জীবনে যখন যা কিছু করব তা একমাত্র আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের তরিকামতই করব। আসলে এ কালেমা হলো জীবনের দু দফা কর্মনীতি। যাই করি একমাত্র আল্লাহর হুকুম ও রাসূল (সঃ)-এর তরীকা মুতাবেক করব। যদি এ শর্ত পূর্ণ করা হয় তাহলে যা কিছু করা হয় তা সবই ইবাদত ও দীনদারি হিসেবে গণ্য হবে।ইবাদত মানে দাসত্ব। মুনিবের আদেশ মানাই ইবাদত।আবদ মানে দাস।দাসের কাজই হলো দাসত্ব।

 

يا أيها الذين آمنوا ادخلوا في السلم كآفة ولا تتبعوا خطوات الشيطان إنه لكم عدو مبين

 

ইসলামকে আংশিক ভাবে গ্রহণের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারিঃ

সূরা বাকারার ২০৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,

‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা পরিপূর্ণ ভাবে ইসলাম গ্রহণ কর।’

অর্থাৎ আল্লাহ মানুষকে এ ইখতিয়ার দেননি যে, কেউ তার ইচ্ছামত ইসলামের কিছু আংশ মানলেই চলবে- এ কথা চিন্তা করা অজ্ঞতার শামিল।কেননা দীনের কোন অংশকে বাদ দিলে ইসলাম গ্রহণ করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না।

কেউ যদি ধর্মীয় ক্ষেত্রে ইসলামকে মানে, কিন্তু ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক ও সর্ব ব্যাপী ক্ষেত্রে ভিন্ন সংষ্কৃতির ধারা পরিচালিত হয়, তাহলে সে ইসলাম গ্রহণ করেনি বলেই গণ্য হবে।

ثُمَّ أَنْتُمْ هَٰؤُلَاءِ تَقْتُلُونَ أَنْفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقًا مِنْكُمْ مِنْ دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِمْ بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَإِنْ يَأْتُوكُمْ أُسَارَىٰ تُفَادُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ ۚ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ ۚ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَٰلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَىٰ أَشَدِّ الْعَذَابِ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ

 

সূরা বাকারা ৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তবে কি তোমরা কিতাবের এক অংশের উপর ঈমান রাখ আর বাকি অংশকে অবিশ্বাস কর ? তোমাদের মধ্যে যারাই এরূপ করবে তাদের জন্য এছাড়া আর কী শাস্তি হতে পারে যে, তারা দুনিয়ার জীবনে অপমান ও লাঞ্ছনা ভোগ করবে এবং আখিরাতে তাদেরকে কঠিন আযাবের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’

 

কুরআন বুঝার চেষ্টা করা ফরয:

যারা অশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত তারা না বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করলে আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সওয়াব থেকে বঞ্চিত করবেনা। তবে কুরআন বুঝে পড়া উত্তম, কিন্তু  যারা দুনিয়ার জীবনের উন্নতির প্রয়োজনে বিদেশি ভাষা আয়ত্ত করার জন্য বহু বছর ও সময় ব্যয় করেছে, তারা কুরআন বুঝার জন্য চেষ্টা করা  ছাড়াই আখিরাতে সাফল্য লাভের আশা কেমন করে করেন ? দীনের ফরযটি আদায় করার জন্যই কুরআন বুঝার চেষ্টা করা অপরিহার্য।

কুরআনের অনেক বিখ্যাত তাফসীর বাংলা ভাষায় অনূদিত  হয়েছে অনেক বই।আরবী জানা না থাকলেও কুরআন বুঝা সম্ভব। আরবী ও উর্দু থেকে বাংলায়  গ্রন্থ অনূদিত হয়েছে ।  রচিত বইয়ে সংখ্যাও অনেক।

বাংলা ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে বিশাল সাহিত্যভান্ডার সৃষ্টি হয়েছে। এবং নেটে  চার্চ করে ও ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করা কঠিন নয়।

ইসলাম সম্পর্কে মূর্খ লোকেরা যত উচ্চশিক্ষিতই হোক  বা সমাজে যত প্রধান্যই বিস্তার করুক, তাদের মতামত ইসলামেরর ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য নয়।

আল্লাহ যেসব কাজ করাকে ফরয করেছেন  এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফরয হলো আল্লাহর দীনকে কায়েম বা বিজয়ী করার চেষ্টা করা। প্রত্যেক মুমিনকে আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করার জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল সৃষ্টির জন্যই বিধান দিয়েছেন। প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য এর উপযোগী বিধান রচনা করে তিনি নিজেই সে বিধান ঐ সৃষ্টির উপর জারি করেন। কোন সৃষ্টিই আল্লাহর বিধান অমান্য করতে পারে না। এভাবেই গোটা বিশ্বে তাঁর রাজত্ব কায়েম আছে তাঁর এ রাজ্যে আর কারো হতে কোন ক্ষমতা নেই। তিনিই একচ্ছত্র প্রভু ও হুকুমকর্ত।

চলুন অন্য ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে হযরত মুহাম্মদ সা: সত্য নবী এবং ইসলাম সত্য ধম এই বিষয়ে তারা স্বীকার করে কিনা দেখ যাক:

বাইবেলের পূরাতন নিয়মে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী

ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: 

বনী ইসমাঈলের মধ্য থেকে মূসা সদৃশ এক নবীর আগমন হবে।

বাইবেলের পুরাতন নিয়মে আছে “তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য আমার মত একজন নবী দাঁড় করাবেন। তাঁর কথামত তোমাদের চলতে হবে।” ( দ্বিতীয় বিবরন- ১৮:১৫)

আবার এর সাথে বাইবেলে এ কথাও আছে, “আমি তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তাদের জন্য তোমার মত একজন নবী দাঁড় করাবো। তার মুখ দিয়েই আমি আমার কথা বলব, আর আমি যা বলতে তাকে আদেশ দেব সে তাই তাদের বলবে।” (দ্বিতীয় বিবরন ১৮:১৮)

মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন সংক্রান্ত এই ভবিষ্যদ্বাণী যখন উপস্থাপন করা হয় তখন খৃষ্টানরা এই আপত্তি করেন যে, মুহাম্মদ (সা.) নয় বরং যীশুর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণীই এখানে করা হয়েছে। তাদের এই দাবীর মোটেও কোন ভিত্তি নেই। কারণ বাইবেলের উপরোক্ত উদ্ধৃতিদ্বয়ের মাঝেই তাদের এই দাবীর খন্ডন বিদ্যমান।

যেমন: (১) এখানে মোশি অর্থাৎ মূসা (আ.) স্পষ্টভাবে বলছেন ‘আমার মত একজন নবী দাঁড় করাবেন’ অথচ যীশু কখনো নিজেকে মূসার সদৃশ বলে ইঞ্জিলের কোথাও দাবী করেননি। 

(২) যীশু মূসার ন্যায় কোন নতুন ব্যবস্থা বা শরীয়ত নিয়ে আসেন নি বরং তার শরীয়তকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য আগমন করেছেন। (মথি ৫: ১৭-১৮) (৩) এই ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে, এই নবী তাদের অর্থাৎ ‘ইস্রায়েলীয় ভাইদের মধ্য হতে’ আগমন করবেন। এখানে ‘তাদের মধ্য থেকে’ বলা হয় নি। আর ইস্রায়েলীয় ভাই বলতে আব্রাহামের আরেক পুত্র ইসমাঈলের বংশধর অর্থাৎ বনী ইসমাঈলকেই বোঝায়। আর হযরত মুহাম্মদ (সা.) বনী ইসমাঈলেই জন্মগ্রহন করেছেন। ইস্রায়েলীয় ভাই বলতে বনী ইসমাঈলকেই যে বোঝানো হয়েছে এর জন্য আরো দেখুন (আদি পুস্তক ১৬: ১১-১২ ও আদি পুস্তক ২৫: ১৭-১৮) । 

 

(৪) নবুয়ত লাভের ক্ষেত্রেও মূসা (আ.)-এর সাথে মুহাম্মদ (সা.)-এর সাদৃশ্য রয়েছে। মূসা (আ.) ৪০ বৎসর বয়সে নবুয়ত লাভ করেছিলেন (প্রেরিত ৭ : ৩০)। অনুরুপভাবে মুহাম্মদ (সা.) ও ৪০ বৎসর বয়সে নবুয়ত লাভ করেছেন পক্ষান্তরে যীশু নবুয়ত লাভ করেছিলেন ৩০ বৎসর বয়সে।

 

ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: ‘পারন’ নামক এলাকা থেকে তিনি অর্থাৎ সেই নবী আগমন করবেন বাইবেলে আছে “সদাপ্রভূ সিনাই থেকে আসলেন, তিনি সেয়ীর থেকে তাদের উপর আলো দিলেন, তার আলো ‘পারন’ পাহাড় থেকে ছড়িয়ে পড়ল। তিনি লক্ষ লক্ষ পবিত্র স্বর্গদূতদের মাঝখান থেকে আসলেন; তার ডান হাতে রয়েছে তাদের জন্য আগুন ভরা আইন।” (দ্বিতীয় বিবরন ৩৩ : ২)

 

মক্কা সহ সমগ্র হেজাজ এলাকাকে ‘পারন’ বা আরবীতে ‘ফারান’ বলা হয়। আরব ভূগোল বিশারদদের মতানুযায়ী এ কথা প্রমাণিত। আর বাইবেলে এ কথা স্পষ্টভাবে বিদ্যমান যে, মহানবী (সা.) এর পূর্ব-পুরুষগণ অর্থাৎ বনী ইসমাঈল এ এলাকাতেই বসবাস করতেন। বাইবেলে বলা হয়েছে-“পারন নামে এক মরু এলাকায় সে (ইসমাঈল) বাস করতে লাগলো।” (আদিপুস্তক ২১:২১) এই ভবিষ্যদ্বাণীর আরেকটি অংশে যে আগুন ভরা আইনের কথা বলা হয়েছে তা-ও কুরআন করীম নাযেল হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছে।

ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন: সেই নবীর চেহারার বর্ণনা ও দশ হাজার পবিত্র আত্মাসহ আগমন- বাইবেলে হযরত সুলায়মান (আ.) সেই প্রতিশ্রুত নবীর চেহারার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলছেন, “আমার প্রিয়ের চেহারা শ্বেত, লালচে তার গায়ের রং; দশ হাজার জনের মধ্যে তিনি বিশেষ একজন। তাঁর মাথা খাঁটি সোনার মত, তাঁর চুল ঢেউ খেলানো আর দাঁড় কাকের মত কালো।” (পরমগীত ৫:১০-১৬)

এই ভবিষ্যদ্বাণীও মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। ভবিষ্যদ্বাণীতে সেই নবীর চেহারার যে বর্ণনা এসেছে তা পুরোপুরি মুহাম্মদ (সা.)-এর চেহারার সাথে সাদৃশ্য রাখে। যেমন, মহানবী (সা.) এর চেহারা ছিল সাদা ও উজ্জ্বল লালচে আর চুল ছিল কালো ও ঢেউ খেলানো। পক্ষান্তরে হযরত ঈসা (আ.)-এর চেহারা ছিল রক্তিম বর্ণের ও চুল ছিল কোকড়ানো ও সোনালী বর্ণের। এই ভবিষ্যদ্বাণীর আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, সেই নবী দশ হাজার জনের মধ্যে বিশেষ একজন। মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কা বিজয় করেন তখন তাঁর সাথে দশ হাজার সাহাবী ছিলেন। তিনি (সা.) ছিলেন তাদের সবার মাঝে বিশেষ একজন।

