4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: উসমান হাদীকে গুলি: জাতীয় ঐক্যের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ও করণীয় > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

উসমান হাদীকে গুলি: জাতীয় ঐক্যের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

 


উসমান হাদীকে গুলি: জাতীয় ঐক্যের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বারবার সাক্ষ্য দিয়েছে—সহিংসতা কখনো কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং তা জাতিকে আরও গভীর সংকটে নিক্ষেপ করে। রাজধানীতে উসমান হাদীকে গুলি করার ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; এটি দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর সরাসরি আঘাত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ব্যতীত বেগম খালেদা জিয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসমাজ ও সচেতন জনগণের মধ্যে যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে, তা আজ রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্নে রূপ নিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

উসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন দেশ রাজনৈতিকভাবে চরম মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমত দমন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নিপীড়ন এবং প্রশাসনিক পক্ষপাত—সব মিলিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই হামলা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে সহিংস রাজনীতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়ের জন্যই অশনিসংকেত।

এটি কেবল একজন রাজনীতিক বা নাগরিকের ওপর হামলা নয়; এটি ভিন্নমত, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর হামলা। ফলে এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ কেবল দলীয় স্বার্থে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না—এটি জাতীয় বিবেকের প্রশ্ন।

ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের বাস্তবতা

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও ছাত্রসমাজ যে ঐক্যের কথা বলছে, তার ভিত্তি হলো গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে এবং গণতান্ত্রিক ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তাঁর বক্তব্য ও অবস্থান এই মুহূর্তে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করেছে।

এই ঐক্য কোনো ব্যক্তি বা দলের ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল নয়; বরং এটি রাষ্ট্রকে ফ্যাসিবাদী শাসন ও সহিংসতার চক্র থেকে মুক্ত করার সংগ্রাম। উসমান হাদীর ওপর হামলা সেই সংগ্রামকে আরও জরুরি ও সময়োপযোগী করে তুলেছে।

ছাত্রসমাজ ও জনতার ভূমিকা

বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ সবসময়ই পরিবর্তনের অগ্রদূত। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি পর্যায়ে ছাত্রদের ত্যাগ ও নেতৃত্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। উসমান হাদীর ওপর হামলার পর ছাত্রসমাজের প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে নতুন প্রজন্ম সহিংস রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে।

একই সঙ্গে সাধারণ জনগণও ক্রমেই উপলব্ধি করছে যে বিভক্ত রাজনীতি শেষ পর্যন্ত দেশের ক্ষতিই করে। শ্রমজীবী মানুষ, পেশাজীবী শ্রেণি, বুদ্ধিজীবী সমাজ—সকলেই আজ নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জাতীয় ঐক্য ছাড়া এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

জাতীয় ঐক্যের ওপর সম্ভাব্য বিপদ

জাতীয় ঐক্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ গভীর হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় জনগণের আস্থা নষ্ট হয়েছে।

আরেকটি বড় বিপদ হলো সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণ। যখন রাজনৈতিক হত্যাচেষ্টা বা হামলা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়, তখন সমাজ ধীরে ধীরে তা মেনে নিতে শুরু করে—যা ভয়াবহ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, মতপ্রকাশে বাধা এবং ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে।

কেন এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য

জাতীয় ঐক্য আজ কোনো বিলাসিতা নয়—এটি সময়ের দাবি। অর্থনৈতিক সংকট, বৈদেশিক চাপ, সামাজিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা একসঙ্গে দেশকে চাপে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে বিভক্ত রাজনীতি রাষ্ট্রকে আরও দুর্বল করবে।

জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে—

  • গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব

  • সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাবে

  • রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে

  • আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করা যাবে

এই মুহূর্তে করণীয়

১. নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত

উসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনায় স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্ত জরুরি। দোষীদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

২. সর্বদলীয় সংলাপ

ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সর্বদলীয় সংলাপ শুরু করা প্রয়োজন, যেখানে জাতীয় ঐক্যের রূপরেখা নির্ধারণ হবে।

৩. ছাত্র ও নাগরিক সমাজের অন্তর্ভুক্তি

শুধু রাজনৈতিক দল নয়—ছাত্রসমাজ, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনগুলোকে ঐক্য প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে।

৪. সহিংসতা পরিহারের অঙ্গীকার

সব পক্ষকে প্রকাশ্যভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহারের অঙ্গীকার করতে হবে এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

৫. গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

স্বাধীন গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের পরিবেশ ছাড়া জাতীয় ঐক্য টেকসই হবে না। সেন্সরশিপ ও ভয়ভীতি বন্ধ করতে হবে।

উপসংহার

উসমান হাদীকে গুলি করার ঘটনা বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এটি দেখিয়ে দিয়েছে—সহিংসতা যদি এখনই রোধ না করা যায়, তবে জাতীয় ঐক্য ভেঙে পড়বে এবং রাষ্ট্র আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ব্যতীত বেগম খালেদা জিয়া, রাজনৈতিক দলসমূহ, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণের যে ঐক্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেটিই হতে পারে এই অন্ধকার সময় থেকে উত্তরণের পথ।

আজ প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত, নৈতিক অবস্থান ও সম্মিলিত উদ্যোগ। জাতীয় ঐক্যই পারে সহিংসতা, ফ্যাসিবাদ ও অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...