4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: বাংলাদেশের ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধ না ষড়যন্ত্র এ বিতর্কের শেষ হবে কি? > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধ না ষড়যন্ত্র এ বিতর্কের শেষ হবে কি?

 




আমি কিছু বিষয়ে ঝগড়ার কারন বুঝতে পারছি না। যেমন একাত্তর কি মুক্তিযুদ্ধ নাকি গৃহযুদ্ধ, পাকিস্তানের শোষণ নাকি ভারতের ষড়যন্ত্র? এই নিরর্থক বিতর্ক আর কতদিন চলবে? 

কিভাবে কী ঘটল, কে কী চেয়েছিল এবং কী চায়নি তা বিবেচ্য নয়। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম- এটাই বাস্তব সত্য, এটাই বাস্তবতা। 

এখানে ভারতীয় ষড়যন্ত্র খোঁজার কিছু নেই। শত্রু রাষ্ট্র ভাঙার সুযোগ নেবে ভারত এটাই স্বাভাবিক, সুয়োগ পেলে ছাড়ে কে? এটা মনে করা হয় না কেনো যে নিজের দোষে ভেঙে পড়ল পাকিস্তান। তারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। তারা গণহ*ত্যা করেছে। বৈষম্য-বঞ্চনার হিসাব করতে হবে না মনে করেছিলো তারা। এই দুটি কারণই যথেষ্ট। এরপর আর পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে পারতো বাংলাদেশ?  থাকলে কি হতো একবারও ভেবেছেন কেউ?

ভারতের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আওয়ামী বয়ানে ২৪ জুলাইয়ের ষড়যন্ত্রের মতো। যেন তাদের কোনো অপরাধ নেই,নির্দোষ নন্দঘোষ, তারা ভোট চুরি করেনি, খুন করেনি, লুটপাট আর এাকা পাচার করেনি, নিপীড়ন করেনি, নির্যাতন করেনি! এ ধরনের ষড়যন্ত্রকারীরা মানুষকেনএমনি এমনি রাস্তায় নামাতে পেরেছে।

জুলাইয়ের অভ্যুত্থান যেমন সত্য তেমনি একাত্তরের ঘটনাও সত্য। বাংলাদেশের একাত্তরের যুদ্ধ জন্ম যুদ্ধ। একাত্তরটি সাতচল্লিশে পাওয়া একটি পৃথক অঞ্চলের উপর সার্বভৌমত্ব এনেছিল। স্বাধীন দেশ, লাল-সবুজের পতাকা- এই পরিচয় আমাদের দিয়েছে একাত্তর। 

কেউ যাই বলুক না কেন, এই পরিচয় নিয়েই বাঁচতে হবে। ভৌগোলিক বা ভূতাত্ত্বিক বা ভূ-রাজনৈতিকভাবে এদেশে যত সম্ভাবনা ও সমস্যাই থাকুক না কেন, জাতীয় সমৃদ্ধি ও আত্মমুক্তির পথেই হাঁটতে হবে। 

একাত্তরের পর এত বছরেও বদলায়নি রাজনৈতিক দৃশ্যপট, বদলেছে শুধু জাতির নাম। এই দেশ আর পাকিস্তান হবে না। হাজার হাজার মাইল দূরে দুটি পৃথক স্বাধীন ভূখণ্ডকে সংযুক্ত করার কোনো বাস্তবতা নেই। 

ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে ভারত হয়তো সিকিমের মতো বাংলাদেশ দখল করতে চাইবে, কিন্তু পাকিস্তানের জন্য এ স্বপ্ন শুধুই স্বপ্নে পরিণত হবে। তাই আজাইরা জুজুদের দেশ পাকিস্তান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। পাকিস্তান একটি জাতি। ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা আজ আর তাদের ধারন করি না।

এখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের মূল চেতনা হচ্ছে এর সার্বভৌমত্ব। স্বাধীনতা মানে কাউকে প্রভু না মানা। পাকিস্তানকে বাবা বলার কিছু নেই, ভারতকে প্রভু বলে মেনে নেওয়ার কিছু নেই। আমেরিকা, চীন, ব্রিটেন, ইসরায়েল- বাংলাদেশ কারো দাবার গুটি নয়। যেকোনো দেশের সাথে সম্পর্ক হবে মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে, প্রয়োজনে স্বার্থের ভিত্তিতে। এটি যে কোনো স্বাধীন দেশের জন্য সহজ এবং স্বাভাবিক পররাষ্ট্রনীতি।

কিন্তু এই স্বাধীন দেশের ত ১৭ বছর বিদেশী চেতনা ছিল খুবই আশ্চর্যজনক! দেশের জন্য আত্মসম্মান বা স্বার্থ কোন ব্যাপার না। ভারত তাকে নানাভাবে নিপীড়ন করবে, অসম চুক্তি করবে, ট্রানজিট দাবি করবে, এটা নেবে, সেটা নেবে, কিন্তু বিনিময়ে কিছুই দিতে পারবে না; উল্টো তারা এদেশের নাগরিকদের গুম করবে, সীমান্তে গুলি করবে, জল দিয়ে ডুবিয়ে দেবে, সরকারে হস্তক্ষেপ করবে- তবুও দিল্লির সঙ্গে বন্ধুত্ব অটুট রাখতে হবে। 

ভারত অক্ষরে অক্ষরে বলে, "আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি, আমরাই বাংলাদেশ তৈরি করেছি।" ভাবনাটা এরকম- "শোন, ওরা তোমাকে ধর্ষণ করছিল, আমি তোমাকে বাঁচিয়েছি। এখন তোমাকে ধর্ষণ করার অধিকার একমাত্র আমার আছে।" আর আমাদের স্বাধীন সত্তার মর্যাদা এমন ছিল যে, গার্ড ফ্রেন্ড যেহেতু রেপ করছে তাই একটা শব্দও করা যাবে না, বন্ধুত্ব নষ্ট করবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা কারো দয়ায় আসেনি। লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশ। এদেশ আর পাকিস্তান হবে না, এখানে মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনের নামে দাদাগিরি চলবে না, চেতনার বাণিজ্য খুলে ফ্যাসিবাদ চলবে না।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...