 

বাইবেলের নূতন নিয়মে অর্থাৎ ইঞ্জিলে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী

ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: প্রতিশ্রুত সেই নবীর অস্বীকারকারীদের শাস্তি প্রদান করা হবে। ইঞ্জিলে এসেছে নবী মুসা বলেছিলেন, “তোমাদের ঈশ^র সদাপ্রভূ তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য আমার মত একজন নবী দাঁড় করাবেন। তার কথামত তোমাদের চলতে হবে। যে তার কথা শুনবেনা তাকে তার লোকদের মধ্য থেকে একেবারে ধ্বংস করা হবে।” (প্রেরিত ৩:২২-২৩)

বাইবেলের এই ভবিষ্যদ্বাণীও আঁ হযরত (সা.)-এর ক্ষেত্রে পূর্ণ হয়েছে। কারণ তাঁর (সা.) জীবদ্দশাতেই তাঁর বড় বড় বিরোধীরা ধ্বংস হয়েছিল যেমন আবু জাহেল, আবু লাহাব, আরো অনেকেই। এই ভবিষ্যদ্বাণী কখনো মসীহ্ দ্বারা পূর্ণ হয় না কেননা তার জীবদ্দশাতে তাঁর কোন বিরুদ্ধবাদী মারা যায় নি উপরন্তু তাঁকেই ক্রুশে চড়তে হয়েছিল।

ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: মসীহ্ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, তাঁর পর এমন এক সত্যের রুহ্ (আত্মা) আগমন করবেন তিনি যা কিছু বলবেন ঈশ্বরের পক্ষ থেকেই বলবেন এবং তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হবে। ইঞ্জিলে মসীহ্ সেই প্রতিশ্রুত নবীর আগমন সম্পর্কে বলছেন- “কিন্তু সেই সত্যের রুহ্ যখন আসবেন তখন তিনি তোমাদের পথ দেখিয়ে পূর্ণ সত্যে নিয়ে যাবেন। তিনি নিজ থেকে কথা বলবেন না, কিন্তু যা কিছু শোনেন তাই বলবেন। আর যা কিছু ঘটবে তাও তিনি তোমাদের জানাবেন।” (যোহন ১৬:১৩)

এই ভবিষ্যদ্বাণীটিও মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। মসীহ্ পর মুহাম্মদ (সা.)-ই এসেছেন যিনি পূর্ণ সত্য দেখিয়েছেন । মুহাম্মদ (সা.) যা কিছু বলতেন আল্লাহ তা’লার পক্ষ থেকেই বলতেন (সূরা নজম : ৪-৫)। পৃথিবী সাক্ষী যে, মুহাম্মদ (সা.) আজ থেকে চৌদ্দ শত বৎসর পূর্বে যে সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে এবং আজও পূর্ণ হচ্ছে।

 

ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন: সেই নবী এসে মসীহ্ মহিমা প্রকাশ করবেন মসীহ্ সেই নবী সম্পর্কে বলছেন, “সেই সত্যের রুহ্ আমারই মহিমা প্রকাশ করবেন, কারণ আমি যা করি ও বলি তাই তিনি তোমাদের কাছে প্রকাশ করবেন” (যোহন ১৬:১৪)।

মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে মসীহ্ এই ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণতা পেয়েছে। মুহাম্মদ (সা.) এসে মসীহ্ মহিমা প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁকে ক্রুশীয় মৃত্যুর অপবাদ থেকে এবং তাঁর মাকে অসতী অপবাদ থেকে মুক্ত করেছেন।

ভবিষ্যদ্বাণী (৪) চার: মসীহ্ পর অন্য একজন সাহায্যকারী আসবেন। যার শিক্ষা চিরকাল থাকবে। মসীহ্ বলেন “আমি পিতার কাছে চাইব, আর তিনি তোমাদের কাছে চিরকাল থাকবার জন্য আরেকজন সাহায্যকারীকে পাঠিয়ে দিবেন।” (যোহন ১৪:১৬)

এই ভবিষ্যদ্বানীটিও একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করেছে কেননা মসীহ্র পর চিরস্থায়ী শরীয়ত নিয়ে একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-ই আগমন করেছেন।

 

হিন্দুদের ধর্ম গ্রন্থ বেদে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের কিছু ভবিষ্যদ্বাণী

ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: মানব কর্তৃক প্রশংসিত এক নবীর আগমন হবে-

অথর্ব বেদে আগমনকারী সেই নবী সম্পর্কে বলা হয়েছে- “ইদংজনা উপশ্রুত নরাশংসঃস্তবিষ্যতে।” (অথর্ব বেদ ২০ নম্বর গ্রন্থ, ১২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ, ১ নম্বর মন্ত্র) অর্থ: ‘এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব হবে যিনি হবেন মানব কর্তৃক প্রশংসিত।’

আমরা যদি ‘নরাশংস’ শব্দটিকে মুহাম্মদ শব্দটির সাথে মিলিয়ে দেখি তাহলে দেখতে পাই দুটি শব্দের অর্থ পুরোপুরি এক। ‘নরাশংস’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে নর দ্বারা অর্থাৎ মানুষ দ্বারা প্রশংসিত। তদ্রুপ মুহাম্মদ শব্দের অর্থও প্রশংসিত অর্থাৎ মানব কর্তৃক যিনি অনেক বেশী প্রশংসিত।

ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: সেই প্রতিশ্রুত নবী উটে আরোহণ করবেন- অথর্ব বেদের আরেক স্থানে আছে- “উষ্ট্রা যস্য প্রবাহনো বধুমন্তো দ্বির্দশ” (অথর্ব বেদ ২০ নম্বর গ্রন্থ, ১২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ, ২ নম্বর মন্ত্র) অর্থাৎ ‘ঐ প্রশংসিত মহাপুরুষ উটের উপর আরোহণ করে আবির্ভূত হবেন। তার দ্বাদশ সহধর্মিণী হবেন।

