আহলে হাদিসের দৃষ্টিতে রফেদাইন ও নামায সম্পর্কিত প্রশ্ন ও আলোচনা
প্রথম বিষয়: রফেদাইন (দু’হাতে মুছাফাহা) সংক্রান্ত প্রশ্ন
চলুন আহলে হাদিসের ভাইদের নিয়ে রফেদাইন নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করি:
-
ইমাম বুখারীর দৃষ্টিতে
ইবনে মাসউদ (রা.) দ্বারা মুছাফাহা প্রমাণিত।
আহলে হাদিসের দৃষ্টিতে প্রমাণিত নয়।
→ প্রশ্ন: কোনটি সঠিক? -
হাম্মাদ ইবনে যায়দ ও আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক
তারা কি দু’হাতে মুছাফাহা করার কারণে বিদয়াতী হয়েছেন, নাকি হয়নি? (উল্লেখযোগ্য রেফারেন্স আছে।) -
ইমাম বুখারীর তাকলীদ
ক. ইমাম বুখারী (রহ.) তাবেয়ীনের আমল উল্লেখ করে দু’হাতে মুছাফাহা সুন্নত প্রমাণ করেছেন। অর্থাৎ, তারা যে আমল করেছেন, তাকে তিনি মান্য করেছেন।
খ. বুখারী শরীফে অনেক সাহাবা, তাবেয়ীন ও তা'বে তাবেয়ীনের উক্তি ও আমল উল্লেখ করা হয়েছে। কোটি মুসলমান আজও তা অনুসরণ করছে।
→ প্রশ্ন: এতে কি ইমাম বুখারী শিরকের মধ্যে পড়ে গেছেন? প্থরম চ্যালেঞ্জ: হাদীস প্রমাণ
যদি কেউ এমন সহীহ, সরীহ, মারফু, মুত্তাসিল হাদীস দেখাতে পারে যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে:
-
রাসূল সা. মুছাফাহা কালে বাম হাত দূরে সরিয়ে রাখার হুকুম দিয়েছেন অথবা
কেবল ডান হাতে মুছাফাহা করেছেন, এবং -
এই হাদীসকে উম্মতের কারো মত বা তাকলীদ ছাড়া সহীহ প্রমাণ করতে পারেন,
→ তাহলে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার থাকবে।
দ্বিতীয় বিষয়: খালি মাথায় নামায
প্রশ্ন: খালি মাথায় নামায পড়া কি জায়েয?
উত্তর: কয়েকটি দিক থেকে বিবেচনা করা যেতে পারে:
-
অনিবার্য কারণে হলে জায়েয এবং মাকরূহ নয়।
-
অলসতার কারণে খালি মাথায় পড়লে, মাকরূহে তানযিহী হবে; ছওয়াব কম।
-
অভ্যাসে পরিণত হলে মাকরূহে তাহরীমি হবে।
-
মাথা ঢেকে নামায পড়াকে তুচ্ছ মনে করলে কুফর হবে।
সূত্র: আলমগীরি খ:১ পৃ:১০৬, দুররে মুখতার খ:১ পৃ:৪৭৪, রদ্দুল মুহতার খ:১ পৃ:৪৮২, কাযীখান খ:১ পৃ:১১৮
হাদীস ও নীতি:
"خذوا زينتكم عند كل مسجد" – নামাযের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করুন। টুপি ও পাগড়ীও অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয় বিষয়: রুকুতে গমনকালে রফয়ে ইয়াদাইন
প্রশ্ন: আহলে সুন্নতের দৃষ্টিতে রফয়ে ইয়াদাইন না করার কোন দলীল আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রচুর দলীল আছে। উদাহরণ:
-
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন:
"রাসূল সা. নামায শুরুতে হাত উত্তোলন করতেন; এরপর আর উত্তোলন করতেন না।"
(নাসায়ী শরীফ- ১/১৫৮, ১/১৬১) -
জাবের ইবনে সামুরা (রা.) বলেন:
"সালামের সময় হাত দিয়ে ইশারা করছিলাম; রাসূল সা. বললেন, যেন হাত উশৃঙ্খল ঘোড়ার লেজ।"
(মুসলিম শরীফ- ১/১৮১)
ফায়দা: নামাযে অযথা নড়াচড়া থেকে বিরত থাকা উচিৎ। শুধুমাত্র নামাযের শুরুতে হাত উত্তোলন যথেষ্ট।
আহলে হাদিসের আমল:
-
৪ রাকাআতের নামাযে ১০ স্থানে হাত উত্তোলন ফরয।
-
১৮ স্থানে উত্তোলন নিষিদ্ধ।
-
রফয়ে ইয়াদাইন ছাড়া নামায ফাসেদ হবে।
রফেদাইন এবং ইতিহাস
-
রফেদাইন ইসলামের অবশ্যকীয় বিষয় নয়।
-
প্রাক-ইসলামিক যুগে নামায শুরু হওয়ার সময়, মানুষ বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান মেনে নামায শুরু করেছিল।
-
নামাযের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম চালু হওয়ার পর, মানুষকে পা ফাঁক রেখে দাঁড়ানোর মাধ্যমে রফেদাইন করানো হয়েছে, যাতে পূর্বের অব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ করা যায়।
অর্থাৎ, রফেদাইন মূলত ঐতিহাসিক ও শিক্ষামূলক ব্যবস্থা, যা পরবর্তীতে শরীয়তের পূর্ণাঙ্গতার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও পুরস্কার
-
আহলে হাদিসরা যদি তাদের প্রচলিত নামাযের আমল এবং দাবীর পক্ষে সহীহ, সরীহ, মারফু, মুত্তাসিল হাদীস পেশ করতে পারেন এবং
-
তা উম্মতের মত বা তাকলীদ ছাড়া প্রমাণ করতে পারেন,
→ এক লক্ষ টাকা পুরস্কার।
-
একইভাবে, বুখারীর প্রথম খন্ড, ৪৬৮ পৃষ্ঠা অনুযায়ী ৫০ সাহাবীর নামসহ হাদীস প্রমাণ করতে পারলে আরেকটি পুরস্কার।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
তিরমিযী শরীফ (১ম খন্ড, ৫৯ পৃষ্ঠা) উল্লেখ করে: অনেক সাহাবা রফয়ে ইয়াদাইন না করার প্রবক্তা ছিলেন।
প্রশ্ন: তাদের নামায গ্রহণযোগ্য ছিল কি না? তারা রাসূল সা. এর অনুসরণ করতেন কি?
উত্তর: রফেদাইন আবশ্যক নয়; সাহাবাদের নামায গ্রহণযোগ্য ছিল। মূল উদ্দেশ্য নামাযের স্থিরতা ও আদব।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