 

গীতায় মুহাম্মদ (সা.) এর আগমন সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী:

ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: যখনই ধর্মের পতন ও অধর্ম দেখা দিবে তখনই একজন মহাপুরুষের আগমন ঘটবে-

গীতায় রয়েছে- “যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ // পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্ ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে //” (গীতা,অধ্যায়: ৪, শ্লোক: ৭-৮) অনুবাদ: ‘যখনই ধর্মে অধঃপতন হবে এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হবে, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হব। সাধুদের পরিত্রাণ, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করে ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হব।’

ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: 

সমস্ত জাতির জন্য এক বিশ্ব নবীর আগমন ঘটবে। গীতায় রয়েছে কৃষ্ণ তাঁর শিষ্য অর্জুনকে ভবিষ্যতে আগত তাঁর কয়েকটি বিশ্বরুপ দেখালেন। যেখানে অর্জুন সহস্র সূর্যের দীপ্তিতে উদ্ভাসিত এক মহাপুরুষকে দেখে বলে উঠলেন “দিবি সূর্যসহস্রস্য ভবেদ্ যুগপদুত্থিতা যদি ভাঃ সদৃশী সা স্যাদ্ ভাসস্তস্য মহাত্মনঃ” (গীতা, অধ্যায়: ১১, শ্লোক: ১২) অর্থাৎ ‘যদি আকাশে সহস্র র্সূ্যের প্রভা যুগপৎ উদিত হয়, তাহলে সেই মহাত্ম বিশ্বরূপের প্রভার কিঞ্চিত তুল্য হতে পারে।’

শ্রী কৃষ্ণ ছিলেন জাতীয় অবতার। কিন্তু অর্জুন তাঁর সামনে বিদ্যমান এই কৃষ্ণের চেয়ে হাজারো গুণ দীপ্তিমান এক সত্তাকে দেখলেন। যিনি হাজারো সূর্য তুল্য। যিনি শুধু এক জাতি, এক দেশের জন্য আসবেন না। আসবেন এক বিশ্বরূপ নিয়ে সমগ্র বিশ্বের জন্য। গীতার উপরোক্ত এই ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে নিঃসন্দেহে মুহাম্মদ (সা.)-ই হচ্ছেন সেই মহাপুরুষ যাকে পবিত্র কুরআনে ‘সিরাজুম্ মুনীর’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

 

ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন: 

আহমদ নামে এক সর্বশ্রেষ্ঠ রসূলের আগমন হবে- গীতায় রয়েছে- “অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাঞ্চ সর্বশঃ” (গীতা, অধ্যায়: ১০, শ্লোক: ২) অর্থাৎ ‘আহমদ দেবতা দেবতাদের মাঝে সর্বোতভাবে মহির্ষী।’

পুরানে হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী

পুরানে খুবই স্পষ্টভাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন সর্ম্পকিত কিছু ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান।

ভবিষ্যদ্বাণী (১) এক: 

‘মহামদ’ নামে এক মহাপুরুষের আগমন হবে। ভবিষ্য পুরানে রয়েছে- “মহামদ ইতিখ্যাত: শিষ্যশাখা সমন্বিত: নৃ পশ্চব মহা দেবং মরুস্থল নিবাসিনম।” (ভবিষ্যপুরান-৩, খন্ড: ৩, অধ্যায়: ৩ শ্লোক: ৫, ৬) অর্থাৎ ‘মহামদ নামে এক মহাপুরুষ মরু অঞ্চলে শিষ্যসহ আবির্ভূত হবেন। তাকে অর্থাৎ সেই মরুস্থলে আগমনকারী মহাদেবকে নমস্কার।’

ভবিষ্যদ্বাণী (২) দুই: 

খৎনা সম্পন্ন একজন মহাপুরুষ আগমন করবেন। ভবিষ্য পুরানে আরেক স্থানে এসেছে-“লিঙ্গচ্ছেদী শিখাহীন: শ্মশ্রুধারী স দ্রষক: উচ্চালাপী সর্বভক্ষী ভবিষ্যতি জনো মম।” (ভবিষ্যপুরান-৩, খন্ড: ৩, অধ্যায়: ৩, শ্লোক: ২৫) অর্থাৎ ‘এই মহাপুরুষের খৎনা হবে, টিকি না রেখে তিনি দাড়ি রাখবেন। তিনি উঁচু আওয়াজে আহবান করবেন। তিনি হালাল খাদ্য গ্রহন করবেন’।

ভবিষ্যপুরানের উপরোক্ত ভবিষ্যদ্বাণীসমূহের প্রতিটি বাক্য একমাত্র হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আগমনের মাধ্যমেই অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণতা লাভ করেছে।

ভবিষ্যদ্বাণী (৩) তিন: 

শান্তির শহর অর্থাৎ মক্কায় সেই মহাপুরুষের জন্ম হবে- কল্কি পুরানে আছে “শাম্ভলে বিষ্ণুয শস্যে গৃহে প্রাদুর্ভবামাহম” (কল্কি পুরান, ২য় অধ্যায়, শ্লোক: ৪) অর্থাৎ ‘কলির কালে বিষ্ণু দাসের গৃহে, সম্ভল শহরে কল্কি অবতারের জন্ম হবে।’ বিষ্ণু শব্দের আরবী অনুবাদ হচ্ছে ‘আল্লাহ্’ আর দাসের আরবী হচ্ছে ‘আব্দ। অর্থাৎ আব্দুল্লাহ্ ঘরে সেই মহাপুরুষ জন্ম নিবেন। তাছাড়া এখানে ‘সম্ভল’ যে শব্দ এসেছে তার আরবী হচ্ছে আমান অর্থাৎ শান্তি। আর এক সাথে অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘দারুল আমান’। পবিত্র মক্কা নগরীর আরেক নাম হচ্ছে ‘দারুল আমান’ অর্থাৎ শান্তির শহর। 

ভবিষ্যদ্বাণী (৪) চার: 

সেই মহাপুরুষের চার খলীফা থাকবে- কল্কি পুরানে আছে “চতুর্ভি ভ্রাতৃভির্দেব! করিষ্যামি কলিক্ষয়ম” (কল্কি পুরান, ২/১৫) অর্থাৎ ‘তার ভ্রাতৃতুল্য চারজন সহকর্মী হবেন, তাদের সহযোগে তিনি কলি (জাহেলিয়াত) ক্ষয় করবেন।

ভবিষ্যদ্বাণী (৫) পাঁচ: 

নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার যুগে সেই মহাপুরুষ আগমন করবেন। “কলি যুগে যখন রাজারা হবে ডাকাতের মত তখন বিষ্ণু দাশের ঘরে কল্কি জন্ম নিবে। (কল্কিপুরান, ২/৭)

আমরা সকলেই অবগত যে, মুহাম্মদ (সা.) সেই জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতার যুগেই জন্ম নিয়েছিলেন যখন সর্বত্রই ছিল হানাহানি নৈরাজ্য ও অধিকার হননের চিত্র।

পবিত্র কুরআনের ঘোষনা-

وَإِن مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ

অর্থ: পৃথিবীতে এমন কোন জাতি নেই যাদের মাঝে আল্লাহ্ তা’লা সতর্ককারী অর্থাৎ নবী রসূল পাঠান নি। (সুরা ফাতির: ২৫)

সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাচীন তীর্থস্থান ভারতবর্ষও তার ব্যতিক্রম নয়। সিন্ধু নদের অববাহিকায় যে জাতির বাস ছিল তারাই আজ হিন্দু নামে অভিহিত। এই হিন্দু জাতিতেও অনেক মহাপুরুষের আগমন ঘটেছে। যাদেরকে বর্তমানে হিন্দুরা ঈশ্বরের অবতার হিসেবে পূজা করে থাকে। অথচ তারা সবাই ছিল তাদের নিজ নিজ সময়ের খোদার পক্ষ থেকে আসা সতর্ককারী। তেমনি তাদের ধর্মগ্রন্থগুলোও ছিল খোদার পক্ষ থেকে আসা ঐশীগ্রন্থ। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এতে অনেক সংযোজন ও বিয়োজন হয়েছে। মানুষের অন্যায় হস্তক্ষেপের হাত থেকে এই পবিত্র গ্রন্থগুলো রেহাই পায় নি। তাই আজ সেগুলো তাদের প্রকৃত রুপ থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে। তথাপি খোদা তা’লার অপার মহিমা যে এখনো সেগুলোতে কিছু সত্যের ঝলক বিদ্যমান এবং কিছু সত্য ভবিষ্যদ্বাণীও বিদ্যমান যেগুলো সত্য প্রমাণিত হয়ে নিজেদের সত্যতার প্রমান বহন করে চলেছে। যদিও এ সমস্ত ধর্মগ্রন্থ ছিল একটি জাতি বা গোষ্ঠির জন্য সীমাবদ্ধ কিন্তু এতে ভবিষ্যতে আগমনকারী সেই মহাপুরুষের ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান যিনি সমগ্র মানব জাতির জন্য আগমন করবেন। আর একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমেই সেই সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণতা লাভ করেছে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা আমাদের নিকট দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থ সমূহে একজন সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর আগমন সম্বন্ধীয় যে সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান তা একমাত্র আমাদের নেতা ও প্রভূ নবীকূলের শিরোমণি রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা আহমদ মুজতবা (সা.)-এর শুভাগমনের মাধ্যমেই অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণতা লাভ করেছে এবং তাঁর প্রচারিত ধর্ম সত্য বলে প্রমানিত। তাঁর (সা.) আগমনের মাধ্যমে শরীয়ত পূর্ণতা লাভ করেছে এবং এ শরীয়তই একমাত্র সত্য ধর্ম। মানবজাতি তার উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে উপনীত হয়েছে। তাই আমাদের সকলের উচিৎ এই মহান নবীর প্রতি প্রতিনিয়ত অবারিত দরুদ প্রেরণ করা আর এই দোয়া করা যে, এই পৃথিবীর যে সমস্ত মানুষ এখনো এই মহান নবীর শান ও মর্যাদা সম্বন্ধে অবহিত নয় আল্লাহ তা’লা তাদের সকলকে এই মহা মর্যাদাবান নবীর শান ও মর্যাদা অনুধাবন করার তৌফিক দান করুন এবং এই নবীর প্রতি ঈমান এনে হেদায়াত লাভ করার তৌফিক দান করুন। আর আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকেও এই মহান নবীর পবিত্র জীবনাদর্শ অনুসরণ করার ও তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ প্রেরণ করার তৌফিক দান করুন, আশা করি নাস্তিকদের এই বিষয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকার কথা না।

 “সংখ্যা” এর উল্লেখ আছে ২৮৫ বার। যা ১৯ দ্বারা বিভায্য। আবার কুরআনে যে সংখ্যাগুলো উল্লেখ আছে তাদের যোগফল করলে দাড়ায় ১৭৪৫৯১, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। 

বস্তুত, কুরআন কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে রচণা করা সম্ভব নয়, এটা ধ্রুব সত্য। এটা আল্লাহর বাণী, অথবা আল্লাহ যেহেতু বলেছেন যে  - ‘নিশ্চয়ই এই কিতাব সম্মানীত রসুলের বাণী।’ সুতরাং মহানবী মুহাম্মদ সঃ এমন কেউ ছিলেন যার আল্লাহর সাথে কোন পার্থক্য ছিলোনা। মানে তিনি ছিলেন অলৌকিক মোজেজা। মূলত নবী রসুলরা তো তাই প্রচার করেন, যা আল্লাহ বলতে বলেন। তারা সর্বকালেই সার্বজনীন। তারা কোন নির্দিষ্ট জাতি গৌত্র বা সম্প্রদায়ের জন্য আসেন নাই। নবী রসুল এবং অলি আওলিয়ারা যা প্রচার করেছেন, তা সব সময়ই ছিলো সার্বজনীন, সমগ্র মানব জাতির জন্য অভিন্ন এবং সর্বকালের জন্য। আর তাই ত আল্লাহ বলেন -

3:3 نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ

“তিনি সত্যসহ আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, পূর্বে যা এসেছে(১) তার সত্যতা প্রতিপন্নকারীরূপে। আর তিনি নাযিল করেছিলেন তাওরাত ও ইঞ্জীল। [সুরা আল-ইমরান, ৩ঃ৩]

১৯ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন - 

عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ 74.30

“ওর তত্ত্বাবধানে রয়েছে উনিশ জন প্রহরী” [সুরা আল-মুদ্দাসসির - ৭৪ঃ৩০] 

পরের আয়াতে আল্লাহ বলেন - 

وَمَا جَعَلْنَا أَصْحَابَ النَّارِ إِلَّا مَلَائِكَةً وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا وَلَا يَرْتَابَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْمُؤْمِنُونَ وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ وَالْكَافِرُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَذَا مَثَلًا كَذَلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكْرَى لِلْبَشَرِ74.31

“আর আমি ফেরেশতাদেরকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানিয়েছি। আর কাফিরদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ আমি তাদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছি। যাতে কিতাবপ্রাপ্তরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে; আর বিশ্বাসীদের ঈমান বেড়ে যায় এবং কিতাবপ্রাপ্তরা ও বিশ্বাসীরা সন্দেহ পোষণ না করে। আর যেন যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা এবং অবশিষ্টরা বলে, এরূপ উপমা দ্বারা আল্লাহ কী ইচ্ছা করেছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন আর যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানেন না। আর এ হচ্ছে মানুষের জন্য উপদেশমাত্র।” [সুরা আল-মুদ্দাসসির - ৭৪ঃ৩১]

আর এই ১৯ সংখ্যাটির পরিচয় দেবার পরই নাযিল হয় সুরা ফাতিহা যা ৪র্থ তম নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সুরা; যাতে রয়েছে ১৯ সংখ্যাটির এক মহা সমাহার। সুরা ফাতিহার মধ্যে ১৯ সংখ্যাটির বিস্ময়কর প্রয়োগ নিয়ে আমরা পরবর্তি অধ্যায়ে আলোচনা করবো। 

কুরআনে ১১৪ টি সূরার অবস্থান এবং ২৯ টি সূরার শুরুতে ব্যবহৃত ‘হরুফে মোকাত্তায়াত’ যে নিয়মে বিন্যস্ত আছে সে নিয়মের ভিত্তিতে কুরআন এক অলৌকিক তত্ত্বের জালে বোনা, সমস্ত কুরআন গণিতের এক রহস্যময় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছে। কুরআনের সর্বত্র একটি অভিনব ও বিস্ময়কর গাণিতিক সংখ্যার মিলবন্ধন ও সমীকরণ রয়েছে। সমগ্র কুরআন যেন ১৯ সংখ্যাটিরই একটি সুদৃঢ় বন্ধন। এ কুরআনকে যে ভাবেই বিশ্লেষণ করা হোক না কেন, কোননা কোন দিক থেকে এর সমীকরণ মিলবেই। সেটা বাহ্যিক কুরআন হোক আর অন্তর্নিহিত তাতপর্য হোক, এর মধ্যে কোনদিক থেকে কোন অসংগতি নেই। আর এ কারনেই আল্লাহ বলেছেন যে, 

“এই কুরআনে কোন অসংগতি দেখতে পাবেনা।” [সুরা নিসা, ৪ঃ৮২ ]

এই ১৯ সংখ্যাটির মাধ্যমে কোরআনকে এমন এক গাণিতিক ফর্মুলায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে যেন এতে ব্যবহৃত বর্ণমালা, শব্দ ও আয়াতসমূহের কোনোরকম পরিবর্তন,পরিবর্ধন, সংযোজন এবং বিয়োজন কারো পক্ষে সম্ভব না হয়।

আল্লাহ পবিত্র কুরআন মাজিদের সুরা আল-মুদ্দাসসির এর ৩০ ও ৩১ নং আয়াতে বলেছেন - জাহান্নামের আগুন নিয়ন্ত্রনের জন্যে ১৯ জন ফেরেশ্তা রাখা হয়েছে। আর তাদের সংখ্যাকে অবিশ্বাসীদের পরিক্ষা করার জন্য নিধারণ করা হয়েছে। একই সাথে কিতাবীদের বিশ্বাস দৃঢ় করতে আর বিশ্বাসীদের ইমান বৃদ্ধির কাজেও লাগবে! 

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মুহাম্মদ সঃ এবং তার প্রখ্যাত সব সাহাবীগণ, তাবেইন, তাবে-তাবেইনগণ কেউই এই রকম কোন মিরাকল বা মোজেজার কথা উল্লেখ করেননি। তাহলে কি তারা এবং পরবর্তীতে ইসলামের লক্ষ লক্ষ স্কলার, তাফসীর কারকগণ, কেউই কোনোদিন কুরআনের এই ১৯ সংখ্যার মোজেজার বিষয়টি বোঝেননি? ইসলামের ইতিহাসে রাশাদ খলিফা একমাত্র ব্যক্তি যিনি কুরআন নাজিলের ১৪০৯ বছর পর এসে কুরআনের একটি গোপন সত্য উন্মোচন করলেন!

মুহাম্মদ সঃ কেন এই গোপন বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন নাই? নবীজী এই বিষয়টি যে ব্যাখ্যা করেন নাই, এ ব্যাপারে আমরা কেউই নিশ্চিত নই, বরং ব্যাখ্যা করেছেন এটাই স্বাভাবিক হবার কথা। কেননা নবী বা রাসুল হিসাবে তার দায়িত্বই ছিলো ব্যাখ্যা করা বা কিতাব শিক্ষা দেয়া। আবার অন্যভাবে বলা যায় যে, কোরআনের গাণিতিক ব্যাখ্যা দেয়া নবী বা রসূলের কাজ নয়।

চলুন, আমরা আগে এখানে দেখে আসি- আসলে নবী এবং রাসুলের কাজ কি?

কোরআন দর্শণ অনুযায়ী নবীর কাজ হলো চারটিঃ কুরআন মাজিদে নবীর কাজ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন - 

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا  33.45  وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا33.46

“হে নবী, আমরা তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা(১), সুসংবাদদাতা(২) ও সতর্ককারীরূপে(৩) এবং আল্লাহর দিকে আহবানকারীরূপে(৪) ও উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।” [সুরা আহযাব, ৩৩ঃ৪৫-৪৬] 

সুতরাং, কুরআন অনুযায়ী নবীর কাজ হলো - সাক্ষ্য দেয়া, সুসংবাদ দেয়া, সতর্ক করা এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়া।

এবং রাসুলের কাজও চারটি। রাসুলের কাজ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন -

 رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ  إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيم২:১২৯9

“হে আমাদের রব! আর আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এক রাসূল পাঠান, যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করবেন(১); তাদেরকে কিতাব শিক্ষা দিবেন(২), হেকমত শিক্ষা দিবেন(৩) এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন(৪) আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’।” [সুরা বাকারা, ২ঃ১২৯]

অর্থাৎ কুরআনে আল্লাহ বলেছেন- রাসুলের কাজ চারটি। যথাঃ কিতাব পাঠ করা, কিতাব শিক্ষা দেয়া, হেকমত শিক্ষা দেয়া এবং নফসকে পবিত্র করা। রাসুলের কোরআন গবেষণা করার প্রয়োজনই পড়েনা। কুরআন গবেষণা করবে তার থেকে বাণী যারা পেয়েছেন, তারা। কেননা আল্লাহ কুরআনের অসংখ্য যায়গায় কুরআন বোঝার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন- ‘যদি তোমরা চিন্তা কর’, ‘যদি তোমরা মাথা খাটাও’, ‘তোমরা কি চিন্তা করবেনা’? ‘তোমরা কি ভেবে দেখবে না’? ‘এই কুরআন চিন্তাশীলদের জন্য’, এর মধ্যে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শণ রয়েছে’; ইত্যাদি।  

সুতরাং, কুরআনের পরতে পরতে রহস্য লুকিয়ে আছে, এটা বলেই দিয়েছেন। এবং আরবী “মুদ্দাসসির” শব্দটির অর্থই হলো “লুকায়িত” বা গোপন। এই গোপন কথাটি উন্মোচন করা নিয়ে মানুষ কেন এতদিন মাথা ঘামায় নাই? আল্লাহ ত শুরু থেকেই মাথা ঘামাতে বলেছেন। আর সুরা মুদ্দাসসির’ এর মধ্যে ১৯ সংখ্যাটির কথাও স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। 

তাহলে সাহাবীগণ, তাবেইন, তাবে-তাবেইনগণ এবং পরবর্তী স্কলার বা তাফসীর কারকগণ কি ব্যাপারটি বোঝেন নাই?

এর উত্তর দুইভাবে দেয়া যায়। প্রথমতঃ তারা হয়তো ব্যাপারটি বোঝেনই নাই। তারা কেবল ১৯ জন ফেরেশতা প্রহরী আছেন বলেই দায়িত্ব শেষ করেছেন। একদল আলেম ত রীতিমত এই ১৯ সংখ্যা তত্ত্বের বিরোধীতাই করেন। তাদের দাবী কুরআনকে নিয়ে এরকম সংখ্যাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করলে নাকি কুরআনের অবমাননা করা হবে, কুরআনের চেয়ে বিজ্ঞানকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে, মানুষ কুরআনের পথ থেকে সরে যাবে। কেউ কেউ আবার বলেছেন যে, মহানবী নিজেও এটা নাকি বুঝেন নাই। নাউজুবিল্লাহ! আর যিনি বা যারা বুঝেছেন, তারা নাকী নবীর চেয়েও জ্ঞ্যানী ইত্যাদি। 

আসলে যারা দাঁড়ি, টুপি, জুব্বা হিজাবকে ইসলাম মনে করেন, যারা মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্কা, কাবা, গীর্জা, মন্দির, প্যাগোডা ইত্যাদিকেই ধর্ম মনে করেন, যারা কুরআনকে শুধু ইসলাম ধর্মের নিজস্ব সম্পত্তি মনে করেন, যারা সারা জীবন অমুক দোয়া পড়লে বিনা হিসাবে জান্নাত, তমুক সুরা পড়লে কবরের আযাব মাফ, মক্কা গিয়ে হজ্ব করলে সারা জীবনের গুণা মাফ ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ আছেন, যারা কুরআনকে না বুঝে সুরেলা কণ্ঠে তেলাওয়াত করেই জীবন পার করে দিলেন, যারা কুরআনের তাফসীর অন্তরে ধারণ না করে কেবল কাগজ আর কালিতেই রেখে দিলেন, যারা তথাকথিত কিছু মাজহাবি তথা মতাদর্শের সিলেবাসভিত্তিক কিতাব মুখস্থ করে দেওবন্দ, হাটহাজারি, ওহাবি, মাদানী, আজহারী, পন্ডিত, পাদ্রী, পুরোহিত ডিগ্রী নিয়ে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা কিংবা ওয়াজের মঞ্চে হাতা কাছায়ে গলা ফাটান, তাদের পক্ষে কুরআন দর্শন বোঝা প্রায় অসম্ভব। তারা কুরআনকে নিয়ে গবেষণা ত দূরে থাক, অন্য কেউ করলেও তাদের ধর্ম যায় যায় অবস্থা। অথচ তারা কুরআন পড়ে!

দ্বিতীয়তঃ আর এক দল আছেন, যারা সব সময় সুবিধাবাদী, নিজের গা বাচিয়ে চলেন। কোন ঝামেলায় যেতে চান না, কোনো চিন্তা গবেষণা করতে চান না, অন্যরা যা বলে গেছেন, তাই অনুসরণ করেন; কেউ জিজ্ঞেস করলে একটা সরল উত্তর দিয়ে দেন, ‘আল্লাহই ভালো জানেন’। তারাও কুরআন পড়েন! অথচ, আল্লাহ বলেছেন, গবেষণা করতে। মাথা খাটাতে। তাহলে তারা কী কুরআন পড়লেন, আর কি-ই বা বুঝলেন।

কুরআন কি কেবল কাগজের বই? যদি এটা কেবল কাগজের বই-ই হত, তাহলে ত আল্লাহ বলেছেন যে, কুরআন পাহাড়ে নাজিল হলে, পাহাড় ধ্বংস হয়ে যেত, সমুদ্রে নাজিল হলে সমুদ্র শুকিয়ে যেত। কই সারা পৃথিবীতে যত কুরআনের ছাপা কিতাব আছে, সব সমুদ্রে ফেলে দেখেন ত একফোটা পানিও কমে কিনা? পাহাড় চলমান হয় কিনা? হবেনা। কারণ আপনি বুঝেছেন মুদ্রিত কিতাবের কথা। আপনি ত কিতাব কি, নিদর্শণ কি, নবীর সিনা পরিস্কার করা বলতে কি বুঝানো হয়েছে, নবীজী কাবা রেখে হেরা গুহায় ধ্যান কেন করলেন? নবীকে রাহমাতুল্লিল আলামিন ঘোষণা দেয়া, আদমকে সেজদা করতে বলা, আল্লাহ ও মুহাম্মদ সঃ এর মধ্যে আলাদা মনে মনেও চিন্তা করতে নিষেধ করা, রিসালাত অব্যাহত থাকা ইত্যাদি এগুলো হয়তো বোঝেনই নাই। আর না বুঝে থাকলে দোষের কিছু নাই। বুঝার ইচ্ছা থাকলে বুঝে নিতে পারবেন। বরং না বুঝে ভুল-ভাল ব্যাখ্যা দেয়াটা দোষের, গবেষণা না করাটা, বুঝতে না চাওয়াটা এবং অন্যকে সত্য জানার পথে বাঁধা দেওয়াটা দোষের। 

সুতরাং, অন্যেরা কি বলে গেছেন, তাদের কথায় চোখ বন্ধ রেখে বসে না থেকে নিজে কুরআন পড়ুন, বোঝার চেষ্টা করুন। জ্ঞানের অন্বেষণ করলে জ্ঞান আপনা আপনি ধরা দেয়। কোনকিছু পেতে যেমন ঘাপটি মেরে বসে থাকেন, জ্ঞানের বেলাতেও ওভাবে ঘাপটি মেরে বসে থাকলে জ্ঞান আপন ঘরে এসেই ধরা দেবে। শুধু আলো ঢোকার পথটা খোলা রাখতে হবে। 

এতো গেলো ১৯ সংখ্যার মাহাত্ম। তাছাড়া আছে, কোরানে আল্লাহ শব্দ কতবার এসেছে, শয়তান শব্দ কতবার এসেছে, পানি শব্দ কতবার এসেছে, মাটি শব্দ কতবার এসেছে, এসব আবার ১৯ দ্বারা বিভাজ্য –  ইত্যাদি ইত্যাদি। 

কিন্তু এখানে এখানে আপনাদেরকে দেখাচ্ছি কোরানে গণিতের আরেক সর্বশ্রেষ্ঠ মাহাত্ম।

সূরা নিসা ৪:১১: আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু?জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু’ এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ। 

সূরা নিসা ৪:১২:  আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক-চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়-ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।

এখন এই বিধান অনুযায়ী আমরা একটা সম্পদ ভাগাভাগি করি।  ধরি, একজন লোক ২৪০০০ টাকা রেখে মারা গেলো।  তার আছে  পিতা , মাতা, এক স্ত্রী এবং তিন কন্যা।  তাহলে তার সম্পদ, কোরানের বিধান অনুযায়ী, এইভাবে ভাগ করতে হবে:

৩ কণ্যা পাবে ২৪০০০ এর ২/৩ অংশ অর্থ্যাৎ ১৬০০০ টাকা 

পিতা পাবে ২৪০০০ এর ১/৬ অংশ অর্থ্যাৎ ৪০০০ টাকা 

মাতা পাবে ২৪০০০ এর ১/৬ অংশ অর্থ্যাৎ ৪০০০ টাকা 

স্ত্রী পাবে ২৪০০০ এর ১/৮ অংশ অর্থ্যাৎ ৩০০০ টাকা 

তাহলে মোট পাওনা হলো: ১৬০০০ + ৪০০০ + ৪০০০ + ৩০০০ = ২৭০০০ টাকা; অথচ লোকটা মারা গেছে ২৪০০০ টাকা রেখে!

তাহলে বাকি ৩০০০ টাকা আসবে কোথা থেকে? নিশ্চয়ই এটাই হলো কোরানে আল্লাহ পাকের শ্রেষ্ঠ গাণিতিক মোজেজা! 

এত কিছু প্রমানের পরও একদল নাস্তিক ও নিরাশাবাদীরা বলবে আরো প্রমান চাই,কারন এদের হৃদয়ে যে মোহর মেরে দিয়েছেন মহান আল্লাহ।


বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...